Pages

Thursday, October 26, 2017

প্রাইভেট টিউশনে পড়ে উচ্চশিক্ষা লাভ

একবার বাসে যাওয়ার সময় সহযাত্রী হল একজন ব্যক্তি তা‌কে আমার চেনাজানা মনে হল। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মনে  হল এই ব্যক্তিটি প্রায় পনের বছর আগের জানা‌শোনা। তখন আমরা যেখানে ছিলাম সেই প্রতিষ্ঠানের বিষ‌য়ে তার সাথে আলোচনা চল‌তে থাকল। হঠাত সে  আমার সিনিয়র একজনের নাম বললেন। তিনি কোথায় আছেন জান‌তে চাইল। আমার জানা নাই। তাই তা‌কে প‌রে জানাব বলে দিলাম। সে নিজের থেকে আলোচনায় আনল আমার সেই সিনিয়রের সাথে প্রাইভেট ভাবে তিনি মাস্টার্স পাশ করেছিলেন। আমার আগ্রহ বেড়ে গেল। আমি জান‌তে চাইলাম। কিভাবে তারা পড়েছে।
তারপর আমি মজাদার পড়া‌শোনার পদ্ধতি জানতে পারলাম। এখনকার সম‌য়ের ডিসট্যান্ট লার্নিং এর সাথে মিল পাওয়া যাবে। তারা দুইজন প্রাইভেট ও পেশাদারী লোক‌দের পড়াশোনার উপযোগী প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হল। সপ্তাহে শুক্রবার ও শনিবার ক্লাস করত।
তিনি বললেন, স্যার যখনি  গাড়ী নি‌য়ে যেতেন। আমা‌কে সাথে নিতেন। আর যখন যে‌তে পারতেন না। আমি যেতাম। প্রায়শই জোর ক‌রে আমা‌কে ট্যাক্সি ভাড়া দিতেন। ক্লাস শেষে অফিসের ব্রেক টাইমে যেসব বিষয়ে স্যার ক্লাস করেননি। সেই সব পাঠগুলো আমি তা‌কে পড়াতাম। পরীক্ষা একসাথে দিতাম। পরীক্ষার আগে স্যারের বাসায় বা অফিসে দুইজনে আলোচনা ক‌রে পড়তাম। আমি বললাম, আপনা‌দের ফলাফল কি?
 দুইজনেই  সেকেন্ড ক্লাস পেয়েছি। তবে স্যার আমার চে‌য়ে বেশী নম্বর পেয়েছিল।
চাকুরীজীবীদের এই  ধরনের পড়া‌শোনার বিষয়‌টি বেশ আশাব্যঞ্জক। সহযোগিতা নি‌য়ে পড়া‌শোনার এই সিস্টেমটি অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীদের আর্থিক উপার্জনের মাধ্যম হ‌তে পা‌রে। আমার এক নিকটাত্মীয় আছে । তার অল্প বয়সে বি‌য়ে হ‌য়ে‌ ছিল। তার আর্থিক অবস্থা ভাল। একদিন গল্প করতে গিয়ে  তিনি বললেন, এমন যদি হত। কেউ একজন আমা‌কে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিত। সপ্তাহে এক দুইদিন বাসায় এসে আমা‌কে পড়াবে। শুক্রবার ক‌রে কোন কোন মাসে এক দুইবার পরীক্ষা দি‌তে নি‌য়ে যাবে। এই  ধরনের প্যাকেজ ডিলে কাউকে পেয়েছেন কি। আমি জান‌তে চাইলাম। আপনি চেষ্টা করেছিলেন কি? অবশ্যই চেষ্টা করেছি। কিন্তু  মফস্বল শহরে এই ধরনের প্যাকেজে কাউকে পাওয়া যায়নি। আমি বললাম ফেইসবুকে দিতেন। পত্রিকায় বিঞ্জপ্তি দিতেন নিশ্চয়ই কাউকে পেতেন। আবার অনেক মিডিয়া আছেন। তারাও যোগাড় করতে পারত। ঢাকায় হয়ত সম্ভব কিন্তু মফস্বলে সম্ভব নয়। আর একটি ব্যক্তি আছে মেট্রিক পাশ করেছেন। ইন্টারমিডিয়েট পাশ হয়নি। এখন হা‌তে টাকা হ‌য়ে‌ছে। ব্যবসায় উন্নতি হ‌য়ে‌ছে। তার মনে হল ইন্টারমিডিয়েট পাশ করলে ও ডিগ্রি পাশ করলে তার একটা শিক্ষিত ও ভাল পরিবারের পাত্রী জুটবে। এছাড়া শিক্ষিত মা হলে ভবিষ্যতে বাচ্চারাও উচ্চশিক্ষিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
কম শিক্ষিত ব্যবসায়ী এই‌ যুবক পড়‌তে চায়। কিন্তু তার সময় নাই।‌ তবে সারা দিনের কাজ শেষে রা‌তে যখন সে বিনোদ‌নের জন্য টি‌ভি দেখতে বসে তখন তা‌কে কেউ এক দুই ঘণ্টা পড়িয়ে গেলে মন্দ হয় না। তারপর পরীক্ষার দিনক্ষণ খেয়াল রেখে আগের দিন পরীক্ষা দি‌তে নি‌য়ে গেলে মন্দ হয়না। ব্যবসায়ী‌টি পড়া‌শোনার প্রয়োজন সমাজে তার ইজ্জতের জন্য। এমনকি ব্যবসায়ী‌টি তার ব্যবসার ধরনের সাথে মিল রেখে সেই ধরনের বিষয় নি‌য়ে পড়তে পারে। ২০১৭ সালের জুন মাসে সপরিবারে ঢাকায় এসে আমি বাচ্চা‌দের জন্য হাউজ টিউটর খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অথচ দেশে কিন্তু বেকার যুবক যুবতীর অভাব নেই। অত:পর আমার ছেলে ফেইসবুক থেকে একটা মোবাইল নম্বর দিল। সেই মিডিয়া যোগাযোগ ক‌রে বুয়েটে পড়ুয়া হাউজ টিউটর যোগাড় ক‌রে দিল। প‌রে জান‌তে পারলাম, যে মিডিয়া যোগা‌যোগ ক‌রে দিয়েছে তারা টিউটরের প্রথম মাসের  ইনকাম হ‌তে অর্ধেক টাকা নেয়। এই  ধরনের  কাজ কেমন কেমন মনে হলেও আমার কাছে ভালই মনে হ‌য়ে‌ছে। কারণ পরিচিত কেউ আমা‌কে টিউশন মাস্টার যোগাড় ক‌রে দি‌তে পারছিল না। তাই সেই ফেইসবু‌কের মিডিয়ার উপর আমি সন্তুষ্ট। তারা সাত দিনে শিক্ষক ঠিক ক‌রে দিল। পত্র পত্রিকায় টিউশন চাইশিক্ষক চাইএই ধরনের বিঞ্জপ্তি দেখা যায়। তবে বাসায় পড়াশোনা করিয়ে ইন্টার মিডিয়েট পাশ করাতে চাই বা টিউটর আবশ্যকএই ধরনের আইডিয়া কেমন হবে জানি না। কিন্তু এতে অনেক বেকার শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থান হবে তা নির্ধিদ্বায় বলে দেয়া যায়।
অনেক প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান তাদের এ্যাম্প্লয়িদের অফিস টাইমের পরে প্রশিক্ষক এনে তাদের প্রতিষ্ঠানের উপযোগী বিষয়ের উপর পড়াশোনার আয়োজন করাতে পারেন। সবাইকে আরও উচ্চশিক্ষিত করতে পারেন। সেই ব্যবস্থা করতে পারলে এতে হিউম্যান রিসোর্স উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের এ্যাম্প্লয়িদের মান উন্নয়ন হবে। প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হবে। একই ভাবে কোন প্রাইভেট স্কুল তারা শিক্ষকদের স্কুল শেষে বাইরে থেকে প্রশিক্ষক এনে বিএ্যাড ও এমএ্যাড পড়াতে পারে।

শিক্ষিত বেকারদের আয় রোজকার বাড়াতে হোম সার্ভিস ডিগ্রি চালুর পদ্ধতিটি ব্যবসায়ী মডেল হিসাবেও খারাপ হবে না। অনেকে এ বিষয়ে ভেবে দেখতে পারেন।

Thursday, October 19, 2017

বাংলাদেশে দলিল তৈরি ও ব্যাপক বাণিজ্য

প্রত্যেক মানুষের জীবন চক্রে  বার্ধক্য অবধারিত। আমরা বার্ধক্য এসে ধী‌রে ধী‌রে লাইফ সাইক্যাল শেষ ক‌রে পরাপা‌রে পারি জমাই। যাওয়ার আগে নিকটজন‌দের পরবর্তী বি‌রোধ রো‌ধে অনেকেই দানপত্র দলিল, বণ্টন নামা ও ওসিয়ত নামা দি‌য়ে যায়। আমার ও আমার ভাইবোনদের জীবনেও অভিঞ্জতা হল বাবা ও মার কাছ থেকে দান পত্র নেয়ার প্রস্তাব। মুসলিম ও হিন্দু আইনের সম্পত্তির নিয়ম মেনে চলার জন্য অনেক পিতা মাতাই সন্তান‌দের দান পত্র দলিল দেন। এই  দানপত্র দলিল অত্যন্ত কম খরচে  করা যায়। মুসলিম আইনে‌ হেবা দলিল নামে পরিচিত। এই‌ দলিল করার জন্য ইন্টারনেট হ‌তে প্রাপ্ত কিছু তথ্য তুলে ধরলাম।
" হেবার ঘোষণাপত্র দলিলের ফি:
১. মুসলমানদের ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) মোতাবেক হেবা মূল্য কোনো স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর বিষয়ক ঘোষণা রেজিস্ট্রির জন্য সম্পত্তির মূল্য নির্বিশেষে প্রদেয় রেজিস্ট্রি ফি ৪৪০ টাকা।
২. যদি ওই হেবা স্বামী বা স্ত্রী, মা-বাবা ও সন্তান, দাদা-দাদি (নানা-নানি) ও নাতি-নাতনি, সহোদর ভাইরা, সহোদর বোনরা এবং সহোদর ভাই ও বোনদের মধ্যে হয়।"
লক্ষ্য করুন ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত তথ্য হল ৪৪০ টাকা ফি সরকার নিচ্ছে। অনেকের সাথে কথা বলে জান‌তে পারলাম। স্ট্যাম্প বাবদ আরো পাঁচশত টাকা। তাহলে এখন পর্যন্ত খরচ ৪৪০ যোগ ৫০০ টাকা অর্থাৎ ৯৪০ টাকা। দলিলের নকল তুল‌তে সরকারী খরচ মনে করি ১০০০ টাকা। আর ডকুমেন্ট   কম্পোজ কর‌তে আরো ২০০ টাকা। সর্ব‌মোট: ২১৪০টাকা। তবে আমরা দানপত্র দলিল কর‌তে দি‌তে হয় কম ক‌রে হলেও ১০০০০ টাকা। আমি অনেকের কাছে জান‌তে চাইলাম বাড়তি টাকা কেন। সবাই বলল অফিস খরচ ৭০০০/৮০০০ টাকা নাকি লেগে যায়। এটা কি বেশী হল না। এটা গেল পরিষ্কার ঝামেলা মুক্ত দলিলের ক্ষেত্রে। আর যা‌দের জরিপ ও অন্যান্য খাজনা দেয়ার সমস্যা থাকলে কথা নেই। অফিস খরচ তখন লক্ষ টাকা নির্ধারণ হবে। কারণ পুরাতন ফাইল ঘেঁটে ঘেঁটে হালনাগাদ করতে হয়। কি পরিমাণ পরিশ্রম যে করতে হয় বেচারা সরকারী বাবুদের।
আমি অনেকের সাথে কথা বললাম। জান‌তে পারলাম। অনেক মানুষ এর উপর জীবন ধারণ ক‌রে। দলিল লেখকরা বেঁচে আছে এই  টাকার উপর। রেজিস্ট্রি অফিসের সরকারী কর্মচারী‌দের অল্প টাকা নাকি বেতন পায়। তারা এর উপর নির্ভর ক‌রেই বেঁচে আছে। অত্যন্ত ল‌জিক্যাল বিষয়। তা‌দের দেখভাল সাধারণ মানুষ না করলে কে করবে। আমি  দানপত্র দলিল কর‌তে গি‌য়ে কেউ বলেছে ১২ হাজার, কেউ ১০ হাজার, কেউ ৮ হাজার ও কেউ ৬ হাজার টাকা। কোন নির্ধারিত রেট নেই। এখানে সামাজিক উন্নয়নের জন্য যেহেতু আমরা দলিল লেখক ও রেজিস্টারদের দেখভাল করছি তেমনি তারা যেন ঠ‌কে না যায় সেটাও আমাদের দেখতে হবে। সেজন্য সমাজ সচেতন ব্যক্তিরা দলিল লেখক ও রেজিস্টারের ফি সরকারী বা স্থানীয় প্রঞ্জাপ‌নের মত করা যে‌তে পা‌রে। কারণ দলিল লেখক ও দলিল রেজিস্টারদের বেচে থাকার লড়াইটাও আমাদের বুঝতে হবে। এগুলো রম্য আলোচনা হয়ে গেল।
এখন আসি বাস্তবতার দিকে। সম্পত্তির মূল্য যাই হোক দান পত্রের খরচ সরকার অনেক কম রেখেছে। কারণ সবাই যেন জমি রেজিস্ট্রি করে। মুখে মুখে মালিকানা বদল না হয়। আমরা যদি খেয়াল করে দেখি ১ লক্ষ টাকার সম্পত্তির  দানপত্র রেজিস্ট্রি করতে যা খরচ তবে ১০০ কোটি টাকার দানপত্র রেজিস্ট্রি করতে একই খরচ। বাবা ছেলেকে দান করবে। ছেলে তার ছেলেকে দান করবে। এভাবে এটার চক্র চলতে থাকবে। দানপত্র চলমান থাকবে। শুধুমাত্র আত্মীয়ের বাইরে মালিকানা বদলের প্রয়োজনে নতুন দলিল হতে পারে। দানপত্র যদি কোন ব্যক্তি তার সন্তানের জন্য এক লক্ষ টাকা মূল্য মানের জমি রাখে তবে তার যদি খরচ হয় দশ হাজার টাকা তবে তা দু:খজনক। আবার এক কোটি টাকার সম্পত্তি যে পাবে সেও দিবে দশ হাজার টাকা। আমি জমির দানপত্র দলিলের সম্পদের মূল্য বাড়ানোর সাথে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করছি না। রেজিস্টারের কাছে এক লক্ষ টাকার জমি নথিতে হালনাগাদ করতে যা পরিশ্রম এক কোটি টাকার জমি হাল নাগাদ করতে একই পরিশ্রম। সরকার জমি দলিলের লেখা এখন সহজ করেছে। বিঞ্জ দলিল লেখকরা বাদেও অন্যরা দলিল তৈরি করতে পারে। ইন্টারনেটে সার্চ দিলেও জমির দলিল লেখার নমুনা পাওয়া যাচ্ছে। একটু চেষ্টা করলেই শিক্ষিতরা জমির দলিল তৈরি করতে পারবেন। তাতে আপনার কোন লাভ নাই। কারণ জমি লেখক দিয়ে দলিল লেখাতে হবে এবং তাকে দিয়ে দলিল রেজিস্টারের কাছে জমা করতে হবে। তাই অফিস খরচ হতে বের হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য সহজ নয়।

বাংলাদেশে নাকি আশি লক্ষ জমির মামলা অনিষ্পন্ন আছে। অনেক মামলা নাকি ১০০ বছরে সমাধান হয়নি। এই অবস্থায় আমার কাছে মনে হল জমির রেজিস্ট্রেশন অনলাইনে করা যেতে পারে। গাড়ীর রেজিস্ট্রেশন যেমন অনলাইনে দেখা যায়। জমির রেজিস্ট্রেশন অনলাইনে হতে পারে। ছবি, ভোটার আইডি কার্ডের স্ক্যান কপি, টাকা জমা দানের ট্রানজিশান আইডি ইত্যাদি অনলাইনে সাবমিট করা যেতে পারে। রেজিস্টার অনলাইনে চেক করবে। রেজিস্টার ডিজিটাল সাইন দিবে। অতঃপর গ্রাহকের কাছে দলিলের পিডিএফ কপি ইমেইলে পাঠানো যাবে। আর যে কেউ যে কোন জমি দাগ নম্বর বা জমির রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে সার্চ করতে পারবে। এতে জমি সংক্রান্ত অনেক প্রতারণা দূর হবে। আমি আশাবাদী আজ না হউক আগামী ২০/৩০ বছরের মধ্যে জমির ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল হবে। আর দলিল লেখকরা নিদিষ্ট ফি এর বিনিময়ে অনলাইন ফরম ফিলাপ করবে।

Thursday, October 12, 2017

জীবন যাত্রা: শহরের প্রাইভেট কারের চালক ও গ্রামের রিক্সা চালক

আমি গত সেপ্টেম্বর ২০১৭ মাসের শেষ সপ্তাহে আমার গ্রামের বাড়ী কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় যাই। পথে চান্দলা বাজার নামক স্থান হতে গ্রামের বাড়ী যাওয়ার জন্য রিক্সা নেই। আমাদের গ্রামের প্রায় শতভাগ রিক্সাই ব্যাটারি চালিত। তেমনি একটি ব্যাটারি চালিত রিক্সায় উঠলাম। রিক্সা গ্রামের রাস্তায় চলছে। হঠাৎ করে খেয়াল করলাম। রিকশাওয়ালার কাপড় চোপড় পরিষ্কার। নীল জিনসের প্যান্ট পড়া। লাল জামা গায়ে। হাতে ঘড়ি। শার্টের পকেটে স্মার্ট ফোন। এই ২৫/২৬ বছরের গ্রামের রিকশাওয়ালার সাথে শহরে প্রাইভেট কার চালক যারা সাধারণত ১০,০০০ হবে ১৫,০০০ টাকা বেতন নিয়ে থাকে তাদের একটা পোষাকগত মিল পেলাম। এত ফিটফাট রিকশাওয়ালার আয় কত জানতে মন চাইল।
রিকশাওয়ালা জানাল সে প্রতি দিন ৬০০/৭০০ টাকার মত তার রোজগার হয়। এর মধ্যে ৫০ হতে ১০০ টাকা রিক্সার চার্জ বাবদ খরচ হয়। ছয় মাস পর পর ২২০০০ টাকা নতুন ব্যাটারি কেনার জন্য খরচ হয়। মাস হিসাবে প্রায় ৪০০০ টাকা। মনে করি চার্জ বাদে দিনে ৬০০ টাকা আয় ও মাসে আয় ১৮০০০ টাকা। ৪০০০ টাকা বাদ দিয়ে ১৪০০০ টাকা। অর্থাৎ ঢাকা শহরের প্রাইভেট কার চালকের বেতনের প্রায় সমান সমান।
ঢাকা শহরের প্রাইভেট কারের ড্রাইভাররা মালিকের বাসায় হয়তবা দুপুরের খাবার খায় মাঝে মাঝে রাতের খাবার খায়। অনেক মালিক থাকার জায়গা দিতে পারে। অনেকে পারে না। তাই এক দুইবেলা নিজের ব্যবস্থায় থাকার জন্য অনেক ড্রাইভারেরই ৩০০০/৪০০০ টাকা খরচ হয়। তাহলে কেমন হল ব্যাপারটা। গ্রামের রিক্সা চালক শহরের প্রাইভেট কারের ড্রাইভার হতে বেশী আয় করে থাকে। এটা কেমন হল। একটা ড্রাইভার অনেকেই মেট্রিক পাশ করেছে। টাকা খরচ করে শহরে থেকে গাড়ী চালনা শিখেছে। আর সে কিনা গ্রামের রিকশাওয়ালার সমান কামাই করছে।
একজন মোটামুটি শিক্ষিত যুবক টাকা খরচ করে ড্রাইভিং শিখে গ্রামের রিক্সা চালকের সমান আয় করলে তো ঠিক হল না। তবে এতে নিরাশ হবার কোন কারণ নেই। একজন প্রাইভেট কার চালক ছোট গাড়ী দিয়ে স্টার্ট আপ করে তাই বেতন কম। পরে সে বাস ট্রাক চালিয়ে আরো বেশী আয় করতে পারবে। রিক্সা চালক রোদ বৃষ্টিতে ভিজে আয় রোজগার করে আর প্রাইভেট কার ড্রাইভার এসি গাড়ীতে গান শুনে শুনে সময় পার করে। প্রাইভেট কার চালক অনেক সময় কোন প্রতিষ্ঠানে বা সরকারী স্থায়ী চাকুরীও পেতে পারে। রিক্সা চালকের সুযোগটা সীমিত। আমি গ্রামের স্থানীয় রিক্সা চালকদের লক্ষ্য করলাম। এদের রুটের টার্ন এরাউন্ড দূরত্ব থাকে সাধারণত ৩০ মিনিট হতে ৬০ মিনিট। ১ থেকে ১০ কি: মি: এর মধ্যে। পায়ে চালানো হতে ব্যাটারি রিক্সায় দ্রুত যাতায়ত করা যায়। তাই শারীরিক কষ্ট কম ও আয় বেশী। গ্রামের রিক্সা চালক বর্তমান সময়ে কিস্তিতে রিক্সা কিনে থাকে। এক দুই বছরের মধ্যে  তারা নিজেরাই রিক্সার মালিক হতে পারে।
গ্রামের রিক্সা চালকদের কয়েকটি বিষয় বেশ ভাল লেগেছে। প্রথমত তাদের দৈনিক আয় শহরের কাছাকাছি। এরা বাড়ীতেই বেশী খায়। হোটেলে  কম খায়। এদের বেশীর ভাগই নিজেই রিক্সার মালিক। এদের ইট সিমেন্টের পাকা বাড়ী আছে। বাড়ীতে টিভি ফ্রিজ আছে। গ্রামের বাজার থেকে ওয়ালটন টিভি ফ্রিজ কিস্তিতে কিনেছে। এদের বাচ্চারা গ্রামের প্রাইমারী স্কুলে পড়তে যায়। নিজেরা ও পরিবারের কাপড়ের মান ভাল। গ্রামীণ রিকশাওয়ালাদের পরিবর্তন গুলি বেশ আশাপ্রদ। অপর দিকে শহুরে রোজগেরে রিকশাওয়ালা বা গাড়ীর চালকরা বাইরে হোটেলে হোটেলে খায়। এদের পরিবার সাধারণত গ্রামে থাকে। এরা তিন চার মাসে বেশ কিছু টাকা নিয়ে ছুটি যায়। যারা কষ্ট করে শহরে পরিবার নিয়ে থাকে তারাও বস্তি এলাকায় অত্যন্ত নিন্মমানের জীবন যাপন করে।

গ্রামেরও শহরের জীবন যাত্রার মান বাড়ছে। আয়ের সুযোগ বাড়ছে। পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনে মানুষ অভ্যস্ত হচ্ছে। সন্তানদের স্কুল পাঠানোর আগ্রহ বেড়েছে। তাই শহর হতে গ্রাম এগিয়ে যাচ্ছে। বোকার মত শহরমুখী না হয়েও গ্রামেও সুন্দর জীবন যাপন সম্ভব।


Thursday, October 5, 2017

লেছ ক্যাশ জার্নি

আমার মাথায় মাঝে মাঝে পোকা/ আইডিয়া ঢুকে। এরূপ একটি আইডিয়া হল লেছ ক্যাশ হওয়া। আমি অনেক দিন হতে লেছ ক্যাশ অনুশীলন করে আসছি। এবার আমার ইচ্ছে হল ঢাকা থেকে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আমার গ্রামের বাড়ীতে মানি ব্যাগে কম টাকা নিয়ে যাতায়ত করা। প্রথমে ঢাকা বাসা থেকে মানি  ব্যাগে  এক হাজার টাকা নিয়ে বের হলাম। আমার বড় আপা সহযাত্রী হল। কুমিল্লা পৌছানোর পর বুড়িচং উপজেলা শহরে  স্কুটার নিলাম। ছোট বোনকে দেখার জন্য বুড়িচং থামলাম। ছোট বোনের বাসায় গেলাম।  ছোট বোনের বাচ্চাদের জন্য নগদ ছালামী দিলাম। ছোট বোনের বাসা থেকে বের হয়ে বুড়িচং শহরে জানতে চাইলাম ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম আছে কিনা। লোকজন আমাকে ডাচ বাংলা ব্যাংকের ফাস্ট ট্র্যাকের লোকেশন বলে দিল। আমি সেখানকার এটিএম থেকে টাকা তুলে নিলাম। পরবর্তী গন্তব্য আমার মা ও বাবার উদ্দেশ্যে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা নামক স্থান পর্যন্ত স্কুটার নিয়ে রওয়ানা হলাম।
চন্দলা ইউনিয়ন এলাকার টানা ব্রিজে-এ স্কুটার দিয়ে পৌছে গেলাম। সেখান থেকে রিক্সায় উঠতে উঠতে একটি ব্যানার চোখে পড়ল। তা হল ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং এর শাখা চান্দলা বাজারে খুলেছে। ভাল বোধ করলাম। টাকা লাগলে এজেন্ট ব্যাংকারের কাছে আসা যাবে। গ্রামের বাড়ীর উদ্দেশ্যে চললাম। বাড়ীতে ঢোকার আগে বাড়ীর সামনে রকেট এজেন্টের কাছে থামলাম । রকেট এজেন্ট হতে কিছু টাকা তুললাম সামনের আগত সময়ের খরচ গুলি করার জন্য। বাড়ী গেলাম। বড় ভাইয়ের বাচ্চাদের নগদ সেলামী দিলাম। বাড়ী যাওয়ার পর আমার মায়ের কাছে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে লোক হাজির হল। আমি মাকে কিছু টাকা দিলাম সেখান থেকে মা কিছু টাকা গ্যাসওয়ালাকে দিয়ে বিদায় করল। বিকালে বাবা, মা, বড় বোন ও ভাইদের সাথে বাড়ীর উঠানে আড্ডা শুরু। আমি ছোট ভাইকে পাঠালাম ফল আনতে। আঙ্গুর, আপেল আর কমলা খাচ্ছি আর গল্প চলছে। এভাবে গল্প করতে করতে সন্ধ্যা ছয়টায় বসে রাত দশটা বেজে গেল। পরের দিন আমার এক ভাগ্নেকে নিয়ে গ্রামের বাজার দেখার জন্য বের হলাম। গ্রামের বাজারে প্রথমে গেলাম চান্দলা বাজারে। চান্দলা বাজারে দুইটি ব্যাংকের অবস্থান পেলাম। একটা হল ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং আর অপরটি হল ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং। ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং নতুন হয়েছে। ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকটি হল ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রের লোকেরাই চালাচ্ছে। বাড়ী থেকে দুই কিলোমিটার দুরে ব্যাংকের দুইটি শাখা থাকায় ভালই মনে হল। বাড়ী থেকে আসা যাওয়া সহ ৩০ মিনিটে ব্যাংকের কার্যক্রম করা যাচ্ছে। বেশ ভাল বিষয়। আমি আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং থেকে আমার মানি ব্যাগের লো ক্যাশের ব্যালেন্সকে আপ করে নিলাম। তারপর চান্দলা বাজার ঘুরে ঘুরে দেখলাম। এখনকার সময়ে গ্রামের বাজারে অনেক নির্মান সামগ্রী পাওয়া যায়। তার কারণ অবশ্য গ্রামে এখন ইট সিমেন্টের বাড়ীর সংখ্যাই বেশী। আর একটা বিষয় চোখে পড়ল মোবাইলের দোকান ও ওয়ালটনের শো রুম। এখন গ্রামের সব বাজারেই মোবাইলের দোকান ও ওয়ালটনের শোরুম দেখা যায়।
এর পর আমি কসবা উপজেলার নয়নপুর নামক বাজারে গেলাম সেখানে কোন এজেন্ট ব্যাংকিং খুঁজে পাওয়া যায় কিনা। সেখানে এজেন্ট ব্যাংকিং এখনও হয়নি। তবে অনেক আগে থেকেই অগ্রণী ব্যাংকের শাখা বিদ্যমান ছিল। এই বাজারে দেখলাম ডাচ বাংলা ব্যাংকের অনেক রকেট এজেন্ট আছে। ব্যাংকিং এর জন্য ডাচ বাংলার রকেট একাউন্ট মন্দ নয়। টাকা উঠানো ও জমা সবই করা যাচ্ছে। বাজার থেকে ফিরে আসলাম। পরের দিন কুমিল্লা শহরের উদ্দেশ্যে গ্রাম থেকে শহরে রওয়ানা হলাম। শহরে এসে আমার মেঝ বোনের সাথে দেখা করার চিন্তা করলাম। মেঝ বোনের ছেলের জন্য ছালামী ও ঢাকা যাওয়ার খরচের জন্য মানি ব্যাগ রিচার্জ প্রয়োজন। কালিয়াজুরী বাসার সামনের একটা দোকানে রকেট সাইন পোস্ট দেখে থামলাম ও টাকা উঠালাম। আমার মানিব্যাগ সাধারণত ১০০০-২০০০ টাকার মধ্যে থাকে। ১০০০ টাকার নীচে চলে গেলে মানিব্যাগে টাকা ২০০০ পর্যন্ত সাধারণত উঠাই। অন্য কোন খরচের প্রয়োজন হলে তখন সেই খরচের চাহিদা মাফিক অতিরিক্ত উত্তোলন করি। এক সময় বাসে করে ঢাকায় ফেরত আসলাম। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে আমার মানিব্যাগে টাকা না রেখে পথে পথে চাহিদা বা প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা উত্তোলন করে যাতায়ত বা জার্নি করার ক্যাশলেছ পরীক্ষা সফল ভাবে করতে পারার জন্য আমি ডাচ বাংলা ব্যাংক ও তাদের রকেট ব্যাংকিংকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ ডাচ বাঙলা একাউন্টের সাথে তাদের রকেট ও এজেন্ট ব্যাংকিং লিংক করে নিয়েছি। এতে গ্রামের উপযোগী একটা চমৎকার ব্যবস্থা করতে পারলাম। অনেকে এখন হয়ত বিকাশের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম করে। কিন্তু ডাচ বাংলা ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ এটিএম, ফাস্ট ট্রাক, এজেন্ট ব্যাংকিং ও রকেটের মত মোবাইল ব্যাংকিং এর কারণে ব্যাংকটি আজ গ্রামীণ বান্ধব বা সাধারণ জনগণের কাছের ব্যাংক বলা যায়। এই ব্যাংকটির উপর ভরসা করে বাংলাদেশের যে কোন স্থানে টাকা কম নিয়ে যাতায়ত করা যায়। আমি আগে হিসাব করে টাকা নিয়ে বাড়ীতে গিয়ে প্রায়ই টাকা কম পড়ত। তখন বিকাশ করে টাকা আনতে হত বা গ্রাম থেকে কুমিল্লা শহরে এসে ট্রাস্ট ব্যাংক হতে টাকা তুলতে হত। এবার মানিব্যাগে অল্প টাকা নিয়ে যখন যেখানে প্রয়োজন ধার কর্জ ছাড়া গ্রামে ঘুরতে পেরে খুব মজা পেলাম। আপনারাও করে দেখতে পারেন।


Thursday, September 28, 2017

মানুষরা কবে ভাল ছিল

ছোটবেলায় পড়েছি আরবে যুদ্ধ বিগ্রহ হত। মেয়ে শিশুদের জ্যান্ত পুতে ফেলা হত। শুনেছি বর্গীদের কথা। ১ম বিশ্বযুদ্ধ। দ্বিতীয় বিশ্ব। অনেক অনেক যুদ্ধ। একেকটা যুদ্ধ আর শত সহস্র মানুষের মৃত্যু। শিশু ও নারীর চরম দুর্গতি। মানুষ বিঞ্জানে এগিয়েছে। ঞ্জানে এগিয়েছে। মানুষ নিজেদের গ্লোবাল সিটিজেন হিসাবে ভাবছে। মানুষে মানুষে সম্পর্ক বাড়ছে। এক দেশের মানুষ অন্য দেশের মানুষকে জানছে।ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা সমস্ত খবরাখবর মূহুর্তের মধ্যে সারা পৃথিবীকে জানাতে পারি। আমাদের সমস্ত অনাচার অত্যাচার আমরা জানাতে পারি। মুহূর্তের মধ্যে তা প্রচারিত হয়ে যায়। তবু কেন মনে হয় মানুষ সভ্য হয়নি এখনও অসভ্য রয়ে গেছে।
২০১৭ সালের আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ হতে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিবেশী মায়ানমার হতে ভেসে আসা লাশ, আহত ও শরণার্থী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় পৃথিবীর মানুষ সভ্য হয়নি।
আমরা অসভ্য মানুষেরা মিলে মিশে থাকতে শিখিনি। মানুষের জীবনের প্রথম শিক্ষা শুরু হয় তার পরিবার হতে। প্রতি শিশুর পিতামাতা সন্তানের প্রথম শিক্ষক। কোন সন্তানের পিতামাতা সন্তানকে বিপথগামী করতে পারে না। তবও মানুষ কেন বিপথগামী হয়। কোন পিতামাতা চায় না তার সন্তানরা সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করুক। মিলিশিয়া হউক বা জঙ্গি হউক। তারপরেও হচ্ছে। কেন হচ্ছে এটা নিয়ে গবেষনা কেউ করে না। যত গবেষণা দমন পীড়নে।
আমরা আজও আমাদের মানুষিকতাকে উদার করতে পারিনি। বর্ণবাদ চলে যায়নি। ঘুপটি মেরে লুকিয়ে আছে। জাতিগত বিদ্বেষ যায়নি। ধর্মীয় বিদ্বেষ যায়নি। কুৎসিত মানুষিকতার কিছু নেতা তা জিউয়ে রেখেছে। দুর্বল ও কুৎসিত মানুষিকতার নেতৃত্বে মানুষ আজ অসহায়। মায়ানমার ৭৫ বছর ধরে ৮/১০টি শক্তিশালী মিলিশিয়া গ্রুপের সাথে যুদ্ধরত। একাধিকার তারা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূল অভিযান পরিচালনা করছে। এই দেশটির অধিকাংশ মানুষ বৌদ্ধ। যারা অহিংসা ও জীব হত্যা মহাপাপ এই মন্ত্রে বিশ্বাসী। অথচ রাষ্ট্রীয়ভাবে তারাই বর্বর আচরণ করছে। তারা দোহাই দিচ্ছে আরকান রোহিংগা স্যালভেজ আর্মি সরকারী বাহিনীকে আক্রমণ করেছে। তার কারণে অপরাধী রোহিংগাদের না ধরতে পেরে নির্বিচারে অনেক নিরীহ নারী ও পুরুষ হত্যা করেছে। ৫০০ রোহিংগা মিলিশিয়ার জন্য তারা ৫০০০ থেকে ৫০০০০ বাহিনী নিয়োগ করতে পারত। অন্তত যাচাই বাছাই করে তারা নিরীহদের উপর অত্যাচার না করে রাষ্ট্র বিরোধী রোহিংগাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পারত। সরকারী বাহিনী প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে সহস্রাধিক রোহিংগার বাড়িঘর পুড়িয়ে দিল। অগণিত নারী ও শিশুকে হত্যা করল। এতে কিন্তু রাস্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ড স্তিমিত না হয়ে আরও বেড়ে যাবে। যে মানুষগুলি বেচে আছে তারা কোনদিন তাদের রাষ্ট্রকে তার রাষ্ট্র ভাবতে শিখবে না। সে সর্বদা সরকার রাষ্ট্রকে তার প্রতিপক্ষ মনে করবে।যে সন্তান তার বাবাকে হারিয়েছে সে কিন্তু স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখবে। যে নারী রাষ্ট্রীয় সৈন্য দ্বারা ধর্ষিত হয়েছে সে রাষ্ট্রকে ভালবাসতে পারবে না। তার সন্তানকে রাষ্ট্র বিরোধী কাজে নির্ধিদ্বায় অনুমতি দিবে।
আমি একজন ক্ষুদ্র মানুষ হয়ে চিন্তা করতে পারলাম অস্ত্র দিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন স্তিমিত করা যায় না। এ ধরনের আন্দোলনের জন্য প্রয়োজন ডায়ালগ। সেই অবহেলিত অঞ্চলের আর্থিক ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন। প্রয়োজন ব্যাপক কর্মসংস্থান। ধর্মীয় উদারতা। বৌদ্ধ ধর্ম উদার নয় একথা মানতে কেউ চাইবে না। অথচ রোহিংগা মুসলিমদের প্রতি তাদের আচরণ অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।
একজন দেশনেত্রীর শান্তি পুরষ্কার পাওয়ার পর তার দেশের মানবতার বিপর্যয় অত্যন্ত মর্ম পীড়াদায়ক। আফ্রিকায়, মধ্য প্রাচ্যের নানা দলের নানা ধরনের যুদ্ধ অব্যাহত। আজ আমরা মুহূর্তের মধ্যে পরস্পরকে জানতে পারছি। বুঝতে পারছি। যোগাযোগ করতে পারছি। তবু কেন সংঘর্ষে লিপ্ত। তুমি আমার একজন মেরেছ আমি তোমার দশজন মারব। তুমি আমার দশজন মেরেছ। আমি তোমার একশ জন মারব। এই খেলা কোথায় শেষ হবে আমরা জানিনা। পৃথিবী থেকে এই ধরনের প্রতিহিংসা কবে যাবে আমরা জানি না।

এক সময় মানুষ সমাজতন্ত্রের কথা বলত। আজ বলে না। কারণ আমরা সবাই ভাল থাকি তা চাই না। আমরা প্রত্যেকে  চাই আমাদের খেদমত করার লোক থাকুক। আমরা সবাই নেতৃত্ব চাই। অথচ ভালবাসা দিয়ে ভালবাসার অর্জন আমরা চাই না। পৃথিবীর সমস্ত মহামানবরা শান্তির কথা বলেছেন। হানাহানির বিপক্ষে ছিলেন। মানুষ মনে হয় জেনেটিক্যালী হিংস্র। তাই অনেক শিক্ষা দীক্ষার পরও মানুষ প্রতিহিংসা পরায়ণ। মানুষ মানুষকে সহ্য করতে পারবে না। এখন পর্যন্ত ৩য় বিশ্বযুদ্ধ হয়নি। অনেকের ধারনা প্রযুক্তি এত বেশী অগ্রগামী যে মানব সভ্যতা মূহুর্তে ধ্বংস হতে পারে। আমার ধারনা ছিল মানুষের আন্ত যোগাযোগ বাড়ছে। যে কোন খবর মুহূর্তের মধ্যে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে যায়। তবে কেন মানবতা লঙ্ঘনে ধিক্কার উচ্চারিত হয়না। লাশের সারি আসলেও ধিক্কার হয় না। দু:খজনক। পৃথিবীতে কখনও মানুষ হানাহানি মুক্ত থাকতে পারবে তা আমার বিশ্বাস হয় না। অতীতেও হানাহানি ছিল। ভবিষ্যতেও থাকবে। গ্লোবাল সিটিজেনের আইডিয়া ও সকল মানুষের জন্য বেসিক ইনকাম সবই বৃথা। পৃথিবীর মানুষের বিবেক জাগ্রত করাই এখন সময়ের দাবী।

Thursday, September 21, 2017

এখনই সময় মায়ানমারের রোহিংগাদের নির্যাতনের ইতিহাস লেখা

আন্তর্জাতিক ওয়্যার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের ওয়্যার ক্রাইম যারা করেছে তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করিয়েছে। ২য় বিশ্ব যুদ্ধের যুদ্ধ অপরাধীদেরও বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছিল। মায়ানমারের জান্তাদের জন্য কোন না কোন সময় আসবে যখন তাদেরকেও বিচারের মুখোমুখি করা যাবে। এটা এই যুগে খুবই সহজ। কারন তথ্য প্রযুক্তি মানুষকে অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছে। তথ্য প্রমানদি আজ সংরক্ষন ও বিতরন সহজ। আন্তর্জাতিক মানব অধিকার সংস্থাগুলো রোহিংগাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে গনহত্যার শিকার কারা কারা হয়েছে তাদের তালিকা তৈরি করতে পরে। কোন পরিবার কাকে কাকে হারিয়েছে তার তথ্য ও তালিকা লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে রোহিংগাদের আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ছবি পেলে তা দিয়ে তথ্য ভাণ্ডার তৈরি করা অতীব জরুরী। রোহিংগাদের যাদের মোবাইলে বা অন্য কোন আলামত ও প্রমাণাদি আছে তা এখনই সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। ২০১৭ সালে বিঞ্জানের উন্নতির এই যুগে সব অত্যাচার ও মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের সংরক্ষণের সুযোগ থাকতে তা অবশ্যই কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে রোহিংগা জেনোসাইটের ওয়েব সাইট তৈরি করা প্রয়োজন যেখানে নিহত,আহত ও মানবতা বিরোধী ঘটনা প্রতিনিয়ত আপডেট করা হবে। এভাবে কুখ্যাত ও ধিক্কৃত জান্তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে দাড় করানো সহজ হবে।
আমার এই আইডিয়া বাস্তবায়নের কিছু চিন্তা আমি করেছি তা নীচে দিলাম:
১। একটি শক্তিশালী ওয়েবসাইট তৈরি করা। এটি মায়ানমার রাষ্ট্রীয়ভাবে হ্যাকিং করার চেষ্টা চালাবে বলে ধারনা করা যায়। এটির হোস্টিং বাংলাদেশসহ একাধিক দেশে রাখতে হবে।
২। বিভিন্ন মানব অধিকার সংস্থা দ্বারা ফান্ড রেইজ করতে হবে।
৩। বিভিন্ন মানব অধিকার সংস্থার সমন্বয়ে রোহিংগা নির্যাতনের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার জন্য স্থায়ী কমিটি মানব অধিকার সংস্থা সমূহ হতে করা যেতে পারে। এর মধ্যে শিক্ষিত ও আইটি জানা রোহিংগা  সদস্যের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাদের মাসহারা প্রদান করা যেতে পারে। নিরাপত্তার জন্য তাদের অন্য দেশে রাখতে হবে ও প্রয়োজনে তাদের পরিচয় গোপন রাখতে হবে। তারা মায়ানমারের গোয়েন্দা সংস্থার টার্গেটে পরিণত হবে। আবার রোহিংগা সদস্য না রাখলে ইতিহাস লেখা বা তথ্য ভাণ্ডার তৈরি অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে।
৪। বাংলাদেশ ও পৃথিবীর অন্যান্য দেশে অবস্থানরত সকল রোহিংগা শরণার্থীদের ইন্টার্ভিউ নিতে হবে ও তাদের সাক্ষাৎকার রেকর্ড করতে হবে। তাদের তথ্যাদি রেকর্ড করে তা থেকে নিহত,আহত ও তাদের উপর অত্যাচারের বিবরণের ডাটা বেজ বানাতে হবে।
৫। রোহিংগাদের বাড়িঘর পুড়ানো, ব্যবহার্য সামগ্রী পুড়ানো, লুট করে নেয়া ও হারানো জমির পরিমাণ সবই তাদের ইন্টার্ভিউ করে রেকর্ড করতে হবে। তা থেকে পরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা সম্ভব হবে। প্রয়োজনে মায়ানমার সরকারকে রোহিংগাদের ক্ষতিপূরন আদায়ে আন্তর্জাতিক মহল পরবর্তীতে চাপ সৃস্টি করতে পারবে।
৬। যে সব নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে তাদের বিবরণ লিপিবন্ধ করতে হবে। গোপনীয়তার সাথে রাখতে হবে। তাদের কাছ থেকে ধর্ষণের স্থান, সময়, ধর্ষকের বর্ণনা, ধর্ষকের পোশাক, নাম ও যে পোষাকে ধর্ষিত ছিল তার ডিএনএ তথ্য সংগ্রহের জন্য দিতে হবে। যারা তথ্য দিতে অনিচ্ছুক তাদেরকে নারী মোটিভেটর দিয়ে তথ্য নিতে হবে। মেডিক্যাল রিপোর্ট সংযুক্ত করতে হবে।
৭। যেসব নারী সন্তানসম্ভবা এবং যারা ধর্ষণের কারণে গর্ভবতী হয়েছে তাদের সন্তানদের ডিএনএ পরীক্ষা করাতে হবে।এতে আন্তর্জাতিক আদালতে ধর্ষণের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম গ্রহণ করা সহজ হবে।
পৃথিবীর কোন ধর্ম মানুষের প্রতি সহিংসতা মেনে নেয়নি। বিশ্ব মানবতা কখনো তা সাপোর্ট করে না। আজ থেকে শত বছর পড়ে হলেও মায়ানমারের এই মানবতার ধ্বংসলীলার বিচার হতেই হবে। কোন সুস্থ মানুষ মায়ানমারের এই অবিচার মেনে নিতে পারে না। মায়ানমারের সামরিক জান্তারা গলা ফাটাচ্ছে রোহিংগাদের মিলিশিয়া গ্রুপ একাজ করেছে। অপর পক্ষে মায়ানমারের সরকার রোহিংগা মিলিশিয়া অর্থাৎ আরাকান রোহিংগা স্যালভেজ আর্মি (আরসা) কি করেছে তাও তাদের লিপিবদ্ধ রাখতে হবে। আরসা নিরপরাধ মানুষের উপর জুলুম করলে তার রেকর্ডও রাখতে হবে। তাদেরও মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিচার করতে হবে। তবে মায়ানমার সরকার আরসা সদস্যদের নিয়ে বিচারের প্রহসন করে গণহারে মৃত্যুদণ্ড দেয়াটাও গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়।

মানুষকে অবস্থানগত কারণে কোন দেশের নাগরিক বলা যেতে পারে। তবে মানবিকতার প্রশ্নে মানুষ হউক গ্লোবাল সিটিজেন। আর কোন মানবিক বিপর্যয় নয়। তার জন্য প্রয়োজন সোচ্চার হওয়া। রোহিংগার নির্যাতনের ইতিহাস লেখার মধ্য দিয়েই তা সম্ভব ও শুরুটা এখান থেকেই করা যায়।

Thursday, September 14, 2017

শরণার্থী ক্যাম্প নয় মানব উন্নয়ন ক্যাম্প

যুগ যুগ ধরে চলে আসা শরণার্থী ক্যাম্প আমাদের পরিচিত একটি শব্দ। শরণার্থী বলতে আমরা যা বুঝি তা হল অন্য দেশ থেকে অত্যাচারিত বা যুদ্ধে লিপ্ত দেশ হতে প্রতিবেশী দেশে নিরাপদ আশ্রয় নেয়া। ১৯৭২ সালে লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল পাকিস্তানী হানাদারদের হাত হতে বাচার জন্য। কুমিল্লার ব্রাহ্মণ পাড়া উপজেলার চৌব্বাস নামক গ্রামে আমার দাদা ও নানা বাড়ী। আমার নানা স্কুল মাস্টার ছিলেন। তিনি শরণার্থী হয়ে আগরতলা গিয়েছিলেন সেখানে ডায়রিয়া হয়ে মারা যান। তার মৃতদেহ শূন্য লাইন ক্রস করে বাংলাদেশে কবর দেয়া হয়। কারণ পাকিস্তানী আর্মির উপস্থিতির কারণে আমার মামারা গ্রামে এনে কবর দিতে পারেনি।নানীর কাছে শরণার্থী শিবিরের তাঁবুর জীবনের কষ্টকর গল্প শুনেছি। কিভাবে চাল আটা মিলিয়ে সিদ্ধ করে ঘাটি খেতেন। আর হাজারে হাজারে লোক কলেরা বা ডাইরিয়ার মারা গিয়েছে। ভারতীয়রা অনেক সাহায্য করেছিল। পানি খেত পুকুর থেকে ও নদী থেকে নিয়ে। সুপেয় পানির অভাবে তারা অনেকেই মারা গিয়েছিল। আশে পাশে কুড়ানো কচু শাক, শুটকি ভর্তা ইত্যাদি খাবার ছিল তাদের নিত্য দিনের মেনু। প্রায় তিন মাস শরণার্থী শিবিরে ডিসেম্বর মাসে তারা নিজের ভিটায় ফেরত আসতে পেরেছিল। অত্যন্ত করুন ছিল সেই দিনগুলো।
আমাদের ৯ মাসের যুদ্ধে আমরা ৩০ লক্ষ বাঙ্গালী হারিয়েছি। আমাদের প্রতিবেশী মায়ানমার বছরের পর বছর রোহিংগা নিধন করে যাচ্ছে। আর রোহিংগারা বানের পানির মত বাংলাদেশে এসে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছে। কোন কোন রোহিংগারা আশ্রয় নিয়ে বছরের পর বছর বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে পাকাপোক্ত হয়ে গেছে। ২০১৬ সালের অক্টোবর ও ২০১৭ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ব্যাপক হারে রোহিংগা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। এই দুই বছরেই ৫ লক্ষ রোহিংগা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা বিভিন্ন ক্যাম্পে রয়েছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে রোহিংগা ছড়িয়ে আছে। তেমনি অনেক অনেকে  শরণার্থী ক্যাম্প ছড়িয়ে আছে সারা পৃথিবী জুড়ে।
লক্ষ লক্ষ মানুষ শরণার্থী ক্যাম্পে আছে। শরণার্থীরা হয়ত অল্প কিছুদিনের জন্য থাকার কথা। কিন্তু মাসের পর মাস তারা আটকা পড়ে থাকে। ক্যাম্পে জন্ম হয় বড় হয়। বিয়ে করে। আবার বাচ্চা জন্ম হয়। সাইক্যাল ঘুরতে থাকে আর সংখ্যা বাড়তে থাকে। অপুষ্টি, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও মানবেতর জীবন নিয়ে তারা ধুকে ধুকে বাচতে থাকে, এই আশায়, হয়ত কোন একদিন নিজের ভিটে মাটি ফেরত পাবে।
আমার মনে হল কেন আমরা “শরণার্থী শিবির” বা “রিফিউজি ক্যাম্প” কেন মানব উন্নয়ন শিবির বা হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ক্যাম্প বলি না।
রিফিউজিরা ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হতে পারে। তারা প্রতিভা বিহীন নয়। তাদেরকে রিফিউজি ক্যাম্পের খয়রাতির উপর রাখা ঠিক নয়। তাদের মাঝে যে ডাক্তার তাকে ডাক্তারি করাতে হবে। তাদের মাঝে যে টিচার সে বাচ্চাদের পড়াবে। মিস্ত্রীরা ঘর বানাবে। মহিলা যারা ভাল রাঁধে তারা ক্যাম্পের খাবার রান্না করবে। যারা দর্জির কাজ জানে তারা কাপড় বানাবে। যারা গাড়ী চালাতে জানে তারা গাড়ী চালাবে। শরণার্থীদের যারা যেই কাজ জানে তাকে তার উপকরণ দিতে হবে। এমনকি যে ভাল ছবি আকে তাকে ছবি আকার উপকরণ দিতে হবে। যুদ্ধের ভয়াবহতার ছবি সে আঁকবে। অন্যরা তা কিনে নিবে। যারা কোন কাজে দক্ষতা নেই তারা স্বাভাবিক মজুরী করবে। জমিতে কাজ করবে। এতে শরণার্থীরা আশ্রিত দেশের অর্থনীতিতে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারবে। তারা তাদের স্বস্থির জন্য তাদের আয়কৃত টাকা দিয়ে বিভিন্ন দ্রব্য ক্রয় করতে পারবে। জাতিসংঘসহ যে কোন সাহায্য সংস্থা এই কাজগুলি করতে পারবে।
এখন প্রশ্ন হল আশ্রিত দেশের নিরাপত্তা কি এতে বিঘ্নিত হতে। এরা কি সাধারণ জনস্রোতে মিশে যাবে। এই আশংকা একদম উড়িয়ে দেয়া যায় না। কিন্তু আধুনিক যুগে এটা কোন সমস্যা নয়। শরণার্থীদের বায়োমেট্রিক্স নিবন্ধন করতে হবে। আধুনিক যুগের বায়োমেট্রিক্স সাধারণ ও সুবিধাজনক ব্যবস্থা। এটা করতে পারলে প্রয়োজনে শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সহজ হবে।

শরণার্থী কামাই বা রোজগার করবে তার ভোগ্যপণ্য ও জীবন মানের উন্নয়নের পর তার কিছু টাকা বেচে থাকবে। তা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ব্যাংক একাউন্ট  করে সঞ্চয় করানো যাবে। শরণার্থী বিপদে/আপদে ও সন্তানের শিক্ষায় সেই টাকা খরচ করতে পারবে। যখন শরণার্থী নিজ দেশে ফেরত যাবে তখন তার আশ্রিত দেশ সেই টাকা তাঁর দেশে পাঠাতে পারবে। এভাবে শরণার্থীদের জন্য মানব উন্নয়ন শিবিরের মাধ্যমে কল্যাণ করা যায়। মানবাধিকার সংস্থা, আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলি অনেক কাজ করেন। তারা শুধু তাদের কর্মপন্থা বদল করে শরণার্থীর জীবনধারণের মোকাবেলাটা মানবীয় করতে পারবেন। তারা মানবীয় উন্নয়নগুলো করতে পারবেন। সকল মেয়েদের সেলাই ও অন্যান্য অনেক কাজে দক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া যায়। যাতে তারা যৌনকর্মীর মত ঘৃণ্য পেশায় না যায়। আমার এই আইডিয়াটা নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বে যারা আছেন তারা ভেবে দেখতে পারেন। আমরা সাধারণ মানুষরা তাদের সেলাই মেশিন ও অন্যান্য আয় বর্ধক উপকরণ যাকাত হিসাবে প্রদান করতে পারি। আমার এই ধারনা বা আইডিয়াটা যদি কারো মনে ধরে বা কোন সাহায্য সংস্থা তা বাস্তবায়ন করে তবে আমার ভীষণ আনন্দ হবে।

Thursday, September 7, 2017

ফেইসবুক চালানো ও এমবি কেনা

আমরা যারা শহর উপার্জন করি তাদের উপর গ্রামের কিছু সংখ্যক আত্মীয় মুখাপেক্ষী থাকে। কিছুদিন আগেও ঘরবাড়ী মেরামত ও কাপড়চোপড়ের ডিমান্ড ছিল। এখন চাহিদাটা হল পড়াশোনায় সহায়তা। আমার এরূপ আত্মীয় তার সন্তানদের পড়াশোনার জন্য আর্থিক সাহায্য চাইল। তাদের প্রায়শই আমি সাহায্য দেই। আমি এই ধরনের সাহায্য গ্রামের অন্য আত্মীয় দ্বারা ভেরীফাই করি। এইরূপ ভেরীফাই করতে গিয়ে আমার অন্য আত্মীয়কে জিঞ্জাসা করলাম। কিছুদিন আগে অমুকের ছেলে মেয়ের কলেজে ভর্তির বাবদ টাকা দিলাম। এখন আবার বই কেনার টাকা চাইছে। এরা কি টিউশনি করতে পারে না? গ্রামে কি টিউশনি নাই? আমার আত্মীয় জানাল গ্রামে একটা দুইটা টিউশনি এরা করে টাকা কম। আর একটা সমস্যা হল এরা একাধিক আইডি ব্যবহার করে ফেইসবুক চালায়। একাধিক আইডিটা কি। ফেক আইডি আর কি। অর্থাৎ কাল্পনিক তথ্য দিয়ে আইডি তৈরি করা। এরা এমবি কেনার পিছনে টাকা পয়সা খরচ করে। এদের সহযোগিতা করার প্রয়োজন নেই।
ফেইক আইডি দিয়ে ফেইসবুক চালায় আর এমবি কিনে। শব্দগুলি আমাদের অনেকের জন্য নতুন ও মজাদার।
বেশ কয়েক বছর আগে পত্রিকায় পড়ে ছিলাম উন্নত দেশগুলোতে চাকুরীজীবী কর্মীরা এত বেশী ফেইসবুকে সময় অতিবাহিত করে যে তাদের কর্পোরেট বসরা অফিসিয়াল কানেকশনে ফেইসবুক বন্ধ করা বা অফিস টাইমে ফেইবুক বন্ধ করার মত উদ্যোগ গ্রহণ করে। এখন আমাদের বাংলাদেশে স্মার্ট ফোনের বদৌলতে গ্রামের ছেলে মেয়ের হাতে হাতে ফেইসবুক চর্চা হচ্ছে। না হয়ে উপায় নেই। স্কুল কলেজের টিচাররা ফেইসবুকে পরীক্ষার রুটিন দিচ্ছেন। বিভিন্ন বিষয়ে মতামত নিচ্ছেন। সামাজিক ভাবে ফেইসবুক অনেক বেশী গ্রহণীয় মাধ্যম। সরকারী কর্মকর্তারা ফেইসবুকে মাধ্যমে গ্রাহক সেবা দিচ্ছেন। আমার মনে আছে আশির দশকে চিঠি লেখালেখি মজাদার একটি কাজ ছিল। অনেক সুন্দর সুন্দর চিঠি আমরা লিখতাম। পেন ফ্রেন্ড করার জন্য চিঠি লিখতাম। যাকে বলা হল পত্র মিতালী। তখনও চিঠির ঠিকানাকে অন্যের বা পরিচিত দোকানের ব্যবহার করত অনেকটা ফেক আইডির মত। এমনকি ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজিতে বিদেশে বিভিন্ন পেন ফ্রেন্ড পত্রিকা থেকে ঠিকানা নিয়ে চিঠি লেখা হত। এসব চিঠি লিখতেও রাত জাগতে হত। আমাকে আজ যে ফেইসবুক নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেছে তাকেও ছোটবেলায় দেখেছি পত্র মিতালীর পত্র নিয়ে রাত জাগতে। আজকাল যেমন পত্রিকায় দেখা যায় ফেইসবুক ফ্রেন্ড মেয়ে বা ছেলে বাংলাদেশে চলে এসেছে। তখনও পত্র মিতালী বন্ধু অনেক সময় চলে আসত। আবার প্লেনের টিকিট পাঠানোর কাহিনীও আছে। আমি বিদেশে পেন ফ্রেন্ড পত্রিকা থেকে ঠিকানা নিয়ে হয়ত দশটি চিঠি লিখলাম। একটি বা দুইটি যোগাযোগ হল। তখন মনে আছে, পিয়ন চাচা বলত, এইভাবে অনাত্মীয়দের কাছে চিঠি দিয়ে কেন টাকা নষ্ট করছি। বয়সের ধর্ম। উত্তর নাই।
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি যখন কম্পিউটার চালু হল যা এখনকার তুলনায় অতীব ধীর গতির কম্পিউটার। তার পর ধীরে ধীরে ইন্টারনেট আসল। সেসময় চালু হল ইয়াহু চ্যাট এবং আরও অনেক চ্যাট চ্যানেল। তখন ছেলে বুড়ো রাতের পর রাত জেগে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ও চ্যাটিং করে। মিনিট প্রতি ইন্টারনেট খরচ ১/২ টাকা। কোন ডাটা প্যাকেজ সিস্টেম নাই। আনলিমিটেড ইন্টারনেট ছিল। তাও মাসে ৫০০০/৬০০০ টাকা। যা এখনকার মূল্য মানে বিশ/পঁচিশ হাজার টাকার নীচে নয়। পেন ফ্রেন্ড ও চ্যাটের যুগের পর আমরা এখন মাল্টিমিডিয়া ইন্টারএ্যাকিটভ ফেইসবুকের যুগে এসেছি।                   
যুগ যুগ ধরে অনেক কাজ বিভিন্ন সময় ও বিভিন্ন কালের জ্যৈষ্ঠরা ভাল চোখে দেখত না:       
১। কম বয়সে চা খাওয়া ও সিগারেট খাওয়া।
২। আড্ডা মারা ও কার্ড খেলা।
৩। সিনেমা দেখা ও অধিক সময় টিভি দেখা।
৪। বিপরীত লিঙ্গের সাথে পেন ফ্রেন্ড করা।
৫। বিপরীত লিঙ্গের সাথে ফোনালাপ।
৬। বিপরীত লিঙ্গের সাথে চেটিং করা।
৭। ফেইক আইডি খুলে বিপরীত লিঙ্গের সাথে প্রেম প্রেম খেলা।
উপরের সবগুলো ঘটনাই কিন্তু যুবা বয়সের মজাদার কাজ। এগুলো প্রবীণ ও নবীনের মধ্যে দ্বন্ধ। অথচ কাজগুলি নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় স্রেফ বিনোদন হিসাবে নিলে খারাপ বলা যাবে না। বেশী মাত্রায় আসক্ত হলে সময় নষ্ট ও অর্থ নষ্টের কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত বা নেশাগ্রস্ত হয়ে কাজগুলি করলে তা পড়াশোনার ক্ষতির কারণ বইকি।
আমরা যারা শহরে থাকি অধিকাংশই ক্যাবল লাইনের আনলিমিটেড ইন্টারনেট রাউটার দিয়ে মোবাইল, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও কম্পিউটারে ব্যবহার করি। ইন্টারনেট না থাকলে পাঁচ বছরের শিশুরাও অধৈর্য্য হয়ে যায়। ইচ্ছামাফিক রাইম বা কার্টুন দেখতে পারছে না। এখন সবাই টিভি থেকেও সরে যাচ্ছে। মোবাইলে নজর বেশী। মোবাইলে সব হচ্ছে যেমন: ইন্টারনেট, ফেইসবুক, ইউটিউব ও টিভি। আবার মোবাইল যে কোন স্থানে প্রাইভেসী মেইনটেইন করে ব্যবহার করা যায়।

আজকের যুগে মাদকের ব্যাপক আগ্রাসন থেকে ফেইসবুক রক্ষাকবচ বৈকি। ফেইসবুক পড়াশোনার কিছুটা ক্ষতি করলেও মাদকের আসক্তি আরও বেশী ক্ষতি করে। তাই আমি ২০১৭ সালে পয়তাল্লিশোর্ধ্ব বয়সে ফেইসবুক ব্যবহারকে অপরাধ হিসাবে দেখি না। মাদকের আগ্রাসন রোধে মানুষে মানুষে প্রেম ভালবাসা বাড়াতে ফেইসবুক অপূর্ব মাধ্যম।মানুষের মধ্যে ভালবাসা বাড়লে মানুষ বেচে থাকার আনন্দ খুজে পাবে। আত্মহত্যার প্রবনতা কমবে। অপকারী চিন্তা কমবে। মাদকমুক্ত হবে সমাজ। আর অনেক টাকা খরচ করে মেগাবাইট ইন্টারনেট না কিনে স্কুলের ও কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা যেন সস্তায় বা বিনামূল্যে গিগাবাইট পেতে পারে সকলের সেই চেষ্টাই করা উচিত। এতে ফেইসবুকের পাশাপাশি একসময় দক্ষ আইটি জনশক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটবে।

Thursday, August 31, 2017

মোবাইল অ্যাপ লাইভ ৩৬০ (Live 360)


আমরা ২০১৭ সালের এমন একটা সময়ে এসে আমাদের অবস্থান যখন প্রযুক্তির ব্যাপকতা বাড়ছে। মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে।মানুষের ব্যস্ততা বাড়ছে। ছেলে মেয়েরা নিজেদের মত একাকী অনেক অনেক স্থানে যেতে হচ্ছে। সর্বদা সবাই ব্যস্ত। দম ফেলার জো নেই। এর মধ্যে স্বস্তিতে থাকার একটি ব্যবস্থার না লাইভ ৩৬০। এটি একটি ফ্যামিলি ট্র্যাকার অ্যাপ। অ্যাপটি বেশ চমৎকার। আমরা আমাদের উঠতি বয়সী ছেলে মেয়েদের মোবাইল ট্র্যাকার অ্যাপটি ব্যবহার করার জন্য অনুপ্রাণিত করতে পারি। আমার এক কনিষ্ঠ জুনিয়র কলিগ একটা কাজে আমার কাছে আসল। সে ছিল নব বিবাহিত। তাকে নিয়ে একটা কাজ করছিলাম। হঠাৎ টুক করে মোবাইলে ম্যাপ দেখল। আমার কৌতূহল হল কি দেখছ। সে তখন বলল, লাইভ ৩৬০ দেখছি। এটা কি? তখন সে বলল, আমার স্ত্রী তার বাবার সাথে ঢাকা যাচ্ছে। কোথায় আছে। দেখে নিলাম। সেটা কিভাবে? সে তখন ম্যাপের উপর তার স্ত্রীর বর্তমান লোকেশন দেখাল। আমার কাছে বিষয়টা বেশ উৎসাহব্যাঞ্জক মনে হল। আমি বললাম, ভাবী তো মাইন্ড করবে। সে কোথায় কোথায় যাচ্ছে, তা তুমি জেনে যাচ্ছ। তখন সে বলল আমিও কোথায় কোথায় যাচ্ছি সেও দেখতে পাচ্ছে।
আমি বললাম বৌয়েরা স্বামীকে ট্র্যাক করলে অপরাধ নয়। কিন্তু স্বামী বৌও কে ট্র্যাক করলে খবর আছে। কারণ এতে স্বামী সন্দেহবাতিক প্রমাণিত হয়। তখন কলিগটি বলল সেই যাই হোক স্যার আমরা দুইজনে এতে বেশ উপকার পাচ্ছি। তা হল আমরা কেউ কাউকে ফোন করে কোথায় আছে জানতে চাইনা। এটা একটা বড় লাভ। আমাদের চিন্তা থাকছে না কোথায় আছে। আর বার বার করে ফোন করে লোকেশন জানার প্রয়োজন হচ্ছে না। লাইভ ৩৬০ দেখে পৌঁছানোর পর ধীরে ধীরে সুস্থে জার্নি কেমন হল বা অন্যান্য বিবরণ জানা যাবে। আর জার্নির অগ্রগতি খারাপ হলে বা জ্যামে আটকা পড়লে তা ম্যাপে বোঝা যাবে। তখন ফোন করে কষ্টের মধ্যে সান্ত্বনা দেয়া যাবে। কোথাও বিপদে পড়লে কাছাকাছি কাউকে লোকেশনটা ম্যাসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া যাবে। আমার কলীগ নাতি দীর্ঘ বক্তৃতা শোনানোর পর সে বলল, ব্যবহার করে দেখেন। ভাল লাগবে। আমি আমার স্ত্রী ছেলের মোবাইলে ইন্সটল করে নিলাম। ভালই মজা পেলাম।
অনেকের সাথে বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রথমেই ধাক্কা খেলাম। সবাই বলল, এটা ব্যক্তি স্বাধীনতা খর্ব করছে। আপনার মুভমেন্ট অন্য একজন দেখছে এটা চরম অস্বস্তিকর।কেউ কেউ বলল জঙ্গিরা আপনাকে ফলো করে আপনার ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া এই অ্যাপের ডাটা গুলো থার্ড পার্টির কাছে আছে তার এটা এ্যাবিউজ করতে পারে। সবই ভিআইপি প্রটেকশন নিয়ে কথা। ম্যাংগো বা আম জনতার জন্য এই ধরনের নিরাপত্তা চিন্তা অত গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের মধ্যে যারা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অনেক শত্রু তৈরি করে ফেলেছেন, তার এটা ব্যবহার নাও করতে পারেন। আমার মত সাধারণ মানুষ ছেলে মেয়ে স্ত্রীদের ফ্যামিলি ট্র্যাকার এই অ্যাপ ব্যবহারে আশা করা যায় স্বস্তি দায়ক চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করা যাবে।
লাইভ ৩৬০ গ্রুপে যারা আছে তাদের সবাই পরস্পরের মোবাইলে চার্জের স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন। এতে পরস্পরকে মোবাইল চার্জের বিষয়ে আগাম হুশিয়ারি দিতে পারবেন। এতে কোন স্থানে গিয়ে লোকেশন সহ চেক ইন স্ট্যাটাস দেয়া যাবে। কোথাও কোন স্থানে বিপদে পড়লে প্যানিক বাটন চাপা যাবে। তাতে গ্রুপের সবাই বিপদ সম্পর্কে জানবে। নিকটবর্তী কেউ উদ্ধারে এগিয়ে আসতে পারবে।
এই অ্যাপটি সাংবাদিকরা ব্যবহার করতে পারে। তাদের টীম ওয়ার্কে কাজ করতে হয়। টীমের কে কোথায় কাজ করছে তা টীম সদস্যদের ফোন না করেও জানা যাবে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীরা যখন স্টাডি ট্যুরে যাবে তখন নিজেদের নিরাপত্তার জন্য লাইভ ৩৬০ এর গ্রুপ তৈরি করে নিতে পারে। এতে কে কোথায় যাচ্ছে বা আছে এটা সহজে জানা যাবে। দলছুট বা হারিয়ে যাওয়ার অনেক সম্ভাবনা কমে যাবে। পুলিশের টীম বা অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের পরস্পরের লোকেশন সংক্রান্ত তথ্যাদি জানার জন্য এটি ব্যবহার করতে পারবে।

বাজারে এখন ছোট ছোট কেসিং জিপিএস ট্র্যাকার  পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো বেশ কার্যকরী। এর জন্য আলাদা খরচ করার প্রয়োজন আছে। তবে যেহেতু আমাদের হাতে হাতে স্মার্ট ফোন আছে ফোনে জিপিএস আছে তাই সর্বক্ষণ পরিবারের সদস্যরা পরস্পরের খোজ খবর নিতে চাইলে লাইভ ৩৬০ অ্যাপ একটি ভাল সমাধান। এই অ্যাপটি আমাদের পরিবারের সদস্যদের অবস্থানের সার্বক্ষণিক তথ্য দিয়ে আমাদের স্বস্থি দেবে।