Pages

Tuesday, March 29, 2016

টেনশন ও অস্থিরতা উৎপাদনশীলতা কমায়

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি হতে ২০১৬ জানুয়ারি মাস পর্যন্ত আমি অনেক অনেক রচনা লিখতে পেরেছিলাম। আমার শব্দের উৎপাদনশীলতা বেশী ছিল। এর আগে প্রায় সাত/আটমাস আবার আমি কিছু লিখতে পারিনি। উৎপাদন শীলতা বা মুক্ত চিন্তার মধ্যে টেনশন বা অস্থিরতা একটা ভয়াবহ সমস্যা। আমি নিজে টেনশন কম করি। তবে অন্য কেউ চাইলে আমার মাঝে টেনশন বা অস্থিরতা অহেতুক দিয়ে দিতে পারে। এটা আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আর এটা পারে আমি মানুষের কটূক্তি আর খারাপ ব্যবহার দুইটিকে ভয় পাই। কারণ আমি নিজে খারাপ ব্যবহার করতে পারি না বলে অন্যদের কটূক্তি আর খারাপ ব্যবহার আমার মাঝে বিশাল পরিমাণ প্রভাব বিস্তার করে। অনেকেরই অন্যদের সাথে কারণে অকারণে খারাপ ব্যবহার করার অভ্যাস আছে। তাদের অন্যের কাছ থেকে খারাপ ব্যবহার বা কটূক্তি শুনলে তাদের তেমন একটা প্রভাব বিস্তার করে না।
আমার অভিঞ্জতায় দেখলাম মানুষ মূলত টেনশন বা সমস্যা সৃষ্টি করে অহেতুক কিছু পরিবর্তন আনতে গিয়ে। এই পরিবর্তনগুলো হল আগে যেভাবে চলছিল তা ভাল হলে ভিন্ন কিছু করা। নিজের কৃতিত্ব জাহির করার জন্য নতুন নতুন আইডিয়া জাহির করা। তারা মূলত কাজটি কিভাবে গতিশীল বা ভালভাবে সম্পন্ন করা যায় সেটা চায় না। তাদের মাথার মধ্যে থাকে কেমনে অন্যদের চেয়ে আলাদা হওয়া যায়। তাদের এই ক্যামনে অন্যদের থেকে আলাদা হওয়া যায় তা রক্ষা করতে গিয়ে অধীনস্থদের নাভি:শ্বাস উঠে যায়। তারা জানে সাময়িক সময়ে যতটুকু পারা যায় পয়েন্ট কামিয়ে নিয়ে কেটে পড়া। এর জন্য অন্যদের ছুটি থেকে শুরু করে অন্যান্য বিষয়ে কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত বা অশান্তি হল তা বিবেচনায় আনে না। আমরা অনেকেই আছি নিজেদের ব্যক্তিগত প্রমোশন বা উন্নতির জন্য এত বেশী তৎপর থাকি তার জন্য আর কয়জন চাপে শুয়ে পড়ল তা বিবেচনায় আনি না। একবার একজন বিখ্যাত ব্যক্তির উক্তি পড়েছিলাম আমরা সবাই প্রতিযোগীতায় লিপ্ত কখন থামতে হবে জানি না, সবাই ছুটে চলেছে। তবে বুদ্ধিমানরা আবার থেমে দম নেয় ও নিজেকে রি-চার্জ করে নেয়। আমি যখন প্রতিযোগীতায় লিপ্ত তখন আমার অধীনস্থরা না চাইলেও আমার দৌড়ের সাথে না দৌড়াক অন্তত জোরে হাটতে হবে। এইরূপ কিছু মাস জোরে হাটা, কিছু মাস দৌড়ানো আবার আস্তে হাটা ইত্যাদি নিশ্চিতভাবে কষ্টকর। তবে উত্তর আছে। একবার একটা উক্তি শুনেছিলাম “সরকারী বস কয়েকমাস পর পর বদলে অধীনস্থদের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ্যাডজাষ্ট করতে করতে জীবনে অশান্তি আসে”। সামরিক ও বেসামরিকের মধ্যে একটা প্রধান পার্থক্য হল সামরিক ব্যক্তিরা ব্যক্তিগত রিলেশন ভাল মন্দ এটা গুরুত্ব না দিয়ে কাজের  বিষয়টি গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে বেসামরিকরা বার বার ব্যক্তিগত রিলেশন নতুন নতুন ব্যক্তির সাথে রক্ষা করতে গিয়ে হয়রান হয়ে যায়। অবশ্য এটা চিরাচরিত ভাবে সত্যি যে, যে ব্যক্তিরা নিজেদের কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন তাদের বসের পরিবর্তনে তেমন একটা সমস্যা হয় না। সমস্যা তখনই হয়, যখন দক্ষ ব্যক্তিরা যেভাবে অভ্যস্ত সেভাবে কাজটা করতে না পারা। দক্ষ ব্যক্তি দক্ষতা পেয়েছে কারণ কাজের মধ্যে কিছু সহজ সরল সমাধান সে বের করে কাজটাকে সহজ করে নিয়েছে। আর তা বের করেছে তার দীর্ঘ দিনের অভিঞ্জতা থেকে। নতুন বস এসে যদি দক্ষ ব্যক্তিকে অদক্ষ রাস্তায় কাজ করাতে থাকে তখন দক্ষ ব্যক্তির দক্ষতা কমে যাবে ও অসন্তোষ বেড়ে যাবে। আর এভাবে নতুন বস নতুন পরিবেশ দক্ষদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটাকে অন্যভাবেও আমরা বিবেচনায় আনতে পারি। একটা প্রতিষ্ঠান দুর্বল পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা পরিচালিত হতে হতে হঠাত সবল পরিচালনা পর্ষদ আসলে সবাই অধিক পরিমাণ কাজ ও নতুন ভাবে চাপের মধ্যে পড়ে। এটা স্বাভাবিক। মানুষ দীর্ঘদিন যদি চাপযুক্ত পরিবেশে থাকে তাতেই সে অভ্যস্ত হয়ে যায়। আবার চাপ হীন কর্মহীন পরিবেশেও মানুষ অভস্থ্য হয়ে যায়। শুধু সময়ের ব্যাপার। যে কোন পরিবেশেই মানুষ টিকে যেতে পারে।

টেনশন ও অস্থিরতা থেকে আমাদের সর্বদা বাইরে থাকতে হবে। টেনশন ও অস্থিরতা আমাদের শেষ করতে হবে। এর মধ্য থাকা চলবে না। আপাতত সহজ সমাধান হল কথা না  বলা ও ধৈর্য ধারণ করা। কারণ এই পৃথিবীর সবকিছুই পরিবর্তনশীল।

Thursday, March 3, 2016

একজন মেয়ের বাবার চিন্তা

হয়তবা অনেক দিন আগে থেকেই বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে পাগল ব্যতীত সকল মেয়ের বাবারা মেয়েদের নিয়ে চিন্তা করে থাকে। আমি যেদিন দুই ছেলের পর যখন এক মেয়ে আমাদের সংসারে আসল সেদিন আমার মেয়েকে নিয়ে আনন্দ হল। মনে পড়ল আমাদের প্রতি আমার বড় বোনের অবদানের কথা। সে ‌ছোটবেলায় আমাকে পড়িয়েছে। রান্না করে খাইয়েছে। আজ আব্বা ও আম্মার বৃদ্ধ বয়সে তাদের নিয়মিত দেখভাল করছে। একটা পরিবারের মেয়ে বাবা ও মায়ের বৃদ্ধ বয়সে ছায়ার মত পাশে দাড়াতে পারেন। তারই জীবন্ত উদাহরণ আমার বড় বোন। আমার দুই ছেলের পর মনে আকুতি ছিল আমার বড় বোনের মত একজন কন্যা পাওয়া। যে কিনা বৃদ্ধ বয়সে আমাকে দেখবে। ছেলেদের কাছে এটা আশা করা যায় না। কারণ আমার জীবন থেকে দেখেছি। আমি চাকুরীর সুবাদে দূরে থাকার কারণে আমি মাঝে মাঝে টাকা পাঠানো, দূর থেকে এ্যাম্বুলেন্স ও ডাক্তারের ব্যবস্থা করা ছাড়া অহরহ বাবা মায়ের পাশে গিয়ে খেদমত করতে পারিনি। অথচ আমার বড় বোন প্রায়শই ঢাকা থেকে গ্রামে আসে ও বাবা/মার পাশে থাকছে।
অথচ আমার অন্য কোন ভাইদের তা করা সম্ভব হয় না। মেয়েদের উপর সর্বদা পিতামাতার এজাতীয় নির্ভরশীলতা অনেক পরিবারেই একটা সহজাত বিষয়।
একারণে আমাদের দেশে পিতামাতারা বিশেষ করে মেয়েদের বিয়ে সংসার ইত্যাদি নিয়ে অনেক বেশী চিন্তা করেন। ছেলেদের বিষয়ে পিতামাতা তেমন একটা চিন্তা করেন না। কারণ ছেলেরা লেবারী বা যেকোন কাজ করে জীবন অতিবাহিত করতে পারবে। মেয়েরা কিভাবে বাঁচবে এটা নিয়ে তাই পিতা/মাতা যথেষ্ট টেনশনে থাকতে হয়। মেয়ের পাত্রস্থ করা আর পাত্র উপযুক্ত কিনা এটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ছেলেদের জন্য বিয়েটা তেমন একটা সমস্যা নয়। ছেলে বাজে মেয়ে বিয়ে করলে ছেলের বাবা ছেলেকে বউ সমেত আলাদা করে দিলেই হল। মেয়েদের ক্ষেত্রে উপযুক্ত পাত্র না পেলে সমস্যা ও চিন্তায় থা‌কে পরিবার। কারণ মেয়েরা স্বামী সংসার ফেলে যেন তেন ভাবে যেখানে সেখানে যেতে পারে না। সাধারণত তাকে নিকটাত্মীয়দের কাছেই ফেরত আসতে হয়। এটাই বড় সমস্যা। যে কোন মেয়ের কর্মজীবীই স্বামীই পরকীয়া বাদ দিলেও অন্য নারী‌দের সাথে বন্ধুত্বে জড়াতে পারে। এছাড়া পরিবারের জন্য সঞ্চয় না করে মেয়ের স্বামী নিজের বাবা মা ভাই বোনদের জন্য খরচ করার মত সমস্যা করতে পারে। এতে মেয়ের সংসার হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিবাহিত মেয়ের পরিবার হুমকির মুখে পড়লে পিতামাতা চিন্তায় পড়ে যায়।
এক‌টি জীবন উপাখ্যান তুলে ধরছি। আমার এক নিকট আত্মীয় তার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন একজন মাস্টার্স পাশ ছেলের কাছে। ছেলে গ্রাম থেকে সদ্য পাশ করা বেকার। ছেলেকে অনেক জায়গায় চেষ্টা করে ব্যর্থ হতে হয় কারণ ছেলে সবকিছুতে থা‌র্ডিভিশন প্রাপ্ত। বেকার ছেলে চাকুরী খুঁজতে খুঁজতে স্ত্রীকে শশুর বাড়ী রেখে ছেলে জন্ম দিয়ে ফেলল।
এরপর তাকে ঢাকায় ‌দোকানের ব্যবসা দেয়া হল। তাতে ফেল করে পরিবারের অন্য সদস্যের আর্থিক অবস্থার বারোটা বাজিয়ে ফেলল। পড়ে তাকে একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী দেয়া হল। এখানেও লালবাতি জ্বালাল। এরপর যে গ্রামে সে ছিল সেই গ্রামে তাকে একটা দোকান দিয়ে দেয়া হল। গ্রামে পাকা বাড়ী করে দেয়া হল। গ্রামে সে তার প্রতিবেশী আত্মীয়দের সাথে বিবাদ করে মারামারি মামলার আসামী হয়ে উপজেলা শহরে সপরিবারে ভাড়া বাসায় উঠল। আদালতের জামিন নিয়ে আদালতে নিয়মিত হাজিরায় থাকল। এরমধ্যে সন্তান সংখ্যা বেড়ে হয়ে গেল তিন। উপজেলা শহরে পুনরায় শশুরের ও আত্মীয়দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দোকানদারী শুরু করল। দোকানের আয় দিয়ে পেটে ভাতে চলতে লাগল। চার সন্তান জন্ম দিয়ে ফেলল। এর মধ্যে  চার সন্তান বড় হতে থাকে। পড়ার খরচ বাড়তে থাকে। শশুর তার পেনসন আর অন্য আয় থেকে নাতি নাতনীদের পড়ার খরচ, জামা কাপড়, বাড়ী ভাড়া ও দোকান ভাড়া দিতে থাকেন। সবই চলছিল মোটামু‌টি। এর মধ্যে শশুর অসুস্থ হলে শুরু হয় মেয়ের উপর আরেক বিপদ। স্বামীর সাথে সাথে পড়ুয়া ছেলেও চাপ সৃষ্টি করে মেয়ের বাবার কাছ থেকে টাকা আনার জন্য। মেয়ে  কান্না করতে করতে আসে আর অসুস্থ বাবার কাছে যা পায় তাই ভিক্ষা নেয়। বদ স্বামী তার সন্তানদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছে তাদের মা তাদের নানা নানীর কাছ থেকে টাকা না আনলে তাদের উপায় নাই। মেয়ের অসুস্থ বাবা ও মা যথাক্রমে ৮০ ও ৭৫ বছর বয়সে নিজেদের ঔষধ ও ভাল মন্দ খাবার না কিনে মেয়ের সংসার বাচাতে তৎপর থাকতে হচ্ছে। এ ধরনের গল্প অন্য কোন পরিবারে আছে কিনা আমার জানা নেই। কিন্তু এরা আমার নিকট আত্মীয় হওয়ায় এ ঘটনাগু‌লো পীড়া দেয়। আমার নিজের মেয়ের ভবিষ্যৎ কিভাবে বিপদমুক্ত করা যায় তা এখন থেকেই চিন্তা করি।
আমাদের বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়েটা এত বেশী সেনেসিটভ যে বিয়ের পর মেয়ের সমস্যা  নি‌য়ে অনেক বাবাকে কাঁদতে দেখেছি। এটার কারণ মূলত ইজ্জত। মেয়েদের যে কোন বিষয়ে পিতামাতা মনে করেন তাদের ইজ্জতের হানি হয়েছে।
মেয়ে বিয়ে দিয়ে অশান্তিতে কাটাচ্ছে অনেক অনেক পিতা মাতা। তাহলে সমাধান কি?
একটা সমাধান হল, কোন অবস্থায় যত শিক্ষিত পাত্রই হোক না কেন বেকার পাত্রের কাছে বিয়ে দেয়া যাবে না। যৌতুক দেয়া যাবে না। যৌতুক বেকার পুরুষকে আরো অকর্মণ্য করে। স্ত্রীকে যৌতুকের চাপ দিতে থাকে। ধীরে ধীরে সে অতি লোভে অমানুষ হয়ে যায়। প্রথম থেকেই শর্ত সাপেক্ষে বিয়ে পরিহার করতে হবে। বিয়ে করলে চাকুরী দিব এটাও পরিহার করতে হবে। যদি বেকার পাত্রের পরিবার চালানোর মত বাড়ী ভাড়া, জমির আয় বা এ ধরনের আয় থাকে তবে বিবেচনায় আনা যাবে। উচ্চশিক্ষিত বেকারের কাছে তখনই বিয়ে দেয়া যায় যদি মেয়ের কোন ইনকাম সোর্স থাকে বা মেয়ে চাকুরী করে।
মেয়ে বিয়ে দেয়ার আগে তাকে কর্মক্ষম বা রোজগার উপযোগী করাটা সবচেয়ে নিরাপদ। এতে আর যাই হোক মেয়ের স্বামীর সাথে সংসার হল কি হল না সেই চিন্তাটা আর থাকে না। তবে মাস্টার্স পাশ করে পরবর্তীতে চাকুরী জুগিয়ে পাত্র পেতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েদের বয়স হয়ে যেতে পা‌রে ২৬ থেকে ৩০ বছর। আবার ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে চাকুরী পেয়ে মেয়েদের বিয়ে করতে গিয়ে দেখা যায় খুব কম পাত্রই সমবয়সী বিয়ে করতে রাজি হয়। তবে সমবয়সী বেকার পাত্রই তখন ভরসা। সমবয়সী বেকার পাত্রদের আবার এমন হয় হয়ত সারা জীবনই মেয়েকেই  চাকুরী করে স্বামী সন্তানকে খাওয়াতে হয়। তবু ভাল এ ধরনের বেকার স্বামী নিয়ে চাকুরীজীবী মেয়েরা বাবা মার জন্য আর্থিকভাবে নিন্মমানের জীবন যাপন করা ছাড়া তেমন সমস্যা করে না।
একটা মেয়েকে নিরাপদ করতে হলে তাকে কর্মজীবী করতে হবে । যদি মেয়েকে কর্মজীবী করতে বেশী সময় প্রয়োজন হয়, তবে  বিয়ে দেয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে কোন অবস্থায়ই বেকার ছেলের কাছে নয়। বেকার ছেলের কাছে বিয়ে দিতে হলে অবশ্যই মেয়েকে উপার্জনক্ষম বা চাকুরে করতে হবে। মেয়েকে পড়া‌শোনা অবস্থায় বিয়ে দিলে তার জন্য বাড়ী ভাড়া, জমির আয়, ফিক্সড ডিপোজিট, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদির মাধ্যমে উপার্জনের ব্যাক আপ জরুরী। যেন যে কোন সময় স্বামীর সাথে ব্রেক আপ হলে সন্তানসহ ভদ্রচোতিত ভাবে জীবন ধারণ করতে পারে। যদি তা না হয় এবং বাবার আর্থিক অবস্থা ভাল না হয় তবে মেয়েকে ছোটবেলা থেকেই টিউশনি ও স্কুলে খন্ডকালীন শিক্ষকতা বা ইত্যাদি যে কোন অর্থ উপার্জনকারী কাজ ছাত্রী অবস্থায় শিখাতে হবে। এ ব্যবস্থা যদি কোন পিতা করতে না পারেন অবশ্যই মেয়েকে উপার্জনক্ষম না করে বিয়ে দেয়া অনুচিত। আমাদের সব কিছুই সব সময় একই অংকের অনুরূপ হবে তা নয়। অনেক ভিন্নতা থাকতে পারে। পরিশেষে আমাদের দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে মেয়েদের নিজের পায়ে দাড় করানো ব্যবস্থা ছাড়া তাদের জন্য সত্যিকার অর্থে আর কোন বিকল্প নেই। মেয়েকে উপার্জনক্ষম করতে পারলেই পিতামাতা চিন্তামুক্ত থাকতে পারবেন। আমাদের চারিপার্শ্বের সকল পিতামাতাকে সচেতন করাই হবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।


Thursday, February 18, 2016

সেকাল ও একালের কৃষি

১৯৮০/৮১ সালের দিকে আমি প্রাইমারী স্কুলের ছাত্র। আমি পরিবারের সাথে কুমিল্লা শহরে বসবাস করতাম। তখন সমস্ত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক বিষয় আমার মেমরিতে আসে। তখন আমরা এখনকার মত প্রচুর ডিম ও মুরগী পেতাম না। যা ডিম ও মুরগী পাওয়া যেত তাও তৎকালীন মুদ্রার অনুপাতে অনেক দাম ছিল। ব্যাপকভাবে ফার্ম আকারে মুরগীর চাষ হত না। বাজারে সব্জির্র প্রতুলটা শহরের বাজারে থাকলেও গ্রামের বাজারে ছিল না। শহরের বাজারে সব সময় সকল কিছু চাইলেও পাওয়া যেত না। এখন অবাক হতে হয় গ্রামে সারা বছর টমেটো,ফুলকপি,বাঁধাকপি, গাজর ও আরো অনেক সব্জি পাওয়া যায়। আগে এগুলো এত ব্যাপকভাবে পাওয়া যেত না। শাকসব্জি ও ফলমূল থেকে কার্বোহাইড্রেট এর চাহিদা ছিল বেশী। এখন তা দূরীভূত হয়েছে। যাতায়তে উন্নতি, অনেক অনেক উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ও মানুষের চাহিদার কারণে বেড়েছে নানা বিচিত্রের আয়োজন। আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে চাহিদা টাকা থাকলেও সব পাওয়া যেত না।
আমি চাকুরীর স্থানের সরকারী কমপ্লেক্সে অনেক সব্জি ও অনেক ফল হয়। সকল সব্জি ও ফল ক্যাম্পাসের সকলকে দেয়া হয় অনেক স্বল্প মূল্যে। মাঝে মাঝে দেখা যায় কাঁঠাল বা  বিভিন্ন ফল নেয়ার মত ক্যাম্পাসের কাউকে পাওয়া যায় না। তখন বাইরে অতি কম মূল্যে দিতে হয়। কারণ একটাই। নষ্ট করার চেয়ে দেশের যে কোন মানুষ খেতে পারুক লাভ লসের হিসাব নয়। না পচে যেন মানুষ খেতে পারে। একবার প্রচুর আমলকী গাছে ধরে আছে কিন্তু নেয়ার লোক নেই। অনেক সব্জি বাগানে আছে নেয়ার লোক নেই। তখন অবাক হই কেন এ অবস্থা।
জাম গাছে প্রচুর জাম। পারার লোক নেই কারণ উঁচু জাম গাছে কেউ উঠবে না। মাঝে মাঝে অর্ধেক জামের ভাগ অফার করেও কাউকে পাওয়া যায় না। তখন টাকা অফার করতে হয়। আর টাকা দিয়ে জাম পাড়লে তখন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার স্থানীয় বাজার থেকে বেশী পরে যাবে। লেবার উচ্চমূল্যের জন্য এখনকার সময়ে আর লাভজনক থাকছে না। কৃষি উৎপাদন করে লাভের প্রথম শর্তই হচ্ছে ম্যাকানাইজ সিস্টেমে যাওয়া।কারণ কৃষিপণ্যের দাম অনুযায়ী ম্যানুয়ালি লেবার দিয়ে কৃষি পণ্য উৎপাদনে বাজার মূল্যে পোষাবে না । বিভিন্ন সরকারী কমপ্লেক্সে  জমি লীজ দেয়া বা স্থানীয় বগা চাষি দ্বারা চাষ ইত্যাদি  কার্যক্রমে স্বল্প খরচে জমিতে ফসল উৎপাদন করা যায়। বাংলাদেশে গাছ লাগানো,ফল উৎপাদন ও কৃষি উৎপাদনে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। দেশের সকল স্থান কৃষির আওতায় আনাটা জরুরী।

কয়েকবার আমাদের সরকারী কমপ্লেক্সে টমেটো,ফুলকপি ও বাধা কপি ইত্যাদি উৎপাদন করে ভীষণ ঝামেলায় পড়লাম। উৎপাদন এত হল যে সবাই খাওয়ার জন্য আর নিতে চাইত না। বাজারেও ব্যাপক দাম কম। তবু অতি অল্প দামে বা নামমাত্র দামে সব্জ‌ি শেষ করতে পারলাম। এরপর মাথার মধ্যে আসল আমরা জায়গা ফেলে না রেখে অবশ্যই চাষ করব। লীজও তেমন চলেছ না। তাই নিজেদের চাষ করতে হবে।  তবে উপায়। তখন মাথায় একটা আইডিয়া আসল আর তা হল আগের বড় বড় প্লটে এক দুই ধরনের সব্জি চাষ না করে ১০/১৩ রকমের সব্জি করা। এত‌ে অনেক ভ্যারাইটি ও উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অপচয় রোধ হব‌ে। প্রতি ক্যাটাগরির ও বিভিন্ন রকমের সব্জি অল্প অল্প করে উৎপাদন করায় তা সহজেই  খরচ হবে ও অপচয় কম হবে। এছাড়া আরো একটি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া যায় আর তা হলো অপ্রচলিত বিদেশী সব্জি লাগানো। তবে বিদেশী সব্জি বা শস্য উৎপাদনে প্রচুর যত্ন আত্তির প্রয়োজন হয়। তবে দেশের ফসল ও শস্যের ব্যাপকতার কারণ দেশের সম্ভাবনাময় বেশীর ভাগ স্থান উৎপাদনের আওতায় এসেছে। উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা বতর্মান প্রজন্মের জন্য অবশ্যই খুশী হতে পারি কারণ তাদের খাদ্যে রয়েছে পর্যাপ্ততা। এভাবে হয়ত বাংলাদেশে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। তবে একইভাবে বর্ষায় ও বন্যায় যেন খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত না হয় তার জন্য থাকবে ভাসমান বাগানের আয়োজন। শহরের প্রতিটি ছাদ বাগানে বিস্তৃত করতে হবে। তবে সর্বদা ব্যাপক বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে অবশ্যই বাজারের চাহিদার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

Thursday, February 11, 2016

মোবাইল ফোনে লেখালেখি

আমি একবার একটা খবর পড়েছিলাম আমেরিকার একজন ব্যক্তি কেবলমাত্র অফিসে আসা যাওয়ার পথে মোবাইলে এসএমএস টাইপ করে একটি বই লিখে শেষ করেছে। অবাক ব্যাপার নিশ্চয়ই। আমি এ খবরটা মনে রেখে মোবাইলের মাধ্যমে আমিও আমার বাংলা লেখালেখির একটা চেষ্টা চালাই। যেহেতু আমি বিজয়ে টাইপ করতেই অভ্যস্ত। তাই অভ্র ফোনেটিকস দিয়ে টাইপ করতে গিয়ে পরতে হয় নতুন বিপদে। কয়েক দিন অভ্র ফোনেটিকস দিয়ে  টাইপ করার ক্লান্তিকর চেষ্টাটা চালালাম। বন্ধু/বান্ধবরা অভ্র ফোনেটিকস এর পক্ষে‌ সাপোর্ট দিল। একটা বিষয় মাথায় আসল।  আমি গুগল প্লে ষ্টোরে কেন বিজয় খোজ করছি না । পরে বিজয়ের একটি অ্যাপস পাওয়া গেল যা মোটামোটি  কার্যকর মনে হয়। এখনকার সময়ে মোবাইল থাকলে আর কোন কিছুর প্রয়োজন হয় না।  কিছুদিন আগেও ট্যাব বা ল্যাপটপ ছাড়া আমরা চলতে পারতাম না। এখন মোবাইল হলেও আমাদের চলে। বরং ভারী ল্যাপটপ আর ট্যাব বেশী জরুরী না হলে আমরা বহন করতে চাইনা। আমি যে গল্পটি আপনাদের জানালাম এটি হল আগের দিনের এসএমএস এ যুগের গল্প। যখন এসএমএস মোবাইলের দশ বাটনের মধ্যে টাইপ করা লাগত। এখন টাচ মোবাইলে একই বাটনের বিভিন্ন লেটার টিপে টিপে টাইপ করার প্রয়োজন পড়ে না। একেবারে টাচ বাটনে নিদিষ্ট অক্ষর দেখে টাইপ করা যায়। টাইপ করাটা টাচ বাটনে একবার আয়ত্তে আনতে পারলে অনেক দ্রুত টাইপ করা যায়।
মোবাইলের বিজয় কীতে টাইপ করাটা অভ্যাস হয়ে গেল মন্দ হয় না। বিজয় অভ্যাস করে কম্পিউটারে টাইপিং ও মোবাইলের টাইপিং প্রায় একই রকম মনে হয়। অনেক ক্ষেত্রে মোবাইলে টাইপ করা আটির্ক্যাল টাইপিং কম্পিউটারে নিয়ে এডিটিং ইত্যাদি কাজ করতে গেলে দেখা যায় শব্দগুলো ভাংগা ভাংগা হয়ে জোড়া লাগে। এগুলো অভ্র  স্পেল চেক দিয়ে প্রয়োজনীয় কারেকশন করা যায়। মাঝে মাঝে মোবাইল টাইপিং এ রেফ, একার ও আরো দুই একটা সংযুক্ত বর্ণের জন্য সমস্যা হয়। তবে কোন তথ্যাদি ধরে রাখার জন্য মোবাইলে নিয়মিত টাইপ করার অভ্যাস করলে ধীরে ধীরে মোবাইলে টাইপিং সংক্রান্ত সমস্যাগুলি ধীরে ধীরে কেটে যায়। তখন মোবাইলে টাইপিংটাও স্বাভাবিক কম্পিউটারের মতো স্বাভাবিক হবে।
মোবাইল টাইপিঙের আইডিয়া আসে তখনই যখন আমাদের রাস্তা ঘাটের ট্রাফিক জ্যামের অলস টাইমগুলো কোয়ালিটি টাইমে রূপান্তর করা যায়। বলার অপেক্ষা রাখে না এখনকার অধিকাংশ এক্সিকিউটিভ কিছুটা অন্তত ডিজিটাল কার্যক্রমে অভ্যস্ত হচ্ছে। যেমন এসএমএস পড়া, লেখা, ইমেইল চেক করা ও ইন্টারনেটে সার্চ দেয়া। আজ হতে পাঁচ বছর আগেও দেখতাম অনেক কর্মকর্তাই এসএমএস, ইমেইল পাঠাতে ও খুলতে জানত না। এখন অধিকাংশ শিক্ষিতরাই কাজগুলি জানে। তাই এখন পঞ্চাশ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের স্মার্ট ফোনে স্মার্ট কর্মকাণ্ড করতে দেখা যায়।
বিভিন্ন স্থানে, রাস্তাঘাটে ও গাড়ীতে আজ অনেককেই  স্মার্টফোনে কর্মরতই দেখা যায়।
অনলাইন ও অফলাইন অনেক কাজ যখন স্মার্টফোনে করা যায়। এখন আমার মত লেখালেখি করা যাদের অভ্যাস আছে তারা লেখালেখির কাজগুলি সহজেই সারতে পারেন। স্মার্টফোনে লেখালেখির কাজ নোট বা মেমোতে না করে সরাসরি ড্রপবক্সে ফাইল গুলো নিয়ে করা যায়। এতে একবারেই মোবাইল ফোনে বা কম্পিউটার যে কোন স্থানে ও যে কোন ডিভাইসে টাইপ করা যাবে। অফিসে বা বাসায় ল্যাপটপ বা পিসিতে করে নিয়ে আমরা সেই লেখাগুলো মোবাইলে আবার রাস্তাঘাটে প্রয়োজনীয় সময় নিয়ে রিলাক্স মুডে কাজগুলো শেষ করতে পারি। যে কোন লেখা প্রুফ রিডিং বা সংশোধন পরিবর্ধন বা পরিমার্জনের কাজ মোবাইলে সহজে করা যায়। তবে কোন রেখা বা আইডিয়া হঠাত মনে পড়লে তা তৎক্ষণাৎ টাইপ করে নতুন নামে লেখাটি খুলে ফেলে নিলে মন্দ হয় না পড়ে প্রয়োজনীয় সময় হাতে নিয়ে পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করে নিলেই চলবে।
আগে শুনতাম লেখকরা তাদের বিভিন্ন কাজের ফাকে ফাকে লিখতে বসতেন ছোট ছোট নোট প্যাডে বা কাগজে। পড়ে এক সময় সমস্ত নোটগুলি নিয়ে তারা বসত তাদের ধারনা গুলোকে ভাষার মনোহারী বিন্যাসে উপস্থাপনা করা। এখনকার সময়ে আইডিয়া গুলো নোট লেখার পরিবতে মোবাইলে টাইপ করে ফেলতে পারি। এতে নোট জমানো ও পুনরায় সাজিয়ে লেখার মত পুনরাবৃত্তি ধরনের কাজগুলো আমরা কমাতে পারি। আমরা যেন তেন ভাবে  মোবাইলে লেখাগুলো ডিজিটালই সংরক্ষণ করে ফেলতে পারলে পরে তা যেকোনো ভাবেই ব্যবহার করে যায়। তবে ভ্রমণরত অবস্থায় বাসে বা গাড়ীতে সাধারণত কলম দিয়ে লেখা যায় না। যদি লিখতে হয় তবে প্রচুর অনুশীলনের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু মোবাইলের কিতে টাইপ করে লেখা যায়। টাচ ফোনেও গাড়ীর ঝাঁকুনিতে ঠিকভাবে আঙ্গুল রেখে কাজ করা যায় না। সরে সরে যায়। তবে একটু অভ্যাস করলে গাড়ীর ঝাঁকুনিতে ছোটখাট টাইপিং কাজ করা যায়। তবে নিধিধায় ভালভাবে কাজ করা যাবে জলপথে ও আকাশ পথে ভ্রমণের সময়। ট্রেনে সড়ক পথে জানি ভালভাবে করা যাবে।

আমরা যেখানে যে অবস্থায় থাকি না কেন আমাদের হাতের কাছে স্মার্টফোন থাকলে আর তা স্মার্টলি  ব্যবহার করতে জানলে আমাদের অলস ও বোরিং টাইমগুলো উৎপাদনশীল ও কোয়ালিটি টাইম হবে।

Thursday, February 4, 2016

পরিবার নিয়ে কলকাতায় বেড়ানো

২১ জানুয়ারি ২০১৬ আমার পরিবারের জন্য এক‌টি স্মরণীয় দিন। আমার পরিবারের সকল সদস্য পাস‌পোর্ট ও ভিসা নি‌য়ে দেশের বাইরে আসল। আমার কেজিতে পড়ুয়া ছোট মে‌য়ে ‌ইমিগ্রে‌শনে স্বহ‌স্তে স্বাক্ষর করল। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের সুবাদে অনেক দেশ দেখার সৌভাগ্য হলেও বিভিন্ন কারণে পরিবার নি‌য়ে দেশের বাইরে পা রাখার সৌভাগ্য হয়নি। তবে বিএসএফ আ‌য়ো‌জিত ফ্যামিলি প্রোগ্রামে যদিও বর্ডারের আসে পাশে দুইবার পরিবার নিয়ে বিনা পাস‌পোর্ট ও ভিসায় ভারত গমন করেছিলাম।
পরিবার নি‌য়ে বিদেশ ভ্রমণ না কর‌তে পারার জন্য আর্থিক কারণটাই মুখ্য। প্রথম কারণ বিপুল পরিমাণ টাকা শেয়ার মার্কেটে হারি‌য়ে ঋনগ্রস্থ হওয়া। দ্বিতীয় কারণ পিতার রিটায়‌মে‌ন্টের পর পিতামাতা গ্রামে থাকার কারণে গরীব আত্মীয় স্বজন‌দের অহরহ টাকা দি‌তে হয়। তখন মনে হয় কারণ ছাড়া শুধুমাত্র বেড়ানোর জন্য বিদেশ গি‌য়ে লক্ষ টাকা খরচ করার চেয়ে দশ হাজার টাকা ক‌রে দিলেও এক লক্ষ টাকায় অন্তত গ্রামের ১০ জনের ভাগ্য বদলের সহায়তা কর‌তে পারি। চাকুরীর ক্যারিয়ারে সচেতন না হওয়ার কারণে অনেকের মত প্রমোশন উন্নতি লাভ করে ও বিদেশে  কোস ও অন্যান্য অগণিত কর্মকাণ্ডে সরকারী খরচে  অনেকের মত বিদেশ যাওয়ার ভাগ্য আমি তৈরি করতে পারিনি। যাতে পরিবার উৎসাহ পাবে।
যাকগে যা হোক বিজিবিতে চাকুরী করার সুবাদে ‌বিএসএফ এর সাথে পতাকা বৈঠকের সময় অনেক বিএসএফ অফিসাররা ছুটি নি‌য়ে ভারত বেড়ানোর জন্য আমন্ত্রণ করেছিল। বিশেষ ক‌রে যে সব ‌বি‌এস‌এফ অফিসাররা বাংলাদেশে কোর্স করেছে বা ভিজিট করেছে তাদের আগ্রহটাই বেশী। পরে হিসাব করে দেখলাম দর্শনা বর্ডার দিয়ে ভারতের কলিকাতায় বেড়ানো বেশ সাশ্রয়ী। দূরবর্তী দেশে বেড়ানোর চিন্তা বাদ দিয়ে কাছাকাছি দেশ দিয়ে পারিবারিক বিদেশ ভ্রমণ শুরু করা যেতে পারে। বিশেষ করে বর্তমান যুগে নিজের সংগতি থাকতে দুই একটা দেশে না ঘুরালে সন্তানরা মনো কষ্ট পাবে। যেখানে সমসাময়িক কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের বিদেশ ভ্রমণের গল্প শুনতে শুনতে পরিবার হীনমন্যতায় ছিল।
আমার ইঞ্জিনিয়ার পিতা নিজে অনেক দেশ ঘুরলেও আমাদের মাকে সহ ছয় জন ভাইবোনকে অন্য দেশ দেখানোর মত সাহস করেননি। অবশ্যই তা খরচের জন্য। সেজন্য আমার শখের মধ্যে প্লেনে উঠার শখ‌টি চাকুরীর পাওয়ার প্রথমে পূরণ করে ফেলি। ঢাকা সৈয়দপুর বিমান ভ্রমণ ক‌রে। তবে বিয়ের প‌রে চাকুরীর টাকায় টানা পূরণে পুনরায় আর্থিক কারণে বিদেশ যাওয়ার অভিঞ্জতা অর্জনে ব্যর্থ হই। তবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে যাওয়ার কারণে বিদেশ যাওয়ার সু‌যোগ‌টি পাই চাকুরীর নয় বছরের মাথায়।
কলিকাতা শহর আর ঢাকা শহরের মধ্যে তেমন পার্থক্য চো‌খে পড়েনি।
লোকজনের পোষাকে একটা পার্থক্য দেখা যায়। ঢাকার রাস্তা ঘাঁটে লুঙ্গি পড়া লোকের সংখ্যা বেশী। এখানে কম। ইন্টারনেটে বাংলাদেশ থেকে কলিকাতার বেড়ানো সহায়ক অনেক অনেক তথ্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। কলিকাতার গুগল ম্যাপ অনেক বেশী আপডেটেড। নিজ লোকাশান থেকে অন্য লোকেশানে গেলে অনলাইন রাস্তার তথ্য, বাসের তথ্য ও ট্রাফিক জ্যামের তথ্যাদির আপডেট পাওয়া যায়। রিয়েল টাইম ইনফরমেশন এভাবে  পাওয়া যাবে। যে কোন সময়ে যে কোন স্থান হতে যেতে পাবলিক ট্রান্স‌পোর্ট ট্রেন,বাস ও হাটা ইত্যাদি পন্থায় ‌নি‌দ্দিষ্ট  স্থানে কিভাবে যেতে হয় তার গাইড গুগল ম্যাপে পাওয়া যায়। তা সত্যি চমৎকার।‌  গুগল ম্যাপে ঢাকা শহরের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ও অন্যান্য তথ্যাদি পাওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করে দেখলাম। ঢাকার পাবলিক ট্রান্সপোটের্র কোন তথ্য নেই।
দেশে থাকতেই কোথায় কোথায় বেড়া‌নো যায় তার সমস্ত তথ্যাদিই আমার ছেলেরা ইন্টারনেট থেকে নিয়ে‌ছিল। মুলত: সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমাদের বেড়ানো আগাচ্ছিল। থাকা ও খাওয়ার জন্য বিএসএফ এর বন্ধু অফিসাররা ব্যবস্থা ক‌রে দিয়েছিল। যার ফলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ব্যবস্থা পেয়েছিলাম। দুই একদিন বন্ধু অফিসাররা ‌ গাড়ী ও গাইড দিয়ে সহায়তা করেছিল।
আমাদের‌ বেড়ানোটা যেভাবে করি তা নিমরুপ:
২১জানুয়ারী ২০১৬: বাংলাদেশ হতে দর্শনা ও গেতে হয়ে ভাড়া করা কারে কলিকাতা আসা।
২২ জানুয়ারি ২০১৬: কলিকাতা নিউ মার্কেট গমন ও কিছু কেনাকাটা করা। মার্কেটে কি কি পাওয়া যায় তার ধারনা করা।
২৩ জানুয়ারি ২০১৬: বিএসএফ কলিকাতা সেক্টরের নিকটবর্তী আলম বাজার এলাকায় বেড়া‌নো। হাওড়া এলাকায় হুগলী নদীর তীরবর্তী স্বামী বিবেকানন্দের বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান কার্যালয় দেখা। পিলার বিহীন বিশাল উঁচু হাওড়া ব্রিজ দেখা। দক্ষিনেশ্বর মন্দির দেখা।
২৪ জানুয়ারি ২০১৬: ‌নিউটাউন এর সাইন্স সিটিতে ঘোরে বেড়ানো।
২৫ জানুয়ারি ২০১৬: নিউ মার্কেট ও নিকটবর্তী এলাকায় বেড়ানো।
২৬ জানুয়ারি ২০১৬: ইকো ট্যুরিজম পার্ক দেখা  ও সল্ট লেকের সিটি সেন্টারের কেএফসিতে ডিনার করা।
২৭ জানুয়ারি ২০১৬: ভি‌ক্টো‌রিয়া মেমোরিয়াল ও পার্ক স্ট্রীট এলাকার ডোমিনোজে লাঞ্চ করা।
২৮ জানুয়ারি ২০১৬: প্রি‌ন্সেপ ঘাটে বেড়ানো ও হাওড়ার এ্যাভোনী রিভারসাইড মলের ম্যাকডোনালসে লাঞ্চ করা।
২৯ জানুয়ারি ২০১৬: ‌অলিপুর চিড়িয়াখানায় বেড়ানো ও নিউ টাউনের সিটি সেন্টার-২ শপিং মলের সাবওয়ে রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ করা। দমদম এয়ারপোটের্র কাছে হলদি রামের শোরুম থেকে শুকনো মিষ্টি কেনা।
৩০ জানুয়ারি ২০১৬: কলকাতা হতে ভাড়া করা কারে গেদে দিয়ে বাংলাদেশে  প্রবেশ।
কলিকাতায় যাওয়ার পর দুইদিন পর্যন্ত নতুন স্থানে গমন ও আবহাওয়ার ভিন্নতার কারণে আমার ছেলেমেয়েদের ভাল লাগছিল না। তৃতীয় দিন থেকে তাদের ভাল লাগা শুরু হয়। আমার ভয় হচ্ছিল দশ দিন ছুটি কাটাতে পারি কিনা।  পরে দেখা গেল একনাগাড়ে আটদিনের প্রতিদিন বেড়িয়েও সন্তানদের উৎসাহের কমতি ছিল না। যাওয়া ও আসা সহ দশদিন সুন্দরভাবে আমার সন্তানরা কলিকাতায় কাটাতে পেরেছিল। এজন্য তারা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। আমার স্ত্রী আমা‌দের সাথে বড়সড় হাটায় ও বেড়ানোতে অংশগ্রহণ করতে পেরেছিল।

পরিশেষে কলিকাতায় ছোট পরিসরে পরিবার নিয়ে বিদেশ ভ্রমণের অনুভূতি চমৎকার। ছোট বাজেটে বিদেশ ভ্রমণের স্বাদ পেতে কলিকাতা মন্দ নয়।

Thursday, January 28, 2016

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে লোড শেডিং মুক্ত থাকা

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বলা যায় মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে বাংলাদেশ উঁকিঝুঁকি মারছে। এতেই বাংলাদেশের প্রায়  সকল মানুষেরই বিদ্যুৎ একটি বেসিক রাইট হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যুৎ ছাড়া উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। 
২০০৮ সালের জুন মাসের দিকে একবার আমরা পর পর তিনদিন লোডশেডিং এর ভয়াবহতায় অস্থির। রাতে প্রতি দুই ঘণ্টা পর পর এক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ নাই। এতে যা ঘটে তা হল সবার ঘুমের ব্যাঘাত। পিডিবি উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ডাকা হল। পিডিবিএর দায়িত্ব প্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ইন্জ্ঞিনিয়াররা আসলেন। তাদেরকে সেনানিবাসের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের তথ্য তুলে ধরা হল। তারা জানাল, বিদ্যুৎ উৎপাদন সমস্যা থাকায় সবস্থানেই ব্যাপক লোড শেডিং হচ্ছে। তারা আমাদের এলাকা কম লোড শোডিং এ রেখেছেন। একেবারে লোড শেডিংমুক্ত রাখতে তারা একান্তই অপারগ। তখন তারা একটা চমৎকার সলিউশন নিয়ে হাজির হল।
তারা জানাল ময়মনসিংহ সেনানিবাসের একদিকে রয়েছে শহর অপরদিকে রয়েছে গ্রাম অঞ্চল। দুইদিকে দুই এলাকার হাই টেনশন (১১কেভি) লাইন রয়েছে। তাদের সাজেশন হল দুইটি ১১০০ কেভির লাইনের দুপাশ থেকে দুটি সংযোগ নিতে। তার এমন ব্যবস্থা করে দিবে যাতে এক লাইনে লোড শেডিং থাকলে অন্য লাইনে লোড শেডিং থাকবে না। তাতে আমরা কোন না কোন লাইনে অবশ্যই বিদ্যুৎ পাব। এতেই আমাদের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এর পর পিডিবি ও আর্মির পক্ষ থেকে আর একটি ১১০০ কেভি লাইন গ্রামের মাঝ থেকে এগিয়ে সেনানিবাস পর্যন্ত আনা হয়। এভাবে দুই পাশ থেকে দুইটি লাইন আনা হয়েছিল । একটি অটো সুইচ বা চেঞ্চওভার লাগানো হয়েছিল যা কিনা যে লাইনে কারেন্ট আছে কেন্দ্রীয়ভাবে সেখানে সংযোগ করে দেয়। এভাবে ব্যবস্থা করার পর পরবর্তীতে মাসের পর মাস ময়মনসিংহ সেনানিবাসে বিদ্যুৎ যেত না। আমি সর্বশেষ ২০১৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ময়মনসিংহে তেমন একটা বিদ্যুৎ যাওয়া বা লোড শেডিং পাইনি। সর্বদা বিদ্যুৎ থাকায় মহা সুখকর অবস্থা ছিল। এভাবে হয়ত বা অনেক প্রতিষ্ঠান একাধিক লাইন টেনে নিয়ে নিজেদের লোড শেডিং মুক্ত রাখতে পারে বা রাখছে।
২০১৩ সালে বিজিবি কুষ্টিয়া সেক্টরে জানুয়ারির শেষে বদলী আসার পর বিদ্যুতের একটা ভয়াবহ অবস্থা দেখতে পাই। প্রতিদিন চার/পাঁচবার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করে। পল্লী বিদ্যুতের লাইন গ্রামের মধ্য দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়ার কারণে প্রায়ই ডালপালা পরে লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এমনও হয় মাঝে মাঝে একটানা ১০/১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এসব বহুবিদ কারণে আমরা দীর্ঘদিন যাবত বড় জেনারেটর ক্রয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। পরে অবশ্য ৫০,৩০,২৫,১৫,১০,৫ কেভি জাতীয় একাধিক জেনারেটর চালিয়ে বিদ্যুৎ চলে গেলে চাহিদা মিটানো হচ্ছিল। বাসস্থানে, অফিসে ও সিকিউরিটি লাইনে আইপিএস লাগিয়ে বিদ্যুতের আসা যাওয়াটা কিছুটা সহনশীল করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের একদিন প্রায় ২০ঘন্টা বিদ্যুৎ নাই। বিদ্যুৎ না থাকলে পানির সংকটও চরম রূপ নেয়। পরে আমি পল্লী বিদ্যুতের জিএম সাহেবের সাথে আলোচনা শুরু করি কিভাবে লোড শেডিং কমানো যায়। আমি তাকে দুটি ১১০০ কেভি লাইন ব্যবহার করে সলিউশন দিলাম। তিনি নিকটবর্তী আর একটি লাইন আনার আইডিয়াটা মাথায় রাখলেন কিন্তু খরচ হবে জানালেন। পরে অবশ্য তিনি ভাল একটা সলিউশন বের করলেন। তিনি আমাদের বিজিবি সেক্টরের গ্রিড লাইনটির সাথের বেসামরিক এলাকার লোড অন্য লাইনের মাধ্যমে কমিয়ে দিয়ে একটা ছোট পরিসরে ৫০০ কিলোওয়াট টাইপ লোড তৈরি করে নিলেন। কুষ্টিয়া ও মিরপুর উপজেলার অন্যান্য মেগাওয়াট লোডের সরবরাহ থেকে আলাদা করে দিলেন। এতে মিরপুর উপজেলার সাব ষ্টেশন থেকে বিজিবির ৫০০ কিলোওয়াট লোডকে লোড শেডিংমুক্ত রাখতে তাদের আর কোন সমস্যা থাকল না। অনেক চেষ্টা তদবিরের পর এরূপ একটা ব্যবস্থা করায় আমরা বিজিবি কুষ্টিয়ার সকলে পল্লী বিদ্যুত সমিতি কুষ্টিয়ায় উপর যারপর নাই কৃতজ্ঞ হলাম। এরপর মিরপুর উপজেলার মত গ্রামে থেকেও এক সাপ্তাহে একবার/দুইবারের বেশী বিদ্যুৎ যাচ্ছে না। কেবল মাত্র ঝড়ে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য  সত্যি তার কল্পনাতীত। যা বিদ্যুৎ যায় তা মূলত লাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও তার ছেড়ার কারণে। মাঝে মাঝে গ্রিড লাইন রক্ষণাবেক্ষণে বিদ্যুৎ যায়। ঝড় বাদলের দিনে পল্লী বিদ্যুৎ তাদের গ্রামীণ জনপদের ভিতর দিয়ে যাওয়া লাইনগুলো সাধারণত বন্ধ করে রাখে। পরিশেষে আমার দেয়া লোড শেডিংমুক্ত ব্যবস্থাপনা আপনারা কাজে লাগাতে পারেন।


Thursday, January 21, 2016

মুক্ত অফিস

আউট স‌ো‌র্সিং যারা করেন তারা মূলত এক‌টি ভার্চুয়াল অফিসে কাজ ক‌রে। আমা‌দের অফিসগুলো কি আসলে দরকার আছে। আমা‌দের অফিসগু‌লো হ‌তে পা‌রে বড় একটা কনফারেন্স রুম। বেশিরভাগ অফিস সমন্বয়ের জন্য ব্যবহার হয়। আর এ সমন্বয় যদি ভাচুয়ার্লী করা যায় তবে অফিসের কি প্রয়োজন। আলাদা আলাদা কক্ষ বিশিষ্ট বা কিউবিক্যাল না হ‌য়ে একটা সাইবার ক্যাফে টাইপ হ‌তে পা‌রে। এতে অনেক খরচ কমবে। ভার্চুয়াল অফিসগুলো হবে অতি দ্রুত ও কার্যকরী। প্রথমে আসি আমা‌দের অফিস কেন দরকার?
১. একটা ঠিকানা
২. ফাইলপত্র রাখার জায়গা
৩. চিঠিপত্রাদি  ও দালিলিক লেখাপড়ার জন্য আরামদায়ক স্থান
৪. টয়লেট বাথরুমের ব্যবস্থা
৫. যোগা‌যোগের ব্যবস্থা
৬. ফ্যাক্স, কম্পিউটার ও প্রিন্টার থাকবে
৭,. লোকজন আসলে বসার ব্যবস্থা ও কনফারেন্সের ব্যবস্থা
৮. সহকারী‌দের বসার ব্যবস্থা
৯. নিরাপত্তা রক্ষী‌দের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা ইত্যাদি ইত্যাদি।

মনে করুন, উপরের অফিস কমপ্লেক্সে আপনার লেগেছে ৩০০০ স্কয়ার ফিট। আমার প্রস্তাবিত মুক্ত অফিসে আমা‌দের প্রয়োজন হবে তিনভাগের একভাগ জায়গা। তাহলে আমা‌দের অফিস পরিচালনা ব্যয় কমবে। মূলত অধিকাংশ কাজ ভার্চুয়ালী হবে। অফিস ও স্থাপনা ছোটো হওয়ায় বিদ্যুৎ পানি ইত্যাদিরও খরচ কমবে।
আমার কল্পনার ভার্চুয়াল অফিসটা কেমন হবে তুলে ধরছি।
১. কনফারেন্স আকা‌রে বড় রুম থাকবে।
২. সবার সামনে মনিটর থাকবে। যা‌তে সকলে কম্পিউটারে কাজ কর‌তে পারে। সবাই একই সাথে ল্যাপটপ বা ডেস্কটপের মাধ্যমে ভার্চুয়াল অফিসে চিঠি তৈরি ও চিঠি দেখা ইত্যাদি কাজ করবে। প্রত্যেকের জন্য আলাদা নির্ধারিত কম্পিউটার প্রয়োজন। যে যখন ওয়ার্ক-স্টেশন খালী পাবে। সেখানেই কাজ করবে।
৩. টয়লেট ও প্রসাধনীর ব্যবস্থা থাকবে। অফিস প্রধান চাইলে কাঁচের গেঁড়াও দেয়া টয়লেট ও আলাদা প্রাইভেসী রাখ‌তে পারেন। আসলে মুক্ত অফিসে অফিস প্রধান ও অন্যান্যরা  ভ্রমণরত থাকবেন। তারা বেড়াবেন। মিটিং করবেন। কনফারেন্স ও দেখা সাক্ষাত বাইরে বিভিন্ন স্থানে করবেন। রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ হবে সাথে মিটিংও চলবে। মুক্ত অফিসের মুল ধারনাই হল সিকিউরিটি ব্যতীত সবাই ঘুরে বেড়াবে। অফিস সিকিউরিটির সবাই একসাথে সবাই কাজ করবে তা নয়। এক দুইজন সরাসরি দায়িত্ব করবে অন্যরা আইপি ক্যামেরায় মনিটর করবে। এমনকি অন্য সংস্থার সাথে ভাড়া ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও চালু করা যাবে।  এভাবে মুক্ত অফিসে সবাই আসন বিহীন থাকবে। অফিস হবে মূলত রি‌পো‌র্টিং প্লেস। অফিসের সবাইকে অফিস করার জন্য অফিসে আস‌তে হবে না। প্রয়োজন পড়লে বা মিটিং এর জন্য আস‌বে। ইমেইল, ভাইবা‌র ও হোয়াটস আপ ইত্যাদিতে ভার্চুয়াল  কার্যক্রম চলবে। একান্তই কারো সাইনের প্রয়োজন হলে ডি‌জিটালী সাইন দিবে। যেমন: সাইনের সাথে তারিখ দি‌য়ে সাইন করবেন। তারপর স্ক্যান ক‌রে ডকুমেন্টে দিবেন। স্বাক্ষর একই থাকলেও ‌যে‌হেতু নিজ হাতের লেখায় সাইনের নীচে তারিখ লিখবেন। এভাবে এ পরিবর্তনের মাধ্যমে সাইন ও তারিখের স্বতন্ত্রতা এনে স্বাক্ষর ক‌রে তারিখের ভিন্নতা স্ক্যান ক‌রে ডুকু‌মে‌ন্টের সিগনেচার ব্লগে সেট ক‌রে অফিসের বাইরে থেকেও কাজ করা যায়।
তবে বিভ্রান্তি দূর করতে সাথে সাথে প্রেরকে জানাবে যে তিনি সাইন ক‌রে স্ক্যান ক‌রে ডকুমেন্টে সংযুক্ত করেছেন। ফি‌রে আসলে প্রয়োজনে পুনরায় স্বাক্ষর করবেন।
তবে নিদিষ্ট ফরমে স্বাক্ষর করার প্রয়োজন হলে তা আবার ইমেইলে  পাঠিয়ে কাযর্ক্রম গ্রহণ কর‌তে হবে।
আমার কাছে মনে হয় মুক্ত অফিসের কোন সুনির্দিষ্ট প্যাটার্ন বলা যাবে না। যে অফিস যেভাবে চাইবে সেভাবে তা‌দের ক‌রে নিতে হবে। মুল আইডিয়া হবে আমরা ঘুরে বেড়াব কিন্তু অফিস চলমান থাকবে। এই চিন্তা করলেই আমরা সমাধান পেয়ে যাব।
আধুনিক যুগে আমরা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে আমাদের জীবন সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্য করা যায়। পরিবারের দায়িত্ব সামাজিক দায়িত্ব ইত্যাদি অনেক দায়িত্বের ভিড়ে আমরা এমনভাবে চাপের মধ্যে থাকি মোটেই ফুসরত পাওয়া যায় না। আমার চাকুরী জীবনে দুইটি শান্তিরক্ষী মিশনের দুই বছর ব্যতীত আমি অদ্যবদি (জানু ২০১৬ পর্যন্ত) সপরিবারে চাকুরীর স্থলে থাকি। অমাদের অনেকেই রাতে অফিস করে ।আমি রাতে অফিস না করেই কাটাতে পেরেছি। প্রয়োজনে ড্রপ বক্স, ভাইবার, এসএমএস, বাংলা টাইপ জানার কারণে বাসায় চিঠির ড্রাফট তৈরি ইত্যাদি বহুবিধ কাজ বাসায় করতে পারায় রাতে অফিস করার প্রয়োজন পড়েনি। আপনি ভ্রমণ রত আছেন জরুরী কোন চিঠি আসল জরুরী উত্তর দেয়া প্রয়োজন। আপনার প্রয়োজন আপনার অফিস সহকারীকে বলা সে যেন ভাইবার বা ড্রপবক্সে চিঠিটা দিয়ে দেয়। আপনি চিঠিটা পড়ে নিলেন ও মোবাইল ফোনের ড্রপবক্স, ভাইবার বা এসএমএস করে আপনার সহকারীকে পাঠিয়ে দিলেন, আপনার সহকারী চিঠি প্রস্তুত করে আপনার জন্য অপেক্ষা করল। আপনি পৌঁছে চিঠি সাইন করে দিলেন। অথবা ডিজিটাল সাইন দিলেন। আপনার প্রতিষ্ঠানের পত্রালাপ যদি জাতিসংঘের মত পেপারলেস ও লোটাস নোটে নিতে পারেন তবে তো কথাই নেই কাগজে কোন কারবারই আপনাকে করতে হল না। মুক্ত অফিস করাটা আপনার ইচ্ছে টেকনোলজি অতি সস্তায় আপনার চারিদিকে বিদ্যমান শুধু ব্যবহার জানতে হবে।

Friday, January 15, 2016

অনলাইন ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন

বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সারা পৃথিবীতে পূরুষতান্তিক সমাজে মেয়েদের নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। বিয়ের রেজিস্ট্রেশন মামলা মোকদ্দমায় বিশেষ করে নারীদের বিশেষ সহযোগিতা করে থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে পুরুষরাও  বিবাহ সংক্রান্ত বিষয়ে সমস্যায় পড়তে পারে। আর তার থেকে উত্তরণের পথ হল বিবাহ রেজিস্টার। আর যেহেতু কাজীরা বিয়ের পূর্বের যাচাই বাছাই করতে হয়, তবে অনলাইন ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন হবে আধুনিক যুগের সমাধার। একটি ঘটনা আজ তুলে ধরছি। ডিসেম্বর ২০১৫ শেষে কুষ্টিয়ায় বিজিবির মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষ করা একজন সৈনিককে চাকরীচ্যুত করতে হয়েছিল। তখন আমি সেখানে চাকুরীরত অবস্থায় অবলোকন করি। কারণ হিসাবে জানা যায়, এই সৈনিকের ভেরিফিকেশনে বিবাহিত হিসাবে পুলিশ তথ্য দিয়েছিল। যদিও ছেলেটার চাকুরী থাকেনি। তথ্যে দেখা যায় ট্রেনিং শুরু হওয়ার পর কাজি অফিসে তার বিয়ে দেখানো আছে কোন একজন মেয়ের সাথে। অথচ মেয়েটি আর একজনের স্ত্রী ও স্বামী সন্তান নিয়ে সংসার করছে। অথচ তিন মাস পর সেই মেয়ের সাথে ডিভোর্স দেখানো আছে। অথচ ছেলেটি বিজিবিতে ট্রেনিংরত ছিল। দালিলিক প্রমাণের কারণে তার চাকুরী রক্ষা করা যায়নি। হয়ত ছেলেটি মামলা মোকদ্দমা করে এ ষড়যন্ত্রের রেহাই পেতে পারে। কিন্তু বিজিবির নেতিবাচক ভেরিফিকেশনের জন্য চাকুরী রক্ষা করা যায়নি। পরে জানা গেছে পূর্ব শত্রুতার জের হিসাবে তার নিকটবর্তী কেউ এভাবে ধাপে ধাপে ঘটনা সাজিয়ে তার চাকুরী নষ্ট করেছে। এটা সম্ভব হয়েছে কাজী অফিসের তথ্যের যাচাই বাছাই করার কোন ব্যবস্থা না থাকার কারণে। অথবা অসৎ কোন কাজি এ বিষয়ে শত্রুপক্ষের সাথে দুর্নীতিতে জড়িয়েছে।
এভাবে যেখানে অবিবাহিত শতে চাকুরী প্রতিনিয়ত মানুষের নানা ষড়যন্ত্র ও তৎপরতায়  অনেকের চাকুরী যাচ্ছে। এর সমাধান কি। বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর জন্ম অনলাইন রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে। অনলাইনে যে কোন শিশুর অনলাইন সনদের নম্বরটি দিয়ে তাদের সনদটি অনলাইনে ভেরিফাই করা যাচ্ছে। একইভাবে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মৃত্যু রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে। এগুলো খুবই ভাল বিষয়। গাড়ীর মালিকানা থেকে শুরু করে যে কোন তথ্য এখন অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। অনলাইন ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন বিষয়টি সরকারের প্রজেক্ট আকারে থাকলেও এখনো তা সকল স্থানে চালু  হয়নি। এটি আসলে অনেক  গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় । একবার আমার অধীনস্থ একজনের স্ত্রী জানল, তার স্বামী তার খোজ খবর নিচ্ছে না ও তার ভরণপোষণে  খরচও দিচ্ছে না। তার স্ত্রী আরো জানাল সে আর একটি বিবাহ করেছে। আমরা তদন্ত দল প্রমাণাদি পেলাম কর্মচারী দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। কিছু সাক্ষীও পেলাম সে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। এমনকি তার বড় ভাইও সাক্ষী দিয়েছে সে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। কিন্তু তদন্ত দল সমস্ত তদন্তের পরেও কেবল মাত্র নিকটস্থ এলাকার কাজী অফিসে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন না পাওয়ায় কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। কারণ কাজি বলল, প্রতিটি জেলা ও এলাকায় বেশ কয়েকজন কাজী আছে। আর দেশের যে কোন জায়গায় গিয়ে যে কেহ বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করতে পারে তাই কারো বিয়ের রেজিস্ট্রেশন তার স্বীয় এলাকায় নাও করতে পারে। সাধারণত বিয়ের রেজিস্ট্রেশনটা মেয়ে পক্ষ করে থাকে। টাকা প্রদান করে ছেলে পক্ষ। মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য মেয়ে পক্ষ সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
আমাদের সমাজে এখনও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বিয়ে চালু আছে।
কারণ কলেমা পড়ে দুইজন সাক্ষী থাকলেই সরিয়া মোতাবেক বিয়ে হয়ে যায়। এখন আমি আদর্শ ও  নিরাপদ একটা পরিস্থিতি বর্ণনা করব। যদি এমন ব্যবস্থা থাকে কেউ বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করার প্রয়োজন হলে কাজীর কাছে গেল। কাজি প্রথমেই পাত্রের জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর দিয়ে ইন্টারনেটে সার্চ করবে। এতে পাত্র পূর্বে বিয়ে করে থাকলে তার তথ্য বেরিয়ে যাবে। একইভাবে পাত্রী পূবে বিয়ে করে থাকলে তার তথ্য চলে আসবে। কাজী পূর্ববর্তী বিয়ের বিষয়ে ও বয়স নিশ্চিত হয়ে রেজিস্ট্রেশন করাতে পারবে। আর এটি তখনই সম্ভব যদি বিয়ে ও ডিভোর্স সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য অনলাইনে থাকে এবং তা সার্চ করে পাওয়া যায়। আর এটা করা বেশী জটিল নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি দম্পতির বিয়েতে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব। বতর্মানে প্রতিটি উপজেলায় ইনফরমেশন সেন্টার আছে। সে সব ইনফরমেশন সেন্টার থেকে কাজীরা অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। এজন্য কাজীরা ল্যাপটপ মোডেম না কিনেও তথ্যাদি অনলাইন করতে পারবে। এটা সম্ভব কারণ স্কুল কলেজের সকল ছাত্র/ছাত্রী বতর্মানে তাদের শিক্ষা বোডের্র রেজিস্ট্রেশন অনলাইনে স্কুল/কলেজ থেকেই কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে করতে পারছে। একইভাবে সপ্তাহে একটা ইউনিয়ন পরিষদে আনুমানিক সাত/আটটি বিয়ে রেজিস্ট্রেশন হতে পারে। আর এই সাত/আটটি বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করতে তথ্য কেন্দ্রে  কয়েক  ঘণ্টা সময় ব্যয় হবে। জন্ম/মৃত্যু রেজিস্ট্রেশনের মত একটি সার্ভার জাতীয় পর্যায়ে তৈরি করতে হবে।  এ সার্ভার আবার জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের সাথে সংযোগ থাকবে যেন পাত্রপাত্রীর আইডি দিয়ে পাত্র/পাত্রীদের তথ্যাদি অনলাইনে ভেরিফাই করা যায়। বিয়ে রেজিস্ট্রেশন সাভারের মধ্যে আর একটি অপশন থাকবে তালাক রেজিস্ট্রেশন। এটা  ম্যারেজ সাভারের সাথে সংযুক্ত থাকবে। এতে সুবিধা যেটা হবে তা হল, জাতীয় আইডির বিপরীতে যে কোন তথ্য সহজে যাচাই বাছাই করা যাবে।
বিবাহ রেজিস্টারের জন্য একটা ফরম ব্যবহার করা হয়। সম্পূর্ণ  ফরমটি কাজীরা পূরণ করে তাদের নথিতে লিপিবদ্ধ করে থাকে এবং তারা প্রতিটি বিয়ের অনুকূলে সরকার প্রদত্ত ট্যাক্স পরিশোধ করে থাকে। তাদের নথির সম্পূর্ণ ফরমটি অনলাইনে থাকতে পারে। কাজীরা অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের কাজের চাপ কমানোর জন্য বর বা কনে পক্ষ বর বা কনের তথ্য অনলাইনে দিয়ে  ড্রাফট কপি দিবে। কাজী ড্রাফট কপি অনলাইনে সম্পূর্ণ চেক করে বিয়ের রেজিস্ট্রি  চালান দাখিল করে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন  কনফার্ম করবে।
অনলাইন রেজিস্ট্রেশন চালু হলে পুরানো বিয়ের কেসগুলোও আপডেট করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিবে। পুরাতন রেজিস্ট্রেশনগুলো সরকার আলাদা বরাদ্দ দিয়ে কাজীদের দিয়ে করানো যাবে। দেশের সকল স্থানে প্রচারণা চালাতে হবে। এতে পূর্বের যাদের  বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়েছে তারাও  কাবিননামা গুলো পুনরায় অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করে নিবে। এতে হয়ত প্রাথমিকভাবে বেশী রেসপন্স পাওয়া যাবে না। পরে ধীরে ধীরে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন বাড়তে থাকবে। আজকাল সমস্ত কিছু অনলাইনে বুকিং হয় তো অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন হয়ে থাকে। এত ব্যবস্থা থাকতে বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন হবে না তা মানা যায় না। বিয়ের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন পারিবারিক বিরোধ  দূর করবে। বিবাহ সংক্রান্ত মামলা মোকদ্দমা হ্রাস পাবে। অনেক পুরুষের প্রতারণা হ্রাস পাবে।এটা করতে সরকারের যে পরিমাণ টাকা খরচ হবে তার চেয়ে বেশী সরকারের টাকা সাশ্রয় হবে পারিবারিক বিরোধের মামলা কমে যাওয়ার কারনে। এছাড়া  বিয়ে সংক্রান্ত টাকা কাজীরা যথাযথভাবে সরকারী কোষাগারে জমাদানে বাধ্য হবে এবং তা অনলাইনে চেক করা যাবে। কাজীরাও বিয়ে সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়ে জবাবদিহিতার মধ্যে আসবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিয়ে ও ডিভোর্সের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন বাস্তবায়ন হলে তা জাতীয় জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

Thursday, January 14, 2016

স্ক্যানার বনাম মোবাইল ফোনের ক্যামেরা


আমি প্রায় পাঁচ বছর আগে একটি ডিভাইস ক্রয় করে বেশ গর্বিত ছিলাম। আর তা ছিল পোর্টেবল স্ক্যানার। ৫০০০ টাকা খরচ করে ল্যাপটপ ব্যাগে বহনযোগ্য পোর্টেবল স্ক্যানার বেশ চমৎকার একটি ডিভাইস ছিল। ছোটোখাটো মেমো ও অন্যান্য চিঠি স্ক্যান করতে এটা বেশ কার্যকরী ছিল। কোন আলাদা পাওয়ার দেয়ার প্রয়োজন হত না। ফ্ল্যাটবেড স্ক্যানারের মত টেবিলে বেশী জায়গা নিত না। এটা বড় মাপের একটা টুথ পেস্টের বাক্সের মত । সহজেই ল্যাপটপ ব্যাগে বহন করা যায়। ইউএসবি পাওয়ারে চলে যখন স্ক্যান করা হয় ২.৫ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে । আবার স্ট্যান্ড বাই থাকলে তেমন বিদ্যুৎ খরচ করে না। আমি এই স্ক্যানার দিয়ে অনেক ডকুমেন্ট ,মেমো ও ছবি স্ক্যান করি। আমার টার্গেট ছিল কমপক্ষে ৫০০০ স্ক্যান করি। এতে অন্তত  এক টাকা করে আমার স্ক্যানিং খরচ উঠে যাবে । কারণ বাজারে প্রতি কপি স্ক্যান করতে খরচ ৫ টাকা। সেই হিসাবে এক হাজার স্ক্যান করতে পারলেই দাম উঠে যাওয়ার কথা। সেখানে ৫০০০ কপি টার্গেট। আমার মনে হয় আমার স্ক্যানার দিয়ে আমি ৫০০০ স্ক্যান করতে সামর্থ্য হই। স্ক্যানারের এই কার্যক্রম যখন চলমান সেদিন আমার ছেলে দেখাল মোবাইল ফোনের স্ক্যানার অ্যাপ। আমি দেখলাম ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে পরিষ্কার ঝকঝকে সাদা কালো ফটোকপির মত ডকুমেন্ট ইমেজ হাজির। সত্যি চট করে বইয়ের পাতা ডকুমেন্ট যেকোনো কিছু এর দ্বারা মূহুতেই স্ক্যানিং ডকুমেন্টের আদলে ফটো তোলা সম্ভব। আবার সেই ডকুমেন্ট অপটিক্যাল ক্যারেকটর রিডার চালিয়ে এডিটেবল বা টাইপ করা ও কারেকশন উপযোগী ডকুমেন্ট তৈরি করা সম্ভব। আমরা স্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করে যা যা কার্যক্রম করতে পারি তার সবকিছুই করা সম্ভব। স্মার্ট ফোনের ক্যামেরার স্ক্যানার হিসাবে ব্যবহারটা অতুলনীয়। পরীক্ষামূলক ভাবে করে দেখতে পারেন। এতে আপনার গুরুত্বপূর্ণ দলিল দস্তাবেজ মোবাইলে কপি করে নেয়া সম্ভব। বন্ধুর কাছে একটা গুরুত্বপূর্ণ নোট আছে। ফটোকপির দোকান বন্ধ চটপট স্মার্ট ফোনের ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে নিন। 
‌মোবাইল ফোনে স্ক্যানিং সবচেয়ে ভাল ভাবে করা যায় যদি মোবাইল ফোনের ক্যামেরাটি ভাল মানের হয়। স্যামসং জে৭ মডেল আর সিম্ফনি মোবাইল নিয়ে আমি পরীক্ষা‌টি করি। ১৩ মেগা‌পি‌ক্সে‌লের স্যামসং মোবাইল ফোনের ফলাফল বেশ ভাল। সাধারণত যেন তেন ভাবে একবার ছবি তুলেই স্ক্যানিং এর কাজ‌টি সম্পন্ন করা গেছে। অন্য দি‌কে ১০ মেগা‌পি‌ক্সে‌লের সিম্ফনি মোবাইল ফোন দি‌য়েও ভালভাবে স্ক্যান করা যায়। তবে মাঝে মাঝে তাড়াহু‌ড়ো ক‌রে ঝাপসা ছবি আসার কারণে একাধিক বার ছবি তেলার প্রয়োজন হয়।
রঙ্গিন স্ক্যানিঙটা ফ্ল্যাটবেড স্ক্যানারের মাধ্যমে করাই ভাল। রঙ্গিন স্ক্যানিং ভাল ভাবে মোবাইলে করাটা সময় সাপেক্ষ ও অনেক অনুশীলনের প্রয়োজন প‌রে। যে কোন এফোর সাইজ কাগজ স্ক্যানিং করার জন্য মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্ক্যানিং হবে চমৎকার। কাগজের লেখা সাদা কা‌লো চমৎকার ভাবে পড়ার উপ‌যোগী ক‌রে স্ক্যান করা যায়। স্ক্যানিঙটা ভাল হল সাদা কা‌লো লেখা দিয়ে। স্ক্যানিং করার জন্য মোবাইল ফোনের ক্যামেরাটি অন করলে অটোমেটিক্যালী আগে পিছে ফোকাস ক‌রে ক্যামেরা ছবি তুলে নিবে। প্রয়োজন হলে অটোমেটিক্যালী লাইট কম হলে ফ্লাশ হ‌য়ে যাবে।

অল্প সময়ে স্ক্যান করে ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপ ইত্যাদির মাধ্যমে যে কোন ডকুমেন্ট তড়িৎ যে কারো কাছে পাঠানো যায়। মোবাইল ফোনকে স্ক্যানিং কাজে ব্যবহারের এই আইডিয়াটি আশা করি অনেকের জন্য অনেক কাজে লাগবে।

Thursday, December 31, 2015

“বাংলাদেশ ডট গভ ডট বিডি” এক মোড়কে বাংলাদেশের তথ্য প্রবাহ


ইন্টারনেট ও ইমেইল ব্যাপক প্রর্বতনের পর থেকে আমরা ই গভর্নেস শব্দটির সাথে পরিচিত হই। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলি ই গভর্নেসে ব্যাপকভাবে এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশের অগ্রসর তেমনিভাবে হচ্ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে অনলাইন তথ্য প্রবাহের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। ২০১৫ সালের শেষ প্রহরে যখন আমি লিখছি এ সময়কার সরকার ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রগুলি চালু করে বাংলাদেশে অনলাইন তথ্য প্রবাহে ব্যাপক জাগরণ সৃষ্টি করেছে। পৃথিবীর উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটা রোল মডেল হিসাবে প্রকাশ পেয়েছে। কোন তথ্য জানার জন্য এখন আর গ্রামের মানুষকে শহরে আসতে হয় না আর শহরের মানুষকে আর গ্রামে যেতে হয় না। একবার আমার বড়ভাই একটা গুরুত্বপূর্ণ জমির কাগজ আমাকে দেখার জন্য কুমিল্লার গ্রাম থেকে কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠাতে চাইল। আমি বললাম গ্রামের বাজারের কম্পিউটার দোকানে যান। কাগজটি স্ক্যান করুন। ইমেইল করুন। যদিও এখন স্পাটর্ফোনে ছবি তুলে ভাইবারের মাধ্যমে পাঠানো যায়। সরকারী কোন ফরম সংগ্রহ করার জন্য টাকা খরচ করে অফিসে অফিসে ঘুরে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ফরম সংগ্রহ করতে হত। এখন ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্র বা যে কোন কম্পিউটার দোকান থেকে ফরম সংগ্রহ করা যায়। আমি ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে Bangladesh.gov.bd এই ওয়েব সাইটি নিয়ে সাত/আট দিনের একটা তথ্য জানার তল্লাশি অভিযান চালালাম। তথ্য তল্লাশি অভিযান শেষে আমি যার পর নাই মুগ্ধ। বাংলাদেশের প্রায় ছয় সহস্রাধিক ওয়েবসাইটে যেতে আমাদের মনে রাখতে হবে একটি ঠিকানা। আর তা হল বাংলাদেশ ডট গভ ডট বিডি। আমার গত কয়েকদিনে এমনভাবে ঠিকানাটি গেঁথে গেছে যা আমি সহজে ভুলব না। পৃথিবীর যে প্রান্তে থাকি হৃদয়ে আছে “Bangladesh.gov.bd”ওয়েব সাইটি। মজার ব্যাপার হল এই ঠিকানাটি মনে রাখলেই আপনার কাছে বাংলাদেশ সরকারের অনলাইনে দেয়া দেয়া আছে এরূপ কোন তথ্য বের করতে আর কোন সমস্যা থাকবে না। কোন না কোন লিংকে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত তথ্য পেয়ে যাবেন। এই বিশাল তথ্য ভাণ্ডার যেহেতু বাংলায় তাই গুগলে বাংলা ইউনিকোডে সার্চ দিয়ে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত তথ্য পেয়ে যাবেন। এই ওয়েবসাইটের ইনডেক্সটা সাজানো হয়েছে সাবলীল ভাবে এতে সহজেই কাঙ্ক্ষিত তথ্যে পৌঁছানো যায়। যেন আমার বাড়ী শশীদল ইউনিয়নে যেতে ড্রপ ডাউনে ফ্লো চার্ট হল:
চট্রগ্রাম>কুমিল্লা>ব্রাহ্মণপাড়া>শশীদল
এভাবে আমরা যে কোন ইউনিয়নের ওয়েবসাইটে যেতে পারি।
বাংলাদেশের যে কোন জিওগ্রাফিক এলাকার ওয়েব সাইট আমরা বাংলাদেশ ডট গভ ডট বিডি ওয়েবসাইট হতে ড্রপ ডাউন মেনুর মাধ্যমে যেতে পারি।
বাংলাদেশের সমস্ত দপ্তর সমুহের ওয়েব সাইট সুন্দরভাবে ইনডেস্ক করা আছে। মন্ত্রণালয়েরও ওয়েবসাইটগুলি ক্রমান্বয়ে একটার পর একটা দেখা যাবে।
সরকারী সেবার মধ্যে মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল তথ্য পাওয়া। এই তথ্য অত্যন্ত সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। এটা নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। ইগর্ভনেসের প্রাথমিক ধাপ অতিক্রমণে এটা অনেক অনেক কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে ধারনা করা যায়। সেবা পাওয়ার বিষয়গুলিও আইকনের মাধ্যমে ওয়েবসাইটতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সরকারী যে কোন ওয়েব সাইটে এই মূল ওয়েব সাইটি থেকে যাওয়া যাবে।
এই সাইটির অধীনে প্রায় সমস্ত ওয়েবসাইটগুলোই মোবাইল বান্ধব। সহজেই সমস্ত ওয়েবসাইট স্মার্টফোনে খোলা যায় ও দেখা যায়। তবে যেগুলো এখনো মোবাইল বান্ধব নয় তাও শীঘ্রই মোবাইল বান্ধব হয়ে যাবে।

বাংলাদেশের সরকারী ওয়েব সাইটের মধ্যে ফরমস ওয়েব সাইটটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে ফরম সংগ্রহ করা সরকারী সেবা প্রার্থী যে কারো জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বেশীরভাগ ডিপার্টমেন্টে ই-টেন্ডারিং চালু হয়েছে।  এছাড়া ট্রেজারি চালান চেক করা, জন্ম নিবন্ধন চেক করা ও অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদনের মত অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা যায়। ই-গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠার এটা একটা ভাল দিক। দেরীতে হলেও বাংলাদেশের সরকারী সংস্থাগুলো উন্নত দেশের মত তথ্য  প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে একটা বিষয় নিশ্চিতভাবে বলা যায় ভারতের ইউনিয়ন পর্যায়ে বাংলাদেশের মত ইন্টারনেট সেবা ও সেখানে অনলাইন প্রকাশনা এখনও হয়নি। সেই হিসাবে আমাদের অনেক রিমোট ইউনিয়নগুলি  সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে তাদের ইউনিয়নের তথ্য কেন্দ্রগুলি চালু রেখেছে। শুধু চালু রেখে কেবল তাই নয় তথ্য কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা সেসব ওয়েবসাইট দিনের পর দিন হালনাগাদ করছে। নতুন নতুন তথ্য সংযুক্ত করছে। পৃথিবীর কম দেশই একই মোড়কে এত ওয়েব সাইট আনতে পেরেছে। সেই বিবেচনায় বর্তমান সময়ে অধিষ্ঠিত সরকার বেশ বড় একটি অবদান রেখেছে।

Thursday, December 24, 2015

সফলতার ৪৮ মন্ত্র


দিনটা ছিল ২০০৫ সালের মাঝামাঝি সময়। তখন হরতালের কারণে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় ট্রেনে যেতে হল,কুমিল্লা রেলস্টেশনে অপেক্ষারত অবস্থায় আমি প্লাটফর্ম লাইব্রেরী থেকে একটি বই কিনি। ভারতীয় কলকাতার লেখকের লেখা বাংলায় অনুবাদের বই। বইটির নাম ছিল “সফলতার ৪৮ মন্ত্র”, বইটি আমেরিকার জনৈক লেখক রবার্ট গ্রিনের “The 48 Laws of Power” নামে ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত। বইটি পাঠক নন্দিত হয়েছিল। আমার কেনা বইটি পরে আমি হারিয়ে ফেলি। পুনরায় নীলক্ষেত থেকে অনুরুপ আর একটি বই কিনি যেটি বাংলাদেশের জনৈক ড. নজরুল ইসলাম ২১ফেব্রুয়ারী ২০০৯ সালে রাজু পাবলিকেশন্স, ৩৮ বাংলাবাজার, ঢাকা থেকে প্রকাশ করে।
বাংলা বইটি আমি কয়েকবার পড়ি। এটি রম্য রচনা হিসাবে পড়লে বেশ মজা লাগবে। এতে সফলতার যে পদ্ধতি বলা আছে সেসব অনেক মন্ত্র মানবতা বিবর্জিত। তা মান্য না করাই ভাল। তবে আমাদের আসে পাশে অনেক সফল ব্যক্তি না জেনেই এসব মন্ত্র ব্যবহার করছে। তাদের সাথে মন্ত্রগুলো মিলিয়ে বেশ মজা পাওয়া যাবে। আমি যতটা সম্ভব সরলীকরন করে মন্ত্রগুলো দিলাম। মুল বইয়ে ৪৮টি মন্ত্রের আবার প্রতিটির সরলীকরণ সহ উদাহরন দিয়ে দুই/তিন পাতার ব্যাখ্যা দেয়া আছে। বইটি যোগাড় করে পড়লে নিছক বিনোদন পাবেন। নিচে আমি আমার বোধগম্যতায় ৪৮ মন্ত্র সংক্ষেপে সংকলিত করলাম:
১. কখনও উপরওয়ালার উপর কেরামতি দেখাতে যাবেন না। সবর্দা আপনার উপরস্থকে এই অনুভুতি দিন যে তিনি যোগ্যতা ও জ্ঞানে সকলের সেরা। নিজের অতিরিক্ত যোগ্যতা অপ্রকাশিত রাখুন। কারন তার বলয়ে কেউ অতিরিক্ত অযাচিত পারদর্শিতা দেখালে ক্ষমতাধর ব্যক্তি যে কোন অজুহাতে তাকে সরিয়ে দেবেন। ক্ষমতার শীষে যারা আছেন তাদের নির্বোধ ও অনুগতদের পছন্দ। তাই অধঃস্থন হয়ে কেরামতি দেখালে বিপদ।
২. বন্ধুদের কখনোই খুব বেশী বিশ্বাস করবেন না, শত্রুদের কীভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটা শিখুন।
৩. নিজের আসল উদ্দেশ্য গোপন রাখুন।
৪. যতটা প্রয়োজন সব সময় তার থেকে কম কথা বলুন।
৫. সুনামের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে, প্রাণ দিয়ে একে রক্ষা করুন।
৬. যেকোনো মূল্যে মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করুন।
৭. অন্যদের দিয়ে কাজ করান কিন্তু তার জন্য সন্মান আপনি অর্জন করুন।
৮. অন্য লোকেরা আপনার কাছে আসুক, দরকার হলে টোপ দিন।
৯. আপনার কাজের মাধ্যমে জয়লাভ করুন, কখনই তর্কের মাধ্যমে নয়।
১০. ছোঁয়াচে, অসুখী এবং ভাগ্যহীনদের বর্জন করুন।
১১. লোককে আপনার উপর নির্ভরশীল রাখতে শিখুন।
১২. আপনার শিকারকে আপনার সততা ও উদারতার কৌশল দিয়ে নিরস্ত্র করুন।
১৩. কখনও কারো সাহায্য চাইলে তা তাদের উপকারে  লাগবে বলেই চান, কখনও কারও দয়ার উপর নয়।
১৪. বন্ধুর ভাব করে  চরের কাজ করুন।
১৫. শত্রুকে সম্পূর্ণভাবে শেষ করুন।
১৬. মাঝে মাঝে গুরুত্বপূর্ণ  অনুষ্ঠানে অনুপস্থিতি আপনার শ্রদ্ধা ও সন্মান বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করুন।
১৭. অন্যদের ধন্ধে রাখুন, এমন একটা আবহাওয়ার সৃষ্টি করুন যাতে কেউ আপনার সস্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতে না পারে।
১৮. আপনাকে রক্ষা করার জন্য চারিদিকে দুর্গ তৈরি করবেন না, নির্জনতা বিপদজনক।
১৯. খেয়াল রাখুন আপনি কার সাথে কারবার করছেন প্রয়োজনীয় লোককে অসন্তুষ্ট করবেন না।
২০. কারো পক্ষ অবলম্বন করবেন না, প্রয়োজনে একজনকে অপরের জন্য লাগিয়ে দিয়ে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকুন।
২১. আপনার শিকারকে আপনার থেকে দক্ষ ভাবতে দিন, এতে সে ভাবতেই  পারবে না আপনি তাকে ধরাশায়ী করবেন। সহজেই  তাকে শিকার করুন।
২২. যখন আপনি দুর্বল, সন্মানের জন্য লড়বেন না। আত্মসর্মপন করে সময় নিয়ে শক্তি পুনরুদ্ধার করুন।
২৩. চারিদিকে শক্তি সম্পদ না ছড়িয়ে এক জায়গায় সংরক্ষণ করুন যেন ক্ষমতার তীব্রতা বাড়ে।
২৪. সভায় সবোর্চ্চ ক্ষমতাধর না হলে তোষামোদ, বিনয় ও অন্যদের উপর প্রভাব বিস্তার তির্যক ও শোভন ভাবে করুন যাতে অন্যরা আপনাকে সবোর্চ্চ আসনে বসাতে প্রত্যয়ী হয়।
২৫. নিজেকে নতুন করে সৃষ্টি করুন, ভাব ভং‌গি ও কাজে কমে নাটকীয় কৌশল অবলম্বন করুন। ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
২৬. ভুল ও নোংরা কাজ অন্যদের দিয়ে করিয়ে আপনার হাত পরিষ্কার রাখুন।
২৭. আপনার নতুন যুক্তি, প্রতিশ্রুতিপূর্ণ আশাবাদ দিয়ে ধর্ম‌ বিশ্বাসীর মতো অনুসারী সৃষ্টি করুন।
২৮. দৃঢ়তার সংগে কাজ করুন।
২৯. যেকোনো পরিকল্পনা বাধা বিপত্তি মূল্যায়ন করে সম্পূর্ণ করুন, কোথায় থামবেন তা স্পষ্ট জানবেন।
৩০. আপনার সাফল্যের পিছনের বিশাল কার্যাবলী লুকিয়ে রাখুন। প্রচার করুন আপনার সবকিছু সহজেই হয়ে যায়।
৩১. লোকদের এমন পছন্দ দিন, যেন সে যা পছন্দ করবেন তাই আপনার পক্ষে যাবে। অন্যদের পছন্দ নিয়ন্ত্রণ করুন: আপনার বাটা তাসে অন্যদের খেলতে বাধ্য করুন।
৩২. লোকের খোশ খেয়ালের সুযোগ নিন। কি তাদের যাতনা দেয় খোজ করে বের করে আনুন ও তা নিয়ন্ত্রনে নিন। মহান ক্ষমতা লাভের যাদুকরী ক্ষমতা আপনার হাতে চলে আসবে।
৩৩. প্রতিটি লোকের দুর্বলতা আছে যেমন: নিরাপত্তাবোধহীনতা, অনিয়ন্ত্রণযোগ্য আবেগ, গোপন আনন্দ, তা আবিষ্কার করুন। জানতে পারলে আপনার সুবিধার্থে ব্যবহার করুন।
৩৪. আপনার নিজের ফ্যাশনে আপনি রাজকীয় হোন, রাজকীয়ভাবে উপস্থাপন করুন যাতে সে রকম ব্যবহার পান।
৩৫. তাড়াতাড়ি করবেন না। সঠিক সময় নিরূপণ করুন। যা আপনাকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করবে। সময় না হলে পিছনে যান। ফল লাভের সময় হলে হিংস্রভাবে অর্জন করুন।
৩৬. যে জিনিষ আপনি পেতে পারেন না তাকে ঘৃণা করুন। তাদের অবহেলা করাই শ্রেষ্ঠ প্রতিশোধ।
৩৭. বাধ্য করার মতো দৃশ্যাবলীর সৃষ্টি করুন। আপনার চারিদিকে যারা আছে তাদের জন্য এমন দৃশ্যাবলী প্রদর্শন করুন। যাতে আপনার ক্ষমতার উচ্চমাত্রা দেখে তাদের অন্তরে বিনয় জাগ্রত হয়।
৩৮. সাধারণের মূল্যবোধ জেনে ও মেনে চলা অনেক নিরাপদ। কেবলমাত্র সহনশীল বন্ধুদের সংগে নিজের মৌলিকতা প্রকাশ করুন।
৩৯. মাছ ধরার জন্য জলে নাড়া দিন। শত্রু‌দের বিশৃঙ্খল করুন। রাগিয়ে দিন। তাদের অহংকারের  বিদ্রূপ বের করুন। রশি আপনার হাতে, আপনি তাদের নাচাতে পারেন।
৪০. মাগ্না খাওয়াকে ঘৃণার চোখে দেখুন। যে কোন মাগ্না খাওয়ানোর পিছনে উদ্দেশ্য থাকে। আপনি পয়সা খরচে মুক্ত হস্ত হোন, কারণ উদারতা ক্ষমতার একটা চিন্থ এবং চুম্বক।
৪১. বিখ্যাত লোকের পদাঙ্ক অনুসরণ করা থেকে এড়িয়ে চলুন। নিজের মতো জ্বলে আপনি ক্ষমতাবান হোন।
৪২. রাখালকে আঘাত করুন, ভেড়ারা ছড়িয়ে পরবে। এমন ক্ষমতাধরকে আয়ত্তে আনুন যার অনুসারীরাও আয়ত্তে আসবে।
৪৩. অন্যদের হৃদয় ও মনের ওপর কাজ করুন। জবরদস্তি না করে মন জয় করে কাজ আদায় করুন।
৪৪. দর্পণ প্রভাব দ্বারা শত্রুকে নিরস্ত ও ক্ষুব্ধ করুন। আপনার শত্রুরা যা করেন আয়নার মত তাদের  কাজকর্ম অনুসরণ করলে তারা আপনার উদ্দেশ্য ধরতে পারবে না। বিভ্রান্ত হবে।
৪৫. মানুষ অভ্যাসের জীব। অনেক বেশী পরিবর্তন ভীতিকর ও তা বিদ্রোহের দিকে নিয়ে যায়। তাই পরিবর্তনের কথা প্রচার করুন। কিন্তু কখ‌নোই বেশী পরিবর্তন করবেন না। যা পরিবর্তন করবেন তা অতীতের উন্নয়ন মাত্র বলে  প্রচার করুন। অতীতের কাজে সন্মান দেখানোর ভান করুন।
৪৬. কখনও খুব বেশী সম্পূর্ণ হওয়ার ভাব দেখাবেন না। অন্যদের চেয়ে নিজেকে উত্তম প্রচার করলে অন্যের ঈর্ষা ক্ষতির কারণ হতে পারে।
৪৭. আপনার লক্ষ্যকে অতিক্রম করে যাবেন না। বিজয়ে কখন থামতে হয় শিখুন।
৪৮. আকারহীন হোন। প্রতিরক্ষার উত্তম পন্থা হল জলের মত তরল ও আকারহীন হওয়া। আকারহীন, অস্থায়ী ও পরিবর্তিত হলে শত্রু নিরাকারকে আক্রমণ ক‌রে ব্যর্থ হবে।

Web Link: