Pages

Thursday, June 2, 2016

ছাদে সোলার প্যানেল প্রয়োজন না ছাদ বাগান

সারা পৃথিবীব্যাপী ছাদে সোলার প্যানেল লাগিয়ে গ্রিন এনার্জি উৎপাদন একটা আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। আমাদের বাংলাদেশেও এ আন্দোলনের আচ লেগেছে। অনেকেই বাড়ীর ছাদে পাওয়ার স্টেশন বসাচ্ছেন। সোলার প্যানেলের জন্য জমি নষ্ট না করে ছাদে সোলার প্যানেল অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে। ছাদের উপর প্যানেল বসালে ছাদ ঠাণ্ডা থাকবে আর এই দালানের কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন করে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যাবে।
তবে প্রশ্ন হল ছাদে বাগান করা যায় আবার সোলার প্যানেলও লাগানো যায়। কোনটা বাংলাদেশের শহরগুলির জন্য প্রযোজ্য। জ্ঞান বিজ্ঞানের এই যুগে ছাদে বাগান। মরুভূমিতে বাগান। বরফে বাগান। পানিতে বাগান। কোনটাই কোন জটিল নয়। প্রয়োজন কেবল উদ্দোগ নেয়া। সারা পৃথিবীর জলবায়ু উষ্ণ হয়ে যাচ্ছে। আমরা হয়ত পৃথিবী বিচরণ করে গেলাম। আমাদের বংশধররা কি এই উষ্ণ পৃথিবীতে জীবন ধারণ করতে পারবে? আমরা আমাদের জীবনের কথা ভাবি। বাকী দিনের কথা না ভাবলেও চলবে। ২০৫০ সালে আমার বয়স আশি হবে। যদি বেচে থাকি তবে পৃথিবীর উষ্ণতা কেমন হবে ভেবে রীতিমত ভয় লাগে। নদীনালা ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে। পুকুর খালে পানি কমে যাচ্ছে। পৃথিবীর পানির স্তর ক্রমে নীচে চলে যাচ্ছে। তবে আমাদের উপায় তাহলে কি?
ঘন বসতিপূর্ন শহরগুলোতে ছাদগুলো আমরা অনেকভাবে ব্যবহার করতে পারি। কাপড় শুকানোর জন্য। বিকালে পায়চারী করার জন্য। সোলার প্যানেলের বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে আমার কাছে মনে হয় ছাদ এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার না করে গাছ লতাপাতা উৎপাদনে ব্যবহার করা অতি উত্তম একটি বিষয় হবে।
কোন কোন দেশে ছাদে গ্রিনারী লাগানো বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে এই উপদেশ কেউ শুনবে না। অনেক দেশে যারা ফ্লাটে বসবাস করে তারা চাইলে সরকারী অব্যবহৃত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বা নিজের জন্য চাষাবাদ করতে পারে। বাগান করা স্বাস্থ্য ভাল রাখার একটি হবি। ছাদে বাগান তারাই করেন যাদের বাগান করার তীব্র আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু মাটিতে কোন স্থান নেই। তারাই ছাদে বাগানে এগিয়ে যায়। আমি আগে সব সময় ভাবতাম আমাদের দেশের সকল ছাদের উপর সোলার প্যানেল লাগাতে হবে। কারণ দেশে বিদ্যুৎ এর ঘাটতি রয়েছে। পরিবেশ নিয়ে স্টাডি করে ও ছাদ বাগান নিয়ে স্টাডি করার পর আমার কাছে মনে হয় ছাদ বাগান শহরের জন্য এসওএস আন্দোলন।
ছাদে বাগান সবাই পছন্দ করবে তা কিন্তু নয়। ছাদে বাগানে বেশ কষ্ট আছে। ছাদ লীজ নেয়াটা লাভজনক করা অত্যন্ত প্রয়োজন। ছাদে বাগানের প্রথম সমস্যা হল বিনিয়োগ কৃত মূলধন সাধারণত উঠানো যাবে কিনা এটা প্রথম সমস্যা। মনে করি একটা বার মাসের আমড়া গাছ টবসহ ৫০০ টাকা। এখন যত্ন ও পৃচ্ছা করার পর তাতে ৫০০ টাকার আমড়া এক/দুই বছরে পাওয়া যাওয়াটা ভাবনার বিষয়। এককভাবে বাগান করাটাকে তাই লাভজনক করাটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এর মধ্যে আমাদের দেশে অনেকেই ছাদ বাগান লাভজনক করেছেন। ছাদ বাগান লাভজনক মনে হয় বাগানের পোডাক্ট থেকে হয়নি। যা হয়েছে তা মূলত বাগানের কলমের চারা ইত্যাদি বিক্রয় করে। বাড়ীর আঙ্গিনায় গর্ত করে দুটো বীজ লাগিয়ে দিলে যেভাবে উৎপাদন পাওয়া যায় সেভাবে টবে চাষ হয় না। টবে চাষ নিয়ম মেনে যথেষ্ট পরিমাণ জ্ঞান নিয়ে করতে হয়। প্রতিটি কার্যক্রম সর্তকতার সাথে করতে হয় তবেই তা লাভজনক হয়। ছাদ বাগান থেকে যে লাভটা আমরা পাব তা টাকার অংকে বিচার করে কোন ফলাফল পাব না। কিন্তু আমরা যদি পরিবেশ বাচাও আন্দোলনের যুদ্ধের অনুভূতি নিয়ে বিচার করি তবে আমরা ছাদে বাগান করার সার্থকতা খুঁজে পাব। আমরা সাধারণ বিষযুক্ত ও রাসায়নিক সারে উৎপাদিত শাক সবজি খাই। এখানে আমাদের কাছে বেশ বড় একটি ব্যবস্থা রয়েছে। আর তা হল। অর্গানিক ও বিষমুক্ত খাবার খাওয়া। এতে আমাদের নিজেদের বিষমুক্ত খাবারের ঝুঁকি থেকে আমরা মুক্ত থাকব। ছাদে বাগান করার কারণে বাগানের টবের মাটি তৈরি। পানি দেয়া। ফসল তোলা। বাগানের পরিচর্যা ইত্যাদি কাজ করলে শরীর হালকা পরিশ্রমের মধ্যে থাকে। এতে শরীর ও মন ভাল থাকে। অতি সম্প্রতি বাতের বা অরথ্রাইটিস এর ডাক্তার গন বাতের চিকিৎসায় বাগান করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আর রোগ থেকে বাচতে আমাদের জায়গা না থাকলে ছাদটুকুই ভরসা। আমাদের দেশের মানুষ ধীরে ধীরে সচেতন হচ্ছে। আমাদের দেশের কিছু ভলান্টিয়াররা ছাদে বাগান করে দিচ্ছে। আমাদের অনেক সৌখিন বাগানিরা ছাদ বাগান তৈরি করতে তাদের সহযোগিতা গ্রহণ করছেন। আমার মনে হয় সেই দিনটি আর বেশী দুরে নয় যখন আমাদের কোন ছাদ পড়ে থাকবে না। আমার ছোট বেলায় আমার বাবা বছরে কয়েকবার শহর থেকে গ্রামে যেতেন। তখন বাবাকে দেখতার শুধু গাছ লাগাতেন। আজ অনেক বছর পর এসে দেখছি গ্রামের মানুষকে আর গাছ লাগাতে বলতে হয় না। তারা বাড়ীর আসে পাশে কোন জায়গা খালী রাখছে না। শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার একসময় কোন ছাদ খালী পাওয়া যাবে না। সরকার বাড়ীর মালিকদের বিনামূল্যে চারা, টব ও কম্পোষ্ট দিয়ে ছাদ বাগানের আগ্রহ বাড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। পরিশেষে সোলার প্যানেল নয় বরং ছাদ বাগান হোক নগর জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম। ঢেউ টিনের ছাদ থেকে শুরু করে যেসমস্ত ছাদে ছাদ বাগান করা যায় না সেগুলো ব্যবহার হোক সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনে। ছাদ বাগান সফল হবে এবং বাঁচবে আমাদের পরিবেশ এটাই সকলের কাম্য।

Thursday, May 26, 2016

রেল টপ সোলার সিস্টেম

বাংলাদেশের মানুষের জমি কম। সিংগাপুর ও হংকং এর ঘনবসতির কাছাকাছি বাংলাদেশের অবস্থান। জার্মানি, জাপান, চীন ও ভারত সোলার বিদ্যুৎ তৈরিতে মাইল ফলক সৃষ্টি করেছে। আমাদের দেশের সরকার শীঘ্রই সৌর শক্তি হতে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে বলে আলোচনা শোনা যাচ্ছে। সরকার এ লক্ষ্যে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য জমি সংকট। রুফটপ সোলার সিস্টেম থেকে রুফটপ গার্ডেন অনেক বেশী ভাল। এতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। ছাদে বাগান পরিবারের স্বাস্থ্য উন্নয়নে সরাসরি কাজে লাগে। তাই সিমেন্টের ছাদে সোলার প্যানেল নয় বরং রুফটপ গার্ডেন বেশী প্রয়োজন। ছাদে সোলার বসালে তার রক্ষণাবেক্ষণ আরেক ঝামেলা। তার চেয়ে রুফটপ গার্ডেনের কাজে ব্যবহার করে শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ছাদের মধ্যে টিনের ছাদ বা স্লোপ ছাদ অবশ্যই সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনে অনেক কাজে লাগাতে হবে। যে ছাদ বাগানে ব্যবহার করা যাবে না তা সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করতে হবে। ছাদ বাগান অথবা সোলার দুইটির কোন না কোন কাজে আমাদের ছাদগুলো বা চালগুলো ব্যবহার করতে পারলেই আমাদের ঘন বসতির দেশের জমির ক্রম বর্ধমান সংকট আমরা নিরসন করতে পারব। জনসংখ্যাও কমানোর পদক্ষেপ জরুরী।
বাংলাদেশে লোকের জমি অনেক কম তাহলে আমাদের সোলার লাগানোর স্থান কোথায়। আমাদের এখনো জমি নষ্ট না করে আমরা সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি। আমাদের দেশের যত স্থান দিয়ে রেল লাইন চলে গেছে সমস্ত রেল লাইনের উপর দিয়ে আমরা সোলার প্যানেল বসাতে পারি। সড়কের উপর বসানো যাবে না কারণ সড়কের ভিতর দিয়ে চলাচল রত গাড়ীকে নিদ্দিষ্ট উচ্চতা সাধারণত বেধে দেয়া হয় না। তাই সড়কের উপর আপাতত সোলার প্যানেল নয়। ট্রেনের উচ্চতা কম। সাধারণ ট্রেনের ছাদের উপরে আমাদের দেশে কিছু যাত্রী সাধারণত যাতায়ত করে । এ সকল যাত্রীকে ট্রেনের উপর ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়ত করতে না দেয়াই ভাল। তথাপিও নিদ্দিষ্ট উচ্চতার উপর আমরা সোলার প্যানেল বসানো যাবে। আমাদের দেশে সাধারণত সকল জমিতে কমপক্ষে একটি বা একাধিক চাষাবাদ সকল সময় হচ্ছে। সোলার প্যানেল বসানোর জন্য অনাবাদী জমি পাওয়া অত্যন্ত দূরুহ ব্যাপার। তাই আমাদের জমি খোজ করতে হবে। বাড়ীর ছাদে, ট্রেনের লাইনের উপর, খালের উপর, অনাবাদী চর এলাকা ও অল্প পানিযুক্ত উপকুল এলাকা। বিলের নিচু এলাকায় পিলার বসিয়ে সোলার লাগানো যাবে। বাড়ীর ছাদে আমরা রুফটপ গার্ডেন করব। তাই রেললাইনের উপর অথবা ক্যানেল টপ আমাদের জন্য জমি নষ্ট না করে সোলার প্যানেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ভাল অপশন।
ব্রিটেনের লন্ডনে নদীর উপর একটি রেলের ব্রিজ সোলার প্যানেল দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে আর তাতে নিকটবর্তী রেল স্টেশনের ৫০% বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যাচ্ছে। বেলজিয়ামের জংগলের মধ্য দিয়ে দুই মাইলের একটি টানেলের উপর বনের গাছ সাধারণত ভেঙ্গে পরত ও প্রায়শই রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হত। এ কারণে সেদেশের রেলের কর্তৃপক্ষ দুই মাইল টানেল ৪৪০০০ সোলার প্যানেল দিয়ে ঢেকে দেয়। এতে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় তা দ্বারা নিকটবর্তী এলাকার বিদ্যুৎ এর চাহিদা পূরণ হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাদের মনো রেল লাইনের উপরের ছাউনি সোলার প্যানেল দ্বারা তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এতে করে তাদের মনো ইলেক্ট্রনিক ট্রেন চালানোর বিদ্যুৎ চলে আসবে সোলার প্যানেল থেকে। অনেক দেশ আবার পূর্ণ সোলার প্যানেল আচ্ছাদন না করে দুইপাশে বা একপাশে বেড়ার মত করে সোলার প্যানেল লাগানোর ব্যবস্থা করেছে।
বাংলাদেশে আমাদের যে বিস্তর রেললাইন রয়েছে তা আমাদের মত ঘন বসতির দেশে সোলারের কাজে ব্যবহার করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একপাশে অথবা দুইপাশে পিলার বসিয়ে সোলার প্যানেল দিয়ে ক্রমান্বয়ে রেল স্টেশনগুলো ঢাকতে পারি। রেল স্টেশনগুলোর বিদ্যুতের চাহিদা আমরা স্টেশনের উপরের প্যানেল ও আশে পাশে প্রয়োজন মোতাবেক প্যানেল বসিয়ে পূরণ করতে পারি। প্রথম ধাপে আমরা ছোট ছোট রেল স্টেশনগুলো সোলার প্যানেল দিয়ে ঢেকে আমরা পাইলট প্রজেক্ট করতে পারি। তারপর মাঝারী মাপের স্টেশনগুলো সৌর বিদ্যুতের আওতায় আসতে পারে। পরে বড় বড় স্টেশনগুলো সোলার প্যানেলে ঢাকা যাবে। যেসব বিদ্যুৎ বিহীন অঞ্চল দিয়ে রেললাইন চলে গেছে সেসকল এলাকার রেললাইনের উপর ছাউনি আকারে সোলার প্যানেল লাগিয়ে বিদ্যুৎ বিহীন এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ দেয়া যেতে পারে। এভাবে গোটা রেললাইনকে সোলার প্যানেলের ছাদ দিয়ে ঢেকে দেয়া যায়। সাধারণ প্রতি কিলোমিটারে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে আমার সম্পূর্ণ দেশে ইউকিপিডিয়ার তথ্য মোতাবেক ৪৪৪৩ কিলোমিটার রেল লাইন ও ৪৪৪ রেলস্টেশনের উপর আনুমানিক ৫০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। যা কিনা বাংলাদেশে ২০২১ সালে ২১০০০ মেগাওয়াট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় চার ভাগের একভাগ হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সূত্র মতে তাদের ৩১ হাজার ৮৬০ একর জমি রয়েছে। যদি রেলওয়ের জমি সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা যায় তাতে জায়গা ভাড়া দিয়ে বাংলাদেশের মৃতপ্রায় রেলওয়েকে সবল করা যাবে। রেললাইনের উপর সোলারের মেগা প্রজেক্ট ১০ মেগাওয়াট করে ভাগ করে করে ছোট ছোট অনেক প্রতিষ্ঠানকে দেয়া যেতে পারে। এতে গ্রিন পাওয়ার ব্যবসায় আরো অনেক ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসবে ও গ্রিন এনার্জির ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে। সোলার প্যানেলের নীচে বিশেষভাবে ব্যবস্থা করে নিলে রেইন ওয়াটার হারবেস্টিং করা যাবে ও তা রেল রাস্তার নিকটবর্তী মানুষের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা হতে পারে।
রেলে যাত্রীরা কি সুবিধা পাবে এ আলোচনায় আসা যাক। প্রথমত: ট্রেন যাত্রীরা প্রখর রোদের ও গরমের থেকে রক্ষা পাবে। ট্রেন রোদে কম উত্তপ্ত হওয়ার কারণে ট্রেনের এসি কম্পার্টমেন্ট ও অন্যান্য কম্পার্টমেন্টে কম বিদ্যুৎ খরচ হবে। গাছ পালা ভেঙ্গে ট্রেনলাইন ব্লক হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।
তবে সবুজ এনার্জি ব্যবহারে ট্রেনলাইনের ব্যবহার হবে পৃথিবীর অগ্রগামী পদক্ষেপের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। রেললাইনের উপর সোলার প্যানেল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে জমি সংরক্ষণ ও সবুজ এনার্জি ব্যবহারে যুগান্তকারী ও প্রগতিশীল দেশ হিসাবে মর্যাদার আসনে দাঁড়াবে। আমরা সকলে বাংলাদেশের সবুজ শক্তির বিপ্লবীয় দিনগুলো দেখার আশায় থাকলাম।


Thursday, May 19, 2016

লেখালেখি কি একদম মূল্যহীন

আমি নিয়মিত লেখালেখি করার চেষ্টা করি। একবার আমাকে আমার একজন সহকর্মী বলেছিল, আপনার এই লেখালেখি করে কি লাভ। আপনার এই লেখা কে পড়বে। সময় নষ্ট করে কি আপনার কোন উপার্জন হচ্ছে। আমিও এই সহকর্মীর সাথে একমত আমার লেখা কে পড়বে। আমি একটি গুগলের ব্লগ স্পটের ওয়েব সাইটে আমার লেখাগুলি সংরক্ষণ করছি। অবাক করা বিষয় হলো দুই বছরের মধ্যে আমার সাইটিতে হিট প্রায় দশ হাজার অতিক্রম করতে যাচ্ছে। কেউ পড়ে না বিষয়টা মানতে পারছি না। হতে পারে এই লেখালেখি করে আয় করতে পারছি না। আমি আমার লেখালেখি থেকে মূলত আয় করার চিন্তায় কখনো লিখিনি। আয় হবে এটাও ধারনায় রাখি না। আমি বাংলাদেশের উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরিশাল ক্যাডেট কলেজ থেকে পড়াশোনা করেছি। ভাল রেজাল্ট করেছি। সারা জীবন বিনোদন হিসাবে পড়াশোনাকে বেছে নিয়েছি। জীবনের প্রতিটি বিষয়ে নিজেকে এত বেশী জ্ঞান চর্চার মধ্যে রাখি, মাঝে মাঝে মনে হয়, পড়ার ও নতুন নতুন সৃষ্টির অন্বেষণে সময় ব্যয় না করে আমি যদি টাকা অর্জনের পিছনে করলে ভাল হত। সম্পদশালী হতে পারতাম। তবে কেন ছাইপাশ লিখে দিনের পর দিন টাইপ করে সময় নষ্ট করছি। আসলে এসময় নষ্ট করাটা কি কাজের। কোন টাকা পয়সা নেই। শুধু সময় নষ্ট। শখের কাজে মনে ভাল অনুভূতি তৈরি হয়। সব সময় টাকা পাওয়া যাবে এ ধারনাটা হয়ত সঠিক নয়।
আমি আমার বড় ছেলে রাশিদ বিশিষ্ট কম্পিউটার এক্সপার্টকে বলে রেখেছি। কোন কারণে আমার অকাল প্রয়াণ হলে আমার  লেখাগুলি থেকে বাছাই করে আমার নামে একটা বই ছাপাবে। আমার নামে একটা ওয়েবসাইট বানাবে বা এই ব্লগ স্পট মেন্টেইন করবে বা নতুন কোন সাইটে রিহোস্ট করবে। আমার সহকর্মীর কথায় আমি মর্মাহত হলেও আমার জন্য ভাল  লাগার বিষয় আছে। আমার নানা রকম মতের ও অনুভূতির লেখাগুলো ইন্টারনেটে বাংলায় সার্চ করে অনেকেই পাচ্ছেন। ইদানীং গুগুলে বাংলার সার্চ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই ইউনিকোডে বাংলা টাইপ করতে পারছেন। তাই দিনের পর দিন টাইপ করে লিখে যাওয়া আমার পংতিগুলো বিশাল এই ইন্টারনেটের গ্লোবাল জগতে খুঁজে পেতে লাগছে একটু সময় আর কয়েকটি ক্লিক। টাচ মোবাইলের কয়েকটি টাচ।
তবে কি আমার লেখার পিছনে সময় ব্যয় করাটা অপচয়। আমার লেখার পিছনে যে অতিরিক্ত সময়টা বিনিয়োগ আমি করছি তার জন্য আমাকে বেশ শক্ত একটা কাজ করতে হচ্ছে। আর তা হল সবচেয়ে মজাদার ও সহজ বিনোদন টিভি দেখা প্রায় ছেড়ে দিয়েছি। টিভি না দেখে চিন্তা ভাবনা করে একের পর এক শব্দ কম্পিউটারে টাইপ করে যাচ্ছি। শুধু মনের ইচ্ছেটুকু পূর্ণ করার জন্য। মাঝে মাঝে বেশ দিন কিছু লিখতে পারি না। উদাসভাবে ঘুরতে থাকি। কিন্তু আইডিয়া আর আসে না।
আমার খুচরো লেখার অনুভূতি হল। প্রতিটি শব্দ টাইপ করে আমি যেন প্রতিটি শব্দের জন্য অর্থ অর্জন করছি। যা নাকি জমাচ্ছি। এক সময় এটা ভাঙ্গিয়ে আমার প্রয়োজনীয় কিছু ক্ষুদ্র সুখ ও স্বস্তি ক্রয় করব।
আমার অনুভূতি হল কাজে লাগুক বা নাই লাগুক প্রতিটি ভাল কাজের জন্য এই প্রকৃতিতে রিটার্ন রয়েছে। আর এ রিটার্নটা আমার জীবনকালেও পেতে পারি বা মরনোত্তরও পেতে পারি। প্রতিটি লেখার ৫০০ হতে ১০০০ শব্দের আমার এই প্রয়াস শুধুই আমার মনের অনুভূতি গুলোর প্রকাশ।
আমি অনেক বিষয়ে অনেক পড়ার ও জানার পর আমার কিছু করতে ইচ্ছে করে। তখন আমার সেনা চাকুরী আমার ইচ্ছে গুলো বাস্তবায়নে বিরাট বাধা দেয়। তাই ধারনাগুলো যেন মরে না যায় বা ভুলে না যায়। লিখে রাখি। অতি দ্রুত চাকুরী হতে অবসর নিয়ে পরিকল্পনাগুলো হতে যাচাই বাছাই করে কোন একটি কাজ নিয়ে লেগে পড়া যাবে। অনলাইন একটা পত্রিকা চালু করার আমার খুবই ইচ্ছে আছে। ক্যাডেট কলেজে থাকতে আমি ফটোকপি করে একটি পত্রিকা তৈরি করি। পত্রিকাটির নাম ছিল চন্দ্র দ্বীপের চিঠি কুষ্টিয়ায় বিজিবিতে চাকুরীরত অবস্থায় আমি কুষ্টিয়ার বিজিবি পাবলিক স্কুল ও কলেজের জন্য এবং প্রাইমারী স্কুলের জন্য পত্রিকা বের করতে সমর্থ হই। এর জন্য মত বিনিময় করে অবিভাবকদের মত নিয়ে তাদের খরচে বাৎসরিক ম্যাগাজিন বের করতে সক্ষম হই।

তাই রিটায়মেন্টের এলপিআর পিরিয়ড থেকেই অনলাইন পত্রিকার কাজটা শুরু করা যাবে। এর পর সামর্থ্য ও আর্থিক সংকুলানের মাধ্যমে একের পর আমার সঞ্চিত আইডিয়া গুলো বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাব। আমি সেই সুন্দর দিন গুলির সময় গুনছি যখন সবাইকে আরো কিছু ভাষা কর্ম ও মানবীয় নানা কল্যাণকর কাজ উপহার দিতে পারব।


Thursday, May 12, 2016

কী-হোল গার্ডেন

আফ্রিকার জন্য ব্রিটিশ বেইজ এনজিওদের আবিষ্কার হল কী-হোল গার্ডেন। কী-হোল গার্ডেন হল ছয় ফুট ব্যাসের আনুমানিক দুই ফুট উচ্চতার একটি রেইজ বেড গার্ডেন যার মাঝে একটি কম্পোস্ট বিন আছে।ইন্টারনেটে Key hole Garden লিখে সার্চ দিলে এটির তৈরি প্রক্রিয়ার ভিডিও পাওয়া যাবে। আমার মনে হয় ইন্টারনেটের ইউটিউবে কী-হোল লিখে সার্চ দিলে এই বাগান তৈরির প্রক্রিয়া বিস্তারিত পাওয়া যাবে। এ ছয়ফুট ব্যাসের গোলাকার এই বাগানে মাঝে কম্পোস্ট ফেলার স্থান অনেকটা গোল এগ পুডিং থেকে এক স্লাইস কেটে নেয়ার মত। উপর থেকে দেখলে মনে হবে তালার চাবির গর্তের আদলে একটি রূপ তার জন্য এর নাম কী-হোল গার্ডেন। আমি এই লেখায় চিত্র সংযুক্ত করলাম ইন্টারনেট থেকে তৈরি প্রক্রিয়ার ছবি দেখে নিতে পারবেন।
Link: http://www.inspirationgreen.com/keyhole-gardens.html



যেসব স্থানের মাটি উর্বর নয় ও পানির সংকট সেসব স্থানে এ ধরনের গার্ডেন বেশ কার্যকরী। আমি কী-হোল গার্ডেন সম্পর্কে জানতে পারি ইউটিউব একটি ভিডিও দেখে ভিডিওটি তৈরি করেছে বিবিসি যা কিনা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের আইলা বিধ্বস্থ এলাকা নিয়ে। সেসব এলাকায় লবণাক্ত পানির জন্য বাড়ীর আশে পাশে ফসল উৎপাদন অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল। আর এ কষ্ট দূর করার একটা ব্যবস্থা হল এই কী-হোল গার্ডেন। এ ধরনের গার্ডেনে সার দিতে হয় না। পানি কম লাগে। উঁচুতে হওয়ার কারণে বন্য পশুতে নষ্ট করতে পারে না।
আফ্রিকার স্কুল গুলোতে বাচ্চাদের এ ধরনের বাগান স্কুলে করিয়ে দেখানো হয়। এমনকি অনেক স্কুলে এ ধরনের বাগান স্কুলে নমুনা স্বরূপ রাখা হয় যেন বাচ্চার দেখে শিখতে পারে ও বাড়িতে বানাতে পারে। এতে রান্না ঘরের উচ্ছিষ্ট কম্পোস্ট তৈরি করার জন্য প্রতিনিয়ত ঢালা হয়। কম্পোষ্ট পচে ধীরে ধীরে নীচ দিয়ে কী-হোল গার্ডেনে নিয়মিত ছড়িয়ে যেতে থাকে। কী-হোল গার্ডেনে মাঝের কম্পোস্ট বিনেই রান্না ঘরের গ্রে ওয়াটার দেয়া হয়। এছাড়া বেডে কোন পানি দেয়া হয় না। বেডের গাছের শিকড় বেডে পানি না পেয়ে নীচে শুকনো ঘাস ও লতা পাতা দেয়া ভেজা স্তর থেকে পানি শোষণ করে। এভাবে খড়া বা শুকনো সময়ে একদম কম পানিতে গাছ বেচে থাকতে পারে।
তবে কী-হোল গার্ডেন বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরের একাধিক থাকতে পারে। এটা শুধুমাত্র রান্না ঘরের ওয়েস্ট প্রডাক্ট দ্বারাই চালু রাখা যাবে। আবার রান্না ঘরের ধোয়া বাছার পানি দিয়ে সেচ করেই এগুলোতে সবজি ফলানো যাবে। তাই আমাদের দেশের প্রতিটি রান্না ঘরের আশে পাশের পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য এ ধরনের বাগান বেশ কার্যকরী। আমি ছোট বয়স থেকে দেখছি আমার মা সাধারণত রান্না ও অন্যান্য ময়লা বড় গর্ত করে ফলতে থাকেন। সাধারণত দুই তিন মাস পর গর্ত পূর্ণ হলে নতুন গর্ত খুড়িয়ে নেন। পুরাতন গর্ত মাটি দিয়ে ভর্তি করিয়ে নিতেন। সেই ভর্তি গর্তে লাউ,সিম,মিষ্টি কুমড়া ও চাল কুমড়া ইত্যাদি লতা জাতীয় গাছ লাগিয়ে দিতেন। একটি বা দুইটি লতা গাছে এত সবজি ধরত তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। এখনও অনেককে দেখি সাধারণত গ্রাম এলাকায় ময়লা ফেলার স্থানে একপাশে লাউ, কুমড়া ইত্যাদি লাগিয়ে দিতে। এখন আমার কাছে মনে হচ্ছে আমরা ময়লার ডেপোর পাশে গাছ না লাগিয়ে কী-হোল গার্ডেন বানিয়ে নিলে আমরা রান্না ঘরের বর্জ্য ডানে বামে না ফেলে কী-হোল গার্ডেনে ফেলে পরিবেশ ভাল থাকবে। ময়লা কম্পোস্ট হয়ে অর্গানিক সবজি উৎপাদনে কাজে লাগবে।
ময়লা কম্পোস্ট তৈরি করার ব্যবস্থা হওয়ায় বাড়ীর আশে পাশে লিটারিং বা ময়লা যেখানে সেখানে ফেলে পরিবেশ দূষণের ভয় থাকছে না। পরিবেশ সুন্দর করে রাসায়নিক সার ক্রয় না করে গৃহ স্থলীর ময়লা চারপাশে না ফেলে চমৎকার পদ্ধতিতে বাগান করার অনন্য দৃষ্টান্ত এটি।

কী-হোল গার্ডনে আমরা লাউ, কুমড়ো, শসা, করল্লা ইত্যাদি লতা জাতীয় গাছের পাশাপাশি ঢেঁড়স,বেগুন ও টমেটো লাগাতে পারি। আমাদের রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী আমরা সবজির আবাদ করতে পারি। সাধারণত এই মূল্যবান প্রক্রিয়ায় আমরা ফল গাছ লাগাব না। মাটির ব্যবহার কম হওয়ায় ও মাটি উত্তপ্ত থাকায় এই কী-হোল গার্ডেনে আমরা শীতের সবজি শীত শেষ হওয়ার পরও চাষাবাদ করতে পারি। আবার গ্রীষ্মের সবজি গ্রীষ্ম শেষ হওয়ার পরও আমরা চাষাবাদ করতে পারি। এই বাগান মাটি ও আবহাওয়ার বিরূপ অবস্থায় গাছের অনুকূলে থাকে। যেমন বিরূপ আবহাওয়ায় শিকড় গভীরে যায় ও মাটির গভীরের লতা পাতা ও কম্পোষ্টের স্তর থেকে পানি ও খাদ্য নিয়ে থাকে। এতে মাটি রুক্ষতা ও আবহাওয়ার বিরূপতায় এর কোন ক্ষতি হয় না।বাংলাদেশের জৈব সার তৈরির প্রকল্পের মত আশে পাশের ডালপালা ও ইট-পাথর ব্যবহার করে এটা তৈরি করা যেতে পারে। এমনটি দুইজন লেবার নিয়ে এটা তৈরি করে সবজি সংগ্রহের মাধ্যমে কিস্তি পরিশোধ করা যেতে পারে। ইট সিমেন্ট দিয়েও এটা সেমি পার্মানেন্ট ভাবে তৈরি করে নেয়া যায়। এটি এক দুই বছর পর পর মাটি ও কম্পোস্ট নাড়াচাড়া দিয়ে পুনরায় সব সেট করে নিলেই চলবে। বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের প্রতিটি বাড়ীতে একটা করে কী-হোল গার্ডেন তৈরি করা গেলে এটা আমাদের আর্থিক ও স্বাস্থ্য উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে এ আশাই ব্যক্ত করছি।

Thursday, May 5, 2016

নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ

পৃথিবীর অনেক দেশে নাকি বিদ্যুৎ যায় না। এটা শুনতে একটু অবাক লাগে। যে সব দেশে বিদ্যুৎ যায় না তাদের বিষয়ে জানলে একটু অবাক হতে হয়। বিদ্যুৎ যায় না মানে হয়ত মাসে একবার দুইবার ম্যান্টেনেন্সের জন্য বলে কয়ে এক দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকাটা গ্রহণ যোগ্য। কিন্তু বিনা নোটিশে প্রতিদিন দুই/তিনবার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করলে সত্যিই সমস্যায় পরবেন। যারা আইটি ও কম্পিউটার নিয়ে কাজ করেন তাদের বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। তাই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এর জন্য আমাদের বিনিয়োগ কিন্তু উল্লেখ করার মত। জেনারেটর, আইপিএসও ইউপিএস। তার সাথে আবার এসব যন্ত্রপাতির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের একটা চাপ থেকেই যায়। এখন লোডশেডিং মুক্ত যদি আমরা হতে পারলে আমাদের আর বিদ্যুৎ ব্যাকআপ এর যন্ত্রপাতি ক্রয় করার প্রয়োজন হত না। বলা যায় বিনিয়োগের প্রায় ৩০% টাকাই সাশ্রয় হয়ে যেত। এভাবে যদি গোটা দেশের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকার জন্য একটি দেশের হাজার হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ ব্যাকআপ যন্ত্রপাতির বিনিয়োগ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। আর এই হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করে তা আরো বেশী উন্নয়নে খরচ করা যাবে। পাওয়ার যে কোন যন্ত্রের বা ডিভাইসের চালিকা শক্তি। তাই এই চালিকা শক্তি নিরবচ্ছিন্ন করতে পারলে সাফল্য ধরে রাখাটা অতি সহজ।
বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন করলেন। তারপর আর কি প্রয়োজন। ২০১৬ এসে আমরা দেখছি ভয়েজ, ভিডিও ও ডাটা সমস্ত কিছুই পারাপার হচ্ছে অপটিক্যাল ফাইবারে। বাংলাদেশের মত ঘন বসতির দেশে অপটিক্যাল ফাইবার টানার স্থান গুলোই হল আমাদের রাস্তার পাশ দিয়ে। এই লাইনগুলো এখন ইন্টারনেট ও ভয়েস কল সবকিছুরই চালিকা শক্তি। এই অপটিক্যাল ফাইবার লাইনগুলো প্রতি মাসে একাধিকবার কাটে। এখন অবশ্য লাইন কাটলে একদম নিদ্দিষ্ট দূরত্বে কাটার স্থান আমরা বের করতে পারি। তাই অপটিক্যাল লাইন কাটলে তা বের করতে তেমন বেগ পেতে হয় না। কিন্তু কাটা তারগুলি জোড়া দিতে মাটি খুড়ে অপটিক্যালের কাটা স্থান বের করে একটার পর একটা ফাইবার জোড়া দিতে হয়। এতে যত তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করুক না কেন সর্বনিন্ম তিন/চার ঘণ্টা ও একদিন লেগে যায়। এভাবে মাসের অনেকটা দিন ইন্টারনেটে সমস্যা দেখা দিলে যারা ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল হয়ে বিভিন্ন কাজ করেন তারা সত্যিকার অর্থেই সমস্যায় পড়ে যান। আমি একবার একজনকে ওয়াইফাই এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য তিন হাজার টাকার প্রিপেইড কার্ড কিনতে দেখে বললাম আপনি এডিএসএল বা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নিলে আপনার খরচ কম পড়ত। তখন ভদ্রলোক বিনয়ের সাথে জানালেন আপনার প্রস্তাবটি খুবই ভাল। যদি আপনার প্রস্তাবটি কাজে লাগাতে পারলে খুবই খুশি হতাম। কিন্তু ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে যে হারে অপটিক্যাল লাইন কাটে এবং মাঝে মাঝে দুই একদিনের জন্য ইন্টারনেট থাকে না এতে আমার আউট সোর্সিং এ কাজের বারোটা বেজে যাবে এবং আমার হাজার টাকা লসে পরব। তার চেয়ে আমার আনইন্টারাপ্টেড উচ্চমূল্যের ইন্টারনেট অনেক ভাল। একই রকম উচ্চ গতি ও হঠাৎ নেট চলে যায় না। একবার একজন ব্যবসায়ী আমার বাসায় পরিচয় সূত্রে বেড়াতে আসল। আমার বাসায় টেলিফোন লাইনের এডিএসএল মোডেমে রাউটারের মাধ্যমে ওয়াইফাই করা আছে। তাকে বললাম আপনি চাইলে রাউটারের ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারেন। তিনি আমাকে বললেন আপনার বাসায় মোবাইল নেটওয়ার্কের থ্রিজি পাওয়া যাচ্ছে। আমি সাধারণত থ্রিডি লাইন পেলে ওয়াইফাই খুঁজি না। কারণটা স্বাভাবিক। টাকা বেশী খরচ হলেও লাইন সাধারণত স্থিতিশীল থাকে। গতির হেরফের কম হয়। থ্রিজির আনলিমিটেড অনেক খরচের ব্যাপার। যারা সামর্থ্যবান তারা আনলিমিটেড থ্রিডি ব্যবহার করলে কিছু যায় আসে না। কমফোর্ড ও আনইন্টারাপটের বিষয়। যারা আমরা বেশী গতি কম খরচে খুঁজি তাড়াই সাধারণত ব্রডব্যান্ডের ব্রড সমস্যার শিকার হই। আর দিনের পর দিন ইন্টারনেট ছাড়া কাটাই। বিদ্যুতের ইউপিএস ও আইপিএস এর মত আমাদের একাধিক ব্যবস্থা খোলা রাখতে হয়। ব্রডব্যান্ড না থাকলে জরুরী কাজ করার জন্য তখন মোবাইল মোডেম ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পরে। আপনার গুরুত্বপূর্ণ মেইল আসবে। আপনার ভাইবার বা হোয়াটস অ্যাপে ম্যাসেজ আসবে। আপনাকে আউটসোর্সিং এর গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হবে তাই মোডেমের মাধ্যমে মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যাকআপ ছাড়া কোন উপায় নাই। তাই এডিএসএল ও অন্যান্য যে কোন মাধ্যম রাখলেও এখন আনইন্টারাপ্টেড ইন্টারনেট সেবা পাওয়ার জন্য মোবাইল মোডেম চালু রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
বিদ্যুৎ যদি নিরবচ্ছিন্ন করা যায় তবে ইন্টারনেট কেন পারা যাবে না। সম্প্রতি গুগল উচ্চ গতির ওয়্যারলেস ইন্টারনেট চালু করেছে। একটু কম গতি থাকলে ম্যান্টেনেন্স ফ্রি ওয়্যারলেস ইন্টারনেট ভাল সলিউশান। আমাদের দেশের প্রচুর অপটিক্যাল ফাইবার লাইন বসানো হচ্ছে। এমনকি অপটিক্যাল লাইন ইউনিয়ন পর্যায়ে পর্যন্ত চলে গেছে। অপটিক্যাল লাইন অনেক দুর টানা হলো সমস্যা একটা থেকেই যাচ্ছে। তা হল। বিকল্প ব্যবস্থা নাই। আর মোডেমের মাধ্যমে উচ্চ মূল্যের মোবাইল ইন্টারনেট হলো বিকল্প। বাংলাদেশের অপটিক্যাল লাইনের বিচ্ছিন্নতা দুর করতে যা করা যায় তা হল:
১. একাধিক অপটিক্যাল লাইন বিভিন্ন পথ দিয়ে বসাতে হবে।
২. ওভারহেড অপটিক্যাল লাইন টানানোর প্রয়োজন আছে। কোথাও আন্ডার গ্রাউন্ড লাইন কাটা গেলে উপরের ওভার হেড লাইন কানেক্ট করে দ্রুত চালনা করা যায়। আন্ডার গ্রাউন্ড ও ওভার হেড কানেকশন দুইটিই চালু রাখা যেতে পারে। ঝড়ে ওভারহেড লাইন নষ্ট হলে আন্ডার গ্রাউন্ড লাইন দিয়ে কার্যক্রম চলতে থাকবে।আবার আন্ডার গ্রাউন্ড লাইন কাটা পড়লে দ্রুত ওভারহেড লাইন ব্যাকআপ দিবে। এরূপ করলে অপটিক্যাল ফাইবারের লিংক ডাউনের পরিমাণ অনেক কমে যাবে।
পরিশেষে সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসাবে মোবাইলের কানেকটিভিটিই হল ভরসা।
আমাদের দেশের ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের আরো সচেতন হওয়ার প্রয়োজন আছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এর মত এখন প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট। সবচেয়ে ভাল হয় অপটিক্যাল লাইন টানা পার্টি আলাদা থাকবে। অপটিক্যাল লিংক যত বেশী সময় ডাইন থাকবে তথ্য টাকা কর্তন হবে। তাই তারা লাইন সর্বদা যে কোন উপায়ে চালু রাখবে। এখন অপটিক্যাল লাইন কাটা গেলে অপারেটররা একাধিক দিন নেয়। এতে মাসিক বিল সাধারণত একই থাকে। তাই তাদের দায়বদ্ধতা কম। তাদের দায়বদ্ধতা বাড়ানোর জন্য যত সময় ইন্টারনেট থাকবে না সেই অনুপাতে ব্রডব্যান্ড কোম্পানির ফাইন করার ব্যবস্থা থাকবে। যেমন মাসে যদি বরদ ব্যান্ডের জন্য ১২০০ টাকা দেই তবে একদিন লাইন না থাকলে ফাইন হতে পারে ৪০ টাকা আর প্রতি ঘণ্টায় ফাইন হতে পারে ১.৬৭ টাকা। এ ব্যবস্থা থাকলে দেশের ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের দায়িত্ব বাড়বে।
পরিশেষে আমাদের সকলের আশা উন্নত দেশের মত আমাদের দেশেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবা উন্নত হবে।



Thursday, April 28, 2016

ড্রিপ( Drip ) ইরিগেশন সিস্টেম

বাংলাদেশের অনেক স্থান পানিতে ভাসছে। সেখানে চাষের জমির বড়ই অভাব। বাঙলার কৃষক সেখানে ব্যবস্থা করেছে ভাসমান শাকসবজি বাগান। দেশের বেশীর ভাগ স্থানে কৃষক সেচ ছাড়া চাষাবাদ করতে পারে না। বিশেষ করে শীতকালে সেচ বেশী প্রয়োজন হয়। শীতকালে এখন আমরা ডিপ টিউবওয়েলের উপর নির্ভর করি। নদী নালা খাল বিল শুকিয়ে যায় তাই সমস্ত নির্ভরতা চলে আসে ভূগর্ভস্থ পানির উপর। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমান্বয়ে নীচে যেতে থাকে। বাংলাদেশ বৈষয়িক উষ্ণতার ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় আছে। আর এখন আমরা ভূগর্ভস্থ পানি কমিয়ে আরো বেশী মরুকরণের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। তাহলে উপায়। উপায় একটা আছে। পানির ব্যবহার কমানো। বিশেষ করে পাতালের পানির ব্যবহার কমিয়ে ফেলা। তা কি সম্ভব। অবশ্যই সম্ভব। ধান চাষ ছাড়া যে কোন চাষাবাদে ড্রিপ ইরিগেশন সম্ভব। ড্রিপ ইরিগশেনের মুল আইডিয়া হল যেখানে যে পরিমাণ পানি দরকার ততটুকু পানি ফোটায় ফোটায় গাছের গোঁড়ায় দেয়া। আমরা যখন ঝাঁঝরি দিয়ে পানি দেই তখন সেই পানিটা চারিদিকে ছিড়িয়ে যায়। এতে পানি অপচয় হয়। আবার যখন পাইপ দিয়ে দেই তখনো পানির অপচয় হয়। জমি ভাসিয়ে দিয়ে পানি দেয়া আরো সহজ ও পানির অপচয় তাতে অনেক অনেক বেশী হয়। যদি গাছের গোঁড়ায় ফোটা ফোটা করে ধীরে ধীরে  পানি দেয়া যায় তাতে পানি কম প্রয়োজন হবে। পানি ধীরে ধীরে গাছের গোঁড়ায় পৌছিয়ে যাবে। ধীরে ধীরে ফোটায় ফোটায় পড়ার কারণে তা একবার পানি দিলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না গিয়ে উত্তম ভাবে গাছের গোঁড়ায় জমা হবে। শুধুমাত্র গাছের গোঁড়ায় পানি যাওয়ার কারণে এই গাছের চারিদিকে আগাছা কম হবে। কারণ মুল গাছটিই কেবল পানি পাবে অন্য গাছের আগাছা পানি না পেয়ে বাড়তে পারবে না। বিভিন্ন তথ্যাদি থেকে এটা জানা যায় ড্রিপ ইরিগেশন ব্যবস্থায় পানির ব্যবহার ৭৫% পর্যন্ত সাশ্রয় হয়। এতে যদি বিঘা প্রতি ডিজেলে খরচ প্রতি সিজনে তিন হাজার টাকা হয়, তবে খরচ সাশ্রয় হল ২২৫০ টাকা। তিনটি সিজনে খরচ সাশ্রয় ৬৭৫০ টাকা। পাঁচ বছরে খরচ ৩৩৭৫০ টাকা। অপরদিকে এককালীন এ ধরনের প্লাস্টিক পাইপ দিয়ে ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেমের কাঠামো তৈরি বাবদ খরচ বিশ থেকে বাইশ হাজার টাকা খরচ যাবে। সম্পূর্ণ সিস্টেমের আয়ু পাঁচ বছর ধরা হলেও মেরামত করে তা আরো পাঁচ বছর চালানো যাবে। পিভিসি পাইপ সাধারণত মরিচা পরে নষ্ট হয় না। তবে সূর্যের তাপে প্লাস্টিকের পাইপ ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকবে।
ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেমে পাহাড়ের ঢালে অপচয় ছাড়াও সহজে সেচ দেয়া যায়। এর জন্য পাহাড় সমান করার প্রয়োজন নেই। পাহাড়ের উপর পানি তোলা কষ্টও শ্রমসাধ্য বিধায় সেচে অল্প পানি ব্যবহার করার কারণে পাহাড়ের  চাষে ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম সার্বিকভাবে খরচ অনেক কমে যায়। এক বিঘা জমিতে ৩৬৫ দিনের মধ্যে যদি ১০০ দিন ৩০০ টাকা করে পানির লেবারে খরচ হলে বছরে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ আর পাঁচ বছরে ১ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হবে। আবার বেশী পানি দিয়ে অতিরিক্ত ঘাস হওয়ার জন্য ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১০ দিনে অন্তত একজন লেবারে খরচ ৩৬ গুনন ৩০০ টাকা অর্থাৎ ১০৮০০ টাকা। আর পাঁচ বছরে খরচ ৫৪ হাজার টাকা। পাঁচ বছরে শুধু লেবার থেকে সাশ্রয় দই লক্ষ টাকা। এখন সোলার ব্যবহার করলে পরিবেশ গত আরেক লাভ হবে। কম পানি ব্যবহার মানে কম বিদ্যুৎ ব্যবহার আর কম বিদ্যুৎ ব্যবহার মানে কার্বন নি:স্মরন কমানো। অপরদিকে ছোট ছোট সোলার পাম্প দিয়ে ভালভাবে ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম চালানো যায়। মরুভূমিতে চাষাবাদের জন্য ড্রিপ ইরিগেশন খুবই আদর্শ একটি পদ্ধতি। ভারতে রাজস্থান ও গুজরাটে সোলার ড্রিপ সিস্টেম বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাংলাদেশে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে বাংলাদেশে এনে ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম বাজার জাত করছে। তাদের দ্রব্যাদির দাম অনেক বেশী। সাধারণত সৌখিন টবের বাগান যারা করেন বা ছাদে বাগান করেন তারা ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম সহজে ব্যবহার করতে পারেন। ঢাকার পার্টিগুলো দিয়ে আপনি সহজেই ড্রিপ ইরিগেশন করে নিতে পারেন। আপনাকে কিছু করতে হবে না। পেশাদারদের চুক্তি দিলেই হল তারাই সব করে দিবে। যাদের জমি বেশী তাড়া জমি দেড় হতে দুই ফিট অন্তর ৩/৪ ইঞ্চি পিভিসি পাইপ জমিতে ছড়িয়ে দিতে হবে। তার পর এক দেড় ফুট দুরে দূরে ফোটায় ফোটায় পানি পড়ার জন্য ছিদ্র করে নিলেই হল। আর মাঠের এক কোনে ১০০০ লিটারের প্লাস্টিক ট্যাংক ছয় ফুট উচ্চতায় মাচার উপর বসিয়ে দিলেই কাজ হয়ে যাবে। তারপর সময় মত ট্যাপ খোলা বন্ধ করলেই হবে। এছাড়া সময় নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বসিয়ে সেচের নিয়ন্ত্রন করা যাবে। আবার আর্দ্রতা সেন্সর বসিয়ে পুরো জমিটি সেচ ব্যবস্থা অটোমেটিক করা যায়। যখন গাছের গোঁড়ায় পানির আর্দ্রতা কমে যাবে তখন সেন্সর সেচ চালু করে দিবে আবার সেচ সঠিক মাত্রায় হলে ও পানির আর্দ্রতা সঠিক হলে সেচ বন্ধ হয়ে যাবে। এভাবে পানির ব্যবহার আরো মিতব্যায়ীতার সাথে ও কায়িক পরিশ্রম ছাড়া করা সম্ভব।
এটা গ্রামের মহিলাদের খুবই উপকারে আসবে। গ্রামের মহিলারা দিনের শেষে পুকুর ডোবা থেকে পানি তুলে তুলে তাদের ঘরের আসে পাশে লাগানো সবজি ক্ষেতে পানি দেয়ার পরিশ্রম ও সময় থেকে তারা মুক্তি পাবে এবং তাদের দিনের হিসাবে কিছুটা সময় বিশ্রামে যোগ হবে।
বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশই ড্রিপ ইরিগেশনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন প্রয়োজন বাংলাদেশের চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা। বাংলাদেশে যে কোন লাভজনক পদ্ধতি দেখাতে পারলেই হল। তা বাস্তবায়ন করতে মোটেই সময় লাগবে না। কারণ বাংলাদেশের অনেক এনজিও বাড়ী বাড়ী ঘুরে বেড়াচ্ছে ক্ষুদ্র ঋণ দেয়ার জন্য। আমাদের প্রয়োজন প্রযুক্তিটি গ্রামে গ্রামে মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া।


Thursday, April 21, 2016

সব কিছু আমি মুছে ফেলি

আমি অনেক আগে থেকে একটা অভ্যাস করেছি অফিসের কোন ফাইল বা ডকুমেন্ট আমি আমার ফাইল ক্যাবিনেট বা টেবিলে প্যানডিং রাখতে পারি না। টেবিল থাকতে হবে নিট এন্ড ক্লিন। ফাইল আসার সাথে সাথে ফাইল ক্লিয়ার হবে। কোন ফাইল স্তূপ আকারে জমা হবে না। একটা মোটিভেশনাল বইয়ে পড়েছিলাম কেউ যদি অফিসে যদি অধিক সময় বের করতে হলে তাকে যে কাজটি করতে হবে তা হল ফাইল দ্রুত ক্লিয়ার করতে হবে। কোন ফাইল আটকানো বা দেরী করা যাবে না। যদি কোন ফাইল পেন্ডিং করতে হয় তা পেন্ডিং হবে সহকারীর লকারে নিজের কাছে নয়। কর্মকর্তা হিসাবে নিজের টেবিলটি থাকবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। অফিস টাইমে টেলিভিশন দেখা ও গল্প করলে টেবিল পরিষ্কার রাখা একটু টাইট হবে।
একবার একজন কর্মকর্তা দু:খ করে বলেছিল সে প্রতিদিন রাতেও অফিসে আসে। দিনের বেলা কাজ শেষ করতে পারে না। রাতে তার অধিক সময় লাগে। আমি তাকে শুধু বলেছিলাম আপনার অফিসে আপনি ইচ্ছাকৃত ভাবে অনেক ফাইল পেন্ডিং ফেলে রেখেছেন। আপনি সাথে সাথে ফাইল ক্লিয়ার করার অভ্যাস করুন তবে অনেক সময় পাবেন। আমার উপদেশ তার কোন কাজে লেগেছিল কিনা জানি না। তবে পেন্ডিং না রাখার জন্য সব সময় আমি লেখার জন্য ও পরিবারের জন্য অনেক সময় পাই। টিভি না দেখলেও অনেক সময় পাওয়া যায়। যারা সাধারণত সময় পান না। তাদের প্রথম কাজ হবে টিভি দেখা বন্ধ করে দেয়া তাহলে অনেক সময় পাওয়া যাবে।
আজকে আমার বিষয় সবকিছু মুছে দেয়া। ডিলিট করা। আমাদের জীবনে এখন সাইবার বা ভার্চুয়াল অফিস সামাল দেয়া একটা বিশাল যুদ্ধ। আমি আমার কার্যক্রমে দেখতে পাচ্ছি আমাদেরকে ইমেইল, ভাইবার ও এসএমএস এর মাধ্যমে অনেক বিষয় সামাল দিতে হচ্ছে। অনেক নির্দেশনা এখন এসএমএস এর মাধ্যম পাই। ভাইবারের মাধ্যমে নির্দেশনা ও সচিত্র তথ্যাদি পাই। ইমেইলে অনেক তথ্য চিঠি পাই। এখন এগুলো যদি ইন বক্সে জমিয়ে রাখি তবে আমাদের একই পরিমাণ মানুষিক চাপ আমাদের পেতে হবে। তাহলে মানসিক চাপ আমরা কিভাবে কমাতে পারি। আমাদের যে কোন এসএমএস পড়ে মুছে ফেলাই ভাল। গুরুত্বপূর্ণ এসএমএস না মুছে ২৪ ঘণ্টা রাখুন তারপরও প্রয়োজন থাকলে অন্য জায়গায় টেক্সট/ওয়ার্ড ফাইল হিসাবে সংরক্ষণ করুন। কিছুদিন পর আর প্রয়োজন না হল মুছে দিন। আমার আইডিয়াটা হল টেবিল বা ফাইল ক্যাবিনেট যেমন খালি রাখছেন তেমনি এসএমএসের ইন বক্স খালি রাখুন। ভাল লাগবে। নতুন এসএমএস আর পুরাতন এসএমএস এ আর জট পাকাবে না। আপনি চাপমুক্ত থাকবেন। মুছতে মুছতে এমন অভ্যাস হয় গত চার বছরে দুইবার এটা হয়েছে। আমি এসএমএস মুছে ফেলেছি অত:পর যিনি পাঠিয়েছেন তাকে পুনরায় পাঠাতে বলতে হয়েছে। চার বছরে দুইবার খুব বেশী না। তাই নিয়মিত এসএমএস মুছে মোবাইলের ইন বক্স খালি রাখতে কোন সমস্যা নেই। কি বলেন? আমি সব সময় এসএমএস মুছে ইন বক্স খালি রাখি। কেবলমাত্র গুরুত্বপূর্ণ এসএমএস ড্রপবক্স বা নোট ফাইলে সংরক্ষণ করি।
ইদানীং ভাইবার, হোয়াটস্ অ্যাপ ও ইমেইল ইত্যাদি সবসময় মুছে পরিষ্কার রাখুন। রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইলটা নিয়ে সমস্ত ইন বক্স মুছে নিলে পরের দিন সকাল থেকে চাপমুক্ত থাকবেন। পুরানো ম্যাসেজ মুছে দিলে সে ম্যাসেজ আবার দ্বিতীয়বার পড়তে হবে না। সময় বাঁচবে ও অনেক সময় পুরানো ম্যাসেজ বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে তা থেকেও বাচা যাবে।

একান্তই রেফারেন্স হিসাবে কপি করে আলাদা ফোল্ডারে রাখা যেতে পারে। কিন্তু মূল প্রোগ্রামের ইন বক্স অবশ্যই খালী রাখা প্রয়োজন। সমস্ত প্রোগ্রামের ইন বক্স যত বেশী ফাকা রাখা যাবে তত বেশী আমার মতে গুছিয়ে চাপমুক্ত থাকতে পারবেন। আজকাল এমন হয়েছে কো তথ্য কম্পিউটারে সেইভ করে রেখে সেই তথ্য পুনরায় বের করার চেয়ে গুগলে সার্চ করা সহজ। আসলে অহেতুক তথ্য সংরক্ষণ করে চাপ বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।

Thursday, April 14, 2016

শ্রেডার মেশিনের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমিয়ে আনা

এই পরীক্ষাটি করার জন্য আমাদের একটি শ্রেডার মেশিন ক্রয় করার প্রয়োজন হবে। যার জন্য পনের হাজার টাকা শ্রেডার মেশিনটি যেন এমন হয় আমরা তাতে সিডি বা প্লাস্টিকও কাটতে পারি। শ্রেডার মেশিন কুচি কুচি করে কাটার কারণে কাগজ বা প্লাস্টিকের কাগজে যেই আর্বজনায় যেই পরিমাণ স্থান নেয়ার কথা বা আয়তন হওয়ার কথা তার থেকে ৭৫% আয়তন কম যায়। শ্রেডারের কাটা গুড়ি গুলি চারিদিকে ছড়িয়ে দিলে তা অন্যান্য কাগজ বা সামগ্রীর মত আবর্জনার সৃষ্টি করবে না। গুড়া হওয়ার কারণে তা সুন্দরভাবে মাটির সাথে মিশে যাবে। পলিথিন ব্যাগ বা প্লাস্টিক আনুমানিক বিশ বছর সময় কালে প্রথমে ছোট ছোট ছোট টুকরায় পরিণত হয়। তারপর তা ক্রমান্বয়ে মাটিতে মিশতে থাকে। প্লাস্টিক গুড়ো হওয়ার কাজটি যদি আমরা আগেই করে দেই তাহলে প্লাস্টিক মাটিতে নিমজ্জিত হতে কয়েক বছরেই হয়ে যাবে। তার জন্য বিশ বছর অপেক্ষার প্রয়োজন হবে না। আবার কাগজ গুড়া গুলি মাটিতে কয়েকদিনেই মিশে যাবে। একটা বড় কাগজ এলোমেলোভাবে মাটির উপর পড়ে থাকলে তা মাটিতে মিশতে সময় লাগবে কয়েক মাস। আর শ্রেডারে গুড়া করা কাগজ কয়েক দিনেই মাটিতে মিশে যাবে। তাই শ্রেডারে গুড়া করে আমরা কাগজের গুড়ার আয়তন কমিয়ে দিয়ে তা পরিবহন করতে চাইলে তা সহজে করা যাবে। আবার জ্বালানী হিসাব ব্যবহার করতে চাইলে সহজে করা যাবে। শ্রেডার করে লাভই হবে। শ্রেডারে গুড়া করা কাগজ যেভাবে সুবিধা সেভাবে ব্যবহার করা যাবে। তবে জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করার জন্য একই শ্রেডারে প্লাস্টিক গুড়া না করে আলাদা আলাদা শ্রেডারে করলেই ভাল হবে।

শ্রেডারের ব্যবহার একটা অভ্যাসের বিষয়। অনেক সময় মনে হবে এমনিতেই কাগজ ছিঁড়ে কুচি কুচি করে দিচ্ছি আবার শ্রেডার মেশিন কিনে কেন খরচ। নিরাপত্তার বিষয়টি বাদ দিলে যে কাগজ ধ্বংস করতে চাই তা কুচি কুচি শ্রেডিং করলে একটা আনন্দ পাওয়া যায়। তাছাড়া যে কাগজগুলোর কুচি বাতাসে চারিদিকে ছড়াতে পারে তা এখন আর ছড়াবে না। তা একদম কুচি কুচি করে কাটা হয়ে গেল। বেশ মজাদার একটা বিষয়। কিছু দ্রব্য কিনে নিলেন। তার থেকে পাওয়া কাগজ বা প্লাস্টিকের প্যাকেট গুলি ওয়েস্ট পেপার বক্সে না ফেলে শ্রেডারে দিয়ে কুচি কুচি করে বা গুড়া করে ফেলে দিলেন। এখন তা সহজেই পরিবেশে বা মাটির সাথে মিশে যাবে। সিডি হাত দিয়ে ভাঙ্গা কষ্টকর তা গুড়া করে নিয়ে আমাদের আশে পাশের মাটতে ফেলে দিলেও একসময় পরিবেশ মিশে যাবে। একটা পলিথিন বা আস্ত প্লাস্টিকের ব্যাগ সুয়ারেজ সিস্টেম বা অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় পরিবেশ দূষণ করে সেখানে গুড়া করা পলিথিন পরিবেশের কম ক্ষতি করবে। আমরা যে কোন কিছু রিসাইক্যাল করতে গেল সাধারণ তা গুড়ি গুড়ি করে নেই। প্লাষ্টিক রিসাইক্যালে পাউডার বানিয়ে নেয়া হয়। তেমনি ক্রস কাট শ্রেডারের কাগজের গুড়া কম্পোস্টে দেয়া যেতে পারে। ফার্মের মুরগীর নীচে তুষের পরিবর্তে দেয়া যাবে। যা পরে কম্পোস্ট বানানো যাবে। শ্রেডারে করা গুড়া জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। কাগজের গুড়াগুলি পানিতে ভিজিয়ে আঠা মিশিয়ে কাগজের মণ্ড তৈরি করে নানা রকম শোপিস বা খেলনা তৈরি করা যাবে। আমার মনে হয় ১৫/১৬ হাজার টাকার শ্রেডার মেশিন আমাদের কাগজ ও অন্যান্য প্লাস্টিক গুড়া করে পরিবেশ ঝকঝকে তকতকে রাখতে বেশ কাজে দিবে। একবার অভ্যাস করে মজা পেলে যে কোন স্থানে যে কোন কাগজের প্যাকেট ডিসপোজ করতে গেলেই শ্রেডারটি ব্যবহারের কথা মনে হবে এবং শ্রেডারের অভাব বোধ হবে। শ্রেডার মেশিন আপনার বাড়তি ও অকেজো কাগজ বা প্যাকেট মুহুর্তে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেল। সত্যিই বেশ মজাদার। কাগজের সাথে স্টেপলার পিন, আলপিন ও জেমস ক্লিপ বেশ ভংয়কর। এগুলো শ্রেডার মেশিন ধ্বংস করে দিতে পারে। পাতলা পলিথিন শ্রেডার মেশিনে জড়িয়ে যেতে পারে। শ্রেডারের রক্ষনাবেক্ষন ম্যানুয়াল ভালভাবে দেখতে হবে। ছোট বাচ্চারা আঙ্গুল ঢুকিয়ে দেয়ার মত মারাত্মক কাজ করতে পারে। পরিবেশ বান্ধব ও নিরাপত্তায় উপকারী শ্রেডার মেশিন হতে পারে আমাদের নিত্যসঙ্গী।


Saturday, April 2, 2016

শাকসবজি জন্য ইংরেজি ক্যালেন্ডার

এই ক্যালেন্ডারটি ইন্টারনেট হতে সংগ্রহ করেছি। ৬ অক্টোবর ২০১২ সালে জনাব বিকাশ কীর্ত্তনিয়া, কৃষি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ একটি লেখা নীচের লিংকটিতে পাই। এটা প্রায়ই আমার ও আমার পাঠকদের কাজে লাগবে সে চিন্তায় সংকলিত করলাম। আমরা কৃষি পঞ্জিকা সাধারণত বাংলা মাসের হিসাব করে থাকি। অথচ শহুরে আমরা যারা বাস করি তাদের বাসার আশে পাশে ও টবে সৌখিন বাগান করতে এ ক্যালেন্ডারটি অনেক কাজে লাগবে।

জানুয়ারি         
পটল, বেগুন, বাটিশাক, চিচিঙ্গা, করলা ও মিষ্টি কুমড়া বেগুন ও পিয়াজের চারা রোপণ। গাজর, মূলা, লেটুস শালগম, শিম, আলু ও ব্রোকলি।     

ফেব্রুয়ারি         
পু্ঁই শাক, চিচিঙ্গা, শসা, করলা, কাঁকরোল, মিষ্টি কুমড়া, ঢেড়স, হলুদ, পটল, ঢেড়স, আলু, পিয়াজ, রসুন ও ঝিঙা।         

মার্চ     
গ্রীষ্মকালীন টমেটো, ঢেড়স, পুঁইশাক, আদা, হলুদ, মিষ্টি কুমড়া, চিচিঙ্গা, পটল, ঢেড়স, শসা, পিয়াজ, রসুন, বরবটি ও ঝিঙা।    

এপ্রিল  
গিমা কলমি, পুঁই শাক, শসা, বাটি শাক, আদা, চাল কুমড়া, পটল, ঢেড়স, বরবটি, কাকরোল, করলা, মুখী কচু।

মে      
ধুন্দল, ঝিঙা, কাঁকরোল, করলা, শসা, মুখী কচু, ধুন্দল, সজনা, ডাটা শাক, পুই শাক ও চিচিঙ্গা। 

জুন     
বরবটি, চাল কুমড়া, মুখী কচু, পাট শাক, চিচিঙ্গা, কাঁকরোল, বরবটি ও চাল কুমড়া।   


জুলাই  
বেগুন (গ্রীষ্মকালীন), শিম, ডাটা শাক, কাঁকরোল, পটল, পুই শাক, বরবটি ও মুখী কচু।

আগস্ট
পুঁই শাক, গিমা কলমি, বাটি শাক, বেগুন (গ্রীষ্মকালীন), শিম, ডাটা শাক, মুখী কচু ও বরবটি।

সেপ্টেম্বর         
টমেটো, আলু, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রোকোলি, টমেটো। ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রোকোলির চারা রোপণ। লাল শাক, ডাটা শাক ও মুখী কচু

অক্টোবর

আলু, লাউ, পালং শাক, বাটি শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, ধনিয়া, পিয়াজ, টমেটো, লেটুস, পালং শাক।

নভেম্বর 
লাউ, গাজর, মূলা, শিম, ধনিয়া, ফুলকপি, পিয়াজ, রসুন, ফুলকপি, লেটুস, টমেটো, আদা, হলুদ 

ডিসেম্বর
বেগুন, লেটুস, লালশাক, পটল, টমেটো, রসুন, বাটি শাক, পিয়াজ (চারা রোপণ), মূলা, গাজর, বাঁধাকপি, ফুলকপি, লাউ, আদা, হলুদ        


(সংকলিত)

Friday, April 1, 2016

ফাস্ট ফুডের মাধ্যমে ফাস্ট পলিউশান

ইংরেজি বাংলা মিলিয়ে একটা হেডিং দিলাম। রাস্তার পাশের হোটেল রেস্টুরেন্ট যেটাতেই যাই না কেন, কেউ যদি ডিসপোজেবেল খাদ্যের আধার ব্যবহার করে তাকেই আমরা দূষণকারী বলতে পারি। ম্যাকডোনালস, কেএফসি, ডোমিনোস ও সাবওয়ে যখন আপনি খেতে যান না কেন সকল খাবারের সাথে একগাদা টিস্যু, কাগজ, প্লাস্টিক ও ক্যান আপনাকে দেয়া হবে। খাবার শেষে তা আবার আপনি তাদের ডাস্টবিনে ফেলবেন কত হাইজেনিক তাই না। মানুষের হাতের ধোয়া নাই। অপরিষ্কার নয়। হাইজেনিক পরিবেশনা। কত ভাল ব্যবস্থা তাই নয় কি? আপনি চাইনিজ বা অন্যান্য রেস্টুরেন্টের মত ক্রোকারীজ ও কাটলারিজ ব্যবহার করলে তা ওয়ান টাইম হতে অধিক পরিমাণ হাইজেনিক হবে।
কিভাবে? আপনি যত বেশী টিস্যু ব্যবহার করবেন। আপনি তত বেশী কাঠ কাটলেন। আপনি যত বেশী রঙ্গিন কাগজ ব্যবহার করলেন তত বেশী কাগজ তৈরি করতে কাঠ, কালী তৈরি করতে অন্যান্য ক্যামিক্যাল ও ছাপাতে কয়লা পুড়িয়ে তৈরি বিদ্যুৎ খরচ করলেন। আপনি চিনামাটির বাসন বার বার ধুয়ে ব্যবহার করলে আপনার পরিবেশের ক্ষতি ও অপচয় কম হয়। অধিকাংশ এয়ার লাইনে ডিসপোজেবল পাত্রে খাবার দিলেও অনেকে এয়ার লাইনে চীনামাটি, প্লাস্টিক বা কাচের পাত্র ব্যাবহার করে এটা অবশ্যই এটা ভাল দিক। যত বেশী ডিসপোজেবল পাত্ররের ব্যবহার তত বেশী পরিবেশ দূষণ।
ফাস্টফুডের দোকানের খাবার ফাস্ট ভাবে বিক্রয় করে যে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য জমা হয় তা শহরের উপকণ্ঠে ফেলা হয় আর তা সাধারণ মানুষের বাসস্থানের আসে পাশের পরিবেশে ফেলা হয়। প্লাস্টিক ক্যান, কাগজের প্যাকেট ইত্যাদির ভয়াবহ ভাবে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে। আমরা কিভাবে পুরো সিস্টেমটিকে পরিবেশ বান্ধব করতে পারি। তার জন্য আমাদের বেশী কস্ট করতে হবে না। ফাস্টফুডের পরিবেশনটাকে আমরা অন্যান্য হোটেলের আদলে করলেই চলবে।
প্রথমত: ডিসপোজবেল গ্লাস না দিয়ে মোটা গরম পানিতে ধোয়া প্লাটিকের গ্লাস দেয়া যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত: ডিসপোজেবল বাটি ও প্লেট ব্যবহার না করে মোটা মেলামাইন বা কাচের বাটি ও প্লেটে খাবার পরিবেশন করা যায়।
তৃতীয়ত: রঙ্গিন ও ছাপানো কাগজ ব্যবহার না করে সাদা কাগজ ব্যবহার হতে পারে। রংগিন ও ছাপানো কাগজ বিদ্যুৎ, রং ইত্যাদির অপচয় ঘটায়।
চতুর্থত: টিস্যু পেপারের পরিবর্তে কাপড়ের ন্যাপকিন দিলে মন্দ হয় না। তবে যাদের কাপড়ের ন্যাপকিন ব্যবহারে সমস্যা তারা টিস্যু পেপার ব্যবহার করতে পারেন।
ফাস্টফুডের দোকানে ফাস্ট টাইপ কার্যক্রমে ডিসপোজেবলের ব্যবহার কমানোটা হবে অভ্যাসের ব্যাপার। ন্যাপকিন দ্রুত ধোয়ার জন্য ওয়াশিং মেশিন, গ্লাস, প্লেট,চামচ ও বাটি ধোয়ার জন্য ডিশওয়াসারের জন্য অর্থ ব্যয় করার প্রয়োজন হবে। আর  ম্যানুয়ালি করলে প্রাথমিকভাবে খরচ বেশী হলেও দীর্ঘদিন ব্যবহারে খরচ কমে যাবে।
মনে করি কাপড় দিয়ে একটি ন্যাপকিন বানাতে খরচ দশ টাকা। একটি ন্যাপকিন যদি ৫০ বার ধুয়ে ব্যবহার করা যায় তবে প্রতিবারে ব্যবহারে খরচ: ১০.০০ ভাগ ৫০ =২০ পয়সা। অপরদিকে একটি পেপার ন্যাপকিনে খরচ ৭০ পয়সা। ৫০ পয়সা সাশ্রয়। মূলত পরিবেশ দূষণের বিবেচনায় আরো বেশী সাশ্রয়ী।

ডিসপোজবেল একটা প্লেটের মূল্য ৫ টাকা হলে ১০০ টাকায় প্লাস্টিক বা মেলামাইনের প্লেট পাওয়া যায়, যা কিনা সাবান পানি ও গরম পানি দিয়ে ধুয়ে শতবার ব্যবহার করা যাবে। খরচও কম হবে। মনে করি ডিসপোজেবল ১০০ টি প্লেট, ১০০ টি গ্লাস ও ১০০ সেট চামচে খরচ হল প্রতটিতে ১০/১২ টাকা হিসাবে ১০০০/১২০০ টাকা। তাই ১০০ টি প্লেট গ্লাস একজন প্রফেশনাল লেবার দুই ঘণ্টায় ধুয়ে ফেলতে পারবে। একটা লেবারকে বর্তমান বাজার দরে ৫০০ টাকা চার্জ দিলেই হল। নিবিঘ্নে প্রায় ৫০০ টাকা সেভ হবে। তবে কেন ডিসপোজেবলের ব্যবহার। কারণ একটাই ডিসপোজেবল সামগ্র্রির মূল্য গ্রাহক দিচ্ছে। প্লেট ধোয়া বা সাজানোর ঝামেলায় কেউ যাবেন না। এটাই কারণ। সেই সাথে আওয়াজ তুলবেন ডিসপোজেবল বেশী হাইজেনিক। যদি যথাযথ ডিটারজেন ও গরম পানি দিয়ে ধোয়া হয় তবে অন্যান্য সকল ক্রোকারীজ ও কাটলারীজ হাইজেনিক। আর দেরী নয় আমাদের চারিদিকে ডিসপোজেবল দিয়ে পরিবেশনকারী ফাস্টফুডের প্রতিষ্ঠান গুলিতে পরিবেশ দূষণকারী ডিসপোজেবল দ্রব্যাদি ব্যবহার বন্ধ করিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

প্রবাসী ও শহুরেদের গ্রামের জমি নষ্ট করে অপ্রয়োজনীয় বাড়ী তৈরী

করিম সাহেব লন্ডনে থাকেন। দুই/তিন বছর পর পর এক/দুই মাস থাকার জন্য বাংলাদেশে আসেন। তিনি জীবনে অনেক অর্থ উপার্জন করেছেন। উপার্জনের কিছু টাকা খরচ করার জন্য তিনি তার গ্রামের বাড়ীটি বেছে নিয়েছেন। কয়েক কোটি টাকা খরচ করেছেন। সুন্দর বাড়ী করেছেন। সবাই যেন তার বাড়ীটির প্রশংসা করে। দুর সম্পর্কের একজন আত্মীয়কে পাশেই একটা ঘর করে দিয়েছেন। যেন সে তার বাড়ীটি নিয়মিত দেখতে পারে। আমাদের গ্রামে প্রবাসী ও শহুরে অনেকেই সস্তায় জমি পেয়ে গ্রামে বিলাসবহুল আলিশান বাড়ী তৈরি করে নেন। আর শহরে ফ্লাট বাড়ীতে থাকেন। তবে গ্রামে কেন এধরনের খরচ করা। তা আর কিছুই নয়, আমি বলব লোক দেখানো। গ্রামে আপনি আপনার  জীবদ্দশায় মনে করি ৫০ বছরে প্রতি বছর তিনমাস করে থাকলেন। ৫০ বছরে ১৫০ মাস থাকলেন। ১৫০ মাস বা ৪৫০০ দিন থাকলেন। আপনি যদি আপনার গ্রামের বাসস্থানটির জন্য ১ কোটি টাকা ব্যয় করেন তবে ৪৫০০ টি দিনের এক কোটি টাকার ব্যাংকের সুদ বাদে খরচ হবে ১কোটি ভাগ ৪৫০০ দিন অর্থাৎ ২২০০ টাকা। ৯০ দিন বা তিন মাস থাকলে খরচ ১,৯৮,০০০ টাকা। আলাদা আলাদা ভাবে হিসাব করলে আসলে অনেক টাকা। আমার মাথায় একটা বুদ্ধি আছে। আপনি আলাদা বাড়ী না করে আপনার কোন আত্মীয়ের সাথে যৌথভাবে করতে পারেন। তাতে আপনার খরচ কম যাবে। আপনি যদি প্রতি বছর ছয় মাসের বেশী গ্রামে থাকেন তবে গ্রামে আপনার স্থায়ী বাসস্থান প্রয়োজন আছে। যদি ছয় মাসের কম থাকেন। তিন মাসের বেশী থাকেন। তবে কোন আত্মীয়ের সাথে যৌথভাবে বাড়ী বানালে আপনার খরচ কমবে। যেমন: দুইতলা দালান করলেন ভাগাভাগি করে। ২য় তলা আপনার জন্য রাখলেন। এতে আপনার অন্যের সাথে দালান শেয়ার করার কারণে আপনার খরচ কমে আসবে। কেয়ার টেকারের পিছনে টাকা খরচ করার হিসাব থেকে বাঁচলেন। ভবিষ্যতে যদি আপনার উত্তরোধীকারীদের গ্রামে না আসার সম্ভাবনা থাকে, তবে ধীরে ধীরে আপনার অর্ধেক দালানের মালিককে দাম নিয়ে বা দাম ছাড়া দীর্ঘদিনের সার্ভিস দেয়ার পরিবর্তে আপনি আপনার অংশীদারকে বিক্রয় বা দান করে দিতে পারবেন। তাই গ্রামে নিয়মিত না থেকে গ্রামে অর্থ বিনিয়োগ করে বাড়ী তৈরি করে ফেলে রাখলে আপনি নিজের আর্থিক ক্ষতি করছেন। আপনি অনেক ধনী হলে আমি বলব এটা করা আপনার জন্য ঠিক হচ্ছে না। কারণ আপনি অবকাশ যাপনের কেন্দ্র তৈরি করে তা যথাযথ ভাবে ব্যবহার করছেন না। আপনি দেশের ক্ষতি করছেন। গ্রামের কৃষি জমি কমিয়ে আপনি তার উপর অহেতুক স্থাপনা তৈরি করে কৃষি জমির অপচয় করছেন। এ ধরনের জমির অপচয় আপনি করছেন কারণ আপনার টাকা আছে। তারচেয়ে এধরনের অপচয় না করে আপনি পারেন কারো সাথে শেয়ার করে বাড়ী তৈরি করতে। তাতে আপনি গ্রাম আপনার প্রিয় বা কাছের কারো উপকার করবেন এটা ভাল কাজ হবে। আপনি নিজে লাভবান হবেন ও অন্যকে লাভবান করবেন।

যদি গ্রামে আপনি তিনমাসেও একবার না যান তবে আপনি গ্রামে কোন স্থাপনা করাটা হবে আপনার জন্য অপ্রয়োজনীয় কাজ বা বোকামি। তার চয়ে বরং এখনকার প্রেক্ষাপটে টাকা খরচ করে হোটেলে বা বোর্ডিং এ থাকা বা কারো কাছে পেয়িং গেস্ট হিসাব থাকাটা ভাল। আরো ভাল হয় রিক্রিয়েশন ভেইক্যাল ভাড়া করে নেয়া। একবার পত্রিকায় দেখলাম শাররুখ খান তিন কোটি টাকা খরচ করে রিক্রিয়েশনাল গাড়ী কিনেছে। এটা একটা ভাল ব্যবস্থা। যাতায়তের জন্য টিকেট কেনার ঝামেলা নেই। হোটেল ভাড়া করার ঝামেলা নেই। কারাভান বা গাড়ীটি নিয়ে হাজির হয়ে যতদিন মন চায় থেকে গেলেন। কোন পিছু টান নেই।আবার কেয়ার টেকার রেখে বাড়ী ম্যানটেইন করার ঝামেলা নেই। ভারতীয় মেধা পাচারের উপর একটি ছবি দেখেছিলাম নাম স্বদেশ। সেই ছবিতে শাররুখ খান গ্রামে থাকতে আসনে একটা কারাভান করে। আর গ্রামে কারাভানেই থাকার আইডিয়াটা চমৎকার। হয়ত এখনো বাংলাদেশে কারাভান বা রিক্রিয়েশন ভেইক্যাল ভাড়া চালু হয়েছে। যা আমার জানা নেই। আশা করি বিলাসী প্রবাসীরা ও শহুরে ধনীরা শখের বসে আমাদের ছোট দেশের অল্প,সীমিত ও মূল্যবান জমি অহেতুক নষ্ট করবেন না।

Tuesday, March 29, 2016

টেনশন ও অস্থিরতা উৎপাদনশীলতা কমায়

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি হতে ২০১৬ জানুয়ারি মাস পর্যন্ত আমি অনেক অনেক রচনা লিখতে পেরেছিলাম। আমার শব্দের উৎপাদনশীলতা বেশী ছিল। এর আগে প্রায় সাত/আটমাস আবার আমি কিছু লিখতে পারিনি। উৎপাদন শীলতা বা মুক্ত চিন্তার মধ্যে টেনশন বা অস্থিরতা একটা ভয়াবহ সমস্যা। আমি নিজে টেনশন কম করি। তবে অন্য কেউ চাইলে আমার মাঝে টেনশন বা অস্থিরতা অহেতুক দিয়ে দিতে পারে। এটা আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আর এটা পারে আমি মানুষের কটূক্তি আর খারাপ ব্যবহার দুইটিকে ভয় পাই। কারণ আমি নিজে খারাপ ব্যবহার করতে পারি না বলে অন্যদের কটূক্তি আর খারাপ ব্যবহার আমার মাঝে বিশাল পরিমাণ প্রভাব বিস্তার করে। অনেকেরই অন্যদের সাথে কারণে অকারণে খারাপ ব্যবহার করার অভ্যাস আছে। তাদের অন্যের কাছ থেকে খারাপ ব্যবহার বা কটূক্তি শুনলে তাদের তেমন একটা প্রভাব বিস্তার করে না।
আমার অভিঞ্জতায় দেখলাম মানুষ মূলত টেনশন বা সমস্যা সৃষ্টি করে অহেতুক কিছু পরিবর্তন আনতে গিয়ে। এই পরিবর্তনগুলো হল আগে যেভাবে চলছিল তা ভাল হলে ভিন্ন কিছু করা। নিজের কৃতিত্ব জাহির করার জন্য নতুন নতুন আইডিয়া জাহির করা। তারা মূলত কাজটি কিভাবে গতিশীল বা ভালভাবে সম্পন্ন করা যায় সেটা চায় না। তাদের মাথার মধ্যে থাকে কেমনে অন্যদের চেয়ে আলাদা হওয়া যায়। তাদের এই ক্যামনে অন্যদের থেকে আলাদা হওয়া যায় তা রক্ষা করতে গিয়ে অধীনস্থদের নাভি:শ্বাস উঠে যায়। তারা জানে সাময়িক সময়ে যতটুকু পারা যায় পয়েন্ট কামিয়ে নিয়ে কেটে পড়া। এর জন্য অন্যদের ছুটি থেকে শুরু করে অন্যান্য বিষয়ে কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত বা অশান্তি হল তা বিবেচনায় আনে না। আমরা অনেকেই আছি নিজেদের ব্যক্তিগত প্রমোশন বা উন্নতির জন্য এত বেশী তৎপর থাকি তার জন্য আর কয়জন চাপে শুয়ে পড়ল তা বিবেচনায় আনি না। একবার একজন বিখ্যাত ব্যক্তির উক্তি পড়েছিলাম আমরা সবাই প্রতিযোগীতায় লিপ্ত কখন থামতে হবে জানি না, সবাই ছুটে চলেছে। তবে বুদ্ধিমানরা আবার থেমে দম নেয় ও নিজেকে রি-চার্জ করে নেয়। আমি যখন প্রতিযোগীতায় লিপ্ত তখন আমার অধীনস্থরা না চাইলেও আমার দৌড়ের সাথে না দৌড়াক অন্তত জোরে হাটতে হবে। এইরূপ কিছু মাস জোরে হাটা, কিছু মাস দৌড়ানো আবার আস্তে হাটা ইত্যাদি নিশ্চিতভাবে কষ্টকর। তবে উত্তর আছে। একবার একটা উক্তি শুনেছিলাম “সরকারী বস কয়েকমাস পর পর বদলে অধীনস্থদের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ্যাডজাষ্ট করতে করতে জীবনে অশান্তি আসে”। সামরিক ও বেসামরিকের মধ্যে একটা প্রধান পার্থক্য হল সামরিক ব্যক্তিরা ব্যক্তিগত রিলেশন ভাল মন্দ এটা গুরুত্ব না দিয়ে কাজের  বিষয়টি গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে বেসামরিকরা বার বার ব্যক্তিগত রিলেশন নতুন নতুন ব্যক্তির সাথে রক্ষা করতে গিয়ে হয়রান হয়ে যায়। অবশ্য এটা চিরাচরিত ভাবে সত্যি যে, যে ব্যক্তিরা নিজেদের কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন তাদের বসের পরিবর্তনে তেমন একটা সমস্যা হয় না। সমস্যা তখনই হয়, যখন দক্ষ ব্যক্তিরা যেভাবে অভ্যস্ত সেভাবে কাজটা করতে না পারা। দক্ষ ব্যক্তি দক্ষতা পেয়েছে কারণ কাজের মধ্যে কিছু সহজ সরল সমাধান সে বের করে কাজটাকে সহজ করে নিয়েছে। আর তা বের করেছে তার দীর্ঘ দিনের অভিঞ্জতা থেকে। নতুন বস এসে যদি দক্ষ ব্যক্তিকে অদক্ষ রাস্তায় কাজ করাতে থাকে তখন দক্ষ ব্যক্তির দক্ষতা কমে যাবে ও অসন্তোষ বেড়ে যাবে। আর এভাবে নতুন বস নতুন পরিবেশ দক্ষদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটাকে অন্যভাবেও আমরা বিবেচনায় আনতে পারি। একটা প্রতিষ্ঠান দুর্বল পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা পরিচালিত হতে হতে হঠাত সবল পরিচালনা পর্ষদ আসলে সবাই অধিক পরিমাণ কাজ ও নতুন ভাবে চাপের মধ্যে পড়ে। এটা স্বাভাবিক। মানুষ দীর্ঘদিন যদি চাপযুক্ত পরিবেশে থাকে তাতেই সে অভ্যস্ত হয়ে যায়। আবার চাপ হীন কর্মহীন পরিবেশেও মানুষ অভস্থ্য হয়ে যায়। শুধু সময়ের ব্যাপার। যে কোন পরিবেশেই মানুষ টিকে যেতে পারে।

টেনশন ও অস্থিরতা থেকে আমাদের সর্বদা বাইরে থাকতে হবে। টেনশন ও অস্থিরতা আমাদের শেষ করতে হবে। এর মধ্য থাকা চলবে না। আপাতত সহজ সমাধান হল কথা না  বলা ও ধৈর্য ধারণ করা। কারণ এই পৃথিবীর সবকিছুই পরিবর্তনশীল।

Thursday, March 3, 2016

একজন মেয়ের বাবার চিন্তা

হয়তবা অনেক দিন আগে থেকেই বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে পাগল ব্যতীত সকল মেয়ের বাবারা মেয়েদের নিয়ে চিন্তা করে থাকে। আমি যেদিন দুই ছেলের পর যখন এক মেয়ে আমাদের সংসারে আসল সেদিন আমার মেয়েকে নিয়ে আনন্দ হল। মনে পড়ল আমাদের প্রতি আমার বড় বোনের অবদানের কথা। সে ‌ছোটবেলায় আমাকে পড়িয়েছে। রান্না করে খাইয়েছে। আজ আব্বা ও আম্মার বৃদ্ধ বয়সে তাদের নিয়মিত দেখভাল করছে। একটা পরিবারের মেয়ে বাবা ও মায়ের বৃদ্ধ বয়সে ছায়ার মত পাশে দাড়াতে পারেন। তারই জীবন্ত উদাহরণ আমার বড় বোন। আমার দুই ছেলের পর মনে আকুতি ছিল আমার বড় বোনের মত একজন কন্যা পাওয়া। যে কিনা বৃদ্ধ বয়সে আমাকে দেখবে। ছেলেদের কাছে এটা আশা করা যায় না। কারণ আমার জীবন থেকে দেখেছি। আমি চাকুরীর সুবাদে দূরে থাকার কারণে আমি মাঝে মাঝে টাকা পাঠানো, দূর থেকে এ্যাম্বুলেন্স ও ডাক্তারের ব্যবস্থা করা ছাড়া অহরহ বাবা মায়ের পাশে গিয়ে খেদমত করতে পারিনি। অথচ আমার বড় বোন প্রায়শই ঢাকা থেকে গ্রামে আসে ও বাবা/মার পাশে থাকছে।
অথচ আমার অন্য কোন ভাইদের তা করা সম্ভব হয় না। মেয়েদের উপর সর্বদা পিতামাতার এজাতীয় নির্ভরশীলতা অনেক পরিবারেই একটা সহজাত বিষয়।
একারণে আমাদের দেশে পিতামাতারা বিশেষ করে মেয়েদের বিয়ে সংসার ইত্যাদি নিয়ে অনেক বেশী চিন্তা করেন। ছেলেদের বিষয়ে পিতামাতা তেমন একটা চিন্তা করেন না। কারণ ছেলেরা লেবারী বা যেকোন কাজ করে জীবন অতিবাহিত করতে পারবে। মেয়েরা কিভাবে বাঁচবে এটা নিয়ে তাই পিতা/মাতা যথেষ্ট টেনশনে থাকতে হয়। মেয়ের পাত্রস্থ করা আর পাত্র উপযুক্ত কিনা এটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ছেলেদের জন্য বিয়েটা তেমন একটা সমস্যা নয়। ছেলে বাজে মেয়ে বিয়ে করলে ছেলের বাবা ছেলেকে বউ সমেত আলাদা করে দিলেই হল। মেয়েদের ক্ষেত্রে উপযুক্ত পাত্র না পেলে সমস্যা ও চিন্তায় থা‌কে পরিবার। কারণ মেয়েরা স্বামী সংসার ফেলে যেন তেন ভাবে যেখানে সেখানে যেতে পারে না। সাধারণত তাকে নিকটাত্মীয়দের কাছেই ফেরত আসতে হয়। এটাই বড় সমস্যা। যে কোন মেয়ের কর্মজীবীই স্বামীই পরকীয়া বাদ দিলেও অন্য নারী‌দের সাথে বন্ধুত্বে জড়াতে পারে। এছাড়া পরিবারের জন্য সঞ্চয় না করে মেয়ের স্বামী নিজের বাবা মা ভাই বোনদের জন্য খরচ করার মত সমস্যা করতে পারে। এতে মেয়ের সংসার হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিবাহিত মেয়ের পরিবার হুমকির মুখে পড়লে পিতামাতা চিন্তায় পড়ে যায়।
এক‌টি জীবন উপাখ্যান তুলে ধরছি। আমার এক নিকট আত্মীয় তার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন একজন মাস্টার্স পাশ ছেলের কাছে। ছেলে গ্রাম থেকে সদ্য পাশ করা বেকার। ছেলেকে অনেক জায়গায় চেষ্টা করে ব্যর্থ হতে হয় কারণ ছেলে সবকিছুতে থা‌র্ডিভিশন প্রাপ্ত। বেকার ছেলে চাকুরী খুঁজতে খুঁজতে স্ত্রীকে শশুর বাড়ী রেখে ছেলে জন্ম দিয়ে ফেলল।
এরপর তাকে ঢাকায় ‌দোকানের ব্যবসা দেয়া হল। তাতে ফেল করে পরিবারের অন্য সদস্যের আর্থিক অবস্থার বারোটা বাজিয়ে ফেলল। পড়ে তাকে একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী দেয়া হল। এখানেও লালবাতি জ্বালাল। এরপর যে গ্রামে সে ছিল সেই গ্রামে তাকে একটা দোকান দিয়ে দেয়া হল। গ্রামে পাকা বাড়ী করে দেয়া হল। গ্রামে সে তার প্রতিবেশী আত্মীয়দের সাথে বিবাদ করে মারামারি মামলার আসামী হয়ে উপজেলা শহরে সপরিবারে ভাড়া বাসায় উঠল। আদালতের জামিন নিয়ে আদালতে নিয়মিত হাজিরায় থাকল। এরমধ্যে সন্তান সংখ্যা বেড়ে হয়ে গেল তিন। উপজেলা শহরে পুনরায় শশুরের ও আত্মীয়দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দোকানদারী শুরু করল। দোকানের আয় দিয়ে পেটে ভাতে চলতে লাগল। চার সন্তান জন্ম দিয়ে ফেলল। এর মধ্যে  চার সন্তান বড় হতে থাকে। পড়ার খরচ বাড়তে থাকে। শশুর তার পেনসন আর অন্য আয় থেকে নাতি নাতনীদের পড়ার খরচ, জামা কাপড়, বাড়ী ভাড়া ও দোকান ভাড়া দিতে থাকেন। সবই চলছিল মোটামু‌টি। এর মধ্যে শশুর অসুস্থ হলে শুরু হয় মেয়ের উপর আরেক বিপদ। স্বামীর সাথে সাথে পড়ুয়া ছেলেও চাপ সৃষ্টি করে মেয়ের বাবার কাছ থেকে টাকা আনার জন্য। মেয়ে  কান্না করতে করতে আসে আর অসুস্থ বাবার কাছে যা পায় তাই ভিক্ষা নেয়। বদ স্বামী তার সন্তানদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছে তাদের মা তাদের নানা নানীর কাছ থেকে টাকা না আনলে তাদের উপায় নাই। মেয়ের অসুস্থ বাবা ও মা যথাক্রমে ৮০ ও ৭৫ বছর বয়সে নিজেদের ঔষধ ও ভাল মন্দ খাবার না কিনে মেয়ের সংসার বাচাতে তৎপর থাকতে হচ্ছে। এ ধরনের গল্প অন্য কোন পরিবারে আছে কিনা আমার জানা নেই। কিন্তু এরা আমার নিকট আত্মীয় হওয়ায় এ ঘটনাগু‌লো পীড়া দেয়। আমার নিজের মেয়ের ভবিষ্যৎ কিভাবে বিপদমুক্ত করা যায় তা এখন থেকেই চিন্তা করি।
আমাদের বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়েটা এত বেশী সেনেসিটভ যে বিয়ের পর মেয়ের সমস্যা  নি‌য়ে অনেক বাবাকে কাঁদতে দেখেছি। এটার কারণ মূলত ইজ্জত। মেয়েদের যে কোন বিষয়ে পিতামাতা মনে করেন তাদের ইজ্জতের হানি হয়েছে।
মেয়ে বিয়ে দিয়ে অশান্তিতে কাটাচ্ছে অনেক অনেক পিতা মাতা। তাহলে সমাধান কি?
একটা সমাধান হল, কোন অবস্থায় যত শিক্ষিত পাত্রই হোক না কেন বেকার পাত্রের কাছে বিয়ে দেয়া যাবে না। যৌতুক দেয়া যাবে না। যৌতুক বেকার পুরুষকে আরো অকর্মণ্য করে। স্ত্রীকে যৌতুকের চাপ দিতে থাকে। ধীরে ধীরে সে অতি লোভে অমানুষ হয়ে যায়। প্রথম থেকেই শর্ত সাপেক্ষে বিয়ে পরিহার করতে হবে। বিয়ে করলে চাকুরী দিব এটাও পরিহার করতে হবে। যদি বেকার পাত্রের পরিবার চালানোর মত বাড়ী ভাড়া, জমির আয় বা এ ধরনের আয় থাকে তবে বিবেচনায় আনা যাবে। উচ্চশিক্ষিত বেকারের কাছে তখনই বিয়ে দেয়া যায় যদি মেয়ের কোন ইনকাম সোর্স থাকে বা মেয়ে চাকুরী করে।
মেয়ে বিয়ে দেয়ার আগে তাকে কর্মক্ষম বা রোজগার উপযোগী করাটা সবচেয়ে নিরাপদ। এতে আর যাই হোক মেয়ের স্বামীর সাথে সংসার হল কি হল না সেই চিন্তাটা আর থাকে না। তবে মাস্টার্স পাশ করে পরবর্তীতে চাকুরী জুগিয়ে পাত্র পেতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েদের বয়স হয়ে যেতে পা‌রে ২৬ থেকে ৩০ বছর। আবার ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে চাকুরী পেয়ে মেয়েদের বিয়ে করতে গিয়ে দেখা যায় খুব কম পাত্রই সমবয়সী বিয়ে করতে রাজি হয়। তবে সমবয়সী বেকার পাত্রই তখন ভরসা। সমবয়সী বেকার পাত্রদের আবার এমন হয় হয়ত সারা জীবনই মেয়েকেই  চাকুরী করে স্বামী সন্তানকে খাওয়াতে হয়। তবু ভাল এ ধরনের বেকার স্বামী নিয়ে চাকুরীজীবী মেয়েরা বাবা মার জন্য আর্থিকভাবে নিন্মমানের জীবন যাপন করা ছাড়া তেমন সমস্যা করে না।
একটা মেয়েকে নিরাপদ করতে হলে তাকে কর্মজীবী করতে হবে । যদি মেয়েকে কর্মজীবী করতে বেশী সময় প্রয়োজন হয়, তবে  বিয়ে দেয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে কোন অবস্থায়ই বেকার ছেলের কাছে নয়। বেকার ছেলের কাছে বিয়ে দিতে হলে অবশ্যই মেয়েকে উপার্জনক্ষম বা চাকুরে করতে হবে। মেয়েকে পড়া‌শোনা অবস্থায় বিয়ে দিলে তার জন্য বাড়ী ভাড়া, জমির আয়, ফিক্সড ডিপোজিট, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদির মাধ্যমে উপার্জনের ব্যাক আপ জরুরী। যেন যে কোন সময় স্বামীর সাথে ব্রেক আপ হলে সন্তানসহ ভদ্রচোতিত ভাবে জীবন ধারণ করতে পারে। যদি তা না হয় এবং বাবার আর্থিক অবস্থা ভাল না হয় তবে মেয়েকে ছোটবেলা থেকেই টিউশনি ও স্কুলে খন্ডকালীন শিক্ষকতা বা ইত্যাদি যে কোন অর্থ উপার্জনকারী কাজ ছাত্রী অবস্থায় শিখাতে হবে। এ ব্যবস্থা যদি কোন পিতা করতে না পারেন অবশ্যই মেয়েকে উপার্জনক্ষম না করে বিয়ে দেয়া অনুচিত। আমাদের সব কিছুই সব সময় একই অংকের অনুরূপ হবে তা নয়। অনেক ভিন্নতা থাকতে পারে। পরিশেষে আমাদের দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে মেয়েদের নিজের পায়ে দাড় করানো ব্যবস্থা ছাড়া তাদের জন্য সত্যিকার অর্থে আর কোন বিকল্প নেই। মেয়েকে উপার্জনক্ষম করতে পারলেই পিতামাতা চিন্তামুক্ত থাকতে পারবেন। আমাদের চারিপার্শ্বের সকল পিতামাতাকে সচেতন করাই হবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।