Pages

Thursday, November 17, 2016

পরিবেশ রক্ষা গতিশীল করা জন্য টেসলার বৈদ্যুতিক কারের প্যাটেন্ট উন্মুক্ত


মনে করুন, আপনি একটা চমৎকার গাড়ী তৈরি করলেন। গাড়ীটি পরিবেশ বান্ধব। আপনি পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে নিয়োজিত প্রাণ। আপনি জানেন আপনার গাড়ীটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গাড়ী, গতিতে সেরা, কমফোর্ডে সেরা, নিরাপত্তায় সেরা, মূল্য প্রতিযোগিতামূলক। আপনার গাড়ীর প্রিঅর্ডার অনেক। আপনি নিশ্চিত বছরের পর বছর বছর আপনি ব্যাপক উৎপাদন করতে পারবেন। আপনার অর্থ যোগান দাতার অভাব নেই। তারপরও কি আপনি এর প্যাটেন্ট উন্মুক্ত করবেন।
এমনই একটি পাগলামি পৃথিবীর ৮৩ তম সেলফ মেইড বিলিয়নিয়ার আমেরিকার তেসলা কার কোম্পানির সিইও ইলন মাস্ক তেসলা কারের প্যাটেন্ট উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। তার বক্তব্য পৃথিবীর কার্বন নি:স্মরণ ভয়াবহ অবস্থায় আছে। তার কোম্পানি প্রতি বছর পাঁচ লক্ষ কার উৎপাদনের ক্ষমতা অর্জন করবে ২০১৭ সালে। এতে সারা পৃথিবীর তৈলের গাড়ীর হয়ত ৫ ভাগও সে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। অথচ তৈল চালিত গাড়ী দিনকে দিন বেড়ে চলেছে। তাই সে ঘোষণা দিয়েছে যে কেউ তার গাড়ী অনুকরণ করে তৈরি করতে পারে। তার একটাই লক্ষ্য তার কোম্পানির লাভ নয় বরং পৃথিবীর কার্বন নি:স্মরণের পরিমাণ কমে যাক। আমার কাছে মনে হয় এটা বিরল ও মহান মানসিকতা। মাইক্রোসফট, এ্যাপল ও পৃথিবীর জায়েন্ট কোম্পানি তাদের প্যাটেন্ট উন্মুক্ত করে দেয়নি। কোম্পানির টিকে থাকার জন্য এটা অত্যাবশ্যক। কিন্তু ব্যতিক্রম ধর্মী ইলন মাস্কের বক্তব্য আপনি যে প্রোডাক্ট তৈরি করবেন তা হতে হবে বাজারের সকল প্রচলিত প্রোডাক্টের সেরা। অল্প সেরা হলে হবে না। তা হতে হবে দীর্ঘ দিনের জন্য সেরা। এতে আপনার বিঞ্জাপনে টাকা খরচ করতে হবে না। বিঞ্জাপনের টাকার আরএন্ডডি ও মূল্য কমানোর কাজে ব্যবহার করা যাবে। কোন বিঞ্জাপন ছাড়াই সারা পৃথিবী ব্যাপী তার কারের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। শত শত ভলান্টিয়ার ইউটিউবে তার কারের আপডেট দিচ্ছে।শত শত নিউজ মিডিয়া তাকে নিয়ে ব্যস্ত। তাই বিঞ্জাপন না দিলেও বেস্ট প্রডাক্টের কারণে তার পক্ষে লক্ষ লক্ষ মানুষ তার প্রডাক্টের প্রচারণা করে দিচ্ছে। তার গাড়ী বিক্রয়ে মধ্যসত্ব ভোগী নেই। সবাই অনলাইনে অর্ডার দিচ্ছে তার প্রতিনিধি হোম ডেলিভারি করছেকোন প্রডাক্ট বিক্রিতে এটা একটা যুগান্তকারী ধারনা। এজন্য আমেরিকার বেশ কিছু প্রদেশের কার ডিলাররা তাকে বয়কট করেছে। তার বক্তব্য পরিষ্কার ডিলার নিয়োগ করলে কারের দাম বেড়ে যাবে। দামটা মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে রাখতে ডিলার নিয়োগ করা যাবে না।
এ্যাপলের গাড়ী কোথায় তৈরি হচ্ছে কেউ জানে না। অথচ ইলন মাস্ক তার গিগা ফ্যাক্টরির কর্মকাণ্ড সবাইকে ডেকে ডেকে দাওয়াত দিয়ে দেখাচ্ছে কোন গোপনীয়তা নেই। প্যাটেন্ট উন্মুক্ত করার কারণ সে জানে তার গাড়ীটা সেরা গাড়ী। তার  আরএন্ডডি টীম নতুন নতুন মডেল তৈরি করতে থাকবে। তার উন্নয়ন থেমে থাকবে না। তার আরএন্ডডি শুধু তার কোম্পানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সারা পৃথিবীর যে কেউ তাকে আইডিয়া দিতে পারে এবং বাছ বিচার করে সেরা আইডিয়া সে উচ্চমূল্যে গ্রহণ করছে বা গ্রহণ করতে প্রস্তুত। এহেন চেলেঞ্জিং মানসিকতার ব্যক্তিরাই প্যাটেন্ট উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিতে পারেন। আমার এক ক্যাডেট কলেজ বন্ধু ছিল সে শুধু তার নোট সবাইকে দিত আবার পুনরায় নতুন নোট বানাত। সে বোর্ড পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিল। তার নোট সবসময় পরিবর্তনশীল ছিল। ইলন মাস্ক আইডিয়ায় ভরপুর ব্যক্তি সে ভাল করেই জানে তার প্যাটেন্ট উন্মুক্ত করলেও তার আরএন্ডডি এত শক্তিশালী তার উন্নয়নের সাথে অন্যরা টেক্কা দিতে পারবে না। সবচেয়ে বড় বিষয়টি হল সে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তির জন্য নিবেদিত প্রাণ। পৃথিবীর কার্বন নি:স্মরণ কমানো তার ধ্যান ও জ্ঞানে বিদ্যমান। তাই তার গাড়ী নকল করে লক্ষ লক্ষ পরিবেশ বান্ধব গাড়ী তৈরি হোক সেটা সে মনে প্রাণে চাইছে।
টেসলা গাড়ী কিনলে আমেরিকার যে কোন স্থানে বিনা খরচে টেসলা সুপার চার্জার স্টেশন থেকে সারা জীবন গাড়ী বিনা খরচে চার্জ করা যাবে। এ ধরনের সুবিধা দেয়ার মানসিকতা সাধারনত কোন ব্যবসায়ীর হবে কিনা বলা দূষ্কর। সারা জীবনের দায়িত্ব নেয়া। সত্যিই বিশাল ব্যাপার।

আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশ রক্ষায় ইলন মাস্কের এ ততপরতায় আমরা সাধুবাদ জানাতে পারি। এরুপ আরো কিছু মানুষ পরিবেশ রক্ষায় নিবেদিত প্রান হলে পৃথিবীটা আরো বেশী সুন্দর হত।

Thursday, November 10, 2016

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ডাইরেক্ট ড্রাইভ প্রযুক্তি

আমরা কোন মটরকে বেল্ট, পুলি, গিয়ার ইত্যাদি যে কোন মাধ্যমের সাহায্যে ঘূর্ণন শক্তিকে অন্য মাধ্যমে স্থানান্তর করে ধান মাড়াই, আখ মাড়াই ইত্যাদি অনেক অনেক কাজে ব্যবহার করি। পওয়ার টিলার, গাড়ীর ফ্যান বেল্ট ইত্যাদি অনেক স্থানে আমরা রাবারের বেল্ট ও পুলি ব্যবহার করি। প্রায় সমস্ত গাড়ীতেই আমরা গিয়ার বক্সের মাধ্যমে পাওয়ার ট্রান্সমিট করি। আমরা মটর থেকে যে কোন মাধ্যমে পাওয়ার ট্রান্সমিট করলেই পাওয়ার লস হয়। তাই কোন মাধ্যম না নিয়ে মটর দিয়ে যে কোন মেশিন ডাইরেক্ট চালনা করলেই পাওয়ার লস কম হবে। যেমন পানির মটর দিয়ে ডাইরেক্ট পানির পাম্প চালনা করা হয়। আমরা অনেক কিছুই সরাসরি মটর দিয়ে চালাই। এটাই এ্যাফিসিয়েন্ট ব্যবস্থা। আমাদের আশে পাশে সাধারণ বৈদ্যুতিক মটরগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট আরপিএম এ ঘুরে। তবে বর্তমানে ভেরিএ্যাবল আরপিএম বা স্পীড বাড়ানো কমানো যায় এ ধরনের মটর বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। সনাতন মটরগুলো কার্বন ব্রাশের মাধ্যমে মটরের বিদ্যুৎ কয়েলে পৌছায়। এই ব্রাশ দীর্ঘদিন চলার ফলে স্বাভাবিক নিয়মে ক্ষয় হয়। এতে তার ও স্ফুলিঙ্গের মাধ্যমে বিদ্যুতের অপচয়ও হয়। এ ব্রাশলেশ মটর বিঞ্জানের নতুন আগমন। ডাইরেক্ট ড্রাইভে ঘর্ষণ জনিত ক্ষয় না থাকায় অনেক অনেক দিন মটরগুলো স্থায়িত্ব পায়। কোন কোন ম্যানুফেকচারার এগুলো দশ বছর পর্যন্ত গ্যারান্টি ও ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে। ভেরিয়েবল স্পীড মটর সাধারনত ডিসি পাওয়ারের হয়ে থাকে তবে এসি ইনডাকশন মটরও বর্তমানে ভেরিয়েবল স্পিডের তৈরি হচ্ছে। ডিসি মটরের মধ্যে ইনভার্টর এসির কমপ্রেসর মটর এ ধরনের প্রযুক্তি। বর্তমানে গাড়ীতে ব্যবহার হচ্ছে হাই স্পীড এসি মটর এর ব্রাশ নেই। স্পীড ভরিয়েবল করা সম্ভব। যে কোন মটরের স্পীড ভেরিয়েবল বা গতি কম বেশী করতে পারলে তার জন্য আর গিয়ারের প্রয়োজন হবে না।

আগেকার দিনের ওয়াশিং মেশিনে পুলি দিয়ে ওয়াশিং মেশিনের ড্রামকে ঘুরানো হত। এতে পুলির রাবার বেল্ট প্রায়শই ছিঁড়ে যায়। রাবারের ব্যাল্ড ও পুলি ব্যবস্থাপনায় অনেক অনেক পাওয়ার অপচয় হয়। ব্রাশলেছ ভেরিয়েবল স্পীড মটর দিয়ে সরাসরি ড্রামটি চালনা করলে এতে অনেক অনেক বেশী পাওয়ার এ্যাফিসিয়েন্সি পাওয়া যাবে। ওয়াশিং মেশিন  দীর্ঘদিন টিকবে ও কম বিদ্যুৎ খরচ করবে।

বাই সাইক্যালে হাব মটর নামে ডাইরেক্ট ড্রাইভ মটর এখন চালু হয়েছে। সাইক্যাল কোন চেইনের মাধ্যমে পাওয়ার ট্রান্সফার না হয়ে সরাসরি চাকাকে চালনা করে। এতে সাইক্যালের চেইনের মাধ্যমে যে ইনএ্যাফিসিয়েন্সি হয় তা দূর হবে। আবার সাইক্যালের শক্তি বাড়ানোর জন্য দুই চাকায়ই এ ধরনের হাব মটর সেট করা যেতে পারবে এতে স্বাভাবিক ভাবে শক্তি দ্বিগুণ হয়ে যাবে।


যে কোন পাওয়ার ট্রান্সমিশন হলো পাওয়ার লস তা আমরা বেল্টের মাধ্যমে, পুলির মাধ্যমে, ঘর্ষণের মাধ্যমে, চাকার মধ্যমে, শ্যাফর্টের মাধ্যমে ও গিয়ারের মাধ্যমে করি না কেন, লস থাকবেই। তাই যত কম পাওয়ার ট্রান্সমিশন করা যায় ততই লাভ ও এ্যাফিসিয়েন্ট সিস্টেম। গাড়ীর চার চাকা একটি মটর দিয়ে চালানো যায়। আবার চার চাকায় চারটি মটর দিয়েও চালানো যায়। একটি বড় ৪০০ হর্স পাওয়ারের মটর দিয়ে আপনি গিয়ার ও শ্যাফটের মাধ্যমে গাড়ীর চার চাকায় ড্রাইভ দিলেন। একই কাজ আপনি চার চাকায় চারটি ১০০ হর্স পাওয়ারের ছোট মটর আপনি চারটি চাকায় লাগাতে পারেন। এ মোটরগুলো হতে পারে ভেরিয়্যাবল স্পীডের মটর । এতে আপনার গিয়ার ও শ্যাফটের মাধ্যমে পাওয়ার ট্রান্সমিশনের লস কমাতে পারবেন। আধুনিক গতিশীল ইলেকট্রিক গাড়ীগুলো মূলত ডাইরেক্ট ড্রাইভ মটরের মাধ্যমেই তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। এতে বড় বড় মটর লাগিয়ে হেভি গাড়ী তৈরির প্রয়োজন পড়বে না। রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমে যাবে। বৈদ্যুতিক গাড়ীতে বিদ্যুৎ খরচ কম হবে। পাওয়ার ট্রান্সমিশন লাগবে না বলে জটিল যন্ত্রপাতির খরচও অনেক কমে যাবে। যন্ত্রপাতি কম থাকায় গাড়ী কম নষ্ট হবে। চারটি মটরের যে কোন মটর নষ্ট হলে চাকাসহ মটরটি বদল করে নিলেই বৈদ্যুতিক গাড়ীটি পুনরায় চলার উপযোগী হবে। স্পেয়ার হুইলের মত সহজেই টেকনিশিয়ান ছাড়াই গাড়ীর চালক চাকা সহ যে কোন মটর বদল করলেই গাড়ী পুনরায় চলবে। এতে প্রয়োজন পড়বে না ট্রান্সমিশন ওয়েল বদলীর মত ও অন্যান্য জটিল রক্ষণাবেক্ষণ। ডাইরেক্ট ড্রাইভ জ্বালানী সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়সহ রক্ষণাবেক্ষণ খরচে একটা বিপ্লব সৃষ্টি করবে বলেই ধারনা করা যায়। আগামী দিনের জন্য ডাইরেক্ট ড্রাইভ প্রযুক্তি সবক্ষেত্রে ব্যাপক ভাবে প্রচলন হবে এটাই আমাদের সকলের আশা।

Thursday, November 3, 2016

বড় বড় সাইজের লেজারে বড় বড় কাজের প্রদর্শন


আমি বিভিন্ন অফিসে ব্যাংকে বিশাল লেজার বই অনেক পুরানো অনেক মোটা বড় বড় বই দেখে আমরা ভড়কে যাই। মনে হয় কি বিশাল লেখাপড়াই না হচ্ছে। আগের দিনের বড় মোটা বই নিয়ে টেবিলের উপর রেখে সরকার মশাইরা লেখালেখিতে বসতেন। আমি আমার অফিসের কিছু বড় বড় লেজার বা বই নিয়ে গভেষনা করে দেখলাম এগুলো ছোট করা যায় কিনা। মজার বিষয় হল সব লেজারই এ-ফোর সাইজের মধ্যে লম্বা বা চ্যাপ্টা করে করা যায়। আবার কলাম বেশী হলে কলামের মূল হেডিং ঠিক রেখে হেডিং বাদ দিয়ে কাগজ কেটে কেটে অসংখ্য কলাম করা যায়। এ লেখার শেষে একাধিক কলামের বিষয়ের প্রক্রিয়াটির আরো বিশদ আলোচনায় যাব। তাহলে এত বড় রেজিস্টার কেন? আমি অনেক একাউন্ট ক্লার্ককে এ ধরনের লেজার থেকে মুক্ত হতে বললাম। তারা কেন জানি মন খারাপ করল। আমার মনে হল, যে কোন পরিবর্তন আমরা সহজে গ্রহণ করতে চাই না। আমরা যে কোন বিষয়ে এমনকি তা যদি কঠিনও হয় তাতে অভ্যাস হয়ে গেলে তার থেকে বের হতে পারি না। অর্থাৎ কোন একটা কমফোর্ট জোনে সেট হলে তার থেকে বের হওয়া  কঠিন। আমরা এখনও অনেক প্রতিষ্ঠানে দেখতে পাই বিশাল বিশাল লেজার যা নাড়া চাড়া করার জন্য কমপক্ষে দুইজন প্রয়োজন।


আমি চাকুরীর প্রথমে যখন দেখতাম বিশাল বিশাল লেজার নিয়ে একাধিক ব্যক্তি হাজির কর্মকর্তার সাক্ষর করানোর জন্য। তখন সত্যি বেশ হাসিও পেত। বিরক্তিও পেত। তখন থেকে আমার ইচ্ছে ছিল যখনই সুযোগ পাব তখনই লেজারগুলো ছোট করে ফেলব। এভাবে অনেক আপত্তি সত্ত্বেও আমি অনেক স্থানের লেজার ল্যান্ড স্কেপ লিগ্যাল পেপার সাইজে আনতে পেরেছি। আমার সাথে দ্বিমত কারী ক্লার্ককে বলেছিলাম, কোন ডিটেল আমি কমাইনি। কোন কলাম কমাইনি। তাহলে সমস্যা কোথায়? সমস্যা হল মাইন্ড সেটে। আজকের যুগে বড় বড় লেজার ভীতিকর। মনে হচ্ছে অনেক বড় বড় কর্মযঞ্জ হচ্ছে।বড়সড় বই থেকে ছোট আকারের বই বহন করতে যেমন সুবিধা তেমনি ছোট জায়গায় বের করে লেখা যায়। আর সেসব বইগুলো বড় জায়গা নিয়ে বসতে হয়। আজকের যুগে আমাদের অপ্রয়োজনীয় ও ভাউতাবাজি কাজের কোন সুযোগ নাই। বড় বড় লেজারগুলো বেশী বড় বড় কাজের প্রদর্শন করে একটা ভাউতাবাজি পরিবেশের সৃষ্টি করে। সবচেয়ে ভাল হয় কম্পিউটারে সমস্ত লেজার আপডেট করা। তারপর সাপোর্টিং হিসাবে প্রিন্ট করে বছর ওয়ারী বাধাই করে রাখা যায়। আধুনিক ব্যাংকগুলো অবশ্য তা করছে। কম্পিউটারে প্রিন্ট করে নিলে তা ছোট ফন্টে এ-ফোর সাইজ কাগজে সংরক্ষণ করা সম্ভব।
একজন ক্লার্কের সাধারণ ভাবে এক্সেলে কিছু ঞ্জান সঞ্চয় করতে পারলেই একাউন্টিং ও লেজারের অনেক কাজ সে নিজের মেধা ও মনন খাটিয়ে করে নিতে পারবে। প্রতিষ্ঠানের ছোট খাট কোন কাজে সাধারণত এক্সেলই যথেষ্ট। এর জন্য অনেক টাকা খরচ করে কাস্টমাইজড সফটওয়্যার তেমন জরুরী নয়।


আবারও আসি ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। আপনি একদম ডিটার-মাইন্ড যে কম্পিউটারে কোন কাজ করবেন না। যা করবেন তা খাতায় লিখিত ভাবে করবেন। অনেক কম্পিউটারে কোন কাজ করতে চায় না নিরাপত্তার ভয়ে। কম্পিউটারের যে কোন ফাইল ও তথ্য সবচেয়ে সহজে পাচার করা যায়। সেজন্য সরকারী ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে অনেক প্রতিষ্ঠানই ম্যানুয়াল লেজার সংরক্ষণ করতে চাইবেন। এতে অনেক কলাম তৈরি করা ছোট লেজারের জন্য একটা বড় সমস্যা। প্রথমত: লেজারের লাইন বা রো-তে কোন সমস্যা নেই। লাইন বা রো বাড়াতে হলে পরের পেইজে চলে গেলেই হল। সমস্যা কেবলমাত্র কলাম নিয়ে। এটাও কোন সমস্যা নয়। এটাও অন্য পৃষ্ঠায় পার করা যাবে। তার আগে লেজারের মেইন কলামের লাইন বা রো এর মুল ক্রমিক ঠিক রেখে পরের পৃষ্ঠাগুলো প্রথম বা দ্বিতীয় কলাম বরাবর কেটে ছোট করে নিলেই একাধিক পৃষ্ঠা সহ একাধিক কলাম দেয়া যাবে। একটা সম্পূর্ণ হিসাব শেষ হলে পুনরায় একই ভাবে প্রথম কলাম স্থির রেখে অন্য পাতাগুলো কেটে নিয়ে অনেক কলাম বসানো যাবে। অনেক সময় এ,বি,সি লিখে অনেক নোটবুকে মার্ক স্থাপনের জন্য প্রথম কলামে কেটে রাখা থাকে। পদ্ধতিটিতে ওই ধরনের নোট বুক আকারে কাটা হয়। তবে এতে কেবলমাত্র লাইন বা রো এর ক্রমিক বরাবর অন্য কলামগুলি আনার জন্য প্রথম কলাম স্থির রেখে প্রথম কলামের প্রস্থের মাপের পর অন্য পৃষ্ঠাগুলো আড়াআড়ি কেটে ফেলা হয়। এতে অগণিত কলাম ও অগণিত পৃষ্ঠা প্রথম কলামের বরাবরের লাইন ও রো ঠিক রেখে তৈরি করা যায়। পরিশেষে বলব, লেজারিং কাজকে জটিল না করে আমরা সহজে বহনযোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য লেজারের মাধ্যমে করতে পারি।

Thursday, October 27, 2016

দেশের গাড়ীগুলো পরিবেশ বান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ীতে রূপান্তর করা প্রয়োজন

সারা পৃথিবীতে বৈদ্যুতিক গাড়ী ব্যবহার একটা আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। আমেরিকার অনেক শহর, চীনের অনেক শিল্প নগরী ধোয়ায় ঢেকে আছে, সেসব শহরে অতি দ্রুত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের নি:গমন কমাতে হবে। শহর গুলোতে বাতাসে ৫১% দূষণ হয় গাড়ীর ধোয়া হতে। বাংলাদেশের রাজশাহী ব্যাটারির গাড়ীর ব্যবহার উৎসাহিত করে ও অনেক গাছ পালা লাগিয়ে ২০১৬ সালের প্রথম দিকে পৃথিবীর সবচেয়ে সফল দূষণ কমানোর জন্য বিশ্বের সকল শহরের মধ্যে ১ম স্থানটি অর্জন করেছে। যারা স্বীয় চেষ্টায় পরিবেশের দূষণ রোধ করতে পেরেছে। বাংলাদেশের একটা সিটি কর্পোরেশন পৃথিবীর বুকে ১ম অবস্থানে আছে। আমাদের এই উদাহরণ পৃথিবীর বড় বড় শহর গুলির জন্য অনুকরণীয়।

বাংলাদেশের ঢাকা শহরে অতিদ্রুত তৈলের গাড়ী বর্জন করে ইলেকট্রিক সিস্টেমে ট্রেন, মেট্রো, বাস ,কার ও অটো রিক্সা ব্যাপকভাবে প্রসারিত করা প্রয়োজন। সরকারী কোন ট্রান্সপোর্ট ইলেকট্রিক সিস্টেম ব্যতীত পরিকল্পনা করা অনুচিত। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশই ২০২০ থেকে ২০৩০ এর মধ্যে তৈলের গাড়ী হটানোর পরিকল্পনা করেছে। সবাইকে ইলেকট্রিক কার চালনায় উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আমাদের দেশের মানুষের কাছে সেই দিন এটা জনপ্রিয়তা পাবে যেদিন এটার মূল্য কমে আসবে। হাইব্রিড গাড়ীতে থাকে  সাধারণ পেট্রোল ইঞ্জিন আর সাথে যোগ হয় ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক মটর। যারা অল্প দূরত্বে ভ্রমণ করেন ও কেবলমাত্র শহরে গাড়ী চালান তারা ইন্টারনাল কম্বারসন ইঞ্জিন বা আইসি ইঞ্জিন বাদ দিতে পারেন। শুধুমাত্র ব্যাটারি দিয়ে গাড়ী তৈরি করে নিতে পারেন। হাইব্রিডের গাড়ীর মধ্যে আছে মূলত: দুই ধরনের। প্যারালাল ও সিরিজ বা প্লান ইন হাইব্রিড। প্যারালাল হাইব্রিড যখন বেশী শক্তি প্রয়োজন তখন চলবে তৈলে আর যখন গতি কম তখন চলবে ব্যাটারিতে। আবার গাড়ীর গতি কমালে ও ব্রেক চাপলে সেই শক্তি পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ব্যাটারিতে জমা হবে। এতে প্রায় ১০% বিদ্যুৎ রিজেনারেশন ব্রেক সিস্টেম থেকে পাওয়া যাবে। অপরদিকে সিরিজ হাইব্রিড প্রধানত চলবে চার্জকৃত ব্যাটারিতে। যখন ব্যাটারির চার্জ শেষ হবে তখন তার তৈলে চালিত জেনারেটর চালু হবে। যা কিনা গাড়ীর মটরে বিদ্যুৎ দিয়ে গাড়ী চালাবে ও ব্যাটারি চার্জ করবে।
চীন এখনও ইলেকট্রিক কার তৈরি করে ব্যাপক হারে নিজ দেশের বাজার সয়লাব করতে পারেনি। তাই আমরা ব্যাপক হারে চাইনিজ ইলেকট্রিক কার বাজারে দেখছি না। আমরা যে হারে চাইনিজ ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা দেখছি সেই হারে বৈদ্যুতিক কার চায়না আমাদের দেশে পাঠায়নি। চায়না ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের সমস্ত কার ইলেকট্রিক করে ফেলবে। ইলেকট্রিক কারের উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি এখনো আমেরিকার মধ্যেই মূলত: সীমাবদ্ধ। শ্রীঘই সমস্ত পৃথিবীতে বৈদ্যুতিক কারের বিস্ফোরণ হবে। ভারত ব্যাপক হারে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০০৮ সালে যখন বৈদ্যুতিক গাড়ী চালু হওয়ার পরে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি প্যাকের দাম ছিল প্রায় কিলোওয়াট প্রতি ১০০০ ডলারের উপর। এই মূল্য ২০১৫/২০১৬ সালে এসে ২০০ ডলার পার কিলোওয়াট এসেছে। এটা দেখা যাবে ১০০ ডলার পার কিলোওয়াট মূল্যে চলে আসলেও আশ্চর্য হওয়ার কোন কারণ নেই। কারণ বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ীর চাহিদা বাড়লে ব্যাটারির উৎপাদন বাড়বে ও মূল্য কমবে। বৈদ্যুতিক ব্যাটারি সম্পূর্ণ রিসাইক্যাল করা যাবে। অনুরূপ ভাবে গাড়ীর প্রতিটি জিনিষ রিসাইক্যাল আইটেম দিয়ে তৈরি এবং পুনরায় রিসাইক্যাল করা যাবে। এভাবে বৈদ্যুতিক গাড়ীর আইডিয়ার সাথে সাথে একে আরো পরিবেশ বান্ধব ভাবে চিন্তা করা হয়েছে। একটা তৈলের জ্বালানীর গাড়ীকে বৈদ্যুতিক গাড়ীতে রূপান্তর করতে আমাদের প্রয়োজন হবে চার্জ কন্ট্রোলার, ব্যাটারি, ইনভার্টর (যদি এসি মটর হয়), শক্তিশালী মটর। আমাদের সকল গাড়ীতে কিন্তু স্টার্টর মটর আছে। আমাদের প্রয়োজন হবে এর চেয়ে বড় মাপের মটর। আমাদের গাড়ীতে ব্যাটারি আছে। প্রয়োজন হবে এর চেয়ে বেশী শক্তির একাধিক ব্যাটারি।
এখন আসি গাড়ীর জ্বালানী খরচ। একটা গাড়ী যদি ১০০ কিমি রেঞ্জের হয় তাহলে এতে ১৭/১৮ কিলোওয়াটের ব্যাটারির প্রয়োজন হবে। বর্তমান বাজার দরে এর দাম ৩৫০০ ডলারের নীচে হবে অর্থাৎ টাকায় দাম হবে ২৮০০০০ টাকা। এই  ব্যাটারির প্যাক দিয়ে যাতায়ত করা যাবে আনুমানিক ২৩০০০০ কি:মি। সারা বছর গাড়ীর জন্য বিদ্যুৎ চার্জে আমেরিকানরা বিদ্যুৎ বিল দেয় ২৫০ ডলারের মত। এতে ব্যাটারির পূর্ণ লাইফ চালাতে ৬ বছরে ১৫০০ ডলার বিদ্যুৎ খরচ ধরা যায়। সর্বমোট খরচ ৫০০০ ডলার বা ৪,০০,০০০ টাকা। তাহলে কিলোমিটার প্রতি খরচ ৪,০০,০০০ ভাগ ২,৩০,০০০=১.৭ টাকা। অপরদিকে সিএনজিতে খরচ যায় কি:মি: প্রতি ৪ টাকা। তৈলে খরচ প্রায় ১০ টাকা। একটা ব্যাটারির লাইফ টাইমে পেট্রোল থেকে সাশ্রয় ১০-১.৭=৮.৩ টাকা। তাহলে ব্যাটারির সম্পূর্ণ লাইফ (৬-১০ বছরে) টাইমে সাশ্রয়/লাভ=১৯,০৯,০০০ টাকা। আর্থিক লাভ হতে বেশী লাভ হল এটা পরিবেশ বান্ধব। গাড়ীর সমস্ত কিছু রিসাইক্যাল করা যাবে। বিশেষ করে ব্যাটারি ১০০% রিসাইক্যাল করা যাবে।
আমাদের এত লাভের হিসাব পেলে আমরা নিশ্চয়ই ব্যাটারি গাড়ী কিনে ফেলব। আমাদের যাদের পুরাতন গাড়ী আছে তারা কি করব। এত ভাবনা চিন্তার প্রয়োজন নেই। আশা করি আর বছর পাঁচেকের মধ্যে আমাদের দেশের বুদ্ধিমান লোকেরা আমাদের সাধারণ গাড়ীগুলোকে ব্যাটারি গাড়ীতে কনভার্ট করে ফেলবে। প্রথমে তারা অটো রিক্সার মতো এসিড ব্যাটারি সামনে পিছনে বসিয়ে নিবে। এতে চার পাঁচ বছর ব্যবহার করা যাবে। সামনে যখন লিথিয়াম আয়ন বা কার্বন ব্যাটারির আরো সাশ্রয়ী দাম হবে তখন গাড়ীতে লিথিয়াম আয়ন দিয়ে কনভার্ট করা যাবে। একসময় আমরা কম কার্বন নি:স্মরণকারী সাশ্রয়ী প্রাকৃতিক গ্যাসে আমাদের গাড়ীগুলো রূপান্তর করে নিয়েছিলাম। এখন সময় এসেছে আমরা ধীরে ধীরে ব্যাটারিতে রূপান্তর করব। তারপর আমরা আমাদের বাড়ীতে আর কর্মস্থলে সোলার প্যানেল আর সূর্যের আলো না থাকলে সে সমস্ত গাড়ী বিদ্যুতে চার্জ করব। আমরা বিদ্যুৎ দিয়ে সবকিছু চালনা করব। তেমনি বিদ্যুৎ তৈরি করব নবায়ন যোগ্য জ্বালানী হতে।

সময় সবকিছু বলে দিবে। আমি পরিবেশ সচেতন ও প্রযুক্তি প্রেমিক বলে আগে আগে বৈদ্যুতিক গাড়ীর বিষয়টি অবতারণা করলাম। এটা অনেকের কাছে হাস্যকর মনে হতে পারে। শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার একসময় আমরা সবাই বৈদ্যুতিক গাড়ী ব্যবহার করব। এখনই বৈদ্যুতিক গাড়ীর রেসিং কার তৈরি হয়েছে। গতিতে কম্প্রোমাইজ করা হয়নি। ব্যাটারির গাড়ীতেও আরামদায়ক এসি থাকছে। ইনশাল্লাহ ২০২১ সালের মধ্যে অর্থাৎ আজ থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বেচে থাকলে আমিও একটা বৈদ্যুতিক কারের মালিক হওয়ার পরিকল্পনা করছি। আপনার বৈদ্যুতিক কারে চরম অপছন্দ থাকলেও আপনি আমার ১০ থেকে ১৫ বছর পরে এগুলো কিনবেন। কারণ আপনি আপনার অপরিচ্ছন্ন তৈলের গাড়ীর পার্টস আর বাজারে পাবেন না। আসুন যারা সামর্থবান আছেন এখনই পরিকল্পনা করুন আপনার গাড়ীটিকে বৈদ্যুতিক গাড়ীতে রূপান্তর করতে। পরিবেশ বাদ্ধব বিধায় এতেই আমাদের সকলের জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

Thursday, October 20, 2016

জ্বালানী সাশ্রয়ী ছোট ইনভার্টার জেনারেটর

বৈদ্যুতিক লোড শেডিং এ জন্য অনেক সময় আইপিএস যথাযথ সময় ব্যাকআপ না দিতে পারলে আমাদের জেনারেটর প্রয়োজন হয়। সকল সংস্থা যারাই অফিসের বাইরে কোন কাজ করেন তাদেরই জেনারেটর প্রযোজন হয়। সেনাবাহিনীর অনুশীলন ও অন্যান্য ক্যাম্পিং এর জন্য জেনারেটর প্রয়োজন হয়। কিছুদিন আগেও ক্যাম্পিং এর কিছু লাইট জ্বালানোর জন্য প্রয়োজন হত কমপক্ষে পাঁচ কেভি জেনারেটর। বর্তমানে সাশ্রয়ী এলইডি লাইট ও অন্যান্য সাশ্রয়ী প্রযুক্তির কারনে কমশক্তির জেনারেটর দিয়ে আমরা অনেক কাজ করতে পারব।

যে কোন জেনারেটর ২২০ ভোল্ট ও ৫০ হার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি বজায় রাখার জন্য ৩৬০০ আরপিএম এ ঘুরতে থাকে। ইনভার্টার জেনারেটর লোড অনুযায়ী ২৫% পর্যন্ত মুল ক্যাপাসিটির আরপিএম এ ঘুরতে পারে। এতে প্রচুর জ্বালানী সাশ্রয় হয়। ইনভার্টার জেনারেটর প্রায় ৪০% জ্বালানী সাশ্রয় করতে পারে। সাধারণত এতে কোন ফ্লাই হুইল ব্যবহার করা হয় না। পিস্টন থেকে জেনারেটর সরাসরি ড্রাইভ পায়। এতে প্রাথমিকভাবে অপরিশোধিত এসি বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এই এসি বিদ্যুতটি যথেষ্ট পরিমাণ ভাল নয়। ভোল্টেজ উঠানামা করে ও ফ্রিকোয়েন্সিও পরিবর্তিত হয়। এখন এই অপরিচ্ছন্ন এসি বিদ্যুতকে রেক্টিফায়ার দিয়ে ডিসি করা হয়। উৎপন্ন ডিসিকে মাইক্রোপ্রসেসর দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে ফ্রিকোয়েন্সি ও ভোল্ট যথাযথভাবে স্থির করে বিশুদ্ধ ২২০ ভোল্ট ও ৫০ হার্টজ ফ্রিকোয়েন্সির বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়। আর ডিসি থেকে এসিতে রূপান্তরের এই প্রক্রিয়াটির নামই মূলত ইনভাটিং। এ কারণেই এরূপ জেনারেটরের নাম হয়েছে ইনভার্টার জেনারেটর।
ইনভার্টার জেনারেটর লোডের উপর ভিত্তি করে আরপিএম এর কম বেশী হয় আর এটাই হল এই জেনারেটরের সবচেয়ে স্মার্ট দিক। লোডের কমবেশি করে জেনারেটরের থ্রটল নিয়ন্ত্রণ করে মাইক্রোপ্রসেসর ভিত্তিক সার্কিট।

ইনভার্টার জেনারেটর এখন পর্যন্ত বিভিন্ন কোম্পানি ৪০০০ ওয়াটের বেশী তৈরি করেনি। তবে মজার বিষয় হল বেশী ওয়াটের প্রয়োজন হলে দুইটি জেনারেটর প্যারালাল সংযোগ দিয়ে লোড ৮ কেভি করা যাবে। ৪০০০  ওয়াটের বেশী ইনভার্টর জেনারেটর তৈরি না  করার পিছনে যে কারণ থাকতে পারে তা হল সাধারণ বা ননইনভার্টার জেনারেটর বেশী ক্যাপাসিটির হলে তা সাধারণত জ্বালানী এফিশিয়ন্টে হয়। যত বড় জেনারেটর হবে তত বেশী জ্বালানীর কিলোওয়াট প্রতি খরচ কম হবে। তাই বড় মাপের ইনভার্টারের খরচ অনেক বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। ৪০০০ ওয়াট ইনভার্টার জেনারেটর কিন্তু ব্যবহারের জন্য কম নয়।
৪০০০ ওয়াট জেনারেটরে কি কি সামগ্রী চালানো যাবে:
১। ১.৫ টনের ইনভার্টর এসি: ১৫০০ ওয়াট।
২। একটি রিফ্রিজিরেটর: ৩০০ ওয়াট।
৩।  এনার্জি এফিশিয়েন্ট ৫টি সিলিং ফ্যান: ৬৫ গুন ৫= ৩২৫ ওয়াট।
৪। স্মার্ট টিভি: ১২৫ ওয়াট
৫। ল্যাপটপ কম্পিউটার: ৫০ ওয়াট।
৬। এলইডি লাইট ৭০টি/মোবাইল চার্জার/রাউটার ইত্যাদি=৭০ গুন ১০=৭০০ ওয়াট।
৭। ইনভার্টর মাইক্রোওয়েভ ওভেন/আয়রন/ ইনভার্টর ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদি চালানো: ৫০০/৭০০ ওয়াট।
৮। আরো অন্য কিছু চালানো যাবে এসি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে।
৯। সর্বমোট: ৪০০০ ওয়াট।

ইনভার্টার প্রযুক্তির গৃহ স্থলীর বৈদ্যুতিক সামগ্রী ব্যবহার করে অনেক অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যায়। উপরে ৪০০০ ওয়াটের হিসাব দিলেও  একসাথে এত ব্যবহার কখনোই হবে না। তাই ১০০০ ওয়াট এক ধরনের জ্বালানী খরচ হবে। ২০০০ ওয়াটে আর একটু বেশী এবং ৩০০০ ওয়াটে প্রায় সম্পূর্ণ শক্তির জ্বালানী খরচ হবে। এই এধরনের ওয়াটের কম বেশীর জন্য জ্বালানী ব্যবহারেরও তারতম্য হতে থাকবে।

আমাদের বাংলাদেশের আর কয়েক বছর পর ক্যাম্পিং এর জন্য বিদ্যুতের অভাব হবে না। কারণ গ্রামের আনাচে কানাচে এখন বিদ্যুৎ পৌঁছে গিয়েছে তবু বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা অন্য কোন কারণে হাতের পাঁচ হিসাবে ইনভার্টার জেনারেটর খুবই উপকারী একটি সামগ্রী হবে তা নি:সন্দেহে বলা যায়।

এধরনের জেনারেটর বিয়ে বা অন্য কোন অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা যাবে। একটি জেনারেটরের শক্তি পর্যাপ্ত না হলে আরো একটি একই শক্তির জেনারেটর সমান্তরাল ভাবে সংযোগ দিয়ে শক্তি বাড়ানো যাবে। জেনারেটরের এ ফিচারটি অত্যন্ত ভাল এবং কার্যকরী। সারা পৃথিবী চলছে এখন কার্বনমুক্ত জ্বালানী থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন। ইনভার্টার জেনারেটর জ্বালানী সাশ্রয় করে কার্বন নি:স্মরণ কমাতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে। হয়ত বেশীদিন দূরে নয় যখন আমরা পরিবেশের বিবেচনায় জ্বালানী সাশ্রয়ী ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সামগ্রী ব্যবহার করে আমরা সকলে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখব।

Thursday, October 13, 2016

সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি শতভাগ রিসাইক্যাল যোগ্য গ্রীন এনার্জি

আমি অনেকের সাথে গ্রিন এনার্জি নিয়ে আলোচনায় প্রায়ই কয়েকটা প্রশ্নের মুখোমুখি হই। প্রথম প্রশ্ন। সোলার প্যানেল তৈরি করতে অনেক বিদ্যুৎ ও তাপ প্রয়োজন হয়। সেই বিদ্যুৎ ও তাপ ফসিল ফুয়েল হতে আমাদের নিতে হয়। প্রথমত আমরা সৌর প্যানেল তৈরির সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সোলার বা নবায়নযোগ্য জ্বালানী উৎস হতে নিতে পারি। তেমনি সিলিকন গলিয়ে প্যানেল বানানোর ফার্নেসও আমরা সোলার কণসেনট্রেটরের মাধ্যমে পেতে পারি। তাই সোলার তৈরির প্রতিটি পর্বেই আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানী ও সৌরশক্তির ব্যবহার করতে পারব। এখন আসি সোলার প্যানেলের আয়ু। সোলার প্যানেলে সাধারণত ২০/২৫ বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টি দেয়া হয়। কিন্তু পৃথিবীতে ৬০ বছরের প্রাচীনতম সোলার প্যানেল এখনও বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যাচ্ছে। পৃথিবীর উপরে বায়ুমণ্ডলে স্থাপিত অনেক স্যাটেলাইট দীর্ঘদিন (আনুমানিক ৫০/৬০ বছর)ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যাচ্ছে। হয়ত আরো অনেক অনেক বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যাবে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করলে সৌর প্যানেলগুলো বছরের পর বছর অল্প অল্প করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হারাতে থাকবে। তথাপিও ৫০ বছর পরেও এগুলো সন্তোষজনক মানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। আমাদের অনেক ইলেক্ট্রনিক দ্রব্যাদি দুই বছর ওয়ারেন্টি থাকলেও তা অনেক সময় তিন চার বছর অর্থাৎ ওয়ারেন্টির দ্বিগুণ লাইফ টাইম পার করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ২৫ বছর দেয়া ওয়ারেন্টি থাকলে তা দ্বিগুণ সময় সহজেই পার করতে পারবে। যদি ৫০ বছর সোলার প্যানেল বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তবে তা বিশাল অর্জন। যদি ১০০০ ওয়াটের প্যানেল এখনকার দামে ওয়াট প্রতি ৬০ টাকা খরচ করি তবে ১০০০ ওয়াট এর মূল্য হবে ৬০০০০ টাকা। প্রতিদিন সর্বনিন্ম ৪ ঘণ্টা( অনেক সময় ৬/৭ ঘণ্টা পাওয়া যাবে) বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তবে এক দিনে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ হবে ৪ গুন ৫ টাকা ( আমাদের দেশে এক কিলোওয়াট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৫ টাকা)=২০ টাকা। তবে ৩৬৫ দিনে হবে ৩৬৫ গুন ২০ টাকা=৭৩০০ টাকা। ৫০ বছরে হবে ৭৩০০ গুন ৫০=৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২০১৬ সালে ধরা ৫ টাকা বিদ্যুৎ বিল ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকবে তাতে ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকার বেশী অর্জন সম্ভব। প্রায় ৩ লক্ষ ৫ হাজার টাকা লাভ হবে। সোলার প্যানেল সম্পূর্ণ রিসাইক্যাল করা যায়। রিসাইক্যাল করে প্রায় ৯৫% সিলিকন, কপার, সীসা ও এলুমিনিয়াম ইত্যাদি রিসাইক্যাল করানো সম্ভব। সোলার প্যানেল আমরা পুনরায় ৯৫% রিকভার করে পরিবেশের ক্ষতি হওয়া থেকে মুক্ত করতে পারি। নি: সন্দেহে সোলার প্যানেল আসলেই গ্রিন এনার্জি এতে কোন দ্বিমত বা বিতর্ক নেই।
এখন আসি ব্যাটারির বিষয়ে। অনেকের মত আমিও জানতাম ব্যাটারি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।  কিন্তু ব্যাটারির রিসাইক্যাল বিষয়ে কিছু স্টাডি করে দেখলাম। ব্যাটারি পরিবেশের জন্য মোটেই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। ব্যাটারি তৈরির প্লান্টটি হতে পারে সম্পূর্ণরূপে রিনিউয়েবল এনার্জি নির্ভর তাহলে ব্যাটারি তৈরির জন্য পরোক্ষভাবে আমরা পরিবেশের ক্ষতি করব না। এবার আসি রিসাইক্যালের জন্য প্লান্টটিও আমরা রিনিউবল এনার্জি নির্ভর করে নিব। রিসাইক্যালের ব্যাটারির প্লাস্টিককে আলাদা করে তা গলিয়ে পুনরায় ব্যাটারির প্লাস্টিক কেসিং বানানো সম্ভব। ব্যাটারির এসিড লবণ মিশ্রিত করে ডিএসিডিক করে  পরিশোধন করে ভূমিতে পরিচ্ছন্ন পানি হিসাবে মুক্ত করা সম্ভব। ব্যাটারি শীশা ও কপার গলিয়ে পুনরায় ব্যাটারির প্লেট বানানোর কাজে লাগানো যায়। অপরদিকে নিকেড ব্যাটারি ও লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি বর্তমানে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রিক গ্যাজেটে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা যায়। এগুলো সবই চমৎকারভাবে রিসাইক্যাল করা যাবে।

সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি এগুলোর বিষয়ে যাদের ধারনা আছে এগুলো তৈরিতে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে।  ব্যবহার শেষে এগুলো দ্বারা ভূমি দূষণ হচ্ছে। এ ধারনায় যারা ছিলেন তারা নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট হতে পেরেছেন। সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি নবায়নযোগ্য জ্বালানী  ব্যবহার করে উৎপাদন করা সম্ভব। এগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহার করে পুনরায় রিসাইক্যাল করা সম্ভব। রিসাইক্যালে ৯৫% রিকভারী সম্ভব। সবার শেষে অবশ্যই সোলার প্যানেল ও ব্যাটারিকে সম্পূর্ণ গ্রিনে এনার্জির তকমা দিতেই হবে এবং আমরা নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারি। ব্যবহার শেষে ডানে বামে ফেলে না দিয়ে রিসাইক্যাল ফ্যাক্টরিতে পাঠিয়ে  দিলে পরিবেশের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা কমাতে পারি। তদুপরি আমরাও পরিবেশ সচেতনতার প্রমাণ দিতে পারি।

Thursday, October 6, 2016

ফসলী জমিতে ফসলের সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদন

নবায়নযোগ্য জ্বালানী নিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করা হল আমার একটি অভ্যাস। এই অভ্যাসের কারণে কয়েকদিন আগে  ইন্টারনেট হতে কিছু তথ্য পেয়ে আমার বেশ আনন্দ হয়েছে। বাংলাদেশ ছোট একটি দেশ। কৃষিনির্ভর দেশ। স্বাধীনতার পর অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে আমরা কৃষিতে স্বনির্ভরতার দিকে অগ্রসর হয়েছি। ২০১৪ সালের পর থেকে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে হাঁটছি। আর তখনই আমাদের সামনে একটি অদ্ভুত আবেদন পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো হতে। আর তা হল কোন ফসিল ফুয়েল জ্বালানী নয় সৌর শক্তি থেকে বিদ্যুৎ তৈরি। বিদ্যুৎ তৈরি করতে জমি প্রয়োজন। আমরা ছোট দেশে জমি পাব কোথায়।

এ বিষয়ে জাপানের কিছু কৃষি বিজ্ঞানী ১৯৯৪ সাল থেকে অনেক ভাবে গভেষনা করে জমিতে সোলার  প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটা পদ্ধতি বের করে। পদ্ধতিটা হল, তারা প্রমাণ পায় জমিতে ৩২ শতাংশ অংশ ফাকা ফাকা করে ঢেকে দিলে জমির ফসলের কোন ক্ষতি হয় না। উৎপাদন ব্যাহত হয়না। এর জন্য তারা প্রতি পাঁচ মিটারে ২/৩ হতে এক মিটার প্রশস্ত প্যানেল সাজেস্ট করে। লম্বা দেড় মিটার প্রস্থ ২/৩ মিটার প্যানেল আড়াআড়িভাবে এক মিটার দুরে দুরে সেট করা যায়। এতে ৩২ পারসেন্টের কম স্থান সোলার প্যানেলে আবরিত হবে। প্যানেলগুলি ১০ ফুট উপরে সেট করা প্রয়োজন। ১০ ফুট উপরে ফাকে ফাকে সোলার প্যানেল সেট করলে দিনের বিভিন্ন সময় সূর্যের দিক পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে প্যানেলের ফাঁক দিয়ে সৌর আলো তাপ নীচে গাছে পৌঁছাবে ও গাছের সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকবে।

সৌর প্যানেলগুলো ১০ ফুট উচ্চতায় মাচা আকারে বসাতে হবে। তবে জাপান কৃষি অধিদপ্তর আবার একটা শর্ত দিয়েছে মাচার পিলারগুলোর বেইজ পাকা করা যাবে না। ঝড় ও বাতাসের তীব্রতা থেকে মুক্ত রাখার জন্য যতদূর প্রয়োজন গভীর করা যেতে পারে। জাপানী বিঞ্জানীরা দুই ফুট গভীরে বসিয়ে ১০ ফুট উপরে ৩ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ দিয়ে পিলার গুলো বানিয়ে নিয়েছে। তারা মাচাটা এমনভাবে তৈরি করে নিয়েছে এবং প্যানেলগুলো সেট করেছে যাতে দিনের বিভিন্ন সময় সৌর আলোর দিক পরিবর্তনের সাথে সাথে ঘুরানো যায়। পিলারের উচ্চতা ও পিলার থেকে পিলারের দূরত্ব এমনভাবে সেট করা হয়েছে যাতে ট্রাক্টর ও হারবেস্টর এর ভিতর দিয়ে সমস্যা ছাড়া চালনা করা যায়। জাপানের রৌদ্রের সাধারণ তাপমাত্রা অপেক্ষা আমাদের দেশে তাপ বেশী তাই এই ব্যবস্থা আমাদের দেশে করলে জমি সান বার্ন কম হবে। জমির পানি ও রস কম বাষ্পীভূত হবে। এতে জমি বেশী পরিমাণে উর্বর থাকবে। পানি কম দেয়া লাগবে। ফসলের উৎপাদন বাড়বে। জমির উপরে ৩০/৩২% ছায়া থাকায় কৃষিকাজ করতে কৃষক কম সান বার্ন হবে। প্যানেলের ছায়ায় থেকে থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী সময় কাজ করতে পারবে। কৃষক কম পরিশ্রান্ত হবে বেশী পরিমাণ উৎপাদনশীল থাকবে।

জাপানের কৃষকরা এর নাম দিয়েছে সোলার শেয়ারিং। জাপানের কৃষি কাজে সরকার বরাবর ভর্তুকি দিয়ে আসছে। তথাপি বর্তমান ও আধুনিক জেনারেশনের কৃষিকাজে আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তার একমাত্র কারণ কৃষিকাজে অন্যান্য শিল্প কারখানা থেকে আয় রোজগার কম। কিন্তু সোলার শেয়ারিং জাপানের যুব সমাজকে কৃষিতে ফেরত আনবে বলে মনে করা যায়। জাপানে এক বিঘা জমিতে  ফসল থেকে সাধারণত আয় আসে ১ লক্ষ ইয়েন। ১ ইয়েন আমাদের এক টাকার কাছাকাছি (০.৭৭ টাকা) অপর দিকে সৌরবিদ্যুত এর আয় ১ লক্ষ ৬০ হাজার ইয়েন। এক বিঘা জমি হতে বছরে সর্বমোট ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা কৃষক পাচ্ছে । যা কিনা তার ফসলের আয় হতে ১.৬ ভাগ বেশী। এখানে আর একটি বিষয় আছে জাপানে বেসরকারি ব্যক্তি বর্গের কাছ থেকে সরকার ৪২ ইয়েন দামে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ক্রয় করে। আমাদের দেশে সরকার সবোর্চ্চ ১৫ টাকা রেটে পিংকিং পাওয়ারের ডিজেল জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করে থাকে। অবশ্য বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত সুলভ মূল্যে ৩ টাকা হতে ৮ টাকার মধ্যে বিভিন্ন শর্ত সাপেক্ষে বিদ্যুৎ বিক্রয় করে থাকে। ফলে আমাদেরে দেশ অপেক্ষা জাপানে জমির উপর বিদ্যুৎ বিক্রয় করা অনেক লাভজনক।

বাংলাদেশের মত ঘনবসতির দেশে জাপানের এই উদাহরণটি বেশ গুরুত্ব পেতে পারে। কারণ আমাদের মূল্যবান জমিগুলি সোলার শেয়ারিং এর কাজে ব্যবহার করলে কৃষক যেমন লাভবান হবে আমাদের দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানীতে অনেকদূর এগিয়ে যাবে।  

Thursday, September 29, 2016

ভাসমান সৌর বিদ্যুৎ প্লান্ট

পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো আজ একটা চিন্তায় বিভোর আর তা হল পরিবেশ বান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। পরিবেশ বান্ধব বিদ্যুৎ হল আগামীর যুদ্ধ। এই যুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়। সোলার হোম সিস্টেমে ৪৫ লক্ষ সোলার প্যানেল বাড়িঘরে বসিয়ে আমরা ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করে ফেলেছি। অথচ এখন সময় এসেছে শুধুমাত্র বিদ্যুৎহীন বাসাবাড়ির জন্যই কেবল সোলার বিদ্যুৎ নয় আমাদের কলকারখানা ও যানবাহন সমস্ত কিছুই সৌর বিদ্যুতে চালাতে হবে। এছাড়া মুক্তি নেই। ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে বাচাতে হলে বন্ধ করা প্রয়োজন কার্বন নি:স্বরনকারী ও পরিবেশ দূষণকারী বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো। আমাদের বাংলাদেশে মানুষ বেশী। প্রতি বর্গ কিমি পৃথিবীর ঘনবসতির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম সারিতে আছে। আমাদের জমির পরিমাণ কম। তবে কি আমরা পারব না সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে। অবশ্যই তা সম্ভব। বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম সৌর শক্তির প্রাপ্তির দেশগুলো সৌরশক্তি উৎপাদনে এতদূর এগিয়ে গেছে তা ভাবতে অবাক লাগে। অথচ আমাদের বাংলাদেশে ৩৬৫ দিনে ৩২০ দিনই ভালভাবে সূর্যের আলো ও তাপ পাওয়া যায়। তবে আমরা কোন যুক্তিতে পিছিয়ে থাকব। বাংলাদেশের জলাধারের পরিমাণ ৫.২৮ লাখ হেক্টর অর্থাৎ মোট আয়তনের ১১.৫৪ শতাংশ। এই জলাধারের যদি আমরা ২০% ব্যবহার করি তাহলে আমাদের ব্যবহৃত জলাধার হবে ১,০৫,৬০০ হেক্টর জলাধার বা ২,৬০,৮৩২ একর। প্রতি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন অনধিক ৫ একর তাহলে ২০% জলাধারে ৫২,১৬৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে যা কিনা ২০৫০ সাল অবধি বাংলাদেশের সম্পূর্ণ চাহিদা মিটাবে।

সোলার প্যানেলের বিদ্যুৎ আমাদের দিনের চাহিদা মেটাবে। রাতের বেলার বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর জন্য আমাদের দেশের জন্য বায়ু, সোলার কনসেনট্রেটর যথেষ্ট কার্যকর নয়। তবে আমরা রাতের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানী হিসাবে ধীরে ধীরে বায়ুমসের জ্বালানী সম্প্রসারিত করতে পারি। জলাধারের উপর সোলার বসালে জলাধারের পানি কম পরিমাণ জলীয় বাষ্পে পরিণত হবে। এতে জলাধারের পানি কম শুকাবে। পানির উপর প্যানেল থাকার কারণে পানি উদ্বায়ী জলীয়বাষ্প প্যানেলকে শীতল রাখবে। এতে প্যানেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৫% শতাংশ বেড়ে যাবে। ১৫% বেড়ে যাওয়ার কারণে এটি ভূমি অপেক্ষা জলাধারের স্থাপনের বাড়তি ব্যয় সংকুলান হয়ে যাবে। অর্থাৎ ১৫% সোলার প্যানেল কম কিনতে হবে। অপরদিকে ভাসমান সামগ্রী ক্রয় করতে হবে। সবচেয়ে মূল্যবান বিষয় হল আমাদের মূল্যবান ভূমির অভাব আমরা এর মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করতে পারি।
আমাদের দেশে লক্ষ লক্ষ রুফটপ খালী পড়ে আছে। আমরা সেসমস্ত রুফটপ সবার প্রথমে ব্যবহার করার জন্য কাজে লাগাব। আমাদের যখন রুফটপগুলোর স্থান শেষ হয়ে যাবে তখন আমরা ভাসমান সোলার মডেলে যেতে পারি। অনেক পুকুরে বিভিন্ন মাছ চাষ করার জন্য পানির অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য ঘূর্ণমান পাখা বা এ্যারোটর ব্যবহার করেন। তারা সহজেই অনেক দুর থেকে বৈদ্যুতিক লাইন না এনে পুকুরে বা জলাধারে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা দিয়ে এ্যারোটরের পাখা ঘুরাতে পারেন। বাংলাদেশের অনেক স্থান আছে যেখানে সুয়ারেজ রিজার্ভারের লেক আছে। সেসব স্থানে মাছ চাষ বা সব্জি চাষ করা যায় না এবং উচিতও নয়। মাছ চাষ করলে তাতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক রাসায়নিক বেশী পরিমানে থাকে। সেই স্থানগুলি ব্যবহারে আনা যাবে। অনেক নদীর বা স্থানে মাছ চাষ হয়না। নৌচলাচল হয় না সে স্থানগুলি ভাসমান সোলারের কাজে ব্যবহার করা যায়। চট্টগ্রামের ফয়েজ লেকের মত বিস্তীর্ণ পানির আধারের উপর ভাসমান সোলার প্যানেল লাগানো হলে তা চট্টগ্রামের মেগাসিটির বেশ খানিকটা বিদ্যুৎ ব্যবহারে অবদান রাখবে ও জাতীয় গ্রিডের উপর চাপ কমাবে।

জমির সংকটের কারণে ভাসমান সোলার প্যানেল একটি অপশন মাত্র। আমাদের বাংলাদেশের মত ছোট দেশে প্রথমে আমাদের পরিত্যক্ত স্থানগুলো বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনতে হবে। তারপর কাজে লাগাতে হবে আমাদের রুফটপগুলো। তারপর আমাদের জলাধারে ভাসমান ব্যবস্থায় আমরা যেতে পারি। তবে মাছ চাষ হয় না এরূপ জলাধারগুলো এখনই আমরা আমাদের কাজে লাগাতে পারি। গ্লোবাল ওয়ার্মিং ও কার্বন নি:স্বরন বন্ধ করার এ যুদ্ধে বিশ্বের সাথে আমার দেশ ও আমরা সকলে এখনই শরীক হতে পারি।  

Thursday, September 22, 2016

জনবসতিশূন্য তপ্ত মরুভূমি আজ সৌরশক্তির মহামূল্যবান খনি

২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে দেখতে পাচ্ছি সারা পৃথিবীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহারের আন্দোলন। খালী জায়গা বের কর আর সোলার পাওয়ার প্লান্ট তৈরি কর। উন্নত দেশগুলো টাকা ও সোলার প্লান্টের সামগ্রী হতে নিয়ে বসে আছে। শুধু জায়গা পেলেই সৌর প্লান্ট বসানোর জন্য প্রস্তুত। টাকা আছে। সমস্ত সামগ্রী মজুদ আছে। শুধুমাত্র  খোলা ভূমি চাই। কারণ হল, বন কাটা যাবে না। পাহাড় ধ্বংস করা যাবে না। বরফ গলানো যাবে না। এমন স্থান খুঁজতে হবে যেখানে প্রচুর সূর্যের আলো ও তাপ পাওয়া যাবে। কিন্তু ফসল নষ্ট করা যাবে না। সেই স্থানগুলি কি হতে পারে। আর কিছুই নয় সে স্থানগুলো হল দীর্ঘদিনের অবহেলায় পড়ে থাকা মরুভূমিগুলো। আজ সেই মরুভূমি কৃষিজমি থেকেও মহা মূল্যবান। কৃষি জমির একর প্রতি ফলন থেকে আরো মূল্যবান বিদ্যুৎ তৈরির কাজে ব্যয় করার সময় এসেছে। আর তা হল সৌরশক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার। আজ পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার অপরিহার্য। খাদ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি না হলে জমিতে ফসল অপেক্ষা সৌরশক্তি উৎপাদন অধিক লাভজনক।
সাহারা পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি। আজ সেই মরুভূমির দিকে তাকিয়ে আছে গোটা আফ্রিকা ও ইউরোপ। এই মরুভূমি এখন আফ্রিকার জন্য টাকার উৎস, সুপেয় জলের উৎস ও সর্বোপরি কর্মসংস্থানের উৎস। অপরদিকে ইউরোপের মত বিদ্যুৎ এর জন্য ক্ষুধার্ত মহাদেশের জন্য প্রতিবেশী আফ্রিকার সৌর বিদ্যুৎ স্বস্থিদায়ক বিষয়। মরুভূমিতে সোলার কনসেন্ট্রেটর অনেক বেশী উপকারী। সোলার কনসেন্ট্রেটর সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে। এটি অতি সহজ প্রযুক্তি। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি রাতের জন্য থার্মাল কনটেইনারে তপ্ত গলিত লবণ জমা করে। যখন সূর্যের আলো থাকে না তখন এই গলিত লবণ বিদ্যুৎ তৈরি করে। বিষয়টি সহজ ভাবে বুঝিয়ে বলছি। মনে করি ১০০ একর একটা জমিতে আপনি কয়েক হাজার বড় বড় আয়না স্থাপন করলেন। আয়না গুলোর মাঝে শত মিটার উঁচু একটি টাওয়ার স্থাপন করুন। সেই শত মিটার উঁচু টাওয়ারের উপর আয়নাগুলো হতে সূর্যের আলোর প্রতিফলন ফেলুন। টাওয়ারটির যেখানে সূর্যের আলো পড়ছে সেখানে পাইপের কয়েল বানিয়ে নিলে সেই পাইপের ভিতর দিয়ে তরল প্রবাহিত করলে তা অনেক অনেক উত্তপ্ত হয়। প্রথমে তরল লবণ ২৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা নিয়ে পাইপের মাধ্যমে টাওয়ারের মধ্য দিয়ে ৫২৯ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপে উত্তপ্ত হয়ে একটা ইনসুলেটেড কনটেইনারে জমা হয়। সেই ইনসুলেটেড কনটেইনারে গলিত লবণের ২৪ ঘণ্টায় মাত্র .৫ ডিগ্রি তাপ কমে। এই উত্তপ্ত গলিত লবণ পানির সংস্পর্শে পানিকে বাষ্পে পরিবর্তন করে। সেই বাষ্প বা স্টিমে জেনারেটরের চাকা ঘুরে আর বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে থাকে। বাষ্প তৈরি করার পর পুনরায় গলিত লবণ অন্য একটি রিজার্ভ কনটেইনারে ২৩০ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড তাপ নিয়ে চলে আসে। সেখান থেকে পুনরায় টাওয়ারে উঠে ৫২৯ ডিগ্রি পাওয়ার জন্য। এভাবেই চক্রাকারে চলমান থাকে পুরো প্রক্রিয়াটি। সূর্যতাপে ব্যাটারিতে জমা ব্যতীত রাতের বিদ্যুতের ব্যবস্থা ছিল না। এখন আর সেই সমস্যা নেই। সৌরতাপ উত্তপ্ত লবনে মজুদ রেখে রাতেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে সৌরশক্তির আধার মরুভূমিগুলোকে করেছে আরো বেশী উৎপাদনশীল। যেসব দেশে মরুভূমি আছে তাদের এসেছে সুদিন। তারা পাবে অফুরন্ত বিদ্যুৎ আর তার উপজাত হিসাবে সমুদ্রের পানিকে বাষ্প করে সুপেয় খাবার জল ও লবণ। সোলার কনসেট্র্রেটর পৃথিবীর অনেক দেশই তৈরি করেছে এবং এটা ক্রমান্বয়ে ব্যাপক হরে বাড়বে। বাংলাদেশ মরুভূমি না থাকলেও চর অঞ্চলে বা সমুদ্র উপকুলে ছোট আকারে করা যেতে পারে।
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে জার্মানি ২৬০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সৌরশক্তি থেকে উৎপাদন করে চলেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে জার্মানি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সৌর, বায়ু ও বায়ুমস থেকে উৎপাদন করবে ঘোষণা দিয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তারা তারও আগে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে। বাংলাদেশ ৪০০ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ২০১৬ সালে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ভূমির অপ্রতুলতা। পৃথিবীর ঘনবসতির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশে আজ পাহাড় সবুজ ফসলে মোড়া। অফসলী জমি বাংলাদেশে বিরল। বাংলাদেশে সোলার কনসেন্ট্রেটর ব্যবহার করার মত জায়গা কম। বাংলাদেশের জন্য অন্যতম ব্যবস্থা হল সোলার পিভি সিস্টেম। আর এগুলো লাগাতে হবে ছাদের উপর। ঘরের চালে। খালের উপর। রেললাইনের উপর। তৈরি করতে হবে পানির উপর ভাসমান সোলার সিস্টেম। জাপানের মত জমির ফসলের সাথে সোলার প্যানেলের শেয়ারিং ব্যবস্থাটি আমরা অনুসরণ করতে পারি। ইংরেজিতে সোলার শেয়ারিং জাপানদিয়ে ইন্টারনেটে সার্চ দিলে আমরা এ ধরনের অগণিত তথ্য, ছবি ও ভিডিও পাব।
আজ থেকে হয়ত ২০০৭/২০০৮ সালে যখন জ্বালানী তৈলের দাম অনেক অনেক বেশী ছিল আমরা সকলে শঙ্কিত ছিলাম পৃথিবীর জ্বালানীর ভবিষ্যৎ নিয়ে। তার পরই পৃথিবীব্যাপী নবায়ন যোগ্য জ্বালানীর ব্যবহার পৃথিবীর সামগ্রিক প্রেক্ষাপট পাল্টে দিল। ২০১৬ সালে পৃথিবী ব্যাপী জ্বালানী তৈলের মূল্য অনেক অনেক কমে গেল। মনে হয় ২০৩০ সালের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ী ও নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হলে ফসিল ফুয়েলের মূল্য আরো অনেক অনেক কমে যাবে। খনিজ তৈল আহরণকারী দেশগুলো খনিজ তৈল উত্তোলন লাভজনক না হলে তার উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিবে। আমরা সেই দিনটির অপেক্ষায় থাকব যখন পৃথিবীর সমস্ত দেশ তৈল পুড়িয়ে আর বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে না। পৃথিবীর বায়ু হবে আরো পরিষ্কার ও নির্মল।


Thursday, September 15, 2016

বৈদ্যুতিক গাড়ী ব্যতীত অন্যান্য গাড়ী অপরিষ্কার ও নোংরা

আজ থেকে একযুগ পর ঢাকার রাস্তায় যদি কোন যাত্রীবাহী বাস ও ট্যাক্সি পেট্রোল বা ডিজেল ব্যবহার করে চলাচল করে সেই গাড়ীর ধূয়া ও শব্দে আপনাকে সেই গাড়ীগুলো মনে হবে অপরিষ্কার ও নোংরা। আজ ২০১৬ সালের মাঝামাঝি দাড়িয়ে আছি যখন বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে শতভাগ টয়লেট স্যানিটারি করা হয়েছে। এখন গ্রামের মানুষকে যদি খোলা জায়গায় টয়লেট করতে বলা হয় ,তাদের কেউ স্বাচ্ছন্দ্যে নোংরা কাজটি করবে না। তেমনি যখন বৈদ্যুতিক চার্জ করা গাড়ী ব্যাপকভাবে প্রচলন হবে, তখন কেউই আর শব্দ সৃষ্টি করা আর ধোয়া সৃষ্টি করা গাড়ী পছন্দ করবে না। তখন যাদের পুরাতন গাড়ী থাকবে তারাও দেখা যাবে তাদের গাড়ীটি ইলেকট্রিক গাড়ীতে কনভার্ট করে নিচ্ছে।
ইলেকট্রিক গাড়ী ব্যবহারে আমরা শব্দ দূষণ ও বায়ু দূষণ থেকে পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পারব। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল আমরা গাড়ীগুলোকে গ্রিন এনার্জি ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত করতে পারব। আজ বিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে কয়লা, গ্যাস, পারমানবিক জ্বালানী, খনিজ তৈল ইত্যাদি মিশ্র জ্বালানী উৎস থেকে। আর বেশী দুরে নয় যখন অনেক দেশই সমস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সৌর, বায়ু ও বায়ুমস থেকে। আর এভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহারে পৃথিবীর পরিবেশ থাকবে আরো গ্রিন। কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের নি:স্মরণ বহুলাংশে কমানো যাবে। এখন গাড়ী গুলো যদি বিদ্যুতে চলা শুরু করে তবে আর বেশী দিন লাগবে না আমরা জ্বালানী তৈলকে গুড বাই বলতে পারব। আমাদের ধূয়াময় পরিবেশে শ্বাস নিতে হবে না।
ইলেকট্রিক গাড়ীর সবচেয়ে ভাল গুণ হল এটা ট্রাফিক জ্যামে পড়লে মটর বন্ধ হয়ে যায়। তাই শক্তি কম খরচ হয়। আস্তে চললে কম বিদ্যুৎ আর জোরে চললে বেশী বিদ্যুৎ খরচ হয়। অপরদিকে তৈলের গাড়ী স্টার্ট দিলেই তৈল খায়। বৈদ্যুতিক গাড়ী তৈলের গাড়ীর মত নিষ্ক্রিয় (আইডেল) চালনা করার প্রয়োজন হয় না।  বর্তমান সময়ে ব্যাটারি স্টোরেজ একটি বড় সমস্যা। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত উন্নত দেশে উৎপাদিত ইলেকট্রিক কার সমূহ ১০০ কি:মি: দূরত্বের বেড়িয়ার ক্রস করেনি। তাই গভেষনা চলছে। জাপান ডুয়েল কার্বন ব্যাটারি তৈরি করেছে যা এখনো (২০১৬ সালের মধ্য আগস্ট) মার্কেটে আসেনি। এ ধরনের ব্যাটারি বাজারে আসলে ব্যাটারি স্টোরেজের সম্পূর্ণ চিত্রটি পাল্টে যাবে বলে ধারনা করা যায়। এ ধরনের ব্যাটারি বর্তমান লিথিয়াম আয়ন থেকে পাঁচ গুন বেশী চার্জ ধরে রাখতে পারে। পাঁচগুণ দ্রুত চার্জ করা যাবে। কার্বন দিয়ে তৈরি ও পরিবেশ বান্ধব। রিসাইক্যাল না করলেও পরিবেশের সাথে মিশে যাবে। এই ব্যাটারি ইলেকট্রিক কারের জন্য বিপ্লব নিয়ে আসবে। আরো বেশী অধিক দুরে যাতায়াত করা যাবে। শহর এলাকায় বাসা থেকে অফিস আর অফিস থেকে বাসা এভাবে যারা যাতায়ত করেন তাদের জন্য ইলেকট্রিক কার অত্যন্ত ভাল অপশন। কারণ বাসায় রাতে চার্জ করবে আর অফিস চলাকালীন সময়ে চার্জ করবে। যারা কার নিয়ে দুরে যাবে তারা হয়তবা হাইব্রিড অপশনের গাড়ী ব্যবহার করবে যাতে তৈল ও বিদ্যুৎ দুইটি ব্যবস্থা থাকবে। তবে ব্যাটারির দ্রুত গতির চার্জিং ব্যবস্থা চালু হলে স্থানে স্থানে গ্যাস রিফিলের মত চার্জ করে অনেকদূর যাওয়া যাবে। সিএনজি গ্যাসে একটি সাধারণ সিলিন্ডার দিয়ে সাধারণত একটি মাইক্রোবাস ৮০/১০০ কি:মি: যাতায়ত করে। কিন্তু দেখা যায় এ দূরত্ব বাড়ানোর জন্য প্রায়শই মাইক্রো বাসগুলো একাধিক সিলিন্ডার ব্যবহার করে। একই ভাবে ইলেকট্রিক কারে বড় বড় একাধিক ব্যাটারি ব্যবহার করে গাড়ীর একই চার্জের ভ্রমণ দূরত্ব বাড়ানো যেতে পারে।
ইলেকট্রিক কার পরিবেশ বান্ধব। তবে এটা পরিবেশের জন্য আরো নিরাপদ হবে যদি এটার চার্জিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে সৌর শক্তির করা যায়। এতে তা শতভাগ পরিবেশ বান্ধব হবে। অনেক দেশে সোলার চার্জিং এর জন্য কার পোর্ট তৈরি করে তা সফলভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০১৬ সালের মধ্যে কয়েকটি অটোরিকশার জন্য চার্জিং স্টেশন চালুর পরিকল্পনা হয়েছে এবং কয়েকটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।
আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত কয়েক বছর পর তাদের যাতায়ত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভাবে বৈদ্যুতিক করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ভারতে বৈদ্যুতিক ট্রেন অনেক আগে থেকেই চলছে। এত বড় ট্রেন যদি বিদ্যুৎ চলমান রাখা যায় তবে ছোট ছোট কার কোন বিষয়ই নয়। লক্ষ লক্ষ গাড়ীতে ডিজেল পোড়ার চেয়ে কেন্দ্রীয় ভাবে বড় পাওয়ার প্লান্ট ও বড় সোলার প্লান্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তার দ্বারা গাড়ী চালনা অনেক বেশী পরিবেশ বান্ধব।

আমাদের সামনে সেই দিনটি বেশী দূরে নয় যখন আমরা সকলেই সোলার চার্জড বৈদ্যুতিক বাহন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হব।

Thursday, September 8, 2016

নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের জন্য দ্বৈত অপটিক্যাল লাইন

আমরা যারা ঢাকার বাইরে থাকি তারা প্রায় কিছু সেবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে পারি। তা হল, ইন্টারনেট নাই? কারণ অপটিক্যাল ফাইবারের তার কাটা পড়েছে। ক্যাবল টিভি নাই, কারণ ঝড়ে গাছ পরে অপটিক্যাল লাইন ছিঁড়েছে। ল্যান্ড টেলিফোন কানেকশান নাই। ফ্যাক্স চলছে না। কারণ অমুক জায়গায় অপটিক্যাল লাইন কাটা পড়েছে। ইত্যাদি ইত্যাদি। রাজধানীর বাইরে বসবাসরতদের নিত্য নৈমিত্তিক সমস্যা।
তাহলে এর থেকে উত্তরণের উপায় কি? রেডিও লিংক। রেডিও লিংক বিকল্প ব্যবস্থা হতে পারে কিন্তু সাশ্রয়ী কোন উপায় নয়। কারণ সমপরিমাণ ব্যান্ডউইথ ব্যবহারে অনেক বেশী খরচ করতে হবে। অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে টানা লাইন সাশ্রয়ী ও দীর্ঘমেয়াদী। কিন্তু ঘন ঘন লাইন কেটে মাসে একাধিক দিন ইন্টারনেট না থাকাটা অত্যন্ত দূ:খজনক একটি ব্যাপার। এখনকার দিনে ইন্টারনেট না থাকলে, ফ্যাক্স না থাকলে আর্থিক ভাবে অনেক ক্ষতি হয়।
তাহলে কি উপায়? আমাদের সাশ্রয়ী ও সহজ যোগাযোগের জন্য অপটিক্যালেই থাকতে হবে। আমাদের শুধুমাত্র একাধিক অপটিক্যাল লাইন টানতে হবে। একটা কাটা গেলে বা ফেল করলে আরেকটা বিকল্প লাইন যেন ব্যবহার করা যায়। ওভারহেড বা পিলার দিয়ে লাইন টানলে তাতে খরচ কম। কিন্তু ঝড় বা অন্যান্য কারণে সহজে ছিঁড়ে যায় বা নষ্ট হয়। অন্যদিকে মাটির নীচ দিয়ে নেয়া অপটিক্যাল লাইন সহজে নষ্ট হয় না। তবে রাস্তার পাশে খোঁড়াখুঁড়িতে লাইন কাটা পড়ে। তবে লাইনগুলো যথাযথভাবে মার্কিং করা থাকলে লোকজন হয়ত সহজে ভূগর্ভস্থ অপটিক্যাল লাইনগুলো কেটে ফেলতে পাড়ত না।
অপটিক্যাল ফাইবারে আমরা যে পরিমাণ তথ্য পরিবহনে ব্যবহার করছি সেই পরিমাণ তথ্য আমরা অনেক অনেক খরচ করেও সমপর্যায়ে নিতে পারব না। আমরা কেবলমাত্র ইমার্জেন্সী হিসাবে অল্প স্বল্প তথ্য স্যাটেলাইট বা অন্যান্য মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারব। বিটিএস দিয়ে ছোট এলাকার মধ্যে উচ্চ গতির ইন্টারনেট দিতে পারলেও আমরা বিটিএস থেকে বিটিএসএর উচ্চগতির তথ্য প্রবাহের জন্য পুনরায় অপটিক্যাল সংযোগের উপর নির্ভর করতে হবে।
এখনকার বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রবাহের জন্য অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগই হল সবচেয়ে কার্যকরী ও দ্রুত পদ্ধতি।
মাটির নীচের লাইন কাটা পড়বে আর মাটির উপরের লাইন ছিঁড়ে যাবে। এতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে দিনের পর দেন ইন্টারনেট না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ব্যবসা ও আউটসোর্সিং কার্যক্রম। তাহলে উপায় কি? আমাদের দেশকে কানেকটিবিটি দেয়া আন্তর্জাতিক অপটিক্যাল ফাইবার লাইন সাগরের তলদেশ দিয়ে নেয়া হয়েছে আর সেই লাইন দ্রুত মেরামতও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রয়েছে টহল দল। একাধিক দল মহাসাগরের অপটিক্যাল লাইন মেরামতের জন্য টহল দিয়ে যাচ্ছে।
আমাদের দেশে বড় বড় জেলার অপটিক্যাল লাইনগুলো কাটা পড়লে দ্রুতই মেরামত হচ্ছে কিন্তু তাতেও ৬/১২ ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার জন্য আমরা অপটিক্যাল কাটার স্থানটি দ্রুত বের করতে পারি এতে শুধু নির্ধারিত স্থানে লোক পাঠিয়ে কাটা স্থান জোড়া দিলেই চলবে।

তাহলে ৬/১২ ঘণ্টা মেরামতের সময়টা ব্যাকআপ দিলেই চলবে। কিভাবে এটা করা যাবে? যে  কোন প্রযুক্তি সচেতন ব্যক্তির কাছে তার উত্তর আছে। একাধিক লাইন একাধিক পথে বসাতে হবে। কিছুদূর পর পর তাদের মাঝে আন্ত:সংযোগ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। কুষ্টিয়া জেলার ইন্টারনেটের কুষ্টিয়া-পাবনা সংযোগ কাটা পড়লে কুষ্টিয়া ঝিনাইদহ যশোরের সাথে সংযোগ হবে। যশোর সংযুক্ত থাকবে নতুন পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকার সাথে। আবার যশোরের সংযোগ কাটা পড়লে যশোর সংযোগ পাবে যমুনা ব্রিজ দিয়ে ঢাকার সাথে পাবনা-কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ -যশোর এইপথে। আন্ডারগ্রাউন্ড লাইনের পাশাপাশি ক্যাবল টিভি অপারেটরদের  পিলার ধরে টানা ওভারহেড লাইনের মাধ্যমেও সংযোগ করা যায়। মনে করি পাবনা কুষ্টিয়া লাইন কাটা পড়ল। এতে আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন ঠিক হতে হতে বিকল্প লাইন ঝিনাইদহ যশোরের মাধ্যমে সংযোগ পাবে। ঝিনাইদহ-যশোরের লাইন বিকল হলে ক্যাবল অপারেটরের  অব্যবহৃত ফাইবারের মাধ্যমে সীমিত আকারে কুষ্টিয়া-পাবনা ইন্টারনেটের অপটিক্যাল লাইন চালু হবে। সীমিত আকারে এ জন্য বললাম ক্যাবল অপারেটরদের অপটিক্যালের কিছু সংখ্যক অব্যবহৃত তন্তু রিজার্ভ রেখে কাজটি করা যেতে পারে। অপরদিকে ক্যাবল অপারেটরদের লাইন বিচ্ছিন্ন থাকার মত দুর্দিনে তাদের আন্ডারগ্রাউন্ড ফাইবার দিয়ে সহায়তা দেয়া যেতে পারে। ক্যাবল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সকল সংস্থার কুইক রিয়েকশন টিম অবশ্যই রাখা প্রয়োজন। অপটিক্যাল ফাইবারের সংযোগ নিয়মিত চালু রাখায় এখন আর কোন সংস্থার খামখেয়ালীর কোন বিষয় নয়। এগুলো তথ্যের চালিকা শক্তি ও তথ্য প্রবাহের লাইফ লাইন। এখন আমাদের দেশ যতই উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে ততই আমাদের জন্য একাধিক পথে ও একাধিক পদ্ধতিতে বিকল্প  অপটিক্যাল ফাইবার চালু করতে হবে। আমি আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর ছোট্ট একটি ক্যাম্পাসে আন্ডারগ্রাউন্ড ও ওভারহেড দুইভাবে ক্যাম্পাসে অপটিক্যাল টানিয়েছি। এতে ক্যাবল টিভি, ইন্টারনেট ও সিসি ক্যামেরার সংযোগ যে কোন উপায়ে বিচ্ছিন্ন হলে তা দ্রুত চালু করা যাচ্ছে শুধুমাত্র কানেকশন বদল করলেই হল। মুল প্রবাহটা বা প্রাইমারী মাধ্যম হল আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন। আন্ডারগ্রাউন্ড সহজে সমস্যা করে না। আর সমস্যা করলে সারতেও অনেক সময় লাগবে। আন্ডারগ্রাউন্ড মেরামতের সময়টা ব্যাকআপ দেবে ওভারহেড লাইন। ওভারহেড লাইন সব সময় ব্যবহার নাহলেও তা কম ইম্পরট্যান্ট দুই একটি সিসি ক্যামেরা জাতীয় কাজে ব্যবহার  করতে হবে যেন লাইনটি নষ্ট হলে সাথে সাথে মেরামত করে সব সময় চালু রাখা যায়। নচেৎ এক সময় এমন হতে পারে আন্ডারগ্রাউন্ড অপটিক্যাল লাইন নষ্ট হয়েছে আর ওভারহেড বিকল্প লাইনও নষ্ট হয়ে আছে। ওভারহেড লাইন যেহেতু দ্রুত মেরামত করা যায় তাই নষ্ট হলে তা দ্রুত মেরামত করে রাখতে হবে আন্ডারগ্রাউন্ড লাইনের বিকল্প হিসাবে। এখন সময় এসেছে আমাদের যে সমস্ত লাইন অপটিক্যালে ব্যবহৃত হচ্ছে তার একাধিক পথে একাধিক অপটিক্যাল লাইন টানতে হবে । এছাড়াও আন্ডারগ্রাউন্ড লাইনের পাশাপাশি আন্ডারগ্রাউন্ড লাইনও টানতে হবে। আসুন আমরা অপটিক্যাল ফাইবার লাইনের বিষয়ে সময় উপযোগী ব্যবস্থাপনা করি। এতেই রয়েছে আমাদের দেশের তথ্য প্রযুক্তির সামগ্রিক উন্নয়ন ও মঙ্গল।

Thursday, September 1, 2016

ফুরিয়েছে ইন্টারনেট হতে ডাউনলোড করে হার্ডডিস্কে স্টোর করা

আমি আজ থেকে একবছর আগে আমার কাছে জমানো ছবি, অডিও ও ভিডিও গান এবং ইন্টারনেট থেকে ডাউন লোড করা সমস্ত পিডিএফ ফাইল ইত্যাদি অনেক কিছু মুছে দিয়ে আমার পুরাতন ল্যাপটপের হার্ডডিক্স খালি করে দিলাম। আগে অনেক বড় বড় স্টোরেজ সহ হার্ডডিস্ক নিয়ে কম্পিউটার ব্যবহার করতাম। এখন কোন কিছু ইন্টারনেট থেকে ডাইন লোড করে হার্ডডিস্কে নিয়ে সেইভ করার কথা আর তেমন মনে পড়ে না। কারণ একটাই ইন্টারনেটের ব্যাপক ব্যবহার। ইন্টারনেট ছাড়া আমরা হয়ত আমাদের সময়কে চিন্তা করতে পারিনা। এখন ইন্টারনেট না প্রাপ্তির ভাবনা অনেক কমে গেছে। হাটে মাঠ ঘাটে মোবাইল অপারেটররা ইন্টারনেট রাখবেই। কারণ এখন ভয়েজ কল থেকে ডাটা ব্যবহারে মোবাইল অপারেটরদের আয় বেশী। ইন্টারনেট সকল স্থানে প্রাপ্য হলে ইন্টারনেট থেকে ডাউন লোড করে পিডিএফ ফাইল, অডিও, ভিডিও ও ছবি ফাইল হার্ডডিস্কে সেভ করে জমিয়ে রাখার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। কারণ এখন প্রায় সব স্থান থেকে থ্রিজি ইন্টারনেটের কারণে যথেষ্ট ভাল গতির ইন্টারনেট বাংলাদেশের প্রায় সব স্থান হতে পাওয়া যায়। আর থ্রিজি ইন্টারনেট মানেই ভাল গতি ও বাফার ছাড়া ইন্টারনেট। এ কারণে ইন্টারনেট হতে কোন কিছু ডাউন লোড করা ও স্টোর করে ব্যবহার করা দিনের পর দিন কমে যাচ্ছে। অনেক সময় হার্ডডিস্কে কপি করে হার্ড ডিস্কে খোজার চেয়ে গুগলে খুঁজে নেয়া মনে হয় আরো সহজ। ইউটিউবে কোন ফাইল ডাউনলোড করা যত না যন্ত্রণার তার চেয়ে অনলাইনে দেখা অনেক সহজ। আপনি ১০০০টি ভিডিও আপনার হার্ডডিস্কে কপি করে রাখলেন। কোন নির্দিষ্ট গান খুঁজে পেতে আপনার যে সময় লাগবে তার চেয়ে দ্রুত আপনি ইউটিউব থেকে খুঁজে পাবেন। আবার আপনার কাঙ্ক্ষিত গান আপনার মজুদ করা একহাজার গানের মধ্যে আছে কিনা আপনার পক্ষে মনে রাখাও কঠিন। আর দিনের পর দিন ভিডিও অডিও কোয়ালিটির উন্নতি হওয়ায় এখন স্টোর করে লাভ নাই লেটেস্ট ভিডিও ও অডিও ডাউনলোড করাই এখন বুদ্ধিমানের কাজ। তবে কোথাও থ্রিজি ইন্টারনেট কানেকশন না থাকলে বা ব্রডব্যান্ড না থাকলে ইন্টারনেট হতে ফাইল ডাউন লোডের প্রয়োজন হতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে ঘন ঘন প্রয়োজন এরূপ কোন ফরমেট বা তথ্যাদি রাখা যেতে পারে। অফিসের সকল ফাইল যা অনলাইনে রাখা নিরাপদ না।  সেক্ষেত্রে সেগুলো স্টোর করা যেতে পারে। এছাড়া ইন্টারনেট হতে কোন ফাইল সেভ করার প্রয়োজন দেখি না। এমনকি ইম্পরট্যান্ট ফাইল বরং ক্লাউডে আপলোড করে রাখাটা নিরাপদ। নিজের ব্যক্তিগত ডকুমেন্ট স্ক্যান করা কপিও অনলাইন স্টোরেজ কপি করে রেখে দিলে তা সহজে যে কোন প্রয়োজনে যে কোন স্থান হতে ব্যবহার করা যায়। অনলাইন স্টোরেজ ড্রপবক্স ছাড়াও আরো অনেক মাধ্যম ও সার্ভিস আছে আমরা আমাদের জন্য সুবিধা জনক সার্ভিসটি ব্যবহার করতে পারি। আমরা ইন্টারনেটে কোন গুরুত্বপূর্ণ ফাইলও আমরা আমাদের অনলাইন স্টোরেজ বা ক্লাউডে সেভ করতে পারি।
আমাদের অনেক প্রয়োজনীয় ফাইল হার্ডডিস্ক বা ল্যাপটপে কপি করে রাখলে তা নষ্ট হতে পারে বা হারিয়ে যেতে পারে। তাই অনলাইন স্টোরিং একটি ভাল  অপশন। অনেক সময় বাসা বা অফিসে সার্ভিসিং এর লোকজন ও বাচ্চারা ল্যাপটপ নাড়াচাড়া করে। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু সেভ না করাই ভাল। প্রয়োজনীয় কিছু থাকলে তা ক্লাউডে অর্থাৎ অনলাইন স্টোরেজে রাখা ভাল। যে সব বিষয় সাধারণ ক্যাচ ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে পাওয়া যায় সে সব কনটেন্ট ল্যাপটপে বা ডেস্কটপে সেভ করার প্রয়োজন নেই। মোবাইলের স্টোরেজে তো সেভ করার প্রশ্নই উঠে না। মোবাইল স্টোরেজ সাধারণত লিমিটেড হয়।
ইন্টারনেট ব্যাপক প্রাপ্তির আগে আমরা প্রচুর সিডি জমাতাম। আবার মোবাইল হার্ডডিস্কে সংরক্ষণ করতাম। এখন মনে হয় তার প্রয়োজন নেই। বই পড়া আমার শখ। এই শখের জন্য আমি অনেক অনেক পিডিএফ ফাইল স্টোর করতাম। এখন দেখি আমার স্টোর থেকে বের করতে বা খুঁজতে যত সময় লাগবে তার চেয়ে দ্রুত গতিতে ইন্টারনেটে সার্চ করে বের করা যায়। তাই পিডিএফ বই জমানো ছেড়ে দিয়েছি। মাঝে মাঝে দেখা যায় কোন কোন জমানো কনটেন্ট ল্যাপটপে বছরের পর বছর ব্যবহার ছাড়া আছে। তাই যে সব কনটেন্ট ব্যবহার ছাড়া জমা আছে তা মুছে দেয়া অত্যাবশ্যক। তথ্যের নিরাপত্তায়ও এখন কোন কিছু ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা মোবাইলে স্টোর করা ঠিক না। আপনি হয়তবা বেখেয়ালে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট ডাউনলোড করলেন। সেই ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা স্মার্টফোন সার্ভিস সেন্টারে বা হারিয়ে গিয়ে  অন্য কারো হাতে পড়ল এতে আপনার সন্মান হানি বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেহাত হওয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। তাই কোন কিছু স্টোর করা প্রয়োজন নেই। অনলাইনে সব আছে কেন আমরা স্টোর করব। তাই এখনকার স্লোগান হতে পারে ব্যক্তিগত গ্যাজেটে নো ডাটা স্টোরেজ
নিজের তৈরি কোন লেখা লেখি বা প্রেজেন্টেশন যা অনলাইনে নাই তা স্টোর করা যেতে পারে। তবে এগুলো ড্রপ বক্সে বা এজাতীয় অনলাইনে রাখলে ভাল যাতে দ্রুত যে কোন সময় যে কোন স্থান হতে ব্যবহার করা যায়। এমনকি তা অন্যদের সাথেও শেয়ার করা যাবে খুব সহজে। ইমেইল, ভাইবার ও এসএমএস যে কোন মাধ্যমে লিংকটা পাঠাতে পারলেই কাজ হয়ে যাবে।

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা সিডি কেনা প্রায় ছেড়ে দিয়েছি। আমরা মোবাইল হার্ডড্রাইভ ক্রয় করে তা ব্যবহার করছিলাম। এখন তারও প্রয়োজন কমে আসছে। তথ্যের নিরাপত্তার দিক দিয়ে চিন্তা করলে নো স্টোরেজই গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা। আসুন আমরা ডাটা স্টোরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ ছেড়ে দিয়ে অনলাইনে অভ্যস্ত হই।

Friday, August 26, 2016

রিয়াল ভিউ বাংলাদেশী ডাইরেক্ট টু হোম টিভি


আজ থেকে প্রায় ৮/১০ বছর আগে ক্যাবল টিভিতে ডিশটিভি, এয়ারটেল, ভিডিওকন ইত্যাদি ডাইরেক্ট টু হোম   (ডিটিএইচ) টিভির বিঞ্জাপন দেখে দেখে ভাবতাম কবে আমাদের দেশেও এগুলো আসবে আমাদের বাংলাদেশের চ্যানেল নিয়ে। এটা অনেক দেরীতে হলেও আমাদের দেশে ডিটিএইচ চালু হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান এটা চালু করেছে। ২০১৪ সালে স্মার্ট টিভি কেনার পর থেকেই পরিষ্কার ও ঝকঝকে ছবি দেখার জন্য ডিটিএইচ খোজ করছিলাম। আমাদের অনেক সৌখিন ব্যক্তিরা স্মার্ট টিভিতে এইচডিএমআই ক্যাবল(অডিও ও ভিডিও ইনপুটের মত ইউএসবি ক্যাবলের অনুরুপ উন্নত ইনপুট ডিভাইস)দিয়ে অনেক আগে থেকেই হয়ত পেমেন্টে ভারতীয় চ্যানেল দেখতেন। ভারতের ডিটিএইচ এর মার্কেট বেশ প্রসারিত ও প্রতিযোগিতা সম্পন্ন।
যদিও পোস্টিং এর চাকুরী তথাপিও আমার দুই ছেলের আগ্রহের কারণে বিশেষ করে বিভিন্ন খেলা দেখার ছুতায় আমাকে বাংলাদেশের নতুন চালু হওয়া ডিটিএইচ কেনার আর্জি করে। আমার অনেক দিনের শখ স্মার্ট টিভিতে পরিষ্কার ছবি ও শব্দে টিভি দেখা। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় ক্যাবল অপারেটররা যতই ভাল কানেকশন দেয় না কেন তাতে সমস্যা থেকেই যায়। এছাড়া মাঝে মাঝে ক্যাবল কাটা যাওয়ার কারণে ডিশ লাইন বন্ধ থাকে। কুষ্টিয়ার মিরপুরে ১৫০ টাকা মাসে দিয়ে বাসায় ডিশ লাইন দেখছি। রিয়াল ভিউ ডিটিএইচতে ৩০০ টাকা দিতে হবে। এককালীন ৭৫০০ টাকা খরচ। অনেক বড় খরচের ধাক্কা। তবে সমস্ত খরচ পুষিয়ে যায় যখন ঝকঝকে ছবি ও পরিষ্কার শব্দে মনটা ভরে যায়। একবার ডিটিএইচতে পরিষ্কার ছবি ও শব্দে অভ্যাস হলে পরে সাধারণ ক্যাবল টিভি দেখাটা কষ্টকর। এইচডি চ্যানেলগুলো অসাধারণ দেখা যায়।
টিভি চ্যানেলের ট্রান্সমিশন এত ভাল মনে হয় ঢাকা ব্যতীত অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়। ঢাকার অপারেটররা সেটটপ বক্স দেয়া শুরু করেছে ভাল ছবি দেখার জন্য। তবে সেটটপ বক্স তিন হাজার পাঁচশত টাকায় কিনে মাসে মাসে ৩০০ টাকা খরচ করার চেয়ে আরো কিছু টাকা খরচ করে ছোট ডিশ লাগিয়ে নিয়ে ডিটিএইচ ব্যবহার করাটা একটা ভাল আইডিয়া হতে পারে। ক্যাবল অপারেটরদের মেনটেন্যান্সগত সমস্যা থাকে আর তদুপরি তারা সহজে অভিযোগ নেয়না বা লাইন ভাল রাখতে সদা প্রস্তুত নয়। এই হিসাবে ছোট ডিশ ঝড় বৃষ্টিতে তেমন উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। ডিশটা না উল্টালে বাকী কোন কিছুই নষ্ট হওয়ার নয়। ক্যাবলের সেটটপ বক্সের মত এটিও ভালই চলবে।
ভারত সরকার বেশ কয়েকমাস হল (২০১৬ সালের মার্চ/এপ্রিল) ক্যাবল টিভি অপারেটরদের জন্য সেটটপ বক্স বাধ্যতামূলক করেছে। এটার মূল কারণ হতে পারে যথাযথ ভাবে সরকারের রেভিনিউ পাওয়া। সেটটপ বক্সের সার্ভারে সব তথ্য থাকে। তাই ক্যাবল অপারেটরের লাইন সংখ্যা ও সরকার কর্তৃক ভ্যাট আদায় করাটা সহজ এবং ক্যাবল অপারেটররা আইটি ও ভ্যাট ফাকি দিতে পারে না। আমাদের দেশে কয়েক বছর পর এগুলো চালু হবে তা নি:সন্দেহে বলা যায়। তবে যতদিন পর্যন্ত না অন্যান্য সেটটপ বক্স চালু হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের ডিটিএইচ রিয়েল ভিউ লাগানোর আইডিয়াটা মন্দ নয়। যারা ঢাকার বাইরে চাকুরী বা অন্য কোন কারণে অবস্থান করেন তাদের জন্য ডিটিএইচ অনন্য একটি অপশন।
২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি পার্বত্য চট্টগ্রামে থাকাকালীন ক্যাবল টিভির ২৫/৩০ টি চ্যানেল দিয়ে ক্যাবল লাইন করে নিয়েছিলাম। তখন ভাল চ্যানেল ও পে চ্যানেল দেখাটা ছিল বিশাল খরচের ধাক্কা। ৩০০ টাকা মাসিক দিয়ে এখন শতাধিক চ্যানেল দেখা সম্ভব। এতে দেশী সকল চ্যানেলের পাশাপাশি অগণিত পে চ্যানেল পাওয়া যাচ্ছে। এখন যারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বা অন্য কোন রিমোট স্থানে চাকুরী করে তাদের জন্য বাংলাদেশের রিয়াল ভিউ ডিটিএইচ ভাল সমাধান। বাংলাদেশের সকল স্থানে মোবাইল নেটওয়ার্কের কারণে থ্রিজি ইন্টারনেট কানেকশন পৌঁছে গেছে। এখন রিয়াল ভিউ এর মাধ্যমে রাজধানী বা বড় শহরের মত ক্যাবল টিভির চ্যানেলও পৌঁছে গেল। ঢাকার বাইরে চাকুরী বা সেটল হতে আর কোন বাধা থাকল না। এখন রাজধানীর বাইরে প্রয়োজন ভাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল। সেটাও এক/দুই যুগের মধ্যে পাওয়া যাবে। আমি আশাবাদী।
আমার মনে হয় আরো কিছু কোম্পানিকে ডিটিএইচের লাইসেন্স প্রদান করা প্রয়োজন। তাহলে প্রতিযোগিতা থাকবে এবং গ্রাহকরা ভাল সার্ভিস পাবে। একটি কোম্পানি মনোপলী করে ব্যবসা করলে গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা হবে না। রিয়াল ভিউ এর ওয়েব সাইট থেকে এদের বিষয়ে অনেক কিছু জানা যাবে। “Realvubd” লিখে সার্চ দেয়া যেতে পারে। অথবা ভিজিট করতে পারেন: https://realvubd.com


রিয়াল ভিউ সেটটপ বক্স ও এলএনবি আরো উন্নত হওয়া প্রয়োজন। প্রত্যেক জেলায় এদের ডিলার থাকা প্রয়োজন। কারণ প্রতি জেলায় এখনও ডিশের সামগ্রী বিক্রতা আছে। তাদের ডিলারশীপ দেয়া প্রয়োজন। আমি কুষ্টিয়াতে লাগানোর জন্য নিকটবর্তী জেলা রাজবাড়ী থেকে লোক এনে লাগাতে হয়েছে। এতে দুর থেকে লোক আনার ভাড়ার খরচ ও খাবার খরচ দিতে হয়। সেনাবাহিনী ও বিজিবিতে অনেকেই রিমোট ক্যাম্পে থাকে। রিমোট ক্যাম্পে লাগাতে হলে নিজস্ব টেকনিশিয়ানদের ট্রেনিং দিলে তারাই সংযোগ দিতে পারবে। অন্যথায় ডিশ বসানোর জন্য বেশ কিছু টাকা খরচ করে ফেলতে হবে। এই সিস্টেমের মাসিক বিল ৩০০ টাকা প্রিপেইড মোবাইলের মত মাসের প্রথমে পরিশোধ করতে হয়।
সেটটপ বক্সটিতে কোন অনুষ্ঠান সময়মত দেখতে না পারলে পেন ড্রাইভে রেকর্ড করে পরে দেখা যায়। এই অপশনটি আমার জন্য বেশ কাজে লেগেছে। কোন কারণে বাইরে গেলে নির্দিষ্ট চ্যানেলে রেকর্ড চালু করে যাই। ৮ জিবি পেন ড্রাইভে প্রায় ৫ ঘণ্টা ব্যাপী এইচডি চ্যানেল রেকর্ড করা যায়। এর সেটটপ বক্সটি ১২ ভোল্টে চলায় সোলার সিস্টেম বা ১২ ভোল্টের যে কোন ব্যাটারি দিয়ে চালানো যাবে। রিমোট ও নন গ্রিড এলাকায় এলইডি টিভির সাথে ১২ ভোল্টের ব্যাটারি দিয়ে  এই ডিটিএইচ সহজে ব্যবহার করা যাবে। একটা সমস্যা আছে অল্প বৃষ্টিতে ছবি আসে বেশী বৃষ্টি হলে ছবি আসে না। এটা এটা বড় সমস্যা নয় কারণ আমাদের দেশের মুষলধারে বৃষ্টি দীর্ঘ সময় থাকে না।

পরিশেষে আমার কাছে নতুন হিসাবে এর পারফরমেন্স অনেক ভাল মনে হয়েছে। আশা করি অনুন্নত ও দূগর্ম এলাকার জনগোষ্ঠীর জন্য চমৎকার একটি ব্যবস্থা হবে। বদলীর চাকুরী যারা করেন তাদের জন্য উন্নত ছবি ও শব্দের চ্যানেল পাওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়া গেল। বদলীর সাথে সাথে ডিশ আর সেটটপ বক্স সাথে রাখলেই হল। আমার এ লেখাটি আশা করছি দূগর্ম এলাকায় অবস্থানকারীদের উপকারে আসবে।