Pages

Thursday, November 24, 2016

একটি খুশীর দিন ও সেই সাথে দু:খের দিন

১৯৯০ সালের জানুয়ারিতে বিএমএ তে যোগদানের পর একটি বিষয় সেনা কর্মকর্তাদের চিন্তা চেতনায় টেনশনে মিশে যায় সেটা হল ঘাম ঝড়ানোর কসরত শারীরিক কসরতের পরীক্ষা ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর সকাল ০৬৩০ মিনিটে আমার সাথী অফিসারদের সাথে বিজিবি কুষ্টিয়ায় সেনা চাকুরীর সর্বশেষ তিন কি:লো: দৌড়টি নির্ধারিত ২৩ মি: সময়ের কয়েক মিনিট আগে শেষ করি এটা সকল সেনা অফিসারের জন্য একটা ঐতিহাসিক দিন দীর্ঘ চাকুরী জীবনে কষ্টকর ফিজিক্যাল ইফিসেন্সি টেস্ট(পিইটি) আর বর্তমানের ইন্ডিভিজুয়াল ফিটনেস টেস্ট(আইএফটি) শেষ করে সবাই যেন হাফ ছেড়ে বেচে যায় দিনের পর দিন ফিটনেসের জন্য চেষ্টা করা কঠোর পরিশ্রম করা নিয়মিত পিটি করে নিজেকে বছরের দুইবার ফিট প্রমাণ করার জন্য ছয় মাস পর পর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা সত্যি মহা টেনশনের সময় এই টেস্টে সবচেয়ে ভাল যে পারফর্ম করে তাদেরও আগের রাতে কিঞ্চিত টেনশন হয় ঘুম কম হয় খাওয়া দাওয়া কমে যায় ২০১২ সালের আগে ফিজিক্যাল টেস্ট আরো কঠিন ছিল পরবর্তীতে অন্যান্য দেশের উন্নত আর্মির আদলে আমাদের দেশের সেনাবাহিনীর ফিটনেস পরীক্ষা আরো স্বাস্থ্য সম্পন্ন করা হয় বর্তমান ফিটনেস টেস্ট বয়সের সাথে পরিবর্তনশীল হওয়ার কম বয়সী জুনিয়ার অফিসার সৈনিকদের জন্য আইএফটি ভয়ানক আতংক 
বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমীর(বিএমএ) দুই বছর সহ ২৭ বছরে প্রতি ছয়মাস পর পর এই ফিজিক্যাল টেস্টের আতংক পেরুতে হত আজ ৫৪টি ফিজিক্যাল টেস্ট সম্পন্ন করার পর যখন ৪৫ বছর বয়সের কারণে মা পেলাম তখন ভয়ানক খুশী হওয়ার কথা কিন্তু কেন যেন খুশী লাগছে না যদি বলা হয় আবার ফিজিক্যাল টেস্ট শুরু হউক আলাদা সময়ে আলাদা বয়সে মনে হয় মনটা সায় দিবে না কারণ আমার আগে যারাই ৪৫ বছরের উপরে গিয়েছে তারাই মাফ পেয়েছে তাহলে সেধে সেধে কেন আমার মনে পিইটি বা ফিজিক্যাল টেস্টের আতংকের মধ্যে ঢুকব আজ থেকে দশ বার বছর আগে একজন আর্মি ডাক্তার আমার বাৎসরিক প্রতিবেদনের মেডিক্যাল টেস্টের সময় বলেছিলেন সৈনিক জীবনের সবচেয়ে বড় ওয়েলফেয়ার হল ছয় মাস পর পর পিইটি এটা আছে বলেই অধিকাংশ সেনা সদস্য অনেক ধরনের রোগ থেকে মুক্ত এটা শেষ করার পর অনেক সেনা সদস্য রোগাক্রান্ত হয় ৪৫ বছরের উপরের সেনাবাহিনীতে রোগীর সংখ্যা আনুপাতিক হারে বেশী আমি একবার চট্টগ্রামের হালিশহরে আর্টিলারি সেন্টারে ২০১০ সালে কিছু শ্রীলংকান অফিসারের সাথে ইউনিট কমান্ড কোর্স করি সেখানে একজন শ্রীলংকান লেফটেন্যান্ট কর্নেল ছিলেন সে ছিপছিপে গড়ন আর সে নিয়মিত তিন কি:মি: দৌড়াতেন তার বয়স ছিল তখন ৪৭ বছর তার কাছে জানতে চাইলাম এই বয়সে সময় ধরে দৌড় দিচ্ছেন ঘটনা কি আপনার ৪৫ বছর উপরে নিশ্চয়ই পিইটি নেই তবে কেন এই দৌড় সে জানাল তাদের রিটায়মেন্টে যাওয়া ছাড়া দৌড়ের কোন শেষ নেই জেনারেল থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সুবেদার মেজর সবাইকে ফিজিক্যাল ফিটনেস টেস্ট দিতে হয় অবশ্যই বয়সের সাথে সাথে টেস্টও সহজ সহনশীল হতে থাকে সে চাপা মেরেছিল কিনা আমি অবশ্য ভেরীফাই করতে পারিনি মজার বিষয় হল, টেস্ট যতই সহজ হোক টেস্টের আতংকে নিয়মিত শারীরিক অনুশীলনের একটা চাপ থেকেই যায় এই আতংক আর যাই হোক না কেন কিছু ক্যালরি বার্ন করায় সুস্থ থাকার পথ সুগম করে যদিও ওজন নিয়ন্ত্রণের রাখার চেষ্টায় বেশীরভাগ সচেতন সেনা সদস্য ফিট থাকে ১৯৯০ হতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আল্লাহর অশেষ রহমতে বিএমএর এমআইরুমে একবার চোখের কনজাংটিভাইটিসের জন্য এ্যাডমিট হয়েছিলাম এছাড়া বিএমএসহ দীর্ঘ ২৭ বছরে আল্লাহ সুস্থ রেখেছেন সিএমএইচে কখনও আমাকে ২০১৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এ্যাডমিট হতে হয়নি আমার কাছে মনে হয় পিইটি আতংকে নিয়মিত পিটি করা আর ওজন কমানোর সেনা নিয়মের কারণে এই সফলতাটা ভাগ্যে জুটেছে তাই পিইটি বিদায় দেয়ার সাথে সাথে মনে মনে ভয় পাচ্ছি গতকালও সকাল বিকাল কষ্ট করে হাটাহাটি দৌড়াদৌড়ি করছিলাম পিইটি আতংকে আগামীকাল তো সেই আতংক নেই তবে কি আমার সেই হাটা দৌড় নিয়মিত করে যেতে পারব মনে পরে কম চাকুরীর বয়সে যখন কেয়ার লেসের মত মাঝে মাঝে পিইটি ফেল করলে সিনিয়ররা লাগাতার পিইটি অনুশীলন লাগিয়ে দিতেন এতে ভয়ানক কষ্ট হতে থাকলেও মনে হয় এজন্য আজতক সুস্থ থাকতে পেরেছিলাম অনেক সাধনা করে আজ প্রায় পাঁচ বছর সিগারেট ছেড়ে দিয়েছি তারপরও ভয় হয় কখন বুক হাত দিয়ে কাত হয়ে পড়ে যাই মরণ আমাদের সকলের জন্য অবধারিত তথাপিও আমাদের মাঝে কেহ সত্তর, কেহ আশি আবার কেউ বা নব্বই ক্রস করে তখন তাদের মত আয়ু পেতে লোভ হয় তার জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণ আর নিয়মিত শরীর চর্চার কোন বিকল্প নেই যেই পিইটি আতংকে আজতক সকাল বিকাল হাটা দৌড় করে যাচ্ছিলাম সেটি চলে যাওয়ায় নতুন অনুপ্রেরণায় নিজেকে তৈরি করে নিতে হবে যুগ যুগ ধরে আমার মত সহস্রাধিক সেনা সদস্য ফিটনেস টেস্ট অতিক্রমণের পরও কঠিন অধ্যবসায়ে নিজেকে সুস্থ নীরোগ রেখেছেন সেইরূপ নিজেকেও একই অনুপ্রেরণায় সকালে হাটা দৌড়ের অভ্যাসে নিয়োজিত করতে হবে তাতেই রয়েছে সুস্থতা আরো অনুপ্রেরণা পাই আমার সেনা জীবনের অকালে অবসর নেয়া এক বন্ধু আজও মাইলের পর মাইল সাইক্যাল চালায়, সাতার কাটে প্যারাসুট/গ্লাইডার নিয়ে জাম্প দেয় আমরা নিশ্চয়ই সকলেই কোন না কোন ভাবে নিজেদের সুস্থ থাকার পথ বের করে নেই হয় খেলাধুলা বা অন্য কোন ভাবে আমরা সকলে সুস্থ থাকার চেষ্টায় নিয়োজিত থাকব সেই হোক আমাদের প্রত্যয়

Thursday, November 17, 2016

পরিবেশ রক্ষা গতিশীল করা জন্য টেসলার বৈদ্যুতিক কারের প্যাটেন্ট উন্মুক্ত


মনে করুন, আপনি একটা চমৎকার গাড়ী তৈরি করলেন। গাড়ীটি পরিবেশ বান্ধব। আপনি পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে নিয়োজিত প্রাণ। আপনি জানেন আপনার গাড়ীটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গাড়ী, গতিতে সেরা, কমফোর্ডে সেরা, নিরাপত্তায় সেরা, মূল্য প্রতিযোগিতামূলক। আপনার গাড়ীর প্রিঅর্ডার অনেক। আপনি নিশ্চিত বছরের পর বছর বছর আপনি ব্যাপক উৎপাদন করতে পারবেন। আপনার অর্থ যোগান দাতার অভাব নেই। তারপরও কি আপনি এর প্যাটেন্ট উন্মুক্ত করবেন।
এমনই একটি পাগলামি পৃথিবীর ৮৩ তম সেলফ মেইড বিলিয়নিয়ার আমেরিকার তেসলা কার কোম্পানির সিইও ইলন মাস্ক তেসলা কারের প্যাটেন্ট উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। তার বক্তব্য পৃথিবীর কার্বন নি:স্মরণ ভয়াবহ অবস্থায় আছে। তার কোম্পানি প্রতি বছর পাঁচ লক্ষ কার উৎপাদনের ক্ষমতা অর্জন করবে ২০১৭ সালে। এতে সারা পৃথিবীর তৈলের গাড়ীর হয়ত ৫ ভাগও সে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। অথচ তৈল চালিত গাড়ী দিনকে দিন বেড়ে চলেছে। তাই সে ঘোষণা দিয়েছে যে কেউ তার গাড়ী অনুকরণ করে তৈরি করতে পারে। তার একটাই লক্ষ্য তার কোম্পানির লাভ নয় বরং পৃথিবীর কার্বন নি:স্মরণের পরিমাণ কমে যাক। আমার কাছে মনে হয় এটা বিরল ও মহান মানসিকতা। মাইক্রোসফট, এ্যাপল ও পৃথিবীর জায়েন্ট কোম্পানি তাদের প্যাটেন্ট উন্মুক্ত করে দেয়নি। কোম্পানির টিকে থাকার জন্য এটা অত্যাবশ্যক। কিন্তু ব্যতিক্রম ধর্মী ইলন মাস্কের বক্তব্য আপনি যে প্রোডাক্ট তৈরি করবেন তা হতে হবে বাজারের সকল প্রচলিত প্রোডাক্টের সেরা। অল্প সেরা হলে হবে না। তা হতে হবে দীর্ঘ দিনের জন্য সেরা। এতে আপনার বিঞ্জাপনে টাকা খরচ করতে হবে না। বিঞ্জাপনের টাকার আরএন্ডডি ও মূল্য কমানোর কাজে ব্যবহার করা যাবে। কোন বিঞ্জাপন ছাড়াই সারা পৃথিবী ব্যাপী তার কারের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। শত শত ভলান্টিয়ার ইউটিউবে তার কারের আপডেট দিচ্ছে।শত শত নিউজ মিডিয়া তাকে নিয়ে ব্যস্ত। তাই বিঞ্জাপন না দিলেও বেস্ট প্রডাক্টের কারণে তার পক্ষে লক্ষ লক্ষ মানুষ তার প্রডাক্টের প্রচারণা করে দিচ্ছে। তার গাড়ী বিক্রয়ে মধ্যসত্ব ভোগী নেই। সবাই অনলাইনে অর্ডার দিচ্ছে তার প্রতিনিধি হোম ডেলিভারি করছেকোন প্রডাক্ট বিক্রিতে এটা একটা যুগান্তকারী ধারনা। এজন্য আমেরিকার বেশ কিছু প্রদেশের কার ডিলাররা তাকে বয়কট করেছে। তার বক্তব্য পরিষ্কার ডিলার নিয়োগ করলে কারের দাম বেড়ে যাবে। দামটা মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে রাখতে ডিলার নিয়োগ করা যাবে না।
এ্যাপলের গাড়ী কোথায় তৈরি হচ্ছে কেউ জানে না। অথচ ইলন মাস্ক তার গিগা ফ্যাক্টরির কর্মকাণ্ড সবাইকে ডেকে ডেকে দাওয়াত দিয়ে দেখাচ্ছে কোন গোপনীয়তা নেই। প্যাটেন্ট উন্মুক্ত করার কারণ সে জানে তার গাড়ীটা সেরা গাড়ী। তার  আরএন্ডডি টীম নতুন নতুন মডেল তৈরি করতে থাকবে। তার উন্নয়ন থেমে থাকবে না। তার আরএন্ডডি শুধু তার কোম্পানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সারা পৃথিবীর যে কেউ তাকে আইডিয়া দিতে পারে এবং বাছ বিচার করে সেরা আইডিয়া সে উচ্চমূল্যে গ্রহণ করছে বা গ্রহণ করতে প্রস্তুত। এহেন চেলেঞ্জিং মানসিকতার ব্যক্তিরাই প্যাটেন্ট উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিতে পারেন। আমার এক ক্যাডেট কলেজ বন্ধু ছিল সে শুধু তার নোট সবাইকে দিত আবার পুনরায় নতুন নোট বানাত। সে বোর্ড পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিল। তার নোট সবসময় পরিবর্তনশীল ছিল। ইলন মাস্ক আইডিয়ায় ভরপুর ব্যক্তি সে ভাল করেই জানে তার প্যাটেন্ট উন্মুক্ত করলেও তার আরএন্ডডি এত শক্তিশালী তার উন্নয়নের সাথে অন্যরা টেক্কা দিতে পারবে না। সবচেয়ে বড় বিষয়টি হল সে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তির জন্য নিবেদিত প্রাণ। পৃথিবীর কার্বন নি:স্মরণ কমানো তার ধ্যান ও জ্ঞানে বিদ্যমান। তাই তার গাড়ী নকল করে লক্ষ লক্ষ পরিবেশ বান্ধব গাড়ী তৈরি হোক সেটা সে মনে প্রাণে চাইছে।
টেসলা গাড়ী কিনলে আমেরিকার যে কোন স্থানে বিনা খরচে টেসলা সুপার চার্জার স্টেশন থেকে সারা জীবন গাড়ী বিনা খরচে চার্জ করা যাবে। এ ধরনের সুবিধা দেয়ার মানসিকতা সাধারনত কোন ব্যবসায়ীর হবে কিনা বলা দূষ্কর। সারা জীবনের দায়িত্ব নেয়া। সত্যিই বিশাল ব্যাপার।

আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশ রক্ষায় ইলন মাস্কের এ ততপরতায় আমরা সাধুবাদ জানাতে পারি। এরুপ আরো কিছু মানুষ পরিবেশ রক্ষায় নিবেদিত প্রান হলে পৃথিবীটা আরো বেশী সুন্দর হত।

Thursday, November 10, 2016

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ডাইরেক্ট ড্রাইভ প্রযুক্তি

আমরা কোন মটরকে বেল্ট, পুলি, গিয়ার ইত্যাদি যে কোন মাধ্যমের সাহায্যে ঘূর্ণন শক্তিকে অন্য মাধ্যমে স্থানান্তর করে ধান মাড়াই, আখ মাড়াই ইত্যাদি অনেক অনেক কাজে ব্যবহার করি। পওয়ার টিলার, গাড়ীর ফ্যান বেল্ট ইত্যাদি অনেক স্থানে আমরা রাবারের বেল্ট ও পুলি ব্যবহার করি। প্রায় সমস্ত গাড়ীতেই আমরা গিয়ার বক্সের মাধ্যমে পাওয়ার ট্রান্সমিট করি। আমরা মটর থেকে যে কোন মাধ্যমে পাওয়ার ট্রান্সমিট করলেই পাওয়ার লস হয়। তাই কোন মাধ্যম না নিয়ে মটর দিয়ে যে কোন মেশিন ডাইরেক্ট চালনা করলেই পাওয়ার লস কম হবে। যেমন পানির মটর দিয়ে ডাইরেক্ট পানির পাম্প চালনা করা হয়। আমরা অনেক কিছুই সরাসরি মটর দিয়ে চালাই। এটাই এ্যাফিসিয়েন্ট ব্যবস্থা। আমাদের আশে পাশে সাধারণ বৈদ্যুতিক মটরগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট আরপিএম এ ঘুরে। তবে বর্তমানে ভেরিএ্যাবল আরপিএম বা স্পীড বাড়ানো কমানো যায় এ ধরনের মটর বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। সনাতন মটরগুলো কার্বন ব্রাশের মাধ্যমে মটরের বিদ্যুৎ কয়েলে পৌছায়। এই ব্রাশ দীর্ঘদিন চলার ফলে স্বাভাবিক নিয়মে ক্ষয় হয়। এতে তার ও স্ফুলিঙ্গের মাধ্যমে বিদ্যুতের অপচয়ও হয়। এ ব্রাশলেশ মটর বিঞ্জানের নতুন আগমন। ডাইরেক্ট ড্রাইভে ঘর্ষণ জনিত ক্ষয় না থাকায় অনেক অনেক দিন মটরগুলো স্থায়িত্ব পায়। কোন কোন ম্যানুফেকচারার এগুলো দশ বছর পর্যন্ত গ্যারান্টি ও ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে। ভেরিয়েবল স্পীড মটর সাধারনত ডিসি পাওয়ারের হয়ে থাকে তবে এসি ইনডাকশন মটরও বর্তমানে ভেরিয়েবল স্পিডের তৈরি হচ্ছে। ডিসি মটরের মধ্যে ইনভার্টর এসির কমপ্রেসর মটর এ ধরনের প্রযুক্তি। বর্তমানে গাড়ীতে ব্যবহার হচ্ছে হাই স্পীড এসি মটর এর ব্রাশ নেই। স্পীড ভরিয়েবল করা সম্ভব। যে কোন মটরের স্পীড ভেরিয়েবল বা গতি কম বেশী করতে পারলে তার জন্য আর গিয়ারের প্রয়োজন হবে না।

আগেকার দিনের ওয়াশিং মেশিনে পুলি দিয়ে ওয়াশিং মেশিনের ড্রামকে ঘুরানো হত। এতে পুলির রাবার বেল্ট প্রায়শই ছিঁড়ে যায়। রাবারের ব্যাল্ড ও পুলি ব্যবস্থাপনায় অনেক অনেক পাওয়ার অপচয় হয়। ব্রাশলেছ ভেরিয়েবল স্পীড মটর দিয়ে সরাসরি ড্রামটি চালনা করলে এতে অনেক অনেক বেশী পাওয়ার এ্যাফিসিয়েন্সি পাওয়া যাবে। ওয়াশিং মেশিন  দীর্ঘদিন টিকবে ও কম বিদ্যুৎ খরচ করবে।

বাই সাইক্যালে হাব মটর নামে ডাইরেক্ট ড্রাইভ মটর এখন চালু হয়েছে। সাইক্যাল কোন চেইনের মাধ্যমে পাওয়ার ট্রান্সফার না হয়ে সরাসরি চাকাকে চালনা করে। এতে সাইক্যালের চেইনের মাধ্যমে যে ইনএ্যাফিসিয়েন্সি হয় তা দূর হবে। আবার সাইক্যালের শক্তি বাড়ানোর জন্য দুই চাকায়ই এ ধরনের হাব মটর সেট করা যেতে পারবে এতে স্বাভাবিক ভাবে শক্তি দ্বিগুণ হয়ে যাবে।


যে কোন পাওয়ার ট্রান্সমিশন হলো পাওয়ার লস তা আমরা বেল্টের মাধ্যমে, পুলির মাধ্যমে, ঘর্ষণের মাধ্যমে, চাকার মধ্যমে, শ্যাফর্টের মাধ্যমে ও গিয়ারের মাধ্যমে করি না কেন, লস থাকবেই। তাই যত কম পাওয়ার ট্রান্সমিশন করা যায় ততই লাভ ও এ্যাফিসিয়েন্ট সিস্টেম। গাড়ীর চার চাকা একটি মটর দিয়ে চালানো যায়। আবার চার চাকায় চারটি মটর দিয়েও চালানো যায়। একটি বড় ৪০০ হর্স পাওয়ারের মটর দিয়ে আপনি গিয়ার ও শ্যাফটের মাধ্যমে গাড়ীর চার চাকায় ড্রাইভ দিলেন। একই কাজ আপনি চার চাকায় চারটি ১০০ হর্স পাওয়ারের ছোট মটর আপনি চারটি চাকায় লাগাতে পারেন। এ মোটরগুলো হতে পারে ভেরিয়্যাবল স্পীডের মটর । এতে আপনার গিয়ার ও শ্যাফটের মাধ্যমে পাওয়ার ট্রান্সমিশনের লস কমাতে পারবেন। আধুনিক গতিশীল ইলেকট্রিক গাড়ীগুলো মূলত ডাইরেক্ট ড্রাইভ মটরের মাধ্যমেই তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। এতে বড় বড় মটর লাগিয়ে হেভি গাড়ী তৈরির প্রয়োজন পড়বে না। রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমে যাবে। বৈদ্যুতিক গাড়ীতে বিদ্যুৎ খরচ কম হবে। পাওয়ার ট্রান্সমিশন লাগবে না বলে জটিল যন্ত্রপাতির খরচও অনেক কমে যাবে। যন্ত্রপাতি কম থাকায় গাড়ী কম নষ্ট হবে। চারটি মটরের যে কোন মটর নষ্ট হলে চাকাসহ মটরটি বদল করে নিলেই বৈদ্যুতিক গাড়ীটি পুনরায় চলার উপযোগী হবে। স্পেয়ার হুইলের মত সহজেই টেকনিশিয়ান ছাড়াই গাড়ীর চালক চাকা সহ যে কোন মটর বদল করলেই গাড়ী পুনরায় চলবে। এতে প্রয়োজন পড়বে না ট্রান্সমিশন ওয়েল বদলীর মত ও অন্যান্য জটিল রক্ষণাবেক্ষণ। ডাইরেক্ট ড্রাইভ জ্বালানী সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়সহ রক্ষণাবেক্ষণ খরচে একটা বিপ্লব সৃষ্টি করবে বলেই ধারনা করা যায়। আগামী দিনের জন্য ডাইরেক্ট ড্রাইভ প্রযুক্তি সবক্ষেত্রে ব্যাপক ভাবে প্রচলন হবে এটাই আমাদের সকলের আশা।

Thursday, November 3, 2016

বড় বড় সাইজের লেজারে বড় বড় কাজের প্রদর্শন


আমি বিভিন্ন অফিসে ব্যাংকে বিশাল লেজার বই অনেক পুরানো অনেক মোটা বড় বড় বই দেখে আমরা ভড়কে যাই। মনে হয় কি বিশাল লেখাপড়াই না হচ্ছে। আগের দিনের বড় মোটা বই নিয়ে টেবিলের উপর রেখে সরকার মশাইরা লেখালেখিতে বসতেন। আমি আমার অফিসের কিছু বড় বড় লেজার বা বই নিয়ে গভেষনা করে দেখলাম এগুলো ছোট করা যায় কিনা। মজার বিষয় হল সব লেজারই এ-ফোর সাইজের মধ্যে লম্বা বা চ্যাপ্টা করে করা যায়। আবার কলাম বেশী হলে কলামের মূল হেডিং ঠিক রেখে হেডিং বাদ দিয়ে কাগজ কেটে কেটে অসংখ্য কলাম করা যায়। এ লেখার শেষে একাধিক কলামের বিষয়ের প্রক্রিয়াটির আরো বিশদ আলোচনায় যাব। তাহলে এত বড় রেজিস্টার কেন? আমি অনেক একাউন্ট ক্লার্ককে এ ধরনের লেজার থেকে মুক্ত হতে বললাম। তারা কেন জানি মন খারাপ করল। আমার মনে হল, যে কোন পরিবর্তন আমরা সহজে গ্রহণ করতে চাই না। আমরা যে কোন বিষয়ে এমনকি তা যদি কঠিনও হয় তাতে অভ্যাস হয়ে গেলে তার থেকে বের হতে পারি না। অর্থাৎ কোন একটা কমফোর্ট জোনে সেট হলে তার থেকে বের হওয়া  কঠিন। আমরা এখনও অনেক প্রতিষ্ঠানে দেখতে পাই বিশাল বিশাল লেজার যা নাড়া চাড়া করার জন্য কমপক্ষে দুইজন প্রয়োজন।


আমি চাকুরীর প্রথমে যখন দেখতাম বিশাল বিশাল লেজার নিয়ে একাধিক ব্যক্তি হাজির কর্মকর্তার সাক্ষর করানোর জন্য। তখন সত্যি বেশ হাসিও পেত। বিরক্তিও পেত। তখন থেকে আমার ইচ্ছে ছিল যখনই সুযোগ পাব তখনই লেজারগুলো ছোট করে ফেলব। এভাবে অনেক আপত্তি সত্ত্বেও আমি অনেক স্থানের লেজার ল্যান্ড স্কেপ লিগ্যাল পেপার সাইজে আনতে পেরেছি। আমার সাথে দ্বিমত কারী ক্লার্ককে বলেছিলাম, কোন ডিটেল আমি কমাইনি। কোন কলাম কমাইনি। তাহলে সমস্যা কোথায়? সমস্যা হল মাইন্ড সেটে। আজকের যুগে বড় বড় লেজার ভীতিকর। মনে হচ্ছে অনেক বড় বড় কর্মযঞ্জ হচ্ছে।বড়সড় বই থেকে ছোট আকারের বই বহন করতে যেমন সুবিধা তেমনি ছোট জায়গায় বের করে লেখা যায়। আর সেসব বইগুলো বড় জায়গা নিয়ে বসতে হয়। আজকের যুগে আমাদের অপ্রয়োজনীয় ও ভাউতাবাজি কাজের কোন সুযোগ নাই। বড় বড় লেজারগুলো বেশী বড় বড় কাজের প্রদর্শন করে একটা ভাউতাবাজি পরিবেশের সৃষ্টি করে। সবচেয়ে ভাল হয় কম্পিউটারে সমস্ত লেজার আপডেট করা। তারপর সাপোর্টিং হিসাবে প্রিন্ট করে বছর ওয়ারী বাধাই করে রাখা যায়। আধুনিক ব্যাংকগুলো অবশ্য তা করছে। কম্পিউটারে প্রিন্ট করে নিলে তা ছোট ফন্টে এ-ফোর সাইজ কাগজে সংরক্ষণ করা সম্ভব।
একজন ক্লার্কের সাধারণ ভাবে এক্সেলে কিছু ঞ্জান সঞ্চয় করতে পারলেই একাউন্টিং ও লেজারের অনেক কাজ সে নিজের মেধা ও মনন খাটিয়ে করে নিতে পারবে। প্রতিষ্ঠানের ছোট খাট কোন কাজে সাধারণত এক্সেলই যথেষ্ট। এর জন্য অনেক টাকা খরচ করে কাস্টমাইজড সফটওয়্যার তেমন জরুরী নয়।


আবারও আসি ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। আপনি একদম ডিটার-মাইন্ড যে কম্পিউটারে কোন কাজ করবেন না। যা করবেন তা খাতায় লিখিত ভাবে করবেন। অনেক কম্পিউটারে কোন কাজ করতে চায় না নিরাপত্তার ভয়ে। কম্পিউটারের যে কোন ফাইল ও তথ্য সবচেয়ে সহজে পাচার করা যায়। সেজন্য সরকারী ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে অনেক প্রতিষ্ঠানই ম্যানুয়াল লেজার সংরক্ষণ করতে চাইবেন। এতে অনেক কলাম তৈরি করা ছোট লেজারের জন্য একটা বড় সমস্যা। প্রথমত: লেজারের লাইন বা রো-তে কোন সমস্যা নেই। লাইন বা রো বাড়াতে হলে পরের পেইজে চলে গেলেই হল। সমস্যা কেবলমাত্র কলাম নিয়ে। এটাও কোন সমস্যা নয়। এটাও অন্য পৃষ্ঠায় পার করা যাবে। তার আগে লেজারের মেইন কলামের লাইন বা রো এর মুল ক্রমিক ঠিক রেখে পরের পৃষ্ঠাগুলো প্রথম বা দ্বিতীয় কলাম বরাবর কেটে ছোট করে নিলেই একাধিক পৃষ্ঠা সহ একাধিক কলাম দেয়া যাবে। একটা সম্পূর্ণ হিসাব শেষ হলে পুনরায় একই ভাবে প্রথম কলাম স্থির রেখে অন্য পাতাগুলো কেটে নিয়ে অনেক কলাম বসানো যাবে। অনেক সময় এ,বি,সি লিখে অনেক নোটবুকে মার্ক স্থাপনের জন্য প্রথম কলামে কেটে রাখা থাকে। পদ্ধতিটিতে ওই ধরনের নোট বুক আকারে কাটা হয়। তবে এতে কেবলমাত্র লাইন বা রো এর ক্রমিক বরাবর অন্য কলামগুলি আনার জন্য প্রথম কলাম স্থির রেখে প্রথম কলামের প্রস্থের মাপের পর অন্য পৃষ্ঠাগুলো আড়াআড়ি কেটে ফেলা হয়। এতে অগণিত কলাম ও অগণিত পৃষ্ঠা প্রথম কলামের বরাবরের লাইন ও রো ঠিক রেখে তৈরি করা যায়। পরিশেষে বলব, লেজারিং কাজকে জটিল না করে আমরা সহজে বহনযোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য লেজারের মাধ্যমে করতে পারি।

Thursday, October 27, 2016

দেশের গাড়ীগুলো পরিবেশ বান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ীতে রূপান্তর করা প্রয়োজন

সারা পৃথিবীতে বৈদ্যুতিক গাড়ী ব্যবহার একটা আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। আমেরিকার অনেক শহর, চীনের অনেক শিল্প নগরী ধোয়ায় ঢেকে আছে, সেসব শহরে অতি দ্রুত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের নি:গমন কমাতে হবে। শহর গুলোতে বাতাসে ৫১% দূষণ হয় গাড়ীর ধোয়া হতে। বাংলাদেশের রাজশাহী ব্যাটারির গাড়ীর ব্যবহার উৎসাহিত করে ও অনেক গাছ পালা লাগিয়ে ২০১৬ সালের প্রথম দিকে পৃথিবীর সবচেয়ে সফল দূষণ কমানোর জন্য বিশ্বের সকল শহরের মধ্যে ১ম স্থানটি অর্জন করেছে। যারা স্বীয় চেষ্টায় পরিবেশের দূষণ রোধ করতে পেরেছে। বাংলাদেশের একটা সিটি কর্পোরেশন পৃথিবীর বুকে ১ম অবস্থানে আছে। আমাদের এই উদাহরণ পৃথিবীর বড় বড় শহর গুলির জন্য অনুকরণীয়।

বাংলাদেশের ঢাকা শহরে অতিদ্রুত তৈলের গাড়ী বর্জন করে ইলেকট্রিক সিস্টেমে ট্রেন, মেট্রো, বাস ,কার ও অটো রিক্সা ব্যাপকভাবে প্রসারিত করা প্রয়োজন। সরকারী কোন ট্রান্সপোর্ট ইলেকট্রিক সিস্টেম ব্যতীত পরিকল্পনা করা অনুচিত। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশই ২০২০ থেকে ২০৩০ এর মধ্যে তৈলের গাড়ী হটানোর পরিকল্পনা করেছে। সবাইকে ইলেকট্রিক কার চালনায় উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আমাদের দেশের মানুষের কাছে সেই দিন এটা জনপ্রিয়তা পাবে যেদিন এটার মূল্য কমে আসবে। হাইব্রিড গাড়ীতে থাকে  সাধারণ পেট্রোল ইঞ্জিন আর সাথে যোগ হয় ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক মটর। যারা অল্প দূরত্বে ভ্রমণ করেন ও কেবলমাত্র শহরে গাড়ী চালান তারা ইন্টারনাল কম্বারসন ইঞ্জিন বা আইসি ইঞ্জিন বাদ দিতে পারেন। শুধুমাত্র ব্যাটারি দিয়ে গাড়ী তৈরি করে নিতে পারেন। হাইব্রিডের গাড়ীর মধ্যে আছে মূলত: দুই ধরনের। প্যারালাল ও সিরিজ বা প্লান ইন হাইব্রিড। প্যারালাল হাইব্রিড যখন বেশী শক্তি প্রয়োজন তখন চলবে তৈলে আর যখন গতি কম তখন চলবে ব্যাটারিতে। আবার গাড়ীর গতি কমালে ও ব্রেক চাপলে সেই শক্তি পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ব্যাটারিতে জমা হবে। এতে প্রায় ১০% বিদ্যুৎ রিজেনারেশন ব্রেক সিস্টেম থেকে পাওয়া যাবে। অপরদিকে সিরিজ হাইব্রিড প্রধানত চলবে চার্জকৃত ব্যাটারিতে। যখন ব্যাটারির চার্জ শেষ হবে তখন তার তৈলে চালিত জেনারেটর চালু হবে। যা কিনা গাড়ীর মটরে বিদ্যুৎ দিয়ে গাড়ী চালাবে ও ব্যাটারি চার্জ করবে।
চীন এখনও ইলেকট্রিক কার তৈরি করে ব্যাপক হারে নিজ দেশের বাজার সয়লাব করতে পারেনি। তাই আমরা ব্যাপক হারে চাইনিজ ইলেকট্রিক কার বাজারে দেখছি না। আমরা যে হারে চাইনিজ ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা দেখছি সেই হারে বৈদ্যুতিক কার চায়না আমাদের দেশে পাঠায়নি। চায়না ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের সমস্ত কার ইলেকট্রিক করে ফেলবে। ইলেকট্রিক কারের উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি এখনো আমেরিকার মধ্যেই মূলত: সীমাবদ্ধ। শ্রীঘই সমস্ত পৃথিবীতে বৈদ্যুতিক কারের বিস্ফোরণ হবে। ভারত ব্যাপক হারে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০০৮ সালে যখন বৈদ্যুতিক গাড়ী চালু হওয়ার পরে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি প্যাকের দাম ছিল প্রায় কিলোওয়াট প্রতি ১০০০ ডলারের উপর। এই মূল্য ২০১৫/২০১৬ সালে এসে ২০০ ডলার পার কিলোওয়াট এসেছে। এটা দেখা যাবে ১০০ ডলার পার কিলোওয়াট মূল্যে চলে আসলেও আশ্চর্য হওয়ার কোন কারণ নেই। কারণ বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ীর চাহিদা বাড়লে ব্যাটারির উৎপাদন বাড়বে ও মূল্য কমবে। বৈদ্যুতিক ব্যাটারি সম্পূর্ণ রিসাইক্যাল করা যাবে। অনুরূপ ভাবে গাড়ীর প্রতিটি জিনিষ রিসাইক্যাল আইটেম দিয়ে তৈরি এবং পুনরায় রিসাইক্যাল করা যাবে। এভাবে বৈদ্যুতিক গাড়ীর আইডিয়ার সাথে সাথে একে আরো পরিবেশ বান্ধব ভাবে চিন্তা করা হয়েছে। একটা তৈলের জ্বালানীর গাড়ীকে বৈদ্যুতিক গাড়ীতে রূপান্তর করতে আমাদের প্রয়োজন হবে চার্জ কন্ট্রোলার, ব্যাটারি, ইনভার্টর (যদি এসি মটর হয়), শক্তিশালী মটর। আমাদের সকল গাড়ীতে কিন্তু স্টার্টর মটর আছে। আমাদের প্রয়োজন হবে এর চেয়ে বড় মাপের মটর। আমাদের গাড়ীতে ব্যাটারি আছে। প্রয়োজন হবে এর চেয়ে বেশী শক্তির একাধিক ব্যাটারি।
এখন আসি গাড়ীর জ্বালানী খরচ। একটা গাড়ী যদি ১০০ কিমি রেঞ্জের হয় তাহলে এতে ১৭/১৮ কিলোওয়াটের ব্যাটারির প্রয়োজন হবে। বর্তমান বাজার দরে এর দাম ৩৫০০ ডলারের নীচে হবে অর্থাৎ টাকায় দাম হবে ২৮০০০০ টাকা। এই  ব্যাটারির প্যাক দিয়ে যাতায়ত করা যাবে আনুমানিক ২৩০০০০ কি:মি। সারা বছর গাড়ীর জন্য বিদ্যুৎ চার্জে আমেরিকানরা বিদ্যুৎ বিল দেয় ২৫০ ডলারের মত। এতে ব্যাটারির পূর্ণ লাইফ চালাতে ৬ বছরে ১৫০০ ডলার বিদ্যুৎ খরচ ধরা যায়। সর্বমোট খরচ ৫০০০ ডলার বা ৪,০০,০০০ টাকা। তাহলে কিলোমিটার প্রতি খরচ ৪,০০,০০০ ভাগ ২,৩০,০০০=১.৭ টাকা। অপরদিকে সিএনজিতে খরচ যায় কি:মি: প্রতি ৪ টাকা। তৈলে খরচ প্রায় ১০ টাকা। একটা ব্যাটারির লাইফ টাইমে পেট্রোল থেকে সাশ্রয় ১০-১.৭=৮.৩ টাকা। তাহলে ব্যাটারির সম্পূর্ণ লাইফ (৬-১০ বছরে) টাইমে সাশ্রয়/লাভ=১৯,০৯,০০০ টাকা। আর্থিক লাভ হতে বেশী লাভ হল এটা পরিবেশ বান্ধব। গাড়ীর সমস্ত কিছু রিসাইক্যাল করা যাবে। বিশেষ করে ব্যাটারি ১০০% রিসাইক্যাল করা যাবে।
আমাদের এত লাভের হিসাব পেলে আমরা নিশ্চয়ই ব্যাটারি গাড়ী কিনে ফেলব। আমাদের যাদের পুরাতন গাড়ী আছে তারা কি করব। এত ভাবনা চিন্তার প্রয়োজন নেই। আশা করি আর বছর পাঁচেকের মধ্যে আমাদের দেশের বুদ্ধিমান লোকেরা আমাদের সাধারণ গাড়ীগুলোকে ব্যাটারি গাড়ীতে কনভার্ট করে ফেলবে। প্রথমে তারা অটো রিক্সার মতো এসিড ব্যাটারি সামনে পিছনে বসিয়ে নিবে। এতে চার পাঁচ বছর ব্যবহার করা যাবে। সামনে যখন লিথিয়াম আয়ন বা কার্বন ব্যাটারির আরো সাশ্রয়ী দাম হবে তখন গাড়ীতে লিথিয়াম আয়ন দিয়ে কনভার্ট করা যাবে। একসময় আমরা কম কার্বন নি:স্মরণকারী সাশ্রয়ী প্রাকৃতিক গ্যাসে আমাদের গাড়ীগুলো রূপান্তর করে নিয়েছিলাম। এখন সময় এসেছে আমরা ধীরে ধীরে ব্যাটারিতে রূপান্তর করব। তারপর আমরা আমাদের বাড়ীতে আর কর্মস্থলে সোলার প্যানেল আর সূর্যের আলো না থাকলে সে সমস্ত গাড়ী বিদ্যুতে চার্জ করব। আমরা বিদ্যুৎ দিয়ে সবকিছু চালনা করব। তেমনি বিদ্যুৎ তৈরি করব নবায়ন যোগ্য জ্বালানী হতে।

সময় সবকিছু বলে দিবে। আমি পরিবেশ সচেতন ও প্রযুক্তি প্রেমিক বলে আগে আগে বৈদ্যুতিক গাড়ীর বিষয়টি অবতারণা করলাম। এটা অনেকের কাছে হাস্যকর মনে হতে পারে। শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার একসময় আমরা সবাই বৈদ্যুতিক গাড়ী ব্যবহার করব। এখনই বৈদ্যুতিক গাড়ীর রেসিং কার তৈরি হয়েছে। গতিতে কম্প্রোমাইজ করা হয়নি। ব্যাটারির গাড়ীতেও আরামদায়ক এসি থাকছে। ইনশাল্লাহ ২০২১ সালের মধ্যে অর্থাৎ আজ থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বেচে থাকলে আমিও একটা বৈদ্যুতিক কারের মালিক হওয়ার পরিকল্পনা করছি। আপনার বৈদ্যুতিক কারে চরম অপছন্দ থাকলেও আপনি আমার ১০ থেকে ১৫ বছর পরে এগুলো কিনবেন। কারণ আপনি আপনার অপরিচ্ছন্ন তৈলের গাড়ীর পার্টস আর বাজারে পাবেন না। আসুন যারা সামর্থবান আছেন এখনই পরিকল্পনা করুন আপনার গাড়ীটিকে বৈদ্যুতিক গাড়ীতে রূপান্তর করতে। পরিবেশ বাদ্ধব বিধায় এতেই আমাদের সকলের জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

Thursday, October 20, 2016

জ্বালানী সাশ্রয়ী ছোট ইনভার্টার জেনারেটর

বৈদ্যুতিক লোড শেডিং এ জন্য অনেক সময় আইপিএস যথাযথ সময় ব্যাকআপ না দিতে পারলে আমাদের জেনারেটর প্রয়োজন হয়। সকল সংস্থা যারাই অফিসের বাইরে কোন কাজ করেন তাদেরই জেনারেটর প্রযোজন হয়। সেনাবাহিনীর অনুশীলন ও অন্যান্য ক্যাম্পিং এর জন্য জেনারেটর প্রয়োজন হয়। কিছুদিন আগেও ক্যাম্পিং এর কিছু লাইট জ্বালানোর জন্য প্রয়োজন হত কমপক্ষে পাঁচ কেভি জেনারেটর। বর্তমানে সাশ্রয়ী এলইডি লাইট ও অন্যান্য সাশ্রয়ী প্রযুক্তির কারনে কমশক্তির জেনারেটর দিয়ে আমরা অনেক কাজ করতে পারব।

যে কোন জেনারেটর ২২০ ভোল্ট ও ৫০ হার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি বজায় রাখার জন্য ৩৬০০ আরপিএম এ ঘুরতে থাকে। ইনভার্টার জেনারেটর লোড অনুযায়ী ২৫% পর্যন্ত মুল ক্যাপাসিটির আরপিএম এ ঘুরতে পারে। এতে প্রচুর জ্বালানী সাশ্রয় হয়। ইনভার্টার জেনারেটর প্রায় ৪০% জ্বালানী সাশ্রয় করতে পারে। সাধারণত এতে কোন ফ্লাই হুইল ব্যবহার করা হয় না। পিস্টন থেকে জেনারেটর সরাসরি ড্রাইভ পায়। এতে প্রাথমিকভাবে অপরিশোধিত এসি বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এই এসি বিদ্যুতটি যথেষ্ট পরিমাণ ভাল নয়। ভোল্টেজ উঠানামা করে ও ফ্রিকোয়েন্সিও পরিবর্তিত হয়। এখন এই অপরিচ্ছন্ন এসি বিদ্যুতকে রেক্টিফায়ার দিয়ে ডিসি করা হয়। উৎপন্ন ডিসিকে মাইক্রোপ্রসেসর দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে ফ্রিকোয়েন্সি ও ভোল্ট যথাযথভাবে স্থির করে বিশুদ্ধ ২২০ ভোল্ট ও ৫০ হার্টজ ফ্রিকোয়েন্সির বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়। আর ডিসি থেকে এসিতে রূপান্তরের এই প্রক্রিয়াটির নামই মূলত ইনভাটিং। এ কারণেই এরূপ জেনারেটরের নাম হয়েছে ইনভার্টার জেনারেটর।
ইনভার্টার জেনারেটর লোডের উপর ভিত্তি করে আরপিএম এর কম বেশী হয় আর এটাই হল এই জেনারেটরের সবচেয়ে স্মার্ট দিক। লোডের কমবেশি করে জেনারেটরের থ্রটল নিয়ন্ত্রণ করে মাইক্রোপ্রসেসর ভিত্তিক সার্কিট।

ইনভার্টার জেনারেটর এখন পর্যন্ত বিভিন্ন কোম্পানি ৪০০০ ওয়াটের বেশী তৈরি করেনি। তবে মজার বিষয় হল বেশী ওয়াটের প্রয়োজন হলে দুইটি জেনারেটর প্যারালাল সংযোগ দিয়ে লোড ৮ কেভি করা যাবে। ৪০০০  ওয়াটের বেশী ইনভার্টর জেনারেটর তৈরি না  করার পিছনে যে কারণ থাকতে পারে তা হল সাধারণ বা ননইনভার্টার জেনারেটর বেশী ক্যাপাসিটির হলে তা সাধারণত জ্বালানী এফিশিয়ন্টে হয়। যত বড় জেনারেটর হবে তত বেশী জ্বালানীর কিলোওয়াট প্রতি খরচ কম হবে। তাই বড় মাপের ইনভার্টারের খরচ অনেক বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। ৪০০০ ওয়াট ইনভার্টার জেনারেটর কিন্তু ব্যবহারের জন্য কম নয়।
৪০০০ ওয়াট জেনারেটরে কি কি সামগ্রী চালানো যাবে:
১। ১.৫ টনের ইনভার্টর এসি: ১৫০০ ওয়াট।
২। একটি রিফ্রিজিরেটর: ৩০০ ওয়াট।
৩।  এনার্জি এফিশিয়েন্ট ৫টি সিলিং ফ্যান: ৬৫ গুন ৫= ৩২৫ ওয়াট।
৪। স্মার্ট টিভি: ১২৫ ওয়াট
৫। ল্যাপটপ কম্পিউটার: ৫০ ওয়াট।
৬। এলইডি লাইট ৭০টি/মোবাইল চার্জার/রাউটার ইত্যাদি=৭০ গুন ১০=৭০০ ওয়াট।
৭। ইনভার্টর মাইক্রোওয়েভ ওভেন/আয়রন/ ইনভার্টর ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদি চালানো: ৫০০/৭০০ ওয়াট।
৮। আরো অন্য কিছু চালানো যাবে এসি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে।
৯। সর্বমোট: ৪০০০ ওয়াট।

ইনভার্টার প্রযুক্তির গৃহ স্থলীর বৈদ্যুতিক সামগ্রী ব্যবহার করে অনেক অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যায়। উপরে ৪০০০ ওয়াটের হিসাব দিলেও  একসাথে এত ব্যবহার কখনোই হবে না। তাই ১০০০ ওয়াট এক ধরনের জ্বালানী খরচ হবে। ২০০০ ওয়াটে আর একটু বেশী এবং ৩০০০ ওয়াটে প্রায় সম্পূর্ণ শক্তির জ্বালানী খরচ হবে। এই এধরনের ওয়াটের কম বেশীর জন্য জ্বালানী ব্যবহারেরও তারতম্য হতে থাকবে।

আমাদের বাংলাদেশের আর কয়েক বছর পর ক্যাম্পিং এর জন্য বিদ্যুতের অভাব হবে না। কারণ গ্রামের আনাচে কানাচে এখন বিদ্যুৎ পৌঁছে গিয়েছে তবু বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা অন্য কোন কারণে হাতের পাঁচ হিসাবে ইনভার্টার জেনারেটর খুবই উপকারী একটি সামগ্রী হবে তা নি:সন্দেহে বলা যায়।

এধরনের জেনারেটর বিয়ে বা অন্য কোন অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা যাবে। একটি জেনারেটরের শক্তি পর্যাপ্ত না হলে আরো একটি একই শক্তির জেনারেটর সমান্তরাল ভাবে সংযোগ দিয়ে শক্তি বাড়ানো যাবে। জেনারেটরের এ ফিচারটি অত্যন্ত ভাল এবং কার্যকরী। সারা পৃথিবী চলছে এখন কার্বনমুক্ত জ্বালানী থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন। ইনভার্টার জেনারেটর জ্বালানী সাশ্রয় করে কার্বন নি:স্মরণ কমাতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে। হয়ত বেশীদিন দূরে নয় যখন আমরা পরিবেশের বিবেচনায় জ্বালানী সাশ্রয়ী ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সামগ্রী ব্যবহার করে আমরা সকলে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখব।

Thursday, October 13, 2016

সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি শতভাগ রিসাইক্যাল যোগ্য গ্রীন এনার্জি

আমি অনেকের সাথে গ্রিন এনার্জি নিয়ে আলোচনায় প্রায়ই কয়েকটা প্রশ্নের মুখোমুখি হই। প্রথম প্রশ্ন। সোলার প্যানেল তৈরি করতে অনেক বিদ্যুৎ ও তাপ প্রয়োজন হয়। সেই বিদ্যুৎ ও তাপ ফসিল ফুয়েল হতে আমাদের নিতে হয়। প্রথমত আমরা সৌর প্যানেল তৈরির সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সোলার বা নবায়নযোগ্য জ্বালানী উৎস হতে নিতে পারি। তেমনি সিলিকন গলিয়ে প্যানেল বানানোর ফার্নেসও আমরা সোলার কণসেনট্রেটরের মাধ্যমে পেতে পারি। তাই সোলার তৈরির প্রতিটি পর্বেই আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানী ও সৌরশক্তির ব্যবহার করতে পারব। এখন আসি সোলার প্যানেলের আয়ু। সোলার প্যানেলে সাধারণত ২০/২৫ বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টি দেয়া হয়। কিন্তু পৃথিবীতে ৬০ বছরের প্রাচীনতম সোলার প্যানেল এখনও বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যাচ্ছে। পৃথিবীর উপরে বায়ুমণ্ডলে স্থাপিত অনেক স্যাটেলাইট দীর্ঘদিন (আনুমানিক ৫০/৬০ বছর)ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যাচ্ছে। হয়ত আরো অনেক অনেক বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যাবে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করলে সৌর প্যানেলগুলো বছরের পর বছর অল্প অল্প করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হারাতে থাকবে। তথাপিও ৫০ বছর পরেও এগুলো সন্তোষজনক মানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। আমাদের অনেক ইলেক্ট্রনিক দ্রব্যাদি দুই বছর ওয়ারেন্টি থাকলেও তা অনেক সময় তিন চার বছর অর্থাৎ ওয়ারেন্টির দ্বিগুণ লাইফ টাইম পার করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ২৫ বছর দেয়া ওয়ারেন্টি থাকলে তা দ্বিগুণ সময় সহজেই পার করতে পারবে। যদি ৫০ বছর সোলার প্যানেল বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তবে তা বিশাল অর্জন। যদি ১০০০ ওয়াটের প্যানেল এখনকার দামে ওয়াট প্রতি ৬০ টাকা খরচ করি তবে ১০০০ ওয়াট এর মূল্য হবে ৬০০০০ টাকা। প্রতিদিন সর্বনিন্ম ৪ ঘণ্টা( অনেক সময় ৬/৭ ঘণ্টা পাওয়া যাবে) বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তবে এক দিনে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ হবে ৪ গুন ৫ টাকা ( আমাদের দেশে এক কিলোওয়াট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৫ টাকা)=২০ টাকা। তবে ৩৬৫ দিনে হবে ৩৬৫ গুন ২০ টাকা=৭৩০০ টাকা। ৫০ বছরে হবে ৭৩০০ গুন ৫০=৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২০১৬ সালে ধরা ৫ টাকা বিদ্যুৎ বিল ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকবে তাতে ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকার বেশী অর্জন সম্ভব। প্রায় ৩ লক্ষ ৫ হাজার টাকা লাভ হবে। সোলার প্যানেল সম্পূর্ণ রিসাইক্যাল করা যায়। রিসাইক্যাল করে প্রায় ৯৫% সিলিকন, কপার, সীসা ও এলুমিনিয়াম ইত্যাদি রিসাইক্যাল করানো সম্ভব। সোলার প্যানেল আমরা পুনরায় ৯৫% রিকভার করে পরিবেশের ক্ষতি হওয়া থেকে মুক্ত করতে পারি। নি: সন্দেহে সোলার প্যানেল আসলেই গ্রিন এনার্জি এতে কোন দ্বিমত বা বিতর্ক নেই।
এখন আসি ব্যাটারির বিষয়ে। অনেকের মত আমিও জানতাম ব্যাটারি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।  কিন্তু ব্যাটারির রিসাইক্যাল বিষয়ে কিছু স্টাডি করে দেখলাম। ব্যাটারি পরিবেশের জন্য মোটেই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। ব্যাটারি তৈরির প্লান্টটি হতে পারে সম্পূর্ণরূপে রিনিউয়েবল এনার্জি নির্ভর তাহলে ব্যাটারি তৈরির জন্য পরোক্ষভাবে আমরা পরিবেশের ক্ষতি করব না। এবার আসি রিসাইক্যালের জন্য প্লান্টটিও আমরা রিনিউবল এনার্জি নির্ভর করে নিব। রিসাইক্যালের ব্যাটারির প্লাস্টিককে আলাদা করে তা গলিয়ে পুনরায় ব্যাটারির প্লাস্টিক কেসিং বানানো সম্ভব। ব্যাটারির এসিড লবণ মিশ্রিত করে ডিএসিডিক করে  পরিশোধন করে ভূমিতে পরিচ্ছন্ন পানি হিসাবে মুক্ত করা সম্ভব। ব্যাটারি শীশা ও কপার গলিয়ে পুনরায় ব্যাটারির প্লেট বানানোর কাজে লাগানো যায়। অপরদিকে নিকেড ব্যাটারি ও লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি বর্তমানে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রিক গ্যাজেটে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা যায়। এগুলো সবই চমৎকারভাবে রিসাইক্যাল করা যাবে।

সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি এগুলোর বিষয়ে যাদের ধারনা আছে এগুলো তৈরিতে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে।  ব্যবহার শেষে এগুলো দ্বারা ভূমি দূষণ হচ্ছে। এ ধারনায় যারা ছিলেন তারা নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট হতে পেরেছেন। সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি নবায়নযোগ্য জ্বালানী  ব্যবহার করে উৎপাদন করা সম্ভব। এগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহার করে পুনরায় রিসাইক্যাল করা সম্ভব। রিসাইক্যালে ৯৫% রিকভারী সম্ভব। সবার শেষে অবশ্যই সোলার প্যানেল ও ব্যাটারিকে সম্পূর্ণ গ্রিনে এনার্জির তকমা দিতেই হবে এবং আমরা নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারি। ব্যবহার শেষে ডানে বামে ফেলে না দিয়ে রিসাইক্যাল ফ্যাক্টরিতে পাঠিয়ে  দিলে পরিবেশের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা কমাতে পারি। তদুপরি আমরাও পরিবেশ সচেতনতার প্রমাণ দিতে পারি।

Thursday, October 6, 2016

ফসলী জমিতে ফসলের সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদন

নবায়নযোগ্য জ্বালানী নিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করা হল আমার একটি অভ্যাস। এই অভ্যাসের কারণে কয়েকদিন আগে  ইন্টারনেট হতে কিছু তথ্য পেয়ে আমার বেশ আনন্দ হয়েছে। বাংলাদেশ ছোট একটি দেশ। কৃষিনির্ভর দেশ। স্বাধীনতার পর অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে আমরা কৃষিতে স্বনির্ভরতার দিকে অগ্রসর হয়েছি। ২০১৪ সালের পর থেকে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে হাঁটছি। আর তখনই আমাদের সামনে একটি অদ্ভুত আবেদন পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো হতে। আর তা হল কোন ফসিল ফুয়েল জ্বালানী নয় সৌর শক্তি থেকে বিদ্যুৎ তৈরি। বিদ্যুৎ তৈরি করতে জমি প্রয়োজন। আমরা ছোট দেশে জমি পাব কোথায়।

এ বিষয়ে জাপানের কিছু কৃষি বিজ্ঞানী ১৯৯৪ সাল থেকে অনেক ভাবে গভেষনা করে জমিতে সোলার  প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটা পদ্ধতি বের করে। পদ্ধতিটা হল, তারা প্রমাণ পায় জমিতে ৩২ শতাংশ অংশ ফাকা ফাকা করে ঢেকে দিলে জমির ফসলের কোন ক্ষতি হয় না। উৎপাদন ব্যাহত হয়না। এর জন্য তারা প্রতি পাঁচ মিটারে ২/৩ হতে এক মিটার প্রশস্ত প্যানেল সাজেস্ট করে। লম্বা দেড় মিটার প্রস্থ ২/৩ মিটার প্যানেল আড়াআড়িভাবে এক মিটার দুরে দুরে সেট করা যায়। এতে ৩২ পারসেন্টের কম স্থান সোলার প্যানেলে আবরিত হবে। প্যানেলগুলি ১০ ফুট উপরে সেট করা প্রয়োজন। ১০ ফুট উপরে ফাকে ফাকে সোলার প্যানেল সেট করলে দিনের বিভিন্ন সময় সূর্যের দিক পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে প্যানেলের ফাঁক দিয়ে সৌর আলো তাপ নীচে গাছে পৌঁছাবে ও গাছের সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকবে।

সৌর প্যানেলগুলো ১০ ফুট উচ্চতায় মাচা আকারে বসাতে হবে। তবে জাপান কৃষি অধিদপ্তর আবার একটা শর্ত দিয়েছে মাচার পিলারগুলোর বেইজ পাকা করা যাবে না। ঝড় ও বাতাসের তীব্রতা থেকে মুক্ত রাখার জন্য যতদূর প্রয়োজন গভীর করা যেতে পারে। জাপানী বিঞ্জানীরা দুই ফুট গভীরে বসিয়ে ১০ ফুট উপরে ৩ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ দিয়ে পিলার গুলো বানিয়ে নিয়েছে। তারা মাচাটা এমনভাবে তৈরি করে নিয়েছে এবং প্যানেলগুলো সেট করেছে যাতে দিনের বিভিন্ন সময় সৌর আলোর দিক পরিবর্তনের সাথে সাথে ঘুরানো যায়। পিলারের উচ্চতা ও পিলার থেকে পিলারের দূরত্ব এমনভাবে সেট করা হয়েছে যাতে ট্রাক্টর ও হারবেস্টর এর ভিতর দিয়ে সমস্যা ছাড়া চালনা করা যায়। জাপানের রৌদ্রের সাধারণ তাপমাত্রা অপেক্ষা আমাদের দেশে তাপ বেশী তাই এই ব্যবস্থা আমাদের দেশে করলে জমি সান বার্ন কম হবে। জমির পানি ও রস কম বাষ্পীভূত হবে। এতে জমি বেশী পরিমাণে উর্বর থাকবে। পানি কম দেয়া লাগবে। ফসলের উৎপাদন বাড়বে। জমির উপরে ৩০/৩২% ছায়া থাকায় কৃষিকাজ করতে কৃষক কম সান বার্ন হবে। প্যানেলের ছায়ায় থেকে থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী সময় কাজ করতে পারবে। কৃষক কম পরিশ্রান্ত হবে বেশী পরিমাণ উৎপাদনশীল থাকবে।

জাপানের কৃষকরা এর নাম দিয়েছে সোলার শেয়ারিং। জাপানের কৃষি কাজে সরকার বরাবর ভর্তুকি দিয়ে আসছে। তথাপি বর্তমান ও আধুনিক জেনারেশনের কৃষিকাজে আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তার একমাত্র কারণ কৃষিকাজে অন্যান্য শিল্প কারখানা থেকে আয় রোজগার কম। কিন্তু সোলার শেয়ারিং জাপানের যুব সমাজকে কৃষিতে ফেরত আনবে বলে মনে করা যায়। জাপানে এক বিঘা জমিতে  ফসল থেকে সাধারণত আয় আসে ১ লক্ষ ইয়েন। ১ ইয়েন আমাদের এক টাকার কাছাকাছি (০.৭৭ টাকা) অপর দিকে সৌরবিদ্যুত এর আয় ১ লক্ষ ৬০ হাজার ইয়েন। এক বিঘা জমি হতে বছরে সর্বমোট ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা কৃষক পাচ্ছে । যা কিনা তার ফসলের আয় হতে ১.৬ ভাগ বেশী। এখানে আর একটি বিষয় আছে জাপানে বেসরকারি ব্যক্তি বর্গের কাছ থেকে সরকার ৪২ ইয়েন দামে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ক্রয় করে। আমাদের দেশে সরকার সবোর্চ্চ ১৫ টাকা রেটে পিংকিং পাওয়ারের ডিজেল জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করে থাকে। অবশ্য বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত সুলভ মূল্যে ৩ টাকা হতে ৮ টাকার মধ্যে বিভিন্ন শর্ত সাপেক্ষে বিদ্যুৎ বিক্রয় করে থাকে। ফলে আমাদেরে দেশ অপেক্ষা জাপানে জমির উপর বিদ্যুৎ বিক্রয় করা অনেক লাভজনক।

বাংলাদেশের মত ঘনবসতির দেশে জাপানের এই উদাহরণটি বেশ গুরুত্ব পেতে পারে। কারণ আমাদের মূল্যবান জমিগুলি সোলার শেয়ারিং এর কাজে ব্যবহার করলে কৃষক যেমন লাভবান হবে আমাদের দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানীতে অনেকদূর এগিয়ে যাবে।