Pages

Thursday, April 28, 2016

ড্রিপ( Drip ) ইরিগেশন সিস্টেম

বাংলাদেশের অনেক স্থান পানিতে ভাসছে। সেখানে চাষের জমির বড়ই অভাব। বাঙলার কৃষক সেখানে ব্যবস্থা করেছে ভাসমান শাকসবজি বাগান। দেশের বেশীর ভাগ স্থানে কৃষক সেচ ছাড়া চাষাবাদ করতে পারে না। বিশেষ করে শীতকালে সেচ বেশী প্রয়োজন হয়। শীতকালে এখন আমরা ডিপ টিউবওয়েলের উপর নির্ভর করি। নদী নালা খাল বিল শুকিয়ে যায় তাই সমস্ত নির্ভরতা চলে আসে ভূগর্ভস্থ পানির উপর। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমান্বয়ে নীচে যেতে থাকে। বাংলাদেশ বৈষয়িক উষ্ণতার ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় আছে। আর এখন আমরা ভূগর্ভস্থ পানি কমিয়ে আরো বেশী মরুকরণের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। তাহলে উপায়। উপায় একটা আছে। পানির ব্যবহার কমানো। বিশেষ করে পাতালের পানির ব্যবহার কমিয়ে ফেলা। তা কি সম্ভব। অবশ্যই সম্ভব। ধান চাষ ছাড়া যে কোন চাষাবাদে ড্রিপ ইরিগেশন সম্ভব। ড্রিপ ইরিগশেনের মুল আইডিয়া হল যেখানে যে পরিমাণ পানি দরকার ততটুকু পানি ফোটায় ফোটায় গাছের গোঁড়ায় দেয়া। আমরা যখন ঝাঁঝরি দিয়ে পানি দেই তখন সেই পানিটা চারিদিকে ছিড়িয়ে যায়। এতে পানি অপচয় হয়। আবার যখন পাইপ দিয়ে দেই তখনো পানির অপচয় হয়। জমি ভাসিয়ে দিয়ে পানি দেয়া আরো সহজ ও পানির অপচয় তাতে অনেক অনেক বেশী হয়। যদি গাছের গোঁড়ায় ফোটা ফোটা করে ধীরে ধীরে  পানি দেয়া যায় তাতে পানি কম প্রয়োজন হবে। পানি ধীরে ধীরে গাছের গোঁড়ায় পৌছিয়ে যাবে। ধীরে ধীরে ফোটায় ফোটায় পড়ার কারণে তা একবার পানি দিলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না গিয়ে উত্তম ভাবে গাছের গোঁড়ায় জমা হবে। শুধুমাত্র গাছের গোঁড়ায় পানি যাওয়ার কারণে এই গাছের চারিদিকে আগাছা কম হবে। কারণ মুল গাছটিই কেবল পানি পাবে অন্য গাছের আগাছা পানি না পেয়ে বাড়তে পারবে না। বিভিন্ন তথ্যাদি থেকে এটা জানা যায় ড্রিপ ইরিগেশন ব্যবস্থায় পানির ব্যবহার ৭৫% পর্যন্ত সাশ্রয় হয়। এতে যদি বিঘা প্রতি ডিজেলে খরচ প্রতি সিজনে তিন হাজার টাকা হয়, তবে খরচ সাশ্রয় হল ২২৫০ টাকা। তিনটি সিজনে খরচ সাশ্রয় ৬৭৫০ টাকা। পাঁচ বছরে খরচ ৩৩৭৫০ টাকা। অপরদিকে এককালীন এ ধরনের প্লাস্টিক পাইপ দিয়ে ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেমের কাঠামো তৈরি বাবদ খরচ বিশ থেকে বাইশ হাজার টাকা খরচ যাবে। সম্পূর্ণ সিস্টেমের আয়ু পাঁচ বছর ধরা হলেও মেরামত করে তা আরো পাঁচ বছর চালানো যাবে। পিভিসি পাইপ সাধারণত মরিচা পরে নষ্ট হয় না। তবে সূর্যের তাপে প্লাস্টিকের পাইপ ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকবে।
ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেমে পাহাড়ের ঢালে অপচয় ছাড়াও সহজে সেচ দেয়া যায়। এর জন্য পাহাড় সমান করার প্রয়োজন নেই। পাহাড়ের উপর পানি তোলা কষ্টও শ্রমসাধ্য বিধায় সেচে অল্প পানি ব্যবহার করার কারণে পাহাড়ের  চাষে ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম সার্বিকভাবে খরচ অনেক কমে যায়। এক বিঘা জমিতে ৩৬৫ দিনের মধ্যে যদি ১০০ দিন ৩০০ টাকা করে পানির লেবারে খরচ হলে বছরে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ আর পাঁচ বছরে ১ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হবে। আবার বেশী পানি দিয়ে অতিরিক্ত ঘাস হওয়ার জন্য ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১০ দিনে অন্তত একজন লেবারে খরচ ৩৬ গুনন ৩০০ টাকা অর্থাৎ ১০৮০০ টাকা। আর পাঁচ বছরে খরচ ৫৪ হাজার টাকা। পাঁচ বছরে শুধু লেবার থেকে সাশ্রয় দই লক্ষ টাকা। এখন সোলার ব্যবহার করলে পরিবেশ গত আরেক লাভ হবে। কম পানি ব্যবহার মানে কম বিদ্যুৎ ব্যবহার আর কম বিদ্যুৎ ব্যবহার মানে কার্বন নি:স্মরন কমানো। অপরদিকে ছোট ছোট সোলার পাম্প দিয়ে ভালভাবে ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম চালানো যায়। মরুভূমিতে চাষাবাদের জন্য ড্রিপ ইরিগেশন খুবই আদর্শ একটি পদ্ধতি। ভারতে রাজস্থান ও গুজরাটে সোলার ড্রিপ সিস্টেম বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাংলাদেশে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে বাংলাদেশে এনে ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম বাজার জাত করছে। তাদের দ্রব্যাদির দাম অনেক বেশী। সাধারণত সৌখিন টবের বাগান যারা করেন বা ছাদে বাগান করেন তারা ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম সহজে ব্যবহার করতে পারেন। ঢাকার পার্টিগুলো দিয়ে আপনি সহজেই ড্রিপ ইরিগেশন করে নিতে পারেন। আপনাকে কিছু করতে হবে না। পেশাদারদের চুক্তি দিলেই হল তারাই সব করে দিবে। যাদের জমি বেশী তাড়া জমি দেড় হতে দুই ফিট অন্তর ৩/৪ ইঞ্চি পিভিসি পাইপ জমিতে ছড়িয়ে দিতে হবে। তার পর এক দেড় ফুট দুরে দূরে ফোটায় ফোটায় পানি পড়ার জন্য ছিদ্র করে নিলেই হল। আর মাঠের এক কোনে ১০০০ লিটারের প্লাস্টিক ট্যাংক ছয় ফুট উচ্চতায় মাচার উপর বসিয়ে দিলেই কাজ হয়ে যাবে। তারপর সময় মত ট্যাপ খোলা বন্ধ করলেই হবে। এছাড়া সময় নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বসিয়ে সেচের নিয়ন্ত্রন করা যাবে। আবার আর্দ্রতা সেন্সর বসিয়ে পুরো জমিটি সেচ ব্যবস্থা অটোমেটিক করা যায়। যখন গাছের গোঁড়ায় পানির আর্দ্রতা কমে যাবে তখন সেন্সর সেচ চালু করে দিবে আবার সেচ সঠিক মাত্রায় হলে ও পানির আর্দ্রতা সঠিক হলে সেচ বন্ধ হয়ে যাবে। এভাবে পানির ব্যবহার আরো মিতব্যায়ীতার সাথে ও কায়িক পরিশ্রম ছাড়া করা সম্ভব।
এটা গ্রামের মহিলাদের খুবই উপকারে আসবে। গ্রামের মহিলারা দিনের শেষে পুকুর ডোবা থেকে পানি তুলে তুলে তাদের ঘরের আসে পাশে লাগানো সবজি ক্ষেতে পানি দেয়ার পরিশ্রম ও সময় থেকে তারা মুক্তি পাবে এবং তাদের দিনের হিসাবে কিছুটা সময় বিশ্রামে যোগ হবে।
বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশই ড্রিপ ইরিগেশনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন প্রয়োজন বাংলাদেশের চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা। বাংলাদেশে যে কোন লাভজনক পদ্ধতি দেখাতে পারলেই হল। তা বাস্তবায়ন করতে মোটেই সময় লাগবে না। কারণ বাংলাদেশের অনেক এনজিও বাড়ী বাড়ী ঘুরে বেড়াচ্ছে ক্ষুদ্র ঋণ দেয়ার জন্য। আমাদের প্রয়োজন প্রযুক্তিটি গ্রামে গ্রামে মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া।


Thursday, April 21, 2016

সব কিছু আমি মুছে ফেলি

আমি অনেক আগে থেকে একটা অভ্যাস করেছি অফিসের কোন ফাইল বা ডকুমেন্ট আমি আমার ফাইল ক্যাবিনেট বা টেবিলে প্যানডিং রাখতে পারি না। টেবিল থাকতে হবে নিট এন্ড ক্লিন। ফাইল আসার সাথে সাথে ফাইল ক্লিয়ার হবে। কোন ফাইল স্তূপ আকারে জমা হবে না। একটা মোটিভেশনাল বইয়ে পড়েছিলাম কেউ যদি অফিসে যদি অধিক সময় বের করতে হলে তাকে যে কাজটি করতে হবে তা হল ফাইল দ্রুত ক্লিয়ার করতে হবে। কোন ফাইল আটকানো বা দেরী করা যাবে না। যদি কোন ফাইল পেন্ডিং করতে হয় তা পেন্ডিং হবে সহকারীর লকারে নিজের কাছে নয়। কর্মকর্তা হিসাবে নিজের টেবিলটি থাকবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। অফিস টাইমে টেলিভিশন দেখা ও গল্প করলে টেবিল পরিষ্কার রাখা একটু টাইট হবে।
একবার একজন কর্মকর্তা দু:খ করে বলেছিল সে প্রতিদিন রাতেও অফিসে আসে। দিনের বেলা কাজ শেষ করতে পারে না। রাতে তার অধিক সময় লাগে। আমি তাকে শুধু বলেছিলাম আপনার অফিসে আপনি ইচ্ছাকৃত ভাবে অনেক ফাইল পেন্ডিং ফেলে রেখেছেন। আপনি সাথে সাথে ফাইল ক্লিয়ার করার অভ্যাস করুন তবে অনেক সময় পাবেন। আমার উপদেশ তার কোন কাজে লেগেছিল কিনা জানি না। তবে পেন্ডিং না রাখার জন্য সব সময় আমি লেখার জন্য ও পরিবারের জন্য অনেক সময় পাই। টিভি না দেখলেও অনেক সময় পাওয়া যায়। যারা সাধারণত সময় পান না। তাদের প্রথম কাজ হবে টিভি দেখা বন্ধ করে দেয়া তাহলে অনেক সময় পাওয়া যাবে।
আজকে আমার বিষয় সবকিছু মুছে দেয়া। ডিলিট করা। আমাদের জীবনে এখন সাইবার বা ভার্চুয়াল অফিস সামাল দেয়া একটা বিশাল যুদ্ধ। আমি আমার কার্যক্রমে দেখতে পাচ্ছি আমাদেরকে ইমেইল, ভাইবার ও এসএমএস এর মাধ্যমে অনেক বিষয় সামাল দিতে হচ্ছে। অনেক নির্দেশনা এখন এসএমএস এর মাধ্যম পাই। ভাইবারের মাধ্যমে নির্দেশনা ও সচিত্র তথ্যাদি পাই। ইমেইলে অনেক তথ্য চিঠি পাই। এখন এগুলো যদি ইন বক্সে জমিয়ে রাখি তবে আমাদের একই পরিমাণ মানুষিক চাপ আমাদের পেতে হবে। তাহলে মানসিক চাপ আমরা কিভাবে কমাতে পারি। আমাদের যে কোন এসএমএস পড়ে মুছে ফেলাই ভাল। গুরুত্বপূর্ণ এসএমএস না মুছে ২৪ ঘণ্টা রাখুন তারপরও প্রয়োজন থাকলে অন্য জায়গায় টেক্সট/ওয়ার্ড ফাইল হিসাবে সংরক্ষণ করুন। কিছুদিন পর আর প্রয়োজন না হল মুছে দিন। আমার আইডিয়াটা হল টেবিল বা ফাইল ক্যাবিনেট যেমন খালি রাখছেন তেমনি এসএমএসের ইন বক্স খালি রাখুন। ভাল লাগবে। নতুন এসএমএস আর পুরাতন এসএমএস এ আর জট পাকাবে না। আপনি চাপমুক্ত থাকবেন। মুছতে মুছতে এমন অভ্যাস হয় গত চার বছরে দুইবার এটা হয়েছে। আমি এসএমএস মুছে ফেলেছি অত:পর যিনি পাঠিয়েছেন তাকে পুনরায় পাঠাতে বলতে হয়েছে। চার বছরে দুইবার খুব বেশী না। তাই নিয়মিত এসএমএস মুছে মোবাইলের ইন বক্স খালি রাখতে কোন সমস্যা নেই। কি বলেন? আমি সব সময় এসএমএস মুছে ইন বক্স খালি রাখি। কেবলমাত্র গুরুত্বপূর্ণ এসএমএস ড্রপবক্স বা নোট ফাইলে সংরক্ষণ করি।
ইদানীং ভাইবার, হোয়াটস্ অ্যাপ ও ইমেইল ইত্যাদি সবসময় মুছে পরিষ্কার রাখুন। রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইলটা নিয়ে সমস্ত ইন বক্স মুছে নিলে পরের দিন সকাল থেকে চাপমুক্ত থাকবেন। পুরানো ম্যাসেজ মুছে দিলে সে ম্যাসেজ আবার দ্বিতীয়বার পড়তে হবে না। সময় বাঁচবে ও অনেক সময় পুরানো ম্যাসেজ বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে তা থেকেও বাচা যাবে।

একান্তই রেফারেন্স হিসাবে কপি করে আলাদা ফোল্ডারে রাখা যেতে পারে। কিন্তু মূল প্রোগ্রামের ইন বক্স অবশ্যই খালী রাখা প্রয়োজন। সমস্ত প্রোগ্রামের ইন বক্স যত বেশী ফাকা রাখা যাবে তত বেশী আমার মতে গুছিয়ে চাপমুক্ত থাকতে পারবেন। আজকাল এমন হয়েছে কো তথ্য কম্পিউটারে সেইভ করে রেখে সেই তথ্য পুনরায় বের করার চেয়ে গুগলে সার্চ করা সহজ। আসলে অহেতুক তথ্য সংরক্ষণ করে চাপ বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।

Thursday, April 14, 2016

শ্রেডার মেশিনের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমিয়ে আনা

এই পরীক্ষাটি করার জন্য আমাদের একটি শ্রেডার মেশিন ক্রয় করার প্রয়োজন হবে। যার জন্য পনের হাজার টাকা শ্রেডার মেশিনটি যেন এমন হয় আমরা তাতে সিডি বা প্লাস্টিকও কাটতে পারি। শ্রেডার মেশিন কুচি কুচি করে কাটার কারণে কাগজ বা প্লাস্টিকের কাগজে যেই আর্বজনায় যেই পরিমাণ স্থান নেয়ার কথা বা আয়তন হওয়ার কথা তার থেকে ৭৫% আয়তন কম যায়। শ্রেডারের কাটা গুড়ি গুলি চারিদিকে ছড়িয়ে দিলে তা অন্যান্য কাগজ বা সামগ্রীর মত আবর্জনার সৃষ্টি করবে না। গুড়া হওয়ার কারণে তা সুন্দরভাবে মাটির সাথে মিশে যাবে। পলিথিন ব্যাগ বা প্লাস্টিক আনুমানিক বিশ বছর সময় কালে প্রথমে ছোট ছোট ছোট টুকরায় পরিণত হয়। তারপর তা ক্রমান্বয়ে মাটিতে মিশতে থাকে। প্লাস্টিক গুড়ো হওয়ার কাজটি যদি আমরা আগেই করে দেই তাহলে প্লাস্টিক মাটিতে নিমজ্জিত হতে কয়েক বছরেই হয়ে যাবে। তার জন্য বিশ বছর অপেক্ষার প্রয়োজন হবে না। আবার কাগজ গুড়া গুলি মাটিতে কয়েকদিনেই মিশে যাবে। একটা বড় কাগজ এলোমেলোভাবে মাটির উপর পড়ে থাকলে তা মাটিতে মিশতে সময় লাগবে কয়েক মাস। আর শ্রেডারে গুড়া করা কাগজ কয়েক দিনেই মাটিতে মিশে যাবে। তাই শ্রেডারে গুড়া করে আমরা কাগজের গুড়ার আয়তন কমিয়ে দিয়ে তা পরিবহন করতে চাইলে তা সহজে করা যাবে। আবার জ্বালানী হিসাব ব্যবহার করতে চাইলে সহজে করা যাবে। শ্রেডার করে লাভই হবে। শ্রেডারে গুড়া করা কাগজ যেভাবে সুবিধা সেভাবে ব্যবহার করা যাবে। তবে জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করার জন্য একই শ্রেডারে প্লাস্টিক গুড়া না করে আলাদা আলাদা শ্রেডারে করলেই ভাল হবে।

শ্রেডারের ব্যবহার একটা অভ্যাসের বিষয়। অনেক সময় মনে হবে এমনিতেই কাগজ ছিঁড়ে কুচি কুচি করে দিচ্ছি আবার শ্রেডার মেশিন কিনে কেন খরচ। নিরাপত্তার বিষয়টি বাদ দিলে যে কাগজ ধ্বংস করতে চাই তা কুচি কুচি শ্রেডিং করলে একটা আনন্দ পাওয়া যায়। তাছাড়া যে কাগজগুলোর কুচি বাতাসে চারিদিকে ছড়াতে পারে তা এখন আর ছড়াবে না। তা একদম কুচি কুচি করে কাটা হয়ে গেল। বেশ মজাদার একটা বিষয়। কিছু দ্রব্য কিনে নিলেন। তার থেকে পাওয়া কাগজ বা প্লাস্টিকের প্যাকেট গুলি ওয়েস্ট পেপার বক্সে না ফেলে শ্রেডারে দিয়ে কুচি কুচি করে বা গুড়া করে ফেলে দিলেন। এখন তা সহজেই পরিবেশে বা মাটির সাথে মিশে যাবে। সিডি হাত দিয়ে ভাঙ্গা কষ্টকর তা গুড়া করে নিয়ে আমাদের আশে পাশের মাটতে ফেলে দিলেও একসময় পরিবেশ মিশে যাবে। একটা পলিথিন বা আস্ত প্লাস্টিকের ব্যাগ সুয়ারেজ সিস্টেম বা অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় পরিবেশ দূষণ করে সেখানে গুড়া করা পলিথিন পরিবেশের কম ক্ষতি করবে। আমরা যে কোন কিছু রিসাইক্যাল করতে গেল সাধারণ তা গুড়ি গুড়ি করে নেই। প্লাষ্টিক রিসাইক্যালে পাউডার বানিয়ে নেয়া হয়। তেমনি ক্রস কাট শ্রেডারের কাগজের গুড়া কম্পোস্টে দেয়া যেতে পারে। ফার্মের মুরগীর নীচে তুষের পরিবর্তে দেয়া যাবে। যা পরে কম্পোস্ট বানানো যাবে। শ্রেডারে করা গুড়া জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। কাগজের গুড়াগুলি পানিতে ভিজিয়ে আঠা মিশিয়ে কাগজের মণ্ড তৈরি করে নানা রকম শোপিস বা খেলনা তৈরি করা যাবে। আমার মনে হয় ১৫/১৬ হাজার টাকার শ্রেডার মেশিন আমাদের কাগজ ও অন্যান্য প্লাস্টিক গুড়া করে পরিবেশ ঝকঝকে তকতকে রাখতে বেশ কাজে দিবে। একবার অভ্যাস করে মজা পেলে যে কোন স্থানে যে কোন কাগজের প্যাকেট ডিসপোজ করতে গেলেই শ্রেডারটি ব্যবহারের কথা মনে হবে এবং শ্রেডারের অভাব বোধ হবে। শ্রেডার মেশিন আপনার বাড়তি ও অকেজো কাগজ বা প্যাকেট মুহুর্তে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেল। সত্যিই বেশ মজাদার। কাগজের সাথে স্টেপলার পিন, আলপিন ও জেমস ক্লিপ বেশ ভংয়কর। এগুলো শ্রেডার মেশিন ধ্বংস করে দিতে পারে। পাতলা পলিথিন শ্রেডার মেশিনে জড়িয়ে যেতে পারে। শ্রেডারের রক্ষনাবেক্ষন ম্যানুয়াল ভালভাবে দেখতে হবে। ছোট বাচ্চারা আঙ্গুল ঢুকিয়ে দেয়ার মত মারাত্মক কাজ করতে পারে। পরিবেশ বান্ধব ও নিরাপত্তায় উপকারী শ্রেডার মেশিন হতে পারে আমাদের নিত্যসঙ্গী।


Saturday, April 2, 2016

শাকসবজি জন্য ইংরেজি ক্যালেন্ডার

এই ক্যালেন্ডারটি ইন্টারনেট হতে সংগ্রহ করেছি। ৬ অক্টোবর ২০১২ সালে জনাব বিকাশ কীর্ত্তনিয়া, কৃষি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ একটি লেখা নীচের লিংকটিতে পাই। এটা প্রায়ই আমার ও আমার পাঠকদের কাজে লাগবে সে চিন্তায় সংকলিত করলাম। আমরা কৃষি পঞ্জিকা সাধারণত বাংলা মাসের হিসাব করে থাকি। অথচ শহুরে আমরা যারা বাস করি তাদের বাসার আশে পাশে ও টবে সৌখিন বাগান করতে এ ক্যালেন্ডারটি অনেক কাজে লাগবে।

জানুয়ারি         
পটল, বেগুন, বাটিশাক, চিচিঙ্গা, করলা ও মিষ্টি কুমড়া বেগুন ও পিয়াজের চারা রোপণ। গাজর, মূলা, লেটুস শালগম, শিম, আলু ও ব্রোকলি।     

ফেব্রুয়ারি         
পু্ঁই শাক, চিচিঙ্গা, শসা, করলা, কাঁকরোল, মিষ্টি কুমড়া, ঢেড়স, হলুদ, পটল, ঢেড়স, আলু, পিয়াজ, রসুন ও ঝিঙা।         

মার্চ     
গ্রীষ্মকালীন টমেটো, ঢেড়স, পুঁইশাক, আদা, হলুদ, মিষ্টি কুমড়া, চিচিঙ্গা, পটল, ঢেড়স, শসা, পিয়াজ, রসুন, বরবটি ও ঝিঙা।    

এপ্রিল  
গিমা কলমি, পুঁই শাক, শসা, বাটি শাক, আদা, চাল কুমড়া, পটল, ঢেড়স, বরবটি, কাকরোল, করলা, মুখী কচু।

মে      
ধুন্দল, ঝিঙা, কাঁকরোল, করলা, শসা, মুখী কচু, ধুন্দল, সজনা, ডাটা শাক, পুই শাক ও চিচিঙ্গা। 

জুন     
বরবটি, চাল কুমড়া, মুখী কচু, পাট শাক, চিচিঙ্গা, কাঁকরোল, বরবটি ও চাল কুমড়া।   


জুলাই  
বেগুন (গ্রীষ্মকালীন), শিম, ডাটা শাক, কাঁকরোল, পটল, পুই শাক, বরবটি ও মুখী কচু।

আগস্ট
পুঁই শাক, গিমা কলমি, বাটি শাক, বেগুন (গ্রীষ্মকালীন), শিম, ডাটা শাক, মুখী কচু ও বরবটি।

সেপ্টেম্বর         
টমেটো, আলু, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রোকোলি, টমেটো। ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রোকোলির চারা রোপণ। লাল শাক, ডাটা শাক ও মুখী কচু

অক্টোবর

আলু, লাউ, পালং শাক, বাটি শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, ধনিয়া, পিয়াজ, টমেটো, লেটুস, পালং শাক।

নভেম্বর 
লাউ, গাজর, মূলা, শিম, ধনিয়া, ফুলকপি, পিয়াজ, রসুন, ফুলকপি, লেটুস, টমেটো, আদা, হলুদ 

ডিসেম্বর
বেগুন, লেটুস, লালশাক, পটল, টমেটো, রসুন, বাটি শাক, পিয়াজ (চারা রোপণ), মূলা, গাজর, বাঁধাকপি, ফুলকপি, লাউ, আদা, হলুদ        


(সংকলিত)

Friday, April 1, 2016

ফাস্ট ফুডের মাধ্যমে ফাস্ট পলিউশান

ইংরেজি বাংলা মিলিয়ে একটা হেডিং দিলাম। রাস্তার পাশের হোটেল রেস্টুরেন্ট যেটাতেই যাই না কেন, কেউ যদি ডিসপোজেবেল খাদ্যের আধার ব্যবহার করে তাকেই আমরা দূষণকারী বলতে পারি। ম্যাকডোনালস, কেএফসি, ডোমিনোস ও সাবওয়ে যখন আপনি খেতে যান না কেন সকল খাবারের সাথে একগাদা টিস্যু, কাগজ, প্লাস্টিক ও ক্যান আপনাকে দেয়া হবে। খাবার শেষে তা আবার আপনি তাদের ডাস্টবিনে ফেলবেন কত হাইজেনিক তাই না। মানুষের হাতের ধোয়া নাই। অপরিষ্কার নয়। হাইজেনিক পরিবেশনা। কত ভাল ব্যবস্থা তাই নয় কি? আপনি চাইনিজ বা অন্যান্য রেস্টুরেন্টের মত ক্রোকারীজ ও কাটলারিজ ব্যবহার করলে তা ওয়ান টাইম হতে অধিক পরিমাণ হাইজেনিক হবে।
কিভাবে? আপনি যত বেশী টিস্যু ব্যবহার করবেন। আপনি তত বেশী কাঠ কাটলেন। আপনি যত বেশী রঙ্গিন কাগজ ব্যবহার করলেন তত বেশী কাগজ তৈরি করতে কাঠ, কালী তৈরি করতে অন্যান্য ক্যামিক্যাল ও ছাপাতে কয়লা পুড়িয়ে তৈরি বিদ্যুৎ খরচ করলেন। আপনি চিনামাটির বাসন বার বার ধুয়ে ব্যবহার করলে আপনার পরিবেশের ক্ষতি ও অপচয় কম হয়। অধিকাংশ এয়ার লাইনে ডিসপোজেবল পাত্রে খাবার দিলেও অনেকে এয়ার লাইনে চীনামাটি, প্লাস্টিক বা কাচের পাত্র ব্যাবহার করে এটা অবশ্যই এটা ভাল দিক। যত বেশী ডিসপোজেবল পাত্ররের ব্যবহার তত বেশী পরিবেশ দূষণ।
ফাস্টফুডের দোকানের খাবার ফাস্ট ভাবে বিক্রয় করে যে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য জমা হয় তা শহরের উপকণ্ঠে ফেলা হয় আর তা সাধারণ মানুষের বাসস্থানের আসে পাশের পরিবেশে ফেলা হয়। প্লাস্টিক ক্যান, কাগজের প্যাকেট ইত্যাদির ভয়াবহ ভাবে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে। আমরা কিভাবে পুরো সিস্টেমটিকে পরিবেশ বান্ধব করতে পারি। তার জন্য আমাদের বেশী কস্ট করতে হবে না। ফাস্টফুডের পরিবেশনটাকে আমরা অন্যান্য হোটেলের আদলে করলেই চলবে।
প্রথমত: ডিসপোজবেল গ্লাস না দিয়ে মোটা গরম পানিতে ধোয়া প্লাটিকের গ্লাস দেয়া যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত: ডিসপোজেবল বাটি ও প্লেট ব্যবহার না করে মোটা মেলামাইন বা কাচের বাটি ও প্লেটে খাবার পরিবেশন করা যায়।
তৃতীয়ত: রঙ্গিন ও ছাপানো কাগজ ব্যবহার না করে সাদা কাগজ ব্যবহার হতে পারে। রংগিন ও ছাপানো কাগজ বিদ্যুৎ, রং ইত্যাদির অপচয় ঘটায়।
চতুর্থত: টিস্যু পেপারের পরিবর্তে কাপড়ের ন্যাপকিন দিলে মন্দ হয় না। তবে যাদের কাপড়ের ন্যাপকিন ব্যবহারে সমস্যা তারা টিস্যু পেপার ব্যবহার করতে পারেন।
ফাস্টফুডের দোকানে ফাস্ট টাইপ কার্যক্রমে ডিসপোজেবলের ব্যবহার কমানোটা হবে অভ্যাসের ব্যাপার। ন্যাপকিন দ্রুত ধোয়ার জন্য ওয়াশিং মেশিন, গ্লাস, প্লেট,চামচ ও বাটি ধোয়ার জন্য ডিশওয়াসারের জন্য অর্থ ব্যয় করার প্রয়োজন হবে। আর  ম্যানুয়ালি করলে প্রাথমিকভাবে খরচ বেশী হলেও দীর্ঘদিন ব্যবহারে খরচ কমে যাবে।
মনে করি কাপড় দিয়ে একটি ন্যাপকিন বানাতে খরচ দশ টাকা। একটি ন্যাপকিন যদি ৫০ বার ধুয়ে ব্যবহার করা যায় তবে প্রতিবারে ব্যবহারে খরচ: ১০.০০ ভাগ ৫০ =২০ পয়সা। অপরদিকে একটি পেপার ন্যাপকিনে খরচ ৭০ পয়সা। ৫০ পয়সা সাশ্রয়। মূলত পরিবেশ দূষণের বিবেচনায় আরো বেশী সাশ্রয়ী।

ডিসপোজবেল একটা প্লেটের মূল্য ৫ টাকা হলে ১০০ টাকায় প্লাস্টিক বা মেলামাইনের প্লেট পাওয়া যায়, যা কিনা সাবান পানি ও গরম পানি দিয়ে ধুয়ে শতবার ব্যবহার করা যাবে। খরচও কম হবে। মনে করি ডিসপোজেবল ১০০ টি প্লেট, ১০০ টি গ্লাস ও ১০০ সেট চামচে খরচ হল প্রতটিতে ১০/১২ টাকা হিসাবে ১০০০/১২০০ টাকা। তাই ১০০ টি প্লেট গ্লাস একজন প্রফেশনাল লেবার দুই ঘণ্টায় ধুয়ে ফেলতে পারবে। একটা লেবারকে বর্তমান বাজার দরে ৫০০ টাকা চার্জ দিলেই হল। নিবিঘ্নে প্রায় ৫০০ টাকা সেভ হবে। তবে কেন ডিসপোজেবলের ব্যবহার। কারণ একটাই ডিসপোজেবল সামগ্র্রির মূল্য গ্রাহক দিচ্ছে। প্লেট ধোয়া বা সাজানোর ঝামেলায় কেউ যাবেন না। এটাই কারণ। সেই সাথে আওয়াজ তুলবেন ডিসপোজেবল বেশী হাইজেনিক। যদি যথাযথ ডিটারজেন ও গরম পানি দিয়ে ধোয়া হয় তবে অন্যান্য সকল ক্রোকারীজ ও কাটলারীজ হাইজেনিক। আর দেরী নয় আমাদের চারিদিকে ডিসপোজেবল দিয়ে পরিবেশনকারী ফাস্টফুডের প্রতিষ্ঠান গুলিতে পরিবেশ দূষণকারী ডিসপোজেবল দ্রব্যাদি ব্যবহার বন্ধ করিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

প্রবাসী ও শহুরেদের গ্রামের জমি নষ্ট করে অপ্রয়োজনীয় বাড়ী তৈরী

করিম সাহেব লন্ডনে থাকেন। দুই/তিন বছর পর পর এক/দুই মাস থাকার জন্য বাংলাদেশে আসেন। তিনি জীবনে অনেক অর্থ উপার্জন করেছেন। উপার্জনের কিছু টাকা খরচ করার জন্য তিনি তার গ্রামের বাড়ীটি বেছে নিয়েছেন। কয়েক কোটি টাকা খরচ করেছেন। সুন্দর বাড়ী করেছেন। সবাই যেন তার বাড়ীটির প্রশংসা করে। দুর সম্পর্কের একজন আত্মীয়কে পাশেই একটা ঘর করে দিয়েছেন। যেন সে তার বাড়ীটি নিয়মিত দেখতে পারে। আমাদের গ্রামে প্রবাসী ও শহুরে অনেকেই সস্তায় জমি পেয়ে গ্রামে বিলাসবহুল আলিশান বাড়ী তৈরি করে নেন। আর শহরে ফ্লাট বাড়ীতে থাকেন। তবে গ্রামে কেন এধরনের খরচ করা। তা আর কিছুই নয়, আমি বলব লোক দেখানো। গ্রামে আপনি আপনার  জীবদ্দশায় মনে করি ৫০ বছরে প্রতি বছর তিনমাস করে থাকলেন। ৫০ বছরে ১৫০ মাস থাকলেন। ১৫০ মাস বা ৪৫০০ দিন থাকলেন। আপনি যদি আপনার গ্রামের বাসস্থানটির জন্য ১ কোটি টাকা ব্যয় করেন তবে ৪৫০০ টি দিনের এক কোটি টাকার ব্যাংকের সুদ বাদে খরচ হবে ১কোটি ভাগ ৪৫০০ দিন অর্থাৎ ২২০০ টাকা। ৯০ দিন বা তিন মাস থাকলে খরচ ১,৯৮,০০০ টাকা। আলাদা আলাদা ভাবে হিসাব করলে আসলে অনেক টাকা। আমার মাথায় একটা বুদ্ধি আছে। আপনি আলাদা বাড়ী না করে আপনার কোন আত্মীয়ের সাথে যৌথভাবে করতে পারেন। তাতে আপনার খরচ কম যাবে। আপনি যদি প্রতি বছর ছয় মাসের বেশী গ্রামে থাকেন তবে গ্রামে আপনার স্থায়ী বাসস্থান প্রয়োজন আছে। যদি ছয় মাসের কম থাকেন। তিন মাসের বেশী থাকেন। তবে কোন আত্মীয়ের সাথে যৌথভাবে বাড়ী বানালে আপনার খরচ কমবে। যেমন: দুইতলা দালান করলেন ভাগাভাগি করে। ২য় তলা আপনার জন্য রাখলেন। এতে আপনার অন্যের সাথে দালান শেয়ার করার কারণে আপনার খরচ কমে আসবে। কেয়ার টেকারের পিছনে টাকা খরচ করার হিসাব থেকে বাঁচলেন। ভবিষ্যতে যদি আপনার উত্তরোধীকারীদের গ্রামে না আসার সম্ভাবনা থাকে, তবে ধীরে ধীরে আপনার অর্ধেক দালানের মালিককে দাম নিয়ে বা দাম ছাড়া দীর্ঘদিনের সার্ভিস দেয়ার পরিবর্তে আপনি আপনার অংশীদারকে বিক্রয় বা দান করে দিতে পারবেন। তাই গ্রামে নিয়মিত না থেকে গ্রামে অর্থ বিনিয়োগ করে বাড়ী তৈরি করে ফেলে রাখলে আপনি নিজের আর্থিক ক্ষতি করছেন। আপনি অনেক ধনী হলে আমি বলব এটা করা আপনার জন্য ঠিক হচ্ছে না। কারণ আপনি অবকাশ যাপনের কেন্দ্র তৈরি করে তা যথাযথ ভাবে ব্যবহার করছেন না। আপনি দেশের ক্ষতি করছেন। গ্রামের কৃষি জমি কমিয়ে আপনি তার উপর অহেতুক স্থাপনা তৈরি করে কৃষি জমির অপচয় করছেন। এ ধরনের জমির অপচয় আপনি করছেন কারণ আপনার টাকা আছে। তারচেয়ে এধরনের অপচয় না করে আপনি পারেন কারো সাথে শেয়ার করে বাড়ী তৈরি করতে। তাতে আপনি গ্রাম আপনার প্রিয় বা কাছের কারো উপকার করবেন এটা ভাল কাজ হবে। আপনি নিজে লাভবান হবেন ও অন্যকে লাভবান করবেন।

যদি গ্রামে আপনি তিনমাসেও একবার না যান তবে আপনি গ্রামে কোন স্থাপনা করাটা হবে আপনার জন্য অপ্রয়োজনীয় কাজ বা বোকামি। তার চয়ে বরং এখনকার প্রেক্ষাপটে টাকা খরচ করে হোটেলে বা বোর্ডিং এ থাকা বা কারো কাছে পেয়িং গেস্ট হিসাব থাকাটা ভাল। আরো ভাল হয় রিক্রিয়েশন ভেইক্যাল ভাড়া করে নেয়া। একবার পত্রিকায় দেখলাম শাররুখ খান তিন কোটি টাকা খরচ করে রিক্রিয়েশনাল গাড়ী কিনেছে। এটা একটা ভাল ব্যবস্থা। যাতায়তের জন্য টিকেট কেনার ঝামেলা নেই। হোটেল ভাড়া করার ঝামেলা নেই। কারাভান বা গাড়ীটি নিয়ে হাজির হয়ে যতদিন মন চায় থেকে গেলেন। কোন পিছু টান নেই।আবার কেয়ার টেকার রেখে বাড়ী ম্যানটেইন করার ঝামেলা নেই। ভারতীয় মেধা পাচারের উপর একটি ছবি দেখেছিলাম নাম স্বদেশ। সেই ছবিতে শাররুখ খান গ্রামে থাকতে আসনে একটা কারাভান করে। আর গ্রামে কারাভানেই থাকার আইডিয়াটা চমৎকার। হয়ত এখনো বাংলাদেশে কারাভান বা রিক্রিয়েশন ভেইক্যাল ভাড়া চালু হয়েছে। যা আমার জানা নেই। আশা করি বিলাসী প্রবাসীরা ও শহুরে ধনীরা শখের বসে আমাদের ছোট দেশের অল্প,সীমিত ও মূল্যবান জমি অহেতুক নষ্ট করবেন না।

Tuesday, March 29, 2016

টেনশন ও অস্থিরতা উৎপাদনশীলতা কমায়

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি হতে ২০১৬ জানুয়ারি মাস পর্যন্ত আমি অনেক অনেক রচনা লিখতে পেরেছিলাম। আমার শব্দের উৎপাদনশীলতা বেশী ছিল। এর আগে প্রায় সাত/আটমাস আবার আমি কিছু লিখতে পারিনি। উৎপাদন শীলতা বা মুক্ত চিন্তার মধ্যে টেনশন বা অস্থিরতা একটা ভয়াবহ সমস্যা। আমি নিজে টেনশন কম করি। তবে অন্য কেউ চাইলে আমার মাঝে টেনশন বা অস্থিরতা অহেতুক দিয়ে দিতে পারে। এটা আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আর এটা পারে আমি মানুষের কটূক্তি আর খারাপ ব্যবহার দুইটিকে ভয় পাই। কারণ আমি নিজে খারাপ ব্যবহার করতে পারি না বলে অন্যদের কটূক্তি আর খারাপ ব্যবহার আমার মাঝে বিশাল পরিমাণ প্রভাব বিস্তার করে। অনেকেরই অন্যদের সাথে কারণে অকারণে খারাপ ব্যবহার করার অভ্যাস আছে। তাদের অন্যের কাছ থেকে খারাপ ব্যবহার বা কটূক্তি শুনলে তাদের তেমন একটা প্রভাব বিস্তার করে না।
আমার অভিঞ্জতায় দেখলাম মানুষ মূলত টেনশন বা সমস্যা সৃষ্টি করে অহেতুক কিছু পরিবর্তন আনতে গিয়ে। এই পরিবর্তনগুলো হল আগে যেভাবে চলছিল তা ভাল হলে ভিন্ন কিছু করা। নিজের কৃতিত্ব জাহির করার জন্য নতুন নতুন আইডিয়া জাহির করা। তারা মূলত কাজটি কিভাবে গতিশীল বা ভালভাবে সম্পন্ন করা যায় সেটা চায় না। তাদের মাথার মধ্যে থাকে কেমনে অন্যদের চেয়ে আলাদা হওয়া যায়। তাদের এই ক্যামনে অন্যদের থেকে আলাদা হওয়া যায় তা রক্ষা করতে গিয়ে অধীনস্থদের নাভি:শ্বাস উঠে যায়। তারা জানে সাময়িক সময়ে যতটুকু পারা যায় পয়েন্ট কামিয়ে নিয়ে কেটে পড়া। এর জন্য অন্যদের ছুটি থেকে শুরু করে অন্যান্য বিষয়ে কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত বা অশান্তি হল তা বিবেচনায় আনে না। আমরা অনেকেই আছি নিজেদের ব্যক্তিগত প্রমোশন বা উন্নতির জন্য এত বেশী তৎপর থাকি তার জন্য আর কয়জন চাপে শুয়ে পড়ল তা বিবেচনায় আনি না। একবার একজন বিখ্যাত ব্যক্তির উক্তি পড়েছিলাম আমরা সবাই প্রতিযোগীতায় লিপ্ত কখন থামতে হবে জানি না, সবাই ছুটে চলেছে। তবে বুদ্ধিমানরা আবার থেমে দম নেয় ও নিজেকে রি-চার্জ করে নেয়। আমি যখন প্রতিযোগীতায় লিপ্ত তখন আমার অধীনস্থরা না চাইলেও আমার দৌড়ের সাথে না দৌড়াক অন্তত জোরে হাটতে হবে। এইরূপ কিছু মাস জোরে হাটা, কিছু মাস দৌড়ানো আবার আস্তে হাটা ইত্যাদি নিশ্চিতভাবে কষ্টকর। তবে উত্তর আছে। একবার একটা উক্তি শুনেছিলাম “সরকারী বস কয়েকমাস পর পর বদলে অধীনস্থদের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ্যাডজাষ্ট করতে করতে জীবনে অশান্তি আসে”। সামরিক ও বেসামরিকের মধ্যে একটা প্রধান পার্থক্য হল সামরিক ব্যক্তিরা ব্যক্তিগত রিলেশন ভাল মন্দ এটা গুরুত্ব না দিয়ে কাজের  বিষয়টি গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে বেসামরিকরা বার বার ব্যক্তিগত রিলেশন নতুন নতুন ব্যক্তির সাথে রক্ষা করতে গিয়ে হয়রান হয়ে যায়। অবশ্য এটা চিরাচরিত ভাবে সত্যি যে, যে ব্যক্তিরা নিজেদের কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন তাদের বসের পরিবর্তনে তেমন একটা সমস্যা হয় না। সমস্যা তখনই হয়, যখন দক্ষ ব্যক্তিরা যেভাবে অভ্যস্ত সেভাবে কাজটা করতে না পারা। দক্ষ ব্যক্তি দক্ষতা পেয়েছে কারণ কাজের মধ্যে কিছু সহজ সরল সমাধান সে বের করে কাজটাকে সহজ করে নিয়েছে। আর তা বের করেছে তার দীর্ঘ দিনের অভিঞ্জতা থেকে। নতুন বস এসে যদি দক্ষ ব্যক্তিকে অদক্ষ রাস্তায় কাজ করাতে থাকে তখন দক্ষ ব্যক্তির দক্ষতা কমে যাবে ও অসন্তোষ বেড়ে যাবে। আর এভাবে নতুন বস নতুন পরিবেশ দক্ষদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটাকে অন্যভাবেও আমরা বিবেচনায় আনতে পারি। একটা প্রতিষ্ঠান দুর্বল পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা পরিচালিত হতে হতে হঠাত সবল পরিচালনা পর্ষদ আসলে সবাই অধিক পরিমাণ কাজ ও নতুন ভাবে চাপের মধ্যে পড়ে। এটা স্বাভাবিক। মানুষ দীর্ঘদিন যদি চাপযুক্ত পরিবেশে থাকে তাতেই সে অভ্যস্ত হয়ে যায়। আবার চাপ হীন কর্মহীন পরিবেশেও মানুষ অভস্থ্য হয়ে যায়। শুধু সময়ের ব্যাপার। যে কোন পরিবেশেই মানুষ টিকে যেতে পারে।

টেনশন ও অস্থিরতা থেকে আমাদের সর্বদা বাইরে থাকতে হবে। টেনশন ও অস্থিরতা আমাদের শেষ করতে হবে। এর মধ্য থাকা চলবে না। আপাতত সহজ সমাধান হল কথা না  বলা ও ধৈর্য ধারণ করা। কারণ এই পৃথিবীর সবকিছুই পরিবর্তনশীল।

Thursday, March 3, 2016

একজন মেয়ের বাবার চিন্তা

হয়তবা অনেক দিন আগে থেকেই বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে পাগল ব্যতীত সকল মেয়ের বাবারা মেয়েদের নিয়ে চিন্তা করে থাকে। আমি যেদিন দুই ছেলের পর যখন এক মেয়ে আমাদের সংসারে আসল সেদিন আমার মেয়েকে নিয়ে আনন্দ হল। মনে পড়ল আমাদের প্রতি আমার বড় বোনের অবদানের কথা। সে ‌ছোটবেলায় আমাকে পড়িয়েছে। রান্না করে খাইয়েছে। আজ আব্বা ও আম্মার বৃদ্ধ বয়সে তাদের নিয়মিত দেখভাল করছে। একটা পরিবারের মেয়ে বাবা ও মায়ের বৃদ্ধ বয়সে ছায়ার মত পাশে দাড়াতে পারেন। তারই জীবন্ত উদাহরণ আমার বড় বোন। আমার দুই ছেলের পর মনে আকুতি ছিল আমার বড় বোনের মত একজন কন্যা পাওয়া। যে কিনা বৃদ্ধ বয়সে আমাকে দেখবে। ছেলেদের কাছে এটা আশা করা যায় না। কারণ আমার জীবন থেকে দেখেছি। আমি চাকুরীর সুবাদে দূরে থাকার কারণে আমি মাঝে মাঝে টাকা পাঠানো, দূর থেকে এ্যাম্বুলেন্স ও ডাক্তারের ব্যবস্থা করা ছাড়া অহরহ বাবা মায়ের পাশে গিয়ে খেদমত করতে পারিনি। অথচ আমার বড় বোন প্রায়শই ঢাকা থেকে গ্রামে আসে ও বাবা/মার পাশে থাকছে।
অথচ আমার অন্য কোন ভাইদের তা করা সম্ভব হয় না। মেয়েদের উপর সর্বদা পিতামাতার এজাতীয় নির্ভরশীলতা অনেক পরিবারেই একটা সহজাত বিষয়।
একারণে আমাদের দেশে পিতামাতারা বিশেষ করে মেয়েদের বিয়ে সংসার ইত্যাদি নিয়ে অনেক বেশী চিন্তা করেন। ছেলেদের বিষয়ে পিতামাতা তেমন একটা চিন্তা করেন না। কারণ ছেলেরা লেবারী বা যেকোন কাজ করে জীবন অতিবাহিত করতে পারবে। মেয়েরা কিভাবে বাঁচবে এটা নিয়ে তাই পিতা/মাতা যথেষ্ট টেনশনে থাকতে হয়। মেয়ের পাত্রস্থ করা আর পাত্র উপযুক্ত কিনা এটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ছেলেদের জন্য বিয়েটা তেমন একটা সমস্যা নয়। ছেলে বাজে মেয়ে বিয়ে করলে ছেলের বাবা ছেলেকে বউ সমেত আলাদা করে দিলেই হল। মেয়েদের ক্ষেত্রে উপযুক্ত পাত্র না পেলে সমস্যা ও চিন্তায় থা‌কে পরিবার। কারণ মেয়েরা স্বামী সংসার ফেলে যেন তেন ভাবে যেখানে সেখানে যেতে পারে না। সাধারণত তাকে নিকটাত্মীয়দের কাছেই ফেরত আসতে হয়। এটাই বড় সমস্যা। যে কোন মেয়ের কর্মজীবীই স্বামীই পরকীয়া বাদ দিলেও অন্য নারী‌দের সাথে বন্ধুত্বে জড়াতে পারে। এছাড়া পরিবারের জন্য সঞ্চয় না করে মেয়ের স্বামী নিজের বাবা মা ভাই বোনদের জন্য খরচ করার মত সমস্যা করতে পারে। এতে মেয়ের সংসার হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিবাহিত মেয়ের পরিবার হুমকির মুখে পড়লে পিতামাতা চিন্তায় পড়ে যায়।
এক‌টি জীবন উপাখ্যান তুলে ধরছি। আমার এক নিকট আত্মীয় তার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন একজন মাস্টার্স পাশ ছেলের কাছে। ছেলে গ্রাম থেকে সদ্য পাশ করা বেকার। ছেলেকে অনেক জায়গায় চেষ্টা করে ব্যর্থ হতে হয় কারণ ছেলে সবকিছুতে থা‌র্ডিভিশন প্রাপ্ত। বেকার ছেলে চাকুরী খুঁজতে খুঁজতে স্ত্রীকে শশুর বাড়ী রেখে ছেলে জন্ম দিয়ে ফেলল।
এরপর তাকে ঢাকায় ‌দোকানের ব্যবসা দেয়া হল। তাতে ফেল করে পরিবারের অন্য সদস্যের আর্থিক অবস্থার বারোটা বাজিয়ে ফেলল। পড়ে তাকে একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী দেয়া হল। এখানেও লালবাতি জ্বালাল। এরপর যে গ্রামে সে ছিল সেই গ্রামে তাকে একটা দোকান দিয়ে দেয়া হল। গ্রামে পাকা বাড়ী করে দেয়া হল। গ্রামে সে তার প্রতিবেশী আত্মীয়দের সাথে বিবাদ করে মারামারি মামলার আসামী হয়ে উপজেলা শহরে সপরিবারে ভাড়া বাসায় উঠল। আদালতের জামিন নিয়ে আদালতে নিয়মিত হাজিরায় থাকল। এরমধ্যে সন্তান সংখ্যা বেড়ে হয়ে গেল তিন। উপজেলা শহরে পুনরায় শশুরের ও আত্মীয়দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দোকানদারী শুরু করল। দোকানের আয় দিয়ে পেটে ভাতে চলতে লাগল। চার সন্তান জন্ম দিয়ে ফেলল। এর মধ্যে  চার সন্তান বড় হতে থাকে। পড়ার খরচ বাড়তে থাকে। শশুর তার পেনসন আর অন্য আয় থেকে নাতি নাতনীদের পড়ার খরচ, জামা কাপড়, বাড়ী ভাড়া ও দোকান ভাড়া দিতে থাকেন। সবই চলছিল মোটামু‌টি। এর মধ্যে শশুর অসুস্থ হলে শুরু হয় মেয়ের উপর আরেক বিপদ। স্বামীর সাথে সাথে পড়ুয়া ছেলেও চাপ সৃষ্টি করে মেয়ের বাবার কাছ থেকে টাকা আনার জন্য। মেয়ে  কান্না করতে করতে আসে আর অসুস্থ বাবার কাছে যা পায় তাই ভিক্ষা নেয়। বদ স্বামী তার সন্তানদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছে তাদের মা তাদের নানা নানীর কাছ থেকে টাকা না আনলে তাদের উপায় নাই। মেয়ের অসুস্থ বাবা ও মা যথাক্রমে ৮০ ও ৭৫ বছর বয়সে নিজেদের ঔষধ ও ভাল মন্দ খাবার না কিনে মেয়ের সংসার বাচাতে তৎপর থাকতে হচ্ছে। এ ধরনের গল্প অন্য কোন পরিবারে আছে কিনা আমার জানা নেই। কিন্তু এরা আমার নিকট আত্মীয় হওয়ায় এ ঘটনাগু‌লো পীড়া দেয়। আমার নিজের মেয়ের ভবিষ্যৎ কিভাবে বিপদমুক্ত করা যায় তা এখন থেকেই চিন্তা করি।
আমাদের বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়েটা এত বেশী সেনেসিটভ যে বিয়ের পর মেয়ের সমস্যা  নি‌য়ে অনেক বাবাকে কাঁদতে দেখেছি। এটার কারণ মূলত ইজ্জত। মেয়েদের যে কোন বিষয়ে পিতামাতা মনে করেন তাদের ইজ্জতের হানি হয়েছে।
মেয়ে বিয়ে দিয়ে অশান্তিতে কাটাচ্ছে অনেক অনেক পিতা মাতা। তাহলে সমাধান কি?
একটা সমাধান হল, কোন অবস্থায় যত শিক্ষিত পাত্রই হোক না কেন বেকার পাত্রের কাছে বিয়ে দেয়া যাবে না। যৌতুক দেয়া যাবে না। যৌতুক বেকার পুরুষকে আরো অকর্মণ্য করে। স্ত্রীকে যৌতুকের চাপ দিতে থাকে। ধীরে ধীরে সে অতি লোভে অমানুষ হয়ে যায়। প্রথম থেকেই শর্ত সাপেক্ষে বিয়ে পরিহার করতে হবে। বিয়ে করলে চাকুরী দিব এটাও পরিহার করতে হবে। যদি বেকার পাত্রের পরিবার চালানোর মত বাড়ী ভাড়া, জমির আয় বা এ ধরনের আয় থাকে তবে বিবেচনায় আনা যাবে। উচ্চশিক্ষিত বেকারের কাছে তখনই বিয়ে দেয়া যায় যদি মেয়ের কোন ইনকাম সোর্স থাকে বা মেয়ে চাকুরী করে।
মেয়ে বিয়ে দেয়ার আগে তাকে কর্মক্ষম বা রোজগার উপযোগী করাটা সবচেয়ে নিরাপদ। এতে আর যাই হোক মেয়ের স্বামীর সাথে সংসার হল কি হল না সেই চিন্তাটা আর থাকে না। তবে মাস্টার্স পাশ করে পরবর্তীতে চাকুরী জুগিয়ে পাত্র পেতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েদের বয়স হয়ে যেতে পা‌রে ২৬ থেকে ৩০ বছর। আবার ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে চাকুরী পেয়ে মেয়েদের বিয়ে করতে গিয়ে দেখা যায় খুব কম পাত্রই সমবয়সী বিয়ে করতে রাজি হয়। তবে সমবয়সী বেকার পাত্রই তখন ভরসা। সমবয়সী বেকার পাত্রদের আবার এমন হয় হয়ত সারা জীবনই মেয়েকেই  চাকুরী করে স্বামী সন্তানকে খাওয়াতে হয়। তবু ভাল এ ধরনের বেকার স্বামী নিয়ে চাকুরীজীবী মেয়েরা বাবা মার জন্য আর্থিকভাবে নিন্মমানের জীবন যাপন করা ছাড়া তেমন সমস্যা করে না।
একটা মেয়েকে নিরাপদ করতে হলে তাকে কর্মজীবী করতে হবে । যদি মেয়েকে কর্মজীবী করতে বেশী সময় প্রয়োজন হয়, তবে  বিয়ে দেয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে কোন অবস্থায়ই বেকার ছেলের কাছে নয়। বেকার ছেলের কাছে বিয়ে দিতে হলে অবশ্যই মেয়েকে উপার্জনক্ষম বা চাকুরে করতে হবে। মেয়েকে পড়া‌শোনা অবস্থায় বিয়ে দিলে তার জন্য বাড়ী ভাড়া, জমির আয়, ফিক্সড ডিপোজিট, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদির মাধ্যমে উপার্জনের ব্যাক আপ জরুরী। যেন যে কোন সময় স্বামীর সাথে ব্রেক আপ হলে সন্তানসহ ভদ্রচোতিত ভাবে জীবন ধারণ করতে পারে। যদি তা না হয় এবং বাবার আর্থিক অবস্থা ভাল না হয় তবে মেয়েকে ছোটবেলা থেকেই টিউশনি ও স্কুলে খন্ডকালীন শিক্ষকতা বা ইত্যাদি যে কোন অর্থ উপার্জনকারী কাজ ছাত্রী অবস্থায় শিখাতে হবে। এ ব্যবস্থা যদি কোন পিতা করতে না পারেন অবশ্যই মেয়েকে উপার্জনক্ষম না করে বিয়ে দেয়া অনুচিত। আমাদের সব কিছুই সব সময় একই অংকের অনুরূপ হবে তা নয়। অনেক ভিন্নতা থাকতে পারে। পরিশেষে আমাদের দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে মেয়েদের নিজের পায়ে দাড় করানো ব্যবস্থা ছাড়া তাদের জন্য সত্যিকার অর্থে আর কোন বিকল্প নেই। মেয়েকে উপার্জনক্ষম করতে পারলেই পিতামাতা চিন্তামুক্ত থাকতে পারবেন। আমাদের চারিপার্শ্বের সকল পিতামাতাকে সচেতন করাই হবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।


Thursday, February 18, 2016

সেকাল ও একালের কৃষি

১৯৮০/৮১ সালের দিকে আমি প্রাইমারী স্কুলের ছাত্র। আমি পরিবারের সাথে কুমিল্লা শহরে বসবাস করতাম। তখন সমস্ত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক বিষয় আমার মেমরিতে আসে। তখন আমরা এখনকার মত প্রচুর ডিম ও মুরগী পেতাম না। যা ডিম ও মুরগী পাওয়া যেত তাও তৎকালীন মুদ্রার অনুপাতে অনেক দাম ছিল। ব্যাপকভাবে ফার্ম আকারে মুরগীর চাষ হত না। বাজারে সব্জির্র প্রতুলটা শহরের বাজারে থাকলেও গ্রামের বাজারে ছিল না। শহরের বাজারে সব সময় সকল কিছু চাইলেও পাওয়া যেত না। এখন অবাক হতে হয় গ্রামে সারা বছর টমেটো,ফুলকপি,বাঁধাকপি, গাজর ও আরো অনেক সব্জি পাওয়া যায়। আগে এগুলো এত ব্যাপকভাবে পাওয়া যেত না। শাকসব্জি ও ফলমূল থেকে কার্বোহাইড্রেট এর চাহিদা ছিল বেশী। এখন তা দূরীভূত হয়েছে। যাতায়তে উন্নতি, অনেক অনেক উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ও মানুষের চাহিদার কারণে বেড়েছে নানা বিচিত্রের আয়োজন। আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে চাহিদা টাকা থাকলেও সব পাওয়া যেত না।
আমি চাকুরীর স্থানের সরকারী কমপ্লেক্সে অনেক সব্জি ও অনেক ফল হয়। সকল সব্জি ও ফল ক্যাম্পাসের সকলকে দেয়া হয় অনেক স্বল্প মূল্যে। মাঝে মাঝে দেখা যায় কাঁঠাল বা  বিভিন্ন ফল নেয়ার মত ক্যাম্পাসের কাউকে পাওয়া যায় না। তখন বাইরে অতি কম মূল্যে দিতে হয়। কারণ একটাই। নষ্ট করার চেয়ে দেশের যে কোন মানুষ খেতে পারুক লাভ লসের হিসাব নয়। না পচে যেন মানুষ খেতে পারে। একবার প্রচুর আমলকী গাছে ধরে আছে কিন্তু নেয়ার লোক নেই। অনেক সব্জি বাগানে আছে নেয়ার লোক নেই। তখন অবাক হই কেন এ অবস্থা।
জাম গাছে প্রচুর জাম। পারার লোক নেই কারণ উঁচু জাম গাছে কেউ উঠবে না। মাঝে মাঝে অর্ধেক জামের ভাগ অফার করেও কাউকে পাওয়া যায় না। তখন টাকা অফার করতে হয়। আর টাকা দিয়ে জাম পাড়লে তখন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার স্থানীয় বাজার থেকে বেশী পরে যাবে। লেবার উচ্চমূল্যের জন্য এখনকার সময়ে আর লাভজনক থাকছে না। কৃষি উৎপাদন করে লাভের প্রথম শর্তই হচ্ছে ম্যাকানাইজ সিস্টেমে যাওয়া।কারণ কৃষিপণ্যের দাম অনুযায়ী ম্যানুয়ালি লেবার দিয়ে কৃষি পণ্য উৎপাদনে বাজার মূল্যে পোষাবে না । বিভিন্ন সরকারী কমপ্লেক্সে  জমি লীজ দেয়া বা স্থানীয় বগা চাষি দ্বারা চাষ ইত্যাদি  কার্যক্রমে স্বল্প খরচে জমিতে ফসল উৎপাদন করা যায়। বাংলাদেশে গাছ লাগানো,ফল উৎপাদন ও কৃষি উৎপাদনে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। দেশের সকল স্থান কৃষির আওতায় আনাটা জরুরী।

কয়েকবার আমাদের সরকারী কমপ্লেক্সে টমেটো,ফুলকপি ও বাধা কপি ইত্যাদি উৎপাদন করে ভীষণ ঝামেলায় পড়লাম। উৎপাদন এত হল যে সবাই খাওয়ার জন্য আর নিতে চাইত না। বাজারেও ব্যাপক দাম কম। তবু অতি অল্প দামে বা নামমাত্র দামে সব্জ‌ি শেষ করতে পারলাম। এরপর মাথার মধ্যে আসল আমরা জায়গা ফেলে না রেখে অবশ্যই চাষ করব। লীজও তেমন চলেছ না। তাই নিজেদের চাষ করতে হবে।  তবে উপায়। তখন মাথায় একটা আইডিয়া আসল আর তা হল আগের বড় বড় প্লটে এক দুই ধরনের সব্জি চাষ না করে ১০/১৩ রকমের সব্জি করা। এত‌ে অনেক ভ্যারাইটি ও উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অপচয় রোধ হব‌ে। প্রতি ক্যাটাগরির ও বিভিন্ন রকমের সব্জি অল্প অল্প করে উৎপাদন করায় তা সহজেই  খরচ হবে ও অপচয় কম হবে। এছাড়া আরো একটি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া যায় আর তা হলো অপ্রচলিত বিদেশী সব্জি লাগানো। তবে বিদেশী সব্জি বা শস্য উৎপাদনে প্রচুর যত্ন আত্তির প্রয়োজন হয়। তবে দেশের ফসল ও শস্যের ব্যাপকতার কারণ দেশের সম্ভাবনাময় বেশীর ভাগ স্থান উৎপাদনের আওতায় এসেছে। উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা বতর্মান প্রজন্মের জন্য অবশ্যই খুশী হতে পারি কারণ তাদের খাদ্যে রয়েছে পর্যাপ্ততা। এভাবে হয়ত বাংলাদেশে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। তবে একইভাবে বর্ষায় ও বন্যায় যেন খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত না হয় তার জন্য থাকবে ভাসমান বাগানের আয়োজন। শহরের প্রতিটি ছাদ বাগানে বিস্তৃত করতে হবে। তবে সর্বদা ব্যাপক বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে অবশ্যই বাজারের চাহিদার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

Thursday, February 11, 2016

মোবাইল ফোনে লেখালেখি

আমি একবার একটা খবর পড়েছিলাম আমেরিকার একজন ব্যক্তি কেবলমাত্র অফিসে আসা যাওয়ার পথে মোবাইলে এসএমএস টাইপ করে একটি বই লিখে শেষ করেছে। অবাক ব্যাপার নিশ্চয়ই। আমি এ খবরটা মনে রেখে মোবাইলের মাধ্যমে আমিও আমার বাংলা লেখালেখির একটা চেষ্টা চালাই। যেহেতু আমি বিজয়ে টাইপ করতেই অভ্যস্ত। তাই অভ্র ফোনেটিকস দিয়ে টাইপ করতে গিয়ে পরতে হয় নতুন বিপদে। কয়েক দিন অভ্র ফোনেটিকস দিয়ে  টাইপ করার ক্লান্তিকর চেষ্টাটা চালালাম। বন্ধু/বান্ধবরা অভ্র ফোনেটিকস এর পক্ষে‌ সাপোর্ট দিল। একটা বিষয় মাথায় আসল।  আমি গুগল প্লে ষ্টোরে কেন বিজয় খোজ করছি না । পরে বিজয়ের একটি অ্যাপস পাওয়া গেল যা মোটামোটি  কার্যকর মনে হয়। এখনকার সময়ে মোবাইল থাকলে আর কোন কিছুর প্রয়োজন হয় না।  কিছুদিন আগেও ট্যাব বা ল্যাপটপ ছাড়া আমরা চলতে পারতাম না। এখন মোবাইল হলেও আমাদের চলে। বরং ভারী ল্যাপটপ আর ট্যাব বেশী জরুরী না হলে আমরা বহন করতে চাইনা। আমি যে গল্পটি আপনাদের জানালাম এটি হল আগের দিনের এসএমএস এ যুগের গল্প। যখন এসএমএস মোবাইলের দশ বাটনের মধ্যে টাইপ করা লাগত। এখন টাচ মোবাইলে একই বাটনের বিভিন্ন লেটার টিপে টিপে টাইপ করার প্রয়োজন পড়ে না। একেবারে টাচ বাটনে নিদিষ্ট অক্ষর দেখে টাইপ করা যায়। টাইপ করাটা টাচ বাটনে একবার আয়ত্তে আনতে পারলে অনেক দ্রুত টাইপ করা যায়।
মোবাইলের বিজয় কীতে টাইপ করাটা অভ্যাস হয়ে গেল মন্দ হয় না। বিজয় অভ্যাস করে কম্পিউটারে টাইপিং ও মোবাইলের টাইপিং প্রায় একই রকম মনে হয়। অনেক ক্ষেত্রে মোবাইলে টাইপ করা আটির্ক্যাল টাইপিং কম্পিউটারে নিয়ে এডিটিং ইত্যাদি কাজ করতে গেলে দেখা যায় শব্দগুলো ভাংগা ভাংগা হয়ে জোড়া লাগে। এগুলো অভ্র  স্পেল চেক দিয়ে প্রয়োজনীয় কারেকশন করা যায়। মাঝে মাঝে মোবাইল টাইপিং এ রেফ, একার ও আরো দুই একটা সংযুক্ত বর্ণের জন্য সমস্যা হয়। তবে কোন তথ্যাদি ধরে রাখার জন্য মোবাইলে নিয়মিত টাইপ করার অভ্যাস করলে ধীরে ধীরে মোবাইলে টাইপিং সংক্রান্ত সমস্যাগুলি ধীরে ধীরে কেটে যায়। তখন মোবাইলে টাইপিংটাও স্বাভাবিক কম্পিউটারের মতো স্বাভাবিক হবে।
মোবাইল টাইপিঙের আইডিয়া আসে তখনই যখন আমাদের রাস্তা ঘাটের ট্রাফিক জ্যামের অলস টাইমগুলো কোয়ালিটি টাইমে রূপান্তর করা যায়। বলার অপেক্ষা রাখে না এখনকার অধিকাংশ এক্সিকিউটিভ কিছুটা অন্তত ডিজিটাল কার্যক্রমে অভ্যস্ত হচ্ছে। যেমন এসএমএস পড়া, লেখা, ইমেইল চেক করা ও ইন্টারনেটে সার্চ দেয়া। আজ হতে পাঁচ বছর আগেও দেখতাম অনেক কর্মকর্তাই এসএমএস, ইমেইল পাঠাতে ও খুলতে জানত না। এখন অধিকাংশ শিক্ষিতরাই কাজগুলি জানে। তাই এখন পঞ্চাশ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের স্মার্ট ফোনে স্মার্ট কর্মকাণ্ড করতে দেখা যায়।
বিভিন্ন স্থানে, রাস্তাঘাটে ও গাড়ীতে আজ অনেককেই  স্মার্টফোনে কর্মরতই দেখা যায়।
অনলাইন ও অফলাইন অনেক কাজ যখন স্মার্টফোনে করা যায়। এখন আমার মত লেখালেখি করা যাদের অভ্যাস আছে তারা লেখালেখির কাজগুলি সহজেই সারতে পারেন। স্মার্টফোনে লেখালেখির কাজ নোট বা মেমোতে না করে সরাসরি ড্রপবক্সে ফাইল গুলো নিয়ে করা যায়। এতে একবারেই মোবাইল ফোনে বা কম্পিউটার যে কোন স্থানে ও যে কোন ডিভাইসে টাইপ করা যাবে। অফিসে বা বাসায় ল্যাপটপ বা পিসিতে করে নিয়ে আমরা সেই লেখাগুলো মোবাইলে আবার রাস্তাঘাটে প্রয়োজনীয় সময় নিয়ে রিলাক্স মুডে কাজগুলো শেষ করতে পারি। যে কোন লেখা প্রুফ রিডিং বা সংশোধন পরিবর্ধন বা পরিমার্জনের কাজ মোবাইলে সহজে করা যায়। তবে কোন রেখা বা আইডিয়া হঠাত মনে পড়লে তা তৎক্ষণাৎ টাইপ করে নতুন নামে লেখাটি খুলে ফেলে নিলে মন্দ হয় না পড়ে প্রয়োজনীয় সময় হাতে নিয়ে পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করে নিলেই চলবে।
আগে শুনতাম লেখকরা তাদের বিভিন্ন কাজের ফাকে ফাকে লিখতে বসতেন ছোট ছোট নোট প্যাডে বা কাগজে। পড়ে এক সময় সমস্ত নোটগুলি নিয়ে তারা বসত তাদের ধারনা গুলোকে ভাষার মনোহারী বিন্যাসে উপস্থাপনা করা। এখনকার সময়ে আইডিয়া গুলো নোট লেখার পরিবতে মোবাইলে টাইপ করে ফেলতে পারি। এতে নোট জমানো ও পুনরায় সাজিয়ে লেখার মত পুনরাবৃত্তি ধরনের কাজগুলো আমরা কমাতে পারি। আমরা যেন তেন ভাবে  মোবাইলে লেখাগুলো ডিজিটালই সংরক্ষণ করে ফেলতে পারলে পরে তা যেকোনো ভাবেই ব্যবহার করে যায়। তবে ভ্রমণরত অবস্থায় বাসে বা গাড়ীতে সাধারণত কলম দিয়ে লেখা যায় না। যদি লিখতে হয় তবে প্রচুর অনুশীলনের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু মোবাইলের কিতে টাইপ করে লেখা যায়। টাচ ফোনেও গাড়ীর ঝাঁকুনিতে ঠিকভাবে আঙ্গুল রেখে কাজ করা যায় না। সরে সরে যায়। তবে একটু অভ্যাস করলে গাড়ীর ঝাঁকুনিতে ছোটখাট টাইপিং কাজ করা যায়। তবে নিধিধায় ভালভাবে কাজ করা যাবে জলপথে ও আকাশ পথে ভ্রমণের সময়। ট্রেনে সড়ক পথে জানি ভালভাবে করা যাবে।

আমরা যেখানে যে অবস্থায় থাকি না কেন আমাদের হাতের কাছে স্মার্টফোন থাকলে আর তা স্মার্টলি  ব্যবহার করতে জানলে আমাদের অলস ও বোরিং টাইমগুলো উৎপাদনশীল ও কোয়ালিটি টাইম হবে।

Thursday, February 4, 2016

পরিবার নিয়ে কলকাতায় বেড়ানো

২১ জানুয়ারি ২০১৬ আমার পরিবারের জন্য এক‌টি স্মরণীয় দিন। আমার পরিবারের সকল সদস্য পাস‌পোর্ট ও ভিসা নি‌য়ে দেশের বাইরে আসল। আমার কেজিতে পড়ুয়া ছোট মে‌য়ে ‌ইমিগ্রে‌শনে স্বহ‌স্তে স্বাক্ষর করল। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের সুবাদে অনেক দেশ দেখার সৌভাগ্য হলেও বিভিন্ন কারণে পরিবার নি‌য়ে দেশের বাইরে পা রাখার সৌভাগ্য হয়নি। তবে বিএসএফ আ‌য়ো‌জিত ফ্যামিলি প্রোগ্রামে যদিও বর্ডারের আসে পাশে দুইবার পরিবার নিয়ে বিনা পাস‌পোর্ট ও ভিসায় ভারত গমন করেছিলাম।
পরিবার নি‌য়ে বিদেশ ভ্রমণ না কর‌তে পারার জন্য আর্থিক কারণটাই মুখ্য। প্রথম কারণ বিপুল পরিমাণ টাকা শেয়ার মার্কেটে হারি‌য়ে ঋনগ্রস্থ হওয়া। দ্বিতীয় কারণ পিতার রিটায়‌মে‌ন্টের পর পিতামাতা গ্রামে থাকার কারণে গরীব আত্মীয় স্বজন‌দের অহরহ টাকা দি‌তে হয়। তখন মনে হয় কারণ ছাড়া শুধুমাত্র বেড়ানোর জন্য বিদেশ গি‌য়ে লক্ষ টাকা খরচ করার চেয়ে দশ হাজার টাকা ক‌রে দিলেও এক লক্ষ টাকায় অন্তত গ্রামের ১০ জনের ভাগ্য বদলের সহায়তা কর‌তে পারি। চাকুরীর ক্যারিয়ারে সচেতন না হওয়ার কারণে অনেকের মত প্রমোশন উন্নতি লাভ করে ও বিদেশে  কোস ও অন্যান্য অগণিত কর্মকাণ্ডে সরকারী খরচে  অনেকের মত বিদেশ যাওয়ার ভাগ্য আমি তৈরি করতে পারিনি। যাতে পরিবার উৎসাহ পাবে।
যাকগে যা হোক বিজিবিতে চাকুরী করার সুবাদে ‌বিএসএফ এর সাথে পতাকা বৈঠকের সময় অনেক বিএসএফ অফিসাররা ছুটি নি‌য়ে ভারত বেড়ানোর জন্য আমন্ত্রণ করেছিল। বিশেষ ক‌রে যে সব ‌বি‌এস‌এফ অফিসাররা বাংলাদেশে কোর্স করেছে বা ভিজিট করেছে তাদের আগ্রহটাই বেশী। পরে হিসাব করে দেখলাম দর্শনা বর্ডার দিয়ে ভারতের কলিকাতায় বেড়ানো বেশ সাশ্রয়ী। দূরবর্তী দেশে বেড়ানোর চিন্তা বাদ দিয়ে কাছাকাছি দেশ দিয়ে পারিবারিক বিদেশ ভ্রমণ শুরু করা যেতে পারে। বিশেষ করে বর্তমান যুগে নিজের সংগতি থাকতে দুই একটা দেশে না ঘুরালে সন্তানরা মনো কষ্ট পাবে। যেখানে সমসাময়িক কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের বিদেশ ভ্রমণের গল্প শুনতে শুনতে পরিবার হীনমন্যতায় ছিল।
আমার ইঞ্জিনিয়ার পিতা নিজে অনেক দেশ ঘুরলেও আমাদের মাকে সহ ছয় জন ভাইবোনকে অন্য দেশ দেখানোর মত সাহস করেননি। অবশ্যই তা খরচের জন্য। সেজন্য আমার শখের মধ্যে প্লেনে উঠার শখ‌টি চাকুরীর পাওয়ার প্রথমে পূরণ করে ফেলি। ঢাকা সৈয়দপুর বিমান ভ্রমণ ক‌রে। তবে বিয়ের প‌রে চাকুরীর টাকায় টানা পূরণে পুনরায় আর্থিক কারণে বিদেশ যাওয়ার অভিঞ্জতা অর্জনে ব্যর্থ হই। তবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে যাওয়ার কারণে বিদেশ যাওয়ার সু‌যোগ‌টি পাই চাকুরীর নয় বছরের মাথায়।
কলিকাতা শহর আর ঢাকা শহরের মধ্যে তেমন পার্থক্য চো‌খে পড়েনি।
লোকজনের পোষাকে একটা পার্থক্য দেখা যায়। ঢাকার রাস্তা ঘাঁটে লুঙ্গি পড়া লোকের সংখ্যা বেশী। এখানে কম। ইন্টারনেটে বাংলাদেশ থেকে কলিকাতার বেড়ানো সহায়ক অনেক অনেক তথ্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। কলিকাতার গুগল ম্যাপ অনেক বেশী আপডেটেড। নিজ লোকাশান থেকে অন্য লোকেশানে গেলে অনলাইন রাস্তার তথ্য, বাসের তথ্য ও ট্রাফিক জ্যামের তথ্যাদির আপডেট পাওয়া যায়। রিয়েল টাইম ইনফরমেশন এভাবে  পাওয়া যাবে। যে কোন সময়ে যে কোন স্থান হতে যেতে পাবলিক ট্রান্স‌পোর্ট ট্রেন,বাস ও হাটা ইত্যাদি পন্থায় ‌নি‌দ্দিষ্ট  স্থানে কিভাবে যেতে হয় তার গাইড গুগল ম্যাপে পাওয়া যায়। তা সত্যি চমৎকার।‌  গুগল ম্যাপে ঢাকা শহরের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ও অন্যান্য তথ্যাদি পাওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করে দেখলাম। ঢাকার পাবলিক ট্রান্সপোটের্র কোন তথ্য নেই।
দেশে থাকতেই কোথায় কোথায় বেড়া‌নো যায় তার সমস্ত তথ্যাদিই আমার ছেলেরা ইন্টারনেট থেকে নিয়ে‌ছিল। মুলত: সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমাদের বেড়ানো আগাচ্ছিল। থাকা ও খাওয়ার জন্য বিএসএফ এর বন্ধু অফিসাররা ব্যবস্থা ক‌রে দিয়েছিল। যার ফলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ব্যবস্থা পেয়েছিলাম। দুই একদিন বন্ধু অফিসাররা ‌ গাড়ী ও গাইড দিয়ে সহায়তা করেছিল।
আমাদের‌ বেড়ানোটা যেভাবে করি তা নিমরুপ:
২১জানুয়ারী ২০১৬: বাংলাদেশ হতে দর্শনা ও গেতে হয়ে ভাড়া করা কারে কলিকাতা আসা।
২২ জানুয়ারি ২০১৬: কলিকাতা নিউ মার্কেট গমন ও কিছু কেনাকাটা করা। মার্কেটে কি কি পাওয়া যায় তার ধারনা করা।
২৩ জানুয়ারি ২০১৬: বিএসএফ কলিকাতা সেক্টরের নিকটবর্তী আলম বাজার এলাকায় বেড়া‌নো। হাওড়া এলাকায় হুগলী নদীর তীরবর্তী স্বামী বিবেকানন্দের বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান কার্যালয় দেখা। পিলার বিহীন বিশাল উঁচু হাওড়া ব্রিজ দেখা। দক্ষিনেশ্বর মন্দির দেখা।
২৪ জানুয়ারি ২০১৬: ‌নিউটাউন এর সাইন্স সিটিতে ঘোরে বেড়ানো।
২৫ জানুয়ারি ২০১৬: নিউ মার্কেট ও নিকটবর্তী এলাকায় বেড়ানো।
২৬ জানুয়ারি ২০১৬: ইকো ট্যুরিজম পার্ক দেখা  ও সল্ট লেকের সিটি সেন্টারের কেএফসিতে ডিনার করা।
২৭ জানুয়ারি ২০১৬: ভি‌ক্টো‌রিয়া মেমোরিয়াল ও পার্ক স্ট্রীট এলাকার ডোমিনোজে লাঞ্চ করা।
২৮ জানুয়ারি ২০১৬: প্রি‌ন্সেপ ঘাটে বেড়ানো ও হাওড়ার এ্যাভোনী রিভারসাইড মলের ম্যাকডোনালসে লাঞ্চ করা।
২৯ জানুয়ারি ২০১৬: ‌অলিপুর চিড়িয়াখানায় বেড়ানো ও নিউ টাউনের সিটি সেন্টার-২ শপিং মলের সাবওয়ে রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ করা। দমদম এয়ারপোটের্র কাছে হলদি রামের শোরুম থেকে শুকনো মিষ্টি কেনা।
৩০ জানুয়ারি ২০১৬: কলকাতা হতে ভাড়া করা কারে গেদে দিয়ে বাংলাদেশে  প্রবেশ।
কলিকাতায় যাওয়ার পর দুইদিন পর্যন্ত নতুন স্থানে গমন ও আবহাওয়ার ভিন্নতার কারণে আমার ছেলেমেয়েদের ভাল লাগছিল না। তৃতীয় দিন থেকে তাদের ভাল লাগা শুরু হয়। আমার ভয় হচ্ছিল দশ দিন ছুটি কাটাতে পারি কিনা।  পরে দেখা গেল একনাগাড়ে আটদিনের প্রতিদিন বেড়িয়েও সন্তানদের উৎসাহের কমতি ছিল না। যাওয়া ও আসা সহ দশদিন সুন্দরভাবে আমার সন্তানরা কলিকাতায় কাটাতে পেরেছিল। এজন্য তারা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। আমার স্ত্রী আমা‌দের সাথে বড়সড় হাটায় ও বেড়ানোতে অংশগ্রহণ করতে পেরেছিল।

পরিশেষে কলিকাতায় ছোট পরিসরে পরিবার নিয়ে বিদেশ ভ্রমণের অনুভূতি চমৎকার। ছোট বাজেটে বিদেশ ভ্রমণের স্বাদ পেতে কলিকাতা মন্দ নয়।

Thursday, January 28, 2016

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে লোড শেডিং মুক্ত থাকা

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বলা যায় মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে বাংলাদেশ উঁকিঝুঁকি মারছে। এতেই বাংলাদেশের প্রায়  সকল মানুষেরই বিদ্যুৎ একটি বেসিক রাইট হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যুৎ ছাড়া উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। 
২০০৮ সালের জুন মাসের দিকে একবার আমরা পর পর তিনদিন লোডশেডিং এর ভয়াবহতায় অস্থির। রাতে প্রতি দুই ঘণ্টা পর পর এক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ নাই। এতে যা ঘটে তা হল সবার ঘুমের ব্যাঘাত। পিডিবি উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ডাকা হল। পিডিবিএর দায়িত্ব প্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ইন্জ্ঞিনিয়াররা আসলেন। তাদেরকে সেনানিবাসের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের তথ্য তুলে ধরা হল। তারা জানাল, বিদ্যুৎ উৎপাদন সমস্যা থাকায় সবস্থানেই ব্যাপক লোড শেডিং হচ্ছে। তারা আমাদের এলাকা কম লোড শোডিং এ রেখেছেন। একেবারে লোড শেডিংমুক্ত রাখতে তারা একান্তই অপারগ। তখন তারা একটা চমৎকার সলিউশন নিয়ে হাজির হল।
তারা জানাল ময়মনসিংহ সেনানিবাসের একদিকে রয়েছে শহর অপরদিকে রয়েছে গ্রাম অঞ্চল। দুইদিকে দুই এলাকার হাই টেনশন (১১কেভি) লাইন রয়েছে। তাদের সাজেশন হল দুইটি ১১০০ কেভির লাইনের দুপাশ থেকে দুটি সংযোগ নিতে। তার এমন ব্যবস্থা করে দিবে যাতে এক লাইনে লোড শেডিং থাকলে অন্য লাইনে লোড শেডিং থাকবে না। তাতে আমরা কোন না কোন লাইনে অবশ্যই বিদ্যুৎ পাব। এতেই আমাদের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এর পর পিডিবি ও আর্মির পক্ষ থেকে আর একটি ১১০০ কেভি লাইন গ্রামের মাঝ থেকে এগিয়ে সেনানিবাস পর্যন্ত আনা হয়। এভাবে দুই পাশ থেকে দুইটি লাইন আনা হয়েছিল । একটি অটো সুইচ বা চেঞ্চওভার লাগানো হয়েছিল যা কিনা যে লাইনে কারেন্ট আছে কেন্দ্রীয়ভাবে সেখানে সংযোগ করে দেয়। এভাবে ব্যবস্থা করার পর পরবর্তীতে মাসের পর মাস ময়মনসিংহ সেনানিবাসে বিদ্যুৎ যেত না। আমি সর্বশেষ ২০১৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ময়মনসিংহে তেমন একটা বিদ্যুৎ যাওয়া বা লোড শেডিং পাইনি। সর্বদা বিদ্যুৎ থাকায় মহা সুখকর অবস্থা ছিল। এভাবে হয়ত বা অনেক প্রতিষ্ঠান একাধিক লাইন টেনে নিয়ে নিজেদের লোড শেডিং মুক্ত রাখতে পারে বা রাখছে।
২০১৩ সালে বিজিবি কুষ্টিয়া সেক্টরে জানুয়ারির শেষে বদলী আসার পর বিদ্যুতের একটা ভয়াবহ অবস্থা দেখতে পাই। প্রতিদিন চার/পাঁচবার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করে। পল্লী বিদ্যুতের লাইন গ্রামের মধ্য দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়ার কারণে প্রায়ই ডালপালা পরে লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এমনও হয় মাঝে মাঝে একটানা ১০/১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এসব বহুবিদ কারণে আমরা দীর্ঘদিন যাবত বড় জেনারেটর ক্রয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। পরে অবশ্য ৫০,৩০,২৫,১৫,১০,৫ কেভি জাতীয় একাধিক জেনারেটর চালিয়ে বিদ্যুৎ চলে গেলে চাহিদা মিটানো হচ্ছিল। বাসস্থানে, অফিসে ও সিকিউরিটি লাইনে আইপিএস লাগিয়ে বিদ্যুতের আসা যাওয়াটা কিছুটা সহনশীল করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের একদিন প্রায় ২০ঘন্টা বিদ্যুৎ নাই। বিদ্যুৎ না থাকলে পানির সংকটও চরম রূপ নেয়। পরে আমি পল্লী বিদ্যুতের জিএম সাহেবের সাথে আলোচনা শুরু করি কিভাবে লোড শেডিং কমানো যায়। আমি তাকে দুটি ১১০০ কেভি লাইন ব্যবহার করে সলিউশন দিলাম। তিনি নিকটবর্তী আর একটি লাইন আনার আইডিয়াটা মাথায় রাখলেন কিন্তু খরচ হবে জানালেন। পরে অবশ্য তিনি ভাল একটা সলিউশন বের করলেন। তিনি আমাদের বিজিবি সেক্টরের গ্রিড লাইনটির সাথের বেসামরিক এলাকার লোড অন্য লাইনের মাধ্যমে কমিয়ে দিয়ে একটা ছোট পরিসরে ৫০০ কিলোওয়াট টাইপ লোড তৈরি করে নিলেন। কুষ্টিয়া ও মিরপুর উপজেলার অন্যান্য মেগাওয়াট লোডের সরবরাহ থেকে আলাদা করে দিলেন। এতে মিরপুর উপজেলার সাব ষ্টেশন থেকে বিজিবির ৫০০ কিলোওয়াট লোডকে লোড শেডিংমুক্ত রাখতে তাদের আর কোন সমস্যা থাকল না। অনেক চেষ্টা তদবিরের পর এরূপ একটা ব্যবস্থা করায় আমরা বিজিবি কুষ্টিয়ার সকলে পল্লী বিদ্যুত সমিতি কুষ্টিয়ায় উপর যারপর নাই কৃতজ্ঞ হলাম। এরপর মিরপুর উপজেলার মত গ্রামে থেকেও এক সাপ্তাহে একবার/দুইবারের বেশী বিদ্যুৎ যাচ্ছে না। কেবল মাত্র ঝড়ে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য  সত্যি তার কল্পনাতীত। যা বিদ্যুৎ যায় তা মূলত লাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও তার ছেড়ার কারণে। মাঝে মাঝে গ্রিড লাইন রক্ষণাবেক্ষণে বিদ্যুৎ যায়। ঝড় বাদলের দিনে পল্লী বিদ্যুৎ তাদের গ্রামীণ জনপদের ভিতর দিয়ে যাওয়া লাইনগুলো সাধারণত বন্ধ করে রাখে। পরিশেষে আমার দেয়া লোড শেডিংমুক্ত ব্যবস্থাপনা আপনারা কাজে লাগাতে পারেন।


Thursday, January 21, 2016

মুক্ত অফিস

আউট স‌ো‌র্সিং যারা করেন তারা মূলত এক‌টি ভার্চুয়াল অফিসে কাজ ক‌রে। আমা‌দের অফিসগুলো কি আসলে দরকার আছে। আমা‌দের অফিসগু‌লো হ‌তে পা‌রে বড় একটা কনফারেন্স রুম। বেশিরভাগ অফিস সমন্বয়ের জন্য ব্যবহার হয়। আর এ সমন্বয় যদি ভাচুয়ার্লী করা যায় তবে অফিসের কি প্রয়োজন। আলাদা আলাদা কক্ষ বিশিষ্ট বা কিউবিক্যাল না হ‌য়ে একটা সাইবার ক্যাফে টাইপ হ‌তে পা‌রে। এতে অনেক খরচ কমবে। ভার্চুয়াল অফিসগুলো হবে অতি দ্রুত ও কার্যকরী। প্রথমে আসি আমা‌দের অফিস কেন দরকার?
১. একটা ঠিকানা
২. ফাইলপত্র রাখার জায়গা
৩. চিঠিপত্রাদি  ও দালিলিক লেখাপড়ার জন্য আরামদায়ক স্থান
৪. টয়লেট বাথরুমের ব্যবস্থা
৫. যোগা‌যোগের ব্যবস্থা
৬. ফ্যাক্স, কম্পিউটার ও প্রিন্টার থাকবে
,. লোকজন আসলে বসার ব্যবস্থা ও কনফারেন্সের ব্যবস্থা
৮. সহকারী‌দের বসার ব্যবস্থা
৯. নিরাপত্তা রক্ষী‌দের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা ইত্যাদি ইত্যাদি।

মনে করুন, উপরের অফিস কমপ্লেক্সে আপনার লেগেছে ৩০০০ স্কয়ার ফিট। আমার প্রস্তাবিত মুক্ত অফিসে আমা‌দের প্রয়োজন হবে তিনভাগের একভাগ জায়গা। তাহলে আমা‌দের অফিস পরিচালনা ব্যয় কমবে। মূলত অধিকাংশ কাজ ভার্চুয়ালী হবে। অফিস ও স্থাপনা ছোটো হওয়ায় বিদ্যুৎ পানি ইত্যাদিরও খরচ কমবে।
আমার কল্পনার ভার্চুয়াল অফিসটা কেমন হবে তুলে ধরছি।
১. কনফারেন্স আকা‌রে বড় রুম থাকবে।
২. সবার সামনে মনিটর থাকবে। যা‌তে সকলে কম্পিউটারে কাজ কর‌তে পারে। সবাই একই সাথে ল্যাপটপ বা ডেস্কটপের মাধ্যমে ভার্চুয়াল অফিসে চিঠি তৈরি ও চিঠি দেখা ইত্যাদি কাজ করবে। প্রত্যেকের জন্য আলাদা নির্ধারিত কম্পিউটার প্রয়োজন। যে যখন ওয়ার্ক-স্টেশন খালী পাবে। সেখানেই কাজ করবে।
৩. টয়লেট ও প্রসাধনীর ব্যবস্থা থাকবে। অফিস প্রধান চাইলে কাঁচের গেঁড়াও দেয়া টয়লেট ও আলাদা প্রাইভেসী রাখ‌তে পারেন। আসলে মুক্ত অফিসে অফিস প্রধান ও অন্যান্যরা  ভ্রমণরত থাকবেন। তারা বেড়াবেন। মিটিং করবেন। কনফারেন্স ও দেখা সাক্ষাত বাইরে বিভিন্ন স্থানে করবেন। রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ হবে সাথে মিটিংও চলবে। মুক্ত অফিসের মুল ধারনাই হল সিকিউরিটি ব্যতীত সবাই ঘুরে বেড়াবে। অফিস সিকিউরিটির সবাই একসাথে সবাই কাজ করবে তা নয়। এক দুইজন সরাসরি দায়িত্ব করবে অন্যরা আইপি ক্যামেরায় মনিটর করবে। এমনকি অন্য সংস্থার সাথে ভাড়া ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও চালু করা যাবে।  এভাবে মুক্ত অফিসে সবাই আসন বিহীন থাকবে। অফিস হবে মূলত রি‌পো‌র্টিং প্লেস। অফিসের সবাইকে অফিস করার জন্য অফিসে আস‌তে হবে না। প্রয়োজন পড়লে বা মিটিং এর জন্য আস‌বে। ইমেইল, ভাইবা‌র ও হোয়াটস আপ ইত্যাদিতে ভার্চুয়াল  কার্যক্রম চলবে। একান্তই কারো সাইনের প্রয়োজন হলে ডি‌জিটালী সাইন দিবে। যেমন: সাইনের সাথে তারিখ দি‌য়ে সাইন করবেন। তারপর স্ক্যান ক‌রে ডকুমেন্টে দিবেন। স্বাক্ষর একই থাকলেও ‌যে‌হেতু নিজ হাতের লেখায় সাইনের নীচে তারিখ লিখবেন। এভাবে এ পরিবর্তনের মাধ্যমে সাইন ও তারিখের স্বতন্ত্রতা এনে স্বাক্ষর ক‌রে তারিখের ভিন্নতা স্ক্যান ক‌রে ডুকু‌মে‌ন্টের সিগনেচার ব্লগে সেট ক‌রে অফিসের বাইরে থেকেও কাজ করা যায়।
তবে বিভ্রান্তি দূর করতে সাথে সাথে প্রেরকে জানাবে যে তিনি সাইন ক‌রে স্ক্যান ক‌রে ডকুমেন্টে সংযুক্ত করেছেন। ফি‌রে আসলে প্রয়োজনে পুনরায় স্বাক্ষর করবেন।
তবে নিদিষ্ট ফরমে স্বাক্ষর করার প্রয়োজন হলে তা আবার ইমেইলে  পাঠিয়ে কাযর্ক্রম গ্রহণ কর‌তে হবে।
আমার কাছে মনে হয় মুক্ত অফিসের কোন সুনির্দিষ্ট প্যাটার্ন বলা যাবে না। যে অফিস যেভাবে চাইবে সেভাবে তা‌দের ক‌রে নিতে হবে। মুল আইডিয়া হবে আমরা ঘুরে বেড়াব কিন্তু অফিস চলমান থাকবে। এই চিন্তা করলেই আমরা সমাধান পেয়ে যাব।
আধুনিক যুগে আমরা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে আমাদের জীবন সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্য করা যায়। পরিবারের দায়িত্ব সামাজিক দায়িত্ব ইত্যাদি অনেক দায়িত্বের ভিড়ে আমরা এমনভাবে চাপের মধ্যে থাকি মোটেই ফুসরত পাওয়া যায় না। আমার চাকুরী জীবনে দুইটি শান্তিরক্ষী মিশনের দুই বছর ব্যতীত আমি অদ্যবদি (জানু ২০১৬ পর্যন্ত) সপরিবারে চাকুরীর স্থলে থাকি। অমাদের অনেকেই রাতে অফিস করে ।আমি রাতে অফিস না করেই কাটাতে পেরেছি। প্রয়োজনে ড্রপ বক্স, ভাইবার, এসএমএস, বাংলা টাইপ জানার কারণে বাসায় চিঠির ড্রাফট তৈরি ইত্যাদি বহুবিধ কাজ বাসায় করতে পারায় রাতে অফিস করার প্রয়োজন পড়েনি। আপনি ভ্রমণ রত আছেন জরুরী কোন চিঠি আসল জরুরী উত্তর দেয়া প্রয়োজন। আপনার প্রয়োজন আপনার অফিস সহকারীকে বলা সে যেন ভাইবার বা ড্রপবক্সে চিঠিটা দিয়ে দেয়। আপনি চিঠিটা পড়ে নিলেন ও মোবাইল ফোনের ড্রপবক্স, ভাইবার বা এসএমএস করে আপনার সহকারীকে পাঠিয়ে দিলেন, আপনার সহকারী চিঠি প্রস্তুত করে আপনার জন্য অপেক্ষা করল। আপনি পৌঁছে চিঠি সাইন করে দিলেন। অথবা ডিজিটাল সাইন দিলেন। আপনার প্রতিষ্ঠানের পত্রালাপ যদি জাতিসংঘের মত পেপারলেস ও লোটাস নোটে নিতে পারেন তবে তো কথাই নেই কাগজে কোন কারবারই আপনাকে করতে হল না। মুক্ত অফিস করাটা আপনার ইচ্ছে টেকনোলজি অতি সস্তায় আপনার চারিদিকে বিদ্যমান শুধু ব্যবহার জানতে হবে।

Friday, January 15, 2016

অনলাইন ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন

বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সারা পৃথিবীতে পূরুষতান্তিক সমাজে মেয়েদের নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। বিয়ের রেজিস্ট্রেশন মামলা মোকদ্দমায় বিশেষ করে নারীদের বিশেষ সহযোগিতা করে থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে পুরুষরাও  বিবাহ সংক্রান্ত বিষয়ে সমস্যায় পড়তে পারে। আর তার থেকে উত্তরণের পথ হল বিবাহ রেজিস্টার। আর যেহেতু কাজীরা বিয়ের পূর্বের যাচাই বাছাই করতে হয়, তবে অনলাইন ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন হবে আধুনিক যুগের সমাধার। একটি ঘটনা আজ তুলে ধরছি। ডিসেম্বর ২০১৫ শেষে কুষ্টিয়ায় বিজিবির মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষ করা একজন সৈনিককে চাকরীচ্যুত করতে হয়েছিল। তখন আমি সেখানে চাকুরীরত অবস্থায় অবলোকন করি। কারণ হিসাবে জানা যায়, এই সৈনিকের ভেরিফিকেশনে বিবাহিত হিসাবে পুলিশ তথ্য দিয়েছিল। যদিও ছেলেটার চাকুরী থাকেনি। তথ্যে দেখা যায় ট্রেনিং শুরু হওয়ার পর কাজি অফিসে তার বিয়ে দেখানো আছে কোন একজন মেয়ের সাথে। অথচ মেয়েটি আর একজনের স্ত্রী ও স্বামী সন্তান নিয়ে সংসার করছে। অথচ তিন মাস পর সেই মেয়ের সাথে ডিভোর্স দেখানো আছে। অথচ ছেলেটি বিজিবিতে ট্রেনিংরত ছিল। দালিলিক প্রমাণের কারণে তার চাকুরী রক্ষা করা যায়নি। হয়ত ছেলেটি মামলা মোকদ্দমা করে এ ষড়যন্ত্রের রেহাই পেতে পারে। কিন্তু বিজিবির নেতিবাচক ভেরিফিকেশনের জন্য চাকুরী রক্ষা করা যায়নি। পরে জানা গেছে পূর্ব শত্রুতার জের হিসাবে তার নিকটবর্তী কেউ এভাবে ধাপে ধাপে ঘটনা সাজিয়ে তার চাকুরী নষ্ট করেছে। এটা সম্ভব হয়েছে কাজী অফিসের তথ্যের যাচাই বাছাই করার কোন ব্যবস্থা না থাকার কারণে। অথবা অসৎ কোন কাজি এ বিষয়ে শত্রুপক্ষের সাথে দুর্নীতিতে জড়িয়েছে।
এভাবে যেখানে অবিবাহিত শতে চাকুরী প্রতিনিয়ত মানুষের নানা ষড়যন্ত্র ও তৎপরতায়  অনেকের চাকুরী যাচ্ছে। এর সমাধান কি। বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর জন্ম অনলাইন রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে। অনলাইনে যে কোন শিশুর অনলাইন সনদের নম্বরটি দিয়ে তাদের সনদটি অনলাইনে ভেরিফাই করা যাচ্ছে। একইভাবে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মৃত্যু রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে। এগুলো খুবই ভাল বিষয়। গাড়ীর মালিকানা থেকে শুরু করে যে কোন তথ্য এখন অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। অনলাইন ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন বিষয়টি সরকারের প্রজেক্ট আকারে থাকলেও এখনো তা সকল স্থানে চালু  হয়নি। এটি আসলে অনেক  গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় । একবার আমার অধীনস্থ একজনের স্ত্রী জানল, তার স্বামী তার খোজ খবর নিচ্ছে না ও তার ভরণপোষণে  খরচও দিচ্ছে না। তার স্ত্রী আরো জানাল সে আর একটি বিবাহ করেছে। আমরা তদন্ত দল প্রমাণাদি পেলাম কর্মচারী দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। কিছু সাক্ষীও পেলাম সে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। এমনকি তার বড় ভাইও সাক্ষী দিয়েছে সে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। কিন্তু তদন্ত দল সমস্ত তদন্তের পরেও কেবল মাত্র নিকটস্থ এলাকার কাজী অফিসে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন না পাওয়ায় কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। কারণ কাজি বলল, প্রতিটি জেলা ও এলাকায় বেশ কয়েকজন কাজী আছে। আর দেশের যে কোন জায়গায় গিয়ে যে কেহ বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করতে পারে তাই কারো বিয়ের রেজিস্ট্রেশন তার স্বীয় এলাকায় নাও করতে পারে। সাধারণত বিয়ের রেজিস্ট্রেশনটা মেয়ে পক্ষ করে থাকে। টাকা প্রদান করে ছেলে পক্ষ। মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য মেয়ে পক্ষ সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
আমাদের সমাজে এখনও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বিয়ে চালু আছে।
কারণ কলেমা পড়ে দুইজন সাক্ষী থাকলেই সরিয়া মোতাবেক বিয়ে হয়ে যায়। এখন আমি আদর্শ ও  নিরাপদ একটা পরিস্থিতি বর্ণনা করব। যদি এমন ব্যবস্থা থাকে কেউ বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করার প্রয়োজন হলে কাজীর কাছে গেল। কাজি প্রথমেই পাত্রের জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর দিয়ে ইন্টারনেটে সার্চ করবে। এতে পাত্র পূর্বে বিয়ে করে থাকলে তার তথ্য বেরিয়ে যাবে। একইভাবে পাত্রী পূবে বিয়ে করে থাকলে তার তথ্য চলে আসবে। কাজী পূর্ববর্তী বিয়ের বিষয়ে ও বয়স নিশ্চিত হয়ে রেজিস্ট্রেশন করাতে পারবে। আর এটি তখনই সম্ভব যদি বিয়ে ও ডিভোর্স সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য অনলাইনে থাকে এবং তা সার্চ করে পাওয়া যায়। আর এটা করা বেশী জটিল নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি দম্পতির বিয়েতে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব। বতর্মানে প্রতিটি উপজেলায় ইনফরমেশন সেন্টার আছে। সে সব ইনফরমেশন সেন্টার থেকে কাজীরা অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। এজন্য কাজীরা ল্যাপটপ মোডেম না কিনেও তথ্যাদি অনলাইন করতে পারবে। এটা সম্ভব কারণ স্কুল কলেজের সকল ছাত্র/ছাত্রী বতর্মানে তাদের শিক্ষা বোডের্র রেজিস্ট্রেশন অনলাইনে স্কুল/কলেজ থেকেই কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে করতে পারছে। একইভাবে সপ্তাহে একটা ইউনিয়ন পরিষদে আনুমানিক সাত/আটটি বিয়ে রেজিস্ট্রেশন হতে পারে। আর এই সাত/আটটি বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করতে তথ্য কেন্দ্রে  কয়েক  ঘণ্টা সময় ব্যয় হবে। জন্ম/মৃত্যু রেজিস্ট্রেশনের মত একটি সার্ভার জাতীয় পর্যায়ে তৈরি করতে হবে।  এ সার্ভার আবার জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের সাথে সংযোগ থাকবে যেন পাত্রপাত্রীর আইডি দিয়ে পাত্র/পাত্রীদের তথ্যাদি অনলাইনে ভেরিফাই করা যায়। বিয়ে রেজিস্ট্রেশন সাভারের মধ্যে আর একটি অপশন থাকবে তালাক রেজিস্ট্রেশন। এটা  ম্যারেজ সাভারের সাথে সংযুক্ত থাকবে। এতে সুবিধা যেটা হবে তা হল, জাতীয় আইডির বিপরীতে যে কোন তথ্য সহজে যাচাই বাছাই করা যাবে।
বিবাহ রেজিস্টারের জন্য একটা ফরম ব্যবহার করা হয়। সম্পূর্ণ  ফরমটি কাজীরা পূরণ করে তাদের নথিতে লিপিবদ্ধ করে থাকে এবং তারা প্রতিটি বিয়ের অনুকূলে সরকার প্রদত্ত ট্যাক্স পরিশোধ করে থাকে। তাদের নথির সম্পূর্ণ ফরমটি অনলাইনে থাকতে পারে। কাজীরা অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের কাজের চাপ কমানোর জন্য বর বা কনে পক্ষ বর বা কনের তথ্য অনলাইনে দিয়ে  ড্রাফট কপি দিবে। কাজী ড্রাফট কপি অনলাইনে সম্পূর্ণ চেক করে বিয়ের রেজিস্ট্রি  চালান দাখিল করে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন  কনফার্ম করবে।
অনলাইন রেজিস্ট্রেশন চালু হলে পুরানো বিয়ের কেসগুলোও আপডেট করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিবে। পুরাতন রেজিস্ট্রেশনগুলো সরকার আলাদা বরাদ্দ দিয়ে কাজীদের দিয়ে করানো যাবে। দেশের সকল স্থানে প্রচারণা চালাতে হবে। এতে পূর্বের যাদের  বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়েছে তারাও  কাবিননামা গুলো পুনরায় অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করে নিবে। এতে হয়ত প্রাথমিকভাবে বেশী রেসপন্স পাওয়া যাবে না। পরে ধীরে ধীরে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন বাড়তে থাকবে। আজকাল সমস্ত কিছু অনলাইনে বুকিং হয় তো অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন হয়ে থাকে। এত ব্যবস্থা থাকতে বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন হবে না তা মানা যায় না। বিয়ের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন পারিবারিক বিরোধ  দূর করবে। বিবাহ সংক্রান্ত মামলা মোকদ্দমা হ্রাস পাবে। অনেক পুরুষের প্রতারণা হ্রাস পাবে।এটা করতে সরকারের যে পরিমাণ টাকা খরচ হবে তার চেয়ে বেশী সরকারের টাকা সাশ্রয় হবে পারিবারিক বিরোধের মামলা কমে যাওয়ার কারনে। এছাড়া  বিয়ে সংক্রান্ত টাকা কাজীরা যথাযথভাবে সরকারী কোষাগারে জমাদানে বাধ্য হবে এবং তা অনলাইনে চেক করা যাবে। কাজীরাও বিয়ে সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়ে জবাবদিহিতার মধ্যে আসবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিয়ে ও ডিভোর্সের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন বাস্তবায়ন হলে তা জাতীয় জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।