Pages

Thursday, September 29, 2016

ভাসমান সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট

পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো আজ একটা চিন্তায় বিভোর আর তা হল পরিবেশ বান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। পরিবেশ বান্ধব বিদ্যুৎ হল আগামীর যুদ্ধ। এই যুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়। সোলার হোম সিস্টেমে ৪৫ লক্ষ সোলার প্যানেল বাড়িঘরে বসিয়ে আমরা ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করে ফেলেছি। অথচ এখন সময় এসেছে শুধুমাত্র বিদ্যুৎহীন বাসাবাড়ির জন্যই কেবল সোলার বিদ্যুৎ নয় আমাদের কলকারখানা ও যানবাহন সমস্ত কিছুই সৌর বিদ্যুতে চালাতে হবে। এছাড়া মুক্তি নেই। ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে বাচাতে হলে বন্ধ করা প্রয়োজন কার্বন নি:স্বরনকারী ও পরিবেশ দূষণকারী বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো। আমাদের বাংলাদেশে মানুষ বেশী। প্রতি বর্গ কিমি পৃথিবীর ঘনবসতির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম সারিতে আছে। আমাদের জমির পরিমাণ কম। তবে কি আমরা পারব না সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে। অবশ্যই তা সম্ভব। বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম সৌর শক্তির প্রাপ্তির দেশগুলো সৌরশক্তি উৎপাদনে এতদূর এগিয়ে গেছে তা ভাবতে অবাক লাগে। অথচ আমাদের বাংলাদেশে ৩৬৫ দিনে ৩২০ দিনই ভালভাবে সূর্যের আলো ও তাপ পাওয়া যায়। তবে আমরা কোন যুক্তিতে পিছিয়ে থাকব। বাংলাদেশের জলাধারের পরিমাণ ৫.২৮ লাখ হেক্টর অর্থাৎ মোট আয়তনের ১১.৫৪ শতাংশ। এই জলাধারের যদি আমরা ২০% ব্যবহার করি তাহলে আমাদের ব্যবহৃত জলাধার হবে ১,০৫,৬০০ হেক্টর জলাধার বা ২,৬০,৮৩২ একর। প্রতি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন অনধিক ৫ একর তাহলে ২০% জলাধারে ৫২,১৬৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে যা কিনা ২০৫০ সাল অবধি বাংলাদেশের সম্পূর্ণ চাহিদা মিটাবে।

সোলার প্যানেলের বিদ্যুৎ আমাদের দিনের চাহিদা মেটাবে। রাতের বেলার বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর জন্য আমাদের দেশের জন্য বায়ু, সোলার কনসেনট্রেটর যথেষ্ট কার্যকর নয়। তবে আমরা রাতের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানী হিসাবে ধীরে ধীরে বায়ুমসের জ্বালানী সম্প্রসারিত করতে পারি। জলাধারের উপর সোলার বসালে জলাধারের পানি কম পরিমাণ জলীয় বাষ্পে পরিণত হবে। এতে জলাধারের পানি কম শুকাবে। পানির উপর প্যানেল থাকার কারণে পানি উদ্বায়ী জলীয়বাষ্প প্যানেলকে শীতল রাখবে। এতে প্যানেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৫% শতাংশ বেড়ে যাবে। ১৫% বেড়ে যাওয়ার কারণে এটি ভূমি অপেক্ষা জলাধারের স্থাপনের বাড়তি ব্যয় সংকুলান হয়ে যাবে। অর্থাৎ ১৫% সোলার প্যানেল কম কিনতে হবে। অপরদিকে ভাসমান সামগ্রী ক্রয় করতে হবে। সবচেয়ে মূল্যবান বিষয় হল আমাদের মূল্যবান ভূমির অভাব আমরা এর মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করতে পারি।
আমাদের দেশে লক্ষ লক্ষ রুফটপ খালী পড়ে আছে। আমরা সেসমস্ত রুফটপ সবার প্রথমে ব্যবহার করার জন্য কাজে লাগাব। আমাদের যখন রুফটপগুলোর স্থান শেষ হয়ে যাবে তখন আমরা ভাসমান সোলার মডেলে যেতে পারি। অনেক পুকুরে বিভিন্ন মাছ চাষ করার জন্য পানির অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য ঘূর্ণমান পাখা বা এ্যারোটর ব্যবহার করেন। তারা সহজেই অনেক দুর থেকে বৈদ্যুতিক লাইন না এনে পুকুরে বা জলাধারে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা দিয়ে এ্যারোটরের পাখা ঘুরাতে পারেন। বাংলাদেশের অনেক স্থান আছে যেখানে সুয়ারেজ রিজার্ভারের লেক আছে। সেসব স্থানে মাছ চাষ বা সব্জি চাষ করা যায় না এবং উচিতও নয়। মাছ চাষ করলে তাতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক রাসায়নিক বেশী পরিমানে থাকে। সেই স্থানগুলি ব্যবহারে আনা যাবে। অনেক নদীর বা স্থানে মাছ চাষ হয়না। নৌচলাচল হয় না সে স্থানগুলি ভাসমান সোলারের কাজে ব্যবহার করা যায়। চট্টগ্রামের ফয়েজ লেকের মত বিস্তীর্ণ পানির আধারের উপর ভাসমান সোলার প্যানেল লাগানো হলে তা চট্টগ্রামের মেগাসিটির বেশ খানিকটা বিদ্যুৎ ব্যবহারে অবদান রাখবে ও জাতীয় গ্রিডের উপর চাপ কমাবে।

জমির সংকটের কারণে ভাসমান সোলার প্যানেল একটি অপশন মাত্র। আমাদের বাংলাদেশের মত ছোট দেশে প্রথমে আমাদের পরিত্যক্ত স্থানগুলো বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনতে হবে। তারপর কাজে লাগাতে হবে আমাদের রুফটপগুলো। তারপর আমাদের জলাধারে ভাসমান ব্যবস্থায় আমরা যেতে পারি। তবে মাছ চাষ হয় না এরূপ জলাধারগুলো এখনই আমরা আমাদের কাজে লাগাতে পারি। গ্লোবাল ওয়ার্মিং ও কার্বন নি:স্বরন বন্ধ করার এ যুদ্ধে বিশ্বের সাথে আমার দেশ ও আমরা সকলে এখনই শরীক হতে পারি।  

Thursday, September 22, 2016

জনবসতিশূন্য তপ্ত মরুভূমি আজ সৌরশক্তির মহামূল্যবান খনি

২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে দেখতে পাচ্ছি সারা পৃথিবীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহারের আন্দোলন। খালী জায়গা বের কর আর সোলার পাওয়ার প্লান্ট তৈরি কর। উন্নত দেশগুলো টাকা ও সোলার প্লান্টের সামগ্রী হতে নিয়ে বসে আছে। শুধু জায়গা পেলেই সৌর প্লান্ট বসানোর জন্য প্রস্তুত। টাকা আছে। সমস্ত সামগ্রী মজুদ আছে। শুধুমাত্র  খোলা ভূমি চাই। কারণ হল, বন কাটা যাবে না। পাহাড় ধ্বংস করা যাবে না। বরফ গলানো যাবে না। এমন স্থান খুঁজতে হবে যেখানে প্রচুর সূর্যের আলো ও তাপ পাওয়া যাবে। কিন্তু ফসল নষ্ট করা যাবে না। সেই স্থানগুলি কি হতে পারে। আর কিছুই নয় সে স্থানগুলো হল দীর্ঘদিনের অবহেলায় পড়ে থাকা মরুভূমিগুলো। আজ সেই মরুভূমি কৃষিজমি থেকেও মহা মূল্যবান। কৃষি জমির একর প্রতি ফলন থেকে আরো মূল্যবান বিদ্যুৎ তৈরির কাজে ব্যয় করার সময় এসেছে। আর তা হল সৌরশক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার। আজ পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার অপরিহার্য। খাদ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি না হলে জমিতে ফসল অপেক্ষা সৌরশক্তি উৎপাদন অধিক লাভজনক।
সাহারা পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি। আজ সেই মরুভূমির দিকে তাকিয়ে আছে গোটা আফ্রিকা ও ইউরোপ। এই মরুভূমি এখন আফ্রিকার জন্য টাকার উৎস, সুপেয় জলের উৎস ও সর্বোপরি কর্মসংস্থানের উৎস। অপরদিকে ইউরোপের মত বিদ্যুৎ এর জন্য ক্ষুধার্ত মহাদেশের জন্য প্রতিবেশী আফ্রিকার সৌর বিদ্যুৎ স্বস্থিদায়ক বিষয়। মরুভূমিতে সোলার কনসেন্ট্রেটর অনেক বেশী উপকারী। সোলার কনসেন্ট্রেটর সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে। এটি অতি সহজ প্রযুক্তি। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি রাতের জন্য থার্মাল কনটেইনারে তপ্ত গলিত লবণ জমা করে। যখন সূর্যের আলো থাকে না তখন এই গলিত লবণ বিদ্যুৎ তৈরি করে। বিষয়টি সহজ ভাবে বুঝিয়ে বলছি। মনে করি ১০০ একর একটা জমিতে আপনি কয়েক হাজার বড় বড় আয়না স্থাপন করলেন। আয়না গুলোর মাঝে শত মিটার উঁচু একটি টাওয়ার স্থাপন করুন। সেই শত মিটার উঁচু টাওয়ারের উপর আয়নাগুলো হতে সূর্যের আলোর প্রতিফলন ফেলুন। টাওয়ারটির যেখানে সূর্যের আলো পড়ছে সেখানে পাইপের কয়েল বানিয়ে নিলে সেই পাইপের ভিতর দিয়ে তরল প্রবাহিত করলে তা অনেক অনেক উত্তপ্ত হয়। প্রথমে তরল লবণ ২৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা নিয়ে পাইপের মাধ্যমে টাওয়ারের মধ্য দিয়ে ৫২৯ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপে উত্তপ্ত হয়ে একটা ইনসুলেটেড কনটেইনারে জমা হয়। সেই ইনসুলেটেড কনটেইনারে গলিত লবণের ২৪ ঘণ্টায় মাত্র .৫ ডিগ্রি তাপ কমে। এই উত্তপ্ত গলিত লবণ পানির সংস্পর্শে পানিকে বাষ্পে পরিবর্তন করে। সেই বাষ্প বা স্টিমে জেনারেটরের চাকা ঘুরে আর বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে থাকে। বাষ্প তৈরি করার পর পুনরায় গলিত লবণ অন্য একটি রিজার্ভ কনটেইনারে ২৩০ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড তাপ নিয়ে চলে আসে। সেখান থেকে পুনরায় টাওয়ারে উঠে ৫২৯ ডিগ্রি পাওয়ার জন্য। এভাবেই চক্রাকারে চলমান থাকে পুরো প্রক্রিয়াটি। সূর্যতাপে ব্যাটারিতে জমা ব্যতীত রাতের বিদ্যুতের ব্যবস্থা ছিল না। এখন আর সেই সমস্যা নেই। সৌরতাপ উত্তপ্ত লবনে মজুদ রেখে রাতেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে সৌরশক্তির আধার মরুভূমিগুলোকে করেছে আরো বেশী উৎপাদনশীল। যেসব দেশে মরুভূমি আছে তাদের এসেছে সুদিন। তারা পাবে অফুরন্ত বিদ্যুৎ আর তার উপজাত হিসাবে সমুদ্রের পানিকে বাষ্প করে সুপেয় খাবার জল ও লবণ। সোলার কনসেট্র্রেটর পৃথিবীর অনেক দেশই তৈরি করেছে এবং এটা ক্রমান্বয়ে ব্যাপক হরে বাড়বে। বাংলাদেশ মরুভূমি না থাকলেও চর অঞ্চলে বা সমুদ্র উপকুলে ছোট আকারে করা যেতে পারে।
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে জার্মানি ২৬০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সৌরশক্তি থেকে উৎপাদন করে চলেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে জার্মানি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সৌর, বায়ু ও বায়ুমস থেকে উৎপাদন করবে ঘোষণা দিয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তারা তারও আগে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে। বাংলাদেশ ৪০০ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ২০১৬ সালে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ভূমির অপ্রতুলতা। পৃথিবীর ঘনবসতির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশে আজ পাহাড় সবুজ ফসলে মোড়া। অফসলী জমি বাংলাদেশে বিরল। বাংলাদেশে সোলার কনসেন্ট্রেটর ব্যবহার করার মত জায়গা কম। বাংলাদেশের জন্য অন্যতম ব্যবস্থা হল সোলার পিভি সিস্টেম। আর এগুলো লাগাতে হবে ছাদের উপর। ঘরের চালে। খালের উপর। রেললাইনের উপর। তৈরি করতে হবে পানির উপর ভাসমান সোলার সিস্টেম। জাপানের মত জমির ফসলের সাথে সোলার প্যানেলের শেয়ারিং ব্যবস্থাটি আমরা অনুসরণ করতে পারি। ইংরেজিতে “সোলার শেয়ারিং জাপান” দিয়ে ইন্টারনেটে সার্চ দিলে আমরা এ ধরনের অগণিত তথ্য, ছবি ও ভিডিও পাব।
আজ থেকে হয়ত ২০০৭/২০০৮ সালে যখন জ্বালানী তৈলের দাম অনেক অনেক বেশী ছিল আমরা সকলে শঙ্কিত ছিলাম পৃথিবীর জ্বালানীর ভবিষ্যৎ নিয়ে। তার পরই পৃথিবীব্যাপী নবায়ন যোগ্য জ্বালানীর ব্যবহার পৃথিবীর সামগ্রিক প্রেক্ষাপট পাল্টে দিল। ২০১৬ সালে পৃথিবী ব্যাপী জ্বালানী তৈলের মূল্য অনেক অনেক কমে গেল। মনে হয় ২০৩০ সালের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ী ও নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হলে ফসিল ফুয়েলের মূল্য আরো অনেক অনেক কমে যাবে। খনিজ তৈল আহরণকারী দেশগুলো খনিজ তৈল উত্তোলন লাভজনক না হলে তার উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিবে। আমরা সেই দিনটির অপেক্ষায় থাকব যখন পৃথিবীর সমস্ত দেশ তৈল পুড়িয়ে আর বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে না। পৃথিবীর বায়ু হবে আরো পরিষ্কার ও নির্মল।


Thursday, September 15, 2016

বৈদ্যুতিক গাড়ী ব্যতীত অন্যান্য গাড়ী অপরিষ্কার ও নোংরা

আজ থেকে একযুগ পর ঢাকার রাস্তায় যদি কোন যাত্রীবাহী বাস ও ট্যাক্সি পেট্রোল বা ডিজেল ব্যবহার করে চলাচল করে সেই গাড়ীর ধূয়া ও শব্দে আপনাকে সেই গাড়ীগুলো মনে হবে অপরিষ্কার ও নোংরা। আজ ২০১৬ সালের মাঝামাঝি দাড়িয়ে আছি যখন বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে শতভাগ টয়লেট স্যানিটারি করা হয়েছে। এখন গ্রামের মানুষকে যদি খোলা জায়গায় টয়লেট করতে বলা হয় ,তাদের কেউ স্বাচ্ছন্দ্যে নোংরা কাজটি করবে না। তেমনি যখন বৈদ্যুতিক চার্জ করা গাড়ী ব্যাপকভাবে প্রচলন হবে, তখন কেউই আর শব্দ সৃষ্টি করা আর ধোয়া সৃষ্টি করা গাড়ী পছন্দ করবে না। তখন যাদের পুরাতন গাড়ী থাকবে তারাও দেখা যাবে তাদের গাড়ীটি ইলেকট্রিক গাড়ীতে কনভার্ট করে নিচ্ছে।
ইলেকট্রিক গাড়ী ব্যবহারে আমরা শব্দ দূষণ ও বায়ু দূষণ থেকে পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পারব। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল আমরা গাড়ীগুলোকে গ্রিন এনার্জি ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত করতে পারব। আজ বিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে কয়লা, গ্যাস, পারমানবিক জ্বালানী, খনিজ তৈল ইত্যাদি মিশ্র জ্বালানী উৎস থেকে। আর বেশী দুরে নয় যখন অনেক দেশই সমস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সৌর, বায়ু ও বায়ুমস থেকে। আর এভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহারে পৃথিবীর পরিবেশ থাকবে আরো গ্রিন। কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের নি:স্মরণ বহুলাংশে কমানো যাবে। এখন গাড়ী গুলো যদি বিদ্যুতে চলা শুরু করে তবে আর বেশী দিন লাগবে না আমরা জ্বালানী তৈলকে গুড বাই বলতে পারব। আমাদের ধূয়াময় পরিবেশে শ্বাস নিতে হবে না।
ইলেকট্রিক গাড়ীর সবচেয়ে ভাল গুণ হল এটা ট্রাফিক জ্যামে পড়লে মটর বন্ধ হয়ে যায়। তাই শক্তি কম খরচ হয়। আস্তে চললে কম বিদ্যুৎ আর জোরে চললে বেশী বিদ্যুৎ খরচ হয়। অপরদিকে তৈলের গাড়ী স্টার্ট দিলেই তৈল খায়। বৈদ্যুতিক গাড়ী তৈলের গাড়ীর মত নিষ্ক্রিয় (আইডেল) চালনা করার প্রয়োজন হয় না।  বর্তমান সময়ে ব্যাটারি স্টোরেজ একটি বড় সমস্যা। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত উন্নত দেশে উৎপাদিত ইলেকট্রিক কার সমূহ ১০০ কি:মি: দূরত্বের বেড়িয়ার ক্রস করেনি। তাই গভেষনা চলছে। জাপান ডুয়েল কার্বন ব্যাটারি তৈরি করেছে যা এখনো (২০১৬ সালের মধ্য আগস্ট) মার্কেটে আসেনি। এ ধরনের ব্যাটারি বাজারে আসলে ব্যাটারি স্টোরেজের সম্পূর্ণ চিত্রটি পাল্টে যাবে বলে ধারনা করা যায়। এ ধরনের ব্যাটারি বর্তমান লিথিয়াম আয়ন থেকে পাঁচ গুন বেশী চার্জ ধরে রাখতে পারে। পাঁচগুণ দ্রুত চার্জ করা যাবে। কার্বন দিয়ে তৈরি ও পরিবেশ বান্ধব। রিসাইক্যাল না করলেও পরিবেশের সাথে মিশে যাবে। এই ব্যাটারি ইলেকট্রিক কারের জন্য বিপ্লব নিয়ে আসবে। আরো বেশী অধিক দুরে যাতায়াত করা যাবে। শহর এলাকায় বাসা থেকে অফিস আর অফিস থেকে বাসা এভাবে যারা যাতায়ত করেন তাদের জন্য ইলেকট্রিক কার অত্যন্ত ভাল অপশন। কারণ বাসায় রাতে চার্জ করবে আর অফিস চলাকালীন সময়ে চার্জ করবে। যারা কার নিয়ে দুরে যাবে তারা হয়তবা হাইব্রিড অপশনের গাড়ী ব্যবহার করবে যাতে তৈল ও বিদ্যুৎ দুইটি ব্যবস্থা থাকবে। তবে ব্যাটারির দ্রুত গতির চার্জিং ব্যবস্থা চালু হলে স্থানে স্থানে গ্যাস রিফিলের মত চার্জ করে অনেকদূর যাওয়া যাবে। সিএনজি গ্যাসে একটি সাধারণ সিলিন্ডার দিয়ে সাধারণত একটি মাইক্রোবাস ৮০/১০০ কি:মি: যাতায়ত করে। কিন্তু দেখা যায় এ দূরত্ব বাড়ানোর জন্য প্রায়শই মাইক্রো বাসগুলো একাধিক সিলিন্ডার ব্যবহার করে। একই ভাবে ইলেকট্রিক কারে বড় বড় একাধিক ব্যাটারি ব্যবহার করে গাড়ীর একই চার্জের ভ্রমণ দূরত্ব বাড়ানো যেতে পারে।
ইলেকট্রিক কার পরিবেশ বান্ধব। তবে এটা পরিবেশের জন্য আরো নিরাপদ হবে যদি এটার চার্জিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে সৌর শক্তির করা যায়। এতে তা শতভাগ পরিবেশ বান্ধব হবে। অনেক দেশে সোলার চার্জিং এর জন্য কার পোর্ট তৈরি করে তা সফলভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০১৬ সালের মধ্যে কয়েকটি অটোরিকশার জন্য চার্জিং স্টেশন চালুর পরিকল্পনা হয়েছে এবং কয়েকটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।
আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত কয়েক বছর পর তাদের যাতায়ত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভাবে বৈদ্যুতিক করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ভারতে বৈদ্যুতিক ট্রেন অনেক আগে থেকেই চলছে। এত বড় ট্রেন যদি বিদ্যুৎ চলমান রাখা যায় তবে ছোট ছোট কার কোন বিষয়ই নয়। লক্ষ লক্ষ গাড়ীতে ডিজেল পোড়ার চেয়ে কেন্দ্রীয় ভাবে বড় পাওয়ার প্লান্ট ও বড় সোলার প্লান্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তার দ্বারা গাড়ী চালনা অনেক বেশী পরিবেশ বান্ধব।

আমাদের সামনে সেই দিনটি বেশী দূরে নয় যখন আমরা সকলেই সোলার চার্জড বৈদ্যুতিক বাহন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হব।

Thursday, September 8, 2016

নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের জন্য দ্বৈত অপটিক্যাল লাইন

আমরা যারা ঢাকার বাইরে থাকি তারা প্রায় কিছু সেবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে পারি। তা হল, ইন্টারনেট নাই? কারণ অপটিক্যাল ফাইবারের তার কাটা পড়েছে। ক্যাবল টিভি নাই, কারণ ঝড়ে গাছ পরে অপটিক্যাল লাইন ছিঁড়েছে। ল্যান্ড টেলিফোন কানেকশান নাই। ফ্যাক্স চলছে না। কারণ অমুক জায়গায় অপটিক্যাল লাইন কাটা পড়েছে। ইত্যাদি ইত্যাদি। রাজধানীর বাইরে বসবাসরতদের নিত্য নৈমিত্তিক সমস্যা।
তাহলে এর থেকে উত্তরণের উপায় কি? রেডিও লিংক। রেডিও লিংক বিকল্প ব্যবস্থা হতে পারে কিন্তু সাশ্রয়ী কোন উপায় নয়। কারণ সমপরিমাণ ব্যান্ডউইথ ব্যবহারে অনেক বেশী খরচ করতে হবে। অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে টানা লাইন সাশ্রয়ী ও দীর্ঘমেয়াদী। কিন্তু ঘন ঘন লাইন কেটে মাসে একাধিক দিন ইন্টারনেট না থাকাটা অত্যন্ত দূ:খজনক একটি ব্যাপার। এখনকার দিনে ইন্টারনেট না থাকলে, ফ্যাক্স না থাকলে আর্থিক ভাবে অনেক ক্ষতি হয়।
তাহলে কি উপায়? আমাদের সাশ্রয়ী ও সহজ যোগাযোগের জন্য অপটিক্যালেই থাকতে হবে। আমাদের শুধুমাত্র একাধিক অপটিক্যাল লাইন টানতে হবে। একটা কাটা গেলে বা ফেল করলে আরেকটা বিকল্প লাইন যেন ব্যবহার করা যায়। ওভারহেড বা পিলার দিয়ে লাইন টানলে তাতে খরচ কম। কিন্তু ঝড় বা অন্যান্য কারণে সহজে ছিঁড়ে যায় বা নষ্ট হয়। অন্যদিকে মাটির নীচ দিয়ে নেয়া অপটিক্যাল লাইন সহজে নষ্ট হয় না। তবে রাস্তার পাশে খোঁড়াখুঁড়িতে লাইন কাটা পড়ে। তবে লাইনগুলো যথাযথভাবে মার্কিং করা থাকলে লোকজন হয়ত সহজে ভূগর্ভস্থ অপটিক্যাল লাইনগুলো কেটে ফেলতে পাড়ত না।
অপটিক্যাল ফাইবারে আমরা যে পরিমাণ তথ্য পরিবহনে ব্যবহার করছি সেই পরিমাণ তথ্য আমরা অনেক অনেক খরচ করেও সমপর্যায়ে নিতে পারব না। আমরা কেবলমাত্র ইমার্জেন্সী হিসাবে অল্প স্বল্প তথ্য স্যাটেলাইট বা অন্যান্য মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারব। বিটিএস দিয়ে ছোট এলাকার মধ্যে উচ্চ গতির ইন্টারনেট দিতে পারলেও আমরা বিটিএস থেকে বিটিএসএর উচ্চগতির তথ্য প্রবাহের জন্য পুনরায় অপটিক্যাল সংযোগের উপর নির্ভর করতে হবে।
এখনকার বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রবাহের জন্য অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগই হল সবচেয়ে কার্যকরী ও দ্রুত পদ্ধতি।
মাটির নীচের লাইন কাটা পড়বে আর মাটির উপরের লাইন ছিঁড়ে যাবে। এতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে দিনের পর দেন ইন্টারনেট না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ব্যবসা ও আউটসোর্সিং কার্যক্রম। তাহলে উপায় কি? আমাদের দেশকে কানেকটিবিটি দেয়া আন্তর্জাতিক অপটিক্যাল ফাইবার লাইন সাগরের তলদেশ দিয়ে নেয়া হয়েছে আর সেই লাইন দ্রুত মেরামতও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রয়েছে টহল দল। একাধিক দল মহাসাগরের অপটিক্যাল লাইন মেরামতের জন্য টহল দিয়ে যাচ্ছে।
আমাদের দেশে বড় বড় জেলার অপটিক্যাল লাইনগুলো কাটা পড়লে দ্রুতই মেরামত হচ্ছে কিন্তু তাতেও ৬/১২ ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার জন্য আমরা অপটিক্যাল কাটার স্থানটি দ্রুত বের করতে পারি এতে শুধু নির্ধারিত স্থানে লোক পাঠিয়ে কাটা স্থান জোড়া দিলেই চলবে।

তাহলে ৬/১২ ঘণ্টা মেরামতের সময়টা ব্যাকআপ দিলেই চলবে। কিভাবে এটা করা যাবে? যে  কোন প্রযুক্তি সচেতন ব্যক্তির কাছে তার উত্তর আছে। একাধিক লাইন একাধিক পথে বসাতে হবে। কিছুদূর পর পর তাদের মাঝে আন্ত:সংযোগ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। কুষ্টিয়া জেলার ইন্টারনেটের কুষ্টিয়া-পাবনা সংযোগ কাটা পড়লে কুষ্টিয়া ঝিনাইদহ যশোরের সাথে সংযোগ হবে। যশোর সংযুক্ত থাকবে নতুন পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকার সাথে। আবার যশোরের সংযোগ কাটা পড়লে যশোর সংযোগ পাবে যমুনা ব্রিজ দিয়ে ঢাকার সাথে পাবনা-কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ -যশোর এইপথে। আন্ডারগ্রাউন্ড লাইনের পাশাপাশি ক্যাবল টিভি অপারেটরদের  পিলার ধরে টানা ওভারহেড লাইনের মাধ্যমেও সংযোগ করা যায়। মনে করি পাবনা কুষ্টিয়া লাইন কাটা পড়ল। এতে আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন ঠিক হতে হতে বিকল্প লাইন ঝিনাইদহ যশোরের মাধ্যমে সংযোগ পাবে। ঝিনাইদহ-যশোরের লাইন বিকল হলে ক্যাবল অপারেটরের  অব্যবহৃত ফাইবারের মাধ্যমে সীমিত আকারে কুষ্টিয়া-পাবনা ইন্টারনেটের অপটিক্যাল লাইন চালু হবে। সীমিত আকারে এ জন্য বললাম ক্যাবল অপারেটরদের অপটিক্যালের কিছু সংখ্যক অব্যবহৃত তন্তু রিজার্ভ রেখে কাজটি করা যেতে পারে। অপরদিকে ক্যাবল অপারেটরদের লাইন বিচ্ছিন্ন থাকার মত দুর্দিনে তাদের আন্ডারগ্রাউন্ড ফাইবার দিয়ে সহায়তা দেয়া যেতে পারে। ক্যাবল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সকল সংস্থার কুইক রিয়েকশন টিম অবশ্যই রাখা প্রয়োজন। অপটিক্যাল ফাইবারের সংযোগ নিয়মিত চালু রাখায় এখন আর কোন সংস্থার খামখেয়ালীর কোন বিষয় নয়। এগুলো তথ্যের চালিকা শক্তি ও তথ্য প্রবাহের লাইফ লাইন। এখন আমাদের দেশ যতই উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে ততই আমাদের জন্য একাধিক পথে ও একাধিক পদ্ধতিতে বিকল্প  অপটিক্যাল ফাইবার চালু করতে হবে। আমি আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর ছোট্ট একটি ক্যাম্পাসে আন্ডারগ্রাউন্ড ও ওভারহেড দুইভাবে ক্যাম্পাসে অপটিক্যাল টানিয়েছি। এতে ক্যাবল টিভি, ইন্টারনেট ও সিসি ক্যামেরার সংযোগ যে কোন উপায়ে বিচ্ছিন্ন হলে তা দ্রুত চালু করা যাচ্ছে শুধুমাত্র কানেকশন বদল করলেই হল। মুল প্রবাহটা বা প্রাইমারী মাধ্যম হল আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন। আন্ডারগ্রাউন্ড সহজে সমস্যা করে না। আর সমস্যা করলে সারতেও অনেক সময় লাগবে। আন্ডারগ্রাউন্ড মেরামতের সময়টা ব্যাকআপ দেবে ওভারহেড লাইন। ওভারহেড লাইন সব সময় ব্যবহার নাহলেও তা কম ইম্পরট্যান্ট দুই একটি সিসি ক্যামেরা জাতীয় কাজে ব্যবহার  করতে হবে যেন লাইনটি নষ্ট হলে সাথে সাথে মেরামত করে সব সময় চালু রাখা যায়। নচেৎ এক সময় এমন হতে পারে আন্ডারগ্রাউন্ড অপটিক্যাল লাইন নষ্ট হয়েছে আর ওভারহেড বিকল্প লাইনও নষ্ট হয়ে আছে। ওভারহেড লাইন যেহেতু দ্রুত মেরামত করা যায় তাই নষ্ট হলে তা দ্রুত মেরামত করে রাখতে হবে আন্ডারগ্রাউন্ড লাইনের বিকল্প হিসাবে। এখন সময় এসেছে আমাদের যে সমস্ত লাইন অপটিক্যালে ব্যবহৃত হচ্ছে তার একাধিক পথে একাধিক অপটিক্যাল লাইন টানতে হবে । এছাড়াও আন্ডারগ্রাউন্ড লাইনের পাশাপাশি আন্ডারগ্রাউন্ড লাইনও টানতে হবে। আসুন আমরা অপটিক্যাল ফাইবার লাইনের বিষয়ে সময় উপযোগী ব্যবস্থাপনা করি। এতেই রয়েছে আমাদের দেশের তথ্য প্রযুক্তির সামগ্রিক উন্নয়ন ও মঙ্গল।

Thursday, September 1, 2016

ফুরিয়েছে ইন্টারনেট হতে ডাউনলোড করে হার্ডডিস্কে স্টোর করা

আমি আজ থেকে একবছর আগে আমার কাছে জমানো ছবি, অডিও ও ভিডিও গান এবং ইন্টারনেট থেকে ডাউন লোড করা সমস্ত পিডিএফ ফাইল ইত্যাদি অনেক কিছু মুছে দিয়ে আমার পুরাতন ল্যাপটপের হার্ডডিক্স খালি করে দিলাম। আগে অনেক বড় বড় স্টোরেজ সহ হার্ডডিস্ক নিয়ে কম্পিউটার ব্যবহার করতাম। এখন কোন কিছু ইন্টারনেট থেকে ডাইন লোড করে হার্ডডিস্কে নিয়ে সেইভ করার কথা আর তেমন মনে পড়ে না। কারণ একটাই ইন্টারনেটের ব্যাপক ব্যবহার। ইন্টারনেট ছাড়া আমরা হয়ত আমাদের সময়কে চিন্তা করতে পারিনা। এখন ইন্টারনেট না প্রাপ্তির ভাবনা অনেক কমে গেছে। হাটে মাঠ ঘাটে মোবাইল অপারেটররা ইন্টারনেট রাখবেই। কারণ এখন ভয়েজ কল থেকে ডাটা ব্যবহারে মোবাইল অপারেটরদের আয় বেশী। ইন্টারনেট সকল স্থানে প্রাপ্য হলে ইন্টারনেট থেকে ডাউন লোড করে পিডিএফ ফাইল, অডিও, ভিডিও ও ছবি ফাইল হার্ডডিস্কে সেভ করে জমিয়ে রাখার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। কারণ এখন প্রায় সব স্থান থেকে থ্রিজি ইন্টারনেটের কারণে যথেষ্ট ভাল গতির ইন্টারনেট বাংলাদেশের প্রায় সব স্থান হতে পাওয়া যায়। আর থ্রিজি ইন্টারনেট মানেই ভাল গতি ও বাফার ছাড়া ইন্টারনেট। এ কারণে ইন্টারনেট হতে কোন কিছু ডাউন লোড করা ও স্টোর করে ব্যবহার করা দিনের পর দিন কমে যাচ্ছে। অনেক সময় হার্ডডিস্কে কপি করে হার্ড ডিস্কে খোজার চেয়ে গুগলে খুঁজে নেয়া মনে হয় আরো সহজ। ইউটিউবে কোন ফাইল ডাউনলোড করা যত না যন্ত্রণার তার চেয়ে অনলাইনে দেখা অনেক সহজ। আপনি ১০০০টি ভিডিও আপনার হার্ডডিস্কে কপি করে রাখলেন। কোন নির্দিষ্ট গান খুঁজে পেতে আপনার যে সময় লাগবে তার চেয়ে দ্রুত আপনি ইউটিউব থেকে খুঁজে পাবেন। আবার আপনার কাঙ্ক্ষিত গান আপনার মজুদ করা একহাজার গানের মধ্যে আছে কিনা আপনার পক্ষে মনে রাখাও কঠিন। আর দিনের পর দিন ভিডিও অডিও কোয়ালিটির উন্নতি হওয়ায় এখন স্টোর করে লাভ নাই লেটেস্ট ভিডিও ও অডিও ডাউনলোড করাই এখন বুদ্ধিমানের কাজ। তবে কোথাও থ্রিজি ইন্টারনেট কানেকশন না থাকলে বা ব্রডব্যান্ড না থাকলে ইন্টারনেট হতে ফাইল ডাউন লোডের প্রয়োজন হতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে ঘন ঘন প্রয়োজন এরূপ কোন ফরমেট বা তথ্যাদি রাখা যেতে পারে। অফিসের সকল ফাইল যা অনলাইনে রাখা নিরাপদ না।  সেক্ষেত্রে সেগুলো স্টোর করা যেতে পারে। এছাড়া ইন্টারনেট হতে কোন ফাইল সেভ করার প্রয়োজন দেখি না। এমনকি ইম্পরট্যান্ট ফাইল বরং ক্লাউডে আপলোড করে রাখাটা নিরাপদ। নিজের ব্যক্তিগত ডকুমেন্ট স্ক্যান করা কপিও অনলাইন স্টোরেজ কপি করে রেখে দিলে তা সহজে যে কোন প্রয়োজনে যে কোন স্থান হতে ব্যবহার করা যায়। অনলাইন স্টোরেজ ড্রপবক্স ছাড়াও আরো অনেক মাধ্যম ও সার্ভিস আছে আমরা আমাদের জন্য সুবিধা জনক সার্ভিসটি ব্যবহার করতে পারি। আমরা ইন্টারনেটে কোন গুরুত্বপূর্ণ ফাইলও আমরা আমাদের অনলাইন স্টোরেজ বা ক্লাউডে সেভ করতে পারি।
আমাদের অনেক প্রয়োজনীয় ফাইল হার্ডডিস্ক বা ল্যাপটপে কপি করে রাখলে তা নষ্ট হতে পারে বা হারিয়ে যেতে পারে। তাই অনলাইন স্টোরিং একটি ভাল  অপশন। অনেক সময় বাসা বা অফিসে সার্ভিসিং এর লোকজন ও বাচ্চারা ল্যাপটপ নাড়াচাড়া করে। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু সেভ না করাই ভাল। প্রয়োজনীয় কিছু থাকলে তা ক্লাউডে অর্থাৎ অনলাইন স্টোরেজে রাখা ভাল। যে সব বিষয় সাধারণ ক্যাচ ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে পাওয়া যায় সে সব কনটেন্ট ল্যাপটপে বা ডেস্কটপে সেভ করার প্রয়োজন নেই। মোবাইলের স্টোরেজে তো সেভ করার প্রশ্নই উঠে না। মোবাইল স্টোরেজ সাধারণত লিমিটেড হয়।
ইন্টারনেট ব্যাপক প্রাপ্তির আগে আমরা প্রচুর সিডি জমাতাম। আবার মোবাইল হার্ডডিস্কে সংরক্ষণ করতাম। এখন মনে হয় তার প্রয়োজন নেই। বই পড়া আমার শখ। এই শখের জন্য আমি অনেক অনেক পিডিএফ ফাইল স্টোর করতাম। এখন দেখি আমার স্টোর থেকে বের করতে বা খুঁজতে যত সময় লাগবে তার চেয়ে দ্রুত গতিতে ইন্টারনেটে সার্চ করে বের করা যায়। তাই পিডিএফ বই জমানো ছেড়ে দিয়েছি। মাঝে মাঝে দেখা যায় কোন কোন জমানো কনটেন্ট ল্যাপটপে বছরের পর বছর ব্যবহার ছাড়া আছে। তাই যে সব কনটেন্ট ব্যবহার ছাড়া জমা আছে তা মুছে দেয়া অত্যাবশ্যক। তথ্যের নিরাপত্তায়ও এখন কোন কিছু ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা মোবাইলে স্টোর করা ঠিক না। আপনি হয়তবা বেখেয়ালে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট ডাউনলোড করলেন। সেই ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা স্মার্টফোন সার্ভিস সেন্টারে বা হারিয়ে গিয়ে  অন্য কারো হাতে পড়ল এতে আপনার সন্মান হানি বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেহাত হওয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। তাই কোন কিছু স্টোর করা প্রয়োজন নেই। অনলাইনে সব আছে কেন আমরা স্টোর করব। তাই এখনকার স্লোগান হতে পারে “ব্যক্তিগত গ্যাজেটে নো ডাটা স্টোরেজ”
নিজের তৈরি কোন লেখা লেখি বা প্রেজেন্টেশন যা অনলাইনে নাই তা স্টোর করা যেতে পারে। তবে এগুলো ড্রপ বক্সে বা এজাতীয় অনলাইনে রাখলে ভাল যাতে দ্রুত যে কোন সময় যে কোন স্থান হতে ব্যবহার করা যায়। এমনকি তা অন্যদের সাথেও শেয়ার করা যাবে খুব সহজে। ইমেইল, ভাইবার ও এসএমএস যে কোন মাধ্যমে লিংকটা পাঠাতে পারলেই কাজ হয়ে যাবে।

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা সিডি কেনা প্রায় ছেড়ে দিয়েছি। আমরা মোবাইল হার্ডড্রাইভ ক্রয় করে তা ব্যবহার করছিলাম। এখন তারও প্রয়োজন কমে আসছে। তথ্যের নিরাপত্তার দিক দিয়ে চিন্তা করলে নো স্টোরেজই গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা। আসুন আমরা ডাটা স্টোরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ ছেড়ে দিয়ে অনলাইনে অভ্যস্ত হই।

Friday, August 26, 2016

রিয়াল ভিউ বাংলাদেশী ডাইরেক্ট টু হোম টিভি


আজ থেকে প্রায় ৮/১০ বছর আগে ক্যাবল টিভিতে ডিশটিভি, এয়ারটেল, ভিডিওকন ইত্যাদি ডাইরেক্ট টু হোম   (ডিটিএইচ) টিভির বিঞ্জাপন দেখে দেখে ভাবতাম কবে আমাদের দেশেও এগুলো আসবে আমাদের বাংলাদেশের চ্যানেল নিয়ে। এটা অনেক দেরীতে হলেও আমাদের দেশে ডিটিএইচ চালু হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান এটা চালু করেছে। ২০১৪ সালে স্মার্ট টিভি কেনার পর থেকেই পরিষ্কার ও ঝকঝকে ছবি দেখার জন্য ডিটিএইচ খোজ করছিলাম। আমাদের অনেক সৌখিন ব্যক্তিরা স্মার্ট টিভিতে এইচডিএমআই ক্যাবল(অডিও ও ভিডিও ইনপুটের মত ইউএসবি ক্যাবলের অনুরুপ উন্নত ইনপুট ডিভাইস)দিয়ে অনেক আগে থেকেই হয়ত পেমেন্টে ভারতীয় চ্যানেল দেখতেন। ভারতের ডিটিএইচ এর মার্কেট বেশ প্রসারিত ও প্রতিযোগিতা সম্পন্ন।
যদিও পোস্টিং এর চাকুরী তথাপিও আমার দুই ছেলের আগ্রহের কারণে বিশেষ করে বিভিন্ন খেলা দেখার ছুতায় আমাকে বাংলাদেশের নতুন চালু হওয়া ডিটিএইচ কেনার আর্জি করে। আমার অনেক দিনের শখ স্মার্ট টিভিতে পরিষ্কার ছবি ও শব্দে টিভি দেখা। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় ক্যাবল অপারেটররা যতই ভাল কানেকশন দেয় না কেন তাতে সমস্যা থেকেই যায়। এছাড়া মাঝে মাঝে ক্যাবল কাটা যাওয়ার কারণে ডিশ লাইন বন্ধ থাকে। কুষ্টিয়ার মিরপুরে ১৫০ টাকা মাসে দিয়ে বাসায় ডিশ লাইন দেখছি। রিয়াল ভিউ ডিটিএইচতে ৩০০ টাকা দিতে হবে। এককালীন ৭৫০০ টাকা খরচ। অনেক বড় খরচের ধাক্কা। তবে সমস্ত খরচ পুষিয়ে যায় যখন ঝকঝকে ছবি ও পরিষ্কার শব্দে মনটা ভরে যায়। একবার ডিটিএইচতে পরিষ্কার ছবি ও শব্দে অভ্যাস হলে পরে সাধারণ ক্যাবল টিভি দেখাটা কষ্টকর। এইচডি চ্যানেলগুলো অসাধারণ দেখা যায়।
টিভি চ্যানেলের ট্রান্সমিশন এত ভাল মনে হয় ঢাকা ব্যতীত অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়। ঢাকার অপারেটররা সেটটপ বক্স দেয়া শুরু করেছে ভাল ছবি দেখার জন্য। তবে সেটটপ বক্স তিন হাজার পাঁচশত টাকায় কিনে মাসে মাসে ৩০০ টাকা খরচ করার চেয়ে আরো কিছু টাকা খরচ করে ছোট ডিশ লাগিয়ে নিয়ে ডিটিএইচ ব্যবহার করাটা একটা ভাল আইডিয়া হতে পারে। ক্যাবল অপারেটরদের মেনটেন্যান্সগত সমস্যা থাকে আর তদুপরি তারা সহজে অভিযোগ নেয়না বা লাইন ভাল রাখতে সদা প্রস্তুত নয়। এই হিসাবে ছোট ডিশ ঝড় বৃষ্টিতে তেমন উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। ডিশটা না উল্টালে বাকী কোন কিছুই নষ্ট হওয়ার নয়। ক্যাবলের সেটটপ বক্সের মত এটিও ভালই চলবে।
ভারত সরকার বেশ কয়েকমাস হল (২০১৬ সালের মার্চ/এপ্রিল) ক্যাবল টিভি অপারেটরদের জন্য সেটটপ বক্স বাধ্যতামূলক করেছে। এটার মূল কারণ হতে পারে যথাযথ ভাবে সরকারের রেভিনিউ পাওয়া। সেটটপ বক্সের সার্ভারে সব তথ্য থাকে। তাই ক্যাবল অপারেটরের লাইন সংখ্যা ও সরকার কর্তৃক ভ্যাট আদায় করাটা সহজ এবং ক্যাবল অপারেটররা আইটি ও ভ্যাট ফাকি দিতে পারে না। আমাদের দেশে কয়েক বছর পর এগুলো চালু হবে তা নি:সন্দেহে বলা যায়। তবে যতদিন পর্যন্ত না অন্যান্য সেটটপ বক্স চালু হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের ডিটিএইচ রিয়েল ভিউ লাগানোর আইডিয়াটা মন্দ নয়। যারা ঢাকার বাইরে চাকুরী বা অন্য কোন কারণে অবস্থান করেন তাদের জন্য ডিটিএইচ অনন্য একটি অপশন।
২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি পার্বত্য চট্টগ্রামে থাকাকালীন ক্যাবল টিভির ২৫/৩০ টি চ্যানেল দিয়ে ক্যাবল লাইন করে নিয়েছিলাম। তখন ভাল চ্যানেল ও পে চ্যানেল দেখাটা ছিল বিশাল খরচের ধাক্কা। ৩০০ টাকা মাসিক দিয়ে এখন শতাধিক চ্যানেল দেখা সম্ভব। এতে দেশী সকল চ্যানেলের পাশাপাশি অগণিত পে চ্যানেল পাওয়া যাচ্ছে। এখন যারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বা অন্য কোন রিমোট স্থানে চাকুরী করে তাদের জন্য বাংলাদেশের রিয়াল ভিউ ডিটিএইচ ভাল সমাধান। বাংলাদেশের সকল স্থানে মোবাইল নেটওয়ার্কের কারণে থ্রিজি ইন্টারনেট কানেকশন পৌঁছে গেছে। এখন রিয়াল ভিউ এর মাধ্যমে রাজধানী বা বড় শহরের মত ক্যাবল টিভির চ্যানেলও পৌঁছে গেল। ঢাকার বাইরে চাকুরী বা সেটল হতে আর কোন বাধা থাকল না। এখন রাজধানীর বাইরে প্রয়োজন ভাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল। সেটাও এক/দুই যুগের মধ্যে পাওয়া যাবে। আমি আশাবাদী।
আমার মনে হয় আরো কিছু কোম্পানিকে ডিটিএইচের লাইসেন্স প্রদান করা প্রয়োজন। তাহলে প্রতিযোগিতা থাকবে এবং গ্রাহকরা ভাল সার্ভিস পাবে। একটি কোম্পানি মনোপলী করে ব্যবসা করলে গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা হবে না। রিয়াল ভিউ এর ওয়েব সাইট থেকে এদের বিষয়ে অনেক কিছু জানা যাবে। “Realvubd” লিখে সার্চ দেয়া যেতে পারে। অথবা ভিজিট করতে পারেন: https://realvubd.com


রিয়াল ভিউ সেটটপ বক্স ও এলএনবি আরো উন্নত হওয়া প্রয়োজন। প্রত্যেক জেলায় এদের ডিলার থাকা প্রয়োজন। কারণ প্রতি জেলায় এখনও ডিশের সামগ্রী বিক্রতা আছে। তাদের ডিলারশীপ দেয়া প্রয়োজন। আমি কুষ্টিয়াতে লাগানোর জন্য নিকটবর্তী জেলা রাজবাড়ী থেকে লোক এনে লাগাতে হয়েছে। এতে দুর থেকে লোক আনার ভাড়ার খরচ ও খাবার খরচ দিতে হয়। সেনাবাহিনী ও বিজিবিতে অনেকেই রিমোট ক্যাম্পে থাকে। রিমোট ক্যাম্পে লাগাতে হলে নিজস্ব টেকনিশিয়ানদের ট্রেনিং দিলে তারাই সংযোগ দিতে পারবে। অন্যথায় ডিশ বসানোর জন্য বেশ কিছু টাকা খরচ করে ফেলতে হবে। এই সিস্টেমের মাসিক বিল ৩০০ টাকা প্রিপেইড মোবাইলের মত মাসের প্রথমে পরিশোধ করতে হয়।
সেটটপ বক্সটিতে কোন অনুষ্ঠান সময়মত দেখতে না পারলে পেন ড্রাইভে রেকর্ড করে পরে দেখা যায়। এই অপশনটি আমার জন্য বেশ কাজে লেগেছে। কোন কারণে বাইরে গেলে নির্দিষ্ট চ্যানেলে রেকর্ড চালু করে যাই। ৮ জিবি পেন ড্রাইভে প্রায় ৫ ঘণ্টা ব্যাপী এইচডি চ্যানেল রেকর্ড করা যায়। এর সেটটপ বক্সটি ১২ ভোল্টে চলায় সোলার সিস্টেম বা ১২ ভোল্টের যে কোন ব্যাটারি দিয়ে চালানো যাবে। রিমোট ও নন গ্রিড এলাকায় এলইডি টিভির সাথে ১২ ভোল্টের ব্যাটারি দিয়ে  এই ডিটিএইচ সহজে ব্যবহার করা যাবে। একটা সমস্যা আছে অল্প বৃষ্টিতে ছবি আসে বেশী বৃষ্টি হলে ছবি আসে না। এটা এটা বড় সমস্যা নয় কারণ আমাদের দেশের মুষলধারে বৃষ্টি দীর্ঘ সময় থাকে না।

পরিশেষে আমার কাছে নতুন হিসাবে এর পারফরমেন্স অনেক ভাল মনে হয়েছে। আশা করি অনুন্নত ও দূগর্ম এলাকার জনগোষ্ঠীর জন্য চমৎকার একটি ব্যবস্থা হবে। বদলীর চাকুরী যারা করেন তাদের জন্য উন্নত ছবি ও শব্দের চ্যানেল পাওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়া গেল। বদলীর সাথে সাথে ডিশ আর সেটটপ বক্স সাথে রাখলেই হল। আমার এ লেখাটি আশা করছি দূগর্ম এলাকায় অবস্থানকারীদের উপকারে আসবে।

Thursday, August 25, 2016

নির্দিষ্ট দিন ও ক্ষণে অনলাইন প্রকাশনা

আমরা যারা পেশাদার লেখক নই কিন্তু মনের তাগিদে লেখালেখি করি। তাদের লেখায় একটা ধারাবাহিকতা আনা প্রয়োজন রয়েছে। আমরা যদি কোথাও লিখি বা কোন ওয়েব সাইটে প্রকাশ করি তবে আমাদের প্রকাশনা হতে হবে নিয়মিত। মাসে একটা প্রকাশনা বা সাপ্তাহিক একটা প্রকাশনা। আবার প্রকাশনার সময়টা হতে পারে নির্দিষ্ট কোন সময়। আমি যদি কোন একটা সাইটে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় একটা করে লেখা অবমুক্ত করি তা হবে চমৎকার একটি ব্যবস্থা।
আমি আমার সাইটিতে ব্লগ স্পটের সুন্দর একটা ব্যবস্থা পেলাম আর সেটি হল শিডিউল দিয়ে পোস্ট প্রকাশ করা। গুগল ব্লগস্পটের অনেকগুলি ভাল ব্যবস্থার মধ্যে এটি একটি চমৎকার ব্যবস্থা। ওয়ার্ড প্রেসের ফিচার অনেক উন্নত হলেও ব্লগস্পট অনেক ইউজার ফ্রেন্ডলি। ব্লগস্পটে ইমেইলের মাধ্যমেও পোস্ট দেয়া যায়। মোবাইলের পড়ার ইন্টারফেসটা ভাল। ডিজাইন অপশন কম হলেও কম্পিউটারে টাইপ যারা করতে পারে তারাই নির্ধিদ্বায় ব্লগস্পটে পোস্ট দিতে পারবে।
যে কোন কাজের ধারাবাহিকতা অনেক বেশী জরুরী বিষয়। আমরা চাকুরীজীবী আর ব্যবসায়ী যাই হই না কেন সব সময় আমাদের একইভাবে সময় যাবে না। কখনো কাজের চাপ বেশী থাকবে।  কখনো কাজের চাপ কম থাকবে। আবার কখনো মানসিক অবস্থা ভাল থাকবে আবার কখনো মন্দ থাকবে। তাই প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে কোন জার্নালে বা অনলাইন পাবলিকেশনে আমরা প্রকাশ করতে পারব তা হলফ করে বলা যায় না। কেবলমাত্র প্রফেশনালরা নিয়মিত কোন জার্নাল প্রকাশ করতে পারে। যারা প্রফেশনাল নই তাদের জন্য গুগল ব্লগস্পটের ব্যবস্থাটি বেশ ভাল। কোন দিন কোন সময় লেখাটি প্রকাশ পাবে তা নির্ধারণ করা যায়। আমার লেখার বিভিন্ন পর্যায়ে কখনো প্রতি দুই/তিন দিন পর পর একটা করে লেখা প্রকাশ করতাম আবার কখনো দশ বার দিন পার হয়ে যায় লেখা লিখতে পারি না ও অনলাইনে প্রকাশ করতে পারি না। তাহলে উপায়। এদিকে আমার পাঠকরা নিয়মিত লেখা পেলে খুশী হয়।
নিয়মিত যে কোন বিষয়ই সাফল্য ও স্বস্তি দায়ক। আমার পাঠকরা বেশীর ভাগ আমার বন্ধু ও চাকুরীজীবী এই জন্য আমি বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় লেখা প্রকাশের টাইমটা বেছে নিয়েছি। যা অত্যন্ত কার্যকর একটা ব্যবস্থা হয়েছে। এতে আমার বন্ধুরা ছুটির দিনে ইন্টারনেট ব্যবহারের পাশাপাশি ইচ্ছে হলে আমার লেখাটা পড়তে পারে।
ইন্টারনেটে ব্লগে সময় ধরে প্রকাশনাটা স্কুল কলেজের নোটিশ ও অন্যান্য প্রকাশনার ক্ষেত্রেও অনেক বেশী কার্যকর হবে। এটা আমার অনলাইন প্রকাশনায় অনেক অনেক স্বস্তি দিয়েছে। আমাকে অনলাইন প্রকাশনার জন্য অনেক সময় শিডিউল এ্যালার্ম বা শিডিউল মনে রাখার এসএমএস এর মাধ্যমে মনে রেখে বৃহস্পতিবারে প্রকাশনাটা করতে হত। এখন যখন একটা লেখা তৈরি হয়ে যায় সাথে সাথে শিডিউল দিয়ে সেট করে দেই। অটোমেটিক ভাবে নির্দিষ্ট সময়ে সেই লেখাটি অনলাইনে প্রকাশিত হয়। এতে নিদিষ্ট দিনের প্রকাশনা করার জন্য প্রতিনিয়ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন আর থাকছে না।
আমরা অনেক সময় কোন লেখায় বিশেষ কোন তথ্য প্রাপ্তির অপেক্ষায় থেকে আমাদের লেখাটি প্রকাশ করতে দেরী হয়। আবার অনেক সময় দেখা যায় বিশেষ তথ্যটি যথেষ্ট প্রয়োজন নয়। সেই ক্ষেত্রে আমরা আমাদের লেখাটি শিডিউল করে প্রকাশনার জন্য কিউ করে রাখতে পারি। কিউ করে রাখা অবস্থায় যখন খুশি ব্লগের অ্যাডমিনে ঢুকে লেখাটি যতবার খুশি যতদিন খুশী সম্পাদনা করা যাবে। পরে লেখাটি নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ পাবে। প্রয়োজন হলে প্রকাশনার শিডিউলটিও পরিবর্তন করা যাবে।

আপনার যারা অনলাইন প্রকাশনা করেন আশা করি তাদের এ ফিচারটি বেশ কাজে লাগবে। আমি যখন বিষয়টি জানতাম না তখন অনেক দিন সময় রক্ষা করে অনলাইন প্রকাশনায় আমাকে অনেক বেগ পেতে হয়েছি। এখন সময় রক্ষা করে প্রকাশনা অনেক সহজ হয়েছে।

Thursday, August 18, 2016

জিপিএস মোবাইলে সহজ হয়েছে টুরিস্টদের পথ চলা

আমার জীবনের দুইটি জাতিসংঘের মিশনে চাকুরীর সুবাদে আমার বেড়া‌নো সিয়েরালিওন ও কঙ্গো দেশ দুটিতে গাইড ম্যাপ ও লোকজ‌নের সহায়তায় নিয়ে ঘুরে বেড়া‌তে পেরেছি। গত ২১ জানুয়ারি ২০১৬ আমি সপরিবারে ভারতের কলিকাতায় যাই। কলিকাতার সমস্ত বেড়া‌নো বলা যায় কারো কাছ থেকে তেমন কোন ব্রিফিং না নিয়েই আমরা বেড়া‌তে সক্ষম হই। ভার‌তে যাওয়ার এক সপ্তাহ আগেই আমার দুই ছে‌লেকে ( ২০১৬ সালে দশম ও পঞ্চম শ্রেণীর ইংরেজি ভার্সনে অধ্যয়নরত)  নিয়ে ইন্টারনেট ঘেঁটে কলিকাতার বেড়া‌নোর মত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগু‌লো বের ক‌রে ফেলি। তারপর গুগল ম্যা‌পে সে সমস্ত স্থানের ঠিকানা, দূরত্বও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় আনি। ইন্টারনেট হ‌তে স্থান নির্ধারণের পর   আমরা যে স্থানে থাকব সে স্থান হ‌তে প্রতিটি স্থানের দূরত্ব ও সম্ভাব্য খরচ আমরা হিসাব করি। আমার দুই ছেলেকে নিয়ে আমা‌দের ভারতের কলিকাতার বেড়া‌নোর পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত ক‌রে ফেলি।
কলিকাতায় যাওয়ার পর একটা ব্রিফিং পেয়েছিলাম ট্যাক্সিওয়ালারা বাংলাদেশ থেকে এসেছে এরূপ আন্দাজ কর‌তে পারলে মোটা‌মো‌টি গোটা কলিকাতা ঘুরে বেড়িয়ে বিভিন্ন রাস্তা ঘুরিয়ে মিটা‌রে য‌থেষ্ঠ পরিমাণ বিল তুলে দেয়। একটা উপায় অভিজ্ঞ জনেরা বাতলে ছিল আর তা হল ট্যাক্সি নির্দিষ্ট গন্তব্যে চুক্তিভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণ ক‌রে যাওয়া। চুক্তিভিত্তিক ভাড়া গিয়েও কোন লাভ পাইনি। কারণ এরা চুক্তিভিত্তিক ভাড়া আরো বেশী দাবী করে। তবে উপায়। মিটারে অপ্রয়োজনে কি গোটা কলিকাতা চক্কর দিয়ে ট্যাক্সিওয়ালা মর্জিমাফিক কি বেশী ভাড়া দিতে থাকব। আমি আর আমার বড় ছেলে একটা উপায় বের করলাম। আর তা হল। ট্যাক্সিওয়ালা সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাঘুরি শুরু করলে আমি ছেলেকে বলব জিপিএস অন্য করার জন্য। ছেলে জিপিএস তার মোবাইলে অন্য করে ঘুরানো রাস্তা হলে ট্যাক্সি চালককে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিবে। এতেই ট্যাক্সি চালক সর্তক হয়ে ঘোরাঘুরি বন্ধ করে সোজা রাস্তা ধরবে। কারণ সে অপরিচিত রাস্তায় নিয়ে মুরগা বানানোর কাজ থেকে বিরত থাকবে। আমাদের এ ব্যবস্থাটি বেশ কাজে লেগেছিল। আমাদের তেমন মুরগা বনতে হয়নি। তবে আমার মনে হয়েছে কলিকাতার বেশীরভাগ ট্যাক্সিচালক তেমন ধান্ধাল নয়। মিটারে ঠিকঠাক ভাবে সাধারণত যায়। কলিকাতার যে কোন পয়েন্টে থেকে জিপিএস ও লোকেশন অন্য করলে পরবর্তী গন্তব্য জিপিএস এর গুগল ম্যাপে সার্চ দিলে এই পয়েন্ট কখন কোন বাস আসছে ও ট্রেন কাছাকাছি কোথায় আছে সকল তথ্য পাওয়া যায়। ইতিপূর্বে অনেকের কাছ শুনেছি জিপিএস ব্যবহার নিয়ে। কলিকাতায় মোবাইলের জিপিএসএর এত চমৎকার ব্যবহার করা যায় তা কলিকাতায় না আসলে আমি ও আমার ছেলেরা জানতাম না। আমরা কোন স্থানে যেতে কাউকে তেমন একটা জিজ্ঞাসা করতে হয়নি। জিপিএস মোবাইলের চার্জ কমিয়ে দেয় ও ইন্টারনেট খরচ করে। তাই যখনই কোন স্থান ঠিকমত মন হচ্ছে না, সাথে আমার জিপিএস এর হটস্পট অন করি। আমার বড় ছেলে ওয়াই ফাই অন্য করে আমার মোবাইলের সহায়তায় গুগল ম্যাপে আমাদের গন্তব্যের বিস্তারিত তথ্যাদি বের করে। এভাবে পথ হারানো থেকে রক্ষা পেতাম। বড় বড় শপিং মল ও বড় বড় দোকানের ছবিসহ বিবরণ গুগল ম্যাপে পাওয়া যায়।
কলিকাতার গুগল ম্যাপে একটা বিষয় আমাকে সহায়তা দিয়েছে আর তা হল নির্দিষ্ট স্থানের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর। একবার আমরা কলিকাতার অলিপুর নামক স্থানে চিড়িয়াখানায় যাব। আগের দিন গুগল ম্যাপ থেকে চিড়িয়াখানার তথ্য নিতে গিয়ে দেখি চিড়িয়াখানা পরের দিন বন্ধ থাকবে। গুগল ম্যাপে এ তথ্য না পেলে আমরা পরের দিন চিড়িয়াখানায় যেতাম আর বন্ধ দেখে ফেরত আসতাম। গুগল ম্যাপের বন্ধ থাকার তথ্যের সাথে অনুসন্ধানের মোবাইল নম্বর থাকায় আমি মোবাইলে কল করে আরও নিশ্চিত হতে পেরেছিলাম। সত্যি জিপিএস আর গুগল ম্যাপের কার্যক্রম অসাধারণ। আমাদের বাংলাদেশে সমস্ত রাস্তা ও ডিটেইলস গুগল ম্যাপে না থাকলেও অনেকটুকু উপকারে আসে ও অনেক কাজে লাগে। ভারতের কলকাতার রাস্তায় আরও একটা ভয়াবহ বিষয় হল ট্রাফিক জ্যাম। বাংলাদেশের ঢাকা থেকে কোন অংশে কম নয়। গুগল ম্যাপে কলিকাতার ট্রাফিক জ্যামের বিষয়টি অত্যন্ত চমৎকার ভাবে জানা যায়। কতটুকু রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম আছে। ট্রাফিক ঘনত্ব কেমন। জ্যামে পড়ে  থাকতে হবে আনুমানিক কত সময়। ইত্যাদি বিষয় খুবই উপকারী। এভাবে ট্রাফিক জ্যামের তথ্য জানার কারণে জ্যামের রাস্তাগুলো বাদ দিয়ে বাইপাস করার ভাল সুযোগ হয়। আমার ছেলে গুগল ম্যাপ দেখে ট্যাক্সি চালককে যখন বলে, আংকেল সামনে জ্যাম আছে। আপনি বামে এই এই রাস্তা ধরে গিয়ে জ্যাম থেকে বাচতে পারবেন। চালকরা একটু অবাক হয় জানতে চায় সে কিভাবে জানে। যখন বলা হয় মোবাইলের গুগল ম্যাপ থেকে তখন অনেকেই বিষয়টি জানার জন্য বেশ আগ্রহী হয়।

আমি চাকুরী জীবনের ২৫ বছর ধরে ঢাকার বাইরে আছি। তাই ঢাকার গুগল ম্যাপের অগ্রগতি তেমন ধারনায় নাই। তবে আমার চাকুরীর এলাকা কুষ্টিয়া ও কাছাকাছি অনেক শহরের ডিটেইলস গুলো মফস্বল এলাকা হিসাবে ভালই পাওয়া যাচ্ছে। কলিকাতায় মোবাইলে জিপিএস ব্যবহার করে আমার একটা ধারনা হল আমরা ও আমাদের সন্তানরা যারা আইটি ঞ্জান নিয়ে বড় হচ্ছে। তাদেরকে পৃথিবীর যে কোন স্থানে জিপিএস সম্বলিত মোবাইল দিয়ে ছেড়ে দিলে তারা চমৎকার ভাবে রাস্তা চিনে নিতে পারবে। এখন বিদেশ ভ্রমণ হয়েছে পানির মত সহজ ও চিন্তামুক্ত।

Thursday, August 11, 2016

আমার কৃষি ভাবনা

আমার দাদা ছোটবেলা থেকেই জাত কৃষক ছিলেন। আমার নানা প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক থাকার পরও জমি ছিল ও কৃষি ছিল। নিজে সরাসরি কৃষিকাজ না করলেও মুনি মজুর দিয়ে জমি করাতেন। আমার বাবা ১৯৯১ সালে তৎকালীন টিএন্ডটি ইঞ্জিনিয়ার পদ থেকে রিটায়ার করার পর থেকে গ্রামের বাড়ীতে থাকেন ও পুরো দস্তুর কৃষক। গত দুই বছর হল স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী হওয়ার পর থেকে সরাসরি গাছ লাগানো ও গাছের পরিচর্যা ইত্যাদি করতে পারছেন না। আমার বাবা সরকারী কোয়ার্টারে চাকুরীকালীন সারা জীবন কাটিয়েছেন। সরকারী ক্যাম্পাসে তার বাসস্থান সংলগ্ন স্থানে তিনি সব্জির চাষাবাদ না করে থাকতে পারতেন না। অপরদিকে আমার মাও কখনও বসে থাকতেন না। বাড়ীর আসে পাশে তার সব্জি গাছ লাগানো চাই। এখনো সাতাত্তর আটাত্তর বয়সে টুকটাক সব্জি গাছ লাগিয়ে যাচ্ছেন।
আমার পিতা মাতার কৃষি প্রীতি আমার মাঝেও সংক্রামিত হয়েছে। ২০০০ সালে একবার চাকুরীর সুবাদে সেনাবাহিনীর একতালা স্বতন্ত্র বাসস্থানে থাকার সুবাদে কিছু কৃষির প্রচেষ্টা করেছিলাম। বিজিবিতে দুইবার চাকুরীর সুবাদে সামগ্রিক ভাবে সবার জন্য কিছু কৃষির ব্যবস্থা করছি। একবার আমার সিনিয়র জেনারেল বলেছিলেন আমরা যদি আমাদের ক্যাম্পাসে একটি কুমড়ো উৎপাদন করতে পারি তবে আমরা স্থানীয় বাজার হতে একটি কুমড়ো কম কিনলাম, এতে বাজারে একটি কুমড়োর চাহিদা কম হল ও আমরা জাতীয় জিডিপিতে একটি কুমড়ো যোগ করলাম। এই ধারনার পর থেকে আমি সকলকে সব্জি চাষে উৎসাহ দেই। আর যদি একান্তই চাষাবাদ করতে না পারে তবে সরকারী বা বেসরকারি কোন স্থান ফেলে না রেখে দ্রুত লীজ দেয়ার ব্যবস্থা করি। প্রয়োজন যাতে সর্বদা স্থানগুলো উৎপাদনশীল থাকে। আমি বড় জমিতে একাধিক চাষকে প্রাধান্য দেই। ছোট ছোট প্লটে একাধিক ফসলের উৎপাদন সহজেই বিতরণ করে শেষ করা যায়। একবার আমাদের ক্যাম্পাসে বড় জমিতে শুধু টমেটো চাষ করল। পরে সেই টমেটো অত্যন্ত সুলভে বাজার ছাড়তে হল। তারপর থেকে ছোট ছোট প্লটে অনেক জাতের সব্জি চাষ করেছিলাম। এতে অপচয় কমে আসল। সহজেই সবাইকে বিতরণ করে শেষ করা যায়।
আমার প্রধান হবি কম্পিউটার ও ইলেক্ট্রনিক্স হওয়ার পরও আমার চাষাবাদে আগ্রহের কারণে আমি প্রতিনিয়ত চাষাবাদের উপর জ্ঞান অর্জন করে চলেছি। আমার কৃষির উপর জ্ঞান অর্জনের বিষয়গুলি অনেককে উৎসাহিত করতে পারে। তাই বিষয়গুলি সকলের সাথে শেয়ার করলাম। আশা করি আমার জানা বিষয়গুলি অনেককে কৃষির বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানার জন্য উৎসাহিত করবে।
আমার জানা কৃষির বিষয়গুলি হল:
১. ছাদে বাগান করা
২. টবে বাগান করা
৩. বস্তায় বাগান করা
৪. ভার্টিক্যাল বাগান করা
৫. কীহোল গার্ডেন করা
৬. ড্রিপ ইরিগেশন
৭. পিভিসি ইরিগেশন
৮. লীফ কালার চার্ট
৯. কম্পোষ্ট তৈরির নিয়ম
১০. রেইজ বেড গার্ডেন
১১. পট গার্ডেনিং
১২. হাইড্রোপনিক চাষাবাদ
১৩. ধান ক্ষেতে সম্বন্বিত মাছ চাষ
১৪. ভাসমান সব্জি চাষ
১৫. কান্দি কেটে সব্জি চাষ
১৬. গ্রীষ্মকালে শীতের সব্জি চাষ
১৭. শীতকালে গ্রীষ্মের সব্জি চাষ
১৮. স্ট্রবেরী, ক্যাপসিক্যাম ও ড্রাগন ফল
১৯. ছোট পুকুরে ভিয়েতনামী কই চাষ
২০. চিড়িং চাষ
২১. বিভিন্ন ধরনের মাছের চাষ
২২. আমবাগান উন্নয়ন ও পরিচর্যা
২৩. খাঁচায় মাছ চাষ
২৪. সিমেন্টের রিং এর রেইজ গার্ডেনে চাষাবাদ
২৫. বাসস্থানের ফেলে দেয়া কনটেইনারে ও পুরাতন টায়ারে গার্ডেনিং
২৬. গাছের পাতার আর্বজনা হিসাবে না পুড়িয়ে কম্পোস্ট তৈরি
২৭. বোতল মাধ্যমে ড্রিপ ইরিগেশন

আমার লিষ্ট যা মনে পড়েছে তা এখানেই লিপিবদ্ধ করলাম। আরো নতুন নতুন কৃষি গভেষনা ভবিষ্যতে আমি যুক্ত করব। আমার এ ধারনা ও চেকলিস্ট অনেকেই কৃষির নতুন নতুন বিষয় জানতে উৎসাহিত করবে। আমাদের দেশের কৃষির উপর আলাদা কোন টিভি চ্যানেল নাই। একবার শুনেছিলাম বাংলাদেশে কৃষির উপর চ্যানেল অতি প্রয়োজনীয় হবে। আমরা আমাদের অবসর সময় অবশ্যই সবুজের সাথে কাটালে আমরাও নিজেকে সবুজ রাখতে পারব।

Thursday, August 4, 2016

সন্তানের জন্য আনা চর্বি ও শর্করা জাতীয় খাবার কিন্তু ওজন বাড়ায় পিতা/মাতা ও অভিভাবকদের

আজ থেকে ৩০/৩৫ বছর আগে আমার মধ্যবিত্ত বাবার পরিবারে আমরা ছয়জন ভাইবোন প্রায়শই একটা ডিমকে শেয়ার করে খেতাম। কখনো একটা সিদ্ধ ডিম দুই ভাগে বা তিনভাগে খেতে হত। মাঝে মাঝে আমরা ছোটরা কেউ একাধিক টুকরো খেতে চাইলে মায়ের ভাগ বা বাবার ভাগ দিয়ে দিতেন। ১৯৯৭ সালের পর আমি যখন সংসারী হলাম হয়ত বাবার থেকে একটু উপরের ধাপে উঠলাম কমিশন অফিসার হওয়ার কারণে। আমার বাবা বিটিএন্ডটির অফিসার হলেও ছয় সন্তান ও তাদের পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে আমার মা ডিম আস্ত না দিয়ে কয়েক টুকরো করে আমাদের ভাই বোনদের খেতে দিতেন। আমাদের এখনকার সন্তানরা অজস্র পোলট্রি ফার্মের কারণে ও সহজলভ্য হওয়ার কারণে ডিম শেয়ার করে খাওয়া হয় এটা হয়ত চিন্তায় আনতে পারবে না। তাদের জন্য প্রতি নিয়ত ডিম খাওয়ানোর জন্য পরিবারের স্ত্রীরা বা সন্তানদের মায়েরা এত ব্যস্ত থাকেন যে ভাবতেও অবাক লাগে। এমন হয় সন্তানের জন্য ডিম সিদ্ধ করা হল কিন্তু সন্তান বলল ডিম সিদ্ধ খাব না পৌচ খাব তখন সিদ্ধ ডিম থাকা সত্ত্বেও পৌচ করতে হয়। আর এ অব্যবহৃত সিদ্ধ ডিম অপচয়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মা বাবাকে অতিরিক্ত ডিম খেতে হয় আর ওজন বাড়াতে হয়। মধ্যবিত্ত পরিবারের সমস্যা হল কারণে ও অকারণে খাবার নষ্ট করতে পারে না। ছেলে মেয়েরা খেল না আর পিতা মাতা খেয়ে নিবে বা কাজের লোককে দিবে এটা বেশী হয় মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোতে। কারণে ও অকারণে খাদ্য দ্রব্য ফেলে দেয়ার মত ভয়ানক মানসিক শক্তি সাধারণত ধনী পরিবার গুলোতে হতে পারে। মধ্যবিত্ত পরিবার সাধারণত অতিরিক্ত খাবার খেয়ে হলেও খাবার ফেলে না দিয়ে তা কাজে লাগায়। এভাবে চাহিদার বাইরে অপরিকল্পিত খাবারই সাধারণত আমাদের শরীরে বারোটা বাজিয়ে দেয়। অধিকাংশ পরিবারের স্ত্রীদের ওভার ওয়েট হওয়ার কারণ অনেক ক্ষেত্রেই বলা যায় সন্তানদের জন্য তৈরি করা বেচে যাওয়া খাবার ফেলে না দিয়ে নিজেদের চাহিদার অতিরিক্ত হিসাবে সেসব খাবার ব্যবহার করা।
একটা কথা প্রচলিত আছে চোখের খিদা। এটা একটা মারাত্মক দিক। আমি অনেকেই দেখেছি খাবার তুলে নিতে গেলে অনেক খাবার তুলে নেন কিন্তু বাস্তবে খেতে পারেন না। অনেক খাবার অপচয় হয় এ ধরনের চোখের খিদা মিটানোর কাজে।
চোখের খিদা মিটানোর জন্য বেশী রান্না করা। বাচ্চাদের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বেশী রান্না করাটা অনুচিত। আর বাচ্চাদের বেশী রান্নার ভার বইতে হয় সাধারণত পিতামাতাকে। মাঝে মাঝে এরূপ হয় ছোট ছেলে কিছু খাচ্ছে না, তার জন্য রান্না করা ভাত, মাছ ও মাংস বেচে যাচ্ছে। আমি তখন ঘটনার গভীরে গিয়ে দেখলাম। স্কুল থেকে আসার পথে ছোট ছেলে মাঝে মাঝে ব্যাকারী থেকে স্ন্যাকস ও কোল্ড ডিংকস খেয়ে বাসায় ফেরা। বাসায় এসে আইসক্রিম, বিস্কুট, চানাচুর ও আরো বেশ কিছু ড্রাই খাবারের সদব্যবহার হয়েছে। তখন স্বাভাবিক ভাবে স্ত্রীকে পয়েন্ট আউট করে বললাম, ছেলের পেটের ক্যাপাসিটি অনুযায়ী ভাত ও সাধারণ খাবার দ্বারা পরিপূর্ণ না করে আগেই অন্য খাবারে চাহিদা পূর্ণ করেছে করে ফেলেছে। তাই বাসার খাবার বাড়তি হয়েছে। এ সকল ক্ষেত্রে সাধারণত অনেক বাবা মা সন্তানদের বুঝাতে পারলে বাইরের খাবার পরিহার করাতে পারেন। আর একান্তই না পাড়া গেলে স্বাভাবিক খাবারের পরিমাণ এই সন্তানের জন্য অর্ধেক করে বা প্রয়োজনে আরো কমিয়ে রান্না করতে হবে। এতে পিতামাতারা ফোর্স ইটিং থেকে রক্ষা পাবেন।
অনেক পিতামাতা সন্তানদের অপ্রয়োজনীয় জাংক খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। আবার আমরা অনেকেই পারি না, যারা পারি না তারা সন্তানদের জন্য একেক জনের পছন্দমাফিক একেক খাবার তৈরি করে পরিবেশন করার চেস্টা করি যেন বাচ্চারা পেটপুরে তৃপ্তিতে খেতে পারে। আর্থিক সংগতি থাকায় ও কাজের লোক বা নিযুক্তিতে লোক প্রাপ্তির সুবিধা থাকলে আমরা অতিরিক্ত মেনু তৈরী নিয়ে তেমন একটা চিন্তা করি না। কিন্তু এটা ক্রমান্বয়ে অহেতুক বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত খাবার গ্রহণে প্ররোচিত করে। পরিণামে মা বাবা সহ গোটা পরিবার ওভার ওয়েটের যাতা কলে পিষ্ট হয়। এটা থেকে উত্তরণের একটা উপায় আছে। তা হল সুষম ও কঠোর খাদ্যাভ্যাস।

পরিকল্পিত খাদ্য অভ্যাস আমাদের খাবার অপচয়ের পাশাপাশি আমাদের অযাচিত মুটিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে, খাওয়ার পরিমাণ সব সময় করতে হবে পরিমাণ থেকে কিঞ্চিত কম। খাবার কম পড়লে ইজ্জত গেল এ ধরনের মানসিক চিন্তায় না থেকে খাবার কম পড়বে এবং কম খাব, এই নীতিতে আগানোই সবচেয়ে ভাল। খাবার কম পড়লে পুনরায় একই জাতীয় খাবার বা বিকল্প খাবার পরিকল্পনা করলে সব সময় খাবারের বিষয়ে টাইট অবস্থানে থেকে ডায়েট কন্ট্রোল করা যায়। পরিশেষে বলব আমরা নিজেদের সুচারু পরিকল্পনায় খাদ্য শৃঙ্খলার মাধ্যমে সুস্থ থাকব এটাই হোক আমাদের সকলের একান্ত কামনা।

Thursday, July 28, 2016

বাগানের উৎপাদিত দ্রব্যের আহরণ জনিত অপচয়

আমি একটা সরকারী ক্যাম্পাসে চাকুরী কালীন সময়ে দেখলাম। ক্যাম্পাসে প্রচুর ফল ধরে কিন্তু সেই ফল গাছের উচ্চতা বেশী হওয়ায় ফল পাড়ার জন্য শ্রমিক পাওয়া যায় না। একটা জামগাছ সাধারণত ৫০ হতে ৮০ ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় দেখা যায়। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতায় হল গাছে হাইট ১৮-২০ ফুটের অধিক হলেই সে সব গাছে ফল হারবেস্ট করার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ দেখা যায়। বড় বড় গাছের ফল বড় হলে হারবেস্ট করা যায়। কিন্তু ছোট ও নরম ফল, গাছ থেকে পারা বা হারভেস্ট করা অত্যন্ত দূরহ কাজ। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের মত মধ্যম আয়ের দেশেও পল্ট্রি মুরগী, পল্ট্রি ডিম, তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশ মাছ ইত্যাদির মূল্যমান কম হওয়ায় মানুষ এই সবের উপর নির্ভরশীল হয়ে আমিষের চাহিদা পূরণ করে মানুষ বেচে আছে। খাবারের প্রাচুর্য্যতার কারণে মানুষ ওভার ওয়েট হয়ে যাচ্ছে। সচ্ছল পরিবারের বাচ্চারা ধীরে ধীরে ওবিসিটি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এর থেকে মুক্তির উপায় আমাদের বের করতে হবে।
আমাদের শর্করা ও ফ্যাট কমিয়ে অনেক ফল খেতে হবে। তাহলে উপায়। ফলের মধ্যে কলা স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায় ও ব্যাপক উৎপাদন হচ্ছে। কলা শক্তির আধার ও ফাইবার আছে। তবে ডায়াবেটিস ও ওভার ওয়েটের জন্য ভাল খাবার নয়। তাই টক জাতীয় অপ্রচলিত ফলের উৎপাদন বাড়াতে হবে। আমাদের দেশে জামের মৌসুমে জাম পাওয়া যায় তবে অধিক পরিমাণে নয়। অপ্রচলিত ও মূল্য বেশী। জাম চাষের গাছ বড় হয়। ফল হয় ছোট। গাছ থেকে পাড়তে অনেক অসুবিধা। এ কারণে এই উপকারী ফলটি তেমন উৎপাদন হচ্ছে না। আর যা উৎপাদন হচ্ছে তার আবার অর্ধেকের বেশী অপচয় হয়ে যায় গাছ থেকে পাড়তে গিয়ে। সম্পূর্ণ না পাকলে এ ফল খাওয়া যায় না। আবার সম্পূর্ণ পাকা ফল ঝাঁকি দিয়ে পারা যায় না। ফল উপর থেকে পড়ে নষ্ট হয়। ঝাকি দিয়ে জালে ফেললেও নষ্ট হয়। জামের থোকা থেকে ব্যাগ নিয়ে দেখে দেখে পেরে নেয়াটা সবচেয়ে ভাল ব্যবস্থা। কিন্তু এত উপরে নরম ডাল সেটাই বিপদ।

তাহলে উপায় কি? সহজ উপায় হল জাম গাছটি ছোট বানিয়ে ফেলুন। আমি জাম চাষ নিয়ে পড়তে গিয়ে ইন্টারনেটে এক মজার তথ্য পাই। আর তা হল জাম গাছ প্রতি বছর কেটে ও ছেঁটে ১৮ থেকে ২০ ফুটের মধ্যে রাখলে ১০/১২ ফুট উঁচু এলুমিনিয়ামের  ইলেকট্রিক কাজ করার মই বা কাঠের মই ব্যবহার করে সহজেই গাছ থেকে হারভেস্ট করা যাবে।


একটা ওয়েবসাইট:
http://m.thehindu.com/sci-tech/a-short-variety-jamun-cultivation-fetches-good-rewards/article6104923.ece  থেকে  জাম চাষ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তার মধ্যে জাম গাছের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি প্রধান কাজ।
“The farmer, through constant pruning for many years, has been successful in controlling the height of the trees to 18-20 feet.
“I tried to control the height of the tree by pruning them regularly because harvesting the fruits was proving to be difficult due to the height of the trees. The branches needed to be shaken well for the ripe fruits to fall down.
“While doing so either the branches broke or the fruits got damaged while falling on the ground and did not fetch a good price,” says Mr. Jayakumar.
The farmer purchased about 80 seedlings from a nursery in Andhra Pradesh and planted them at a spacing of 24 feet (8m X 8m). The trees were irrigated through drip lines.
After four years, flowering started and fruits set and yield was about 2 kg from each tree. Gradually the yield increased and at the age of eight years 40- 50 kg of fruits per tree were harvested. Now the trees are in the11th year of planting and the farmer is able to harvest 60 kg of fruits from each tree.”

জাম ছাড়াও আরো অনেক গাছ হারভেস্টিং ও অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ছোট রাখাই সমীচীন। মাঝে মাঝে দেখা যায় বড়ুই বা কুল গাছ একদম গোঁড়া থেকেই কেটে ফেলা হয়। পরে নতুন গজানো ডাল পালায় নতুন ফল ধরে। জমির চাষ করা পেয়ারা গাছও ছেঁটে রাখতে দেখা যায়। অনেকে আবার আম গাছও ছোট করে রাখেন বিশেষ করে আম্রপালি আম গাছ ছোট করে রাখতে দেখা যায়।
আমি কুষ্টিয়ার মিরপুর বিজিবিতে চাকুরী কালীন সময়ে ২০১৬ সালে সেখানকার কৃষি অফিসারের পরামর্শে বেশ কিছু জাম গাছ ৫/৬ ফুট উচ্চতায় কেটে দেই। পরবর্তীতে সেসব গাছের ডালপালা হলে সবোর্চ্চ হাইট ১৮-২০ ফুটে সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেই। এমনকি আমরা যেসব আম গাছে ভাল মানের আম নেই সেই সব গাছ দুই তিন ফুট রেখে কেটে ফেলার পরিকল্পনা নেই।  সেসব কাটা গাছে আমরা নতুন আমের কুশি বের হলে তাতে ভাল জাতের কলম দেয়ার ব্যবস্থা করি। গাছের একেক ডালে একেক ধরনের আম এবং একেক সময়ের আম চাষ করে একই গাছে মজাদার এক বৈচিত্র্য আনা যায়।
পরিশেষে বলব ফলন বাড়াতে ও ফল আহরণের ঝামেলা কমাতে সমস্ত ফলের গাছ ১৮-২০ ফুটের মধ্যে রাখুন। এটাই হবে একটা লাভজনক প্রক্রিয়া।