Pages

Friday, August 26, 2016

রিয়াল ভিউ বাংলাদেশী ডাইরেক্ট টু হোম টিভি


আজ থেকে প্রায় ৮/১০ বছর আগে ক্যাবল টিভিতে ডিশটিভি, এয়ারটেল, ভিডিওকন ইত্যাদি ডাইরেক্ট টু হোম   (ডিটিএইচ) টিভির বিঞ্জাপন দেখে দেখে ভাবতাম কবে আমাদের দেশেও এগুলো আসবে আমাদের বাংলাদেশের চ্যানেল নিয়ে। এটা অনেক দেরীতে হলেও আমাদের দেশে ডিটিএইচ চালু হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান এটা চালু করেছে। ২০১৪ সালে স্মার্ট টিভি কেনার পর থেকেই পরিষ্কার ও ঝকঝকে ছবি দেখার জন্য ডিটিএইচ খোজ করছিলাম। আমাদের অনেক সৌখিন ব্যক্তিরা স্মার্ট টিভিতে এইচডিএমআই ক্যাবল(অডিও ও ভিডিও ইনপুটের মত ইউএসবি ক্যাবলের অনুরুপ উন্নত ইনপুট ডিভাইস)দিয়ে অনেক আগে থেকেই হয়ত পেমেন্টে ভারতীয় চ্যানেল দেখতেন। ভারতের ডিটিএইচ এর মার্কেট বেশ প্রসারিত ও প্রতিযোগিতা সম্পন্ন।
যদিও পোস্টিং এর চাকুরী তথাপিও আমার দুই ছেলের আগ্রহের কারণে বিশেষ করে বিভিন্ন খেলা দেখার ছুতায় আমাকে বাংলাদেশের নতুন চালু হওয়া ডিটিএইচ কেনার আর্জি করে। আমার অনেক দিনের শখ স্মার্ট টিভিতে পরিষ্কার ছবি ও শব্দে টিভি দেখা। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় ক্যাবল অপারেটররা যতই ভাল কানেকশন দেয় না কেন তাতে সমস্যা থেকেই যায়। এছাড়া মাঝে মাঝে ক্যাবল কাটা যাওয়ার কারণে ডিশ লাইন বন্ধ থাকে। কুষ্টিয়ার মিরপুরে ১৫০ টাকা মাসে দিয়ে বাসায় ডিশ লাইন দেখছি। রিয়াল ভিউ ডিটিএইচতে ৩০০ টাকা দিতে হবে। এককালীন ৭৫০০ টাকা খরচ। অনেক বড় খরচের ধাক্কা। তবে সমস্ত খরচ পুষিয়ে যায় যখন ঝকঝকে ছবি ও পরিষ্কার শব্দে মনটা ভরে যায়। একবার ডিটিএইচতে পরিষ্কার ছবি ও শব্দে অভ্যাস হলে পরে সাধারণ ক্যাবল টিভি দেখাটা কষ্টকর। এইচডি চ্যানেলগুলো অসাধারণ দেখা যায়।
টিভি চ্যানেলের ট্রান্সমিশন এত ভাল মনে হয় ঢাকা ব্যতীত অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়। ঢাকার অপারেটররা সেটটপ বক্স দেয়া শুরু করেছে ভাল ছবি দেখার জন্য। তবে সেটটপ বক্স তিন হাজার পাঁচশত টাকায় কিনে মাসে মাসে ৩০০ টাকা খরচ করার চেয়ে আরো কিছু টাকা খরচ করে ছোট ডিশ লাগিয়ে নিয়ে ডিটিএইচ ব্যবহার করাটা একটা ভাল আইডিয়া হতে পারে। ক্যাবল অপারেটরদের মেনটেন্যান্সগত সমস্যা থাকে আর তদুপরি তারা সহজে অভিযোগ নেয়না বা লাইন ভাল রাখতে সদা প্রস্তুত নয়। এই হিসাবে ছোট ডিশ ঝড় বৃষ্টিতে তেমন উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। ডিশটা না উল্টালে বাকী কোন কিছুই নষ্ট হওয়ার নয়। ক্যাবলের সেটটপ বক্সের মত এটিও ভালই চলবে।
ভারত সরকার বেশ কয়েকমাস হল (২০১৬ সালের মার্চ/এপ্রিল) ক্যাবল টিভি অপারেটরদের জন্য সেটটপ বক্স বাধ্যতামূলক করেছে। এটার মূল কারণ হতে পারে যথাযথ ভাবে সরকারের রেভিনিউ পাওয়া। সেটটপ বক্সের সার্ভারে সব তথ্য থাকে। তাই ক্যাবল অপারেটরের লাইন সংখ্যা ও সরকার কর্তৃক ভ্যাট আদায় করাটা সহজ এবং ক্যাবল অপারেটররা আইটি ও ভ্যাট ফাকি দিতে পারে না। আমাদের দেশে কয়েক বছর পর এগুলো চালু হবে তা নি:সন্দেহে বলা যায়। তবে যতদিন পর্যন্ত না অন্যান্য সেটটপ বক্স চালু হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের ডিটিএইচ রিয়েল ভিউ লাগানোর আইডিয়াটা মন্দ নয়। যারা ঢাকার বাইরে চাকুরী বা অন্য কোন কারণে অবস্থান করেন তাদের জন্য ডিটিএইচ অনন্য একটি অপশন।
২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি পার্বত্য চট্টগ্রামে থাকাকালীন ক্যাবল টিভির ২৫/৩০ টি চ্যানেল দিয়ে ক্যাবল লাইন করে নিয়েছিলাম। তখন ভাল চ্যানেল ও পে চ্যানেল দেখাটা ছিল বিশাল খরচের ধাক্কা। ৩০০ টাকা মাসিক দিয়ে এখন শতাধিক চ্যানেল দেখা সম্ভব। এতে দেশী সকল চ্যানেলের পাশাপাশি অগণিত পে চ্যানেল পাওয়া যাচ্ছে। এখন যারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বা অন্য কোন রিমোট স্থানে চাকুরী করে তাদের জন্য বাংলাদেশের রিয়াল ভিউ ডিটিএইচ ভাল সমাধান। বাংলাদেশের সকল স্থানে মোবাইল নেটওয়ার্কের কারণে থ্রিজি ইন্টারনেট কানেকশন পৌঁছে গেছে। এখন রিয়াল ভিউ এর মাধ্যমে রাজধানী বা বড় শহরের মত ক্যাবল টিভির চ্যানেলও পৌঁছে গেল। ঢাকার বাইরে চাকুরী বা সেটল হতে আর কোন বাধা থাকল না। এখন রাজধানীর বাইরে প্রয়োজন ভাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল। সেটাও এক/দুই যুগের মধ্যে পাওয়া যাবে। আমি আশাবাদী।
আমার মনে হয় আরো কিছু কোম্পানিকে ডিটিএইচের লাইসেন্স প্রদান করা প্রয়োজন। তাহলে প্রতিযোগিতা থাকবে এবং গ্রাহকরা ভাল সার্ভিস পাবে। একটি কোম্পানি মনোপলী করে ব্যবসা করলে গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা হবে না। রিয়াল ভিউ এর ওয়েব সাইট থেকে এদের বিষয়ে অনেক কিছু জানা যাবে। “Realvubd” লিখে সার্চ দেয়া যেতে পারে। অথবা ভিজিট করতে পারেন: https://realvubd.com


রিয়াল ভিউ সেটটপ বক্স ও এলএনবি আরো উন্নত হওয়া প্রয়োজন। প্রত্যেক জেলায় এদের ডিলার থাকা প্রয়োজন। কারণ প্রতি জেলায় এখনও ডিশের সামগ্রী বিক্রতা আছে। তাদের ডিলারশীপ দেয়া প্রয়োজন। আমি কুষ্টিয়াতে লাগানোর জন্য নিকটবর্তী জেলা রাজবাড়ী থেকে লোক এনে লাগাতে হয়েছে। এতে দুর থেকে লোক আনার ভাড়ার খরচ ও খাবার খরচ দিতে হয়। সেনাবাহিনী ও বিজিবিতে অনেকেই রিমোট ক্যাম্পে থাকে। রিমোট ক্যাম্পে লাগাতে হলে নিজস্ব টেকনিশিয়ানদের ট্রেনিং দিলে তারাই সংযোগ দিতে পারবে। অন্যথায় ডিশ বসানোর জন্য বেশ কিছু টাকা খরচ করে ফেলতে হবে। এই সিস্টেমের মাসিক বিল ৩০০ টাকা প্রিপেইড মোবাইলের মত মাসের প্রথমে পরিশোধ করতে হয়।
সেটটপ বক্সটিতে কোন অনুষ্ঠান সময়মত দেখতে না পারলে পেন ড্রাইভে রেকর্ড করে পরে দেখা যায়। এই অপশনটি আমার জন্য বেশ কাজে লেগেছে। কোন কারণে বাইরে গেলে নির্দিষ্ট চ্যানেলে রেকর্ড চালু করে যাই। ৮ জিবি পেন ড্রাইভে প্রায় ৫ ঘণ্টা ব্যাপী এইচডি চ্যানেল রেকর্ড করা যায়। এর সেটটপ বক্সটি ১২ ভোল্টে চলায় সোলার সিস্টেম বা ১২ ভোল্টের যে কোন ব্যাটারি দিয়ে চালানো যাবে। রিমোট ও নন গ্রিড এলাকায় এলইডি টিভির সাথে ১২ ভোল্টের ব্যাটারি দিয়ে  এই ডিটিএইচ সহজে ব্যবহার করা যাবে। একটা সমস্যা আছে অল্প বৃষ্টিতে ছবি আসে বেশী বৃষ্টি হলে ছবি আসে না। এটা এটা বড় সমস্যা নয় কারণ আমাদের দেশের মুষলধারে বৃষ্টি দীর্ঘ সময় থাকে না।

পরিশেষে আমার কাছে নতুন হিসাবে এর পারফরমেন্স অনেক ভাল মনে হয়েছে। আশা করি অনুন্নত ও দূগর্ম এলাকার জনগোষ্ঠীর জন্য চমৎকার একটি ব্যবস্থা হবে। বদলীর চাকুরী যারা করেন তাদের জন্য উন্নত ছবি ও শব্দের চ্যানেল পাওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়া গেল। বদলীর সাথে সাথে ডিশ আর সেটটপ বক্স সাথে রাখলেই হল। আমার এ লেখাটি আশা করছি দূগর্ম এলাকায় অবস্থানকারীদের উপকারে আসবে।

Thursday, August 25, 2016

নির্দিষ্ট দিন ও ক্ষণে অনলাইন প্রকাশনা

আমরা যারা পেশাদার লেখক নই কিন্তু মনের তাগিদে লেখালেখি করি। তাদের লেখায় একটা ধারাবাহিকতা আনা প্রয়োজন রয়েছে। আমরা যদি কোথাও লিখি বা কোন ওয়েব সাইটে প্রকাশ করি তবে আমাদের প্রকাশনা হতে হবে নিয়মিত। মাসে একটা প্রকাশনা বা সাপ্তাহিক একটা প্রকাশনা। আবার প্রকাশনার সময়টা হতে পারে নির্দিষ্ট কোন সময়। আমি যদি কোন একটা সাইটে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় একটা করে লেখা অবমুক্ত করি তা হবে চমৎকার একটি ব্যবস্থা।
আমি আমার সাইটিতে ব্লগ স্পটের সুন্দর একটা ব্যবস্থা পেলাম আর সেটি হল শিডিউল দিয়ে পোস্ট প্রকাশ করা। গুগল ব্লগস্পটের অনেকগুলি ভাল ব্যবস্থার মধ্যে এটি একটি চমৎকার ব্যবস্থা। ওয়ার্ড প্রেসের ফিচার অনেক উন্নত হলেও ব্লগস্পট অনেক ইউজার ফ্রেন্ডলি। ব্লগস্পটে ইমেইলের মাধ্যমেও পোস্ট দেয়া যায়। মোবাইলের পড়ার ইন্টারফেসটা ভাল। ডিজাইন অপশন কম হলেও কম্পিউটারে টাইপ যারা করতে পারে তারাই নির্ধিদ্বায় ব্লগস্পটে পোস্ট দিতে পারবে।
যে কোন কাজের ধারাবাহিকতা অনেক বেশী জরুরী বিষয়। আমরা চাকুরীজীবী আর ব্যবসায়ী যাই হই না কেন সব সময় আমাদের একইভাবে সময় যাবে না। কখনো কাজের চাপ বেশী থাকবে।  কখনো কাজের চাপ কম থাকবে। আবার কখনো মানসিক অবস্থা ভাল থাকবে আবার কখনো মন্দ থাকবে। তাই প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে কোন জার্নালে বা অনলাইন পাবলিকেশনে আমরা প্রকাশ করতে পারব তা হলফ করে বলা যায় না। কেবলমাত্র প্রফেশনালরা নিয়মিত কোন জার্নাল প্রকাশ করতে পারে। যারা প্রফেশনাল নই তাদের জন্য গুগল ব্লগস্পটের ব্যবস্থাটি বেশ ভাল। কোন দিন কোন সময় লেখাটি প্রকাশ পাবে তা নির্ধারণ করা যায়। আমার লেখার বিভিন্ন পর্যায়ে কখনো প্রতি দুই/তিন দিন পর পর একটা করে লেখা প্রকাশ করতাম আবার কখনো দশ বার দিন পার হয়ে যায় লেখা লিখতে পারি না ও অনলাইনে প্রকাশ করতে পারি না। তাহলে উপায়। এদিকে আমার পাঠকরা নিয়মিত লেখা পেলে খুশী হয়।
নিয়মিত যে কোন বিষয়ই সাফল্য ও স্বস্তি দায়ক। আমার পাঠকরা বেশীর ভাগ আমার বন্ধু ও চাকুরীজীবী এই জন্য আমি বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় লেখা প্রকাশের টাইমটা বেছে নিয়েছি। যা অত্যন্ত কার্যকর একটা ব্যবস্থা হয়েছে। এতে আমার বন্ধুরা ছুটির দিনে ইন্টারনেট ব্যবহারের পাশাপাশি ইচ্ছে হলে আমার লেখাটা পড়তে পারে।
ইন্টারনেটে ব্লগে সময় ধরে প্রকাশনাটা স্কুল কলেজের নোটিশ ও অন্যান্য প্রকাশনার ক্ষেত্রেও অনেক বেশী কার্যকর হবে। এটা আমার অনলাইন প্রকাশনায় অনেক অনেক স্বস্তি দিয়েছে। আমাকে অনলাইন প্রকাশনার জন্য অনেক সময় শিডিউল এ্যালার্ম বা শিডিউল মনে রাখার এসএমএস এর মাধ্যমে মনে রেখে বৃহস্পতিবারে প্রকাশনাটা করতে হত। এখন যখন একটা লেখা তৈরি হয়ে যায় সাথে সাথে শিডিউল দিয়ে সেট করে দেই। অটোমেটিক ভাবে নির্দিষ্ট সময়ে সেই লেখাটি অনলাইনে প্রকাশিত হয়। এতে নিদিষ্ট দিনের প্রকাশনা করার জন্য প্রতিনিয়ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন আর থাকছে না।
আমরা অনেক সময় কোন লেখায় বিশেষ কোন তথ্য প্রাপ্তির অপেক্ষায় থেকে আমাদের লেখাটি প্রকাশ করতে দেরী হয়। আবার অনেক সময় দেখা যায় বিশেষ তথ্যটি যথেষ্ট প্রয়োজন নয়। সেই ক্ষেত্রে আমরা আমাদের লেখাটি শিডিউল করে প্রকাশনার জন্য কিউ করে রাখতে পারি। কিউ করে রাখা অবস্থায় যখন খুশি ব্লগের অ্যাডমিনে ঢুকে লেখাটি যতবার খুশি যতদিন খুশী সম্পাদনা করা যাবে। পরে লেখাটি নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ পাবে। প্রয়োজন হলে প্রকাশনার শিডিউলটিও পরিবর্তন করা যাবে।

আপনার যারা অনলাইন প্রকাশনা করেন আশা করি তাদের এ ফিচারটি বেশ কাজে লাগবে। আমি যখন বিষয়টি জানতাম না তখন অনেক দিন সময় রক্ষা করে অনলাইন প্রকাশনায় আমাকে অনেক বেগ পেতে হয়েছি। এখন সময় রক্ষা করে প্রকাশনা অনেক সহজ হয়েছে।

Thursday, August 18, 2016

জিপিএস মোবাইলে সহজ হয়েছে টুরিস্টদের পথ চলা

আমার জীবনের দুইটি জাতিসংঘের মিশনে চাকুরীর সুবাদে আমার বেড়া‌নো সিয়েরালিওন ও কঙ্গো দেশ দুটিতে গাইড ম্যাপ ও লোকজ‌নের সহায়তায় নিয়ে ঘুরে বেড়া‌তে পেরেছি। গত ২১ জানুয়ারি ২০১৬ আমি সপরিবারে ভারতের কলিকাতায় যাই। কলিকাতার সমস্ত বেড়া‌নো বলা যায় কারো কাছ থেকে তেমন কোন ব্রিফিং না নিয়েই আমরা বেড়া‌তে সক্ষম হই। ভার‌তে যাওয়ার এক সপ্তাহ আগেই আমার দুই ছে‌লেকে ( ২০১৬ সালে দশম ও পঞ্চম শ্রেণীর ইংরেজি ভার্সনে অধ্যয়নরত)  নিয়ে ইন্টারনেট ঘেঁটে কলিকাতার বেড়া‌নোর মত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগু‌লো বের ক‌রে ফেলি। তারপর গুগল ম্যা‌পে সে সমস্ত স্থানের ঠিকানা, দূরত্বও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় আনি। ইন্টারনেট হ‌তে স্থান নির্ধারণের পর   আমরা যে স্থানে থাকব সে স্থান হ‌তে প্রতিটি স্থানের দূরত্ব ও সম্ভাব্য খরচ আমরা হিসাব করি। আমার দুই ছেলেকে নিয়ে আমা‌দের ভারতের কলিকাতার বেড়া‌নোর পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত ক‌রে ফেলি।
কলিকাতায় যাওয়ার পর একটা ব্রিফিং পেয়েছিলাম ট্যাক্সিওয়ালারা বাংলাদেশ থেকে এসেছে এরূপ আন্দাজ কর‌তে পারলে মোটা‌মো‌টি গোটা কলিকাতা ঘুরে বেড়িয়ে বিভিন্ন রাস্তা ঘুরিয়ে মিটা‌রে য‌থেষ্ঠ পরিমাণ বিল তুলে দেয়। একটা উপায় অভিজ্ঞ জনেরা বাতলে ছিল আর তা হল ট্যাক্সি নির্দিষ্ট গন্তব্যে চুক্তিভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণ ক‌রে যাওয়া। চুক্তিভিত্তিক ভাড়া গিয়েও কোন লাভ পাইনি। কারণ এরা চুক্তিভিত্তিক ভাড়া আরো বেশী দাবী করে। তবে উপায়। মিটারে অপ্রয়োজনে কি গোটা কলিকাতা চক্কর দিয়ে ট্যাক্সিওয়ালা মর্জিমাফিক কি বেশী ভাড়া দিতে থাকব। আমি আর আমার বড় ছেলে একটা উপায় বের করলাম। আর তা হল। ট্যাক্সিওয়ালা সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাঘুরি শুরু করলে আমি ছেলেকে বলব জিপিএস অন্য করার জন্য। ছেলে জিপিএস তার মোবাইলে অন্য করে ঘুরানো রাস্তা হলে ট্যাক্সি চালককে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিবে। এতেই ট্যাক্সি চালক সর্তক হয়ে ঘোরাঘুরি বন্ধ করে সোজা রাস্তা ধরবে। কারণ সে অপরিচিত রাস্তায় নিয়ে মুরগা বানানোর কাজ থেকে বিরত থাকবে। আমাদের এ ব্যবস্থাটি বেশ কাজে লেগেছিল। আমাদের তেমন মুরগা বনতে হয়নি। তবে আমার মনে হয়েছে কলিকাতার বেশীরভাগ ট্যাক্সিচালক তেমন ধান্ধাল নয়। মিটারে ঠিকঠাক ভাবে সাধারণত যায়। কলিকাতার যে কোন পয়েন্টে থেকে জিপিএস ও লোকেশন অন্য করলে পরবর্তী গন্তব্য জিপিএস এর গুগল ম্যাপে সার্চ দিলে এই পয়েন্ট কখন কোন বাস আসছে ও ট্রেন কাছাকাছি কোথায় আছে সকল তথ্য পাওয়া যায়। ইতিপূর্বে অনেকের কাছ শুনেছি জিপিএস ব্যবহার নিয়ে। কলিকাতায় মোবাইলের জিপিএসএর এত চমৎকার ব্যবহার করা যায় তা কলিকাতায় না আসলে আমি ও আমার ছেলেরা জানতাম না। আমরা কোন স্থানে যেতে কাউকে তেমন একটা জিজ্ঞাসা করতে হয়নি। জিপিএস মোবাইলের চার্জ কমিয়ে দেয় ও ইন্টারনেট খরচ করে। তাই যখনই কোন স্থান ঠিকমত মন হচ্ছে না, সাথে আমার জিপিএস এর হটস্পট অন করি। আমার বড় ছেলে ওয়াই ফাই অন্য করে আমার মোবাইলের সহায়তায় গুগল ম্যাপে আমাদের গন্তব্যের বিস্তারিত তথ্যাদি বের করে। এভাবে পথ হারানো থেকে রক্ষা পেতাম। বড় বড় শপিং মল ও বড় বড় দোকানের ছবিসহ বিবরণ গুগল ম্যাপে পাওয়া যায়।
কলিকাতার গুগল ম্যাপে একটা বিষয় আমাকে সহায়তা দিয়েছে আর তা হল নির্দিষ্ট স্থানের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর। একবার আমরা কলিকাতার অলিপুর নামক স্থানে চিড়িয়াখানায় যাব। আগের দিন গুগল ম্যাপ থেকে চিড়িয়াখানার তথ্য নিতে গিয়ে দেখি চিড়িয়াখানা পরের দিন বন্ধ থাকবে। গুগল ম্যাপে এ তথ্য না পেলে আমরা পরের দিন চিড়িয়াখানায় যেতাম আর বন্ধ দেখে ফেরত আসতাম। গুগল ম্যাপের বন্ধ থাকার তথ্যের সাথে অনুসন্ধানের মোবাইল নম্বর থাকায় আমি মোবাইলে কল করে আরও নিশ্চিত হতে পেরেছিলাম। সত্যি জিপিএস আর গুগল ম্যাপের কার্যক্রম অসাধারণ। আমাদের বাংলাদেশে সমস্ত রাস্তা ও ডিটেইলস গুগল ম্যাপে না থাকলেও অনেকটুকু উপকারে আসে ও অনেক কাজে লাগে। ভারতের কলকাতার রাস্তায় আরও একটা ভয়াবহ বিষয় হল ট্রাফিক জ্যাম। বাংলাদেশের ঢাকা থেকে কোন অংশে কম নয়। গুগল ম্যাপে কলিকাতার ট্রাফিক জ্যামের বিষয়টি অত্যন্ত চমৎকার ভাবে জানা যায়। কতটুকু রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম আছে। ট্রাফিক ঘনত্ব কেমন। জ্যামে পড়ে  থাকতে হবে আনুমানিক কত সময়। ইত্যাদি বিষয় খুবই উপকারী। এভাবে ট্রাফিক জ্যামের তথ্য জানার কারণে জ্যামের রাস্তাগুলো বাদ দিয়ে বাইপাস করার ভাল সুযোগ হয়। আমার ছেলে গুগল ম্যাপ দেখে ট্যাক্সি চালককে যখন বলে, আংকেল সামনে জ্যাম আছে। আপনি বামে এই এই রাস্তা ধরে গিয়ে জ্যাম থেকে বাচতে পারবেন। চালকরা একটু অবাক হয় জানতে চায় সে কিভাবে জানে। যখন বলা হয় মোবাইলের গুগল ম্যাপ থেকে তখন অনেকেই বিষয়টি জানার জন্য বেশ আগ্রহী হয়।

আমি চাকুরী জীবনের ২৫ বছর ধরে ঢাকার বাইরে আছি। তাই ঢাকার গুগল ম্যাপের অগ্রগতি তেমন ধারনায় নাই। তবে আমার চাকুরীর এলাকা কুষ্টিয়া ও কাছাকাছি অনেক শহরের ডিটেইলস গুলো মফস্বল এলাকা হিসাবে ভালই পাওয়া যাচ্ছে। কলিকাতায় মোবাইলে জিপিএস ব্যবহার করে আমার একটা ধারনা হল আমরা ও আমাদের সন্তানরা যারা আইটি ঞ্জান নিয়ে বড় হচ্ছে। তাদেরকে পৃথিবীর যে কোন স্থানে জিপিএস সম্বলিত মোবাইল দিয়ে ছেড়ে দিলে তারা চমৎকার ভাবে রাস্তা চিনে নিতে পারবে। এখন বিদেশ ভ্রমণ হয়েছে পানির মত সহজ ও চিন্তামুক্ত।

Thursday, August 11, 2016

আমার কৃষি ভাবনা

আমার দাদা ছোটবেলা থেকেই জাত কৃষক ছিলেন। আমার নানা প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক থাকার পরও জমি ছিল ও কৃষি ছিল। নিজে সরাসরি কৃষিকাজ না করলেও মুনি মজুর দিয়ে জমি করাতেন। আমার বাবা ১৯৯১ সালে তৎকালীন টিএন্ডটি ইঞ্জিনিয়ার পদ থেকে রিটায়ার করার পর থেকে গ্রামের বাড়ীতে থাকেন ও পুরো দস্তুর কৃষক। গত দুই বছর হল স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী হওয়ার পর থেকে সরাসরি গাছ লাগানো ও গাছের পরিচর্যা ইত্যাদি করতে পারছেন না। আমার বাবা সরকারী কোয়ার্টারে চাকুরীকালীন সারা জীবন কাটিয়েছেন। সরকারী ক্যাম্পাসে তার বাসস্থান সংলগ্ন স্থানে তিনি সব্জির চাষাবাদ না করে থাকতে পারতেন না। অপরদিকে আমার মাও কখনও বসে থাকতেন না। বাড়ীর আসে পাশে তার সব্জি গাছ লাগানো চাই। এখনো সাতাত্তর আটাত্তর বয়সে টুকটাক সব্জি গাছ লাগিয়ে যাচ্ছেন।
আমার পিতা মাতার কৃষি প্রীতি আমার মাঝেও সংক্রামিত হয়েছে। ২০০০ সালে একবার চাকুরীর সুবাদে সেনাবাহিনীর একতালা স্বতন্ত্র বাসস্থানে থাকার সুবাদে কিছু কৃষির প্রচেষ্টা করেছিলাম। বিজিবিতে দুইবার চাকুরীর সুবাদে সামগ্রিক ভাবে সবার জন্য কিছু কৃষির ব্যবস্থা করছি। একবার আমার সিনিয়র জেনারেল বলেছিলেন আমরা যদি আমাদের ক্যাম্পাসে একটি কুমড়ো উৎপাদন করতে পারি তবে আমরা স্থানীয় বাজার হতে একটি কুমড়ো কম কিনলাম, এতে বাজারে একটি কুমড়োর চাহিদা কম হল ও আমরা জাতীয় জিডিপিতে একটি কুমড়ো যোগ করলাম। এই ধারনার পর থেকে আমি সকলকে সব্জি চাষে উৎসাহ দেই। আর যদি একান্তই চাষাবাদ করতে না পারে তবে সরকারী বা বেসরকারি কোন স্থান ফেলে না রেখে দ্রুত লীজ দেয়ার ব্যবস্থা করি। প্রয়োজন যাতে সর্বদা স্থানগুলো উৎপাদনশীল থাকে। আমি বড় জমিতে একাধিক চাষকে প্রাধান্য দেই। ছোট ছোট প্লটে একাধিক ফসলের উৎপাদন সহজেই বিতরণ করে শেষ করা যায়। একবার আমাদের ক্যাম্পাসে বড় জমিতে শুধু টমেটো চাষ করল। পরে সেই টমেটো অত্যন্ত সুলভে বাজার ছাড়তে হল। তারপর থেকে ছোট ছোট প্লটে অনেক জাতের সব্জি চাষ করেছিলাম। এতে অপচয় কমে আসল। সহজেই সবাইকে বিতরণ করে শেষ করা যায়।
আমার প্রধান হবি কম্পিউটার ও ইলেক্ট্রনিক্স হওয়ার পরও আমার চাষাবাদে আগ্রহের কারণে আমি প্রতিনিয়ত চাষাবাদের উপর জ্ঞান অর্জন করে চলেছি। আমার কৃষির উপর জ্ঞান অর্জনের বিষয়গুলি অনেককে উৎসাহিত করতে পারে। তাই বিষয়গুলি সকলের সাথে শেয়ার করলাম। আশা করি আমার জানা বিষয়গুলি অনেককে কৃষির বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানার জন্য উৎসাহিত করবে।
আমার জানা কৃষির বিষয়গুলি হল:
. ছাদে বাগান করা
. টবে বাগান করা
. বস্তায় বাগান করা
. ভার্টিক্যাল বাগান করা
. কীহোল গার্ডেন করা
. ড্রিপ ইরিগেশন
. পিভিসি ইরিগেশন
. লীফ কালার চার্ট
. কম্পোষ্ট তৈরির নিয়ম
১০. রেইজ বেড গার্ডেন
১১. পট গার্ডেনিং
১২. হাইড্রোপনিক চাষাবাদ
১৩. ধান ক্ষেতে সম্বন্বিত মাছ চাষ
১৪. ভাসমান সব্জি চাষ
১৫. কান্দি কেটে সব্জি চাষ
১৬. গ্রীষ্মকালে শীতের সব্জি চাষ
১৭. শীতকালে গ্রীষ্মের সব্জি চাষ
১৮. স্ট্রবেরী, ক্যাপসিক্যাম ও ড্রাগন ফল
১৯. ছোট পুকুরে ভিয়েতনামী কই চাষ
২০. চিড়িং চাষ
২১. বিভিন্ন ধরনের মাছের চাষ
২২. আমবাগান উন্নয়ন ও পরিচর্যা
২৩. খাঁচায় মাছ চাষ
২৪. সিমেন্টের রিং এর রেইজ গার্ডেনে চাষাবাদ
২৫. বাসস্থানের ফেলে দেয়া কনটেইনারে ও পুরাতন টায়ারে গার্ডেনিং
২৬. গাছের পাতার আর্বজনা হিসাবে না পুড়িয়ে কম্পোস্ট তৈরি
২৭. বোতল মাধ্যমে ড্রিপ ইরিগেশন

আমার লিষ্ট যা মনে পড়েছে তা এখানেই লিপিবদ্ধ করলাম। আরো নতুন নতুন কৃষি গভেষনা ভবিষ্যতে আমি যুক্ত করব। আমার এ ধারনা ও চেকলিস্ট অনেকেই কৃষির নতুন নতুন বিষয় জানতে উৎসাহিত করবে। আমাদের দেশের কৃষির উপর আলাদা কোন টিভি চ্যানেল নাই। একবার শুনেছিলাম বাংলাদেশে কৃষির উপর চ্যানেল অতি প্রয়োজনীয় হবে। আমরা আমাদের অবসর সময় অবশ্যই সবুজের সাথে কাটালে আমরাও নিজেকে সবুজ রাখতে পারব।

Thursday, August 4, 2016

সন্তানের জন্য আনা চর্বি ও শর্করা জাতীয় খাবার কিন্তু ওজন বাড়ায় পিতা/মাতা ও অভিভাবকদের

আজ থেকে ৩০/৩৫ বছর আগে আমার মধ্যবিত্ত বাবার পরিবারে আমরা ছয়জন ভাইবোন প্রায়শই একটা ডিমকে শেয়ার করে খেতাম। কখনো একটা সিদ্ধ ডিম দুই ভাগে বা তিনভাগে খেতে হত। মাঝে মাঝে আমরা ছোটরা কেউ একাধিক টুকরো খেতে চাইলে মায়ের ভাগ বা বাবার ভাগ দিয়ে দিতেন। ১৯৯৭ সালের পর আমি যখন সংসারী হলাম হয়ত বাবার থেকে একটু উপরের ধাপে উঠলাম কমিশন অফিসার হওয়ার কারণে। আমার বাবা বিটিএন্ডটির অফিসার হলেও ছয় সন্তান ও তাদের পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে আমার মা ডিম আস্ত না দিয়ে কয়েক টুকরো করে আমাদের ভাই বোনদের খেতে দিতেন। আমাদের এখনকার সন্তানরা অজস্র পোলট্রি ফার্মের কারণে ও সহজলভ্য হওয়ার কারণে ডিম শেয়ার করে খাওয়া হয় এটা হয়ত চিন্তায় আনতে পারবে না। তাদের জন্য প্রতি নিয়ত ডিম খাওয়ানোর জন্য পরিবারের স্ত্রীরা বা সন্তানদের মায়েরা এত ব্যস্ত থাকেন যে ভাবতেও অবাক লাগে। এমন হয় সন্তানের জন্য ডিম সিদ্ধ করা হল কিন্তু সন্তান বলল ডিম সিদ্ধ খাব না পৌচ খাব তখন সিদ্ধ ডিম থাকা সত্ত্বেও পৌচ করতে হয়। আর এ অব্যবহৃত সিদ্ধ ডিম অপচয়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মা বাবাকে অতিরিক্ত ডিম খেতে হয় আর ওজন বাড়াতে হয়। মধ্যবিত্ত পরিবারের সমস্যা হল কারণে ও অকারণে খাবার নষ্ট করতে পারে না। ছেলে মেয়েরা খেল না আর পিতা মাতা খেয়ে নিবে বা কাজের লোককে দিবে এটা বেশী হয় মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোতে। কারণে ও অকারণে খাদ্য দ্রব্য ফেলে দেয়ার মত ভয়ানক মানসিক শক্তি সাধারণত ধনী পরিবার গুলোতে হতে পারে। মধ্যবিত্ত পরিবার সাধারণত অতিরিক্ত খাবার খেয়ে হলেও খাবার ফেলে না দিয়ে তা কাজে লাগায়। এভাবে চাহিদার বাইরে অপরিকল্পিত খাবারই সাধারণত আমাদের শরীরে বারোটা বাজিয়ে দেয়। অধিকাংশ পরিবারের স্ত্রীদের ওভার ওয়েট হওয়ার কারণ অনেক ক্ষেত্রেই বলা যায় সন্তানদের জন্য তৈরি করা বেচে যাওয়া খাবার ফেলে না দিয়ে নিজেদের চাহিদার অতিরিক্ত হিসাবে সেসব খাবার ব্যবহার করা।
একটা কথা প্রচলিত আছে চোখের খিদা। এটা একটা মারাত্মক দিক। আমি অনেকেই দেখেছি খাবার তুলে নিতে গেলে অনেক খাবার তুলে নেন কিন্তু বাস্তবে খেতে পারেন না। অনেক খাবার অপচয় হয় এ ধরনের চোখের খিদা মিটানোর কাজে।
চোখের খিদা মিটানোর জন্য বেশী রান্না করা। বাচ্চাদের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বেশী রান্না করাটা অনুচিত। আর বাচ্চাদের বেশী রান্নার ভার বইতে হয় সাধারণত পিতামাতাকে। মাঝে মাঝে এরূপ হয় ছোট ছেলে কিছু খাচ্ছে না, তার জন্য রান্না করা ভাত, মাছ ও মাংস বেচে যাচ্ছে। আমি তখন ঘটনার গভীরে গিয়ে দেখলাম। স্কুল থেকে আসার পথে ছোট ছেলে মাঝে মাঝে ব্যাকারী থেকে স্ন্যাকস ও কোল্ড ডিংকস খেয়ে বাসায় ফেরা। বাসায় এসে আইসক্রিম, বিস্কুট, চানাচুর ও আরো বেশ কিছু ড্রাই খাবারের সদব্যবহার হয়েছে। তখন স্বাভাবিক ভাবে স্ত্রীকে পয়েন্ট আউট করে বললাম, ছেলের পেটের ক্যাপাসিটি অনুযায়ী ভাত ও সাধারণ খাবার দ্বারা পরিপূর্ণ না করে আগেই অন্য খাবারে চাহিদা পূর্ণ করেছে করে ফেলেছে। তাই বাসার খাবার বাড়তি হয়েছে। এ সকল ক্ষেত্রে সাধারণত অনেক বাবা মা সন্তানদের বুঝাতে পারলে বাইরের খাবার পরিহার করাতে পারেন। আর একান্তই না পাড়া গেলে স্বাভাবিক খাবারের পরিমাণ এই সন্তানের জন্য অর্ধেক করে বা প্রয়োজনে আরো কমিয়ে রান্না করতে হবে। এতে পিতামাতারা ফোর্স ইটিং থেকে রক্ষা পাবেন।
অনেক পিতামাতা সন্তানদের অপ্রয়োজনীয় জাংক খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। আবার আমরা অনেকেই পারি না, যারা পারি না তারা সন্তানদের জন্য একেক জনের পছন্দমাফিক একেক খাবার তৈরি করে পরিবেশন করার চেস্টা করি যেন বাচ্চারা পেটপুরে তৃপ্তিতে খেতে পারে। আর্থিক সংগতি থাকায় ও কাজের লোক বা নিযুক্তিতে লোক প্রাপ্তির সুবিধা থাকলে আমরা অতিরিক্ত মেনু তৈরী নিয়ে তেমন একটা চিন্তা করি না। কিন্তু এটা ক্রমান্বয়ে অহেতুক বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত খাবার গ্রহণে প্ররোচিত করে। পরিণামে মা বাবা সহ গোটা পরিবার ওভার ওয়েটের যাতা কলে পিষ্ট হয়। এটা থেকে উত্তরণের একটা উপায় আছে। তা হল সুষম ও কঠোর খাদ্যাভ্যাস।

পরিকল্পিত খাদ্য অভ্যাস আমাদের খাবার অপচয়ের পাশাপাশি আমাদের অযাচিত মুটিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে, খাওয়ার পরিমাণ সব সময় করতে হবে পরিমাণ থেকে কিঞ্চিত কম। খাবার কম পড়লে ইজ্জত গেল এ ধরনের মানসিক চিন্তায় না থেকে খাবার কম পড়বে এবং কম খাব, এই নীতিতে আগানোই সবচেয়ে ভাল। খাবার কম পড়লে পুনরায় একই জাতীয় খাবার বা বিকল্প খাবার পরিকল্পনা করলে সব সময় খাবারের বিষয়ে টাইট অবস্থানে থেকে ডায়েট কন্ট্রোল করা যায়। পরিশেষে বলব আমরা নিজেদের সুচারু পরিকল্পনায় খাদ্য শৃঙ্খলার মাধ্যমে সুস্থ থাকব এটাই হোক আমাদের সকলের একান্ত কামনা।

Thursday, July 28, 2016

বাগানের উৎপাদিত দ্রব্যের আহরণ জনিত অপচয়

আমি একটা সরকারী ক্যাম্পাসে চাকুরী কালীন সময়ে দেখলাম। ক্যাম্পাসে প্রচুর ফল ধরে কিন্তু সেই ফল গাছের উচ্চতা বেশী হওয়ায় ফল পাড়ার জন্য শ্রমিক পাওয়া যায় না। একটা জামগাছ সাধারণত ৫০ হতে ৮০ ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় দেখা যায়। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতায় হল গাছে হাইট ১৮-২০ ফুটের অধিক হলেই সে সব গাছে ফল হারবেস্ট করার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ দেখা যায়। বড় বড় গাছের ফল বড় হলে হারবেস্ট করা যায়। কিন্তু ছোট ও নরম ফল, গাছ থেকে পারা বা হারভেস্ট করা অত্যন্ত দূরহ কাজ। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের মত মধ্যম আয়ের দেশেও পল্ট্রি মুরগী, পল্ট্রি ডিম, তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশ মাছ ইত্যাদির মূল্যমান কম হওয়ায় মানুষ এই সবের উপর নির্ভরশীল হয়ে আমিষের চাহিদা পূরণ করে মানুষ বেচে আছে। খাবারের প্রাচুর্য্যতার কারণে মানুষ ওভার ওয়েট হয়ে যাচ্ছে। সচ্ছল পরিবারের বাচ্চারা ধীরে ধীরে ওবিসিটি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এর থেকে মুক্তির উপায় আমাদের বের করতে হবে।
আমাদের শর্করা ও ফ্যাট কমিয়ে অনেক ফল খেতে হবে। তাহলে উপায়। ফলের মধ্যে কলা স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায় ও ব্যাপক উৎপাদন হচ্ছে। কলা শক্তির আধার ও ফাইবার আছে। তবে ডায়াবেটিস ও ওভার ওয়েটের জন্য ভাল খাবার নয়। তাই টক জাতীয় অপ্রচলিত ফলের উৎপাদন বাড়াতে হবে। আমাদের দেশে জামের মৌসুমে জাম পাওয়া যায় তবে অধিক পরিমাণে নয়। অপ্রচলিত ও মূল্য বেশী। জাম চাষের গাছ বড় হয়। ফল হয় ছোট। গাছ থেকে পাড়তে অনেক অসুবিধা। এ কারণে এই উপকারী ফলটি তেমন উৎপাদন হচ্ছে না। আর যা উৎপাদন হচ্ছে তার আবার অর্ধেকের বেশী অপচয় হয়ে যায় গাছ থেকে পাড়তে গিয়ে। সম্পূর্ণ না পাকলে এ ফল খাওয়া যায় না। আবার সম্পূর্ণ পাকা ফল ঝাঁকি দিয়ে পারা যায় না। ফল উপর থেকে পড়ে নষ্ট হয়। ঝাকি দিয়ে জালে ফেললেও নষ্ট হয়। জামের থোকা থেকে ব্যাগ নিয়ে দেখে দেখে পেরে নেয়াটা সবচেয়ে ভাল ব্যবস্থা। কিন্তু এত উপরে নরম ডাল সেটাই বিপদ।

তাহলে উপায় কি? সহজ উপায় হল জাম গাছটি ছোট বানিয়ে ফেলুন। আমি জাম চাষ নিয়ে পড়তে গিয়ে ইন্টারনেটে এক মজার তথ্য পাই। আর তা হল জাম গাছ প্রতি বছর কেটে ও ছেঁটে ১৮ থেকে ২০ ফুটের মধ্যে রাখলে ১০/১২ ফুট উঁচু এলুমিনিয়ামের  ইলেকট্রিক কাজ করার মই বা কাঠের মই ব্যবহার করে সহজেই গাছ থেকে হারভেস্ট করা যাবে।


একটা ওয়েবসাইট:
http://m.thehindu.com/sci-tech/a-short-variety-jamun-cultivation-fetches-good-rewards/article6104923.ece  থেকে  জাম চাষ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তার মধ্যে জাম গাছের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি প্রধান কাজ।
“The farmer, through constant pruning for many years, has been successful in controlling the height of the trees to 18-20 feet.
“I tried to control the height of the tree by pruning them regularly because harvesting the fruits was proving to be difficult due to the height of the trees. The branches needed to be shaken well for the ripe fruits to fall down.
“While doing so either the branches broke or the fruits got damaged while falling on the ground and did not fetch a good price,” says Mr. Jayakumar.
The farmer purchased about 80 seedlings from a nursery in Andhra Pradesh and planted them at a spacing of 24 feet (8m X 8m). The trees were irrigated through drip lines.
After four years, flowering started and fruits set and yield was about 2 kg from each tree. Gradually the yield increased and at the age of eight years 40- 50 kg of fruits per tree were harvested. Now the trees are in the11th year of planting and the farmer is able to harvest 60 kg of fruits from each tree.”

জাম ছাড়াও আরো অনেক গাছ হারভেস্টিং ও অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ছোট রাখাই সমীচীন। মাঝে মাঝে দেখা যায় বড়ুই বা কুল গাছ একদম গোঁড়া থেকেই কেটে ফেলা হয়। পরে নতুন গজানো ডাল পালায় নতুন ফল ধরে। জমির চাষ করা পেয়ারা গাছও ছেঁটে রাখতে দেখা যায়। অনেকে আবার আম গাছও ছোট করে রাখেন বিশেষ করে আম্রপালি আম গাছ ছোট করে রাখতে দেখা যায়।
আমি কুষ্টিয়ার মিরপুর বিজিবিতে চাকুরী কালীন সময়ে ২০১৬ সালে সেখানকার কৃষি অফিসারের পরামর্শে বেশ কিছু জাম গাছ ৫/৬ ফুট উচ্চতায় কেটে দেই। পরবর্তীতে সেসব গাছের ডালপালা হলে সবোর্চ্চ হাইট ১৮-২০ ফুটে সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেই। এমনকি আমরা যেসব আম গাছে ভাল মানের আম নেই সেই সব গাছ দুই তিন ফুট রেখে কেটে ফেলার পরিকল্পনা নেই।  সেসব কাটা গাছে আমরা নতুন আমের কুশি বের হলে তাতে ভাল জাতের কলম দেয়ার ব্যবস্থা করি। গাছের একেক ডালে একেক ধরনের আম এবং একেক সময়ের আম চাষ করে একই গাছে মজাদার এক বৈচিত্র্য আনা যায়।
পরিশেষে বলব ফলন বাড়াতে ও ফল আহরণের ঝামেলা কমাতে সমস্ত ফলের গাছ ১৮-২০ ফুটের মধ্যে রাখুন। এটাই হবে একটা লাভজনক প্রক্রিয়া।

Thursday, July 21, 2016

মোবাইলের অটোমেটিক্যালি রেকর্ডিং

আমি একদিন আমার সহকর্মী নতুন চাকুরীর ইয়ং অফিসারের সাথে আমাদের অধীনস্থ কয়েকজনের মিথ্যা বলা নিয়ে কথা বলছিলাম।আমি সেই ইয়ং কর্মকর্তাকে আফসোসের সাথে জানালাম, অনেককে দেখি সাধারণ ভুল ভ্রান্তিতে মিথ্যা বলে ভুল ভ্রান্তি ঢাকার চেষ্টা করে। এই প্রসঙ্গে আমার নবাগত সহকর্মী কর্মকর্তা আমার কথার সাপোর্ট করে একটা ঘটনা বলল। সে কয়েকদিন আগে তার অধীনস্থকে একটি কাজ করতে বলেছিল। পরে কাজটি পর্যবেক্ষণ করে কিছু ভুল পায়। তখন আমার এই সহকর্মীটি সেই ব্যক্তির কাছে জানতে চায় আমি আপনাকে মোবাইলে যেভাবে কাজটি বলেছি আপনি সেই ভাবে কাজটি করেননি। আমি আপনাকে মোবাইলে দুইবার কাজটির বর্ণনা দিয়েছি আপনি কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলি বাদ দিয়েছেন। যেমন গেইট বানাননি। বেলুন দিয়ে সাজানো হয়নি। তখন সেই ব্যক্তি বলল আপনি তা বলেননি। তখন ইয়ং কর্মকর্তা বলল, ঠিক আছে আপনি এগুলো এখুনি ব্যবস্থা করে ফেলুন। সেই ইয়ং অফিসার বলল, অতঃপর আমি সেই ব্যক্তির সাথে কথোপকথনের আমার মোবাইলের রেকর্ডটি শুনলাম। সেখানে পরিষ্কার ভাবে তার সাথে অনুষ্ঠানের জন্য গেইট তৈরি ও বেলুন লাগানোর কথা বলেছি। অথচ সে অস্বীকার করল। আমার একবার মনে হল তাকে ডেকে আমার মোবাইলের রেকর্ডটি শুনাই। পরে মনে হল আর ঝামেলা না করে একে দিয়ে ভুল কাজগুলো আদায় করে নেই।

আমি গালে হাত দিয়ে আমার সামনে বসা ইয়ং অফিসারের দিকে তাকিয়ে রইলাম। আমার ২৫ বছর চাকুরী শেষ আর এক বছর চাকুরীর কর্মকর্তার কাছে এটা কি জানলাম। আমি পুনরায় তার কাছে জানতে চাইলাম তুমি কি মোবাইলে সব কথা রেকর্ড কর। সে বলল, জী স্যার। কিভাবে? গুগল প্লে স্টোরে এ ধরনের অ্যাপস আছে। আপনার মোবাইলে কোন কলে আসলে বা আপনি কল করলে অটোমেটিক রেকর্ড হবে। আপনার কথা বলায় কোন ডিস্টার্ব হবে না। আপনি প্রয়োজনে পুনরায় শুনতে পারেন বা মাঝে মাঝে মুছে মোবাইলের মেমোরি খালী করে রাখবেন। আমি হতাশ হয়ে বললাম আমি তোমাকে মাঝে মাঝে ঝেড়ে বকাঝকা দিয়েছি সেগুলোও কি তুমি রেকর্ড করেছ। সবই রেকর্ড হয়েছে স্যার, কিন্তু আপনি তো আমাকে ভালর জন্য আমি বড় ভাই হিসাবে আমি মনে করি। আমি একটু নড়ে চড়ে বসলাম। মনে হল এখন সম্পর্ক ভাল তাই বড় ভাই কোন কারণে ঝামেলা হলে এই ব্যক্তি তো রেকর্ড করা কথা দিয়ে জায়গা মত বসিয়ে দিবে। তার পর তাকে আমার অফিসিয়াল এ্যনরয়েড মোবাইলে সফটওয়্যারটি দিতে বললাম। সেই কর্মকর্তা জানালো এটাতে তার বেশ কিছু লাভ হচ্ছে। যেমন উপরস্থ কর্মকর্তাদের কারো কোন নির্দেশনা সঠিক ভাবে বুঝতে না পাড়লে রেকর্ডটি শুনে নিলেই হল পুনরায় নির্দেশনা প্রদানকারী কর্মকর্তাকে কল করার প্রয়োজন হয় না।
আমার মোবাইলে দেয়ার পর দেখলাম ভালই কাজ করছে। একটাই ঝামেলা তা হল মাঝে মাঝে মুছে দিতে হয়। নয়ত মোবাইলের স্টোরেজ মেমোরি ভর্তি করে মোবাইলকে স্লো করে দিবে।
এখন আর্মি, নেভী, এয়ারফোর্স ও বিজিবি প্রায় সবস্থানেই নারীরা কর্মরত। তাদের প্রায়শই অকুপেশনাল হেজার্ড ফেস করতে হয়। সেসমস্ত হেজার্ড থেকে বাচতে তারা মোবাইল রেকর্ডিং অ্যাপসটি ব্যবহার করতে পারে। তাদেরকে ডিস্টার্ব করলে এটা কাজে দিতে পারে। আসলে এর অনেক ভাল দিক আছে। মন্দ দিক হল ট্রাষ্ট। ধীরে ধীরে ট্রাস্টের সংকট দেখা দিবে। যা কিনা কর্ম পরিবেশ ভাল থাকবে না। আন্তরিকতা নষ্ট হবে।
আমার মোবাইলের অ্যাপসটি দিয়ে আমার একটা লাভ হয়েছে আর তা হল মোবাইলে অধীনস্থদের কাউকে আর বকা দেই না। অনেক ঠাণ্ডা ভাবে চিন্তা করে করে শক্ত শক্ত কথা বলি। যেন সেসব কথা ফাঁস হলে সন্মান হানি না হয়। তাই তো বলা যায়, ভাবিয়া বলিও কথা, বলিয়া ভাবিও না। । এমনিতেই অনেকে অফিসিয়াল ফোনে সর্তকতার সাথে কথা বলেন । কারণ মোবাইলের সার্ভারেও কথা রেকর্ড করা যায়।
 আগের মত রাগও করি না। রাগ হলে মনে করি আমার বকা গালিগালাজ রেকর্ড করে জায়গা মত ছেড়ে দিবে। এত সহজ ব্যবস্থা হাতে হাতে থাকতে নিজেদের রাগ নিয়ন্ত্রণের এটা একটা ভাল ব্যবস্থা। ক্রোধ কখনোই ভাল না। অনেক সময় অনেকে ভুল করে সাধারণত বলে থাকে মোবাইলে কথা বুঝতে পারিনি তাই ভুল হয়েছে। পুনরায় যখন জানতে চাওয়া হয়, না বুঝে থাকলে পুনরায় কেন পরিষ্কার ভাবে বুঝে নেননি। তখন আর কোন বক্তব্য পাওয়া যায় না। যারা মোবাইলে কম বুঝে তাদের সর্তক করার জন্য মোবাইল রেকর্ডিং উত্তম একটি ব্যবস্থা।
আর যাই হোক আমি ট্রাস্ট নষ্ট হওয়ার পর এই ব্যবস্থাটি ভাল। তা বলব না। তবে আমার কাছে মনে হয় যারা প্রতিনিয়ত অকুপেশনাল হেজার্ড ফেস করেন  তারা কল রেকর্ডিং পদ্ধতিটি গ্রহণ করেত পারেন। পরিশেষ আমি বলব আমরা সব সময় সচেতন হয়ে প্রযুক্তির ভাল দিকটাই ব্যবহার করব সেটাই হবে সকলের কাম্য

Thursday, July 14, 2016

নদী ভাঙ্গন এলাকায় প্রি-ফ্রেবরিকেটেড স্থাপনার উত্তম ব্যবহার


নির্মাণের দুই বছরের মধ্যেই কমিউনিটি ক্লিনিক নদী গর্ভে। এ ধরনের খবর আমরা মাঝে মাঝে পত্রিকায় দেখি। তখন দু:খ লাগে নদী ভাঙ্গবে জেনে কেন এ ধরনের পরিকল্পনা ও স্থাপনা তৈরি। নদী ভাঙ্গনের নিকটবর্তী এলাকায় সাধারণত মানুষ পাকা বাড়ীঘর তৈরি করে না। তারা সাধারণত টিন দিয়ে অস্থায়ী বাড়িঘর তৈরী করে। ব্যক্তি মালিকানার কোন পাকা বাড়ী ঘর সাধারণত দুই বছরে নদীতে যায় না। ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে ২০/৩০ বছর পর নদী গর্ভে যায়। এদিকে নদীতে বাড়িঘর যাচ্ছে অন্যদিকে চর পড়ছে। তবে যারা নির্মাণ করেছেন তারা সর্তক হলে নদী থেকে যথেষ্ট দুরে নির্মাণ করলে ১৬ লক্ষ টাকায় নির্মিত দুইতলা কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের দুই বছরের মধ্যে নদী গর্ভে যেত না।
কুষ্টিয়ায় চাকুরীর সুবাদে দৌলতপুর চর এলাকা দেখার সুযোগ হয়। চর চিলমারী ও চিলমারী এলাকায় বিজিবি ক্যাম্প আর স্কুল ছাড়া পাকা স্থাপনা নাই। ওখানকার লোকজন টিনের ঘরবাড়ী তৈরি করে থাকে। কারণ বন্যা এলে উই স্থান ছেড়ে তারা চলে আসে। আবার পদ্মা নদী ভাঙ্গনেও কোন সমস্যা নেই।
নদী ভাঙ্গন এলাকায় জেনে শুনে পাকা স্থাপনা করা ভুল বলব না এটা হল অপরাধ। নদী ভাঙ্গন এলাকায় সরকারী সমস্ত স্থাপনা অস্থায়ী টিন শেডে তৈরি হতে পারে । আর ভাঙ্গন ও বন্যা দুইটির ভয় থাকলে সেসব স্থাপনা হবে কংক্রিটের খুঁটির উপর মাচা করে।
সরকারী স্থাপনা সুন্দর ছিমছাম ও হাইজেনিক করতে হলে চমৎকার একটা ব্যবস্থা আছে আর তা হল প্রি-ফেব্রিকেটেড(প্রিফেব) বাসস্থান। জাতি সংঘের শান্তি রক্ষী মিশনে দেখেছি হাসপাতাল তৈরি হয়েছে প্রিফেব সিস্টেমে। প্রিফেবের স্যান্ডউইচ প্যানেল অত্যন্ত সুন্দর ও হাইজেনিক। স্যান্ডউইচ প্যানেলের মেশিন ফার্নিশ রং সুন্দর ও দীর্ঘদিন টেকসই হয়। সাধারণত জাতিসংঘে প্রিফ্রেব হাউজের আয়ুষ্কাল দশ বছর ধরা হয়। বাস্তবে এগুলি ২০/২৫ বছরও টিকে যায়।


নদী ভাঙ্গন এলাকায় কম খরচে সরকারী স্থাপনা প্রিফ্রেব হাউজ তৈরি করা যায়। এই প্রিফেব হাউজগুলি নদী ভাঙ্গন শুরু হলে ভাঙ্গন এলাকা থেকে ভিতরের দিকে স্থানান্তর করা যায়। এতে পুরাতন স্থাপনা ধ্বংস হয়ে নতুন স্থাপনা পুনরায় তৈরি করার বিশাল একটা ক্ষয়ক্ষতি থেকে সরকারী সংস্থা গুলো রক্ষা পাবে। শুধুমাত্র ভাঙ্গনের আগে প্রিফ্রেবগুলো খুলে স্থানান্তর করে নিলেই চলবে। এমন কি বেশী পুরাতন হলে সেগুলো নিলামে বিক্রয় করে নতুন করে তৈরি করে নিলেই চলবে। তবে প্রিফেবগুলো দালান হতে গরম বেশী লাগতে পারে। তার জন্য এসি বা ফ্যানের ব্যবস্থা রাখলে ভাল হবে।
বাংলাদেশে এখন বেশ কিছু সংস্থা প্রিফেব বাসস্থান তৈরি শুরু করেছে। যদি প্রিফ্রেব বাসস্থানের সরকারী চাহিদা তৈরি হয় তাহলে বাংলাদেশে স্যান্ডউইচ প্যানেলের ব্যাপক বাজার তৈরি হবে। আর বাজার বড় হলে এর  মূল্যও কমে আসবে। স্যান্ডউইচ প্যানেলে সাধারণত টিন শেড ঘর থেকে আনুমানিক দ্বিগুণ দাম পড়বে ধারনা করা যায় আর দালান থেকে ৩৫-৪০% খরচ কম পড়বে। প্রিফেব হাউজের স্থানান্তরিত করতে পারার গুনটির জন্য এটাকে দীর্ঘ মেয়াদি আরো সাশ্রয়ী বলা যাবে। দুর্গম এলাকায় ইট বালি বহন করে স্থাপনা তৈরি করার খরচ থেকে কম খরচে ও দ্রুত করা যায়। একটা ২০০০ মিটার স্থাপনা টিন দিয়ে করতে যাবে দুইমাস। ইটের গাঁথুনি ও কংক্রিট দিয়ে তৈরি করতে করতে লাগবে ছয় মাস। অথচ একমাসের কম সময়ে প্রিফ্রেব হাউজ তৈরি করা যাবে।

যে কোন স্থানে দ্রুত মান সম্পন্ন সরকারী স্থাপনা তৈরি করতে প্রিফেব হাউজের তুলনা মেলা ভার। জাতি সংঘের মোতায়েন এলাকায় প্রথম তারা স্থাপন করে শক্ত প্লাস্টিকের বড় বড় তাঁবু। এর ফ্রেমগুলো এলুমিনিয়ামের, এর পর তারা স্থাপন করে প্রিফ্রেব হাউজ। তারপর আরো বেশী দীর্ঘ মেয়াদি হলে তারা স্থাপন করে পাকা দালান। তাদের এ ধারাবাহিকতা বাংলাদেশ সরকার চর, নদী ভাঙ্গন এলাকায় এ ধরনের ব্যবস্থায় যেতে পারেন। এতে সরকারী অর্থ অপচয় কম হবে। আমাদেরও দেখতে হবে না দুই বছরের মধ্যে সরকারী স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন। আমরা সকলে সচেতন হলে সবার ও দেশের অনেক উন্নতি হবে।

Thursday, July 7, 2016

“লেট হয়ে গেল”এ এক অদ্ভুত টেনশন

আমার মাথায় সব সময় একটা ঘড়ি চলতে থাকে। হাতে আমি ঘড়ি পড়ি না। কিন্তু মাথার এ ঘড়িটা বড়ই যাতনা করে। একদম ছোট থেকেই আমার এ অভ্যাসটা আমাকে মানুষিক যাতনা দিচ্ছে। অভ্যাসটা হল যদি লেট হয়। আমার এ অভ্যাসটা চাকুরীর এ বয়সে মোটেই শোভনীয় নয়। দীর্ঘ ২৫ বছর চাকুরীতে অনেক হিসাব কিতাবের উর্ধ্বে চলে এসেছি। কারণ এখন চাকুরীতে হারানোরও কিছু নেই পাওয়ারও কিছু নেই। তবুও একটা অভ্যাস। সেটা হল কোথাও যেতে হলে অনেক আগে প্রস্তুত হয়ে বসে থাকা আর তা হল। যদি লেট হয়”, যদি লেট হয় আমার কারণে আমার পরিবারের অন্য সদস্যদের মাঝেও সংক্রামিত হয়েছে। একদিন আমার স্ত্রী একটা প্রোগ্রামে ১১টায় যাবে। আমি ১০টায় তাকে তাড়া দিচ্ছি এই রেডি হচ্ছ না কেন। আমার স্ত্রী স্বাভাবিকভাবেই রেগে আগুন। আমার সময় হলেই আমি রেডি হব। যেহেতু শাড়ী পড়ছি না আমার তাড়া নেই। তারপর তাকে দেখলাম যথা সময়ে হাজির হতে। তবে আমার পরিবারের সদস্যরা ধীরে ধীরে আমার আবেশে আবিষ্ট হয়ে এখন কোথাও যাওয়ার এক ঘণ্টা আগেই প্রস্তুত হয়ে বসে থাকে। মাঝে মাঝে এমন হয় আমি নিজে কোন সমাবেশে সবচেয়ে সিনিয়র, অথচ আমি নিজেই পাঁচ-দশ মিনিট আগে গিয়ে হাজির হচ্ছি। আমার লেট হওয়ার অহেতুক টেনশনটা অত্যন্ত বিরক্তিকর।
আমি অফিসে যাওয়ার জন্য আধঘণ্টা/একঘণ্টা আগে রেডি হয়ে বসে থাকি। বসে বসে টিভি দেখি নয়ত ক্লার্কদের আসার আগেই অফিসে হাজির হয়ে ইন্টারনেটে পত্রিকা পড়তে থাকি। অফিসে আগে এসে লাভ হয় না। সাধারণত অনেক বস নিজের সময় মত আসেন আর নিজের সময় মত দেরি করে অফিস ছাড়েন। এতে আমাকে যে বিপদে পড়তে হয় তা হল অভ্যাসগত ভাবে আগে অফিসে আসা আর অন্যের ইচ্ছায় দেরীতে ফেরা। অফিস থেকে ফিরতেও আরেক বিপদ এখানেও ঘড়ির অফিস শেষের টাইমটা মাথায় ঘুরতে থাকে। মাথার ভিতর হাতুড়ি পেটাতে থাকে টাইম শেষ, টাইম শেষ। কিন্তু বসের তো আর টাইম শেষ হয় না। তাই লেট হওয়ার ভয়ে আগে আসা সময় শেষের পরে যাওয়া একটা যাতনার সৃষ্টি করে।
লেট যেন না হয়এ ধরনের মানসিক টেনশনে আরো কিছু কাজ আমার করতে হয়। সমস্ত পোশাক পরিচ্ছদ পূর্বে সাজিয়ে রাখা। চশমা, মোবাইল, নোটবুক, ল্যাপটপ সব এক জায়গায় আগের রাতে গুছিয়ে রাখা। এতে একটা আরাম হয়। সকলে রিলাক্স ও ফুরফুরে থাকা যায়। তার পর ঢিলা ঢালা ভাবে রেডি হয়ে টাইমের আগে গন্তব্যে হাজির হওয়া যায়। আবার কোথাও গাড়ীতে গেলে আর এক সমস্যা হয়। ড্রাইভারকে যেই টাইম দেই তার কমপক্ষে পাঁচ দশ মিনিট আগে আমার প্রস্তুত হওয়া চাই। আমি প্রস্তুত না অথচ ড্রাইভার হাজির হয়েছে, এটা আমাকে একটা অস্বস্থিতে ফেলে, অথচ তার কোন প্রয়োজন নেই। কর্তা ব্যক্তি হিসাবে কর্তার জন্য চালক বসে অপেক্ষা করবে এটাই স্বাভাবিক। অথচ এই স্বাভাবিকতাই আমি আমার জন্য স্বস্থিদায়ক কখনোই করতে পারিনি। তাই ড্রাইভারের কাছে লেট হওয়ার চিন্তাটাও প্রায়শই অদ্ভুতভাবে চাপ সৃষ্টি করে। আমার মত অদ্ভুত রোগে অনেকেই আক্রান্ত। তবে এতে মাঝে মাঝে তাড়াহুড়ো বা হুরোহুরি না করার কারণে ধীর স্থির ভাবে সমস্ত কাজ করা যায়। আগে থেকে কাপড় চোপড় সবকিছু গুছিয়ে রাখার মানসিক চাপ অনুভব করার কারণে পরে রিলাক্স থাকা যায়।
একবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবিতে চাকুরীর সময় হুট হাট করে সীমান্তে রাত্রিযাপনের জন্য যেতে হত। গরু চোরাকারবারীরা বিএসএফ এর গুলি খেত আর তা সামাল দিতে বর্ডারে যেতে হত। প্রায়শই সীমান্তে রাত্রিযাপনের জন্য আধ ঘণ্টা এক ঘণ্টার নোটিশে চলে যেতাম। তখন একটা মানসিক চাপ কাজ করত। এই মানসিক চাপ কমানোর জন্য আমি একটা কাজ করলাম। আর তা হল সর্বদা বাইরে যাওয়ার জন্য একটা ব্যাগ প্রস্তুত রাখা। এটা করার জন্য টুথপেষ্ট, টুথব্রাশ ও অন্যান্য কাপড় আলাদাভাবে প্রস্তুত থাকত, এতে হঠাত করে রাত্রিযাপনের নির্দেশে কখনোই আতংকিত হতাম না। এখনো কখনো বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে দুই একদিন আগে আমার ব্যাগ গুছানো হয়ে যায়। যদিও ব্যাগ গুছাতে আধ ঘণ্টার বেশী লাগার প্রয়োজন নেই তবুও গুছিয়ে ফেলি তার কারণ শেষ মুহূর্তে গুছাতে গিয়ে যদি লেইট হই। যদি কোন কিছু বাদ পরে। শেষ মুহূর্তে যদি প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যথা সময়ে হাতের কাছে না পাই। ইত্যাদি ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় ভাবনা।

আমি অন্যদের সাথে তুলনা করে আমার এ ধরনের টেনশনের জন্য নিজেকে ধিক্কার দিতাম। কিন্তু ধীরে ধীরে এ টেনশনটাকে শক্তিতে রূপান্তর করে নিজে অনেক লাভবান হচ্ছি। আগে ভাগে প্রস্তুত থাকার কারণে যে কোন কাজ নির্ঝন্জাটে করা যায়। এতে সময়ের ভাল ব্যবহার হয়। যেমন কোন একটা কাজে যাব। কিছু আগেই পোশাক পরে সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যে সময়টা হাতে থাকল তা পত্রিকা পড়ে, টিভি দেখে বা কম্পিউটারে কাজ করা যায়। সময় হওয়ার আগে আগে ধীরে ধীরে রওয়ানা দেয়া যায়। আমার মত যাদের লেট হওয়ার টেনশনকাজ করে তারা আগে ভাগে রেডি হয়ে টেনশন দুর করে অন্য কোন উপকারী ও রিলাক্স কাজ করে হাতে থাকা সময়টি কাটাতে পারেন। আরাম পাবেন। ইন্টারনেটে এক মটিভেটরের একটা লেখা পড়ে ছিলাম। যদি অলসতা কাটাতে চান, প্রথম কাজ হল জুতা পড়ে ফেলা। তাহলে আপনি যে কোন স্থানে যেতে প্রস্তুত। অলসতা কেটে যাবে। বেশী রিলাক্স পোশাক পড়লে মানুষ বাসা থেকে কম বের হয় এবং বেশী মোটা হয়। তাই বাসা ও বাইরে যাওয়া যায় এমন পোশাক মানুষকে বেশী সচল রাখে ও অতিরিক্ত ওজন ঝরাতে কার্যকরী। এগুলো মূলত কিছু লোকের ভাবনার কথা। এগুলো কারো জন্য কার্যকর কিনা হলফ করে বলা যায় না। লেট হওয়ার ভয়রোগটা সারাতে আরো অনেকের অনেক পদ্ধতি থাকতে পারে। আমার পদ্ধতি সবাইকে জানালাম। অনেকের সাথে আমার পদ্ধতি মিলে যেতে পারে। পরিশেষে বলব আমরা জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে স্ট্রেস বা টেনশন মুক্ত জীবন যাপন করার চেষ্টা করব। এতে আমরা আরো বেশী ভাল থাকব।

Thursday, June 30, 2016

অনেক পঙ্গুর উপার্জনের বাহন ব্যাটরী চালিত রিক্সা

আমি কুষ্টিয়ায় সাইকেলের দোকানে  ব্যাটারী চালিত ভ্যান গাড়ীর মটর খুঁজতে গেলাম। কারণ এধরনের মটর দিয়ে আমার একটা গভেষনার শখ জাগল আর তা ছিল। মটরকে ব্যাটারি দিয়ে চালনা করে বাগানে পানি দেয়া, আবার সেই ব্যাটারিকে সোলার প্যানেল দিয়ে চার্জ করা। আমি দোকানদারের সাথে রিক্সা ভ্যানের মটর, মূল্য ও ওয়ারেন্টি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করছিলাম। এক পর্যায়ে দোকানদার বলল, আমরা এ ধরনের মালামাল তেমন একটা বিক্রি করি না। মাঝে মাঝে কেউ চাপ সৃষ্টি করে চাহিদা করলে চেনা জানা মানুষদের জন্য এনে দেই। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, এটা নিয়ে এত লুকোচুরি কেন। সে জানাল, মাঝে মাঝে প্রশাসনের লোকজন মটর ভ্যান জব্দ করে ভেঙ্গে দেয়। সে আমাকে প্রশ্ন করল, এটা পরিবেশ বান্ধব, ধোয়া হয় না, এটা ব্যবহারে বাধা কোথায়? আমি তাকে জানালাম, এটার ব্যাটারি চার্জ করতে বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে আর সেই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে তৈল, কয়লা ও গ্যাস পুড়িয়ে। এটার ব্যাটারি তৈরি করতেও তৈল গ্যাস পোড়াতে হয়েছে। ফলে দেখা যায় এটা পরোক্ষভাবে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ এর জন্য বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড নি:স্বরন করছে ( কারণ তৈল, গ্যাস ও কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে), রিক্সা ভ্যানের ব্যাটারি সোলার প্যানেল থেকে চার্জ করা গেলে এটাকে পরিবেশ বান্ধব বলা যেত। আমাদের দেশে মনে হয় ব্যাটারি চালিত রিক্সাগুলো আজ অবৈধ ও অনুপযুক্ত হওয়ার একমাত্র কারণ অটো রিক্সাগুলো সাপ্লাই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চার্জ দেয়া হয় সে কারণে। আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরো শক্তিশালী হলে মনে হয় আমরা এ ধরনের ব্যাটারি চালিত বাহনগুলির বিরুদ্ধে কথা বলাতাম না। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত ২০৪০ সালে সমস্ত গাড়ী ইলেকট্রিক করার পরিকল্পনা নিচ্ছে। অথচ আমরা আমাদের উপকারী ভ্যানগুলি নিষিদ্ধ করছি। জুন মাসে বাংলাদেশের বহুল প্রচলিত একটি পত্রিকার বেশ কয়েকটি মানুষের ছবি দিয়ে লেখা ছিল পঙ্গুত্ব সত্ত্বেও তারা ব্যাটারি রিক্সা চালিয়ে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা উপার্জন করছে। সে টাকা দিয়ে আবার স্ত্রী সন্তানকে লালন পালন করছে। সেখানে আমাদের অবস্থান ব্যাটারি রিক্সার বিপক্ষে। আমাদের দেশে সোলার বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে আমরা অধিক পরিমাণ নবায়ন যোগ্য জ্বালানী আমরা আমাদের গ্রিডে যোগ করতে পারি। আমাদের দেশে মাঝে মাঝে মধ্যরাতেও লোড সেদিন হয়। আমি বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি রাতে ইজি বাইকের ব্যাটারি চার্জ দেয়ার কারণে রাত ১২টার পরেও অফ পিক আওয়ারে মাঝে মাঝে লোড সেদিন দিতে হয়।

ইজি বাইক ও ব্যাটারি রিক্সায় এখন কোন লাইসেন্স দেয়া হয় না। কারণ এগুলো বিদ্যুৎ নষ্ট করে। এক্ষেত্রে আমার মনে হয় এদের লাইসেন্সের আওতায় আনা প্রয়োজন। তাদের কাছ থেকে চারটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি চার্জ করার জন্য কমপক্ষে ৪০০ ওয়াটের প্যানেলের টাকা বিদ্যুৎ ব্যবহারের লাইসেন্সরে শর্ত হিসাবে নেয়া যেতে পারে। সরকার সমস্ত ইজি বাইক ও ব্যাটারি রিক্সার এককালীন টাকা দিয়ে সোলার পাওয়ার প্লান্ট তৈরি করতে পারে। সেই সোলার প্লান্ট দিনের অন্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস করবে ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বাড়াবে। আর এতে আমরা সহজেই অনুমান করতে পারি ইজি বাইক ও ব্যাটারি রিক্সা দিয়ে বিদ্যুৎ খেকো বাহনগুলো সবুজ বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও বড় বড় সোলার চার্জিং স্টেশনও বানিয়ে এধরনের ব্যাটারি চালিত গাড়ীগুলো ব্যবহার করা যাবে। ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। ইজিবাইক বাংলাদেশের সীমিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বলে সমস্যা। এছাড়া এই বাহনে মূলত নিরাপত্তাগত আর কোন সমস্যা আছে বলে জানা নাই। কারণ প্রায় সকল উন্নয়নশীল দেশেই চায়না হতে সরবরাহকৃত ইজিবাইক গুলো চলছে। অপরদিকে ব্যাটারি চালিত রিক্সার বড় সমস্যা হল পায়ে চালানো রিক্সাতে মটর চালিয়ে এটা গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। মনে হয় ভারসাম্যহীন অবস্থা। আমি একাধিকার গ্রামে যাতায়ত করেছি তেমন ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়নি। আমার কাছে মনে হয় মটর সাইক্যাল থেকে কম ঝুঁকিপূর্ণ। মনে হয় এর চেয়ে মটর সাইক্যাল অধিক এক্সিডেন্ট করে থাকে। ব্যাটারি চালিত রিক্সা বা ভ্যানগাড়ি যদি গতির জন্য এক্সিডেন্ট করে থাকে। এ বিষয়ে যদি পরিসংখ্যান থাকে তবে এর গতি কমানো ও ব্রেকিং সিস্টেম উন্নয়ন করে লাইসেন্স দিয়ে রাস্তায় চালানো যেতে পারে। গ্রামের রাস্তায় হাতে গোনা কদাচিৎ দুই একটি পায়ে চালিত রিক্সা দেখা যায়। এছাড়া অধিকাংশই ব্যাটারি চালিত রিক্সা। আমি গ্রামের রিক্সা ওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, পায়ে চালিত রিক্সা ব্যাটারি ও মটর রিক্সা থেকে কম বিনিয়োগ করে ব্যবহার করা যায় তদুপরি ব্যাটারি চালিত রিক্সার বিদ্যুৎ বিল আছে। তবে কিভাবে ব্যাটারি রিক্সা লাভজনক। সে উত্তর দিয়েছিল, এ যুগে মানুষ পায়ে চালিত রিক্সায় আস্তে আস্তে যাতায়ত করতে চায় না। দ্রুততায় অভ্যস্ত হয়েছে। ব্যাটারি রিক্সায় শারীরিক পরিশ্রম কম হওয়ায় পায়ে চালিত রিক্সা থেকে দ্বিগুণ ও বেশী দূরে খেপ মারা যায় তাই আয় বেশী। আমাদের দেশের বিদ্যুতের টান পড়ায় আমরা একে পরিবেশ বান্ধব না বলে এর অনেক দোষ ত্রুটি বের করে অনুপযোগী মনে করে বিরূপ অবস্থার মধ্যে রাখছি। বাস্তবতা হল সাধারণ মানুষ এ ধরনের বাহনে এত অভ্যস্ত হয়েছে এটাকে দূর করা বিশাল চ্যালেঞ্জ। এগুলোকে প্রতিস্থাপন করার জন্য বিদেশ থেকে অনেক টাকা খরচ করে অটো ট্যাক্সি বা ট্যাক্সি ক্যাব আমদানি করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ এ মুহূর্তে এতটা সামর্থ্যের মধ্যে আসেনি। এক সময় সামর্থ্য হলে ঘরে ঘরে প্রাইভেট কার থাকবে ও রাস্তায় ট্যাক্সি ক্যাব থাকবে। সেই দিনগুলো আর বেশী দূরে নয়। এখন আমাদের প্রয়োজন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, রিক্সা ও ভ্যান গুলো গভেষনা করে এর নিরাপত্তা ও ব্রেকিং সিস্টেম জোরদার করা। সাধারণ রিক্সা ও ভ্যানে প্রয়োজনে চালকদের মটর সাইকেলের মত হেলমেট পরিধান করানো যেতে পারে। যাত্রীদের সীট বেল্ট থাকতে পারে। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ করানো যেতে পারে। হয়তবা একযুগ পরে এদেশের অনেক কারই ইলেকট্রিক বা হাইব্রিড হয়ে যাবে। এ সময় নিরীহ ও উদ্যমী মানুষদের গতি নিয়ে আসা এই বাহনগুলো অপসারণের চিন্তা না করে আমরা দেশী প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আরো উন্নত করতে পারি। আমরা সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব যানবাহনগুলো আরো উন্নত করে নিরাপদ করার পদক্ষেপ নিতে পারি। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এগুলোকে ট্যাক্সের আওতায় এনে সেই টাকা বিনিয়োগে রাস্তা বর্ধিত করে আলাদা রিক্সার লেন করা যেতে যেতে পারে। আর এর জন্য প্রয়োজন আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গি পরিবর্তন করা। চায়না নির্ভর না হয়ে আমরা দেশীয় প্রযুক্তিতে অটোরিকশার বডি, মটর ও ব্যাটারি তৈরি করে এ শিল্পটিকে সম্পূর্ণ দেশীয় শিল্প হিসাবে উন্নয়ন করতে পারি। আমাদের প্রগতিশীল মনোভাব পাল্টে দিতে পারে আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি।