Pages

Thursday, September 17, 2015

স্থানীয় ভাবে বৈদ্যুতিক পিলার তৈরির মাধ্যমে অর্থ-সাশ্রয়

পল্লী বিদ্যুৎ বা পিডিবি এর বিস্তৃত বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বাংলাদেশে রয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ এর পিলার বা খাম্বায় রয়েছে বিশাল একটা বাণিজ্য। বাংলাদেশের গ্রাম ও ইউনিয়ন গুলোতে এখন ঢালাই ও সিমেন্টের কাজের ব্যাপক বিস্তৃতি রয়েছে। এখন যদি আপনি একটা বৈদ্যুতিক খাম্বার জন্য ২৫০০ টাকা খাম্বার উৎপাদিত মূল্যের চারভাগের একভাগ যাতায়াত ভাড়ায় ব্যয় করেন তা আর্থিক ভাবে মোটেই সাশ্রয়ী নয়। এ খাম্বা একস্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহনের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত লং ভেইক্যাল রয়েছে। এগুলো আবার নির্ধারিত রাস্তা ব্যতীত সকল স্থানে যেতে পারে না। এমন একটা অবস্থায় আমার কাছে মনে হল, এটা কি স্থানীয় ভাবে তৈরি সম্ভব? আমি সাধারণ একজন প্রযুক্তি প্রেমিক হিসাবে বলব। এটা সাধারণ ভাবে আরো শক্তিশালী ও দৃঢ়ভাবে তৈরী করা সম্ভব। প্রয়োজনে এর জন্য একদল দক্ষ কারিগর তৈরি করে নেয়া যাবে যারা কিনা একস্থান হতে অন্য স্থানে গমন করে খাম্বা তৈরি করে দিবে। তবে হয়তবা ফিনিশিং এর দিক দিয়ে একটু পিছিয়ে পড়তে পারে। তবে ফিনিশিং তেমন জরুরী নয়। উৎপাদন খরচ ও বিতরণ ব্যবস্থা গতিশীল করাটা জরুরী। খাম্বা পিলার স্থানীয়ভাবে তৈরি করাটার আইডিয়ার প্রথম কারণ কাঁচামাল চারিদিকে পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ফিনিশিং এর জন্য চারভাগের একভাগ উৎপাদন খরচ যাতায়াত হিসাবে ব্যয় করারটা যুক্তিযুক্ত নয়। তবে কেভি লাইনের বড় বড় পিলার পরিকল্পনা না করে ২২০ ভোল্টের সিঙ্গেল লাইনের পিলার কম উঁচুগুলি অতি সহজেই স্থানীয়ভাবে তৈরি করাটা আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী। এগুলোকে সাধারণত ফিডার লাইন বলে। ফিডার লাইনের পিলার স্থানীয়ভাবে তৈরি করাটা সহজ ও সাশ্রয়ী হতে। তারজন্য শুধুমাত্র কিছু সংখ্যক মিস্ত্রিকে দক্ষ করে নিতে হবে। যেন তারা গ্রামে গঞ্জের যে কোন পরিবেশে গিয়ে পিলার তৈরি করে নিতে পারে। ২০১৫ সালে যখন গ্রামে গঞ্জে মিস্ত্রিরা ৩/৪ তলা দালান অবলীলায় তৈরি করে ফেলছে এক্ষেত্রে তাদের দিয়ে ২৫/৩০ ফুট পিলার তৈরি বড় কোন বিষয় নয়। আর একবার স্থানীয়ভাবে তৈরি পিলারের আর এন্ড ডি শুরু হলে তা ক্রমাগত উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হতে থাকবে। স্থানীয়ভাবে পিলার তৈরির জন্য বিভিন্ন ছাচ বা খাঁচা ক্রমাগত উন্নয়ন হতে থাকবে। ২০১৫ সালে পল্লি বিদ্যুৎ একটা সাধারণ মাপের খাম্বার দাম হল ১০৩০০ টাকা আর তার পরিবহন ব্যয় হল ২৫০০ টাকা। তাই দেখা যায় সর্বমোট ১২৮০০ টাকা দিয়ে ফ্যাক্টরির সরবরাহকৃত পিলার বা খাম্বার দাম পড়ে। ফলে এর থেকে ভাল কিছু এই দামে স্থানীয়ভাবে তৈরি করা সম্ভব হবে।
পিলার স্থানীয়ভাবে তৈরি হলে পিলার প্রাপ্তির জন্য যে দীর্ঘসূত্রিতার প্রয়োজন হয় তার লাঘব হবে। পিলার সহজে পাওয়া গেলে বৈদ্যুতিক সংযোগ অনেক দ্রুত হবে। অনেক সময় পিলার নষ্ট হলে বা ভেঙ্গে গেলে নতুন পিলার আনতে সময় লাগে। এতে গ্রাম অঞ্চলের গ্রাহকরা সপ্তাহ বা মাসাধিকাল পিলারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। যদি স্থানীয়ভাবে পিলার তৈরি করা যায় তবে নির্ধারিত মিস্ত্রীরা দুই তিনদিনের মধ্যে পিলার তৈরি করে সংযোগ দিতে পারবে। এভাবে পুরো ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গতিশীল হবে। ফ্যাক্টরিতে পিলার তৈরি করে তা বড় বড় গাড়ীতে সরবরাহ করার চেয়ে গ্রামে গঞ্জে ছোট ছোট মিস্ত্রী দ্বারা কুটির শিল্প সৃষ্টি করা হলে গ্রামে গ্রামে পিলার তৈরির ছোট ছোট শিল্প গড়ে উঠবে এবং স্থানীয় মিস্ত্রীদের আয় রোজগারের জন্য নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে।

২০১২ ও ২০১৩ সালে আমার জাতিসংঘ শান্তি রক্ষী মিশনে কঙ্গোর বুনিয়া শহরের বিদ্যুৎ বিতরণের পাইলন গুলো দেখে আমি একটু অবাক হয়েছিলাম। আনুমানিক ২০/২৫ ফুট উঁচু তারা বৈদ্যুতিক পিলার তৈরি করেছে বিভিন্ন মাপের পাইপ ও এঙ্গেল ঝালাই করে। রেল রাস্তার লোহার লাইন গুলো। ট্রাকের লম্বা লোহার কাঠামো ঝালাই করে তৈরি। অর্থাৎ বৈদ্যুতিক পিলার গুলো স্থানীয় ভাবে সংগ্রহ করা একেকটি একেক রকম। পিলার কোন সৌন্দর্য দিতে পারছে না। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোন সমস্যা হচ্ছে না। সেখানকার প্রতিবেশী দেশ হতে পিলার আনতে যে খরচ তা হয় সে খরচ হয়ত বা তাদের বাজেটে বরাদ্ধ নেই তাই এই ব্যবস্থা। আবার গরীব দেশ হওয়ার কারণে তাদের জননিরাপত্তা নিয়ে কেউ চিন্তা করে না। এর ফলে যেন তেন পদ্ধতিতে বৈদ্যুতিক লাইন টানা হচ্ছে। আমার এ পরিকল্পনায় বা আইডিয়ায় প্রথমত বোদ্ধারা নিরাপত্তার বিষয়ে ও মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাগড়া দিবেন। যতই বাগড়া দেন, এই মান নিয়ন্ত্রণ আমার পরিকল্পনায় অবশ্যই রক্ষা করা হবে। মূলত: স্থানীয়ভাবে ট্রেনিং প্রাপ্ত মিস্ত্রীরাই তাদের তৈরিকৃত পিলারের মান নিয়ন্ত্রণ করবে। যেমনভাবে হাটে বাজারে গ্রামে ও গঞ্জে স্থানীয়ভাবে ঘরের পিলার টয়লেটের রিং তৈরী করে  তেমনি স্থানীয় পিলার তৈরি আমাদের বৈদ্যুতিক বিতরণ ব্যবস্থায় অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। এতে আর্থিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কর্ম সংস্থান বৃদ্ধি পাবে।


------------------------------------------------------------------------------------------------------
Mohammad Hossain' via Ex-cadets'89
Dosto Tareq,

It sounds like you have lot more projects idea which yet to share with us. Why don't you come to our next get together after Eid ul Azha (date and time yet to declared) to share all your projects profile.

In another note did you saw any mail in ExCadet'89 group what I sent out stating to build foundation among ourselves. As you are doing research on various issues, so you can do a comprehensive home work and let us know the future consequences (only ExCadet'89 group) on ExCadet'89 Foundation to help on emergency issues among us. Hope to see you soon.

Keep continue sending your new ideas.

Cheers,


Zakir
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

'shahidul Islam' via Ex-cadets'89
Very good idea. Eagarly waiting to learn.

Shahidul/PCC

Thursday, September 10, 2015

স্মার্ট টিভির স্মার্ট টেকনোলজি বাচ্চাদের স্মার্ট করছে

আমি বাচ্চাদের হাই টেক ব্যবহারের যে ফিরিস্তি দিব তা আমার সমকক্ষ সবার ঘরে ঘরে ঘটছে। আমার সন্তান বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা নয় বরং এরা রাজধানী ঢাকার বাইরের গ্রামে বসবাসকারী বাংলাদেশী নাগরিক।  গ্রামে থাকার কারণে ঢাকা বা দেশের বাইরের বাচ্চাদের থেকে পিছিয়ে থাকলেও ইন্টারনেট এর মাধ্যমে হাই-টেক জ্ঞানগুলি এরা বেশ ভাল ভাবেই রপ্ত করছে। আমি গত ছয়মাস আগে স্যামসং ৪০ ইঞ্চি স্মার্ট টিভি কিনি। সাধারণত আগে কোন ইলেক্ট্রনিক্স গ্যাজেট কিনলে সেই গ্যাজেটের সমস্ত ব্যবহার আয়ত্তে আনার জন্য নিজে দিনরাত সময় ব্যয় করতাম। অথচ স্মার্ট টিভি কেনার পর আমি আর এটার পিছনে সময় খরচ করে স্মার্ট হতে ইচ্ছে করল না। আমার টানা পূরণের মধ্যে দুই ছেলে ইন্টারনেট ঘেঁটে স্মার্ট টিভি কেনার বায়না ধরল। যেহেতু সাধারণ একটা এলইডি টিভি ছিল তাই দ্বিতীয় টিভি কিনতে আমি মোটেই আগ্রহী ছিলাম না। কারণ মাত্র ৬/৭ বছর ব্যবহার করে আত্মীয় স্বজনদের মাঝে পুরাতন টিভিটি বিতরণ করায় আগ্রহী ছিলাম না। তারা স্মার্ট টিভির স্মার্ট কাজ করার বায়না ধরল। আমি কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারে কম্পিউটারকে গুরুত্ব দেই। ইন্টারনেটের ভিডিও দেখার জন্য আলাদা টিভি আমার কাছে কখনোই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি। তাদের মাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে তার সঞ্চয় খালি করে স্মার্ট টিভি কিনতে সক্ষম হল। তাও আবার অনলাইন অর্ডার করে হোম ডেলিভারি নিয়ে।
স্মার্ট টিভিটি কেনার পর এটার বিভিন্ন অপশন নিয়ে আমার দুই ছেলে বেশ ব্যস্ত হয়ে পরে। প্রথমে তারা শুরু করল কম্পিউটার থেকে ডাউন-লোড করে  পেন ড্রাইভের মাধ্যমে ভিডিও চালানো। বর্তমানে অধিকাংশ ননস্মার্ট টিভিতেও পেন ড্রাইভ হতে ভিডিও দেখার অপশন গুলো আছে। তারপর তাদের অনুশীলনের বিষয় হল স্মার্ট টিভির মেইন অপশন। আর তা হল ওয়াই ফাই ব্যবহার করা। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে এডিএসএল মোডেমের রাউটার ব্যবহার করে প্রায় নিশ্চিত ১.৫ এমবিবিএস গতির ইন্টারনেট পাচ্ছি। ভিডিও দেখার জন্য যথেষ্ট ভাল সংযোগ। ওয়াই ফাই ব্যবহার করে  স্মার্ট টিভিতে ইন্টারনেট দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে দেখলাম ওরা ওদের মাকে টিভিতে অনলাইন পত্রিকা খুলে দিয়ে বেশ সহায়তা করছে। রান্নার ভিডিও গুলো ইউটিউব থেকে দেখাচ্ছে। টিভি রিমোট থেকে মনে হল কর্ড-লেস মাউস ব্যবহার করলে স্মার্ট টিভিতে ইন্টারনেট ভালভাবে ব্যবহার করা যায়। আমারও মাঝে মাঝে দুই একটি কোয়েরি করতে টিভির ইন্টারনেট বেশ কাজে লাগল কারণ সবসময় ল্যাপটপ নিয়ে বসতে ইচ্ছে করে না। তাই মোবাইল ও টিভির ইন্টারনেট মাঝে মাঝে কাজে দেয়। ইউটিউব দেখাটা বেশ মজাদার। স্পেশালি এইচডি ভিডিওগুলি চমৎকার ভাবে দেখা যায়। এটা আমার ছোট মেয়ের রাইম ও বাড়বি মুভি দেখায় বেশ কাজে লাগছে। কম্পিউটারের ছোট স্ক্রিন থেকে টিভির বড় স্ক্রিনে ভালভাবে দেখা যায়। আমিও মাঝে মাঝে ইউটিউব দেখায় যোগ দেই। বিশেষ করে চাষাবাদের ভিডিও আমার বেশ ভাল লাগে। রেকর্ডকৃত টকশো গুলি দেখা যায়। গ্রাম এলাকায় প্রায়শই ক্যাবলের লাইনে সমস্যা হয়। তখন অনলাইন টিভি বেশ কাজে দেয়। আমার দুই ছেলের সাইক্যাল রেস, কার রেস ও ক্লাবের ফুটবল লাইভ খেলাগুলো অনলাইনে দেখতে তাদের বেশ কাজে লাগছে। দুই ভাই মিলে  স্যামসং স্মার্ট টিভির আ্যাপস বা সফটওয়্যার পূর্নাংগ ব্যবহার শুরু করেছে। যেমন যে কোন মুভি বা ভিডিও কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকে সরাসরি স্মার্ট টিভিতে ওয়াই ফাই এর সাহায্যে চালানো যাচ্ছে। টিভি কার্ড ছাড়াই  স্মার্ট টিভির সাহায্যে টিভির প্রোগ্রাম  ডেস্কটপ বা ল্যাপটপে দেখা যাচ্ছে। এর জন্য স্মার্ট টিভির নিদ্দিষ্ট অ্যাপসটি ডেস্কটপ বা ল্যাপটপে ইন্সটল করলেই হল।  স্মার্ট ফোন থেকে পুরো টিভি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে। এমনকি মোবাইলের ফটো অর্থাৎ মোবাইলের স্ক্রিনে যা আসে তা টিভির বড় স্ক্রিনে শেয়ার করা যাচ্ছে। মোবাইল ব্যবহার করে মোবাইলকে রিমোট হিসাবে ব্যবহার করা যায়। কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকে টিভির চ্যানেলও বদলানো যায়। আবার কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকে ভিডিও ফাইল চালানো যায়। যা কিনা টিভিতেও সরাসরি সংযোগ ছাড়া  চালানো যায়। শুধুমাত্র সবগুলো ডিভাইস একই রাউটারের ওয়াই ফাই নেটওয়ার্কে থাকতে হবে। সাধারণত একটা রাইটার দিয়ে ২০০০  বর্গফুটের বাসা কাভার করা যাবে। বাসাটি এর বেশী বড় হলে একাধিক রাউটারের প্রয়োজন হতে পারে।
 আমার ছেলের একটা পেন-ড্রাইভ ছিল। কয়েকদিন আগে হারিয়ে ফেলে। কয়েকদিন আগে জানতে চাইলাম তার আর পেন ড্রাইভের প্রয়োজন কিনা। সে বলল ওয়াই ফাই দিয়ে সব ডিভাইস যুক্ত থাকায় তার আর পেন-ড্রাইভ প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ প্যান ড্রাইভ বা মোবাইল ড্রাইভে ছবি কপি করে টিভির পিছনে ইউএসবিতে  লাগিয়ে আর দেখতে হবে না। টিভি টিভির জায়গায় আর কম্পিউটার থাকবে তার জায়গায়। এগুলোকে রাখতে হবে ওয়াই ফাই রেঞ্জের মধ্যে। কম্পিউটার আর টিভির মধ্যে যোগাযোগটা হবে ওয়াই ফাই লিংকের মাধ্যমে।
প্রতিটি স্মার্ট  টিভির  সাধারণত অ্যাপস  স্টোর  আছে। যেমনটা আছে স্যামসং স্মার্ট টিভির জন্য। যেখান  থেকে অনেক প্রয়োজনীয় অ্যাপস  ডাউনলোড করা যায়। সেই সাথে নতুন নতুন অপশন যোগ করা যায়।  স্মার্ট টিভিতে ইউএসবি মোবাইল হার্ড ড্রাইভ ব্যবহার করে টিভি প্রোগাম রেকর্ড করা যায়। তবে টাইম প্রোগাম সেট করে রেকর্ড করার অপশনটি ওরা বের করতে পারেনি। স্মার্ট টিভির প্রোগাম কম্পিউটারে চালিয়ে তা স্ক্রিন ক্যাপচার ভিডিও সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভিডিও কপি করতে সক্ষম হয়েছে। নিজের ৪৫ বছরে এসে (সেপ্টেম্বর ২০১৫)  সন্তানদের এ ধরনের প্রযুক্তির  স্মার্ট ব্যবহার বেশ ভাল লাগছে। আমরা ছোট থাকতে বড় রেডিও ছেড়ে ট্রানজিষ্টর রেডিও নিয়ে ঘুরতাম। ওয়াক-ম্যানে গান শুনতাম। ভিসিডিতে ছবি দেখতাম আমাদের ছোটবেলার সেই প্রযুক্তিগুলো তখন আমাদের জন্য স্মার্ট প্রযুক্তি। সামর্থ্যবানরা দেশের বাইরে থেকে আনিয়ে সনি বা অন্যান্য কোম্পানির সেট ব্যবহার করত। আর আমরা টাকা জমিয়ে চায়না প্রডাক্ট কিনতাম। তারপর আসল সিডি ডিভিডি। আজ ওয়াই ফাই ইন্টারনেটে ঝেটিয়ে বিদায় দেয়া হচ্ছে সিডি ও ডিভিডি। ওয়াই ফাই ও ইন্টারনেটের ব্যান্ড উইথ বাড়ার সাথে সাথে সংযোগ সহজলভ্য হওয়ায় পেন ড্রাইভ ও মোবাইল ড্রাইভের ব্যবহার কমে যাছে। ক্লাউডের স্টোরেজ বেড়ে যাচ্ছে। ক্লাউডের ও অনলাইনের ব্যবহার করে আমাদের সন্তানদের কাছে সিডি/ডিভিডি, পেন-ড্রাইভ ইত্যাদি সবই বাতিল হয়ে যাচ্ছে। সমস্যা একটাই ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হলে তাদের অবস্থা হয় দেখার মত।

          প্রযুক্তির এই বিবর্তনগুলো আমাদের অলক্ষ্যেই ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। শুধু নৈতিক শিক্ষায় আমাদের সন্তানদের এগিয়ে নিয়ে আমরা তাদের প্রযুক্তির খারাপ দিক গুলো থেকে দূরে রাখতে পারি।

Thursday, September 3, 2015

ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবহার ও সামাজিক উন্নয়ন

আমি আগস্ট ২০১৫ এর প্রথম সপ্তাহে অনেকদিন পর আমার গ্রামে‌র বাড়ীত‌ে  বেড়াতে যাই। গ্রামে যাওয়ার পর আসে পাশে‌র এলাকা গুল‌োতে বেড়াতে  যাই। বেড়ানোর এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে কসবা উপজেলা, নয়নপুর বাজার, ক‌েল্লাপাথর, সালদা গ্যাস ফিল্ড ইত্যাদি। আমি সাধারণত বেড়ান‌োর  জন্য রিক্সা নিয়ে বে‌র হই। এটা  আমার দীর্ঘ  দিনের অভ্যাস। আমি য‌ে কোন নতুন স্থান‌ে আসল‌ে রিক্সায় উঠ‌ে ধীরে  ধীরে ঘুরত‌ে থাকি। আমারও  অনেক শহর বাসীর  মত এক/দুই বছর পর পর গ্রাম‌ে যাওয়া পড়ে। ঢাকা, কুমিল্লা ও বগুড়া এ তিনটি শহরে নিজ বাড়ী ও আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে প্রায়ই যাওয়া আসা করি। আমার পছন্দের কাজ হল অনেক দিন পর পর যেহেতু ছুটি আসি তাই অন্য গাড়ী বাদ দিয়ে রিক্সার মত ধীর যানে শহর ও পারিপার্শ্বিক পরিবর্তনগুলো দেখতে দেখতে বেড়াতে থাকি। বাস থেকে নেমে সাধারণত রিক্সা নেই অনেক দূর হলেও তাই করি। শুধু পরিবর্তন ও উন্নয়ন গুলি দেখাই আমার রিক্সা সফরের উদ্দেশ্য। এই ধীর বাহনে  উঠ‌ে আমি  ভ্রমণরত স্থান‌‌ের  পরির্বতন গুল‌ো  বুঝত‌ে  বা অনুধাবন করত‌ে  চেষ্টা করি।
একদিন রিক্সা  নিয়ে গ্রামে‌র বাড়ী কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের দেউস গ্রাম হত‌ে  কসবা উপজেলা শহর দেখার জন্য ব‌‌ের  হই। যা কিনা আনুমানিক ১২ কি:মি দূরে। আমি যে রিক্সাতে  উঠেছি  সে‌ট‌ি মটর লাগান‌ো রিক্সা। আমি রিকশাওয়ালার কাছ‌ে জানত‌ে পারলাম।  রিক্সাটির  মালিকানা  তার। স‌ে বাইশ হাজার টাকা দিয়ে  রিক্সা কিনেছে। আর তা কিনেছে স্থানীয় সমবায় থেকে  ক্ষুদ্র  ঋণ  নিয়ে। আমি জানতে পারলাম রিক্সা ভাড়ায় নিলে দিনের জমা হয় ১৫০ টাকা। রিক্সার মালিককে যাবতীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করতে হবে। ১৫০ টাকা দৈনিক দিয়ে মাসে আয় ৪৫০০ টাকা হলেও মালিকদের রিক্সা ক্রয় করে তা পোষায় না। বর্তমানে গ্রাম এলাকায় রিক্সার মালিক শ্রেণী বিলুপ্ত হয়েছে। এটা দারিদ্র বিমোচনে অবশ্যই ভাল দিক। কারণ রিক্সা কেউ ভাড়া নিয়ে চালালে রিক্সার রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়ে যায়। এছাড়া ছয়মাস পর পর ব্যাটারি বদল করে মোটরের রিক্সা চালাতে হয়। তাই রিক্সা কিনে ভাড়ায় খাটালে মালিকদের রিক্সায় তেমন লাভ নেই। রিকশাওয়ালা জানাল যারাই রিক্সা চালাচ্ছে কেউই দৈনিক ভাড়া নিয়ে রিক্সা চালায় না। গ্রামে এটা একটা বড় পরিবর্তন। রিক্সা যারা বানায় সেসব দোকানে গিয়ে বললেই হল আমি রিক্সা কিস্তিতে কিনতে চাই। আর সাথে সাথে ক্ষুদ্র ঋণের এনজিওরা এসে হাজির। তারা তিন/ চার হাজার টাকা ডাউন পেমেন্ট নিয়ে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা সাপ্তাহিক কিস্তিতে রিক্সা কিনে দিচ্ছে। সাধারণত ছয় মাস হতে এক বছর কিস্তি দিলে রিক্সার মালিক হয়ে যাচ্ছে। যে টাকায় মালিকের ভাড়ায় রিক্সা চালাত সেই জমার টাকায় মোটর রিক্সা হয়ে যাচ্ছে। এরই ফলে কিছুদিন আগেও রিক্সা কিনে ভাড়া দিলেও এখন গ্রামাঞ্চলে কাউকে রিক্সা কিনে ভাড়া দিতে তেমন একটা দেখা যায় না। সময় পাল্টিয়েছে। এখন জমা টাকার বিনিময়ে ভাড়ায় রিক্সা না চালিয়ে ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তির মাধ্যমে মালিকানায় রিক্সা চালাচ্ছে আধুনিক রিক্সা চালকরা। এটা একটা বিশাল পরিবর্তন। গ্রামে আবার ক্ষুদ্র ঋণের তেমন সমস্যা নয়। এনজিও এর মাঠ কর্মীরা বাড়ী বাড়ী গিয়ে ঋণ দিয়ে আসে। গ্রামে সকলেরই বলা যায় জমি আছে ঘর আছে। যাদের জমি নাই তাদেরও দেখা যায় নদীর পাড়ে খালের পাড়ে রেল রাস্তার ধারে খাস মালিকানার জায়গায় ঘর আছে। যাদেরই স্থায়ী ঘর আছে বা স্থায়ী ঠিকানা আছে তারাই এনজিওদের ভিআইপি কাস্টমার। গ্রামের মানুষের বর্তমানে ক্ষুদ্র ঋণের প্রাপ্তির অভাব নাই। শুধু মাত্র ঋণ পরিশোধে অভাব রয়েছে। শুধু মুখে ইচ্ছে করলেই হল। কাগজ নিয়ে লোক হাজির। টিপসই দিয়ে ঋণের টাকা নগদে প্রদান করে যাচ্ছে। একই ভাবে সপ্তাহ শেষ বা মাস শেষে কিস্তির টাকা নেয়ার জন্য দরজায় মাঠ কর্মী নগদে টাকা নেয়ার জন্য হাজিরচমৎকার হোম সার্ভিস। নি:সন্দেহে ইনকাম জেনারেটিং এ এই ক্ষুদ্র ঋণ অনেক অনেক বেশী ভূমিকা রাখছে। কিন্তু মুদ্রার অপর পিঠে দূ:খজনক অধ্যায়ও রয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়া ও আত্মহত্যার মত অনেক ঘটনাও রয়েছে।

এই ক্ষুদ্র ঋণ সহজলভ্য হলেও এটা রিস্ক ম্যানেজমেন্টের কোন অপশন নাই। ক্ষুদ্র ঋণে ধরা খেলে জীবন শেষ। আমার আলোচিত রিকশাওয়ালার কাছে জানতে চাইলাম সে যদি এ রিক্সা নিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়, তবে সে কিভাবে এ ঋণ পরিশোধ করবে। তার সহজ স্বাভাবিক উত্তর আল্লাহ দেখবেন। সে দূর্ঘটনার বিষয়ে ভাবতে নারাজ। যখন ঘটে তখন দেখা যাবে। দুর্ঘটনায় কিস্তি পরিশোধ করতে না পারলে এনজিও তার রিক্সা নিয়ে নিবে এবং অন্য কারো কাছে বিক্রয় করে দিবে। তার দেয়া সর্বমোট পরিশোধিত টাকা তার লস হবে। কত সহজ সমাধান। দুর্ঘটনা পরবর্তীতে সুস্থতা সাপেক্ষে পুনরায় কিস্তি নিয়ে রিক্সা ক্রয় করবে। জীবন পুনরায় চলমান হবে। জীবনের এত সহজ হিসাব ভাবতে সত্যি ভাল লাগে। রিকশাওয়ালাদের সমাধান সহজ হলেও আমরা সচেতন মানুষ এ সহজ সমাধান মেনে নেয়া উচিত নয়। এনজিওদের উচিত থার্ড পার্টি বীমা কোম্পানির সাহায্যে কিস্তি গ্রহণকারী ঝুঁকিপূর্ণ পেশার লোকদের বীমা করানো। যাতে পরিশ্রমী মানুষগুলোর জীবন দুর্ঘটনায়ও উত্তরণের সংগ্রামটি সহজ ও স্বাভাবিক হয়। ক্ষুদ্র ঋণ যথাযথ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট করে ব্যবহার করতে পারলে এই ঋণে মানুষের র্দূগতি কমে সুদিন আসবে। আমরা সেই সুদিনের অপেক্ষায় রইলাম

Thursday, August 27, 2015

মধ্যবিত্তের স্যামসং গ্যালাক্সি মোবাইল

টেলিভিশনে একটা বিজ্ঞাপন আমাকে বেশ নাড়া দেয়। আর তা হল,সাধারণ চাকুরীজীবী  একজন বাবা তার মেয়ের জন্য একটি ভাল মোবাইল সেট কিনতে চান। তার জন্য মধ্যবিত্ত বাবা তার জমানো সঞ্চয় ভাঙ্গতে চান। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য দূ:খজনক একটা অনুভূতি। তবে আমার প্রশ্ন বিজ্ঞাপনে উল্লেখিত মোবাইলে কি এমন কাজ করব‌ে যা কিনা স্যামসং গ্যালাক্সি মোবাইল ব্যতীত  সম্ভব নয়?
আমার মনে হয় গতির পার্থক্য ছাড়া আর কোন পার্থক্য নাই। তাহলে মধ্যবিত্ত পরিবারে ইংগিত করে এ ধরনের বিজ্ঞাপন ভুল ম্যাসেজ দেয়। মধ্যবিত্ত  পরিবারের মেয়েদের সামর্থ্য না থাকল‌েও স্যামসং  গ্যালাক্সিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করত‌েই হব‌ে। এ ধারনা হাস্যকর। অন্য অনেক কমদামী মোবাইলেও ভালভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার সম্ভব।
আমাদের মাঝে অনেকে আছ‌ে যারা ইম‌োশনাল‌ি পরিচালিত হয়। তারা বাস্তবতা ও প্রয়‌ো‌জন দ্বারা পরিচালিত হয় না। কম্পিউটার বা ডিজিটাল  গেজেট কেনার বিষয়ে  আমার জ্ঞান হল এরূপ প্রথম‌ে  একটা কাগজ‌ে আমার ক‌ি ধরন‌ে‌র ডিজিটাল কাজ করত‌ে  হব‌ে তা লিখে  নিব। এবার হিসাবে আনব আমাদের আর্থিক সংগতি। মোবাইলের কাজের পরিধি আর আর্থিক সংগতির সমন্বয়ে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত মোবাইল সেট ক্রয় করতে পারব।
এখন আসি  বিজ্ঞাপনটির প্রসঙ্গে। মধ্যবিত্ত পরিবারের একটা মেয়ের কেন  স্যামসং গ্যালাক্সি ফোন প্রয়‌োজন? ইন্টারনেট ব্যবহার, ভাইবার ব্যবহার, মেইল চেক  ইত্যাদি। তব‌ে  তাক‌ে  স্যামসং গ্যালাক্সি  সিরিজের মোবাইল কিনতে  হব‌ে? এটা কেমন কথা। আমরা নিজেদের ভাব ও আভিজাত্য বাড়াতে অনেক বেশী তৎপর। তাই আমরা অনেকেই সামর্থ্যের বাইরে কাজ করি। পরে আমরা ধার, কর্জ ইত্যাদি করে সর্বস্বান্ত হই। আমাদের চাহিদাগুলো হতে হবে আমাদের সামর্থ্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত।
স্যামসং মোবাইলে বা দামী মোবাইল কাজের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হবে এটা আবশ্যক নয়। শখ বা আভিজাত্যের জন্য হয়তবা এটা প্রয়োজন।  আমি একটা খবরে অনেক মর্মাহত হয়েছিলাম। তা হল হংকং এ একটা ছেলে আই-ফোন কেনার জন্য নিজের কিডনি বিক্রি করে দেয়। এটা অত্যন্ত দূ:খজনক। প্রযুক্তি বিকাশের যুগে মানুষের শখ মানুষকে এত বেশী ইমোশনাল করে দেয় যে মানুষ মরাত্মক ও ভয়াবহ কাজ করতে পিছপা হত না। ছেলেটি নিরীহ বলে কিডনি বিক্রয় করেছে। দুর্দান্ত তরুণ হলে হয়ত বা মানুষ খুন করে টাকা নিত। একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে তার ফ্যাশন বা  শখ মিটাতে স্যামসং গ্যালাক্সি ফোন ক্রয় করতে বাবা মাকে ঋনগ্রস্থ করে ফেললে তা সত্যিই দূ:খজনক হবে। এ ধরনের তরুণীরা বা তরুণরা মিতব্যয়ী হওয়াটা অত্যন্ত দূরহ হবে। জীবনভর ফ্যাশন সচেতন ও পারিপার্শ্বিক সামাজিক প্রতিযোগীটায় বিভ্রান্ত হয়ে নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে।

মানুষের শখ, আবেগ ও ফ্যাশন সচেতনতা একটা ভয়াবহ বিষয়। বিশেষ করে তরুণ তরুণীরা এ রোগে বেশী আক্রান্ত। তাই ১০,০০০ টাকার মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারলেও সচ্ছল পরিবারের বন্ধু/বান্ধবের কাছে মূল্যবান গ্যালাক্সি ট্যাব দেখে অসচ্ছল পরিবারের সন্তানরা বাবা মাকে ইমোশনালী ব্ল্যাক মেইল করে সংগতির বাইরে ধার কর্জ করে দামী মোবাইলের মালিক হতে চায়। ঘরে ঘরে হয়ত এরূপ জ্বালাতন আছে। অনেকে বলবেন এটা যুগের চাহিদা। আর আমার কাছে মনে হয় এটা অপচয়। আমাদের সন্তানদের প্রয়োজন অনুযায়ী চাহিদা তৈরি করতে পারলে মধ্যবিত্ত পরিবারের পিতামাতা শান্তিতে থাকতে পারবেন। আমাদের দেশের বিজ্ঞাপন যারা প্রচার করেন তাদের সচেতনতার অভাব আছে। আমাদের সামাজিক ক্ষতিকারক কোন বিজ্ঞাপন ভাল আইডিয়া ও উন্নত নিন্মান শৈলীর হলেও প্রচার করা উচিত নয়। কারণ এ বিজ্ঞাপনে মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের এ ধরনের মোবাইল ক্রয় করার জন্য পিতামাতাকে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। স্মার্ট ফোনের ব্যবহার কি এবং এটা কিভাবে কাজে লাগে? এটা এ যুগের জেনারেশনকে শেখাতে হবে না। তবে মিতব্যয়ীটা শেখানোর প্রয়োজন এর জন্য এ যুগের জেনারেশনকে সহিষ্ণুতা ও ধৈর্য শেখানোর প্রয়োজন হবে। প্রয়োজন ও শখ এর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন। আমাদের সকলের প্রয়োজন ভাল থাকার জন্য মিতব্যয়ীতা ও বাহুল্যবিহীন জীবন ধারণ করা। এতে আছে শান্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য।

Thursday, August 20, 2015

বংশমূলের অকৃত্রিম টানে ফিরে চল গ্রামে

পৃথিবীর এই গ্লোবালাইজেশনের যুগে নিজের গ্রাম, নিজের এলাকা, নিজের জেলা ও নিজের দেশ নিয়ে ভাবনা ও তা নিয়ে সর্বদা ব্যস্ত থাকাটা অনেকটাই অমূলক ভাবনা। সারাদেশ আমার দেশ। সারাটা পৃথিবী আমাদের পৃথিবী। পৃথিবীর যে প্রান্তেই যে কাজ করুক তার বাইরে নিজ জাতি বা পূর্বসূরিদের ভাবনা না হওয়াটা অনেকটা স্বার্থপরতার সামিল। অর্থাৎ হৃদয়ে স্বজাতি ও দেশ হল মুল বিষয়। মা ও মাতৃভূমি তার প্রতি রয়েছে আমার চিরন্তন দুর্বলতা। ব্যক্তিগত আয় উন্নতির জন্য আমরা আত্মীয় পরিজন ত্যাগ করে নিজের এলাকা ত্যাগ করি। আমি মাঝে মাঝে আমার গ্রামের বাড়ী কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের চৌব্বাস গ্রামে যাই। একবার গ্রামে যাওয়ার পর আমার গ্রামের চাচাত ভাই আমাকে বলল, আমি কিভাবে গ্রামের মানুষকে ভুলে গেলাম। সে গ্রামে থেকে পাকা বাড়ী করেছে। টাইলস দিয়ে টয়লেট করেছে। মটর লাগিয়ে রানিং ওয়াটার করেছে। সুন্দর আসবাবপত্র দিয়ে গ্রামে নিজের আবাসটিকে সাজিয়ে নিয়েছে। কুমিল্লা শহরে বিটিসিএল অফিসে সে চাকুরীরত আর তার স্ত্রী গ্রামের একটা হাই স্কুলে মাস্টারি করে। কিছুদিন পূর্বে সে সিলেটে চাকুরী করে বেশ কিছুদিন হল সে কুমিল্লায় বদলী হয়ে এসেছে। এখন পৈত্রিক ভিটায় দালান করে স্থিত হয়েছে। আমি তাকে আমার জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরলাম। প্রথমত: আমি জন্মের পর হতে আমার পিতার গ্রামে আমরা ছিলাম না । পিতার চাকুরীর সুবাদে দেশের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে থেকে ঘুরে বেরিয়েছি। তাই ভাল লাগার জেলা আমার জন্য কুমিল্লা নয়। আবার বিয়ে করার সুবাদে ও জামাই আদর পাওয়ার সুবাদে বগুড়া থাকা খাওয়া ও অবস্থানের দিক দিয়ে মন্দ মনে হয়নি। এখন আমি কুষ্টিয়াতে চাকুরী করছি। কুষ্টিয়াও আবাসনের বিচারে মন্দ নয়। আবার বিদেশে অর্থাৎ আফ্রিকায় গিয়েছি। কঙ্গো ও সিয়েরালিওনের অবস্থা আবার আমাদের দেশের থেকে ভাল নয়। সেসব দেশে থেকে আন্তর্জাতিক বাসিন্দা হওয়ার মোটেই শখ নেই। আমাদের বাংলাদেশীরা যখন জীবিকা উপার্জনের জন্য বিদেশ যায় তখন তার পরিবার থাকে বাংলাদেশে। তাই উন্নত দেশের উন্নত পরিবেশ তার জীবনে তেমন একটা রেখাপাত করে না। যদি কখনও আমরা কোন দেশে স্বপরিবারে থাকি তবে সে দেশ আমাদের জীবনে যথেষ্ট রেখাপাত করে বৈকি। তাই কখন কোথায় মানুষ তার আবাসন গড়ে নিবে এটা চিন্তা করে বের করাটা দূরহ বিষয়। আমার কাজিন যে উপদেশ মুলক বক্তৃতা দিয়েছে তার জন্ম, পড়াশোনা ও চাকুরী নিদ্দিষ্ট এলাকা কেন্দ্রিক। তাই তার চাকুরী শেষে নিজেকে স্থিত হওয়ার স্থান নির্বাচন করাটা সহজ। আমার বাবা ও মা ছিল আত্মীয় চাচাত ভাই বোন। তাদের রুট এক জায়গায় হওয়ায় রিটায়ারমেন্টের পর আমার বাবার গ্রামে ফিরে যাওয়াটা জটিল কোন বিষয় হয়নি। আমি কুমিল্লার অরিজিন ও আমার স্ত্রী বগুড়ার অরিজিন হওয়ায় মাঝে মাঝে চিন্তা করি আমার সন্তানরা কোন দিকে যাবে। চাকুরীর কারণে আমি আগাগোড়াই কুমিল্লার গ্রাম থেকে বেশ দূরেই থাকছি। সন্তানদের জটিল যাতায়তের রাস্তা ও আরামদায়ক ভ্রমণ না হওয়ায় তেমন একটা গ্রামে নিতে পারিনি। হয়তবা যে খরচ করে গ্রামে নিয়ে যেতে হয় সেটা চাকুরীর নিয়মিত বেতন থেকে বের করা কষ্টকর। এর জন্য জমা টাকা ভাঙ্গতে হবে। তাই অনেক ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তৈল কিনে নিজ কারে বা ভাড়া করা গাড়ীতে প্রায় ৬০০ কি:মি: যাতায়াত করতে ইচ্ছে করে না। কেবলমাত্র বাবা ও মাকে দেখার দায়বদ্ধতা ছাড়া। অন্য দিকে আমার বড়বোন, বড়ভাই, ঢাকা থেকে প্রতিনিয়ত বাবা মাকে দেখতে বাড়ীতে যাচ্ছে। স্বল্প খরচে তাদের বেড়ানোর জায়গা হল গ্রামে গিয়ে বাবা মাকে দেখে আসা। আমার মেঝ বোন ও ছোট বোন কুমিল্লা শহরে ও নিকটবর্তী উপজেলায় থাকে বলে প্রতিনিয়ত তাদের দেখতে যাচ্ছে। চাকুরীজীবিদের জন্য দূরত্ব ও খরচ একটা বড় বিষয়। নিদ্দিষ্ট বেতনে যারা চাকুরী করে। তারা স্বীয় অবস্থানে থাকা, খাওয়া ও কাপড় চোপড়ের মান বজায় রাখতে নির্ধারিত বেতন অধিকাংশ চাকুরীজীবিরই টানা পোড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অভ্যাস আর একটা বিশাল বিষয়। আমি আজ যে জীবন ধারায় অভ্যস্ত সেটা গ্রামে পাওয়া যাবে কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ। একসময় দেশের প্রতি ভালবাসার কারণে নিজ এলাকার মানুষের প্রতি ভালবাসা উদ্বেলিত হত। এখন বাস্তবতা চিন্তা করলে মনে হয় ভৌগলিক সীমানার গুরুত্ব কমে যাচ্ছে। গ্লোবালাইজেশন প্রাধান্য পাচ্ছে। তবে গ্রাম তো হিসাবেই নেইআমার কিছু বন্ধু বিভিন্ন দেশে চিরস্থায়ী ভাবে থাকার পরিকল্পনা করছে। কারণ তারা( স্বামী ও স্ত্রী ) ফিরতে চাইলেও উন্নত দেশের উন্নত সামাজিক নিরাপত্তায় ও ব্যবস্থায় সন্তানরা অনেক অভ্যস্ত হয়েছে। তারা দেশে বা নিজ এলাকায় পরিবার সহ বেড়ানো ব্যতীত ফেরত আসাটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে। দেশপ্রেম হয়তবা দেশে ফেরত এসে অবস্থান করে ভাল মন্দ কাজ করবে সে সংজ্ঞায় আমরা যেতে পারব না। অনেক চেষ্টা করলেও কুমিল্লার গ্রামে আমার সন্তানদের রাখতে পারব কিনা সন্দেহ। হয়তবা তাদের বেড়াতে নেয়া যেতে পারে। তাই জীবনের পরিকল্পনায় সন্তানদের দিয়ে গ্রামে থাকা হবে না। তবে গ্রামের নির্মল পরিবেশে স্ত্রী রাজি থাকলে সস্ত্রীক থাকা যায় । নতুবা জমির আয় রোজগার আনার জন্য ভবিষ্যতে গ্রামে যাওয়া আসা করা যাবে। তবে বছরে ১২ মাসের মধ্যে তিনমাস গ্রামে থাকলেও অনেক কিছু করার থাকবে। প্রথম কাজটা করতে হবে মিনিমাম নিজের স্ট্যান্ডার্টে গ্রামের বাসস্থানের রিনোভেশন করতে হবে। এখন গ্রামে থাকার জন্য রিনোভেশন অনেক অনেক সহজ কাজ। কারণ গ্রামেও মফ:সল শহরে ঢাকার সব নির্মাণ সামগ্রী পাওয়া যায়। রাস্তা ও যানবাহন চলাচলের অনেক উন্নতি হয়েছে। কুরিয়ার ও ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের বদৌলতে গ্রামে সুন্দর স্থাপনা করা সম্ভব। গ্রামে শহর থেকে কম খরচে সুন্দর স্থাপনা করা সম্ভব। আমাদের মত মধ্যম মানের চাকুরীজীবিদের জন্য বড় শহরে উন্নয়ন মূলক কাজ করাটা অনেক কঠিন। অনেক ধনীর ভিড়ে নিজের দানটুকু খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু গ্রামে একটা ছাত্রকে পড়ার খরচ দিলে ও একটা ল্যাপটপ বিতরণ করলে তা অন্যদের আশার আলো দিবে। গ্রামের লোকেরা তখন নিজেদের অনেক বেশি উজ্জীবিত মনে করবে। তারা আমাদের মত প্রবাসী বা দূরে অবস্থানকারীদের নিয়ে গর্ববোধ করবে। গত ২৮ এপ্রিল প্রথম আলোর খবরে দেখলাম সিলেটের একজন প্রবাসী ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা খরচ করে একটি ব্রিজ তৈরি করেছেন। কারণ এ প্রবাসী জেনেছেন তার দাদীকে ব্রিজটি না থাকায় সময় মত হাসপাতালে নেয়া যায়নি। এতে তার দাদী মারা যায়। প্রবাসী যখন লন্ডনে যায় তখন তার বয়স ছিল ৬ বছর। আজ অনেকদিন পর তার রক্তের সম্পর্কের শোধের একটা চেষ্টা করেছে । সে আবার ব্রিজ উদ্বোধনের উপলক্ষে ১৪ দিনের জন্য বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছে। এটাকে আমরা দেখব যেখানেই থাকুক হৃদয়ে বাংলাদেশ হিসাবে। আমাদের দেশের অনেকের সন্তানেরা পড়াশোনার জন্য বিদেশে গিয়ে সেখানেই থাকতে অভ্যস্ত হয়েছে। কিন্তু তারা কোন না কোন সময় তার পিতা ও মাতার দেশের মানুষের জন্য ভূমিকা রাখছে বা রাখার চেষ্টা করছে। অভ্যস্ততার জন্য বাংলাদেশে না থাকতে পারলেও সেই গ্লোবাল নাগরিকদের কাছে তার রুটের বা অরিজিনের জন্য কিছু করার জন্য আমরা অবশ্যই আশা করতে পারি।
আমি একজন ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলাম যিনি ব্যবসায়িক প্রয়োজনে অনেক দেশ ঘোরেন। কিন্তু অবকাশ যাপনের জন্য রিসোর্ট টাইপ বাংলো বানিয়েছেন প্রত্যন্ত গ্রামে। তার এ স্থাপনা সবার নজর কারে। আমি তার  এই উদ্দ্যোগে বেশ উৎসাহ দিয়েছিলাম। প্রথমত: গ্রামে মাঝে মাঝে এসে বেড়াব তারজন্য আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করাটা তখনই যায় যখন কারো কাছে যথেষ্ট পরিমাণ সারপ্লাস টাকা থাকে। এর জন্য যথেষ্ট অব্যবহৃত বাড়তি টাকা প্রয়োজন। ঢাকা শহরে কয়েক কোটি টাকার আবাসন নিদ্দিষ্ট জায়গায় সীমিত পরিসরে বসবাস। আর গ্রামের অল্প মূল্যের জমিতে মনের খেয়াল খুশি মত সুন্দর একটা আবাসন তৈরি করলে মন্দ হয়না । বিশেষ করে শহর থেকে বেশী পরিমাণ গ্রীনারী পাওয়া যাবে। বুক ভরে নিশ্বাস নেয়ার মত বিস্তৃত জায়গা পাওয়া যাবে। এ ধরনের আবাসন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর নামক ইউনিয়নে দেখেছি। সৌখিন মালিক তার এ গ্রামটি তার প্রবাসী কন্যা ও তার স্বামীকে উপরন্তু তার অনেক প্রবাসী বন্ধুবান্ধবকে যথেষ্ট আকর্ষিত করতে পেরেছেন। তারা মহা আনন্দে ফারুক সাহেবের গ্রামের সেই রিসোর্টে বেড়িয়ে যাচ্ছেন।
 গ্রামের থাকাটা আমাদের সকলের কাছে অত আনন্দের নয়। তবে আর্থিকভাবে সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ যখন গ্রামে কিছু করে তখন তা আমাদের কাছে বিষয়গুলি বেশ ইতিবাচক মনে হয়। একজন ব্যক্তি তার মাকে স্মরণ করার জন্য গ্রামে যাওয়া। আর মায়ের কবরকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলেছেন মসজিদ, হাফিজি মাদ্রাসা ইত্যাদি। আর গ্রামে যখন আসবেন তখন পরিবারের থাকার স্থানটি যদি আরামদায়ক ও আধুনিক হয় তবে গ্রামে গিয়ে যে কষ্টটা চিন্তায় আছে তা কিন্তু হয় না।
আমার বাবার কারণে আমার গ্রামে যাওয়াটা নতুন কোন বিষয় নয়। আমার বাবা ১৯৯১ সালে রিটায়মেন্টের পর গ্রামে চলে যান আর তখন থেকে গ্রামে আছেন আর বাবা ও মার টানে আমাদেরও যেতে হয় গ্রামে। বাবা গ্রামে না থাকলে আমরা গ্রামে যেতাম কিনা এটার বিষয়ে আমার কিছু সন্দেহ রয়েছে।

যদি সামর্থ্য হয় আমারও চিন্তায় আছে গ্রামে বেশ কিছু জনহৈতষী কার্যক্রম চালু করা। গ্রামে একাধিক বার যাওয়া আসা করা। পৈতৃক সম্পত্তি গুলো গুছিয়ে নিয়ে ইনকাম জেনারেটিং করা। একটা বেড়ানোর উপযোগী আবাসন তৈরি। তবে বিলাসিতা পূর্ণ নয়। কেবলমাত্র পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন একটি থাকার স্থান। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের আমদানি-রপ্তানির ব্যবসায়ী জনাব ফারুকের সুরম্য বাসস্থান ও অন্যান্য স্থাপনা আমাকে “বংশমূলের অকৃত্রিম টানে ফিরে চল গ্রামে” এরূপ একটা অনুপ্রেরণা দিয়েছে। অবসর যাওয়ার পরে সেই ইচ্ছা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রইলাম।

Thursday, August 13, 2015

আইপিএসের বিকল্প সোলার হোম সিস্টেম

চাকুরীর কারণে গ্রামের বাড়ীতে ঘন ঘন যাওয়া হয় না। পারিবারিক কর্তব্যে পিতামাতার দেখা সাক্ষাতের দায়িত্ব হিসাবে গ্রামে মাঝে মাঝে আমরা অনেকেই যাই। আমার গ্রামের বাড়ী কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নে। কুমিল্লা জনবহুল এলাকা। এখন প্রতিটি পরিবারে একাধিক সদস্য বিদেশে থাকে। প্রায় প্রতিটি পরিবারে কেউ না কেউ আর্মি, পুলিশ, বিজিবি ও কোন না কোন সরকারী চাকুরী করে। অধিকাংশ পরিবারের ভূসম্পত্তির কৃষি ও অন্যান্য উৎস হত গড় আয় মাসিক ২০০০০ টাকার নীচে না। পাকা বাড়ী। অনেকেই গ্রামে দুই তালা/তিনতালা করেছে। আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে আমাদের সম্পূর্ণ শশীদল ইউনিয়নে একটি দোতালা বাড়ী ছিল। আজ দুইতলা ও তিনতালা বাড়ীর সংখ্যা শতাধিক। এমনকি কয়েকটি পাঁচতলা হয়েছে। কেউ কেউ বাড়ীতে এয়ার কন্ডিশন লাগিয়েছে। কেউ কেউ আবার গাড়ীও রাখছে। গত বিশ বছরে গ্রামের এ পরিবর্তন অবাক করার মত। গ্রামের বাজারে ( ইউনিয়নের থেকে ছোট বাজার) ওয়ালটনের টিভি, ফ্রিজ, এসি ও মোবাইল ফোন ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ক্যাটালগ দেখে অর্ডার দিলে যে কোন জিনিস বাড়ীতে পৌঁছে দেয়। আমার মনে পরে ১৯৭৮ সালে আমার বাবা তার পকেট রেডিও বাজানোর জন্য গ্রাম থেকে লোক পাঠিয়ে শহর থেকে পেন্সিল ব্যাটারি আনিয়ে ছিলেন। ১৯৯১/৯২ সালে গ্রামের বাজারে বেনসন সিগারেট পাওয়া যেত না। ছুটিতে যাওয়ার সময় কুমিল্লা শহর থেকে বেনসন নিয়ে গ্রামে যেতাম। আজ গ্রামে মোবাইল ফোনে অর্ডার দিলে গ্যাস সিলিন্ডার, টিভি, কম্পিউটার, ল্যাপটপ হোম ডেলিভারি দিচ্ছে। শহরে থাকলে গ্রামের পরিবর্তনগুলো অনুধাবন করা যায় না। পণ্য বিক্রি করার জন্য গ্রামের ঘরে ঘরে গিয়ে শো রুমের ও দোকানের লোকজন মোবাইল নম্বর লেখা কার্ড দিয়ে আসছে। শুধু প্রয়োজন কলটি করা ও পণ্যটি নেয়া।
          কয়েকদিন আগেও এ পরিবর্তনটি আমার চোখে পড়েনি আর তা হল বিদ্যুৎ থাকার পরও সোলার প্যানেল লাগানো। গ্রামের বাড়ীতে পল্লী বিদ্যুৎ এর বিদ্যুৎ থাকার পরও বাড়ীতে বাড়ীতে সোলার প্যানেল লাগানো হচ্ছে। আমি আমার আত্মীয় স্বজনদের কাছে জানতে চাইলাম, আপনারা আইপিএস না কিনে সোলার হোম সিস্টেম কেন কিনলেন?
তাদের পরিষ্কার উত্তর, গাছপালা পরে তার ছিঁড়ে পল্লী বিদ্যুৎ এর লাইন ২/৩ দিনও থাকে না। এছাড়া দিনে ও রাতে নিয়মিত লোড শেডিং বিদ্যমান। তখন আইপিএস ব্যাটারি চার্জ করাই সম্ভব হয় না। তাই আইপিএস রেখেও অন্ধকারে থাকতে হয়। এর বিকল্প জেনারেটর। কিন্তু সোলার বিদ্যুৎ তারচেয়েও সাশ্রয়ী। বিদ্যুৎ থাকুক আর না থাকুক রাতে দুই/তিন ঘণ্টা সোলার লাইট নিশ্চিতভাবে জ্বালানো যায়। এছাড়া সোলার প্যানেল তিনবছর মেয়াদি স্বল্প সুদের কিস্তিতে ক্রয় করা যায়। বাড়ীতে বাড়ীতে এসে প্রতি মাসে সোলারের লোকজন মেরামত করে ও সোলারের কিস্তি নিয়ে যায়। তাই সব সময় সোলার প্যানেল চালু থাকছে। সোলার প্যানেল চালু না থাকলে কিস্তির টাকা আর দেয়া হয় না।
আইপিএস এর বিপরীতে সোলার প্যানেল ব্যবহার করায় গ্রামের লোকদের আমি সাধুবাদ জানাই। তারা প্রতি রাতে নিয়মিত লোড শেডিং এ জন্য আনুমানিক ২০/২৫ ওয়াট লোড দুই থেকে তিন ঘণ্টা করে চালনা করে আনুমানিক ৬০/৭৫ ওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছে। যা কিনা জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে রিনিউয়েবল শক্তি হিসাবে যোগ হচ্ছে।
আমাকে একজন ব্যবহারকারী জানাল। এখন সাধারণত কেউ আর কেরোসিনের হারিকেন বা কুপি ব্যবহার করে না। বিদ্যুৎ না থাকলে চার্জার লাইট বা মোমবাতি ব্যবহার করে। চার্জার লাইটেরও আইপিএস এর মত সমস্যা। অনেক সময় চার্জ দিতে মনে থাকে না আর মনে করে চার্জ করতে না পারলেই বিপদ। আবার চার্জ করে নিলে চার্জার লাইট চলে সাধারণত দুই/তিন ঘণ্টা। যদি এর বেশী সময় বিদ্যুৎ না থাকে তবেই সমস্যা। মোমবাতির ব্যবহার করতে হয়।
তাই অনেক সময়ই দেখা যায় মাসে প্রায় একশ/দুইশ টাকার মোমবাতি লেগে যায়। সেই হিসাবে মাসিক ৩০০/৪০০ টাকা মাসিক কিস্তি দিয়ে ২৫/৪০ ওয়াটের সোলার হোম সিস্টেম ক্রয় করলে মন্দ হয় না? তিন বছর কিস্তি দিয়ে সোলার হোম সিস্টেম নিজের হয়ে যাচ্ছে। সোলার হোম সিস্টেম ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ রিপিয়ার ও মেনটেইন্যান্স করার পর সোলার প্যানেল ২০ বছরের বেশী সময় ব্যবহার করা যায়।
বর্তমানে প্রায় ২০-৩০ প্রতিষ্ঠান সোলার হোম সিস্টেম বিক্রয় করছে। তার বাংলাদেশ সরকারের ইডকলের মাধ্যমে ৪% ঋণ সহায়তা পাচ্ছে। বিদ্যুতের পাশাপাশি সোলার হোম সিস্টেম ব্যবহার করে নিলে তা অবশ্যই দেশের জন্য ভাল । আইপিএসও অধিক পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ করে ব্যাটারি চার্জ করে। তাই আইপিএস এর মাধ্যমে ব্যাটারি চাজিং করে বিদ্যুৎ মজুদ করতে অনেক টুকু বিদ্যুৎ চার্জারের হি-টিং এর মাধ্যমে খরচ ও অপচয় হয়। পুনরায় ব্যাটারি বিদ্যুৎ এসিতে কনভার্ট করে লাইট ফ্যান চালালে প্রচুর বিদ্যুৎ শক্তির অপচয় হয়। মোট কথা আইপিএস এর মাধ্যমে লাইট ফ্যান চালাতে প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে। অপরদিকে সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সেই বিদ্যুৎ খরচ করা হচ্ছে আর এভাবেই লোড শেডিং এ আইপিএস অপেক্ষা সোলার হোম সিস্টেম অনেক বেশী সাশ্রয়ী ও জাতীয় জিডিপি গ্রোথ এ ভূমিকা রাখবে। সবশেষে বলা যায় সোলার হোম সিস্টেম বিক্রেতারা কিস্তির মাধ্যমে আইপিএস এর বদলে সোলার সিস্টেম বাজারজাত করে একটা প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে।

আর এটা মনে হয় আরো উৎসাহব্যঞ্জক হচ্ছে কারণ আইপিএস ক্রয়ে সরকার কোন ঋণ সুবিধা দিচ্ছে না। আর কোন কোম্পানীও আইপিএস সোলার সিস্টেমের মত সহজ সরল কিস্তি সুবিধা দিচ্ছে না। পরিশেষে বলব সকলে আইপিএস ক্রয় পরিহার করে বাসস্থানের জন্য সোলার হোম সিস্টেম ক্রয় করলে বাংলাদেশ রিনিউবল বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। আইপিএস চার্জ বাবদ যে বিশাল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হত তা সাশ্রয় হবে। বিদ্যুৎ বিল কমবে। পরিশেষে ছোট ছোট সোলার প্যানেল ব্যবহার করতে করতে একসময় বড় বড় সোলার সিস্টেমের আগ্রহ বাড়বে। যেমন তিন বছরে একটা সোলার হোম সিস্টেম ক্রয় করার পর পরের তিন বছরে চলমান সিস্টেমটি বড় করার চাহিদা হবে। তাই আইপিএস না কিনে সোলার হোম সিস্টেম ব্যবহার করাটাই হবে আধুনিক সমাধান। সরকারী স্থাপনায়ও আমরা আইপিএস ব্যবহার না করে ধীরে ধীরে সোলার হোম সিস্টেম চালু করতে পারি। আমাদের এ ধরনের ছোট ছোট উদ্যোগে আমরা এগিয়ে যাব। আমরা এগুতে পারলে আমাদের সাথে দেশও এগিয়ে যাবে।

Thursday, August 6, 2015

ক্যাম্পাসের পানি ব্যবস্থাপনায় সাবমার্সিবল পাম্পের সাশ্রয়ী বিনিয়োগ

২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে আমি কুষ্টিয়া সেক্টর সদর দপ্তরে থাকাকালীন সময়ে সেখানকার পানি বিতরণ সিস্টেমে একটা ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়। এটা করা হয় মূলত বৈদ্যুতিক বিল সাশ্রয় করার জন্য। কুষ্টিয়ার সেক্টর কমান্ডার পরীক্ষামূলক কাজটির অনুমোদন দেন। সম্পূর্ণ পরীক্ষাটিতে আনুমানিক ১,৫০,০০০ টাকা খরচ হয়। তবে এর ফলাফল বিরূপ হলে সম্পূর্ণ খরচটাই বিফলে যেতে পারত। এটি একটা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রজেক্ট ছিল। উদ্দেশ্য ছিল, পাঁচটি মটর, দুইটি গ্রাউন্ড ট্যাংকির সম্পূর্ণ সিস্টেম বাদ দিয়ে একটি মাত্র সাবমারসিবল পাম্প ব্যবহার করে পানির বিতরণ ব্যবস্থা তৈরি করা। পরে এ পরীক্ষায় সফলতা পাওয়ায় তা পানি বিতরণের জন্য মূল ব্যবস্থা হিসাবে গ্রহণ করা হয়।
একটা ক্যাম্পাসে যখন পরিবারসহ আনুমানিক ১৩০০/১৪০০ লোক বসবাস করে সেখানে পানি উত্তোলনের জন্য বেশ বড় ধরনের সিস্টেম ব্যবহারের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে পানি উত্তোলনের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের একটা সমীক্ষা চালালাম। ডিপ টিউবওয়েল থেকে একটি ভার্টিকাল পাম্প (উপুড় করে লাগানো মটর) দিয়ে আনুমানিক ২০,০০০ লিটার ধারণ ক্ষমতার দুইটি গ্রাউন্ড রিজার্ভারে পানি দেয়া হয়। সেই দুইটি গ্রাউন্ড রিজার্ভার থেকে সেন্ট্রিফিউগাল পাম্পের সাহায্যে পানি দালানের ছাদে তোলা হয়। প্রতিটি পাম্প হাউসে দুইটি করে পাম্প আছে। এভাবে দুইটি গ্রাউন্ড রিজার্ভারে দুইটি দুইটি করে চারটি পাম্প আছে। আমি সবগুলো পাম্পের আনুমানিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের একটা হিসাব করলাম। ভার্টিক্যাল পাম্পে আনুমানিক ২০,০০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল হয়। দুইটি রিজার্ভারের একটিতে আনুমানিক ৩০,০০০ টাকা অন্য একটি রিজার্ভারে আনুমানিক ২০,০০০ টাকা বিল হয়। তিনটি অবস্থানের পাঁচটি পাম্পে আনুমানিক ৭০,০০০ টাকা বৈদ্যুতিক বিল হচ্ছিল। অনেক হিসাব নিকাশ করে দেখা গেল পাঁচটি পাম্প ব্যবহার না করে একটিমাত্র সাবমাসিবল পাম্প ব্যবহার করে একই রকম পানি পাওয়া যাবে। তার জন্য একটি মাত্র পাম্প লাগাতে হবে। তা হল সাবমাসিবল পাম্প। সাবমার্সিবল পাম্প পানিতে থাকার কারণে পানিকে টেনে আনার জন্য কোন শক্তি খরচ করতে হয় না। অর্থাৎ সাকসনে কোন শক্তি খরচ নেই। কেবলমাত্র পানি পুশ বা থ্রো করার জন্য শক্তি ব্যয় হয়। এ কারণে সাবমার্সিবল পাম্প এনার্জি এ্যাফিসিয়েন্ট। একটা সাবমার্সিবল পাম্প শুধুমাত্র দিনে ৬ ঘণ্টা চালনা করে আনুমানিক ৬x২০=১২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। দিনে আনুমানিক ১২০x৮=৯৬০ টাকা খরচ। মাসে খরচ হল ৯৬০x৩০=২৮,৮০০ টাকা খরচ হয়। অর্থাৎ বর্তমান পাঁচ পাম্পের সিস্টেমের তুলনায় আনুমানিক প্রায় ৪১,২০০ টাকার বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। একটা ২০ কিলোওয়াটের সাবমার্সিবল পাম্পের দাম ১,৭০,০০০ টাকা ( ২০১৫ সালের মূল্য) । এ পাম্পে যদি পানির সিস্টেমে মাসে সাশ্রয় হয় ৪১,২০০  টাকা তবে আনুমানিক ৪/৫ মাস বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের টাকা দিয়েই একটা সাবমার্সিবল পাম্প ক্রয় করা যাবে।
ক্যাম্পাসের পানি বিতরণ সাধারণত বেশীর ভাগ স্থানে সেন্ট্রিফিউগাল পাম্পের সাহায্যে করা হয়। কারণ সেন্ট্রিফিউগাল পাম্পের কিছু সুবিধা রয়েছে। এটা সাধারনতঃ সাবমারসিবল পাম্পের মত পানির নীচে না থাকার কারণে দাম কম। সাবমারসিবল পাম্পে ওয়াটার সীল্ড করা হয়। এটা খুবই ব্যয়বহুল প্রযুক্তি। আর এ কারণে সাবমারসিবল পাম্পের সাধারণত দাম বেশী। সাবমারসিবল পাম্প আমাদের দেশে যেখানে পানির স্তর নীচে সে সমস্ত স্থানে ব্যবহার করা হয়। তবে চুয়াডাঙ্গা বিজিবি তাদের গ্রাউন্ড রিজার্ভ ট্যাংকে অধিনায়ক পরীক্ষামূলক ভাবে হরাইজেনটাল ভাবে ব্যবহার করে সফলতার সাথে ওভারহেড ট্যাংকে পানি তুলছে। যে পানি তুলতে তাদের ৬০  হর্স পাওয়ারের ৫ ঘন্টা প্রয়োজন হত সে পানি তুলতে ২০হর্স সাবমারসিবল পাম্পের ৪ ঘণ্টা প্রয়োজন হবে। কাজেই দেখা যাছে বিশাল পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে যা কিনা পরীক্ষিত। যদি আপনার ক্যাম্পাসে পানির জন্য ১ লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ বিল হয় তা সাবমারসিবল পাম্প ব্যবহার করে সহজেই ৩০-৪০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব।
দেশের মূল্যবান বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সাথে পানি বিতরণের দক্ষ প্রযুক্তির ব্যবহার অতীব প্রয়োজন। আমরা সকলে এ বিষয়ে সচেতন হলে দেশ এগিয়ে যাবে। কারন বাংলাদেশে এখন সাবমারসিবল পাম্প প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায়। নষ্ট হলেও সহজে মেরামত করা যায়।

Thursday, July 30, 2015

বাসাবাড়ীর পর্দা ঝুলানোর সার্বজনীন পদ্ধতি

চাকুরীর প্রথম বেতন থেকে নিজের রুমের জন্য পর্দা বানাই। অফিসার মেসের আমার নির্ধারিত রুমের জন্য পর্দা লেগেছিল ১৩টি। পর্দা বানানোর পর টেইলার পর্দায় হুক লাগানো অনান্য কিছু কারিগরী কাজ করতে হয়। ২৪ বছর চাকুরী জীবনে (২০১৫ সাল পযন্ত) প্রায় ১৩ টি পোষ্টিং পাই। প্রতিটি পোষ্টিং এর পর বাসা সাজানোতে সর্বদাই একটা ঝামেলায় থাকতে হয়। আর তা হল। একেক বাসার পর্দার সিস্টেম একেক রকম। পুরাতন বাসা গুলোতো কাঠের গোলাকার লাঠি থাকে। যাতে কিনা বড় বড় প্লাষ্টিকের রিং ব্যবহার করতে হয়। আবার কোন কোন বাসায় এ্যালুমিনিয়ামের পাইপ থাকে। সেখানে আবার চিকন অথাত পুনে এক ইন্ঞি ব্যাসের রিং ব্যবহার করতে হয়। সবচেয়ে কমন সিস্টেম হল এ্যালুমিনিয়ামের রেইল সিস্টেম। সমস্যাটা হল এসব সিস্টেম একেক বাসায় একেক রকম। এতে প্রতিটি পোষ্টিং এর সময় প্রতিবারই বিভিন্ন হুক কিনতে হয়। একেক ধরনের হুক একেক বাসায় একেক রকম সিস্টেমে ব্যবহার করতে হয়। তদুপরি পুর্বে কেনা বিভিন্ন হুক সবসময় সংরক্ষন করা যায় না। ২০০৮ সালে ময়মনসিংহ সেনানিবাসে পোষ্টিং হলে বাসার লিভিংরুমে  নতুন পর্দা লাগানোর জন্য পর্দার দোকানে যাই। পর্দার দোকানে গিয়ে পর্দার একটা সিস্টেম আমার কাছে বেশ ভাল লাগে। পর্দায় হুকের বদলে তারা কাপড়ের লেস ব্যবহার করেছে। ভিতরে বকরম দিয়ে বেল্টের আকারের লেস গুলো পর্দা ঝুলানোর জন্য তৈরী করা হয়েছে। এপর্দাগুলোর লেসগুলোর ভিতর দিয়ে এ্যালুমিনিয়ামের হাফ ইঞ্চি পাইপ ঢুকিয়ে ঝুলানো হয়। এর নাম পর্দাওয়ালা দিয়েছে নিমা সিস্টেম। নিমা সিস্টেমটি ভাল কারন এতে কোন হুক নাই। তাই খোলা জোড়ায় কোন ঝামেলা নাই। পর্দা ধোয়ার সময় হুক খোলার ঝামেলার মধ্যে পড়তে হবে না। আমার কাছে নিমা সিস্টেমটি বেশ পছন্দ হল। মেয়েদের নিমার লেসদুটো কাধে যেভাবে থাকে একইভাবে ঝুলে থাকে বলে এর নাম নিমা সিস্টেম। এখন এই নিমা সিস্টেম কিন্তু এ্যালুমিনিয়ামের রেলের সাথে ব্যবহার করা যাবে না। এ্যালুমিনিয়ামের রেলের সাথে ব্যবহার করতে হলে এর সাথে ছোট একটু ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হবে তা হলো নিমার লেসটাকে একপাশে কেটে দিয়ে তাতে ভেলকো লাগাতে হবে। এভাবে পর্দায় আর লেসে ভেলকো লাগালে নিমা সিস্টেম এ পর্দাগুলো তখন যেকোন স্থানে লাগানো যাবে। যে কেউ লাগাতে পারবে। দর্জি লাগবে না। কোন হুক ব্যবহার না করার কারনে পর্দার স্টিক/পাইপ/রেলের কাঠামোর জন্য হুক বদলের প্রয়োজন পড়ছে না। ধাতুর হুক না থাকার কারনে পর্দায় হুকের মরিচায় পর্দার কাপড় নষ্ট হয় না। ভেলকো দিয়ে আটকানোর কারনে যখন তখন ঝটপট পর্দা খোলা যায়। যে কেউ পর্দা খুলতে ও লাগাতে পারে। কোন স্পেশালিষ্টের প্রয়োজন পড়ে না।


বদলীর চাকুরী বা বাসা বদলে পর্দা লাগানো ও খোলায় কোন রকম মডিফিকেশন বা পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের প্রয়োজন পড়বে না। বেশ সহজ ব্যবস্থা। বর্তমানে যে কোন পর্দার টেইলাররা নিমা সিস্টেমের মত লেসের একদিকে কেটে ভেলকো লাগিয়েই এটা তৈরী করতে পারবে। তৈরীটা বেশ সহজ। আমি আমার পুরাতন পর্দা একইভাবে মডিফাই করে নিয়েছিলাম। এর জন্য প্রতি দশটা পর্দায় সম্ভবত একটা করে পর্দা কেটে মডিফাই করার বাড়তি কাপড়ের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। কারন প্রতিটি পর্দা ৫/৬ টি নিমার মত লেস তৈরী করতে বেশ কাপড় প্রয়োজন। যদি পুরানো পর্দা কমাতে না চান সেক্ষেত্রে কাপড়ের রং মিলিয়ে কাপড় কিনে লেস বানালেই চলবে। আমি বেশ কয়েকদিন সময় নিয়ে আমার বাসার অনুমানিক ৪০ টি পর্দায় ভেলকো দিয়ে নিমা সিস্টেম করেছিলাম যাতে অন্য কোথাও পোস্টিং এ গেলে পর্দা নিয়ে আর চিন্তা করতে না হয়। এর পর আমি ছয় মাসের জন্য চাপাইনবাবগঞ্জ, পরে পুনরায় ময়মনসিংহ এবং বর্তমানে কুষ্টিয়ায় এরুপ তিনটি পোষ্টিং এ আমি নিশ্চিন্তে কোন রকম সমস্যা ছাড়াই পর্দা লাগানো ও খোলার কর্মযঞ্জটি করেছি। পরে আমি যেখানেই গিয়েছি সেখানেই টেইলাররা ভেলকো দিয়ে আমার আইডিয়াটি সবার জন্য চালু করে দিয়েছে। কুষ্টিয়ার টেইলার কোথাও পর্দা বানালেই আমি দেখতে পাই আমার সেই নিমা সিস্টেমের মত করে লেসের সাথে ভেলকো লাগিয়ে অনান্য পর্দা বানিয়ে যাচ্ছে। আপনাদের যাদের ঘন ঘন বাসা বদল করতে হয় তারা পর্দায় এ ব্যবস্থা করে নিতে পারেন। এতে শান্তি পাবেন।



Friday, July 24, 2015

এখনো জ্বলছে বিদ্যুৎ অপচয়-কারী বাতি

চাকুরীর সুবাদে গ্রাম ও শহরে অনেক স্থানে আমাকে ঘুরে বেড়াতে হয়। ঘুরে বেড়ানোর সময় একটি বিষয় আমাকে ভীষণ পীড়া দেয়। রাতের বেলা রাস্তা থেকে বাড়ী-ঘর ও দোকান-পাটের দিকে তাকালে দেখা যায় আগের দিনের গোল ফিলামেন্টের লাইটগুলো জ্বলছে। যা ইংরেজীতে বলে ইনকনডেনেসন্ট লাইট (Incandescent Light)। তখন অবাক হতে হয়। এই ভেবে যে, এখনো মানুষ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক লাইটস সম্পর্কে জানে না। তা কি ভাবা যায় ? অনেক সময় মনে হয় একজন বেশী বিদ্যুৎ অপচয়-কারী তাতে কি? ইলেকট্রিক বিলটা সেই দিচ্ছে। এতে আমাদের চিন্তিত হওয়ার বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কোন কারণ নেই। আমাদের উদ্বিগ্ন বা চিন্তিত হতে হচ্ছে এ কারণে আমরা বাংলাদেশে ভর্তুকি দরে বিদ্যুৎ ব্যবহার করি। এ ভর্তুকির টাকা আমাদের সবাইকে দিতে হয়। আর এতেই আমাদের সকলের কনসার্ন হওয়ার বা সজাগ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
আমি নিশ্চিত যে আমাদের  দেশের অনেক মানুষ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী লাইটের বিষয়ে জানে না। অথচ মিটার রিডাররা প্রতি মাসে মিটার চেকিং এর জন্য প্রতি মাসে অন্তত একবার বাড়ী বাড়ী যাতায়ত করছে। মিটার রিডাররা অবশ্যই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী লাইট সম্পর্কে সকলকে সচেতন করা উচিত। প্রয়োজনে মিটার চেকিং এর সময় কোন বাড়ীতে কয়টি বিদ্যুৎ খেকো ফিলামেন্ট লাইট জ্বলছে তার তালিকা তৈরি করতে পারে। এ তালিকা পরবর্তীতে সরকারী  অনুদানে এনার্জি লাইট ক্রয় করার জন্য সুপারিশ দিতে পারে।
Click to enlarge
আমাদের বাংলাদেশে বর্তমানে শিক্ষার হার এগুচ্ছে। তাই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী লাইটের বিষয়ে কেউ জানবে না এটা মেনে নেয়া যায় না। সকলে অন্তত টিভি দেখে। টিভিতে এনার্জি সেভিং লাইট নিয়ে প্রচারণাও সবাই দেখতে পায়। তাহলে সমস্যা হল প্রাপ্যতা। এখনও বৈদ্যুতিক দোকানে ফিলামেন্ট বাল্ব পাওয়া যাচ্ছে এটাই হল বাস্তবতা। এখনও কিছু কোম্পানি ফিলামেন্ট লাইট তৈরি করছে। এছাড়া দোকানেও ব্যাপকভাবে পাওয়া যাচ্ছে। তাই মানুষজন এখনও ফিলামেন্ট বাল্ব কিনছে। আর কিনবেই না কেন। অনেক সস্তায় এ লাইট পাওয়া যায়। একটি সিএফএল বাল্ব যখন ২০০ টাকা আর এলইডি একই শক্তির বাল্ব ৪০০ টাকা তখন ২০/২৫ টাকা দিয়ে ফিলামেন্ট বাল্ব কেনাটাই অবশ্যই সহজ ও সাশ্রয়ী। মাসে মাসে বিদ্যুৎ বিল বেশী হবে এটা নিয়ে সাধারণ মানুষ কখনও কেউ চিন্তা করে না। কারণ আমরা ভর্তুকি দরে বিদ্যুৎ পাচ্ছি। আজ যদি ১০/১৫ টাকা কিলোওয়াট ইউনিট দরে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হত তবে সবাই টাকা খরচ করে এনার্জি লাইট ক্রয় করতে পিছপা হত না। একটা রুম আলোকিত করতে ফিলামেন্ট লাইট দিয়ে পাঁচগুণ বেশী বিদ্যুৎ খরচ করে যে শুধু মূল্যবান রাজস্বের অপচয় হচ্ছে শুধু তাই নয় এতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কয়লা, গ্যাস খনিজ তৈল ইত্যাদিরও অপচয় হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যেভাবে কার্বন নি:সরন হয় তাও বিদ্যুৎ অপচয়ের মাধ্যমে কার্বন নি:সরন বেশী হয়। তাই দেখা যাচ্ছে বিদ্যুৎ খেকো ফিলামেন্ট লাইট ও এনার্জি সেভিং লাইট আমাদের পরিবেশ ও আর্থিক দিক দিয়ে পার্থক্য তৈরি করে। তাই সচেতন নাগরিক জেনে শুনে এ ভুল করাটা অপরাধ।
আমাদের দেশে বাংলাদেশ সরকার অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সিএফএল বাতি বিতরণ করেছে। অনেক প্রচারও করা হয়েছে। কিন্তু এখনও গ্রামে, হাটে, বাজারে ফিলামেন্ট লাইট দেখা যায়। এ ধরনের লাইটের পরিমাণ মোট লাইটের আনুমানিক ৩০ শতাংশ হবে। একটা বিষয় আমি লক্ষ করেছি বেশির ভাগ বাড়ীতে বা বাজারের ঘরগুলোর বাইরে এ ধরনের লাইটগুলো জ্বালানো হয়। এধরনের বিদ্যুৎ খাদক ফিলামেন্ট লাইট গুলো দামে কম। চুরি গেলে ক্ষতি নেই। আমাদের দেশের বাইরের লাইট প্রায়শই চুরি যায়। অথচ এসব লাইট সবচেয়ে বেশী সময় জ্বলানো হয়। একটানা প্রায় সারা রাত। এগুলো অবশ্যই এনার্জি সেভিং হওয়া প্রয়োজন। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় বেশী হবে। মনে করি বাইরের একটা এনার্জি সেভিং লাইট জ্বালানো হল রাতে ১০ ঘণ্টা। এতে বিদ্যুৎ খরচ হবে মাসে: ১০ঘন্টা x ২০ ওয়াট x ৩০দিন ভাগ ১০০০ ওয়াট(এক ইউনিট) x ৫ টাকা = ৩০ টাকা। অনুরূপ ভাবে ১০০  ওয়াটের ফিলামেন্ট লাইট জ্বালালে এর পাঁচ গুন বিল উঠবে। অর্থাৎ ৫ x ৩০ টাকা = ১৫০ টাকা বিল উঠবে। তেমনি দুই মাসে বিল উঠবে ফিলামেন্ট লাইটের ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা। অপরদিকে সিএফএল লাইট জ্বালালে বিল আসবে ৬০ টাকা। দেখা যাচ্ছে দুই মাসে প্রায় ৩০০ বিয়োগ ৬০ টাকা = ২৪০ টাকা বেশী খরচ হবে। দুই মাসে ২৪০ টাকা বেশী বিদ্যুৎ দেয়ার চেয়ে ২০০/২৫০ টাকা দিয়ে এনার্জি সেভিং সিএফএল লাইট কেনাটা অত্যন্ত জরুরী।
বর্তমানে আরো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এলইডি লাইট পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ কোয়ালিটির এলইডি লাইট সাধারণত্ব ৫/৭ ওয়াট ১২৫/১৫০ টাকায় পাওয়া যায়। ভাল কোয়ালিটির এলইডি লাইট ৫/৭ ওয়াট ৩৫০/৪৫০ টাকায় পাওয়া যায়। সেসব লাইটের আবার ২ বছরের ওয়ারেন্টি থাকে।
আমরা একটা অনুপাত দেখতে পাব আলোর উজ্জ্বলতায়।
যেমন: ১০০ ওয়াট ফিলামেন্ট লাইটের আলো=২০ ওয়াট সিএলএফ=৭ ওয়াট এলইডি।
প্রায় একি লুমেন্সের উজ্জ্বলতায় বিদ্যুৎ খরচের একটা ব্যাপক পার্থক্য আমরা দেখতে পাচ্ছি। মাত্র দুই মাসের পে ব্যাক হওয়ার মত কারণ থাকলেও অনেকে সিএলএফ ব্যবহার করছেন না। মনে হয় উচ্চমূল্য ও চুরি হয়ে যাওয়ার কারণে বাইরের সিকিউরিটি জন্য দীর্ঘসময় জ্বলা লাইটগুলো সিএলএফ লাইট ব্যবহারে অনেকেই সাহস করছে না। বাজারে এখন কমদামী এলইডি লাইট পাওয়া যায়। ১০০/১২৫ টাকার এ লাইটগুলো ওয়াট অনেক কম দামও কম। এ ধরনের লাইটগুলো হয়ত সিকিউরিটি লাইট হিসাবে ভাল চলতে পারে। চুরি গেলেও খুব বেশী লস হবে না। এ লাইট গুলো চুরির জন্য এনার্জি সেভিং লাইটের মত অত আকর্ষণীয় নয়। তাই এলইডি কমদামী ডিস্ক টাইপ হল কম-মূল্যের ভাল সলিউশন।
সব শেষে আমরা সবাইকে সচেতন করতে পারি। কেউ যেন বিদ্যুৎ অপচয়-কারী বাতি ব্যবহার না করে। বিদ্যুৎ অপচয়-কারী বাতি বাজার থেকে বিতাড়িত করতে হবে। মানুষের সচেতনতা বাড়াতে হবে। এটা করতে পারলে আমরা কার্বন নি:সরন কমিয়ে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে পারব।



Thursday, July 16, 2015

শোবার ঘরে উপকারী এলইডি ঘড়ি

মোবাইল আসার পর থেকে আমার মত অনেকেই হাতঘড়ি পরা ছেড়ে দিয়েছে। এখন প্রায় ভুলেই গেছি হাতঘড়ি কি জিনিষ। হাতঘড়ি ত্যাগ করার সাথে সাথে আমার অভ্যাসে একটা বিষয় ঢুকে গেছে। তা হল । প্রতিটি ঘরে দেয়াল ঘড়ি রাখা। এমনকি বাথরুমের বেসিনের তাকে একটি করে টেবিল ঘড়ি স্থাপন। এটা এমন একটা অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে কোন ঘড়ি বন্ধ হলে কারো না কারো নজরে পড়ে যায়। সেইসাথে দ্রুত মেরামতের কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়।
আমার মনে হয়। ঘড়ির মূল্য কম হওয়ার কারণে আর ব্যাটারি খরচ কম থাকায় এখন দেয়াল ঘড়ির যথেষ্ট ব্যবহার সব জায়গায় হচ্ছে। তবে হাতঘড়ি ব্যবহার করলে হয়ত এত দেয়াল ঘড়ির অভ্যাস হত না। মোবাইলের কারণে আমার মত অনেকেই হাতে আর একটি ঘড়ি ব্যবহারের মত ঝামেলায় থাকতে চায় না। তবে আমার দুই ছেলে আবার পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় হাতঘড়ি নিতে হচ্ছে কারণ মোবাইল নট এলাউড।


এখন আসি মূল আলোচনায়। আমার ব্যক্তিগত ঘড়ি ব্যবহারের বর্ণনা আমি সবাইকে দিলাম। এখন শোবার ঘরের দেয়াল ঘড়িটাই মূলত বেশী দেখা হয়। সমস্যা হল, বিছানায় শোয়ার পর সময় জানতে হলে মোবাইলটা নিয়ে দেখতে হয়। অনেক সময় মোবাইলে চার্জ কম থাকলে চার্জে রাখলে তা বালিশের অবস্থান থেকে একটু দূরে রাখতে হয়। তখন সময় দেখতে হলে বিছানা থেকে উঠে দেখতে হয়। অন্যথায় লাইট জ্বালিয়ে দেয়াল ঘড়ি দেখতে হয়। যেহেতু হাতঘড়ি ব্যবহারের অভ্যাস ত্যাগ করেছি তাই বিছানায় শুয়ে অন্ধকারে ঘড়ি দেখার ইচ্ছেটাকে দমন করা যায়না। আবার অনেক সময় সকালে উঠতে গেলে ঘড়ি দেখার ইচ্ছে করে সবচেয়ে বেশী। কিন্তু ৪/৫টার আলো আধারিতে দেয়াল ঘড়ির সময় বুঝা যায় না।

রাতে বিছানায় থেকে ঘড়ি দেখার সমস্যার সমাধান করার জন্য আমি দীর্ঘদিন যাবত লাইট জ্বালা এলইডি ঘড়ি কেনার ইচ্ছে ছিল। আজ থেকে চার বছর আগে এলইডি লাইটের ঘড়িটি কেনার চিন্তা করলাম। তখন ঘড়িটির দাম যতটুকু মনে আছে তিন হাজার টাকা ছিল। ক্রয় করতে সাহস হয়নি। কারণ সাধারণ দেয়াল ঘড়ি ২০০/৩০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর পাঁচটি রুমে পাঁচটি ঘড়ি রাখতে খরচ ১০০০ বা ১২০০ টাকা আর সেখানে একটি ঘড়ি ৩০০০ টাকা। খরচটা বেশী মনে হল। গত বছর একবার দাম জানতে চাইলাম ১২০০ টাকা জানাল। না কিনে ফেরত আসলাম। মনে হল ১০০০ টাকার মধ্যে আসলে ক্রয় করব। এভাবে কিনব কিনব করে আর কেনা হচ্ছিল না। অবশেষে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে  একদিন কুষ্টিয়ার ঘড়ির দোকানে লাল এলইডি,র ছোট আকারের  ঘড়িটির দাম জানতে চাইলাম। আমাকে জানাল ৬৫০ টাকা। আমি ঠিক আমার কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমি পুনরায় জানতে চাইলাম, ৬৫০ টাকা? মনে মনে আমি চীনদেশকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারলাম না। চীনাদের বদৌলতে আমরা এত কম দামে ইলেক্ট্রনিক দ্রব্যাদি পাচ্ছি। আমি যেটা কিনেছি সেটার উপর ক্যাসিও লেখা। আনুমানিক এক ফুট লম্বা এবং তিন ইঞ্চি প্রস্থ। এ্যাডাপটারের মাধ্যমে চলে। ডিসি ৯ ভোল্ট ইনপুট। এতে ঘণ্টা, মিনিট বড়(১.৫ ইঞ্চি) সাইজের ডিসপ্লে আছে। এছাড়া ছোট আকারে প্রায় এক ইঞ্চি প্রস্থে আছে আরো ডিসপ্লে যা ১০/১২ ফুট দূর থেকে ৬/৬ চোখের পাওয়ারে পড়া যায়। সেগুলো হল তারিখ, মাস, সাল একদিকে। অন্যদিকে সপ্তাহের কততম দিন এবং তাপমাত্রা।

বিছানায় শুয়ে শুয়ে তারিখ ও বার জানতে ইচ্ছে করলে অন্ধকারে জ্বল জ্বল করে প্রদর্শিত এলইডি ঘড়ি থেকে জানা যাচ্ছে। ঘরে ব্যবহৃত এসিতে যদি তাপমাত্রার ডিসপ্লে না থাকে, তবে ঘড়ির তাপমাত্রা থেকে তা জানা যাচ্ছে।

এ ঘড়িতে এলার্ম দেয়া যায়। বেশ জোরে শব্দ করে এলার্ম বাজে। প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় মিউজিক বাজানোর জন্য সেট করা যায়। একটা স্মার্ট অপশন আমার ভাল লেগেছে। তা হল রাত দশটার পর এলার্ম ছাড়া ঘণ্টায় ঘণ্টায় মিউজিক বাজবে না। এভাবে ঘড়িটি নি:শব্দে চলবে সকাল ৬টা পর্যন্ত যেন রাতে শব্দ দূষণ না হয়। আবার সকাল সাতটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টার মিউজিক বাজতে থাকবে। অবশ্য প্রয়োজনে এ মিউজিক দিনের বেলাও বন্ধ রাখা যায়। আমি ঘণ্টায় ঘণ্টায় মিউজিকটি চালু রেখেছি বাচ্চাদের সচেতনতার জন্য। ঘড়িটি বিদ্যুৎ চলে গেলে সমস্যা নেই। এর ভিতর থাকা বোতামের মত ছোট রিচার্জেবল ব্যাটারি ঘড়িকে চালু রাখে। তাই বিদ্যুৎ গিয়ে আবার বিদ্যুৎ আসলে এলইডি ডিসপ্লে না হলেও ঘড়ির সময় চলমান থাকে। ঘড়িটির ডানদিকে টাচ বাটনের মাধ্যমে সময়, এলার্ম ও অন্যান্য অ্যাপস চালানো যায়। সময় এ্যাডজাষ্ট করা যায়। বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘড়ির ডিসপ্লে বন্ধ হয়ে যায়। এর জন্য আপনি ঘড়িটিকে আইপিএস যদি থাকে তাতে সংযোগ দিতে পারেন। আর বাসার কম্পিউটারে যদি ইউপিএস থাকে তাতে সংযোগ দেয়া যায়। ঘড়িটি আমি ছয় মাস যাবত ব্যবহার করছি। যদি দুই বছরও ব্যবহার করা যায় তাতেও ৬৫০ টাকা মূল্যের হিসাবে যথেষ্ট। আশা করি এলইডি ঘড়ির এই আলোচনাটি আপনাদের কাজে লাগবে।

Thursday, July 9, 2015

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সাদৃশ্যপূর্ন সাশ্রয়ী হাইব্রিড মাইক্রো-গ্রিড সিস্টেম

যেকোনো দেশ তার নাগরিকদের বিদ্যুতের মত বেসিক রাইট প্রদানে চেষ্টা করে। বাংলাদেশে এখনও হয়তবা ৩০-৩৫% শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে। আমরা বিদ্যুৎ মুক্ত মানুষদের কিস্তিতে সোলার প্যানেল ধরিয়ে দিয়েছি। সোলার প্যানেলের মিটি মিটি আলোতে সবাই অপেক্ষায় থাকে কবে বিদ্যুৎ আসবে । স্বাভাবিকভাবে সোলার প্যানেলের বিদ্যুৎ কেরোসিন বাতিকে দূরীভূত করেছে। পরিচ্ছন্ন ধুয়া বিহীন ও উজ্জ্বল আলো গ্রামের সাধারণ মানুষের হাতের নাগাল হয়েছে। তার পর সোলার ব্যবহার কারী মানুষের বাতির পর আগ্রহ বাড়ে টিভি দেখা। ফ্যান চালানো। তার পরের আগ্রহ ঘরে ঘরে লাইট থাকা। বাথরুমে লাইট থাকা। চাহিদা ক্রমেই বর্ধিত হতে থাকে। ব্যক্তিগত সোলার সিস্টেমের পর যে কারো আগ্রহ হবে এর সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আরো একটি বড় আকারে যাওয়া। তখন চলে আসে মাইক্রো-গ্রিড সিস্টেম। এতে সামর্থবান গ্রাহকরা আরো একটু বেশী পরিমাণে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশের একটি সংস্থা ইডকল বিদ্যুৎ খাতে কম সুদে লোণ দিচ্ছে। এতে মাইক্রো ক্রেডিট প্রদানকারীরা উপকৃত হচ্ছে। যেমন: গ্রামীণ শক্তি তারা ইডকলের লোণের মাধ্যমে গ্রাহকদের ক্ষুদ্রঋণের আওতায় সোলার প্যানেল দিচ্ছে। প্রতিটি গ্রাহক সোলার লাইটের জন্য ৩০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত সোলার প্যানেলের ক্ষমতা অনুযায়ী সোলার প্যানেলের কিস্তি দিচ্ছে। এ কিস্তি হয়তবা তিন বছর নাগাদ দিতে হচ্ছে। যদিও গ্রাহক সোলার প্যানেলের মালিক হচ্ছে তবুও গ্রাহকের কয়েক বছর পর পুনরায় ব্যাটারি কেনা। অন্যান্য যন্ত্রাংশের মেরামতের মত কর্মকাণ্ড চলমান থাকবে। সোলার হোম সিস্টেমে গ্রাহকরা নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ ও ব্যবহারের মধ্যে সীমিত থাকছে। তাদের ব্যবহার প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। ঝড় বৃষ্টির দিনে সোলার প্যানেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হয়। অপরদিকে যখন যত প্রয়োজন সে অনুযায়ী বিদ্যুৎ বাড়ানো কমানো ও সেই সাথে প্রয়োজন মাফিক বিল দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে স্বাধীনতা অর্জন মাইক্রো-গ্রিডেই সম্ভব। মাইক্রো-গ্রিড সিস্টেম আর সাধারণ গ্রিড সিস্টেমের মধ্যে তেমন পার্থক্য নাই। বরং হাইব্রিড সোলার মাইক্রো-গ্রিডে জেনারেটর যোগ করে সাধারণ গ্রিড সিস্টেম থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের গ্রিড করা যায়। সোলার হোম সিস্টেমে সাধারণত বিদ্যুৎ ঘাটতি হয় আবার সিস্টেম প্রয়োজন অপেক্ষা বড় করলে কখনও কখনও বেশী বিদ্যুৎ উৎপাদন করে অপচয় হবে। অন্যথায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করে চাহিদায় ঘাটতি হবে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গ্রামে গঞ্জে অত্যন্ত কম খরচে এলুমিনিয়ামের তার ও মিটার সংযোগ দিয়ে কয়েকটি লাইট, ফ্যান ও মোবাইল ফোন চার্জিং ইত্যাদি ব্যবহার করে সংযোগ দিচ্ছে। এতে হয়ত বা সর্ব সাকুলে মাসে ১০০/২০০ টাকা বিল আসে।
পল্লী বিদ্যুৎ এর এই ধরনের ভৌত কাঠামো তৈরি করে এখন পর্যন্ত যে সব গ্রামে বিদ্যুৎ নাই সে সমস্ত গ্রামে অতি মূল্যবান বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া যায়। যেমন: একটি পরিবারে দুইটি ৭ ওয়াট এলইডি লাইটের সংযোগ (৭x২=১৪x৬ঘন্টা=৮৪ওয়াট)+দুইটি ডিসি ফ্যান(২০x২=৪০x১৫ ঘণ্টা =৬০০ ওয়াট, মোবাইল চার্জিং ১০ ওয়াট, ২১ ইঞ্চি এলইডি টিভি=২১x১০ ঘণ্টা =২১০ ওয়াট। তাহলে প্রতিদিন একটা পরিবারের ধরে নেই বিদ্যুৎ ব্যবহার হবে ৮৪+৬০০+২১০=৮৯৪ ওয়াট বা এক কিলো ওয়াট। মাসে হবে ৩০ কিলোওয়াট।
এখন আমরা ২ লিটার ডিজেল ঘণ্টায় ব্যবহার করে এরূপ ৩০ কিলোওয়াটের জেনারেটর শ্যালো ইঞ্জিনে চালালে দৈনিক খরচ ২ লিটার x ২৪ ঘণ্টা x ৬৫ টাকা (প্রতি লিটার ডিজেলের দাম) =৩১২০ টাকা। আর তাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা x২০কিলোওয়াট =৪৮০ কিলোওয়াট আওয়ার। তাই গ্রাহক প্রতি পনের থেকে বিশ টাকা ইউনিট নিতে পারলে মাইক্রো-গ্রিডের খরচ উঠে যাবে। স্বাভাবিকভাবে এটা শহরের বিদ্যুৎ এর প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু গ্রামের কয়েকটি লাইট ফ্যানের কাছে এ খরচ অনেক বেশী বলা যাবে না। এতে প্রায় নিশ্চিত হচ্ছে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ এর ব্যবহার। মাসে ৩০ কিলোওয়াট যাদের বিদ্যুৎ ব্যবহার তাদের অনধিক ৪৫০ টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে। এতে সে যা ব্যবহার করছে তা সোলার প্যানেলের লক্ষ টাকা খরচ করেও পারবে না। অথচ মাইক্রো-গ্রিড করে সকলে অত্যন্ত কম খরচে অনেক বেশী সুবিধা পাবে। মাইক্রো-গ্রিড যদি আমরা পল্লী বিদ্যুৎ এর মত পিলার, তার ও মিটার ব্যবহার করি তবে পুনরায় তেমন কোন খরচ না করেই পল্লী বিদ্যুৎ এর সাথে বা পিডিবি সিস্টেমে সংযোগ দেয়া যাবে। এতে গ্রাহকের ও সরকারের উভয় পক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগ মিটার ব্যবহার ও সঞ্চালন লাইন টানায় নতুন করে খরচ করতে হবে না। শুধু মাত্র হাই ভোল্টেজ লাইন টেনে নিয়ে স্থানে স্থানে ট্রান্সফরমার দিয়ে বৈদ্যুতিক সিস্টেম চালু করলেই হবে। গ্রাহকের নতুন করে সংযোগ লাইন আর মিটার লাগানোর প্রয়োজন পড়বে না। পুরো ব্যবস্থাপনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে পারেন। সিস্টেমটি সরকারীভাবে তৈরি করে এর পরিচালনা বেসামরিক ব্যক্তিদের দ্বারা চালু করা যেতে পারে।


আমরা এখন মাইক্রো-গ্রিডের সম্পূর্ণ বিষয়টি বোঝার জন্য একটি মডেল নিয়ে আলোচনা করব। আমরা একটি ৮ থেকে ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার মাইক্রো-গ্রিড অফ-গ্রিড এলাকায় তৈরি করব। যে গ্রামটি বেছে নেয়া হয়েছে সে গ্রামটির বাড়ী ঘর একটি রাস্তার দুপাশে আড়াআড়ি ভাবে রয়েছে। যার দৈর্ঘ্য মনে করি অর্ধ কিলোমিটার। প্রতি ৫০ গজ দূরে দূরে ১০ টি ইলেকট্রিক পিলার স্থাপনে ৫০০ গজে খরচ ১ লক্ষ টাকা। বিতরণের জন্য মোটা এলুমিনিয়াম ৫০০ গজ তারে খরচ ৫০,০০০ টাকা। ৫ কয়েল প্রতি কয়েল দশ হাজার টাকা করে মূল্যমান। ৫০ বাড়ীতে লাইন টানতে ২০ গজ করে আনুমানিক ১০ কয়েল ৩০,০০০ টাকা। ৫০ টি বৈদ্যুতিক মিটার ৫০,০০০ টাকা। লেবার খরচ, যাতায়ত ও আনুষঙ্গিক খরচ ২০,০০০ টাকা। সর্বমোট খরচ ৩লক্ষ টাকা। শ্যালো ইন্জ্ঞিনের ৩০ কেভি জেনারেটরের মূল্য ১ লক্ষ টাকা , সোলার প্যানেল ৮,০০০x৫৫=৪.৪ লক্ষ টাকা( গ্রাহকের কাছ থেকে ৪০x৫০=২০০০ ওয়াট । সর্বমোট:১০ কিলো ওয়াট)। ব্যাটারি ১২ টি ১.২ লক্ষ টাকা। ইনভার্টর ও আনুষঙ্গিক ২ লক্ষ। সর্বমোট খরচ: ২.৫+১+৪.৪+১.২+২=১১.১ লক্ষ টাকা। অপরদিকে বাংলাদেশের কিছু সংস্থার ন্যানো গ্রিড সিস্টেম ৩ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে  ৮ লক্ষ টাকায় সম্পন্ন করছে। তারা ব্যবহার করেছে স্পেশাল টাইপ আইটেম যা কিনা পরবর্তীতে পল্লী বিদ্যুৎ বা পিডিবি সাপ্লাই লাইনে ব্যবহার করা যাবে না। নতুন ভাবে সবকিছু কিনতে হবে। আর এখানে উল্লেখিত সিস্টেম সম্পূর্ণ ভাবেই পিডিবি বা পল্লী বিদ্যুৎ এর বিতরণ ব্যবস্থায় ধরনে তৈরি থাকবে। এতে ভৌত কাঠামোর কোন পরিবর্তন করতে হবে না। প্রয়োজনে পিডিবি বা পল্লী-বিদ্যুতের বিশেষজ্ঞ দ্বারা রাস্তার লোকেশন, জাতীয় গ্রিডের অবস্থান ও সাব জোনের অবস্থান ইত্যাদি বিবেচনায় বিদ্যুৎ লাইন তৈরি করা হবে। একবার বিদ্যুৎ লাইনের ভৌত কাঠামো তৈরি করা গেলে তা যে কোন সরকারী/বেসরকারি সংস্থার কাছে ভাড়া দিয়ে সরকার কিছুটা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সোলার হোম সিস্টেম থেকে আরো অধিক পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ১কিলোওয়াট দৈনিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ২৫০ ওয়াট প্যানেল, ১৫০ এএইচ এর দুইটি ব্যাটারি দিয়ে এককালীন খরচ প্রায় ৫০০০০ টাকার কাছাকাছি চলে আসবে। আর তিন বছরে সুদে আসলে ৮০০০০ টাকার কাছাকাছি সোলার বিক্রেতারা হিসাব করে বসবে। এটা কিস্তিতে দিয়ে তিন বছরের জন্য প্রতি মাসে আনুমানিক ২৩০০ টাকার কিস্তি দিতে হবে। তবে সুবিধা একটা আছে তা হল তিন বছর পর সোলার সিস্টেমটা নিজের হয়ে যাবে তখন আর কোন খরচ করতে হবে না। এটা তিন বছর ধরে ভালই চাপযুক্ত রাখবে। আর একই বিদ্যুৎ যদি মাসে ৪৫০ টাকায় প্রতিদিন এক কিলোওয়াট হিসাবে কেনা যায় তবে তা অনেক বেশী সাশ্রয়ী। কারণ ৮০,০০০ টাকা ব্যাংকে রাখলেও পরিবার সষ্ণয় হিসাবে পাওয়া যাবে ৮০০ টাকা। অথচ ১ কিলোওয়াট দৈনিক ব্যবহারে আমরা বিল দিব মাত্র ৪৫০ টাকা ৩৫০ টাকা সেভ ও ৮০,০০০ টাকা মূলধন খরচ করতে হল না। সোলার প্যানেলের দাম ৫৫/৬০ টাকা ওয়াট প্রতি খরচ চলে এসেছে। ব্যাটারির দামটা বেশী হলেও দীর্ঘস্থায়ী ও উন্নত ব্যাটারি বাজারে শীঘ্রই চলে আসবে। এসব পরিবর্তনের পর সোলার হোম সিস্টেম থেকে মাইক্রো-গ্রিড বা ন্যানো-গ্রিড লাভজনক হবে। সোলার হোম সিস্টেমে দুই/তিন দিন একটানা বর্ষা হলে সিস্টেম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ন্যানো বা মাইক্রো গ্রিড সিস্টেমে এ ধরনের কোন সমস্যা নেই। স্ট্যান্ড বাই জেনারেটর দিয়ে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রবাহ চালু থাকবে। সোলার হোম সিস্টেম সেখানেই সফল হবে যেখানে এক কিলোমিটারের মধ্যে ২০ টির উপরে বাড়ী ঘর আছে। তা না থাকলেও ৩/৪টি বাড়ী একসাথে করেও গ্রিড সিস্টেম করা যাবে। সেক্ষেত্রে জেনারেটর হয়তবা ব্যবহার করা যাবে না। শুধুমাত্র সোলার ও ব্যাটারি ব্যাংকের সিস্টেম দিয়ে করতে হবে। আমরা অফ গ্রিড স্থানে সেলার হোম সিস্টেমের সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি একসাথে করে উন্নতমানের সোলার গ্রিড সিস্টেম চালু করতে পারি যা কিনা ভবিষ্যতের সাধারণ বিদ্যুৎ সংযোগের পূর্ব প্রস্তুতি হিসাবে অত্যন্ত কার্যকরী হবে। এতে সাধারণ বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ভৌত কাঠামো তৈরি হবে। এ ধরনের ভৌত কাঠামো তৈরিতে সরকারী ভাবে বিনিয়োগ হলে বিদ্যুতায়নে সরকার অগ্রগামী ভূমিকা পালন করতে পারবে। পরিশেষে আমরা আশা করছি আমাদের দেশ বিদ্যুতে ও সবুজ শক্তি ব্যবহারে অগ্রগামী হবে।

Thursday, July 2, 2015

মাল্টি-সোর্স চেঞ্জওভার অটো ইলেকট্রিক সুইচের ব্যবহার

গ্রাম অঞ্চলে বা পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন যারা আছেন। যারা জেনারেটর রেখেছেন। তাদের প্রতিদিনই একাধিকার জেনারেটর চালাতে হয়। ঝড় বৃষ্টির দিনে প্রায়শই গাছপালা পড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। তখন বেশ কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। পল্লী বিদ্যুৎ এর লাইনগুলো গ্রামের ভিতর দিয়ে সাধারণত টানা হয়। এসব পিলার বা লাইনের চারিদিকে অনেক গাছগাছালি থাকে। এসব গাছগাছালি প্রায়শই বিদ্যুৎ লাইনে পড়ে লাইন ছিঁড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট করে থাকে। যদিও প্রতিনিয়ত লাইনের কাছের গাছগাছালির বর্ধিত ডালপালা কেটে রাখার ব্যবস্থা আছে। তবু কখনো কখনো দুই একটি বর্ধিত গাছ ও ডালপালা ঝড় বৃষ্টিতে সমস্যার সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর বর্তমান আর্থিক সংগতিতে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জেনারেটর চালানোর সামর্থ্যটা রয়েছে। কোন কোন স্থাপনায় বা প্রতিষ্ঠানে দিনে কম শক্তির জেনারেটর বা রাতে বেশী শক্তির জেনারেটর চালানো হয়। একবার সরবরাহ বিদ্যুৎ, একবার জেনারেটরের বিদ্যুৎ ইত্যাদি বিভিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবহারে আমাদের থাকতে হয়। বিভিন্ন ধরনের বিদ্যুৎ চালনার জন্য চেঞ্জওভার সুইচ ও কাট-আউট ইত্যাদির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সোর্সের পরিবর্তন করে নিতে হয়। পূর্বে ও বর্তমানে আমাদের দেশে চেঞ্জওভার ও কাট-আউট বেশ জনপ্রিয় ব্যবস্থার সিস্টেম চালু আছে। যদি জেনারেটর লাইন চালু থাকে তবে জেনারেটর লাইনে চেঞ্জওভার দিয়ে ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয় আবার পুনরায় সরবরাহের বিদ্যুৎ আসলে জেনারেটর সরবরাহ থেকে চেঞ্জওভার ঘুরিয়ে বা কাট-আউট বদলিয়ে সংযোগ পরিবর্তন করে সরবরাহের বিদ্যুৎ-এ আনা হয়। এরূপ ভাবে একবার সরবরাহ লাইন এবং একবার জেনারেটর লাইন এ ধরনের আবর্তে সিস্টেমটি চলতে থাকে। যদি আইপিএস থাকে তাতে অবশ্য লাইন বদলাবদলির চাপ কমে যায়। সমস্যা হয় যদি আইপিএস ও জেনারেটর দুটি থাকে তবে আইপিএসকে সরবরাহ লাইন অথবা জেনারেটর লাইন এ দুটি অপশনে রাখতে হয়। আবার জেনারেটর কম শক্তির হলে আইপিএস বা জেনারেটর এ ধরনের অপশনে ঠিক করে নিতে হয়। আমরা যে অপশনে থাকি না কেন আমাদেরকে চেঞ্জওভার বা কাট-আউটে  পাওয়ার লাইনের সোর্স বদল করে দেয়ার প্রয়োজন পরে। চেঞ্জওভার হউক বা কাট-আউট হোক আমাদের সশরীরে যে কোন সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সাথে করতে হবে। অন্যথায় অন্ধকারে ও ফ্যান ছাড়া গরমে কাটাতে হবে। যদি যথেষ্ট শক্তি সম্পন্ন (অর্থাৎ বেশী ব্যাক আপের) আইপিএস না হয় তবে জেনারেটর নির্ভরশীল হলেও চেঞ্জওভার বদলের কষ্টকর কাজটি করতে হবে। হয়ত কোন কাজে ব্যস্ত, পড়াশোনায় ব্যস্ত বা ঘুমিয়ে আছেন তখন সরবরাহের বিদ্যুৎ গেল এবং আপনার সংস্থার বা কমিউনিটির জেনারেটর চালু হল। ঠিক তখন, আপনাকে কষ্ট করে সময় অসময়ে চেঞ্জওভারটি ঘুরাতে হবে বা কাট-আউটটি বদলী করতে হবে। এ ধরনের সময় ও অসময়ে এ ধরনের কাজগুলো বিরক্তিকর। আর এ ধরনের বিরক্তির কাজ থেকে পরিবর্তনের একটা সহজ ব্যবস্থা হয়তবা স্থানীয় ভাবে অনেক ম্যাকানিক রিলে দিয়ে সার্কিট করে দেয়। তবে এ ধরনের সার্কিট সাধারণত যথেষ্ট পরিমাণে টেকসই হয় না। কারণ নির্দিষ্ট এ্যাম্পিয়ারের মান সম্পন্ন রিলে অনেক সময় পাওয়া যায় না। সাধারণত জাহাজের পুরাতন রিলে ম্যাকানিকরা ব্যবহার করে। এতে রিলের কন্ট্রাক্ট পয়েন্টগুলো স্পার্কে দ্রুত ক্ষয়ে গিয়ে কার্যকারিতা হারায়।সাধারণত এয়ার টাইট রিলে ভাল। এগুলো সুইচিং এর সময় স্পার্কে কন্ট্রাক্ট পয়েন্টগুলো কম ক্ষয় হয়।
বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর লাইন তারপর বিদ্যুৎ আসলে পুনরায় বদল। এ ব্যবস্থায় বর্তমানে কিছু অটো সুইচ পাওয়া যায়। এ ধরনের অটো সুইচ চাইনিজ/ ভারতীয় হতে পারে। এ মুহূর্তে আমার জানা মতে বাংলাদেশের কোন কোম্পানির (জুন ২০১৫) সন্ধান পাইনি যারা এ ধরনের সুইচ বানায়।
খুব কম স্থাপনাই আছে যারা কিনা তাদের সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ লোডই জেনারেটরে দিতে পারে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই সুইচ-বোর্ডে লোড ভাগ বাটোয়ারা করে দিতে হয়। আইপিএসও বাড়তি তার টেনে এটা করা হয়। যেমন এক রুমের তিনটি লাইট ও দুটি ফ্যানের মধ্যে, একটি লাইট ও একটি ফ্যানের লোড জেনারেটরে বা আইপিএস এ দেয়া হয়। এতে চেঞ্জওভার বা কাট আউট সহজ অপশন হিসাবে ব্যবহার করা যায়। দুইটি কাট-আউটের একটি কাট-আউট হল জেনারেটর লাইন এবং অপরটি হল সরবরাহের লাইন। বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটর লাইনে কাট আউট দিয়ে লাইন পৃথক করে জ্বালানো যায়।

এধরনের ব্যবস্থাই আমরা অটোমেটিক করে নিলে অনেকটা ঝামেলা মুক্ত থাকতে পারব। যখন যে বিদ্যুৎ সোর্স আসবে সে অনুযায়ী বিদ্যুৎ সোর্স পরিবর্তিত হয়ে বাসস্থানের লাইনে সরবরাহ হতে থাকবে। এ ধরনের অটো সুইচে জেনারেটর লাইন ইন্ডিকেট করা থাকে সে অনুযায়ী সংযোগ দিতে হবে। আবার মেইন পাওয়ার লাইন ইন্ডিকেট করা থাকে। আউটপুট লাইন হতে সাধারণত বাসস্থানের লোড দেয়া হয়। অনেক অটো সুইচে জেনারেটর স্টপ লাইন থাকে। যা কিনা মেইন বিদ্যুৎ আসলে ছোট খাট জেনারেটর বন্ধ করতে কাজে লাগে।
আবার একাধিক সোর্স থাকলে তাও নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে এবং অটো সুইচ দিয়ে। মনে করুন আপনার প্রতিষ্ঠানে ২৫ কেভি জেনারেটর দিনে চলে আর রাতে ৫০ কেভি জেনারেটর চলে। কখনো কখনো যে কোন একটি জেনারেটর নষ্ট হয়ে গেলে আপনাকে রাতে বা দিনে যে কোন একটি জেনারেটর দিয়ে কাজ চালাতে হবে। এজন্য আপনাকে মাল্টিপল এন্ট্রি করতে হবে আর তা করা যাবে অতিরিক্ত একটি অটো সুইচ ব্যবহার করে। একটি অটো সুইচে দুইটি জেনারেটরের লাইন দিতে হবে এবং সেখান আউটপুট এনে সর্বশেষ অটো সুইচের ইনপুটে জেনারেটরের লাইনে দিতে হবে। এতে আগের জেনারেটরগুলো থেকে যে কোন চলমান জেনারেটরের প্রথম অটো-সুইচের মাধ্যমে কেবলমাত্র একটি ইনপুট সর্বশেষ অটো সুইচে আসবে তা মেইন সাপ্লাইয়ের অনুপস্থিতি হলেই লোডের বা আউটপুটের লাইনের মাধ্যমে ঘরের লাইট, ফ্যান ইত্যাদিতে সরবরাহ পাবে। আইপিএস থাকলে অটো সুইচের আউটপুট থেকে সরবরাহ দিলে ভাল হয়।


এ ধরনের ব্যবস্থাপনায় আশাকরি আপনারা আনইন্টারাপ্টেড বিদ্যুৎ পাবেন। কখন কোন সোর্স থেকে বিদ্যুৎ আসবে বা যাবে টেরই পাওয়া যাবে না। আর মধ্য রাতে বিদ্যুৎ যাওয়ার পর গরমে ঘেমে ঘুম ভেঙ্গে আর চেঞ্জওভার বদলী করার প্রয়োজন হবে না। আসা করি এ তথ্য অনেকের কাজে লাগবে।