Pages

Thursday, July 27, 2017

‌ফেইসবুককে শক্তিশালী ও কল্যাণকর পন্থায় ব্যবহার

কিছুদিন পর পর ফেইসবুকে এটা ওটা ভাইরাল হচ্ছে সরকারী অনেক সংস্থা ফেইসবুকের মাধ্যমে নাগরিক সেবা অভাব অভিযোগের ফিডব্যাক নিচ্ছে তাছাড়াও এসএমএস এর মাধ্যমে, মোবাইল ফোন, চিঠি ইমেইলের মাধ্যমে অভিযোগ ফিডব্যাক সিস্টেম চালু আছে অভিযোগ বক্স চিঠির মাধ্যমে ফিডব্যাক ইত্যাদি ব্যবস্থা আজও চালু আছে আগে মানুষ পত্র পত্রিকায় চিঠি পত্রের মাধ্যমে সামাজিক সমস্যার বিষয়াদির সমস্যা মতামত তুলে ধরত এখনও কিছুটা চালু আছে আগে পত্রিকায় পাঠক মতামত পড়া উৎসাহের বিষয় ছিল এখন মানুষ তার মনের ভাব সমস্যা জানানোর জন্য এত বিশাল পরিমাণে সুযোগ রয়েছে তা কল্পনার অতীত ইন্টারনেট আজ কোন সীমানায় মানুষকে আটকে রাখেনি সীমানার অসীমে মানুষকে নিয়ে গেছে সকল যুবক যুবতীর হাতে হাতে স্মার্ট ফোন আর মোবাইল যোগাযোগ কত সহজ কম খরচ যে কেউ যে কারো সাথে সহজে যোগাযোগ করতে পারে
ফেইসবুক বর্তমান প্রজন্মের কাছে অতি আপন বিষয় এই জনপ্রিয় টুলটাকে আমরা মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে পারি আমরা আমাদের বিদেশ ভ্রমণ ভাল খবর দেয়ার বিষয়ে আগ্রহী থাকি ফেইসবুকে আমাদের ভাল ভাল খবর ছবি দেই এটা অনেকটা নিজের ঢোল নিজে পিটানোর মত অনেকের মতে ফেইসবুকে কার্যক্রম অনেকটা আত্মকেন্দ্রিক এটাকে কিভাবে মানব কেন্দ্রিক করা যায় এটা আমার লেখনীতে উৎঘাটনের চেষ্টা করব
আমার মনে আছে নব্বইয়ের দশকে আমি অনেক অনেক পাঠকের মতামত পত্র পত্রিকায় পড়তাম এখন তেমন একটা নজরে আসে না এখন আমাদের কাছে পাঠকের মতামত থেকেও শক্তিশালী ব্যবস্থা আছে ফেইসবুক কোটি কোটি মানুষ এর সাথে যুক্ত এখন প্রয়োজন ফেইসবুকের ব্যবহারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো আমরা আমাদের ভালটাই সাধারণত ফেইসবুকে দেই নিজের খবরটা দেই অথচ আমরা আমাদের সমস্যা বঞ্চনাগুলো ছবিসহ ফেইসবুকে তুলে ধরতে পারি আমার একটি ফেইসবুক একাউন্ট আছে সেই একাউন্টে আমি প্রায় দুই/তিন মাস পর পর একবার দেখি এবং আমার সাথে যুক্ত হতে আগ্রহী বন্ধুবান্ধবদের বন্ধু হিসাবে এ্যাড করে চলে আসি কার জামা সুন্দর কার শাড়ী সুন্দর এইসব লাইক বিজনেসে না গিয়ে আমি ফেইসবুক থেকে বেড়িয়ে আসি আমি হয়তবা ভুল করতে পারি কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ১০/১২ বছর ফেইসবুকে আছি কিন্তু কখনও কাউকে তেমন কোন মানব কল্যানমূলক পোস্ট দিতে দেখিনি কখনও কাউকে দেখিনি এরূপ পোস্ট দিতে, “আমার এলাকার এই এই সমস্যা দীর্ঘদিন যাবত সমাধান হচ্ছে না আমি এমন এমন ব্যক্তির দ্বারা প্রতারিত আমরা কোথাও এভাবে নাগরিক সুবিধা বা অধিকার থেকে বঞ্চিত ইত্যাদি ইত্যাদি
কেউ এই ধরনের পোস্ট ফেইসবুকে দেয়না হয়তবা দেয় আমার চোখে পড়েনি বা আমার বন্ধুদের মধ্যে দেয়নি
সব কিছু ভাল সব কিছু রোমাঞ্চকর আমি সুন্দর পোষাকে ভাল খাবার দাবারে অনেক ভাল আছি আর এটাই যদি ফেইসবুকে দেখানোর উদ্দেশ্য হয় তবে আমি বলব তাতে ফেইসবুকের ভাল ব্যবহার হচ্ছে না আমরা মাঝে মাঝে অনলাইন পত্রপত্রিকা থেকে ছবি নিউজ দেই তা মাঝে মাঝে বেশ সাড়া জাগায় ভাইরাল হয় আসলে আমাদের গল্প ফেইসবুকে এই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ অথচ আমাদের মোবাইলে ইন্টারনেটসহ ফেইসবুক চালু আছে মোবাইলে ক্যামেরা আছে আমরা প্রত্যেকেই সাংবাদিক হয়ে আছি এখন প্রয়োজন শুধু সাংবাদিকের মত পোস্টটি দেয়া আমি রাস্তা দিয়ে হাঁটছি রাস্তার অবস্থা খারাপ ছবিটা ফেইসবুকে দিলাম এতে সবার সচেতনতা বাড়বে রাস্তায় ভিক্ষুকদের ছবি দিলাম এতে আমরা তাদের সাথে পরিচিত হতে পারি আমার গরীব আত্মীয় চিকিৎসার অভাবে আছে তার ছবি দিয়ে একাউন্ট নম্বর দিলাম অনেকেই তাকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী হবে কোন কোন মেধাবী ছাত্র/ছাত্রী তাদের তথ্য তুলে ধরলাম অনেকেই তাদের যাকাতের জন্য এগিয়ে আসবে আজকাল প্রকৃত যাকাত দেয়ার লোক খুঁজে পাওয়া যায় না আমাদের সন্ধানে প্রকৃত যাকাত গ্রহণকারী তথ্য তুলে ধরলে তা অনেকের যাকাত দিতে সুবিধা হবে অনেক ব্যক্তি সামাজিক সমস্যা করে তাদের বিষয়ে সতর্কতামূলক তথ্য দেয়া যায় সব সাফল্য থাকবে তা নয় বিভিন্ন বিফলতার বিবরণ অনেকের সচেতনতার জন্য আসতে পারে ফেইসবুক ইন্টারেক্টিভ হওয়ার জন্য এটি একটি বিস্ময়কর ব্যবস্থা এখন আমাদের প্রয়োজন ফেইসবুকে শুধুমাত্র আমার বেস্টটা প্রচার না করে আমাদের চারিদিকে সচেতনতা চ্যালেঞ্জগুলো সবার সন্মুখে তুলে আনতে হবে এতে রয়েছে আমাদের সচেতনতা মানব কল্যাণ আমাদের জানা মতে ভাল একটি কর্মঠ ছেলে চাকুরী পাচ্ছে না তার বিবরণ দিতে পারি চমৎকার একটি মেয়ে পিতামাতা বিয়ে দিতে পারছে না তার তথ্য দেয়া যেতে পারে

আর বেশী দিন দুরে নয় হয়ত আমরা অতিশীঘ্রই আমরা ফেইসবুকে মানব কল্যাণে সামাজিক দায়বদ্ধতায় ব্যবহার করতে পারব এতে করে নিজেকে দেখানোর ফেইসবুক সাইকি থেকে আমরা বের হয়ে  আসতে পারব

Thursday, July 20, 2017

ফ্যান ও এসি ছাড়া বসবাস

ফ্যান ও এসি ছাড়া বিত্তশালী ও শহরের মানুষ বাস করতে পারে শুনলেই অবিশ্বাস্য লাগে। অথচ ফ্যান ও এসি ছাড়া গেস্ট রুম বা অতিথিশালাও আছে। ২০১৭ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝিতে এরূপ একটি স্থান দেখার আমার সৌভাগ্য হয়। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং। যেখানে ফ্যান বা এসির প্রয়োজন নেই। তাই রুমে কোন ফ্যান বা এসি লাগানো নাই। একটি শহরে ফ্যান বা এসি নাই কি পরিমাণ এনার্জি সেভিং কল্পনা করা যায়। ঘরের ভিতরে ও বাহিরে আপনি নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া পাচ্ছেন। কত বড় শান্তি। আমরা যারা এসিতে বসবাস করি তারা বাসায় এসি, গাড়ীতে এসি, কাজের স্থানে ও মার্কেটে এসি না হলে ভয়ানক কষ্টকর অবস্থা। এসি/ফ্যান অভ্যাস হয়ে গেলে এটি ছাড়া টেকা দায়। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং এর অভিঞ্জতা হবে অনন্য। সেখানে যতটুকু জানা যায় গরম কালে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা  হয়। রাতে হালকা শীত ও দিনে স্বাভাবিক তাপমাত্রা। তাপমাত্রা পরম স্বস্থিদায়ক। শীতকালে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। তবে বরফ পরে না। শীতকালে তাপটা কিছুটা কম। তবে চরম নয়। রুম হিটিং প্রয়োজন পরবে। শীতের সময়টা আবার বেশী দীর্ঘ নয়। তাপের এই যে সহনীয় তারতম্যে প্রতীয়মান হয় আবহাওয়াটা অনেক বেশী আরামদায়ক এবং অনেক বেশী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। আমি যদি আমাদের দেশের আবহাওয়ার সাথে তুলনা করি তবে দেখা যায় অনেক বেশী আর্দ্র আবহাওয়ার জন্য আমাদের আবহাওয়ায় অল্প শারীরিক পরিশ্রমে শরীর অত্যধিক ঘর্মাক্ত হয়। যাদের সামর্থ্য আছে তারা ফ্যান ও এসির উপর নির্ভরশীল হয়।
শিলঙের ঘর ও দালানে ফ্যান ব্যবহার না করার কারণে দালানের উচ্চতা কম মনে হল। পাহাড়ের কুল ঘেঁষে কম উঁচু চার/পাঁচ তলা দালান। ইলেকট্রিক সিলিং ফ্যান না লাগানোর কারণে দালানের প্রতিটি তালার উচ্চতা  কম। তাতে দালানের নির্মাণ খরচ কম লাগছে ও দালানের পাহাড়ের উপর দৃঢ়তা বাড়ছে। তবে শিলং এলাকাটি জাপানের মত ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা হওয়ায় এখানে টিন শেড একতলা বাড়িঘরের আধিক্য অনেক। মেঘালয়ের মানুষগুলো মঙ্গোলীয় জাতীয় চাইনিজ ও জাপানীদের মত। এদের মধ্যে খাসিয়া ও গারোদের আধিক্য রয়েছে। ভারতীয়দের যেরূপ আমরা সাধারণত দেখে থাকি বা কল্পনা করে থাকি সেই হিসাবে এখানকার মানুষগুলো ছোটখাটো ও সাদা চামড়ার ভারতীয় মুল অংশ হতে ভিন্ন।
যে কোন উঁচু স্থানের ও পাহাড়ের তাপমাত্রা সাধারণত কম হয়। তবে তাপমাত্রা কম ও আর্দ্রতা কম থাকলে সেই আবহাওয়া আরাম দায়ক। উচ্চতা অধিক হওয়ার ও ঘন ঘন বৃষ্টি হওয়ার আর্দ্রতা তেমন বেশী মনে হয়নি। ঘাম তেমন বেশী হয়নি। গরমের সময়ও সকালে ও রাতে হালকা গরমের কাপড় পড়তে হয়।
আবহাওয়ার এই চমৎকারিত্বের কারণে এখানে যেহেতু ব্যাপক এসি বা ফ্যান চলে না তাই তেমন লোড শেডিং চোখে পড়েনি। এটা এখানকার বিশাল একটা আশীর্বাদ বিদ্যুৎ খরচ কম ও লোডশেডিং মুক্ত। এখানে ছোট বড় অনেক জলপ্রপাত আছে যা কিনা বিদ্যু উৎপাদনে ব্যাপক ব্যবহার হতে পারে। তবে সেইরূপ কোন তৎপরতা চোখে পড়েনি। মনে হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন অপেক্ষা পর্যটন শিল্পের অগ্রগণ্যটা বেশী। তবে সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য পরিবেশের মৌলিক কাঠামো হয়ত পরিবর্তন না করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পরিকল্পনা করা যেতে পারে। জল বিদ্যুৎ প্রকল্প সব দেশেই অনেক বেশী সাশ্রয়ী। জলবিদ্যুৎ প্রকল্প পরিবেশ বান্ধব। পাহাড়ি অঞ্চলের এই সম্পদকে সহজেই ব্যবহার করার ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

স্বাস্থ্যকর আবহাওয়ায় পর্যটন শিল্পের অবাধ সম্ভাবনার পাশাপাশি কুটির শিল্প, সফটওয়্যার শিল্পের বিকাশ ঘটানো যাবে। অনেক অনেক মানুষকে কাজে লাগানোর জন্য স্বাস্থ্যকর এই আবহাওয়াকে কাজে লাগানো যাবে। এই ধরনের আবহাওয়ায় ভারী শিল্প হতে কুটির শিল্প ও ডাটা এন্ট্রি টাই মেধা ভিত্তিক ও অনেক সময় নিয়ে করা কাজ গুলো ভাল হবে। আবহাওয়ার এরূপ চমৎকার স্থানগুলো হতে পারে স্বাস্থ্য সেবার জন্য উপযুক্ত। এখানে প্রচুর হাসপাতাল ও আবাসিক স্কুল কলেজ স্থাপন করা যেতে পারে। বৈশ্বয়িক উষ্ণতা প্রতিহত করতে অনুকূল আবহাওয়ার স্বাস্থ্যকর স্থানগুলো ব্যবহার বাড়াতে হলে তা হবে ভাল উদ্যোগ।

Thursday, July 13, 2017

পরিবেশ রক্ষায় রিইউজেবল ব্যাগ ও প্লাস্টিক কন্টেইনারের দোকান

মনে করুন আপনি পরিবেশবাদী একজন মানুষ। আপনি পৃথিবীকে দূষন মুক্ত রাখার পক্ষে কথা বলেন। আপনি শহরে গেলেন দাপ্তরিক কাজে। কাজ শেষে ফিরছেন। স্ত্রী মোবাইলে জানাল, ফ্রিজে মাছ বা মাংস কিছুই নেই ক্রয় করা প্রয়োজন। বাইরে যেহেতু আছেন বাজারটা করে আসতে পারেন। অথচ আপনি বাজারের ব্যাগ সাথে নিয়ে আসেননি। এখন বাজারের ব্যাগ বাসা থেকে আনতে আপনার ২০+২০ =৪০ টাকা রিক্সা ভাড়া খরচ। আবার বাজার থেকে ব্যাগ কিনতে ১৫/২০ টাকা খরচ। তদুপরি বাসায় এত ব্যাগ আছে যে পুনরায় ব্যাগ কিনে টাকা খরচ করতে মন সায় দেয় না। তাহলে সহজ হিসাব কি?
এক/দুই টাকার পরিবেশ বিনষ্টকারী পলিথিনই হল এর সমাধান। আর এভাবে বাংলাদেশ তথা সারা পৃথিবীতে ঘোরতর পরিবেশবাদীরাও এভাবে পরিবেশ নস্টকারী বিপদজনক ব্যাগ কেবলমাত্র অত্যন্ত সস্তা হওয়ার কারণে ব্যবহার করে থাকেন। আর এভাবে সারা পৃথিবীকে লক্ষ কোটি পলিথিনের কমদামী পাতলা ব্যাগ ব্যবহার হচ্ছে। পলিথিনের ব্যাগ যত পাতলা হবে তত বেশী পরিবেশ দূষণ করবে।
আমরা পলিথিন ব্যাগের বিকল্প কি দিতে পারি রিইউজিবল মোটা ও টেকসই পলিথিন ব্যাগ, কন্টেইনার ও লিকুইড নেয়ার জন্য বোতল ও বৈয়াম। মনে করুন পরিবেশবাদী বা সরকারী ব্যবস্থাপনায়  বাজারে একটি শপ দেয়া হল। এই শপে মোটা পলিথিনের রিইউজেবল ব্যাগ, প্লাস্টিক কনটেইনার ও প্লাস্টিক বৈয়ম পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহারের নিয়ম অনেকটা ধার করে নিয়ে যাওয়ার মত হবে। আপনার কাজ হল জামানত দিয়ে ব্যাগ, কন্টেইনার ও বৈয়ম নিয়ে বাজার করাআপনি যদি পরিবেশ সচেতন হন তবে এখন আর ব্যাগ বা কন্টেইনারের অভাবে পরবেন না আর পলিথিন ব্যবহারে থেকে সরে আসবেন। যদি শতাধিক বার রিইউজ করা যায় এবং তারপর তা যদি রিসাইক্যাল করা যায় তবে সে সমস্ত পলিথিনের সামগ্রী পরিবেশের জন্য কম ক্ষতিকর। অপরদিকে সেই তুলনায় একটি টেকসই মোটা পলিথিন ব্যাগের বিপরীতে ১০০ কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করলে পরিবেশের আরও ব্যাপক ক্ষতি করা হবে। তাই রিইউজিবল রিসাইক্যাল পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিক কন্টেইনার, প্লাস্টিক বোতল ও প্লাস্টিক বৈয়াম অনেক বেশী পরিবেশ বান্ধব। এখন আমাদের প্রয়োজন পরিবেশ বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা। আর তা সম্ভব প্রতিটি মার্কেটে ও বাজারে রিইউজিবল সামগ্রী জমানতের বিনিময়ে পাওয়া। আর এটা হতে হবে টাকার মত। যে কোন রিইউজিবল কন্টেইনার ফেরত দিলে ক্রেতা তার সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পাবে। দোকান চালানো, ক্ষতির টাকা পুষিয়ে নেয়া ও পরিচালনার জন্য সরকারী বেতন ধারী লোক থাকবে। রিইউজিবল পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যাগ নিয়মিত পরিষ্কার করে তা ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। রিইউজিবল প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে হবে। এসব ব্যয় পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষার গ্লোবাল ফান্ড ও কার্বন ফান্ড হতে পাওয়া যেতে পারে। বাজারের সমস্ত দোকানীরা পলিথিন ও কাগজের ব্যাগ না কিনে সেই টাকাটা রিইউজেবল শপ পরিচালনাকারীদের দিতে পারে। এতে বেশ কিছু লোকের গ্রিন সেক্টরে চাকুরী বাড়বে। রিইউজিবল কন্টেইনার পরিষ্কার করা ও তা বিতরণ করা এবং শত শত চেইন শপ চালু করা যেতে পারে। এগুলো স্থাপন করতে প্রাথমিক খরচ বেশী হলেও একসময় তা পলিথিন ব্যবহার হতেও সাশ্রয়ী হবে। কারণ একটা পাতলা পলিথিন একবার ব্যবহার করা যাবে। অপর দিকে মোটা টেকসই ও দামী পলিথিনের ব্যাগ ধোয়ে ধোয়ে একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে। তাই বলা যায় পরিবেশ দূষণকারী পাতলা পলিথিনের ব্যাগ ও পাতলা পানির কন্টেইনারকে আমরা যেন নাবলতে পারি। আমাদের প্রক্রিয়াটি হবে আগের দিনের কাচের কোল্ড ড্রিংকস ফেরত দেয়ার মত। এটা ব্যবসায়ীক ভাবে পুরানো দিনের মত আমরা করতে যাচ্ছি। কিন্তু পরিবেশ রক্ষার জন্য এটা ভাল পদক্ষেপ। চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে একটা দই পাওয়া যায় তার নাম ঘটি দইএই দই এলুমিনিয়ামের ঘটিতে পাওয়া যায়। আপনি দই কেনার সময় দইয়ের দাম আর এলুমিনিয়ামের ঘটির জামানত দিয়ে কিনে আনবেন। পরে খালী ঘটি ফেরত দিয়ে আপনি জামানত ফেরত পাবেন। বছরের পর বছর ধরে তারা ঘটি দইএর ব্যবসা করে যাচ্ছে। একটু পরিবেশের বিষয়টি চিন্তা করলে বুঝুন যদি তারা প্রতিদিন এক হাজার দই বানালে এক হাজার ওয়ান টাইম ব্যবহারের মাটির খড়া বানাত বা প্লাস্টিকের তৈরি গোল দইয়ের কন্টেইনার ব্যবহার করত। তবে ৩০ দিনে ত্রিশ হাজার। এক বছরে তিন লাখ পঁয়ষট্টি হাজার। দশ বছরে পঁয়ত্রিশ লক্ষ ষাট হাজার প্লাস্টিকের দইয়ের প্যাকেট তারা কম ব্যবহার করল। ঘটি দইয়ের এই ধরনের ব্যবহার পরিবেশের জন্য কত ব্যাপক ও বিস্তৃত আমরা সহজেই তা বুঝতে পারি। সরকার তাদের পরিবেশ বান্ধব কার্যক্রমের জন্য পুরস্কৃত করতে পারে।

রিইউজিবল কন্টেইনার ফেরত প্রদান যে কোন দোকানে হতে হবে। হাতের কাছে যে কোন দোকান রিইউজিবল কন্টেইনার ফেরত নিবে ও টাকা ফেরত দিবে। এভাবে করতে পারলে আরও ভাল হবে। কারণ কন্টেইনার ফেরত দেয়ার জন্য দুরের দোকানে ফেরত আসলে তা ক্রেতাদের আগ্রহে ভাটা পড়বে। কন্টেইনার বদল যে কোন জায়গায় যে কোন সময় করা যাবে। এতে সবাই ওয়ান টাইম ব্যাগের ব্যবহার কমাবে ও পরিবেশ সচেতন হবে। সামনের দিন গুলোতে আমরা পরিবেশ রক্ষায় আরও সচেতন হব এটা আমরা সকলে আশা করতে পারি। নবাগত বংশধরদের জন্য পৃথিবী আরও সুন্দর হবে এটাই হবে আমাদের পরম চাওয়া।

Thursday, July 6, 2017

ডিপার্টমেন্টাল শপে প্যাকেজিং সামগ্রীর পুন: ব্যবহার


২০১৬ সালের মার্চ মাসে কলিকাতার একটি ডিপার্টমেন্টাল শপে আমি কেনাকাটা করার পর কাউন্টারে আমার কাছে জানতে চাইল আমি কোন শপিং ব্যাগ এনেছি কিনা? আমি চিন্তা করলাম ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে এটা কোন ধরনের ভদ্রতা। বাংলাদেশে কত সুন্দর করে এক বা একাধিক ব্যাগে কাউন্টার থেকে গুছিয়ে দেয় কত সমাদর। আর এখানে আমাকে জিঞ্জাসা করা হচ্ছে মালামাল নেয়ার জন্য আমি কোন ব্যাগ এনেছি কিনা। আমি না বলায় কাউন্টার থেকে ব্যাগ দিল ও আমার কাছ থেকে তিন রুপি চার্জ কেটে নিল। সাময়িক ভাবে এদের এই ব্যবস্থায় আমার রাগ হলেও একটা বিষয় চিন্তা করে আমার রাগ সব পড়ে গেল। আর তা হল পরিবেশ সচেতনতা। সত্যি তাদের এ ব্যবস্থাপনা কৃপণতা নয় বরং বলব তারাই সঠিক কাজটি করছে। আমি ২০১৭ সালে মে মাসে ঢাকায় বদলী হয়ে আসার পর বেশ কিছু ডিপার্টমেন্টাল বা চেইন শপে কেনা কাটা করার সুযোগ পাচ্ছি। আমি কয়েকদিনে একটা বিষয় খেয়াল করলাম বাংলাদেশের চেইন শপগুলো হিউজ পরিমাণ প্যাকিং মেটারিয়েল পণ্যের সাথে দিচ্ছে। কাউন্টারে ভাল কোয়ালিটির ব্যাগ তারা রাখতে পারে যা তারা বিক্রয় করবে। ৩/৫ টাকার ব্যাগ নয় বরং তারা রাখতে পারে ১০/১৫ টাকার টেকসই সুন্দর ও ভাল ব্যাগ। যা কিনা তারা বাই ব্যাক করবে। ক্রেতারা ব্যাগ আনতে ভুলে গেলে তারা ব্যাগ কিনবে ১০/১৫ টাকা দিয়ে। পুনরায় ফেরত দিলে একই টাকা ফেরত পাবে। এতে ক্রেতা বিক্রেতা দুই পক্ষই লাভবান হবে। ডিপার্টমেন্টাল শপ প্রতিটি ক্রেতার সামগ্রী বহনের জন্য একাধিক বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী ব্যাগ দেয় এতে ক্রেতা পিছু তাদের ১০/২০ টাকা খরচ করে। অপর দিকে তারা যদি ভাল কোয়ালিটির টেকসই ব্যাগ যাতে এই ডিপার্টমেন্টাল শপের নাম ও লোগো থাকবে তা বিক্রয় করে ১৫/২০ টাকায় এবং এই ব্যাগ বাই বেক করে একই দামে তবে ক্রেতারা একটা বড় ইনেসনটিভ পাবে। যেমন আমি এক মাসে ১০ দিন বাজার করলাম আমি দশ দিনে দশটি ব্যাগ পেলাম। দশটি ব্যাগ পরিষ্কার করে বাসায় জমা করলাম। একদিন ডিপার্টমেন্টাল শপে গিয়ে দশটি ব্যাগ ফেরত দিলাম ও আমি ১৫ গুণন ১০ অর্থাৎ আমি ১৫০ টাকা ফেরত পেলাম। ক্রেতার জন্য ইনসেন্টিভ হল সে কষ্ট করে জমিয়ে কিছু পরিমাণ টাকা ফেরত পেল। ডিপার্টমেন্টাল শপ সকল ক্রেতাকে ইনসেন্টিভ দিতে পারল রিইউজ করে। এ ধরনের পদক্ষেপ সকলকে পরিবেশ রক্ষায় সচেতন করবে ও রিইউজ করায় অনুপ্রাণিত করবে। পৃথিবীটি আমাদের সকলের। এটি আমাদের সকলকেই রক্ষা করতে হবে। আপনি চিন্তা করুন একটা ডিপার্টমেন্টাল শপে যদি ১০০০ ক্রেতা প্রতিদিন কেনা কাটা করলে আপনি যদি ১০০০ ব্যাগ উপাদন কমাতে পারেন কি পরিমাণ পরিবেশ দূষণ কমবে। ৩০ দিনে ৩০০০০ ব্যাগ। ডিপার্টমেন্টাল শপেরও কি পরিমাণ টাকা বেচে যাবে চিন্তা করুন। তবে এই প্রক্রিয়ায় দৃষ্টি নন্দন সুন্দর ও দামী ব্যাগ হতে হবে যেন তা ফেলে দিতে ইচ্ছে না করে। বরং ফেরত দিয়ে মূল্য ফেরত পেতে ইচ্ছে করে। ডিপার্টমেন্টাল শপগুলো এমনকি বাজার করার সময় ব্যাগ গুলোর মূল্য নাও ধরতে পারে তারা ব্যাগগুলো ক্রয় মুল্যে ক্রেতার কাছ থেকে বাই বেক করলেও তাদের লাভ আছে।
ডিপার্টমেন্টাল শপের রেডি খাবার বা ফ্রোজেন খাবার গুলো অধিক পরিমাণ প্যাকিং মেটারিয়েল ব্যবহার হয়। এই সব খাবার গুলো পলিথিনে না বিক্রি করে ১০/২০ টাকা দামের শক্ত প্লাস্টিকের বাক্সে প্যাকেট করা থাকতে পারে। সে সমস্ত প্লাস্টিকের বাক্সগুলি ডিপার্টমেন্টাল শপ বাই বেক করে নিতে পারে। গ্লোবালী একটা ছোট জনগোষ্ঠী জিরো ওয়েস্ট আন্দোলনে নিয়োজিত আছে। তারা বাজারে যাওয়ার সময় বৈয়াম, কন্টেইনার ও ব্যাগ ইত্যাদি সাথে নেয় যেন কোন অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য বাসায় আনতে না হয়। আপনি পরিবেশ সচেতন হলে ডিপার্টমেন্টাল শপের বিপুল পরিমাণ বর্জ্য আপনাকে আর বাসায় বয়ে নিয়ে আসতে হবে না। সাধারণ চাষি বাজার বা পাড়ার দোকাণ গুলোতে পলিথিন ব্যবহারের ব্যাপকতা আছে। ক্রেতার চাহিদার কারণে এটা বাড়ে। পাড়া মহল্লায় দোকান গুলোতে ব্যাগ হয়তবা ২০/৩০ টাকায় বিক্রয় হতে পারে কিন্তু যে কোন দোকানে ব্যাগ ও কন্টেইনার বাই ব্যাক করার ব্যবস্থা থাকলে ক্রেতারা দামী ও টেকসই কন্টেইনার ক্রয় করতে কুণ্ঠাবোধ করবে না। কারণ সে জানে কয়েকদিন কষ্ট করে ব্যাগ বা কন্টেইনার জমিয়ে জমা দিলে সে মূল্য ফেরত পাবে। এভাবেই নতুন পুরাতন ব্যাগ ক্রয় বিক্রয় হলে তা পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থাপনা হবে।

পরিবেশ আন্দোলন পৃথিবীব্যাপী জোরদার হচ্ছে। এখন যেখানে যেখানে ব্যাপক পরিমাণ অপ্রয়োজনীয় প্যাকিং সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে সেগুলো রিইউজের মাধ্যমে পরিবেশের একটা চমৎকার পদ্ধতিতে আমরা উপকার করতে পারি। ডিপার্টমেন্টাল শপের কর্ণধাররা এই বিষয়টি চিন্তা করলে পরিবেশের অনেক উকার হবে।

Thursday, June 29, 2017

ছোট শহর ও বড় শহর

আমি আমার জীবনের ৩৫টি বছর ঢাকার বাইরে জীবন যাপন করার পর ২০১৭ সালে মে মাসে চাকুরী জীবনে প্রথম বারের  মত ঢাকায় পোস্টিং হয়ে আসলাম। ৩৫ বছর ধরেছি আমার ক্যাডেট কলেজের জীবন সহ। ক্যাডেট কলেজে পড়ার কারণে সেই ক্লাস সেভেন থেকেই ঢাকার বাইরে। যদি আমার বাবা চাকুরী জীবনের শেষে ঢাকায় একটা বাসস্থান করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সেই বাসায় আমার  আর বাবা মার থাকা হয়নি। বাবা রিটায়ারের পর মাকে নিয়ে গ্রাম মুখী হলেন আমি আমি দেশপ্রেমিক সৈনিক হিসাবে গ্রাম,উপজেলা আর মফস্বল শহরে জীবন কাটিয়ে দিয়েছি।মন্দ কাটেনি। গত একমাস হল (জুন ২০১৭) সপরিবারে তল্পিতল্পাসহ ঢাকায় এসেছি।মন ভাল নেই। ঢাকায় সবার মন ভাল হয়। আমার আর আমার পরিবারের মন ভাল নেই। মনে হয় দীর্ঘদিন ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকাকে এক আজব শহর মনে হয়। ছোট্ট শহর কুষ্টিয়া সাড়ে চার বছর ছোট একটি পরিছন্ন শহরে থেকে মনটা আজ বেজার। ফিরে যাব। সম্ভব নয়। বড় ছেলের কলেজের ইংলিশ ভার্সনের ভাল সুবিধা নাই।তাই ঢাকায় বদলী আশীর্বাদ স্বরূপ। এছাড়া চাকুরীর শেষে অনেকের মত আমাকেও হয়ত বা ইমোশন ফেলে দিয়ে ঢাকার বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। ঢাকার বাস্তবতা হল অনেক লোকের অপরিকল্পিত বসবাস। ছোট শহরে বড় শান্তি আর বড় শহরে ছোট শান্তি এটাই নিয়ম। ছোট শহরে ছোট ব্যস্ততা আর বড় শহরে বড় ব্যস্ততা।
সে যাই হোক ঢাকায় আসার এক মাসের মধ্যেই আমার পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আক্রান্ত হল পেটের পীড়ার। আর এটা আক্রান্তের প্রাথমিক কারণ মনে হয়েছে তারা ঢাকার বাইরে থাকার কারণে বেশীরভাগ সময়েই কীটনাশক মুক্ত শাক সবজি ও ফল খেয়েছে। এমনকি পুকুরের মাছ রাসায়নিক খাবার ছাড়া প্রাকৃতিক খাবারে উপাদন করা হয়েছে। এই কারণে নামী দামি চেইন শপের শাক সবজি ও ফল খেয়েও তারা অসুস্থ হয়ে পরে। এই অভিঞ্জতা হয়ত তাদের হবে না যারা ঘন ঘন ঢাকায় পরিবার নিয়ে থাকেন বা ঘন ঘন আসা যাওয়া করেন। আমি বার ঘাটে ঘুরে ঘুরে খাওয়া মানুষ। আমার আবার পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হতে হয়নি। আমার ধারনায় যা আসল আর তা হল আমি যতটুকু রাসায়নিক ভাবে উপাদিত খাবারে অভ্যস্ত আমার পরিবার তেমন ভাবে অভ্যস্ত হয়নি। তাই বড় শহরের পানি ও খাদ্য তাদের স্বস্তি দেয়নি। আমার স্ত্রী হঠাত দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলছিল। কুষ্টিয়া শহরটাকে কেমন আপন শহর মনে হত। ঢাকাটা আপন মনে হয় না। আমি তাকে বললাম থাকতে থাক আপন মনে হতে পারে।
ছোট্ট শহরের লোকগুলি সহজে চেনা যায়। দোকানদাররা খাতির করে কথা বলে। সবাই সহযোগিতা করে। সন্মান করে। অনেক সময় পছন্দের জিনিষ না পাওয়া গেলে তারা ঢাকা থেকে আনিয়ে দিত। এদের আন্তরিকতা অনেক। আমি বললাম ধীরে ধীরে ঢাকায় পরিচিত হবে। আন্তরিক লোকজনও পাবে।সময় লাগবে। যারা ঢাকায় জন্মের পর থেকে আছে সে আবার ঢাকার বাইরে থাকতে চাইবে না। সবই হয়ত অভ্যাস।
একবার আমার একজন বন্ধুর একটা কথা আজো মনে ধরে আছে। হয়তবা কারো কোটেশন হতে পারে।সেটা হল বড় পরিসরে দাসত্ব করার চেয়ে ছোট পরিসরে রাজত্ব করা উত্তম। আমি আজও এত এত মানুষের এই বড় শহরে কষ্টকর ও অপরিচ্ছন্ন প্রাকৃতিক জীবনে কেন মানুষ থাকে তার কারণ মনে হয় অনেকটা বাধ্যগত। কারো জীবিকার তাগিদে। কারো পড়াশোনার তাগিদে। কারো চিকিসার তাগিদে। আধুনিক প্রযুক্তির উন্নয়নে পড়াশোনার বিস্তার ছোট শহর মুখী হতে পারে। চিকিসার সুযোগ ছোট শহরে আরো ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করতে পারে। রোজগার ও জীবিকা আউট সোর্সিং ও যোগাযোগ কাঠামোর উন্নয়ন সাপেক্ষে হতে পারে।

হয়তবা আর বেশী দুরে নয় যখন মফস্বলের সুখী মানুষগুলি তাদের শহরগুলো আরও শিক্ষা বান্ধব, চিকিসা বান্ধব ও প্রযুক্তি বান্ধব করে তুলবে এবং আমার মত সহজ সরল মানুষগুলি অপরিচ্ছন্ন ও বিষাক্ত বায়ুর বড় শহরগুলোতে বসবাসকে না বলতে পারব। বাংলাদেশে আবার এমন শহরও আছে যেমন রাজশাহী শহর যেটা বায়ুর বিষাক্ততা কমিয়ে পৃথিবীর পরিবেশ বান্ধব এক নম্বর শহর হয়েছে। আমাদের একটি শহর পারলেও নিশ্চয়ই ঢাকা আরো বসবাস যোগ্য করা যাবে। আর সেটা তখনই সম্ভব হবে যখন ঢাকা মুখী মানুষ কমে আসবে। আমরা পরিচ্ছন্ন ঢাকার অপেক্ষায় থাকলাম।

Thursday, June 22, 2017

এক পরিবারে একাধিক টিভি অপ্রয়োজনীয়, লাইভ স্ট্রীমিং তার সমাধান

২০০০ সালের দিকে আমি ক্রিকেট খেলা দেখার জন্য আমার কম্পিউটারে টিভি দেখার জন্য আমি একটা টিভি কার্ড লাগাই। এরূপ আমার মত অনেকেই বাসার সকল সদস্যদের মন রক্ষা করার জন্য একাধিক টিভির ব্যবস্থা করে থাকেন। আধুনিককালে অনেক টিভি চ্যানেল এবং অনেক অনেক রুচি ও চাহিদা বিদ্যমান। কোন বাসায় একাধিক টিভির প্রয়োজন হয় যখন পরিবারে কোন ক্রিকেট প্রেমী থাকে। ক্রিকেট প্রেমীরা সাধারণত লম্বা সময় সহ টিভি দখলে নেয়। এতে বাচ্চাদের কার্টুন  ও মেয়েদের সিরিয়াল দেখা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরূপ অবস্থায় একাধিক টিভি কেনার প্রয়োজন হয়। আমার বাসায় অন্য সবার মত একাধিক টিভি রেখেছিলাম। ২০১৩ সালের প্রথম দিকে টাইম ম্যানেজমেন্ট করতে গিয়ে আমি টিভি দেখা ছেড়ে দেই। এই টাইম ম্যানেজমেন্ট করতে হয়েছে মূলত আমার লেখালেখির জন্য সময় ব্যয় করার জন্য। যেহেতু টিভি দেখা ছেড়ে দিয়েছি আমি পড়া ও লেখার জন্য সময় বের করতে পারি। টিভি দেখা ছেড়ে দেয়ার পর বাসায় একাধিক টিভি রাখার প্রয়োজন হয়নি। সকাল বিকাল মেয়ের কার্টুন বিকালে ছেলের ডিসকভারি ও সন্ধ্যায় স্ত্রীর সিরিয়ালের সময় ভাগ করে এক টিভিতে হয়ে যায়। মাঝে মনের টানে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা দেখি। ক্রিকেট খেলা দেখলেই লম্বা সময়ের এ্যাংগেইজমেন্টের সময় বিরোধটা হয়। তখন দুইটি টিভির প্রয়োজন পড়ে। আগে টিভি কার্ড দিয়ে সমস্যা নিরসন করেছি। কয়েক বছর চালানোর পর টিভি কার্ড নষ্ট হওয়ার পর সেটার প্রতিস্থাপক আর কিনিনি। কারণ প্রয়োজন হয়নি। আমি ক্রিকেট একটানা না দেখার কারণে স্ত্রী ও ছেলে মেয়েদের দেখার বিরতির সময়গুলোতে সাধারণত ক্রিকেটের স্কোর দেখে নিতাম বা মোবাইলে দেখে নিতাম। এভাবে আমার কাজ একটি টিভিতে সারছিলাম। ২০১৭ সালের জুন মাসে বদলী জনিত কারণে ঢাকায় আসলাম। তখন বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে খেলছিল। খেলাগুলো বিরতি দিয়ে না দেখে পুরো খেলা দেখার জন্য মন চাইল। স্ত্রীর সিরিয়াল হবে। সারাদিন ব্যস্ততার পর তার এই সুযোগটি না হলে লঙ্কাকাণ্ড ঘটে যেতে পারে। তখন মনে হয় খরচ গেলেও আর একটি টিভি কেনাটা অতি জরুরী।
এমন ভাবতে ভাবতে মোবাইলে ইউটিউব অন করে “লাইভ ক্রিকেট ম্যাচ বাংলাদেশ-অন্য দেশ” দিলাম তারপর শুরু হল মজার ব্যাপার। ইউটিউবে খেলার লাইভ স্ট্রীমিং চলে আসল। আমার মনে হয় এখন যে কোন গুরুত্বপূর্ণ খেলা লাইভ স্ট্রীমিং দেখা যাবে। আর এভাবে যদি লাইভ স্ট্রীমিং দেখা যায় তবে একাধিক টিভি কেনার একদমই প্রয়োজন নেই। এর জন্য অবশ্য বাসায় আন-লিমিটেড ভাল মানের ইন্টারনেট প্রয়োজন। বাংলাদেশের অনেক জায়গায় ডিশ অপারেটররাই তাদের অপটিক্যাল লাইনে ইন্টারনেট সংযোগ দিচ্ছে। ইন্টারনেট সংযোগ এখন আগের তুলনায় অনেক কম খরচে পাওয়া যাচ্ছে। ইন্টারনেট রাউটারও অনেক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। বাসা বাড়ীতে অনেকেই ল্যাপটপ ও মোবাইল পরিবারের সকল সদস্যের একাধিক ব্যবহারের জন্য রাউটার ব্যবহার করছে। এই রাউটারের ব্যবহারের ফলে মোবাইলের মাধ্যমে লাইভ স্ট্রীমিং সহজ হয়েছে। মোবাইলের মাধ্যমে লাইভ স্ট্রীমিং টিভি দেখতে পারার কারণে অনেক সময় পারিবারিক বিশেষ চাহিদার সময় পরিবারে একাধিক টিভির প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে। এমনকি অনেক সময় স্মার্ট টিভির মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগে আমরা টিভি অনুষ্ঠানও দেখতে পারি যখন আমাদের ক্যাবল টিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে বা সমস্যা হয়। তারের মাধ্যমে বাসাবাড়ির ব্রডব্যান্ড সংযোগ না থাকলেও আমরা আবার স্বল্প সময়ে স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে জিবি সাইজের প্যাকেজ কিনে আমরা ব্রডব্যান্ডের সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা সাময়িক বন্ধ সময়গুলোতে নিজেদের টিভি বা ভিডিও দেখার চাহিদা মেটাতে পারি।
আমাদের হাতের স্মার্ট ফোনটি একাধারে কম্পিউটার, টিভি ও গানের অডিও সিস্টেমকে প্রতিস্থাপন করেছে। ফলে একটা ঘরে যতগুলো স্মার্ট ফোন আছে আমরা নির্ধিধায় বলা যায় আমাদের ঘরে ততোগুলো টিভি আছে। তাই আজকে দিনে একটি বাসস্থানে একাধিক টিভির প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। এমনকি ইন্টারটেইনমেন্ট এতটাই ব্যক্তিগত হয়ে যাচ্ছে টিভির ব্যবহার হয়ত আরও কমে যাবে। ক্যাবল টিভি লাইন প্রতিস্থাপিত হবে আরও দ্রুতগতির ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এখন শুধু অপেক্ষার পালা।

Thursday, June 15, 2017

পেন ড্রাইভ/মেমোরী কার্ডে ছবি সরবরাহ ও ফটোগ্রাফিক ব্যবসা

দীর্ঘ দিন বাংলাদেশের অনিন্দ্য সুন্দর সমুদ্র বীচে যাওয়া হয়নি। আমি ২০১০ সালের জুন/জুলাইয়ে কক্সবাজার বীচে গিয়েছিলাম। তখন আমাদের সাথে ক্যামেরা ছিল। তবুও বীচের কিছু ফটোগ্রাফার ১০ টাকার বিনিময়ে আমাদের ছবি তুলে দিত। সকালে ছবি তুলে এডভান্স পেমেন্ট করতে হত। নির্দিষ্ট দোকানে বিকালে ছবি সরবরাহ করা হত। সে সময়কার তোলা অনেক ছবি এখনও আছে। ক্যামেরা থাকলেও এদের কাছ থেকে ছবি তুলে নেয়া অনেকটা ক্রেজ ছিল বলা যায়। এরা সৈকতের আলো আধার নির্ণয়, স্থান ও সময় নির্ণয়ে এত পারদর্শী যে তারা খুব সুন্দর ছবি তোলে। ফোরআর ছবির সাধারণ প্রিন্টিং এর খরচ ৫/৬ টাকা এতে প্রফেশনালদের ছবি তোলা বাবদ লাভ ৪/৫ টাকা। দশ টাকা করে প্রিন্টিং সহ আজও তারা ছবি তুলে যাচ্ছে।
আমি আমার অনেক ছবি স্ক্যান করে ডিজিটালী সংরক্ষণ করেছি। সমুদ্র সৈকতের মনোরম দৃশ্য যদি আপনি ফেইসবুকে দিতে চান তবে আপনাকে বীচের ফটোগ্রাফারদের কাছ থেকে সফটকপি নিতে হবে। এখানেই ডিজিটাল ব্যবসা জড়িত। কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধু আমাকে সুন্দর সুন্দর বীচের ছবি ভাইভারে দিল। আমি অত্যন্ত মুগ্ধ হলাম ছবিগুলো দেখে। আমি তার কাছে জানতে চাইলাম এত সুন্দর ছবি কোন মোবাইলে তুলেছ। সে জানাল মোবাইলে নয় প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার তুলে দিয়েছে। আমি বললাম ভাল ছবি তুলেছে। তবে এরা টাকা নিলেও ভাল ছবি তুলে।
আমি তখন বললাম আমিও অনেক ছবি তুলিয়েছি এদের দ্বারা। আমার এক এ্যালবাম ভর্তি আছে বীচের ছবি দিয়ে। বন্ধুটি বলল এখন ছবি তুলে আর এ্যালবাম ভর্তি করতে হবে না। এখন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফির ধরন পাল্টিয়েছে। বেশীরভাগ ইয়াং ছেলেমেয়ে চায় তার ছবিগুলো সাথে সাথে ফেইসবুকে দিতে। এ্যালবামে ছবি রাখার আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে।
ছবি সাথে সাথে ফেইবুকে দেয়ার জন্য প্রয়োজন ছবির সফট ভার্সন। এখন ফিল্মি ক্যামেরা উধাও হয়ে গেছে। ছোটখাটো ডিজিটাল ক্যামেরা মোবাইলের কাছ মার খেয়ে গেছে। হাই রেজুলেশন প্রফেশনাল ক্যামেরা এখনও টিকে আছে প্রফেশনালদের হাতে। তবে মোবাইলের ক্যামেরা যে হারে অগ্রগতি হচ্ছে তাতে প্রফেশনাল ক্যামেরার গাট্টি গোল হতে পারে। মোবাইল অনেক অগ্রসর হলেও দক্ষ প্রফেশনাল ফটোগ্রাফাররা বেচে থাকবে তাদের ছবির উপর আগ্রহ ও পেশাদারিত্ব নিয়ে। সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর ছবির জন্য তাদের উপর নির্ভর করতেই হবে।
পেশাদার ফটোগ্রাফাররা তাদের ব্যবসার পরিবর্তন এনেছে। এরা মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে আপনার মোবাইলে ছবি সরবরাহ করবে। প্রতিটি ভাল ছবি তুলে দিতে তারা আপনাকে তিন টাকা চার্জ করবে। এ রেটটি হল ২০১৭ সালের প্রথম দিকে। তবে হার্ড কপি ছবি তুলে দিলে ১০ টাকা রেট চালু আছে। একশত ছবি প্রফেশনাল দ্বারা তুলতে খরচ ৩০০ টাকা। অথচ হার্ডকপি ছবি নিলে ৩০ টা ছবিতে খরচ ৩০০ টাকা। ফেইসবুক ব্যবহারকারীদের কাছে ৩০০ টাকায় ১০০ ছবির অফারটিই ভাল। সেই সাথে প্রায় সাথে সাথে ফেইসবুকে প্রফেশনাল কোয়ালিটির ছবি আপলোড করা সম্ভব।
প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারদের লাভ এতে বেশী কারণ ছবি আলাদা করে প্রিন্ট করে সরবরাহ অপেক্ষা সাথে সাথে মেমোরী কার্ড বা মোবাইলে ছবি সরবরাহ করা অনেক বেশী সহজ ও লাভজনক।
হার্ডকপি ছবির প্রিন্ট করা কমে গেলেও নতুন ধরনের ডিজিটাল সরবরাহের চাহিদা প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারদেরকে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে বাঁচিয়ে রেখেছে। আর কয়েকদিন পর হয়তবা ক্লাউডে ছবি সরবরাহ করবে। ড্রপবক্স টাইপ ক্লাউন্ড একাউন্টে সরাসরি ছবি পাঠিয়ে দিবে। সেই ছবি ডাউনলোড করে তারপর পেমেন্ট। এমন হতে পারে ফেইসবুকে প্রফেশনালরাই ছবি আপলোড করে দিবে।
ডিজিটাল যুগের সাথে পরিবর্তন হচ্ছে অনেক কিছু। আমদের মাঝে মোবাইলে ছবি তোলার ব্যাপকতা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারদের দুর্দিন শুরু হচ্ছিল। কিন্তু ফেইসবুক ব্যবহারকারীরা মেমোরি স্টিক/পেন ড্রাইভের ব্যবহারে তাদের ব্যবসায় পুন:প্রতিষ্ঠা করেছে। সময় ও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ফটোগ্রাফিতে ব্যবসায়ী ধরনের পরিবর্তন একটা চমৎকার সাফল্য।

Thursday, June 8, 2017

উপবৃত্তির টাকা সরকারী মোবাইল সিমে ও মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে বিতরণ একটি যুগান্তকারী প্রক্রিয়া

বাংলাদেশে ডিজিটাল কার্যক্রম মূলত তথ্য নির্ভর ছিল। সবাই সকল তথ্য জানবে ও সরকারী কাজে স্বচ্ছতা ও জবাব দিহিতা বাড়বে। অপরদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতে ডিজিটাল কার্যক্রম চলছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড করে। ২০১৬ সালে ভারত ডিজিটাল ইন্ডিয়া ঘোষণা করেছে ক্যাশ লেস আর্থিক লেনদেনের মধ্য দিয়ে। ভারতে অনেক ধরনের ভর্তুকি ও ঋণ এখন আর বিভিন্ন চ্যানেল অনুযায়ী দেয়া হয় না। ভর্তুকি বা সাবসিডি এখন সরাসরি কৃষক বা সুবিধা ভোগীদের নামে তাদের পরিচয় পত্রের নম্বর দিয়ে খোলা একাউন্টে যায়। এতে প্রকৃত লোক টাকা পায়। দালাল ও সরকারী অনেক কর্মকর্তা কর্মচারীর দুনীতি করার সুযোগ কমে গেছে।
ভারতের মধ্যবিত্তদের গ্যাস সাবসিডি দেয়া হত। ভারত কম মূল্যে সিলিন্ডার দেয়া বন্ধ করে সরকার ঘোষণা দিল বাজার থেকে নগদমূল্যে ক্রয় কর। সাবসিডি টাকা যার যার পরিচয় পত্রের নম্বর দিয়ে খোলা ব্যাংক ইন্ডিয়ার আধার একাউন্টে দেয়া হল। এতে দেখা গেল ৪০% সাবসিডি গ্রহণকারীর সংখ্যা কমে গেল। গ্যাস সাবসিডি নেয়া ৪০% লোকই নাই। এটা কিভাবে সম্ভব। সম্ভব, কারণ ভুয়া নাম দিয়ে সাবসিডির গ্যাস নেয়া হচ্ছিল।
বাংলাদেশে অনেক আগে থেকেই মেয়েদের উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছিল। এগুলো নিয়ে অনেকের অভিযোগের অন্ত ছিল না। অনেক স্কুল ভুয়া ছাত্রী দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করত। অনেক স্কুল উপবৃত্তি টাকা থেকে ঘুষ বাবদ খরচ হয়েছে সেই অজুহাতে ছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা কেটে নিত। এটা একটা সিস্টেম লস কার্যক্রম চলছিল। অনেক আগে থেকে চ্যানেল অনুযায়ী উপবৃত্তির টাকা ভাগ বাটোয়ারা হত। তবে ভাগ বাটোয়ারা হওয়ার পরও এটা মেয়েদের শিক্ষার আগ্রহ বাড়িয়েছে। বাল্য বিবাহ রোধ করেছে। সার্বিক ভাবে মেয়েদের শিক্ষার হার ও মান বেড়েছে। এখন সরকারের আর একটি বড় চ্যালেঞ্জ হল স্কুল থেকে ঝড়ে পরা শিশুদের সংখ্যাটা কমানো। সরকার প্রাইমারী শিক্ষায় প্রায় দেড় কোটি শিশুকে বৃত্তি প্রদানের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই বৃত্তির টাকা সরকার নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের মায়েদের মোবাইল একাউন্টে সরাসরি প্রেরণ করার ব্যবস্থা নিয়েছে। সরকার প্রথমে বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পাইলট প্রোগ্রাম করেছে।
বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার রুপালী ব্যাংকের শিওর ক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেমটি বেছে নিয়েছে। রুপালী ব্যাংক সরকারী হলেও শিওর ক্যাশ বেসরকারি সহযোগী কোম্পানি। এদের সফটওয়্যার দেশে তৈরি। এদের সাথে বিদেশী সংস্থা আছে। তাই স্বচ্ছতা ও জবাব দিহীতার সাথে এরা কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে মনে হয়। সরকারী রুপালী ব্যাংক ২৪০০০ কোটি উপবৃত্তির টাকা বিতরণ করবে। দুর্বল সরকারী ব্যাংকটিকে সবল করার এটা একটি সেরা ব্যবস্থা। যেহেতু রুপালী ব্যাংক তাদের কার্যক্রম মোবাইল ব্যাংকিং প্লাট ফর্মে পরিচালনা করবে তাই তাদের দক্ষতা নিয়ে কোন সমস্যা হবে না।
এখন আসা যাক মোবাইল যোগাযোগের বিষয়ে। দেড় কোটি অভিভাবকের মোবাইল একাউন্টে টাকা যাবে। এককালীন টাকা, মাসিক টাকা, পরীক্ষার ফি এর টাকা ইত্যাদি নানাবিধ টাকা মিলিয়ে ২০০০ টাকার কাছাকাছি আসবে। দেড় কোটি শিওর ক্যাশ গ্রাহক তৈরি করতে হবে। আবার অনেকের মোবাইল নেই। এখানে টেলিটকের ২০ লাখ সিম বিনামূল্যে বিতরণ এবং প্রতি মাসে ২০ টাকার ফ্রি টক টাইম একটা বিশাল ব্রেক থ্রো বলা যায়। টেলিটক ৩৭ লাখ গ্রাহক নিয়ে ঢিমে তালে বেচে আছে। এখন ২০ লাখ যোগ হলে তা ৫৭ লাখ হবে। বিনা খরচে ২০ মিনিট ফ্রি টক টাইম ব্যবহারের জন্য অনেকেই এটা ব্যবহার করবে। আবার অনেক সময় আরও টাকা রির্চাজ করেও ব্যবহার করবে। আশার করা যায় এতে তাদের রেভিনিউ ধীরে ধীরে বাড়বে। সরকার নারীর ক্ষমতায়ন বাড়ানোর জন্য গরীব মহিলাদের বিনামূল্যে মোবাইল দেয়ার ব্যবস্থা রাখছে। আমি নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকার পরও টেলিটক নেটওয়ার্ক দীর্ঘ দিন যাবত করছি। তা করছি একটা মাত্র কারণে। তা হল। দেশের টাকা দেশে রাখার ইচ্ছার করনে। আমার কাছে মনে হয় সরকার তার সকল সরকারী কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের সিলিংসহ টেলিটকের মোবাইল গ্রাহক করা উচিত। এতে সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মোবাইল ব্যবহার বাবদ অন্য কোম্পানিকে যে খরচ দেয় সরকারের তা বেচে যেত। এতে সরকারী সংস্থা টেলিটকের অনেক উন্নতি হত। টেলিটক তাদের নেটওয়ার্ক উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এটা একটা ভাল দিক। টেলিটকের উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনও হতে পারে পৃথিবীর চরম আর্থিক মন্দা হল। গ্রামীণ ফোন, বাংলা লিংক ও রবির মত বিদেশী কোম্পানি তাদের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলল। তখন আমাদের সরকারী মোবাইল ফোনটি আমাদের রক্ষা করবে। যেমন নানা ছুতায় বেসামরিক পরিবহন ধর্মঘট করে আমাদের দুর্দিন গুলোতে ঝিমিয়ে চলা রেলওয়ে দেশকে রক্ষা করে। তেমনি আমাদের ঝিমিয়ে পড়া সরকারী ব্যাংকের মাধ্যমে বৃত্তির টাকা বিতরণ ও টেলিটকের মোবাইল সিম বিতরণ একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যাদের মাথা হতে আইডিয়াগুলো এসেছে তারা প্রশংসার দাবিদার।
বাংলাদেশের সকল শিশুকে স্কুলে আনতে সকল অভিভাবককে টাকা দেয়া এটা একটা ভাল ব্যবস্থা। মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে টাকা দেয়া হলে জালিয়াতি কমবে। অনেক সময় উপবৃত্তির ১০০ টাকা নেয়ার জন্য ২০ টাকা যাতায়ত ভাড়া যায়। লাইন দিয়ে দিনের পুরো সময়টা নষ্ট হত। এখন মোবাইলে টাকা পাবে। পাঁচ মিনিট হেটে গ্রামের দোকানের মোবাইল এজেন্ট হতে টাকা তুলে নিলেই হবে। সময় ও টাকা দুটোই বেচে যাবে। মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিদিন ৪০০ হতে ৬০০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। এটা এখন একটা শক্তিশালী মাধ্যম।
রুপালী ব্যাংকের শিওর ক্যাশ একটা ভাল ব্যবস্থা করেছে। তা হল তারা একের পর এক ব্যাংক সিস্টেম তাদের সাথে জুড়ে দিচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে শিওর ক্যাশের ভাল গ্রোথ হবে। পরিশেষে তথ্যের পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনে বাংলাদেশ ডিজিটাল হোক এটাই আমাদের আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন।

২০১৭ সালের জুন মাসে এই লেখাটি অনেক ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে লিখছি। আমাদের দেশের সরকারী সংস্থাগুলো লস কার্যক্রম থেকে লাভজনক অবস্থান ফিরে আসলে দেশ আরও গতিশীল হবে আরও এগিয়ে যাবে।

Thursday, June 1, 2017

ভবিষ্যতে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যম হউক ডিজিটাল পেমেন্ট ও কয়েন

কাগজের টাকা নকল হয়। ধীরে ধীরে নষ্ট হয়। সে সমস্ত টাকা পুনরায় সংগ্রহ করতে হয়। নতুন টাকা সার্কুলেশনে দিতে হয়। অকেজো টাকা ধ্বংশ করতে হয়। অনেক অনেক খরচের ব্যাপার। টাকায় অনেক রোগ জীবাণু থাকে। টাকা দ্রুত নষ্ট হয়। নকল রোধে টাকাতে অনেক সেফটি ফিচার যোগ করতে হয়। টাকার নকল এড়ানোর জন্য সকলকে সচেতন থাকতে হয়। নকল টাকা হাতে আসলেও তা ভয়ানক বিপদ। নিরপরাধ লোকের শাস্তি হতে পারে। নকল টাকা সনাক্ত সবাই করতে পারবে না। এটার জন্য ঞ্জান থাকতে হবে। অপর দিকে টাকার জন্য যে পরিমাণ ছাপা হবে তার সম পরিমাণ রিজার্ভ সোনা টাকার সমমূল্যের বিপরীতে মজুদ থাকবে।
আমরা পৃথিবীর অনেক দেশের মত ক্যাশলেছ হতে চাই। আমাদের টাকা লেনদেন হতে পারে মোবাইল ফোন, কার্ড, অনলাইন ও চেক ইত্যাদির মাধ্যমে। এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হয়েই আছে। শুধু মাত্র আমাদের লেনদেনের পরিমাণ বাড়াতে হতে এবং এ ধরনের লেনদেন জনপ্রিয় করতে হবে। এতে ব্যাংকের নিরাপত্তা, টাকা পরিবহন ও ভোল্ট ইত্যাদির বিপুল খরচ মেনটেইন করতে হবে না। শুধু ডিজিটাল/ভার্চুয়াল টাকার বিপরীতে সম মূল্যের সোনা রিজার্ভ বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে মজুদ থাকবে। একটি দেশ শতকরা ৯৮/৯৯ ভাগ টাকা ডিজিটালী বা ভার্চুয়ালী লেনদেন করার ব্যবস্থা চালু করতে পারবে। বাকী শতকরা ১/২ ভাগ টাকা হতে পারে কয়েন বা ধাতব মুদ্রার বিনিময়ের মাধ্যমে। অন্ধদের জন্য ও বৃদ্ধদের ব্যবহারের জন্য কয়েন রাখা হবে। তবে কাগজের টাকা রাখা যাবে না। কারণ এই টাকা টেকসই নয়। কয়েন আবার এরূপ হবে না যে পাঁচ টাকার পরিমাণ ধাতু দিয়ে ১০০ টাকার মুদ্রা বানানো হবে। কয়েন এরূপ হতে হবে যাতে কয়েন ধাতুর মূল্য কয়েনের ছাপানো মূল্যের কম কিন্তু কাছাকাছি থাকবে। ১০০০ টাকা মুদ্রায় পিতলের উপর ১০০০ টাকা মূল্যের সমপরিমাণ বা অল্প কিছু কম স্বর্ণ থাকবে। ৫০০ টাকা মূল্যের কয়েনে ৫০০ টাকার সম পরিমাণ বা অল্প কিছু কম মূল্যের সোনা পিতলের উপর প্লেটিং করা থাকবে। ১০০ টাকার রোপার কয়েনে ১০০ টাকার রুপার এলুমিনিয়ামের উপর প্লেটিং থাকবে। আইডিয়াটা হল। যে মূল্যের কয়েন তার সমমূল্যের বা অল্প কিছু কম মূল্যের ধাতু এই কয়েনে থাকবে। কয়েনের ওজনই ধাতুর মূল্যের প্রায় সমপরিমাণ দামের হবে। এতে কয়েনের বিপরীতে রিজার্ভ সোনার প্রয়োজন হবে না। ধাতু পরীক্ষা করতে বিশেষঞ্জের প্রয়োজন হবে না। যে কোন স্বর্ণকার ধাতু পরীক্ষা করতে পারবে। দেশে সহজেই কয়েন ছাপানো যাবে এবং লো টেক যন্ত্রপাতি দ্বারাই তা সম্ভব। ১০০০ টাকার কয়েনে প্রায় ১০০০ টাকার সোনা থাকায় নকল হবে না। অন্য ধাতু দিয়ে নকল করলে স্থানীয়ভাবে তা ধরা যাবে। ধাতুর মূল্যমান অনুযায়ী কয়েনগুলো নিন্মবর্নিত হতে পারে:
ক। ১ ও ২ টাকার কয়েন এলুমিনিয়ামের হতে পারে।
খ। ৫ ও ১০ টাকার কয়েন তামার তৈরি হতে পারে।
গ। ২০ টাকার কয়েন পিতলের তৈরি হতে পারে।
ঘ। ৫০ ও ১০০ টাকার কয়েন এলুমিনিয়াম ও রুপার প্লেটিং এ তৈরি হতে পারে।
ঙ। ৫০০ ও ১০০০ টাকার কয়েন পিতল ও সোনার প্লেটিং এ তৈরি হবে।
উপরের দেয়া কয়েনে ধাতুর মূল্য কয়েনের মূল্যের কাছাকাছি থাকবে। তবে ধাতুর মূল মূল্য কয়েনের লেনদেন মূল্য হতে কম রাখতে হবে। অন্যথায় কয়েন গলিয়ে ধাতু আলাদা করার ব্যবসা চালু হয়ে যেতে পারে। টাকার মূল্যমান কমতে থাকলে ও কয়েনের ধাতুর মূল্য বাড়তে থাকলে মাঝে মাঝে কয়েনে ব্যবহৃত স্বর্ণ ও রুপার পরিমাণ কমবেশি করার প্রয়োজন হতে পারে। কয়েন চালু হলে একটা লাভ হবে তা হল কাগুজের টাকা হতে কয়েন বহন কষ্টকর ফলে সবাই ডিজিটাল মানি বা পেমেন্টে আগ্রহ পাবে।

আমার এই আর্থিক ব্যবস্থাপনার মূল বিষয় হল ডিজিটাল লেনদেন গতিশীল করা। আর যারা একান্তই ডিজিটাল লেনদেন পারবেন না তাদের বিকল্প কয়েন বা ধাতুর তৈরি মুদ্রা রাখার প্রস্তাব করলাম। অনেক অনেক টাকা খরচ করে কাগজের টাকা বাহির দেশ হতে আমাদের দেশ তৈরি করে। অথচ কয়েন নিজ দেশে সস্তা প্রযুক্তি ও কমদামী মজুরী দিয়ে তৈরি করা সম্ভব।

কয়েন আর ডিজিটাল মানি অনেক অনেক অপরাধ দূর করবে। কাগজের নকল টাকা ও জটিল রক্ষণ পদ্ধতি থেকে মানুষ রক্ষা পাবে। লক্ষ লক্ষ এটিএম বুথ মেনটেইন করার খরচ কমে যাবে। কয়েন কাগজের টাকা হতে কমপক্ষে দশগুণ বেশীদিন ব্যবহার করা যাবে। কয়েন রিসাইক্যাল করে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করা যাবে। অল্প কিছু কয়েন নিয়ে প্রায় ৯৯% ডিজিটাল লেনদেনের অর্থ ব্যবস্থা কাগজের টাকার লেনদেন হতে অনেক বেশী ইফিশিয়ন্টে হবে এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে আমরাও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে উন্নত করতে পারি।