Pages

Thursday, August 31, 2017

মোবাইল অ্যাপ লাইভ ৩৬০ (Live 360)


আমরা ২০১৭ সালের এমন একটা সময়ে এসে আমাদের অবস্থান যখন প্রযুক্তির ব্যাপকতা বাড়ছে। মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে।মানুষের ব্যস্ততা বাড়ছে। ছেলে মেয়েরা নিজেদের মত একাকী অনেক অনেক স্থানে যেতে হচ্ছে। সর্বদা সবাই ব্যস্ত। দম ফেলার জো নেই। এর মধ্যে স্বস্তিতে থাকার একটি ব্যবস্থার না লাইভ ৩৬০। এটি একটি ফ্যামিলি ট্র্যাকার অ্যাপ। অ্যাপটি বেশ চমৎকার। আমরা আমাদের উঠতি বয়সী ছেলে মেয়েদের মোবাইল ট্র্যাকার অ্যাপটি ব্যবহার করার জন্য অনুপ্রাণিত করতে পারি। আমার এক কনিষ্ঠ জুনিয়র কলিগ একটা কাজে আমার কাছে আসল। সে ছিল নব বিবাহিত। তাকে নিয়ে একটা কাজ করছিলাম। হঠাৎ টুক করে মোবাইলে ম্যাপ দেখল। আমার কৌতূহল হল কি দেখছ। সে তখন বলল, লাইভ ৩৬০ দেখছি। এটা কি? তখন সে বলল, আমার স্ত্রী তার বাবার সাথে ঢাকা যাচ্ছে। কোথায় আছে। দেখে নিলাম। সেটা কিভাবে? সে তখন ম্যাপের উপর তার স্ত্রীর বর্তমান লোকেশন দেখাল। আমার কাছে বিষয়টা বেশ উৎসাহব্যাঞ্জক মনে হল। আমি বললাম, ভাবী তো মাইন্ড করবে। সে কোথায় কোথায় যাচ্ছে, তা তুমি জেনে যাচ্ছ। তখন সে বলল আমিও কোথায় কোথায় যাচ্ছি সেও দেখতে পাচ্ছে।
আমি বললাম বৌয়েরা স্বামীকে ট্র্যাক করলে অপরাধ নয়। কিন্তু স্বামী বৌও কে ট্র্যাক করলে খবর আছে। কারণ এতে স্বামী সন্দেহবাতিক প্রমাণিত হয়। তখন কলিগটি বলল সেই যাই হোক স্যার আমরা দুইজনে এতে বেশ উপকার পাচ্ছি। তা হল আমরা কেউ কাউকে ফোন করে কোথায় আছে জানতে চাইনা। এটা একটা বড় লাভ। আমাদের চিন্তা থাকছে না কোথায় আছে। আর বার বার করে ফোন করে লোকেশন জানার প্রয়োজন হচ্ছে না। লাইভ ৩৬০ দেখে পৌঁছানোর পর ধীরে ধীরে সুস্থে জার্নি কেমন হল বা অন্যান্য বিবরণ জানা যাবে। আর জার্নির অগ্রগতি খারাপ হলে বা জ্যামে আটকা পড়লে তা ম্যাপে বোঝা যাবে। তখন ফোন করে কষ্টের মধ্যে সান্ত্বনা দেয়া যাবে। কোথাও বিপদে পড়লে কাছাকাছি কাউকে লোকেশনটা ম্যাসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া যাবে। আমার কলীগ নাতি দীর্ঘ বক্তৃতা শোনানোর পর সে বলল, ব্যবহার করে দেখেন। ভাল লাগবে। আমি আমার স্ত্রী ছেলের মোবাইলে ইন্সটল করে নিলাম। ভালই মজা পেলাম।
অনেকের সাথে বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রথমেই ধাক্কা খেলাম। সবাই বলল, এটা ব্যক্তি স্বাধীনতা খর্ব করছে। আপনার মুভমেন্ট অন্য একজন দেখছে এটা চরম অস্বস্তিকর।কেউ কেউ বলল জঙ্গিরা আপনাকে ফলো করে আপনার ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া এই অ্যাপের ডাটা গুলো থার্ড পার্টির কাছে আছে তার এটা এ্যাবিউজ করতে পারে। সবই ভিআইপি প্রটেকশন নিয়ে কথা। ম্যাংগো বা আম জনতার জন্য এই ধরনের নিরাপত্তা চিন্তা অত গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের মধ্যে যারা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অনেক শত্রু তৈরি করে ফেলেছেন, তার এটা ব্যবহার নাও করতে পারেন। আমার মত সাধারণ মানুষ ছেলে মেয়ে স্ত্রীদের ফ্যামিলি ট্র্যাকার এই অ্যাপ ব্যবহারে আশা করা যায় স্বস্তি দায়ক চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করা যাবে।
লাইভ ৩৬০ গ্রুপে যারা আছে তাদের সবাই পরস্পরের মোবাইলে চার্জের স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন। এতে পরস্পরকে মোবাইল চার্জের বিষয়ে আগাম হুশিয়ারি দিতে পারবেন। এতে কোন স্থানে গিয়ে লোকেশন সহ চেক ইন স্ট্যাটাস দেয়া যাবে। কোথাও কোন স্থানে বিপদে পড়লে প্যানিক বাটন চাপা যাবে। তাতে গ্রুপের সবাই বিপদ সম্পর্কে জানবে। নিকটবর্তী কেউ উদ্ধারে এগিয়ে আসতে পারবে।
এই অ্যাপটি সাংবাদিকরা ব্যবহার করতে পারে। তাদের টীম ওয়ার্কে কাজ করতে হয়। টীমের কে কোথায় কাজ করছে তা টীম সদস্যদের ফোন না করেও জানা যাবে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীরা যখন স্টাডি ট্যুরে যাবে তখন নিজেদের নিরাপত্তার জন্য লাইভ ৩৬০ এর গ্রুপ তৈরি করে নিতে পারে। এতে কে কোথায় যাচ্ছে বা আছে এটা সহজে জানা যাবে। দলছুট বা হারিয়ে যাওয়ার অনেক সম্ভাবনা কমে যাবে। পুলিশের টীম বা অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের পরস্পরের লোকেশন সংক্রান্ত তথ্যাদি জানার জন্য এটি ব্যবহার করতে পারবে।

বাজারে এখন ছোট ছোট কেসিং জিপিএস ট্র্যাকার  পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো বেশ কার্যকরী। এর জন্য আলাদা খরচ করার প্রয়োজন আছে। তবে যেহেতু আমাদের হাতে হাতে স্মার্ট ফোন আছে ফোনে জিপিএস আছে তাই সর্বক্ষণ পরিবারের সদস্যরা পরস্পরের খোজ খবর নিতে চাইলে লাইভ ৩৬০ অ্যাপ একটি ভাল সমাধান। এই অ্যাপটি আমাদের পরিবারের সদস্যদের অবস্থানের সার্বক্ষণিক তথ্য দিয়ে আমাদের স্বস্থি দেবে।

Thursday, August 24, 2017

ফেইসবুকে একটিভ হওয়া ও অপ্রয়োজনীয় পোস্ট আনফলো করা

আমি ২০০৮ সালে ফেইসবুক চালু করার পর থেকে মাসে একবার ফেইসবুক ভিজিট করি। মূলত: ফ্রেন্ড রিকুয়েস্টগুলি এ্যাড করার জন্য। আমি যেহেতু নিয়মিত লেখালেখি অনুশীলন করি তাই ফেইসবুকে লেখা শেয়ার করলে মন্দ হয় না। একবার আমার স্ত্রীর ফেইসবুকে একটি লেখার লিংক দিয়ে অনেক পাঠক পেয়েছিলাম। তখন মনে হল আমার বন্ধুবান্ধব গ্রুপ ক্যাডেট কলেজ গ্রুপ ইমেইল গ্রুপ ইত্যাদিতে লেখা পোস্ট করার পাশাপাশি ফেইবুকে দিলে মন্দ হয় না। সেই চিন্তা করে জুলাই ২০১৭ সালে ফেইসবুক প্রতিদিন দেখা শুরু করি অর্থা একটিভ থাকি। ফেইসবুক প্রথম থেকে আমার কাছে তেমন পছন্দের ছিল না। তা হল অনেক ফ্রেন্ড তাদের গার্ল ফ্রেন্ড বা স্ত্রীর সাথে নায়ক নায়িকার স্টাইলের ছবি গুলো বিনা কারণে দেখে সময় নষ্ট। তবে এখন এসে দেখছি আমার বয়সীরা( ৪৫/৪৬ বছর রেঞ্জ)এখন আর নায়ক নায়িকা মার্কা ছবি দিচ্ছে না। তবে দুই একটা বিভিন্ন বেড়ানোর দৃশ্য বা সেলফি ছাড়া। সময় নষ্টের বিষয়টি ছাড়া ফেইসবুকে নিত্যনতুন অনেক তথ্য জানা যায়। এটা একটা চমকার দিক। কেউ ব্রেকফাস্ট পার্টি, জন্মদিন অর্থা আমাদের সুখের ও বিলাসী মূহুর্তগুলো দেখাতে মন চায় অনেকে দেখাতে পারে অনেকে লজ্জা পায়। তবে সুন্দর সুন্দর স্থান দৃশ্য শেয়ার করাটা মন্দ না। আবার প্রাইভেট ছবি যেমন স্ত্রী বা গার্ল ফ্রেন্ডের সাথে অন্ত:রংগ ছবি নায়ক নায়িকার মত সম্পূর্ণ উন্মুক্ত না করে তা নিজেদের লিমিটেড গণ্ডীর মধ্যে রাখলে মন্দ নয়।তবে অনেকের সুন্দর ছবি উঠাতে পারে এবং তাদের সুন্দর ছবিগুলো সবাইকে দেখাতে তাদের ইচ্ছে হয়। এটা ভাল। গতানুগতিক নায়ক নায়িকার বাইরে সুন্দর কাপল দেখতে ভাল লাগে সন্দেহ নেই। আবার অনেক ছবি দেখে মনে হয় এত সুন্দর মেয়েটা স্বামীটা বয়সী ও বেমানান। আবার অনন্ত জলিলের মত নায়ক মার্কা ছেলের সাথে সাদামাটা স্ত্রীর ছবি। তবে এগুলো আমার পর্যবেক্ষণ কাউকে হার্ট করার জন্য নয়। যেহেতু ফেইসবুকে অনেকের প্রাইভেট ছবি পাবলিকলি দেখতে হয় তাই এই পর্যবেক্ষণ। ফেইসবুক কিন্তু কনসার্ন কারণ বেশীরভাগ মানুষই এখন ফেইসবুকে কমপক্ষে গড়ে দুই ঘণ্টা ব্যয় করে। তবে এই দুই ঘণ্টা অবশ্য আমদানি হয়েছে টেলিভিশন দেখার সময় হতে। আগে হয়ত পাঁচ ঘণ্টা টিভি দেখতে এখন তিন ঘণ্টা টিভি আর তিন ঘণ্টা ফেইসবুক। দীর্ঘ সময় টিভির সিরিয়ালের চেয়ে ফেইসবুকের নিত্যনতুন বিষয় জানাটা একটা ভাল ব্যাপার।
আমরা চাইলে কারো কাছ হতে ভাল না লাগা পোস্ট গুলি নাও দেখতে পারি। প্রথমে আমরা সম মনা বন্ধুদের দেখে দেখে এ্যাড করতে পারি। যেমন আমার স্ত্রী তার চেনা জানা বন্ধু ছাড়া কাউকে নট এ্যালাউড। আমি আবার যেই রিকুয়েস্ট পাঠায় তকেই গ্রহণ করি। বন্ধু বাড়ানোটাই হল মজা। বিপদ যেটা হল এতে রাজনৈতিক বিষয় যেটা পছন্দ করি না এটার পোস্ট চলে আসে। ধর্মীয় কিছু অলৌকিক বিষয়ে অনেকে পোস্ট দেন, নায়ক নায়িকার স্টাইলে ছবি পোস্ট এবং কারো ফ্যামিলির গেট টুগেদারের পোস্ট আমার মূল্যবান সময় নষ্ট করতে পারে। এই ভেবে আমি তাদের আনফ্রেন্ড না করে তাদের পোস্ট আন ফলো করি। মাঝে মাঝে সময় থাকলে তাদের প্রোফাইলে গিয়ে তাদের পোস্ট দেখি তখন ভালই লাগে।
সীমিত, পরিচিত ও সমমনা ফেন্ড ফেইসবুকে সময় অপচয় না করার সবচেয়ে বড় সমাধান। তারপরের সমাধান হল যাদের পোস্ট যথেষ্ট মনোপুত: না হলে তাদের আনফলো করা এটা অন্য একটি সমাধান। অনেকের কাছে আরও কিছু উত্তম উত্তম সমাধান থাকতে পারে।

পরিশেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয় মাধ্যম এই জনপ্রিয়তা বাড়বে বই কমবে না। তাই সীমিত ও বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবহার ফেইসবুক অনেক উপকারী তথ্যের পাশাপাশি অনেক বিনোদন দিতে পারে তা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়।

Thursday, August 17, 2017

ফুল ফল এর পরিবর্তে রোগীকে নগদ অর্থে আশীর্বাদ দেয়া

আমার দীর্ঘদিনের অভ্যাস বিয়েতে নগদ টাকা/প্রাইজ বন্ড/ চেক দেয়া। এটার কারণ হল আমার অভিঞ্জতায় দেখেছি মানুষ অনেক অপ্রয়োজনীয় গিফট প্রদান করে। পরিবারের মধ্যে হলে আমি সাধারণত কে কি ধরনের গিফট দিবে ভাগ বাটোয়ারা করে দেই। কাছের মানুষ হলে আমার বাজেটটা বলি এবং কি গিফট তার প্রয়োজন তা জেনে গিফট দেই। এটা আমার আচরণ। অনেকের ধারনা গিফট দিব আমার পছন্দ অনুযায়ী। এতে গিফট গ্রহণকারীর মতামত নেয়াটা অস্বস্তিকর। আমি এই অস্বস্তির কাজটি জানা শোনা মানুষের সাথে করে থাকি। আমি অনেক অনুষ্ঠানের সাক্ষী যেখানে লোকজন গিফট মন:পুত হয়নি। আবার একই রকম একাধিক গিফটও হাজির হয়। অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পেতে হয়। তখন অধিকাংশ অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যই আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধবকে বিতরণ করতে হয়। যা অত্যন্ত ঝামেলা যুক্ত কাজ।
বিয়ের বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে আমার মত অনেকেই আছেন নগদ গিফট দেন।এটা একটা ভাল পদ্ধতি। কিঞ্চিত ব্যয় সাপেক্ষ। আপনি বাজারে বিয়ে খাওয়া স্বর্ণের সুন্দর প্যাকেটে স্বর্ণের প্লেটিং দেয়া আংটি দেখিয়ে কম দামে বিয়ে খেয়ে আসতে পারেন। এটা প্রতারণা ও দু:খজনক। সবচেয়ে ভাল হয় কোন উপহার না দেয়ার ব্যবস্থা থাকা। এই দেয়ার ভয়ে নিকট আত্মীয়ের বিয়েতে অনেকে কাজের বা অন্য কোন অজুহাত দেখিয়ে গ্যাপ মারে। তাই বিয়ে বা অনুষ্ঠানে গিফটের প্রচলন না থাকলে সবচেয়ে ভাল। আর যদি দিতেই হয় নগদ টাকা দেয়া আরও ভাল।
আমার আশে পাশে প্রতিবেশী বেশ কিছু ফল নিয়ে হাজির। কারণ জানা গেল প্রতিবেশীর বাবা অসুস্থ বেশ কিছু দর্শনার্থী ফল নিয়ে এসেছে যা তারা রুগী সামলিয়ে ফলগুলো সামাল দিতে পারছে না। তাই পুন:বণ্টন হচ্ছে। রুগী দেখার জন্য ফল নেয়া, খাবার নেয়া ও ফুল নেয়ার রেওয়াজটা বেশ ভাল। তবে খুব একটা বা উপকারী নয়।
সেদিন ফেইসবুকে চমকার একটি বিষয় পড়ে আমার এই লেখাটির আইডিয়া আসল। একজন ফেইবুক ফ্রেন্ড লিখেছে। আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অনেকেই নগদ টাকা পয়সা গিফট দেই । অথচ আমরা কেউ রুগীকে নগদ টাকা দেই না। অথচ মানুষের সবচেয়ে সংকটময় সময় হচ্ছে তার চিকিসা। আর বাংলাদেশের মত পুঁজিবাদী দেশে চিকিসা মানে বিশাল বাণিজ্য ও খরচের ব্যাপার। এখানে যে বিনে পয়সার হাসপাতালে চিকিসা হয় তার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মূলত কোন আস্তা নেই। তাই বেশীর ভাগ মানুষ একটি ভাল ব্যবস্থাপনা পাওয়ার জন্য ক্লিনিকগুলোতে ভিড় জমায়। তার ফলে যা হয়, বিশাল বিশাল অর্থের শ্রাদ্ধ। অথচ টাকার ছাড়া উপায় নেই। অন্যথায় চিকিসা বিহীন মৃত্যুকে বরন করতে হবে। চিকিসা মানেই সর্বস্বান্ত অবস্থা।

তাই রোগীর এই শোচনীয় পরিস্থিতিতে আমরা আঙ্গুর, আপেল ও অন্যান্য ফল নিয়ে রোগীর রোগমুক্তির কামনায় ক্লিনিক ও হাসপাতালে ভিড় জমায়। অথচ এই রূপ ফল হয়ত রোগীর কোন প্রয়োজনই নেই। যা প্রয়োজন, তা হল চিকিসার খরচ। এই সময় আর্থিক সাহায্য অনেক অনেক বড় সাহায্য। এই সাহায্য যে করতে পারবে মূলত সেই প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষী। রোগীকে ফল দিয়ে দেখতে যাওয়ার রেওয়াজ আছে কিন্তু টাকা দিয়ে দেখতে যাওয়ার রেওয়াজ নাই। এটা আমরা সচেতন মানুষরা চালু করতে পারি। একবার আমরা আমাদের নিজেদের আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের মাঝে চালু করলে আমি নিশ্চিত এই ধারাটা চালু হবে। এই ধরনের কালচার চালু হলে অনেক অনেক নিন্ম আয়ের মানুষ নিজেদের আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুবান্ধব দ্বারা অনেক বেশী উপকৃত হতে পারবে। তবে অনেক সময় অনেক আত্মীয় স্বজন আর্থিক সাহায্য দিতে পারেন না। তারা বরং ফলফলারি না কিনে রোগীর এ্যাটেন্ডেন্টকে রেস্ট ও রিফীড করার জন্য রিলিফ দিতে পারে। আবার কখনও কখনও রোগী বা এ্যাটেনডেন্টের জন্য বিশেষ খাওয়া দাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। তখন অনেক আত্মীয় স্বজন এগিয়ে আসে রান্না করা খাবারের সাহায্য নিয়ে। তবে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয়তা না জেনে রুগীর জন্য খাবার সরবরাহ অনুচিত। পরিশেষে আমরা সকলে রুগীর জন্য যা পারি তা দিয়েই আর্থিক সাহায্যের রীতি বা কালচার চালু করতে পারি।এটা সকলের জন্য মঙ্গলকর হবে।

Thursday, August 10, 2017

সবকিছু ঝেড়ে ফেলি শূন্যে জীবন যাপন

আমি ২০১৫ সালে একটি পত্রিকায় আর্টিক্যাল পড়েছিলাম। ভাসা ভাসা মনে আছে। একজন চাকুরীজীবী সিঙ্গেল মহিলা তার জীবন ও সবকিছু একটা ট্রলি ব্যাগে ও একটা হ্যান্ড ব্যাগে রয়েছে। দুইটি ব্যাগে জীবন যাপন। আইডিয়াটা চমৎকার বাস্তবায়ন আরও কষ্টকর। উল্লেখ্য মহিলাটি আমেরিকার একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। সে একটা কোম্পানীর সফটওয়্যার মার্কেটিং করার জন্য এক স্থান হতে অন্য স্থানে এক দেশ হতে অন্য দেশে ঘুরে বেড়াতে হয়। তার নিজের ফ্লাট নেই বা ভাড়া করা বাসা নেই। পিতামাতার বাসায় গেলেও কিছুদিন থাকে তারপর  পুনরায় হোটেল হতে হোটেলে জীবন যাপন।
আমার এই লেখার আইডিয়া আসল জুন ২০১৭ সালে কুষ্টিয়া হতে ঢাকায় পোস্টিং আসার পর লাগাতার ট্রাংক, সুটকেস ও বাক্সের মালামাল বের করতে গিয়ে আমার স্ত্রী বলল, এমন জীবন যাপন কি সম্ভব? কোন মালামাল থাকবে না। যা দরকার আমি ভাড়ায় ব্যবহার করব। কোন কিছু আমার মালিকানায় থাকবে না। এক জায়গা হতে আরেক জায়গায় গেলে সেখানে কোন কাপড় ব্যতীত কোন মালামাল নিব না। সবকিছু ভাড়ায় ব্যবহার করব। কোন কিছু ধোয়া, মোছা ও রক্ষণাবেক্ষণের চাপ থাকবে না। সরবরাহকারীরা সব করবে। আমি বললাম বাংলাদেশে এই ধরনের জীবন যাপন শুনিনি। হোটেলে থাকলে সম্ভব। সমস্যা একটাই খরচ অনেক। অন্য দেশের উপরের নিউজটি সম্পর্কে তাকে জানালাম। সে বলল ওয়াও। কিন্তু আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা তিনজন সন্তানের পিতামাতা।
আজকাল অনেক দেশেই ভাড়া বাড়ীর সাথে সম্পূর্ণ ফার্নিচার, ইলেকট্রিক সামগ্রী, পর্দা, বালিশ ও তোষক ইত্যাদি ঘরের আনুষঙ্গিক সকল সামগ্রীই দেয়া থাকে। সকল সামগ্রীর উপর ভাড়া ধরা হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে যে কোন সামগ্রী নষ্ট হলে তা ভাড়াটিয়াই মেরামত করবে। আমি যে সংস্থায় চাকুরী করি সেখানে একটা ভাল বিষয় হল, তারা বাসার লাইট, ফ্যান, রান্নার চুলাসহ, সমস্ত ফার্নিচার প্রদান করে। এতে অন্তত দীর্ঘদিন আমাকে পোস্টিং এর সাথে কোন ফার্নিচার বহন করতে হয়নি। এটাও একটা বিশাল রিলিফ। ফার্নিচারের মধ্যে বাচ্চাদের ছোট ছোট পড়ার টেবিল ও কম্পিউটার টেবিল বানাতে হয়েছে। দুই একটি চেয়ার করতে হয়েছে। এগুলো ব্যবস্থা বা ভাড়ায় পাওয়া গেলে ভাল হত। ফ্রিজ, টিভি, কম্পিউটার, এসি, ওয়াশিং মেশিন ও ওভেন ইত্যাদি ভাড়ায় পাওয়া গেলে মন্দ হত না। ঘন ঘন বদলী যাদের হতে হয় তাদের এসি, ওয়াশিং মেশিন, গিজার ইত্যাদি সামগ্রী লাগানো ও খোলা একটা ভয়ানক চাপে ফেলে দেয়। তখন মনে হয় সবকিছু ছেড়ে দিয়ে সন্ন্যাসী জীবনে চলে গেলে মন্দ হত না। জীবনটা সহজ সরল ও নির্ঝঞ্ঝাট করে নেয়া যেত। তবে সম্ভব। যদি আমরা কম সামগ্রীতে অভ্যস্ত হতে পারি। এতে জীবনটা সহজ হবে। হয়ত বেশী দূরে নয় বাংলাদেশের  মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা ক্রমশ উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে। আমরাও অনেক বেশী ফ্রি ও নির্ঝঞ্ঝাট হতে পারব। আমার মনে আছে শুরুতে বলা সেই মহিলা একটা হিসাব দিয়ে দেখিয়ে ছিল তার হোটেলে থাকা, হোটেলে খাওয়া কিছু বুদ্ধিমত্তার সাথে চললে কিছু বেশী খরচ হলেও তা ভাড়া করা ফ্লাটে থাকার খরচের কাছাকাছি। যদি ছিমছাম ও দায়িত্বহীন জীবন যাপন করা যায় তবে ফ্লাট ভাড়ার চেয়ে হোটেলে বসবাস মন্দ নয়। ঢাকা শহরে ১০০০ টাকা প্রতিদিন ভাড়ায় রুম পাওয়া যেতে পারে। ৫০০/৬০০ টাকায় প্রতিদিন খাওয়া জুটতে পারে। এর পর বিভিন্ন ভিজিটে রুম ছেড়ে দিয়ে বা বন্ধু/বান্ধব আত্মীয় স্বজনের মাঝে মাঝে দাওয়াতে খরচ সাশ্রয় হবে। এতে করে অবশ্য দ্রুত নতুন পরিস্থিতি ও পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর অভ্যস্ততা অর্জন করতে হবে।

আমরা সবাই স্থিতিশীলতা চাই তাই হোটেল জীবন পছন্দ না হওয়াই স্বাভাবিক। ছিমছাম সহজ সরল ও সবকিছু ভাড়ায় চলে এমন জীবন যাপন করে দেখলে মন্দ হত না। কারণ একটা বাসা বা ফ্লাট মেনটেইন করা অনেক অনেক কাজের চাপ। একা বা কাপলের পক্ষে বাসা গুছানো ও পরিচ্ছন্ন রাখার চাপে নাভিশ্বাস পরিস্থিতি হয়। যারা সিঙ্গেল বা কাপল তারা সহজ সরল দায়িত্বহীন হোটেল জীবন যাপন করে দেখলে খুব মজা পাবেন। হাতে অনেক সময় থাকবে। অনেক সৃজনশীল কাজ করা যাবে। আর কিছু না হোক বেড়িয়ে জীবনটাকে উপভোগ করা যাবে।

Thursday, August 3, 2017

ফেইসবুকে ভিক্ষুকদের ছবি


আমরা সবাই যাদের সামর্খ আছে তার স্মার্ট ফোন কিনি। ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে ফেইসবুক ব্যবহার করি। ফেইসবুক অনেক উপকারী নেশা সন্দেহ নেই। এতে আমাদের অনেকের সাথেই ভার্চুয়ালই সংযোগ রাখতে পারি। আমি দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট ব্যবহার করি। আমার বলতে দ্বিধা নেই অনেকেই আছে যারা কোন তথ্য জানার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না। কিন্তু তারা ফেইসবুক ব্যবহার করেন।
আমি বেশ কিছুদিন যাবত ভাবছিলাম ভিক্ষুকদের ফেইসবুকে ছবি দিলে কেমন হয়। আমি অনেক দিন থেকে ফেইসবুক দেখছি কিন্তু ফেইসবুকে কেউ ভিক্ষুকের ছবি পোষ্ট করেনি। অথচ এটা করলে ধীরে ধীরে ভিক্ষুকদের একটা সংগ্রহশালা হয়ে যেতে পারে। ফেইসবুক ব্যবহারকারীরা যদি সপ্তাহে অন্তত একটা করে ভিক্ষুকের ছবি এ্যাড করে তবে লক্ষ লক্ষ ভিক্ষুকের ছবি আমরা এ্যাড করতে পারব।অনেক ভিক্ষুক হয়ত ছবি তুলতে চাইবে না। তখন তাকে বলতে হবে বলা যায় না তোমার এই ছবির জন্য কোন ব্যক্তি তোমাকে কাজে ডাকতে পারে। তোমার ভাগ্য খুলে যেতে পারে। এভাবে বললে অবশ্য ভিক্ষুকরা ছবি তুলতে আপত্তি করবে না।
আমরা সব সময় ব্রেকফাস্টের মেনুসহ পরিবারের ছবি। নানা গেট টুগেদারের সেলফি ও বেড়ানোর ছবি দিয়ে অপেক্ষায় আছি কখন লাইক পাব। এই অভ্যাস থেকে আমরা কিছুটা বিরতি দিয়ে বরং এমন করতে পারি সপ্তাহে একটা ছবি ভিক্ষুকের সাথে তুলে তার বর্ণনা দিতে পারি। এতে ছবি তোলার পাশাপাশি তার সাথে দুই দণ্ড কথা বলে নিতে পারি। দুই একশত টাকা দিতে পারি। তার বিষয়ে কিছু তথ্য নিয়ে তার ভিক্ষা করার কারণ জেনে নিয়ে ফেইসবুকে দিতে পারি। এতে এক বছরে আপনার ৫২টি ভিক্ষুক সম্পর্কে জানা হবে। অন্য ফেইসবুকি বন্ধুদেরও আপনি জানাতে পারলেন। এর মধ্যে অনেক ভিক্ষুক থাকবে আপনার ছবির কল্যাণে ও অন্যের সহযোগিতায় তার জীবনের পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।
আমি একবার আমার একজন মুরুব্বীর কাছ থেকে শুনেছিলাম। আমাদের প্রায়শই চেষ্টা করা উচিত রোগীর সাথে কথা বলা। তখন নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হবে। এতে আমাদের অপরের প্রতি সহমর্মিতা বাড়বে। আমার মনে হয় তেমনি অর্থ বঞ্চিত ভিক্ষুকদের সাথে ক্রমাগত ছবি তুলতে থাকলে আমরা নিজেদের বঞ্চিত ও দুর্দশাগ্রস্ত ভাবব না। আমাদের মানবীয় অনেক উন্নতি হবে। আমাদের চাহিদা কমে আসবে। হায় হুতাশ কমে আসবে। জীবনকে অত খারাপ মনে হবে না। শুধু একটা কাজ হবে ভিক্ষুকের সাথে দাড়িয়ে সেলফি তোলা ও ভিক্ষুকদের বিবরণটা ফেইসবুকে তুলে ধরা।
আমার কাছে মনে হচ্ছে এভাবে আমরা ভিক্ষুকদের খোজ খবর নিতে থাকলে কয়েক বছর পর আর কোন ভিক্ষুক খুঁজে পাব না যার সাথে আমরা সেলফি তুলতে পারব। আমার এই প্রস্তাবটি অনেকের কাছে হাস্যকর মনে হতে পারে কিন্তু গভীর ভাবে চিন্তা করে দেখুন। আইডিয়াটা কিন্তু অনেক বেশী শক্তিশালী। আধুনিক যুগে প্রচার, ছবি ও তথ্য অনেক বেশী শক্তিশালী। এটা মানুষের অনেক অনেক সমস্যা দুর করবে। অনেক মানুষকে সচেতন করবে। মানুষের মানুষিকতায় পরিবর্তন আসবে। কয়েকদিন আগে( জুলাই ২০১৭) আমেরিকায় বিল গেটস বলেছেন, মোবাইল ব্যাংকিং গরীবদের ক্ষমতায়ন করবে ও দরিদ্র দূরীকরণ করবে। ক্যাশলেছ সমাজ চালু করতে পারলে সমাজে সম্পদের সুষ্ঠু বিতরণ সম্ভব হবে। কারণ দরিদ্র মানে কারো অপরাধ নয়। সেই ব্যক্তি সম্পদের সুসম বণ্টন হতে বঞ্চিত একজন।
আমাদের এই দেশে গত দশ বছর অপেক্ষা এখন যাকাতের জন্য লোক পাওয়া অনেক বেশী কষ্টকর। কারণ যে কেউ যে কোন কাজ করলে ৪০০/৫০০ টাকা প্রতিদিন অর্জন করতে পারে। পড়াশোনায় অধ্যয়নরত যে কেউ অন্য বাচ্চাদের টিউশন করিয়ে পড়ার খরচ চালাতে পারে। তাই প্রকৃত যাকাত অর্জনকারী বের করাটা একটা কষ্টকর কাজ।
ফেইসবুকে সবাই মিলে ছবি ও বিবরণ পোস্ট করতে থাকলে ভণ্ড ও বাটপার ভিক্ষুকগুলির তথ্য উন্মোচিত হতে থাকবে। এক সময় লোকে জিঞ্জাসা করবে, তুই করিম ভিক্ষুক না? তুই তো ভণ্ড ভিক্ষুক। আর প্রকৃত ভিক্ষুকরা তখন সহজে প্রকৃত কৃপা পাবে। আশা করি ফেইসবুকে ভিক্ষুকের ডাটা বেইজ তৈরিতে অনেকেই আগ্রহী হবেন।