Pages

Monday, May 26, 2014

টেকনো যাকাত

আজ থেকে প্রায় চার বছর আগে আমি একজন সেনা অফিসারের সংস্পর্শে এসেছিলাম।  তার যাকাতের টাকার একটা ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রম দেখে অবাক হয়েছিলাম।
সে প্রতি বছর যাকাতের জন্য যা হিসাব করত তা ইসলামী ব্যাংকের তহবিলে জমা রাখত। সে টাকা থেকে যা লভ্যাংশ পেত তা মাসে মাসে দরিদ্র নিকট আত্মীয়দের প্রদান করত। তার এ পদ্ধতিটি কোন হুজুর সহি বলেনি। আল্লাহ ভাল জানেন।
তার কথা হল; “আমি প্রথমত: যাকাতের টাকা নিকট আত্মীয়দের দিব এবং এমনভাবে দিব যেন তারা পরবর্তীতে যাকাত নিতে না হয় এবং স্বাবলম্বী হতে পারে। আমি ভ্যান কিনে দিয়েছিলাম একবছর পর দেখলাম ভ্যান ভেঙ্গে চুরে তার লোহা দিয়ে আমার নিকট আত্মীয় কটকটি খাচ্ছে। আমার কাছে পরের বছর যথারীতি যাকাত দাবী করছে।  এর পর আমি চিন্তা করলাম, মাসে মাসে টাকা দিব” আমি বললাম, এতে তো তাকে স্বাবলম্বী না করে নির্ভরশীল করা হল। সেই অফিসার উত্তর দিল, “স্বাবলম্বী বানানোর বিনিয়োগ করে অপচয় করার চেয়ে আমি বিনিয়োগ করে তাদের লাভ নিয়মিত দেব সেই ভাল” এ ধরনের যাকাতের বিষয় জানার পর আমার মাথায় টেকনো যাকাতের আইডিয়া আসল।
ধরুন স্ত্রীর স্বর্ণের ও আপনার  অন্যান্য বিষয় বাবদ যাকাত হয় বাৎসরিক ২৫,০০০ টাকা।
এখন এই ২৫,০০০ টাকায় বাসস্থানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট থেকে বাচার জন্য স্থানীয়ভাবে নির্মিত ১০০০ ওয়াটের আইপিএস ১২ ভোল্টের ব্যাটারি সহ কিনে নেন। একটি বৈদ্যুতিক মিটার সেট করে কত বিদ্যুৎ আইপিএস উৎপাদন করেছে তার হিসাব রাখি মাসের শেষে যত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে তা পিডিবি বা পল্লি-বিদ্যুতের রেট অনুযায়ী যাকাতের টাকায় অর্জিত আয় হিসাবে নির্ধারণ করি। কারণ যাকাতের টাকা বিনিয়োগ করার কারণে এ লাভটুকু পাচ্ছি। তবে আমরা ব্যাটারির চার্জ করার জন্য যে বিদ্যুৎ খরচ করছি তা আমরা আমাদের বিনিয়োগের বাইরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে যাকাতের বাইরের বাড়তি খরচ ধরে নিতে পারি। কারণ যাকাতের টাকা ছাড়া আইপিএস ক্রয় করলে মুল মিটারের বাড়তি বিলটা অবশ্যই আমাদের দিতেই হত। এছাড়া জেনারেটর চালালে এর চেয়ে বেশী খরচ হত।
দ্বিতীয় বছরে ২৫,০০০ টাকা দিয়ে আপনি ৪০০ ওয়াটের চারটি সোলার প্যানেল কিনে নিলেন। আপনার বাসার ছাদের উপর চারটি ১০০ ওয়াট বা দুটি ২০০ ওয়াটের প্যানেল সেট করে নিলেন। এবার এটা আগের বছরের কেনা আইপিএস এর সাথে জুড়ে দিন। প্যানেল লাগানোর পর আপনার বিদ্যুৎ বিল কমে আসবে কারণ আপনার আইপিএস চার্জ করার কম খরচটা আপনি যাকাত মিটারের সাথে উৎপাদিত বিদ্যুতের হিসাবের সাথে জুড়ে দিয়ে সে অনুযায়ী যাকাত হতে লাভ নির্ধারণ করে মাসিক বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারবেন। তবে আপনার সিস্টেমটা অবশ্যই এমন থাকবে যাকাত মিটার তখনই চালু থাকবে যখন আইপিএস বা সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। অর্থাৎ আইপিএস এর ১০০০ ওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের লোডে থাকলে যাকাত মিটার রিডিং দিবে না।
৩য় বছরে ২৫,০০০ টাকায় আরো সোলার প্যানেল ক্রয় করে আরো বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যেতে পারে। আপনার বিদ্যুৎ বিল যদি আসে ২০০০ টাকা আর সোলার ব্যবহার করে যদি আপনি তিন বছরে ১০০০ টাকা কমাতে পারেন তবে যাকাত বিনিয়োগ থেকে আপনি প্রতি মাসে কমবেশি ১০০০ টাকা যাকাতের লভ্যাংশ দান করতে পারেন। বছরে ২৪,০০০ টাকা যাকাত বিনিয়োগের আয় আসবে। তিনবছরে প্রায় আপনার সম্পূর্ণ বাৎসরিক যাকাতের সমান টাকা আপনি বিতরন করতে পারবেন।
৪র্থ বছরে হয়ত আপনাকে পুনরায় ব্যাটারি কেনার জন্য যাকাত ফান্ড খরচ করতে হবে। এভাবে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় করে মাসিক যাকাতের টাকা বর্ধিত করতে পারেন।
তবে সরকারী বা অন্যান্য বদলীর চাকুরীজীবী তাদের জন্য পদ্ধতিটি সুবিধাজনক হবেনা কারণ যেহেতু তারা দৌড়ের উপর থাকেন। যাদের নিজেদের বাসাবাড়ি আছে তার এই টেকনো যাকাত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করতে পারেন।
বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হচ্ছে কারণ দেশের অধিকাংশ মানুষ অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান,চিকিৎসা ও শিক্ষা ইত্যাদি মৌলিক চাহিদাগুলো মধ্যম মানের সচ্ছলতায় মিটাতে পারছে।
যাকাত দশ বছর আগেও নিকট আত্মীয়দের মাঝে দেয়া যেত এখন তেমনিভাবে যাকাত উপযোগী নিকট আত্মীয় পাওয়া যায় না।
আমার টেকনো যাকাতের বিবেচনায় আপনার গরীব আত্মীয়ের কেউ যদি কিস্তিতে সোলার প্যানেল কিনে থাকেন তবে তার পুরো টাকাটা পরিশোধ করে তাকে ধারমুক্ত করা যায়। কারণ সোলার সিস্টেম অর্থ সাশ্রয়-কারী ব্যবস্থা এতে জেনারেটর বাবদ বা হারিক্যানের কেরোসিনের খরচ লাঘব হচ্ছে। এতে যে কোন পরিবারের কেরোসিন খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সেভিং বৃদ্ধি পাবে।
অথবা যাদের বিদ্যুৎ বা সোলার সিস্টেম নাই তাদের সোলার সিস্টেম কিনে দিতে পারেন।
আমরা কয়েকজন মিলে ছোট গ্রিড সিস্টেম করে একটা লোকালয়কে সংযোগ করতে পারি। হয়তবা ১-২লক্ষ টাকায় ১০-২০টি পরিবারকে আনুমানিক ৬০ ওয়াট করে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিতে পারবেন। এরমধ্যে যারা যাকাত নিবেন না তারা খরচ দিবেন আর যারা যাকাত নিবেন তারা নিখরচায় বিদ্যুৎ পাবেন। এতে দরিদ্রদের রাতের বেলাও উপার্জনের কাজ যেমন: সেলাই,খেলনা তৈরি,হস্তশিল্প সামগ্রী তৈরি করে রোজগার বাড়াতে পারবে। বাচ্চারা রাতে সোলারের আলোতে পড়াশোনা করে স্বনির্ভর হতে পারবে।

এ বিষয়ে ধর্মীয় জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ আমার প্রস্তাবটা ধর্মীয় দৃষ্টিতে সহি আছে কিনা ভাল বলতে পারেন। তবে সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে টেকনো যাকাত  বাড়তে পারে। আপনার একজন দরিদ্র নিকট আত্মীয় কম্পিউটার শিখেছে। এখন একটি ল্যাপটপ হলে সে আউট সোসিং করে আত্মনির্ভরশীল হতে পারবে। আপনি নিশ্চয়ই এ ধরনের টেকনো যাকাতকে নিরুৎসাহী হবেন না। আসুন আমরা আয় বর্ধক টেকনো যাকাত চালু করি।
------------------------------------------------------------------------

কৃষি মজুর আরোজউল্লাকে টেকনো যাকাত প্রদান
মো: আরোজউল্লা পেশায় একজন কৃষি মজুর। তার স্ত্রী পার্ট টাইম বাসাবাড়িতে ঠিকা কাজ করে। তাদের এক মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তি পেয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে । শ্রেণীতে রোল একসম্ভাবনাময় প্রতিভা। সেখানকার শিমুলিয়া গ্রামে তাদের বসবাস। পড়াশোনা করে হারিকেন জ্বালিয়ে। দীর্ঘ সময় ইচ্ছে থাকলেও পড়তে পারে না। বাড়ী থেকে মাত্র ৫০০ গজ দুরে পল্লী বিদ্যুৎ এর খুঁটি। পাঁচ বছর অপেক্ষা করে বিদ্যুৎ না পেয়ে উল্লেখিত শিমুলিয়া গামের অনেকেই আর ডি এফ মিরপুর,কুষ্টিয়ার শাখার মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ সংযোগ শুরু করে।

এই প্রেক্ষাপটে আমি (মেজর মো: তারেক মাহমুদ সরকার)  আমার স্ত্রীর অনুপ্রেরনায় আমার প্রথম টেকনো যাকাতের কার্যক্রম শুরু করি গত ৭ জুলাই ২০১৪ তারিখে আরোজউল্লা বাড়ীতে সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে। ছবিতে আমি(চশমাওয়ালা),আমার বিজিবি সদস্য,সৌর বিদ্যুৎ এর লোক,মিরপুর পল্লী বিদ্যুৎ এর প্রকৌশলী ও খালী-গায়ে টেকনো যাকাত গ্রহণকারী আরোজউল্লা। বাড়ীর টিনের চালের উপরে ৪০ ওয়াটের সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে, যা দ্বারা ৬০ অ্যাম্পিয়ার এর ব্যাটারি চার্জ হবে এতে দুইটি তিন ওয়াট এক ফুট টিউব ও দুইটি ছোট ডিসি ফ্যান চলবে।
---------------------------------------------------------


আমি আমার বন্ধুবান্ধবদের গ্রুপ  কৃষি মজুর আরোজউল্লাকে টেকনো যাকাত প্রদান লেখাটি দিলে নীচের মন্তব্যগুলি পাই। তারজন্য সকলকে প্রনঢালা শুভেচ্ছা জানাচ্ছি:

Abdul Aziz Bhuya' via Ex-cadets'89 date: 8 July 2014
Good job done.we appreciate ur efforts.

Zillur Rahman 8 July 2014 14:47
Simply great!! Congratulations!! Alhamdulillah!

নুরুজ্জামান ZAMAN  8 July 2014 14:55
Hi Tech Tareq
Assalamualikum.  Praise worthy work to follow your foot print.
Warmest Salams. Tammam O Allahi.
Nuruzzaman

saifuddin4210 via রজত বন্ধন date: date:  8 July 2014
Much appreciated

Saif-uk

islam.arshadul@gmail.com  date:  8 July 2014
Dosto,
You are a genius. Keep going friend. Definitely you will succeed and many of us will follow you.
Take care,
Arshad
Toronto.

'Akbar' via রজত বন্ধন  date:  8 July 2014
Tarek...,
Good but how it's going to uplift his ROJKAR.....
Akbar...

Tarek Topu  8 July 2014 18:44
Dosto Tareq

My salute to your good work. You inspired me.

Tarek,Engrs

Shahriyar 8 July 2014 19:00
Dear Tareq,

Alhamdulillah. May Allah Allah always give you to continue with good work & deeds 

Shahriyar

Md Ashraful Islam 9 July 2014 10:44
Dosto good job done.kind regards Ashraf

md nurul alam 9 July 2014 12:41
Dear Tareq,

Alhamdulillah. May Allah Allah always give you to continue with good work & deeds 

LT COL NURUL ALAM
ADST
AREA HQ CTG CANTT.
Bangladesh Army.
01711733416

 Reazur Rahman <reazurrahman4161@gmail.com date: 9 July 2014 14:03
tareq, really very great job.

Anwarul Azim 9 July 2014 14:14
Good job done....cont.................

Saif Islam  9 July 2014 22:35
great job

Sunday, May 18, 2014

আমি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দেখতে পেয়েছি

গত ১৪মে ২০১৪ রাতে আমরা কুষ্টিয়া থেকে বিজিবি অফিসাররা ডিসি কুষ্টিয়ার পক্ষ থেকে সার্কিট হাউসে দাওয়াত পাই। উপলক্ষটা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের এ্যামবেসেডর ড্যান মজিনার কুষ্টিয়ায় আগমন। ড্যান মজিনা গাজীপুরের কাপাসিয়ার লোহাদি গ্রামের একটি সোলার সিস্টেমে গত ৯ মে ২০১৪ তারিখে ভিজিট করেছেন। পরে পত্রিকায় জানতে পারলাম, ফেরার পথে তার গাড়ী দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছিল।
ড্যান মজিনা গাজীপুরের কাপাসিয়ার লোহাদি গ্রামের সোলার সিস্টেমের পরিদর্শনের,অভিজ্ঞতায় বললেন, তিনি কাপাসিয়ার সৌর ব্যবস্থায় বাংলাদেশের নতুন ভবিষ্যৎ দেখতে পেয়েছেন আমি তখন তাকে বললাম, আপনি যদি দৌলতপুরের চরে যান তবে দেখতে পাবেন, প্রত্যেকটি বাড়ীতে  সোলার সিস্টেম আছে। তদুপরি বাংলাদেশের এমন কোন বাড়ী নেই যাদের হয় বিদ্যুৎ আছে নয়ত সোলার সিস্টেম আছে। আমি তাকে রাতের কঙ্গোর অন্ধকার জগতের বর্ণনা করলাম। কঙ্গোতে অত্যন্ত উচ্চমূল্য চায়না থেকে আমদানি করা সোলার সিস্টেম কিনতে হয়। সেখানে আমরা বাংলাদেশে সোলার সিস্টেম তৈরি করা শুরু করেছি এবং প্রতি ওয়াট সোলারের মূল্য এক ডলারের নীচে চলে এসেছে।
ড্যান মজিনা সবকিছু শুনে বললেন, গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আমি ভবিষ্যৎ দেখেছি এজন্য নয় যে তারা গ্রিন এনার্জি ব্যবহার করছে। তারা এমন কিছু চালু করেছে যা আমাদের প্রচলিত বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাপনাকে বদলে দেবে যা কিনা ন্যানো গ্রিড সিস্টেম। তিনি আরো বললেন, তারা বিদ্যুৎ বিতরণে প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়ার জন্য হাইব্রিড সিস্টেম করেছে। এর জন্য মাত্র ৮ লক্ষ টাকায় ৫০ টি পরিবারকে বিদ্যুৎ দিচ্ছে।
আমি ইন্টারনেট হতে পড়াশোনা করে আর বিজিবি'র তিন কিলোওয়াট সিস্টেম দেখেছি এ অভিজ্ঞতায় মজিনাকে বললাম, প্রথমে সোলার থেকে ১২ ভোল্ট ব্যাটারিকে চার্জ করে তা থেকে আইপিএস এর মাধ্যমে ডিসি কে এসিতে রূপান্তর করে পরে তারের মাধ্যমে বিভিন্ন বাড়ীতে সোলার বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়। মজিনা বললেন, তিনি এটা জানেন। কিন্তু তিনি যা দেখেছেন তা আলাদা রকম কিছু। যা হল ২২০ ভোল্টের ডিসি গ্রিড ও প্রিপেইড মিটার । এতে লাইট, টিভি ও ল্যাপটপ চলছে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে।
গত ১৪ মে ২০১৪ তারিখ রাত থেকে মজিনার ২২০ ভোল্ট ডিসি গ্রিড কথাটি আমার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে। রাতে ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে ২২০ ভোল্ট ডিসি গ্রিড সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য পেলাম না। পরদিন ১৫ মে অফিসে গিয়ে অপারেটরকে বললাম, গাজীপুরের কাপাসিয়ার ইউএনও সাহেবের মোবাইল নম্বর বের কর। যদিও জানি কাপাসিয়া উপজেলার ওয়েবসাইটে গেলে আমি ইউএনওর নম্বরটা সহজেই পাব। তবুও অপারেটরকে কাজ দেয়া আর কি। ঘন্টা খানেক পর অপারেটর নম্বরটা দিল। ইউএনওকে নিজের পরিচয় দিয়ে, কাপাসিয়ার ড্যান মজিনা যে সৌর সিস্টেম দেখেছেন সে সংস্থার কারো মোবাইল নম্বর চাইলাম। ইউএনও এই এলাকার চেয়ারম্যানের মোবাইল নম্বর দিলেন। অতঃপর বাবলু চেয়ারম্যানের কাছ থেকে সোলারিক কোম্পানির স্বত্বাধিকারীর দিদার ভাইয়ের মোবাইল নম্বর পেলাম। ভাই এজন্য বানিয়ে ফেললাম কারণ তিনি ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের বড় ভাই। অর্থাৎ ক্যাডেট কলেজের ভাইয়া গ্রুপের আর আমি বরিশাল ক্যাডেট কলেজের।
আমি  ছোট্ট পরিচয়ে উনাকে বললাম, আমি আপনার ২২০ ভোল্ট ডিসি গ্রিড সম্পর্কে জানতে চাই। ইতিমধ্যে আমি উনার ওয়েবসাইটের সন্ধান পেয়েছিলাম। ওয়েবসাইটের সংবাদগুলো থেকে সোলারিক শব্দটা পেয়েছিলাম আর এটা দিয়ে সার্চ দিয়ে তার ওয়েব সাইট পেয়ে যাই। ওয়েবসাইটি হল: http://solar-ic.com. আমি উনাকে বললাম, কুষ্টিয়া বিজিবি,র কিছু ক্যাম্প আছে পদ্মার পারে ও পদ্মার চরে, যেখানে অনেক অনেক বসতি আছে যারা হোম সোলার সিস্টেমে চলে। তাদের এলাকায় ন্যানো গ্রিড সিস্টেম করা সম্ভব কিনা। আমি এ বিষয়ে অফিস টাইমের বাইরে রাতে ফোন করব বলে জানালাম। ইতিমধ্যে লাঞ্চের পরে উনার ওয়েবসাইট ও ভিডিও দেখে ডিসি গ্রিড সম্পর্কে কিছুটা ধারনা নিতে পারলাম।
তারপর আমার কোয়েরিগুলো নোটবুকে লিখে তাকে মেসেজ করলাম, আপনার কাছ থেকে ২০ মিনিট চাচ্ছি। আপনি যখন ফ্রি আমাকে কল বা মিস কল দিন। রাত আনুমানিক ৮টায় কল পেলাম। আমি লাইন কেটে কল ব্যাক করলাম। তিনি আমার প্রশ্নগুলি একে একে উত্তর দিতে থাকলেন। তিনি দীর্ঘ ৫১ মিনিট সময় নিয়ে আমাকে বুঝলেন। তার সংক্ষিপ্তসার নীচে তুলে ধরছি:
১। আমাদের ব্যবহার্য প্রায় সকল সামগ্রী ২২০ ভোল্ট এসিতে যেমন চলে তেমনি ডিসিতে চালানো যাবে। মোবাইলের চার্জার,ল্যাপটপ,আগের মডেলের ফিলামেন্ট বাতি( ইনকেনডিসেন্ট), এনার্জি সেভিং টিউব লাইট ইত্যাদি অনেক সামগ্রী। এগুলো ১২০-২২০ ডিসির মধ্যে চলবে।
২। আমাদের সব সামগ্রী যদি ডিসিতে চলে তবে ডিসি সোলার সিস্টেম ও ডিসি ব্যাটারিকে এসি পাওয়ারে কনভারসন করার প্রয়োজন নেই। কারণ এসির সামগ্রীগুলো সমপরিমাণ ডিসি দিয়ে চলবে। ডিসি কে এসি করতে ইনভার্টরে যে পাওয়ার লস হয় তা থেকে সোলারে উৎপাদিত মূল্যবান বিদ্যুতকে রক্ষা করা যায়।
৩। এসি বৈদ্যুতিক পাখা ডিসিতে চলবে না। তাই ডিসি পাখা ব্যবহার করা ভাল। অন্য দিকে এসি পাখার ওয়াট হল ৮০ আর  ডিসি পাখার ওয়াট হল ২০। সুতরাং এসি পাখার সমান বিদ্যুৎ দিয়ে ৪টি ডিসি পাখা চালানো যাচ্ছে। তাই ব্যাটারির ডিসিকে এসি করে এসি মটর চালানোর চেয়ে সরাসরি ডিসি মটর ব্যবহার করা যায়।
৪। ব্যাটারির ডিসি ভোল্ট(১২ ভোল্টকে) বেশিদূর নেয়া যায় না এর বিপরীতে ১২০-২২০ ভোল্ট ডিসি এসির মতই দুরে বিদ্যুৎ নেয়া যায়। প্রায় ১ কিলোমিটার দূরত্বে পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
৫। সিস্টেম লস ও অন্যান্য সমস্যা মুক্ত রাখার জন্য তার আন্ডার গ্রাউন্ড করা যাচ্ছে। এসি তার আন্ডারগ্রাউন্ড সমস্যা কিন্তু ডিসিতে সাধারণ চিকন তার পিভিসি পাইপের মধ্যে দিয়েই আন্ডারগ্রাউন্ড করা যাচ্ছে।
৬। ক্যাপাসিটি বাড়াতে প্যারালালি পাওয়ার জেনারেশন বা লোড বৃদ্ধি করা যাবে অনেকটা প্যারালাল-ভাবে ব্যাটারির সংযোগ দেয়ার মত। এসি সিস্টেমে এ ধরনের সংযোগ জটিল। এমনকি পুরো সিস্টেম বদল করার প্রয়োজন পড়বে।
৭। ৪৮ ভোল্ট ডিসি থেকে ২২০ ভোল্ট ডিসিতে করভারশন করা হয় সেখানে লস কমানোর জন্য সেন্সরের মাধ্যমে লোড অনুযায়ী পাওয়ার মডিউলের সক্রিয় থাকার সংখ্যা কম বেশী করে বিদ্যুৎ লস আরও দক্ষতার সাথে কমানো হয়। যা কিনা অত্যন্ত আধুনিক ও দক্ষ প্রযুক্তি। এভাবে সোলার সিস্টেমের মূল্যবান বিদ্যুতের ব্যবহারিক অপচয় ব্যাপকভাবে রোধ করা যায়।
৮। প্রতিটি গ্রাহককে অনলাইন সিস্টেম,সার্ভার ও জটিল নেটওয়ার্ক ছাড়া অল্প খরচে প্রিপেইড মিটার দেয়া সম্ভব হচ্ছে।
৯। ডিসি গ্রিড হল অদূর ভবিষ্যতের সবচেয়ে উপযোগী ব্যবস্থা যা কিনা বিদ্যুতকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ব্যবহার করে।
আমি জনাব দিদার ভাইয়ের তথ্যগুলি নিয়ে আমার মত ইন্টারনেটে গবেষণা করতে বসলাম। আমি ডিসি ট্রান্সমিশন নিয়ে যা পেলাম তা এক এক করে তুলে ধরছি:
১। ডিসি ট্রান্সমিশন সিস্টেম ধারনা করা যায় এটা আগামী শতকের প্রযুক্তি কারণ গিগা-ওয়াট বিদ্যুৎ কম লসে ও কম খরচে ডিসি গ্রিডে পরিবহন সম্ভব। বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ পাওয়ার ট্রান্সমিশন হচ্ছে HVDC  সিস্টেমে রাশিয়ায় ও চীনে।
২। এসি গ্রিড হতে ডিসি গ্রিডে সবচেয়ে বেশী দূরত্বে বিদ্যুৎ পরিবহন করা যায়।
৩। আন্ডার গ্রাউন্ড বা সাগরের তল ডিসি বিদ্যুতই বেশী দূরত্বে পরিবহন করা যায়। ৮০০ কিমি সাগরের নীচ দিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে আর ৫০ কিমি বেশী এসি বিদ্যুৎ আন্ডারগ্রাউন্ড বা সাগরের নীচ দিয়ে নিতে স্কিন এফেক্ট ও ইনডাকশন লসের জটিল সমস্যায় পড়তে হয়।
৪। ডিসি পাওয়ারে ট্রান্সমিশন এসি থেকে নিরাপদ।
৫। ডিসি পাওয়ার ট্রান্সমিশন এসি থেকে সাশ্রয়ী।
৬। তবে ডিসি পাওয়ায় ট্রান্সমিশন সফল না হওয়ার পিছনে মূল কারণ পাওয়ার স্টেপ আপ ও স্টেপ ডাউন ডিসি ট্রান্সমিশনে খুবই ব্যয়বহুল ও জটিল। এই কারণে ডিসি সিস্টেম মোটেই জনপ্রিয়তা পায়নি। এসি ট্রান্সমিশন অত্যন্ত সহজ ও কম ব্যয়বহুল। খুব সহজেই কয়েল পেঁচিয়ে যেখানে সেখানে এসি বিদ্যুৎ স্টেপ আপ ও স্টেপ ডাউন করা যায়। আয়রন কোরে ইনডাকশনের মাধ্যমে বেশী প্যাচ দিলে বেশী ভোল্টের বিদ্যুৎ আর কম প্যাচ দিলে কম ভোল্টের বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। ট্রান্সফরমারে মোটা তার দিলে বেশী এ্যাম্পিয়ারের বিদ্যুৎ আর চিকন তার দিলে কম এ্যাম্পয়ারের বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে ।
৭। ভবিষ্যতে পৃথিবীব্যাপী ব্যাপকভাবে ডিসি ট্রান্সমিশনের চিন্তা চলছে কারণ ডিসি ট্রান্সমিশনের স্টেপ আপ ও স্টেপ ডাইন করার জটিলতা সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে রূপান্তর হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতে ১০০ বছর পরের যে প্রযুক্তি অর্থাৎ ডিসি গ্রিড সিস্টেম চালু হওয়ার আশা করছেন সেখানে কাপাশিয়ার পল্লীর কুঠিরে সে প্রযুক্তি দেখে  যুক্তরাষ্ট্রের এ্যামবেসেডর বলেছেন,”তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দেখতে পেয়েছেন


বাংলাদেশের ভবিষ্যতকে এই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের সকলের কাছ থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা পেতে পারেন ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেট ও সোলারিক কোম্পানির স্বত্বাধিকারী জনাব দিদারুল ইসলাম। উনার বেশ কিছু আবিষ্কারের প্যাটেন্ট রয়েছে। আমরা তাঁর ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উন্নতি কামনা করি। আপনারা সময় পেলে সোলারিক কোম্পনীর ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন।

Tuesday, May 13, 2014

অনগ্রসর সেনাজীবনে মন-প্রফুল্ল রাখার উপায়

এডিট করে স্বনির্বাচিত কলাম ২য় খন্ডে প্রকাশ
১।       আমাদের প্রত্যেকের ভাগ্যের জন্য আমরা নিজেরা দায়ী। যখন যেদিকে ছাতা ধরা প্রয়োজন তখন সেদিকে ধরাটা না শিখলে জীবনভর ধরা খেতে হবে। এছাড়া কখনও উপরালার সাথে কেরামতি দেখাতে নাই।

২।       এখন ইন্টারনেটের যুগে আমরা প্রত্যেকে অন্যদের সম্পর্কে কিছু না কিছু জানতে পারছি। তবে পরিবেশ পরিস্থিতি আমাদের সবাইকে  পরিবর্তিত করে এটা বুঝতে হবে।

৩।       অগ্রগামী বন্ধুদের আমন্ত্রণে যাওয়ার পূর্বে যোগাযোগ ও অন্যান্য ব্যবস্থাদি সম্পর্কে জেনে গেলে বউ বাচ্চাসহ অপমানিত হওয়ার ভয়টা থাকবে না।  জীবনের ব্যর্থতা ও সার্থকতা আপেক্ষিক বিষয়।
         
          ক।       আজ ভাল আছি, আগামীকাল ক্ষুদ্র ভুলে  হয়তবা আমরা যে কেহ গহীন গহ্বরে  পতিত হতে পাড়ি।
              খ।       সফলতার ধারাটা যে সবসময় ঊর্ধ্বমুখী থাকবে তারও নিশ্চয়তা নাই।
৪।       একটি পর্যায়ে আসলে আমাদের নিজেদের সফলতাকেও ছাড়িয়ে যায় সন্তানদের সফলতা। তাই বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় স্বজন ও ক্যারিয়ার গড়ার সামাজিকতা থেকে সন্তানদের গড়ার চেষ্টা ও সময় ব্যয়টা অনেক বেশী কার্যকর।

৫।       নিজের গ্রাফটা যখন ঊর্ধ্বমুখী না হয়ে সমান্তরাল হয় তখন বিশেষ কিছু সুবিধা অর্জন করা যায়।
       ক।       অফিস ও কাজের স্ট্রেস কমে আসে কার জিরো এরর সিন্ড্রোম  পারফেক্টসনিস্ট হওয়ার টেনশন কমে যায়।

          খ।       ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কাজে স্বাচ্ছন্দ্য আসে অতিরিক্ত চাপ কম হয়।

          গ।       চাপ-মুক্তভাবে ভবিষ্যৎ এর জন্য Goal Setting এর জন্য বেশী সময় ও ফুসরত মিলে।

       ঘ।       অফিসে হেটে যাওয়ার অভ্যাস, বাজারে যাওয়ার অভ্যাস ও সীমিত আয়ের মধ্যে জীবনধারণ করার অনুশীলন করে গেলে কোনরূপ শারীরিক ও আর্থিক দুর্ভাবনার সম্ভাবনা নাই।

       ঙ।       অফিস টাইমে ইন্টারনেট ব্রাউজ ও টেলিভিশন দেখা বাদ দিয়ে অফিসিয়াল কাজ,বই পড়া ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থাকলে চাকুরী ক্ষেত্রে কিছু সংখ্যক মানুষিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি দ্বারা কিছুটা বিব্রত হলেও মনটা প্রফুল্ল থাকবে। তবে সিগারেট ও মদ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা ছাড়তে পারলে শরীর ও মন আরো ভাল থাকবে ।

৬।       নীচের কয়েকটি বিষয় মেনে চললে শরীর ও  মন প্রফুল্ল থাকবেঃ
          ক।       সকালে ও বিকালে এক/দুই ঘণ্টা হাটা।
খ।       একঘণ্টা ধর্মীয় বা মটিভেশনাল বই পড়া।
গ।       প্রোটিন রিচ ব্রেকফাস্ট পেট ভরে খেলে।
ঘ।       তিনটি বিষয় বাদ দিতে হবে:
()     চিনি জাতীয় খাবার
()     ময়দার তৈরি খাবার
()     লবণ।  
৭।       আমাদের অনেক সময় বিশেষ করে অনগ্রসর পদবীতে নিন্ম মর্যাদায় কাজ করতে হয়। সে সময় কাজকে মনে করতে হবে "লো ভেল্যু টাস্ক"। অন্যথায় কষ্ট বাড়বে। লো ভেল্যু টাস্ক" সম্ভব হলে অন্যদের ডেলিগেট করতে হবে, আর যদি বস সাইজ করার জন্য করাতে চায় এবং ডেলিগেট করা সম্ভব না হলে "প্রায়োরিটি টাস্ক" ও "হাই ভেল্যু টাস্কের" ফাকে ফাকে করতে হবে। তবে আমি দেখেছি অফিস টাইমে শুধুমাত্র অন্যদের বীরত্বগাথা না শুণলে, টিভি দেখা ও ইন্টারনেট ব্রাউজিং বাদ দিলেই প্রচুর সময় হাতে পাওয়া যায়। তখন অনেক "লো ভেল্যু টাস্ক" করা সম্ভব হয়।
৮। অনঅগ্রসর অবস্থায় যারা অবশিষ্ট দিনগুলো চাকুরী পূর্ন করে অবসর যেতে চায় তাদের মন ও ইমোশন নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরী। অন্যথায় চাকুরী ছেড়ে বিকল্প চিন্তাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৯।       পরিশেষে বলব, অনগ্রসর আমরা যারা আছি তাদের জন্য একটাই উপদেশ থাকবে, অনেক বেশী কর্মঠ হয়ে প্রচুর জীবনী শক্তি ধরে রাখতে হবে কারণ জীবন যুদ্ধের  অনেক দীর্ঘ পথ সামনে রয়েছে। আর ‘‘আর্থিক মুক্তির/Financial Freedom’’  চেষ্টা সর্বদা বহাল রাখতে হবে।

          সুতরাং, পরিশেষে আমার উপদেশ হবে নিজের চামড়াটা গন্ডারের চামড়া তৈরি করে দুইটা বিষয়ে Goal Setting  করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ক।       Financial Freedom’’  এর লক্ষ্যে কাজ করা অর্থাত “নিজের যৌক্তিক চাহিদা অনুযায়ী সচ্ছল জীবন ধারন করা”
খ।       সন্তানদের পৃথিবীর বুকে  সৎ ও সফল মানুষ’’ হিসাবে প্রতিষ্ঠা।


বন্ধু বান্ধব ও আত্মীয় পরিজন কে কি বলল, আর কেউ দুই/এক মিনিট দিল কিনা, সন্মান দেখাল কিনা সেটা মুলত: চিন্তা করলেই দু:খ বাড়বে। সেটা গুরুত্ব দিয়ে মন খারাপ করার কোন কারন নেই। জীবনটাকে প্রবাহিত রাখতে হবে বহমান নদীর মত।

Monday, May 12, 2014

গোবরের লাকড়ি বনাম বায়োডাইজেস্টর

আমাদের দেশের অনেকেই গোবর দিয়ে রান্না করার জ্বালানী তৈরি করে। প্রতিদিন-গোবর দিয়ে গুটে তৈরি করাটা মনে হয় আনহাইজেনিক। যদি এ ধরনের গুটে গুলো তৈরি না করে জ্বালানীর জন্য গোবরকে বায়োগ্যাসে ব্যবহার করাটা অনেক বেশী উপকারী । প্রতিদিন গোবর নাড়া স্বাস্থ্য সম্মত নয়। কারণ গোবরে অনেক ব্যাকটেরিয়া আছে। তাই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সস্পর্শে কম আশাই ভাল। গরুর গোবরের সাথে থাকা ব্যাকটেরিয়া অবশ্যই মানব দেহের জন্য অনেক বেশী ক্ষতিকর।
প্রতিদিন একবার করে গোবর সংগ্রহ করে সে গোবর দিয়ে জ্বালানী তৈরি করে। গোবর নাড়া পুনরায় সাবান দিয়ে নিজেদের পরিষ্কার করা আর সুয়ারেজ ঘেঁটে পুনরায় পরিষ্কার হওয়ার মধ্যে পার্থক্য তেমন নেই। গরু ,ছাগল, হাস ও মুরগী ইত্যাদি গৃহপালিত পশুর বিষ্ঠা আমাদের কাছে অশুচি মনে হয় না। আমাদের দেশের সনাতন ধর্মের লোকজন গরুর গোবরের ব্যবহার পবিত্রতার অংশ হিসাবে মনে করে। গরুর গোবর ছাড়া তাদের অনেক ধর্মীয় আচার অপূর্ণ রয়ে যায়। আর এভাবে গরুর গোবর অনেকটা দৃষ্টিসীমার সামনে খুব খারাপ পদার্থ হিসাবে দৃষ্টিগোচর হয় না।
মানুষের দেহ সুস্থ ও সবল রাখতে প্রতিনিয়ত ব্যাকটেরিয়া সমৃদ্ধ আর্বজনায় সংস্পর্শে আসা ঠিক হচ্ছে না। বড়জোর গ্লাভস পরে,গামবোট লাগিয়ে কোদাল ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি দিয়ে সরাসরি চামড়ার স্পর্শ ছাড়া গোবর ও অন্যান্য গৃহপালিত পশুর বিষ্ঠা সরানো প্রয়োজন। আর গৃহপালিত পশুর বিষ্ঠা ধুয়ে তরল করে বায়ো ডাইজেস্টরে পাইপের মাধ্যমে প্রেরণ করা সম্ভব। আর এভাবে গোবর নাড়াচাড়া না করে মেকানিক্যালী সরাসরি বায়োডাইজেস্টারে ফেলা সম্ভব। বায়োডাইজেষ্টরের গ্যাস দিয়ে চুল্লী চালানো যাবে যা হবে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্য সম্পন্ন।
গোবরের তৈরি খড়ি যা কিনা প্রচুর ধোয়া সৃষ্ট করে। যার ফলে গোবর দ্বারা লাকড়ি তৈরি করতে একদিকে অস্বাস্থ্যকর অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে অপর দিকে তৈরিকৃত লাকড়ি অধিক পরিমাণ ধোয়ার সৃষ্ট করে হাপানী জাতীয় অন্যান্য শ্বাস কষ্টের রোগের সৃষ্টি করছে।
গোবর দিয়ে লাকড়ি তৈরির অভ্যাস থেকে আমাদের গ্রামের মহিলাদের সরিয়ে আনতে হবে। প্রয়োজনে এনজিও বা সরকারী ব্যবস্থায় আর্থিক সাহায্য দিয়ে গোবর ব্যবহারের জন্য বায়ো ডাইজেস্টর বানাতে হবে।


মূল্যবান গরুর গোবর শুধু মাত্র পুড়িয়ে নষ্ট করার চেয়ে আমরা বায়োগ্যাস তৈরি ও তার সাথে উন্নত সার আমরা পার। তাই গোবর আগুনে জ্বালানী হিসাবে না ব্যবহার করে বায়ো গ্যাস ও জৈবসার দুই কাজেই ব্যবহার করা যাবে। সে লক্ষ্যই আমাদের জ্বালানী হিসাবে গোবর ব্যবহার বন্ধ করে বায়োডাইজেস্টরের ব্যবহার বাড়াতে হবে।

নদীর জল ঘোলাও ভাল

আজ অনেকদিন পর আমার নদীর পানিতে নেমে গোসল করতে ইচ্ছে হল ৷ টল টলে সবুজ পানি ৷ দেখতে পাই অনেকে সে পানিতে গোসল করছে ৷ কিন্তু যখন চিন্তা করি ৷ আমাদের গ্রামে এরূপ নদী আছে আমি সে নদীতে গোসল করেছি আজ আমি তা পারছি না ৷ মনে হচ্ছে পানিটা অপরিষ্কার ৷ মনে হচ্ছে পানিতে গরু গোসল করছে, টয়লেটের ময়লা পরছে ৷ ময়লা আবর্জনায় ভরা নদীর পানিতে তবুও সাতার কাটা ও ডুব দেয়ার জন্য মনটা বেশ টানছে ৷ আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে নদী দূষণের পরিমাণ এত ভয়াবহ ছিল কি? তখন নদীতে মরা গরু,ছাগল,কুকুর ইত্যাদি ভেসে থাকত। মাঝে মাঝে মরা মানুষও ভেসে যেত। নদীর উপর অনেক টয়লেট আগে দেখা যেত।
এত দূষণের পরও গ্রামে গেলে নদীতে গোসল করেছি। আমার কৃষক বড় চাচা বলত, “জাতের মেয়ে কালোও ভাল , নদীর জল ঘোলাও ভাল। একবার মনে আছে গোসল করছি এমন সময় দেখলাম কি যেন ভেসে আসছে। ভাল করে তাকিয়ে দেখি মানুষের বিষ্ঠা ওরে বাবারে বলে দৌড়ে পাড়ে উঠলাম। কুমিল্লার সালদানদীতে কত ডুব দিয়েছি । বাবার চাকুরীর সুবাদে বরিশালে ছিলাম প্রায় ছয় বছর। আমাদের বরিশাল শহরের চানমারী টিএন্ডটি(বর্তমান বিটিসিএল) কম্পাউন্ডের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কীর্তনখোলা নদী। সেখানে আমরা গোসল করতাম। মনে আছে ভাটার সময়টা নদীতে নামতাম না। আর জোয়ারে মূলত গোসল সারতাম। পানিগুলো মোটেও স্বচ্ছ ছিল না। তারপরও মনের আনন্দে গোসল করেছি। এমনকি মুখে পানি নিয়ে কুলি করেছি। এসব করতে গিয়ে মাঝে মাঝে পানিও গিলে ফেলেছি।
          আজ ৩০ বছর পর নদীর পানিতে গোসল করার ইচ্ছের পর মনে ভয় এ পানিতে গোসল করলে অসুখ করবে নাতো। ভয়টার কারণ হয়তবা দীর্ঘদিনের অভ্যস্থ্ পরিবেশ থেকে মূলত ভয়গুলি আমি পাচ্ছি। সামরিক ট্রেনিং এর সময় প্রায়শই পুকুরে সাতার কাটতে হয়েছে। এখন সর্বশেষ সাতার কেটেছি সেনানিবাসের সুইমিং পুলের স্বচ্ছ পানিতে। আর এ কারণে নদীর পানিতে সাতার কাটার তীব্র ইচ্ছেটা বাস্তবায়নে চলে আসে নানারূপ সংকোচ। তাই অলস মানসিকতা খুঁজে ফেরে নানা অজুহাত। আর সবচেয়ে বড় অজুহাত হল পরিষ্কার পানির অজুহাত। শহুরে কম বেশী পুকুর বিদ্যমান। নদী নালা যা আছে পানির পরিমাণ কম। আর আমি যে নালার পাশ দিয়ে হাঁটছিলাম তা হল জিকে প্রজেক্টের নালা। পানি প্রবহমান ও স্বচ্ছ। ডুব দিতে মনে দ্বিধা নেই। তবুও দ্বিধা হয় আমাদের চারিদিকে মানুষের পরিবেশ রক্ষা করার সচেতনতার অভাব দেখে। বিভিন্ন ময়লা আমরা নদ নদীতে ফেলি। এটা অন্যায়। আগের মত উন্মুক্ত টয়লেট নদী বা খালের উপর না থাকলেও এখন যে উৎপাতটি দেখা যায় তা হল বাসাবাড়ির ময়লা, বাজারের ময়লা, হাসপাতালের বর্জ্য ইত্যাদি ফেলে আমরা যে শুধু নদী ও খাল দূষণ করছি শুধু তা নয় আমরা ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাচ্ছি। নদী ও খালে বাসাবাড়ি ও বাজারের অ-পচনশীল বর্জ্য ভয়াবহ ভাবে পানির ফ্লো নষ্ট করে দিচ্ছে। নদী ও খাল নাব্যতা হারাচ্ছে। এর ভয়াবহতা অত্যন্ত মারাত্মক। কুষ্টিয়া অঞ্চলের জিকে প্রজেক্টর ফীডার ক্যানেলে যখন পানি বহমান থাকে তখন সত্যি খুব ভাল লাগে। একটা বিষয়ে এ অঞ্চলের মানুষদের ধন্যবাদ দিতে হয় তারা অন্তত ফীডার ক্যানেল গুলোর পানির প্রবাহ নষ্ট করার চেষ্টা করছে না। মনে হয় চাষাবাদের জন্য পানি ব্যাপক ব্যবহার হয় বিধায় নালাগুলোর প্রতি তারা দরদি। তাই স্বচ্ছ পানির ধারায় অনেক মানুষের স্নানরত দৃশ্য মুগ্ধ করে মনে হয়, মুক্ত উল্লাসে নদীর জলে অবগাহন-রত মানুষগুলোর কতই না তৃপ্তি।

          আমরা আমাদের সে সুজলা সুফলা শস্য শ্যমলা গ্রামের পরিবেশ গুলো হয়ত পাব না। কারণ ইটের পর ইটের আগ্রাসনে গ্রামের কোমলতা হারিয়ে যাচ্ছে। এখন আমরা আমাদের পুকুর, খাল, বিল ,নদী ও নালা গুলোর দূষণ বন্ধ করে আমরা যেন তৃপ্তির স্বচ্ছ জলে নাইতে পারি সে আশাই থাকল সকলের কাছে।

Saturday, May 3, 2014

আসুন ব্যবহার করি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এলইডি বাতি

নিরাপত্তা বাতি সাধারনত বড় বড় পিলারে লাগানো থাকে। আর প্রতিনিয়ত বড় বড় পিলারে উঠে নস্ট বাতি বদল করা কষ্টকর একটি কাজ। এলইডি লাইট ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাতি বা সিকিউরিটি বাতির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা তৈরি করলে তা হবে সেই ধরনের ব্যবস্থা, যাতে কিনা উঁচু স্থানের লাইট ঘন ঘন বদল করার প্রয়োজন পরবে না। এমনকি একবার লাগালে কমপক্ষে ৫০,০০০ ঘণ্টা বা রাতে ১২ ঘণ্টা ব্যবহার করে ১১ বছর একটানা ব্যবহার করা যায়। সাধারণত সে ধরনের ব্যবস্থা হবে সময় ও যুগোপযোগী। ইনকেনডিসেন্ট বাতিতে ( ফিলামেন্ট বাল্ব) বাতির বিদ্যুৎ  খরচ বেশী ও দ্রুত নষ্ট হওয়ার কারণে তা কমদামী হলেও এ ধরনের লাইটের ব্যবহার প্রায় শূন্যের কোঠায় চলে এসেছে। ইদানিং আমরা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সাধারণত সিএলএফ বা এনার্জি সেভিং বাতি ব্যবহার করছি। এখন দেখা যাচ্ছে সিএলএফ থেকেও আরও সাশ্রয়ী ও টেকসই বৈদ্যুতিক লাইট বাজারে এসেছে। টর্চের এলইডি ব্যবহারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে । এখন বাজরে আগের ফিলামেন্ট বাল্বের টর্চ খুঁজে পাওয়া অনেক কঠিন। বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহারের কারণে এলইডি বাতি বিপ্লব সৃষ্টি করেছে।
Click the photo for enlarge
বিদ্যুৎ ব্যবহারে আমরা সচেতন হওয়ায় আমরা সিএলএফ বা এনার্জি লাইট অপেক্ষা এখন এলইডি লাইট বেশী গুরুত্ব দেয়া শুরু করতে পারি।  এলইডি লাইট সিএলএফ বা এনার্জি সেভিং টিউব লাইট অপেক্ষা অনেক বেশী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। এছাড়া এলইডি লাইটের সাধারণত সেলফ লাইফ দশ বছর ধরা যায়। অন্যদিকে সিএলএফ বা এনার্জি লাইট ভালভাবে ব্যবহার করলে তিন বছর নির্বিঘ্নে ব্যবহার করা যাবে বলে মনে করা যায়। তবে সার্কিট নষ্ট হতে পারে। আমাদের দেশে মেকানিকরা ২০/৩০ টাকার বিনিময়ে রেজিস্টার, ক্যাপাসিটর ও ট্রানজিস্টার বদল করে এ ধরনের লাইট মেরামত করে থাকে। তাই দেখা যায় এক বছর ওয়ারেন্টি পিরিয়ড অতিক্রান্ত হওয়ার পর নষ্ট লাইট স্থানীয়ভাবে মেরামত করা যাবে। এলইডি লাইট  ৩ ওয়াট, ৫ ওয়াট, ৭ ওয়াট, ৯ ওয়াট ও ২০ ওয়াটের টিউবলাইট ইত্যাদি বিভিন্ন ওয়াটে পাওয়া যায়। এ ধরনের লাইট হয়তবা সিএলএফ লাইটের তিনগুণ বেশী দাম সম্পন্ন। তবে শীঘ্রই চাহিদা বা উৎপাদন বাড়ার সাথে সাথে এলইডি লাইটের দামও ব্যাপক হারে কমতে থাকবে। তবে এনার্জি লাইট ৩ বছর আয়ু-সম্পন্ন হলেও এলইডি লাইট দশ বছর আয়ু-সম্পন্ন হওয়ার কারণে এককালীন অধিক পরিমাণ (প্রায় তিনগুণ দাম) ইনভেষ্ট হয়তবা গ্রহণযোগ্য ধরা যায়।

যে সমস্ত স্থানে আমরা আইপিএস এর মাধ্যমে বাতি জ্বালাচ্ছি সে সমস্ত স্থানে কম বিদ্যুৎ খরচ করার জন্য এলইডি লাইট ব্যবহার করাটা সাশ্রয়ী। মনে করুন আপনার বাসস্থানে ৫টি ২০ ওয়াটের সর্বমোট ১০০ ওয়াট খরচের পরিবর্তে আপনি ৫ x ৭=৩৫ ওয়াট অর্থাৎ তিনভাগের একভাগ বিদ্যুৎ খরচে ৫টি এলইডি লাইট ব্যবহার করতে পারেন।

বর্তমানে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসাবে গ্রিন হাউজ এফেক্ট একটি মারাত্মক সমস্যা। তাই বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে হবে। এনার্জির অন্যতম ব্যবহার হচ্ছে রাতের আধার দূরীকরণ। আর তাই বাতি জালানো জন্য বর্তমানে সবচেয়ে সাশ্রয়ী ব্যবস্থা হল এলইডি লাইট । এলইডি লাইট ব্যবহারে বিদ্যুতের ব্যবহার সিএলএফ লাইট থেকে কমে আসবে। এলইডি লাইটের দাম বেশী হলেও বাহিরের লাইট, নিরাপত্তা বাতি ও অন্যান্য স্থানে যেখানে দীর্ঘ সময় লাইট জ্বালিয়ে রাখতে হয় সে সমস্ত স্থানে এলইডি লাইট লাগানো জরুরী। সিএলএফ লাইটে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক মাকার্রী আছে যা কিনা এলইডি লাইটে নেই।

অনেক সময় সোলার সিস্টেমে ইনভার্টর ব্যবহার করে সোলার ব্যবস্থা থেকে ১২ ভোল্টের ব্যাটারি চার্জ করা যায়। চার্জকৃত ১২ ভোল্টের ব্যাটারি থেকে ইনভারর্টারের মাধ্যমে ২২০ ভোল্ট এসি তৈরি করা যায়। এসি বিদ্যুৎ দিয়ে এলইডি লাইট ব্যবহার করে কম বিদ্যুৎ খরচে আশানুরূপ আলো পাওয়া যায়। সোলার সিস্টেমে ব্যাটারী থেকে ১২ ভোল্টের মাধ্যমে সরাসরি এলইডি লাইট জ্বালানো যাবে। এতে বরং সুবিধা হবে কারণ ইনভার্টারের বিদ্যুতের অপচয় থেকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ও আইপিএস এর মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারে আমরা নির্ধিদ্বায় এলইডি লাইট ব্যবহার করতে পারি।



এলইডি লাইট বর্তমানে আমাদের দেশের  জন্য আমদানি নির্ভর একটি পণ্য। তবে স্থানীয়ভাবে সোলার সিস্টেমের জন্য এখন এলইডি লাইট আমাদের দেশেও তৈরি হচ্ছে। যেদিন আমরা বাংলাদেশে এলইডি লাইট তৈরি করতে পারব তখন এর দামও কমে আসবে। এলইডি লাইট ব্যবহারে বর্তমানে একমাত্র প্রতিবন্ধকতা হলো মূল্য। এর মূল্যটা কমাতে পারলে এ ধরনের লাইটকে জনপ্রিয় করা যাবে। এলইডি লাইট ব্যবহারে দীর্ঘদিন ধরে যে বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে তার মূল্য দিয়ে এলইডি লাইটের ক্রয় করতে যে অতিরিক্ত খরচ হবে তা  পুষিয়ে নেয়া যাবে।নিরাপত্তা বাতি হিসাবে এর জুড়ি মেলা ভার। আসুন আমরা সবাই বাসাবাড়িতেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এলইডি লাইট ব্যবহার শুরু করি। 

Thursday, April 3, 2014

ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনা

এডিট করে স্বনির্বাচিত কলাম ২য় খন্ডে প্রকাশ
আমার  আর্থিক ব্যবস্থাপনা আমি কখনোই যুতসই ভাবে করতে পারিনি। আমি অনেক পরিকল্পনা করি ঠিকই কিন্তু আমার খরচের হাতটা স্থির রাখতে পারি না । আর্থিক ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে করতে যে পরিমাণ ধৈর্য ধারণ করতে হয় সে পরিমাণ ধৈর্য আমার কখনোই ছিল না।
মাঝে মাঝে মনে হয় ক্যান্টিনেঅফিসার মেস ইত্যাদি খরচ যত কম বকেয়া করে করা যায় ততোই মঙ্গল। বকেয়া খরচের প্রদান সমস্যা হল খরচের হিসাবের লাগাম ধরা যায় না। যারা বকেয়া পরিহার করে নগদে ক্রয় করতে পারে তারাই বুদ্ধিমান।
উন্নতির সবচেয়ে বড় শর্ত হল আয়ের থেকে ব্যয় কম করতে হবে।আয়ের থেকে ব্যয় কম করে জমাতে পারলেই কেবল উন্নতি করা যায়। আয়ের থেকে ব্যয় কম করতে হবে আর কিছুটা জমাতে হবে। আমরা সব সময় অন্যকে অনুসরণ করতে চাই। ধার কর্জ করে চাকচিক্য করে আমরা অতৃপ্তি পেতে চাই । এর থেকেও আমি কোনও ব্যতিক্রম নই। আমার প্রথম জীবনে বেহিসাবি খরচের মধ্য পরিবারকে দেয়াছুটিতে বেড়য়ে খরচ করা। যেটা হয়মধ্যবিত্ত পরিবারের কেউ চাকুরী পেলে সে মনে করে স্বর্গ হাতে পেল। আর যদি জীবনে অতৃপ্তি থাকে তবে তো কথাই নেই। বাজেট কমানো বা খরচের রাশ টেনে ধরা অনেক বড় অনুশীলনের বিষয়।
এ অনুশীলনটি পরিবারের সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অর্জন করা সম্ভব। পরিকল্পনা ছাড়া হটাত করে কেনাকাটা করা উচিত নয়। সবচেয়ে সর্বনাশা হল। ছোট বাচ্চারা কখনোই  হিসাব অনুযায়ী আচরণ করে না। প্রায়শ:ই তারা পিতামাতাকে বিপাকে ফেলার মত আচরণ করে। পরিকল্পনা করে গেলেন আপনি ২০০০ টাকায় কেনাকাটা সারবেন। হুট করে একটা খেলনা ও খাবার আইটেম বগলদাবা করে বসল। আপনি কোনক্রমেই অতিরিক্ত ১০০০ টাকা পরিশোধের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তখন নিজের ইজ্জত বাচাতে আপনি আপনার ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করতে বাধ্য হন অথবা তাৎক্ষনিক লোণ করতে বাধ্য হন।
আবেগ ও ভালবাসা আমাদের প্রায়শই আমাদের এত বেশী ইমোশনাল বা আবেগপ্রবণ করে ফেলে এতে আমরা শাসনে শক্ত হতে পারিনা। বর্তমান যুগে বাচ্চাদের মারধর করা একদম নিষেধ তাতে ভালোর চেয়ে মন্দ হয় বেশী। এতে অনেক শিশুর কথা না শোনার মাত্রা এত বেড়ে যায়। তখন মনে হয় আগের পদ্ধতিতে মারধর করলে হয়ত ভাল হত। মাঝে মাঝে ধমকেও বাচ্চারা এত রিএক্ট করে তখন অবাক লাগে। তখন নিজেদের অতীত মেলালে একটু অবাক হতে হয়। এ ধরনের ইমোশনাল সমস্যা বর্তমান সময় থেকে আগে বেশী ছিল কিনা মনে করতে পারছিনা।
উন্নতির প্রথম শর্ত হল আয় থেকে ব্যয় কমাতে হবে। যদি তিন-বেলা খাওয়ার সামর্থ্য না থাকে তবে দুইবেলায় খাবারের বিল কমিয়ে আনতে হবে। সস্তা খাবার আহত সস্তা প্রোটিন অথবা প্রাণীজ প্রোটিনের পরিবর্তে উদ্ভিদজাত প্রোটিনের ব্যবহার বাড়াতে হবে। মোট কথা আয় থেকে ব্যয় কমিয়ে রাখতে হবে। কোন কিছুই বাকীতে( ক্রেডিটে) কেনা যাবে না। ওভার ড্র করা যাবে না।
তবে একটা বিষয়ে মনে হয় আমি আমার বাবার ধৈর্যের ও বিচক্ষণতার প্রশংসা না করে পারছিনা যিনি ছয় সন্তানের পরিবার চমৎকারভাবে সামলিয়েছেন। আজকে আমি তিন সন্তানের পরিবারের প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসাবে খরচ চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি।
আমি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হিসাবে চাকুরী-কালীন সময়ে আমি একটা বিষয় লক্ষ করেছি তা হল আমাদের প্রায় সমস্ত খরচই আমরা ক্রেডিটে করি। আর আমাদের এ বকেয়া থাকার কারণে যারা অধিক সচেতন কেবল তারাই হয়তবা নিজের হিসাবের মধ্যে চলতে পারেন। অধিকাংশই আমরা বেতনের মধ্যে চলতে পারিনা। আলটিমেটলি টিএ/ডিএ ইত্যাদি বাড়তি আয়ের উপর আমাদের নির্ভরশীল হতে হয়। আর আমরা যদি একদম শক্তভাবে চিন্তা করে নেই অবশ্যই আমি নির্দিষ্ট পরিমাণ খরচে চলব তা অবশ্যই করা সম্ভব। মূলত আমাদের সাংসারিক খরচ বিশেষ করে খাওয়া খরচ আমরা অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। অনেক সময় সন্তানের পড়াশোনা বা ইত্যাদি খরচ ইচ্ছে করলেও কমানো যায় না। যেমন: একজন মালী যার মাসিক বেতন ও অন্যান্য উৎস মিলিয়ে আয় ১৫০০০ টাকা। সে তার এক মেয়েকে মেডিক্যাল কলেজে পড়াচ্ছে। এখন মেয়ের পিছনে কম করে ৫০০০ টাকা খরচ করলে তার অন্য সন্তান,স্ত্রী ও নিজ খরচ বাকী ১০০০০ টাকায় চালাতে হচ্ছে। যদিও এধরনের সাধ্যের বাইরে সুযোগ সৃষ্টি হলে আমাদের সন্তানদের জন্য আমরা প্রভিডেন্ট ফান্ডজমি ও স্ত্রীর গয়না বিক্রি হতে বাড়তি ব্যয় নির্বাহের ব্যবস্থা নিতে হয়। কারণ মেধাবী সন্তানের ভাল পরিবেশে পড়াশোনা করানোটাও একটা বিশাল ইনভেস্ট।
তাহলে যে কোন চাকুরী বা উপার্জনে একটা লক্ষ্য স্থির করে চলতে হবে আমার জীবনে আবেগ প্রবণ হয়ে জীবনে বিভিন্ন সময় ওডি করে বেতনের বিশাল অংশ ওডি,র সুদ হিসাবে ব্যাংক কর্তনে চলে যেত। আর ঋণের একটা মহা আর্বতে জীবন আবর্তিত হতে থাকত। দুইটি জাতি সংঘ মিশনের টাকা দিয়ে ঋণ শোধ হয় কিন্তু উন্নতির ধারা ব্যাহত হয়। মরার উপর খরার ঘা হল পেনশন কমুটেশনের উপর ২০ লক্ষ টাকা গ্রহণ করে শেয়ার মার্কেটে খাটানো যা ছিল আরো ধ্বংসাত্মক।
আমার এই ৪৩ বছর বয়সে খরচের বিপরীতে পরিবারের ইচ্ছের বিরুদ্ধ যুদ্ধ করাটা একটা বিশাল বিষয়। এরূপ একটা যুদ্ধ আমি করেছিলাম। তা হল শেয়ার মার্কেটে ধরাশায়ী হয়ে। তখন ৩০০০০ টাকা দিয়ে কিভাবে পরিবারের খরচের টাকায় চালানো যায় তার জন্য যুদ্ধ করা। এত খরচ কমাতে না পারলেও অনেকটুকু কমাতে পেরেছিলাম। পারিবারিক খরচ কমানো একটা বিশাল যুদ্ধ। এ যুদ্ধে পরিবারের সকলে জড়িত থাকে বলে যুদ্ধটা ভয়াবহ। এখন আবার একটা যুদ্ধ করতে চাচ্ছি তা হল বেতনের আয়ের মধ্যে জীবনধারণ করা। এ যুদ্ধটা করছি ঢাকা শহরের বাইরে থেকে যদি বেতনের টাকায় চলতে না পারি তবে তা ভয়াবহ বিষয়। আর চাকুরীর পূর্ণ বেতন প্রাপ্তির সময় আছে মাত্র ৯ বছর। এ ৯ বছর যদি বেতনের খরচের মধ্য চলার অভ্যাস করতে পারিতবে সামনের জীবন যুদ্ধটা সহজ হবে।


এখন হয়তোবা অনেকে দ্বিমত করবেন। বেতনের টাকার পুরোটা জমাব আর বাড়তি টাকায় সংসার চালাব। এটা অবশ্য চাকুরীজীবীদের সৎ চিন্তাধারার পথ নয়। আমাদের মন্ত্রটা এরূপ হতে হবে যেন বেতনের অর্থে নিজের জীবন ও জীবিকা চালিত করব। আর কিঞ্চিত বেশী উপার্জন করতে পারলে তা সঞ্চয় করব। এভাবে হয়ত সততার জীবন নির্বিঘ্ন হবে।

মোবাইল ডিভাইসে বাংলা টাইপ করা

আজ থেকে আনুমানিক দশ বছর আগে কোন একটি দৈনিক পত্রিকায় মজার বিষয় পড়েছিলাম।  ইউরোপের একজন সাংবাদিক ভদ্রলোক বাসা থেকে কর্মস্থলে যেতে প্রতিদিন যাওয়া ও আসায় সর্বমোট দুই ঘণ্টার বেশী সময় ব্যয় করতেন। তিনি তার এই দুই ঘণ্টা সময়ের একটা মজাদার ব্যবহার বের করলেন। তা হল মোবাইলের এসএমএস অপশনের মাধ্যমে ম্যাসেজ আকারে ইংরেজি আর্টিক্যালের অংশ বিশেষ টাইপ করে যেতেন। পরে তিনি সেসব এসএমএস মোবাইল থেকে কম্পিউটারে নিয়ে নিতেন আর এভাবে তিনি দিনের পর দিন মোবাইলের মাধ্যমে লিখে যেতেন।
এভাবে এসএমএস আকারে টাইপ করে করে তিনি কয়েকটি বই লিখতে সমর্থ হন। আমি এটা পড়ার পর বেশ মজা পেয়েছিলাম। এ পদ্ধতি তখন আমি অহরহ ব্যবহার করা শুরু করেছিলাম। আমার মত অনেকে হয়তবা এটির ব্যবহার করেন। হয়তবা আপনি কোন স্থানে যাচ্ছেন বা কোথাও কারো সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করছেন। তখন বসে বসে নানা ইংরেজি চিঠিপত্রাদির ড্রাফট তৈরি করে নেয়া সম্ভব। পরে আপনার মোবাইল থেকে সেসব ড্রাফট ব্লটুথের মাধ্যমে ল্যাপটপে পার করতে পারেন। অথবা ইউএসবি ক্যাবলের মাধ্যমে নিতে পারেন। আর একান্তই কোনভাবে পার করতে না পারলে আপনার সহযোগীর মোবাইলে আপনার তৈরিকৃত ড্রাফটগুলি এসএমএস আকারে ফরওয়ার্ড করে নিন। ফরোয়ার্ড কৃত ম্যাসেজ আপনার সহযোগীকে বলুন টাইপ করে প্রিন্ট আউট নিয়ে বা সফট কপি আপনার কারেকশনের জন্য দিতে। আপনি হয়তবা কাছে নেই আপনার সহকারী জানাল, কোন বিষয়ে জরুরী মতামত দিতে। তখন সহকারীর কাছ থেকে বিষয় শুনে নিয়ে আপনি উত্তরটি বলে দিলেন। আর চিঠিটি যদি ইংরেজিতে হয় আর চিঠির উত্তর যদি বেশী বড় না হয় তবে আপনি এসএমএস করে উত্তর পাঠিয়ে দিতে পারবেন। আপনার সহকারী এসএমএস দেখে চিঠির উত্তর তৈরি করে নিতে পারবেন। বর্তমানে ড্রপ বক্স ও অন্যান্য অনলাইন ড্রাইভ শেয়ার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে থেকেও অনলাইনে ফাইল শেয়ার করা সম্ভব। মূলত: অনলাইন ফাইল শেয়ারিং এখন আর কাউকে অফিসের কাজে অফিসে থাকার প্রয়োজন পরছে না। যে কোন স্থানে বসেই আপনার সহকারীর তৈরি করা ড্রাফট দেখে দিতে পারেন বা অনুমোদন দিতে পারেন।
এ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম দিন দিন বেশ উন্নত পর্যায়ে গেছে এখন প্রায় সব ধরনের কাজের জন্য অ্যাপস পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের দেশের ডেভলাপাররা বর্তমানে অ্যাপস তৈরিতে অনেক বেশী কার্যকরী ভূমিকা রাখছেন  বাংলা টাইপিং এর জন্য অনেক ধরনের অ্যাপস তৈরি হচ্ছে।
          আমি যাতায়তের পথে এসএমএস কম্পোজ করার মাধ্যমে বই লেখার আইডিয়াতে বেশ পুলকিত হলাম।আমি যেহেতু বাংলায় লিখতে চাই এবং সব সময় সবস্থানে ল্যাপটপ ব্যবহার করা যায় না, সেহেতু ট্যাবলেট পিসির মাধ্যমে করা যায় কিনা সে বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাতে লাগলাম। এর জন্য ৭.৫ ইঞ্চি একটা চাইনিজ এ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট পিসি কিনে নিলাম। পরবর্তীতে বিভিন্ন এ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ব্যবহার করে আমি বাংলায়  টাইপের পরীক্ষা শুরু করলাম। টাচ স্ক্রিনে বাংলায় টাইপ করার সফট ওয়্যার পেলাম। কিন্তু সমস্যা একটা রয়ে গেল তা হল কীবোর্ডের মত টাচ স্ক্রিনে তাড়াতাড়ি টাইপ করা যায় না। তাড়াতাড়ি টাইপ করার জন্য কী বোর্ড সুবিধাজনক।তবে বর্তমান টাচ স্ক্রিনের প্রজন্ম হয়তবা টাচ স্ক্রিনের কী-বোর্ড থেকে তাড়াতাড়ি টাইপ করতে পারবে। তবে এটা কেবলমাত্র আমার ধারনা। কারণ শুরুতে যে টাচ স্ক্রীনে ব্যবহার শুরু করেছে সে নিশ্চয়ই আমরা যারা টাচ স্ক্রিনে অভ্যস্ত নই তাদের থেকে তাড়াতাড়ি টাইপ করতে পারবে।
          সুখবর হল, যারা বিজয় কীবোর্ড বা ফনেটিকের মাধ্যমে টাইপ করতে পারেন তাদের জন্য মোবাইল ডিভাইস এ্যান্ড্রয়েডে টাইপ করা এখন আর কোন সমস্যা নয়। চীনের তৈরি ট্যাবলেট পিসি বা ট্যাব গুলোর সাথে বিজয় কীবোর্ড সংযোগ করে খুব সহজেই আমরা বাংলা টাইপ করতে পারব। আর টাচ স্ক্রিনের অপসনতো থাকলোই।

 শুরুতে ইউরোপের যে গল্প বলেছিলাম সে ব্যক্তির মত মোবাইল ডিভাইসে আমরাও বই লিখতে পারি রাস্তাঘাটে আমাদের অলস সময়গুলো অবহেলায় ব্যয় না করে নিজের সৃজনশীলতা  উৎপাদনশীলতায় তা মহামূল্যবান করে তুলতে পারব সময়ের যথাযথ ব্যবহারে কল্যাণ রয়েছে, নিজের  দেশের সকলের