Pages

Thursday, August 30, 2018

ভিন্নধর্মী চিকিৎসা সাওল সেন্টার


আমি দীর্ঘ চার বছর যাবত আমার লিপিড প্রোফাইল(এক ধরনের রক্ত পরীক্ষা) দেখছি। টিজি বা ট্রাই গ্লিসারাইড(চর্বি জাতীয় উপাদান) স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী। আমি ডাক্তারদের সাথে আলোচনা করে রাইস ব্রান ওয়েলঅনেক দিন থেকে খাচ্ছি। মাঝে মাঝে ঔষধ খাই। আমার ৪৮ বছর বয়সে টিজি বেশী; ভাল লক্ষণ নয়। আমি আমার বয়সী দুই বন্ধুর হার্ট ব্লক ধরা পড়ার পর ২০১৮ সালে ৬ বছর হল আমি সিগারেট ছেড়ে দিয়েছি। যারা ডেক্সে বসে বসে কাজ করে তারা মাঝে মাঝে মোটা হয়ে যায়। টিজি ও কলস্টোরেল বেড়ে যায়। এটা দ্বারা আমরা স্বাভাবিক ভাবেই হার্টে ব্লকের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাই। ওভার ওয়েটের হালকা সমস্যাটা কমাতেই পারছি না।
চায়ে চিনি খাওয়া ছেড়েছি ২০১৮ সালে প্রায় ১৫ বছর হবে। এখন কোন চা বা কফি চিনি দিয়া দিলে কেমন কেমন লাগে। আমার এই অভ্যাসটা ভীষণ উপকারে লেগেছে। আমার রক্তে সুগারের মাত্রা সর্বদাই স্বাভাবিক। আমি রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড কমানোর জন্য সমস্ত কারীতে তৈল কম খাচ্ছি। ভাজা পোড়া কম খাচ্ছি। ধূমপান ছেড়েছি। তাও স্বাভাবিকের চেয়ে হালকা ট্রাই গ্লিসারাইড রক্তে বিদ্যমান থাকছে। এই বিপর্যয় থেকে বাচার উপায় আছে কি? সবাই বলবেন, দৌড়-ঝাপ বাড়িয়ে দিন। আমি বিভিন্ন অল্টারনেটিভ তৈল খুঁজছি রক্তে ট্রাই গ্লিসারাইড কমানোর জন্য। সত্যি কঠিন কঠিন অপশন ছাড়া, কেউ কোন সহজ অপশন বলছে না। সেদিন একটা ইউটিউব ভিডিও দেখে আমার ধারণা বদলে গেল, ভারতের ডাক্তার বিমল তিনি বিনা কাটা-কাটি ও অপারেশনে হৃদরোগ সংক্রান্ত চিকিৎসা করে যাচ্ছেন। ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছেন। আমি গত ১৫ বছর চায়ে চিনি খাই না। আমার সুগার লেভেল উপরে উঠেনি।
দেখলাম ডাঃ বিমল এরূপ একটা মাত্র টিপস ফলো করে। "সাওল" বা "সাইন্স এন্ড আর্ট অব লিভিং" নামে প্রতিষ্ঠান করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। যদি ডায়াবেটিক রোগীরা কঠিন রকম লাইফ স্টাইল ফলো করে সুস্থ থাকতে পারেন। তবে হৃদরোগীরাও বিনা অপারেশনের বেচে থাকার জন্য জীবনধারণ ও খাদ্যাভ্যাসের কিছু অপশন মেনে চললেই সুস্থ থাকবে।
আমার রক্তের ট্রাই গ্লিসারাইড না কমায় আমি বেশ মনঃকষ্টে দিনানিপাত করছিলাম। অনেক রকম তৈল বদল করে খাওয়া, দৌড়-ঝাপ বাড়ানো ইত্যাদিতে সামান্যই পরিবর্তন হচ্ছিল।
ডাঃ বিমলের ইউটিউব ভিডিও থেকে প্রথম জানতে পারলাম, খাবারে তৈল একদম বন্ধ করা যায়। যে কোন তৈল খাই না কেন রক্তে টিজি বাড়বেই। তাই টিজি কমানোর উপায়ই হল সুগারের মত তৈল খাওয়া বন্ধ করা। যেভাবে আমি চাতে একদম চিনি খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি প্রায় এক যুগ। এটাও সেই রকম একটা ব্যবস্থা। আমাকে একদম তৈল খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে। সমস্ত খাবারে ডাঃ বিমল বললেন, তৈল ছাড়া কারী থেকে শুরু করে সব ধরনের রান্নাই করা সম্ভব। খারার কাবাব বা বেক করে খেলে তৈল লাগে না। এটা রান্নার থেকেও মজা। তিনি আরো বললেন। যাদের রক্তনালীতে টিজি ও কলস্টোরেলের স্তর জমে তা ব্লকের দিকে যাচ্ছে, তা তৈল না খেয়ে কমানো যাবে।  
এটা জানার পর আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে তৈল ছাড়া রেসিপি ট্রাই করলাম। দেখলাম, এটা করা সম্ভব। স্বাদ তেমন খারাপ নয়। চিনি ছাড়া চা বা কফি থেকেও তৈল ছাড়া খাবারের টেস্ট ভাল। আমি নিশ্চিত তৈল ছাড়া খেয়ে অভ্যাস করলে এক সময় তৈল ছাড়া আর মন্দ লাগবে না। তার একটা কথা তৈলে কোন স্বাদ, গন্ধ ও বর্ণ নাই। তৈল চামচ দিয়ে খেলে কোন রকম স্বাদ পাওয়া যায় না। তবে তরকারীর স্বাদ কোথা থেকে আসে। তরকারীর স্বাদ আসে মশল্লা থেকে। মশল্লাকে ভালভাবে পানিতে কষিয়ে নিলে ও সিদ্ধ করে মশল্লার কাচা গন্ধ দূর করে তার মধ্যে যে কোন সবজি সিদ্ধ করলেই হল। আমি পড়ে অবাক হয়ে লক্ষ করলাম। ইউটিউবে জিরো ওয়েলের উপর অগণিত রেসিপি আছে। আমি হিটিং ওভেন দিয়ে জিরো ওয়েল ফেঞ্চ ফ্রাই বানালাম। ছেলেরা,মেয়ে ও স্ত্রী এতই পছন্দ করল; তারা ডিমান্ড করল হলি ডে তে করতে হবে। আমি অনেক পড়াশোনায় নিশ্চিত হলাম। তৈল ছাড়া ভাজা পোড়া অনেক আইটেম তৈল ছাড়া বেকিং ছাড়া খাওয়া যায়। ভর্তায় সরিষার তৈল না মিশিয়ে বানানো যায়। তৈল ছাড়া রান্না করে খাওয়াটা হল মাইন্ড সেটঅনেকটা চিনি বিহীন চায়ের মত।
এটা প্রমাণিত চিনি ও চিনি আছে এ ধরণের খাবার না খেলে রক্ত‌ে সুগার বাড়ার কোন কারণ নেই। তেমনি  তৈল ছেড়ে দিলে রক্ত‌ে চর্ব‌ি কমবে এটা যে কেউ বিশ্বাস করবে। এরপরও কারো কলস্টোরেলের সমস্যা থাকলে সমস্ত প্রাণীজ প্রোটিন ধী‌রে ধী‌রে ত্যাগ কর‌তে হবে। কারণ সমস্ত প্রাণীজ প্রোটিনে কোলস্টোরেল আছে। এটাই স‌লিউশন। এই পদ্ধতি তা‌দের জন্য; যা‌দের টাকা কম আছে। দুই লক্ষ টাকায় রিংপড়া‌নো ও দশ লক্ষ টাকায় বাই পাস সার্জারিকরা‌নোর টাকার অভাব আছে তারা ডাঃ বিমলের পদ্ধতি অনুসরণ ক‌রে ভাল থাক‌তে পারবেন; সন্দেহ নেই। পরিশেষে বলব, আগে থেকে সতর্ক হ‌য়ে লাইফ স্টাইল চেঞ্জ করার প্রচেষ্টা আমরা সবাই ক‌রে দেখ‌তে পারি। বাকীটা সৃষ্টিকর্তার হাতে।

Friday, August 24, 2018

জীবন্ত দেয়াল


আজকাল বাউন্ডারি মাপার জন্য ডিজিটাল সিস্টেম আছে। প্রতিবেশী চাইলেই কি আমার সীমানা দখল করতে পারে। অবশ্যই না। প্রতিবেশীর সাথে সীমানা নিয়ে বিরোধ না করার জন্য সবাই প্রথমেই দেয়াল দেয়। টাকা পয়সা ভালই খরচ হয়। এই দেয়ালটা মাটি পর্যন্ত দিলে কেমন হয়। তাহলেও মাপ থাকে। বাকীটা না করলে চলে না। এখন সবাই বলবে চোর ঢুকবে। ডাকাত ঢুকবে। গরু ঢুকবে। ছাগল ঢুকবে। আসলেও তাই। ভয়াবহ সত্যি কথা। আমি গ্রিল করে দিলে কেমন হবে। মানুষ, গরু, ছাগল ঢুকতে পারবে না। এখন তাইলে একটি বিষয় বাকী থাকে তা হল প্রাইভেসী। বাইরে থেকে মানুষ দেখে ফেলবে ভিতরে কি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে গ্রিলের উপর বাঁশের বেড়া ইত্যাদি দেয়া যেতে পারে?
আমরা সীমানা মাটি পর্যন্ত দেয়াল করে সীমানাটা ঠিক করে নিতে পারি। দেয়াল না দিয়ে গ্রিল করে প্রটেকশন করতে পারি। তাহলে এখন বাকী রইল বাড়ীর প্রাইভেসী। এটা কি করে রক্ষা করা সম্ভব। এটার জন্য দেয়াল লাগবে। এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। বেড়া না দিয়ে গ্রিলের বেড়ার চারিদিকে আমরা কি করতে পারি? যাতে প্রাইভেসী রক্ষা পাবে। সেটা আর কিছুই না। আমি জানি এটা অনেকের মাথার মধ্যে চলে এসেছে। আমরা জীবন্ত গাছ ও লতা পাতা লাগিয়ে সেই প্রাইভেসী রক্ষা করতে পারি। জীবন্ত গাছের বেড়া সব ধরনের প্রটেকশন দিতে পারবে যেহেতু তার সাথে আমরা গ্রিলের পরিকল্পনা করেছি। আমাদের শহর জীবনে গাছের বড় অভাব। অক্সিজেন ফ্যাক্টরি আমাদের শহরে তৈরি করতে হবে। আপনি আপনার বাড়ীর চারদিকে দেয়াল তুলে দিলেন। কি পরিমাণ ইট গেল চিন্তা করুন। তার চেয়ে এটা ভাল নয়কি মাটি থেকে ছয় থেকে বার ইঞ্চি পর্যন্ত আপনি ইট বসান বাকীটা খোলা রাখুন। এখন চারিদিকের বাউন্ডারির উপর হালকা ঢালাই দিয়ে গ্রিল বসিয়ে দিন। সেই গ্রিলগুলির উচ্চতা আপনার নিরাপত্তা ও প্রতিবেশীর ধরনের উপর নির্ধারন হতে পারে।
এবার গ্রিলের বেড়াটা অবলম্বন করে আপনি অরনামেন্টাল লতা জাতীয় গাছ আপনার বাউন্ডারির ভিতরে দিকে লাগিয়ে দিন। তবে আপনার সাথে আপনার যে প্রতিবেশী সীমানা মানবে না তাকে দেয়াল তুলতে বলুন। সেই ক্ষেত্রে আপনি দেয়াল তোলার খরচ কমাতে পারলেন। আপনার সাথে যে প্রতিবেশী গ্রিন দেয়ালে খুশী তার সাথে আপনি গ্রীল দেয়ালে থাকলেন।
আমরা সাধারণত মেহেদী গাছ, জবা গাছ, চিকন বাঁশ গাছ, বিভিন্ন ধরনের ফুল গাছ, লতা জাতীয় শাক সবজী গাছ আমরা বেড়া হিসাবে লাগাতে পারি। ইন্টারনেটে লিভিং ফেন্স নিয়ে সার্চ দিলে গাছ আর আইডিয়ার কোন ঘাটতি হবে না। বাকী যেটা ঘাটতি থাকবে তা হল আমাদের ইচ্ছা আমরা চাই কিনা। শহরের বাড়ীগুলোর সীমানা প্রাচীর একটা প্রয়োজনীয় বিষয়। তাই প্রাইভেসী ও নিরাপত্তা রক্ষা করে গ্রিল দিয়ে তার চারিদিকে গাছ লাগানো হতে পারে ভাল সলিউশন। এটা আমাদের সবুজের মাঝে থাকতে সহায়তা করবে। চিন্তা করুন দেশে যত উপশহর ও শহর হচ্ছে তাতে আপনারা বাউন্ডারি দেয়াল না দিয়ে জীবন্ত গাছের দেয়াল করলেন। আপনি পরিবেশের বিশাল উপকার করলেন; দেয়াল তৈরির খরচ কম করলেন। প্রতিবেশীর সাথে গাছময় সবুজ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। বিষয়টি নিশ্চয়ই বেশ মজাদার হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। দেয়াল না করার জন্য আপনি ইট বা সিমেন্ট বাঁচালেন। হিসাব করে দেখুন ইট তৈরি করার জন্য মাটি পুরানো থেকে আপনি বাঁচালেন। সিমেন্ট তৈরি করতে সীমিত প্রাকৃতিক গ্যাস পুড়ানো থেকে আপনি বাঁচালেন। এভাবে কি পরিমাণ ক্ষতি থেকে বাঁচালেন তা সত্যিই পরিবেশের জন্য বিশাল অবদান।
দেশের একলক্ষ মানুষ যদি এরূপ লিভিং ফেন্স তৈরি করে দেখুন হিসাব করে বিপুল পরিমাণ ইট ও সিমেন্ট বাঁচবে। কি পরিমাণ গাছ জন্মাবে। আর কি পরিমাণ অক্সিজেন বাড়বে তা হবে অতুলনীয়। এই ধরনের বেড়ায় যে লোহা ব্যবহার করা হবে পরবর্তীতে তা রিসাইক্যাল করে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করা যাবে। দেয়াল থেকে বাড়ীর সৌন্দর্যও বাড়ানো যাবে যদি গাছগুলি পরিচর্যা করে রাখা যায়। কয়েক বছর পর পর বাড়ির দেয়াল রং করাতে হয় তা থেকে খরচ মুক্ত। দেয়াল রং করার খরচ দিয়ে লেবার রেখে গাছে পরিচর্যা করলে বাড়ীর ময়লা দেয়ালের আভিজাত্য থেকে লিভিং দেয়ালের আভিজাত্য অনেক বেড়ে যাবে। পরিশেষে বৈষয়িক উষ্ণতার বিষয়ে চিন্তা করে আমরা জীবন্ত দেয়াল বা লিভিং ফেন্স বাস্তবায়ন করতে পারি।

Wednesday, August 15, 2018

বিড়ম্বনার নাম "নিরাপত্তা"


"নিরাপত্তা" কঠিন এক‌টি বিড়ম্বনার নাম। আজকাল কোন কোম্পানীর অফিসে গেলেও রেজিস্টারে নাম লেখা, দেহ তল্লাসি, এক্স‌রে স্ক্যানিং কতই না চে‌কিং। তারপর চেক হ‌য়ে গেলে আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি মেলে। ইউটিউবে দেখলাম চাইনিজরা এমন ব্যবস্থা করেছে এক ফেস ডিটেকশন দি‌য়ে সারা শহরে ঘুরে বেড়ালে কোথায় কখন গেল সমস্ত কিছুর তথ্য তারা দি‌তে পা‌রে। হয়ত চায়নারা শুধু সন্দেহজনক‌দের বা ভিআইপিদের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করলেও এটা ব্যক্তিগত প্রাই‌ভেসীর জন্য কেমন কেমন। মাঝে মাঝে অনেকে বিতর্ক করেন, আমি কোথায় যাচ্ছি, কি করছি ;এটা আমার প্রাই‌ভেসী‌কে বিঘ্নিত করছে। প্রাই‌ভেসী নি‌য়ে আমার মতামতটা কিছুটা ভিন্ন। আমি যদি বিবাহ ব্যতীত একাধিক নারীর কাছে না যাই। তবে সমস্যা কোথায়। আমি যদি রাষ্ট্র বিরোধী বা রাজনৈতিক কাজে না যাই, তবে আমা‌কে ফ‌লো করলে সমস্যা কোথায়। যদি আমি চুরি ডাকাতি না করি, তবে ফ‌লো করলে সমস্যা কি। শুধু মাত্র নিজের বেড রুমে ঢোকাটা ফ‌লো করলে সমস্যা নাই। বেডরুম আর বাথরুমে ক্যামেরা না থাকলেই হল।
অনেকে বলেন আমি কোথায় যাচ্ছি, কেন ফ‌লো করা হবে। আমি প্রশ্ন করব ফ‌লো করলে সমস্যা কি? আমি তো আকাম কর‌ছিনা। তাই মনে হয় সারভায়‌লেন্স ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালদের জন্য সমস্যা নেই। আমার কাছে মনে হয় যারাই প্রাইভেসীর কথা বলে তা‌দের মাঝে কোন না কোন দুনম্বরী চিন্তা আছে। তারাই ক্ষেপে যায়।
এখন আমি সারভা‌লে‌ন্সের ভাল দি‌কে কথা বলব। আমার চারিদিকে ক্যামেরা থাকলে আমি নিারপদ থাকব। আমা‌কে কেউ মারলে বা খারাপ উদ্দেশ্যে ফ‌লো করলে তারা ধরা পরবে। আমা‌কে বদ‌লোক ক্ষতি করার চেস্টা করলে আইন শৃঙ্খলার বাহিনীর সদস্যরা কম ক্ষতি করবে। আমি সব সময় ক্যামেরার মধ্যে থাকব বলে নিজের খারাপ রিপুগু‌লি নিয়ন্ত্রণ কর‌তে পারব।
আইন শৃঙ্খলার মানুষ অসৎ হলে আবার বিপদ। একদিন একজন বলেছিল, মোবাইল জি‌পিএস নির্ভর অ্যাপ ৩৬০ ডিগ্রী খুব খারাপ জিনিষ। আপনি কোথায় কোথায় যাচ্ছেন আপনার বন্ধু বান্ধবরা জেনে যাচ্ছ‌ে। আমার মতমত হল, এটা কত ভাল ব্যবস্থা। চিন্তা ক‌রে দেখুন, আপনার হালনাগাদ তথ্য সবাই পাচ্ছে। শুধুমাত্র অবৈধ স্থানে গেলেই আপনার প্রাই‌ভেসী নি‌য়ে প্রশ্ন। বাথরুম ও বেডরু‌মে ক্যামেরা ছাড়া প্রাইভেসীর আর কোন সমস্যা হয়ত নিরাপত্তা এক্সপার্টরা বল‌তে পারবে না। প্রাই‌ভেসী নি‌য়ে যারা প্রশ্ন তো‌লেন তারা মূলত: সন্মা‌নিত। তারা চান না তিনি কোথায় যান কেউ জানুক। তিনি কার কার সাথে কথা বলেন, দেখা করেন, সেটা অন্যরা জানুক। অন্যরা জানলে তা‌তে তার ইমেজগত ক্ষতি হবে। বিষয়টা সেরূপ।
আমরা শহুরেরা ঘরের বাইরে লুঙ্গি পর‌তে চাই না। কারণ কে কি ভাববে। যদি কেউ ক্ষেত ভেবে বসে। অথচ আমা‌দের বিশ্ব ক্রিকেটার মাশরা‌ফি বিন মূর্তজাকে একটা ছবিতে দেখলাম, লুঙ্গি প‌রে গ্রামের ঈদগাহে নামাজ পড়‌তে গিয়েছে। তার ভক্ত‌দের নিশ্চয়ই ভাল লেগেছে। সাধারণ মানুষের মত জীবন যাপন।
অথচ তিনি জানেন, অগণিত ক্যামেরা তা‌কে ফ‌লো করছে। তাই লুঙ্গি নি‌য়ে কোন সং‌কোচ নাই। প্রাই‌ভেসী নি‌য়ে কোন সং‌কোচ নাই। প্রাই‌ভেসী বেডরুম আর বাথরুমের বাইরে চিন্তা করার প্র‌য়োজন নেই। বাথরুম আর হো‌টে‌লের বেডরু‌মে ক্যামেরা রাখে পর্ণ ব্যবসার উপাদান সংগ্রহ কারার জন্য এটা বিপদ। এটা নি‌য়ে সতর্ক থাকাটা জরুরী। নিজে সৎ থাকলে অন্য কোন ক্যামেরা নি‌য়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তবে আমার কাছে মনে হয় রেজিস্টার, কম্পিউটার এন্ট্রি, মেটাল ডিটেক্টর ও এক্স‌রে মেশিন এত শত চেক আপ অপেক্ষা ফেইস ডিটেকশন ও আরএফ আইডি সিস্টেম ভাল। ওগু‌লো নিরাপত্তার নামে হয়রানী ব্যতীত বেশী কিছু নয়। অনেকে প্রতিষ্ঠানের ইনকাম ভাল। অহেতুক  সিকিউরিটি রেখে নিজেদের ইজ্জত বাড়া‌নোর অপচেষ্টায় ব্যস্ত। গেঞ্জির আবার বুক পকেট। অনেক প্রতিষ্ঠান আবার টাকার জো‌রে কিছু এক্স মিলিটারি ও পুলিশ দি‌য়ে এমন ভাব করেছে, যে নিজে নিজেই নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা বানিয়েছে। হোয়া‌টে ফান আন্ডার দা সান। নিরাপত্তার নামে ফানি কাজগু‌লি কমা‌নো প্র‌য়োজন। সো কল সিকিউরিটির কাজ না ক‌রি‌য়ে ফসল বা মাছ উৎপাদন করা অধিক জরুরী। তাই প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে যেখানে যত বেশী নিরাপত্তা সেখানে ট্যাক্স ফাঁকি ও অন্যান্য দুর্নীতি তত বেশী এটা আমার ধারনা।
যে সকল বেসরকারি বাড়ীর নিরাপত্তা ও প্রাই‌ভেসী যত বেশী কঠিন সেখানে তত বেশী কামলীলা, মদলীলা ও কালাধন চর্চা তত বেশী। আমার ব্যক্তিগত ধারনা। পরিশেষে বলব সৎ মানুষ দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সারভায়‌লেন্স ও অন্যান্য নিরাপত্তায় প্রাইভেসীর দোহাই দেয়াটা যুক্তিহীন। প্রতিটা প্রতিষ্ঠান নিজ নিরাপত্তার অহেতুক খরচ না ক‌রে সবার নিরাপত্তায় সরকার‌কে সহযোগীতা করাটা জরুরী।

Thursday, August 9, 2018

সব কিছু সফেদ

সৌ‌দি আরবের জেদ্দার হো‌টে‌লে আমার স্ত্রী আমার কাছে জান‌তে চায় আচ্ছা হো‌টে‌লে সাদা বালিশ, সাদা বিছানার চাদর ও সাদা টাও‌য়েল দেয়া হয় কেন? আমার যে উত্তরটা মাথায় আসল তা হল, হয়ত অ্যারোবিকরা হয়ত সাদা চাদর পছন্দ ক‌রে। প‌রে কলিকাতার হো‌টে‌লে যখন দেখলাম সাদা বালিশ, চাদর ও টাও‌য়েল পেলামতখন মনে হয় এটা একটা প্রাকটিস। তারপর বাংলাদেশের রি‌সোর্ট‌ে দেখলাম সাদার অনুশীলন।
সাদা চাদর অনুশীলন ক্যাডেট কলেজের হো‌স্টে‌লে ছিল। মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ছিল। হাসপাতালে আছে। তাহলে এত সুন্দর রঙ্গিন রঙ্গিন বিছানার চাদর গ্রহণীয় না হওয়ার কারণটা আমার জানা নেই। এটা হয়ত হো‌টেল ও‌য়েস্টিন, রে‌ডিসন ও টিউ‌লিপ চেইন হো‌টেল এবং রি‌সোর্ট গুলির এই সাদার অনুশীলনের কারণ বল‌তে পারবে।
আমার কাছে মনে হয় হো‌টেল কর্তৃপক্ষ‌ের ম্যানেজমেন্টে সুবিধা। প্রথম সুবিধা হল রঙ্গিন চাদর কেনা ও পছন্দের সমস্যা আছে। দ্বিতীয় কারণ, রঙ্গিন চাদর ঘন ঘন ধোয়াধু‌য়ি করলে রং ফি‌কে হ‌য়ে যায়। সাদা কাপড় বার বার ধোয়া যায়। রং সাদা থেকে পানির জন্য লালচে হ‌য়ে যায়। তবে উঁচু মানের ডিটার‌জেন ব্যবহার ক‌রে সাদা কাপড় বেশীদিন ব্যবহার করা যায়। অন্য‌দি‌কে কড়া ডিটার‌জেন বরং রঙ্গিন কাপড়‌কে তিন/চার ধোয়ায়ও ফ্যাকাসে ক‌রে দেয়। অপরদিকে সাদা কাপড় ৫০ ধোয়াও রং ফ্যাকাসে হওয়ার সমস্যা নেই।এখন আসি ব্যবহারকারীর কি সমস্যা। বাসা বাড়ীর বিছানার চাদর যেহেতু একই মানুষ ব্যবহার ক‌রে সেহেতু সপ্তাহে একবার বা ময়লা হওয়ার উপর নির্ভর ক‌রে ধোয়া যায়। হালকা অপরিষ্কারে তেমন সমস্যা হয় না। বিভিন্ন রেস্ট হাউজ ও নিন্মমা‌নের হো‌টে‌লে রঙ্গিন বিছানার চাদর, বালিশ ও তোয়া‌লে দেখা যায়। 
এখন আসি ব্যবহারকারীর জন্য স্ব‌স্থির জায়গায়। ধবধবে সাদা বালিশ, চাদর ও টাও‌য়েলে আছে কেমন যেন পবিত্র ভাব। আনহাই‌জে‌নিক ও অপ‌রিচ্ছন্নভা‌বে হো‌টেলওয়ালারা উপস্থাপন কর‌তে পারবে না। সাদা কাপড় ভাল ভাবে না ধুলে ধরা প‌রে যাবে। তাই ধোয়া ও সফেদ বিছানার চাদর, বালিশ ও টাও‌য়েল এক নম্বর পছন্দ হবে এটা নিশ্চিত।
আমি বাংলাদেশ ও ভারতের অনেক অফিসে ও গাড়ীতে সাদা কাপড়ের ব্যবহার দেখেছি। সোফার উপরে সাদা কাভার ব্যবহার করতে দেখেছি। আমি ভারতের বিভিন্ন সরকারী অফিসের সোফা ও চেয়ারে সাদা কাপড় ব্যবহার করতে দেখেছি। তাদের গাড়ীতে সাদা তোয়ালের মত কাপড় ব্যবহার করতে দেখেছি। সাদা শুভ্রতা ও পরিষ্কার থাকার প্রতীক।
তাহলে দেখা যাচ্ছে হোটেল রুমের সব কিছু সাদা হউক সবাই চায়। সবাই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন চায়। আমি আমার স্ত্রীকে প্রস্তাব করলাম। সব কিছু হোয়াইট করলে কেমন হয়। বলল তাহলে কাপড় ধুতে ধুতে মারা পড়া লাগবে। সাদাকে সবাই ভয় পায়, পরিষ্কার রাখার জন্য।
আমি একটা মজার প্রস্তাব করছি। আমরা নানা অফিসে দেখি এক বস লাল রংয়ের পর্দা লাগিয়েছে। আরেক বস এসে সবুজ পর্দা লাগিয়েছে। আরেক বস নীল পর্দা লাগিয়েছে। এভাবে কারণে ও অকারণে সরকারী অনেক টাকার অপচয় হয়। সরকারী একটা নিয়ম করলে কেমন হয় সরকারী রেস্ট হাউজের পর্দা, সোফার কাভার,বিছানার চাদর, বালিশের কাভার ও তোয়ালে সব সাদা বা সাদাতুল্য রং হবে। এতে মনে হয় একটু ঘন ঘন কাপড় পাল্টাতে হতে পারে। বেশী বেশী ধুতে হবে। তবে আমি নিশ্চিত এতে সরকারী অপচয় রক্ষা হবে। সাদা রং পরিষ্কার রাখা খুবই সমস্যা। তবে এটা ঠিক সাদার মাঝে আছে পবিত্রতা ও স্বচ্ছতা। সাদায় সব কিছু বুঝা যায়। আর দেশের সরকারী সংস্থার সবকিছু পবিত্র করার জন্য সাদার প্রচলন অনেক জরুরী। অনেকে আমার আইডিয়া ফানি ভাবতে পারেন। কিন্তু একটু চিন্তা করে দেখেন, সরকারী সমস্ত স্থাপনায় যেখানেই কাপড়ের ব্যবহার আছে সেখানেই সাদা কাপড় ব্যবহার করেন। শুভ্রতা সরকারী ব্রান্ড হবে। আর স্বচ্ছতা আসবে সবকিছুতে। পরিশেষে বলব শুভ্র, সুন্দর ও পবিত্র হোক আমাদের চারপাশ।


Wednesday, August 1, 2018

তরুন সমাজের জাগরণ ও আমাদের পরিবহন ব্যবস্থা

বাচ্চারা পবিত্র। তার সততার প্রতীক। শুভ্রতার প্রতীক। তারা অপরাধী নয়। তারা দেশ‌কে ভালবাসে। তারা ইমোশনাল। তারা গড়‌তে জানে। তারা ভাংগ‌বে কেন?
তারা কঠিন ক‌ঠোর ইমোশনাল তাই তো তা‌দের কেউ কেউ ছোট খাট ঘটনায় রাগ ক‌রে সুইসাইড ক‌রে ফেলে। এরা হল তরুণ বা তারুণ্য। তা‌দের এই শক্তি  আটকা‌নোর জন্য নয়। তা‌দের শক্তির গতি অফুরন্ত। তা‌দের গতিতে তারা দেশ গড়ার কারিগর হবে। তারা আমা‌দের ঘুণে ধরা সমাজ‌কে চেনাবে। সমাজ‌কে ঢেলে সাজাবে। তা‌দের দুর্দান্ত শক্তিকে আমরা সমাজের ক্ষত‌কে দূর করার অনু‌প্রেরণায় কাজে লাগা‌তে পারি। তারা আমা‌দের চো‌খে আঙ্গুল দি‌য়ে দেখা‌তে পা‌রে দেখ তোমরা ভুল করছ। তোমরা সমাজ‌কে ঠিক কর। তোমরা কোন ড্রাইভার‌কে লাইসেন্স ছাড়া গাড়ী চালা‌তে দিও না। তোমরা ফিটনেস ছাড়া কোন গাড়ী চালা‌তে দিও না।
সত্যিই তো চিন্তা ক‌রে দেখি, আমরা কেন লাইসেন্স ছাড়া গাড়ী চালা‌তে দিচ্ছি। তরুণ বাচ্চারা গাড়ীর লাইসেন্স চেক করছে। ফিটনেস চেক করছে। ওদের কাছ থেকে উত্তরটা এরূপ তোমরা পারছ না। কিন্তু আমরা পারছি তাদের ব্যাট‌নিং কর‌তে। আমরা পারছি তা‌দের শর্ট গানের ফায়ার কর‌তে। আমরা তা‌দের বলছি না বাবারা তোমরা রাস্তা দেখিয়েছ। তোমরা এখন পড়তে যাও।
আমি যখন ছোট ছিলাম ক্লাস সিক্স পর্যন্ত বাবার পিটুনি খেয়েছি। আমরা যখন স্কুলে গিয়েছি তখন অনেক মারের মধ্যে ছিলাম। এখন কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার ধরন পালটাচ্ছে। স্কুলের পিটাপিটি উঠে গেছে। ভায়ালেন্স কমে গেছে। এটা ভাল। বাচ্চাদের যুক্তি দিয়ে বুঝাতে হয়। মার ধরে কোন সমাধান এখন বাচ্চাদের জন্য নয়।
ছোটবেলা একটা গল্প শুনেছিলাম, এক লোকের বাসায় ল্যান্ড ফোনে কল এসেছে, বাচ্চা ফোন ধরেছে। “বাবা তোমাকে চাচ্ছেন”। ছেলের বাবা বলছেন, "বলে দাও আমি বাসায় নেই"। বাচ্চা যথারীতি বলল, আংকেল বাবা বলেছেন, তিনি বাসায় নেই?
বাচ্চারা সাধারণত মিথ্যা বলে না। এরা শুভ্র ও পরিষ্কার। ধীরে ধীরে সামাজিক ব্যবস্থা তাদের পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত করে।
 ২৯ জুলাই ২০১৮ দুইজন ছাত্র/ছাত্রী বাসা চাপার নিহত ঘটনা প্রথমবার ঘটেছে তা নয়। একাধিকবার ঘটেছে। আমরা সজাগ হইনি। আমাদের বাচ্চারা এখন বলছে, যথেষ্ট হয়েছে। এবার থাম। মৃত্যুর মিছিল বন্ধ কর। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি ৯০ ভাগ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রনহীন গাড়ী চালানোর জন্য। গাড়ী চালানোটা ছেলে খেলা বা খামখেয়ালীপনা নয়। রেসের কিছু নয়। নিয়ন্ত্রিত গতিতে এক ঘণ্টা পরে যাওয়াটা ভাল। রেস দেয়ার কিছু নাই। প্রতিটি মানুষ যেখানে নির্ধারিত সময়ে হাজির হওয়ার কথা, যাতায়তের দ্বিগুণ সময়ে হাতে নিয়ে তাকে বের হতে বলা প্রয়োজন। রেস কেন হবে। ভ্রমন হবে সুখকর ও রিলাক্স।
গন পরিবহন চলবে নিয়ন্ত্রিত গতিতে। এত গতির প্রয়োজন আসছে কেন। কেন বা রাস্তায় ফরমুলা ওয়ান রেস।
ফিটনেস  ছাড়া গাড়ী চলবে না। লাইসেন্স ছাড়া ড্রাইভার গাড়ী চালাবে না। এটাই বড় কথা। এটাই ছোট ছোট বাচ্চারা করে দেখাচ্ছে। সমাজে তারা একটা ঝাঁকুনি দিল। এই ঝাঁকুনিতে সমাজটা যদি ঠিক হয়? বাংলাদেশের কোটি বাচ্চা আজ জানল ফিটনেস ও লাইসেন্স ছাড়া গাড়ী চালানো যায় না। তারা এটার জন্য রাস্তায় নামল। এরা যখন বড় হবে। পুলিশে যাবে। বিআরটিএতে যাবে। গাড়ী চালাবে। আমি আশাবাদী তারা এগুলো মনে রাখবে। তাদের হাত দিয়ে সমাজের পরিবর্তন আসবে। আমাকে যদি বলা হয় জল, স্থল ও আকাশ পথে সবচেয়ে অনিরাপদ যাতায়ত কোনটি। আমি নিশ্চিত আপনি বলবেন, আকাশ পথ। কারণ প্লেন ক্রাশ হলে মানুষ বাঁচে না। অথচ অবাক করার বিষয় হল, সবচেয়ে নিরাপদ  মাধ্যম হল আকাশ পথ। কারণ এতে নেয়া হয় সর্বোচ্চ সতর্কতা। আমরা স্থল পথকে আরো বেশী নিরাপদ করতে পারি। তেমন কঠিন কাজ বাচ্চারাই আমাদের শিখিয়েছে।
প্রথমত: ফিটনেস বিহীনগাড়ী রাস্তায় উঠবে না। দ্বিতীয়ত: লাইসেন্স ছাড়া কেউ গাড়ী চালাবে না। তৃতীয়ত: সকল গাড়ী নিয়ন্ত্রিত গতিতে চলবে। এগুলো নিশ্চিত করা কি কঠিন কাজ? অবশ্যই না। পরিবহন মালিক ও চালকদের সচেতন করতে হবে। আইন অমান্যকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
আমি আশাবাদী আজকে পরিবহন সেক্টরে অনিয়ম দূর কারার জন্য বাচ্চাদের এই জাগরণ তারা বড় হলে ভুলবে না। আমরাও নতুন বাংলাদেশ পাব।

Wednesday, July 25, 2018

চাকুরীর পরবর্তী নতুন যুদ্ধ


আমাদের সেনা অফিসাররা ৫০ বছর বয়সে রিটায়ার করার পর একটু চেষ্টা করলেই মোটামু‌টি একটা চাকুরী পেয়ে যায়। চাকুরী নি‌য়ে যদি তারা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে বা ইউএন এ জব ম্যানেজ করতে পারে তবে তা সম্মানজনক। কিন্তু বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীতে ভাল বেতন আছে কিন্তু কিং কমিশন থেকে রিটায়ার করার পর কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লজ্জাজনক ব্যবহার পেতে হয়। সম্মান নিয়ে বাকী দিনগুলোতে বাচার জন্য নিজে কিছু করা ছাড়া উপায় নেই। তাছাড়া ৫০ বছর বয়ষ পর্যন্ত দেশ রক্ষার কষ্টকর ট্রেনিং এর পর অন্য মানুষের জন্য জব ক্রিয়েট করার জন্য কাজ করাটাই মনে হয় সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। কাজ দিয়ে অনেকগুলো মানুষ ও অনেকগুলো পরিবারের মুখে হাসি ফুটানোটা অনেক বেশী জরুরী।
চাকুরী খুব নিরাপদ। শান্তি আছে। ব্যবসায় সব সময়েই রিস্ক। পেনশনের অর্ধেক মাসিক টাকায় বাড়ী ভাড়া চলবে আর বাকী টাকায় সঞ্চয়পত্রের লাভ দিয়ে পরিবারের বেসিক খরচ চালানো যাবে। আমি একটা হিসাবে দেখেছি পেনশনের মাসিক টাকা ও পেনশনের এককালীন টাকায় সঞ্চয়পত্র কিনে যা আয় পাওয়া যাবে তা দ্বারা সংসারের খরচ চলে যাবে। কিন্তু সমস্যা বাধে গাড়ী ও ড্রাইভার রাখতে গেলে ওই টাকায় হবে না। মাসে কমপক্ষে ৪০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ইনকাম করতে হবে। সমস্যা হল পরিবার সরকারীভাবে গাড়ী ও ড্রাইভারে অভ্যস্ত। তাই ৫০ বছর বয়সে রিটায়ার করার পর বাচ্চারা থাকে ছোট। অন্য চাকুরেরা যখন ৫৯/৬০/৬৫ বছরে রিটায়ার করতে হয় তখন আসলে তাদের আর কোন চিন্তা করতে হয় না। ছেলে মেয়ে প্রতিষ্ঠিত থাকে। আমরা সেনারা র‍্যাংক না পেলে ৫০ বছরে রিটায়ার করতে হয়। আমাদের নতুন নতুন কাজ নিয়ে ও নতুন ব্যবসা নিয়ে ভাবতে হয়।
ড. ইউনুস সারা জীবন সারা পৃথিবীর মানুষকে বলছেন, উদ্যোক্তা হতে। চাকুরী না করতে। জব সীকার না হয়ে জব গীভার হতে। কারণ চাকুরীর গ্রোথ সীমাবদ্ধ কিন্তু উদ্যোক্তার গ্রোথ অসীম। তিনি আরো বলেছেন যে কোন উদ্যোগ ছোট আকারে শুরু করতে হবে। যেন উদ্যোগ ফেল করলে বেশী লস না হয়। অন্য কিছুতে সুইচ করা যায়। আবার অনেকে বলেছেন যে কোন কাজ ১০ জন করলে ৮ জন ফেল করবে। আবার ১০টি কাজ শুরু করলে ৮টি ফেল করলে ২টি দাড়িয়ে যাবে। আবার ফেল করা কাজগুলো ছোট স্কেলে শুরু করতে হবে যেন ফেল করলে ক্ষতি কম হয়।

রিটায়ার করার পর আমার ধারনায় নীচের কাজগু‌লি নি‌য়ে ভাগ্য গড়ার কাজ শুরু করব।
১। বই  পাবলিকেশনের কাজ, এডিটিং, প্রচ্ছদ তৈরি ও প্রুফ রিডিং( এ পর্যন্ত ১৭টি বই করার অভিঞ্জতা হ‌য়ে‌ছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে আরো ৫০টি বই পাবলিকেশনের অভিঞ্জতা হ‌য়ে যাবে)।
২। লেখালেখি করা( এক‌টি বই বের করেছি আগামী আরো সাত‌টি বই বের করার জন্য লেখা প্রস্তুত)
৩। অনলাইন পত্রিকা বের করা। নিজের ব্লক পরিচালনা ক‌রে অভিঞ্জতা হচ্ছে সাথে আউট সোর্স‌ের কাজ করা।
৪। ডাচ বা হল্যান্ডের মত পরীক্ষাবিহীন প্রাইমারী স্কুল চালু করা।
৫। ছাঁদে বাণিজ্যিক বাগান, নার্সারি,দেশী হাস,মুরগী ও কবুতর পালন।
৬। ওবারের প্রাইভেট কার পরিচালনা।
৭। নিজের জায়গার উপর নিজ উদ্যোগে ফ্লাট তৈরি।
৮। পরিচিতদের মধ্যে বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন মালামাল সরবরাহ।
৯। ড্রামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক মাছ চাষ।
১০। গ্রামের জমিতে বনায়ন করা বা প্রার্মা কালচার করা।
১১। সীমিত আকা‌রে শেয়ার মার্কেটে বি‌নি‌য়োগ।
১২। ইউটিউবে ম‌টি‌ভেশনাল ভিডিও চালা‌নো।
১৩। অনলাইন কেনা বেচার সাইট চালু করা বা অনলাইন মার্কেটিং।
১৪। ইলেক্ট্রনিক সামগ্রীর শো রুম।
১৫। সোলার ও উইন্ড এনার্জি হার‌বে‌স্টিং এর কোন প্রজেক্ট করা।
উপরের ১৫ কাজের তালিকা করলাম। এর মধ্যে অনেক কাজ অসফল হতে হবে। অনেক কাজে লস হবে।  ১৫ টি কাজের মধ্যে দুই/তিন‌টি ক্লিক করলেই চলবে। তবে কিছু টাকা লস কিছু  প্রজেক্টে হবেই।

Thursday, July 19, 2018

সুপার ফুড সজিনা (মরিংগা)


আমার এক বন্ধু এক‌টি গাছ নি‌য়ে প‌রে আছেন। গাছ‌টি হল হাই ব্রিড সজিনা। সজিনা পাতা প্রতি সপ্তাহে কাটা যাবে। পাতা কেটে পাতা তা শাঁকের মত রান্না করা যাবে, পাকুড়া বড়া ক‌রে খাওয়া যাবে। পাটায় পিষে ভর্তা খাওয়া যাবে। সজিনা ধরলেও তাও খাওয়া যাবে। পাতা কাটার পর পাতার আটিগু‌লো কুচি কুচি ক‌রে গরুকে খাওয়ানো যাবে। এই  সজিনার কোন কিছু ফেলনা নয়। আমরা রসুন, তুলসী ও কালিজিরার বিশাল গুনের কথা শুনেছি। সজিনার ডাটা খাওয়ার উপকারিতা অনেকেই জানে না। মুখরোচক এই  সবজিটি  ডালের সাথে ও অন্যান্য ঝ‌োল কারীর সাথে আমরা খাচ্ছি। বাজা‌রেও সজিনার ডাটা ২০০ টাকা কেজি থেকে নেমে ঢাকার  বাজা‌রে ৪০/৫০ টাকা মূল্যে পৌছায়। বারোমা‌সি সজিনা আছে  আবার সিজনাল সজিনা আছে। সজিনা থেকে আরো বেশী উপকারী হল সজিনার পাতা। আফ্রিকায় অনেক এন‌জিও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সজিনা পাতা শুঁকিয়ে তা বাচ্চা‌দের ও মহিলা‌দের খাই‌য়ে তা‌দের অপুষ্টি অনেক কমিয়ে এনেছে। ইউটিউবে অনেক তথ্য আছে। মরিংগা নি‌য়ে বেশ কিছু বইয়ের সন্ধানও পাওয়া যায়। যদি সজিনার পাতা খাই‌য়ে অপুষ্টি দূর করা যায় তবে এই  সহজ ব্যবস্থায় আমরা যাচ্ছি না কেন? আমরা হয়ত গ্রামে গঞ্জে অনেকেই জানে না। বাংলায় সজিনা লিখে গুগলে সার্চ করলে এত এত তথ্য জানা যাবে অকল্পনীয়। ইংরেজিতে সার্চ দি‌তে হবে মরিংগা লিখে। আমি একবার একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দেখেছি তিনি বাড়ী‌তে বাড়ী‌তে সবজির চাহিদা পূরণ করার জন্য সজিনার ডাল লাগা‌তে বলতেন। কারণ হিসাবে বলতেন এর শাক, ফুল ও ডাটা খাওয়া যায় আর কোন যত্ন ছাড়া এটা বেড়ে উঠে। উৎপাদনের সহজ প্রক্রিয়া এটা‌কে আরো জনপ্রিয় করেছে।
সজিনা পাতায় এমন কোন ভিটামিন বা মিনারেল নেই যা কিনা এর মধ্যে পাওয়া যাবে না। এটা সুপার রিচ একটা খাবার। নীচে তার কিছু বিবরণ:
১। সমপরিমাণ কমলার রস থেকে তিনগুণ ভিটামিন সি আছে।
২। সমপরিমাণ দুধের চেয়েও ২/৩ বেশি ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও জিংক রয়েছে।
৩। সমপরিমাণ গাজর হ‌তে চারগুণ বেশী বিভিন্ন ভিটামিন আছে।
৪। সজিনা পাতায় ভিটামিন, প্রো‌টিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট সবই আছে।
আমি এর মোটা দাগে কিছু বললাম। আধুনিক গবেষকরা তাই সজিনার পাতা‌কে নাম দিয়েছে পুষ্টির ডিনামাইট। প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল থাকার কারণে এটা প্রায় ৩০০ প্রকার রোগ নিরাময় কর‌তে সক্ষম। বিস্তারিত জান‌তে গুগল বা ইউটিউব সার্চ কর‌তে পারেন। অনেকেই বলেছেন সজিনার পাতা নিয়মিত দুই‌ সপ্তাহ খাওয়ার পর থেকে তারা শারীরিক পরিবর্তন গ‌ু‌লো  লক্ষ্য করা শুরু করেন।
আমরা সব সময় বিভিন্ন ধরনের খাবার খাচ্ছি। সব সময় শরীর সব রকম ভিটামিন ও মিনারেল পাচ্ছি কিনা আমরা নিশ্চিত নই। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে এক চামচ আর ঘুম থেকে উঠে এক চামচ সজিনা পাতার গু‌ড়ো শরবত ক‌রে খেলেই আপনি নিশ্চিত হলেন আপনার সকল ভিটামিন ও মিনারেল গ্রহণ করা হল। আর তা হল প্রাকৃতিক উৎস হ‌তে কোন সাইড অ্যা‌ফেক্ট নেই। এটা চিন্তা ক‌রেই আমার মত অনেকেই  সজিনা পাতা নিয়মিত খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিদিন গাছ থেকে পাতা তুলে খে‌তে পারলে সবচেয়ে ভাল হয়। সেটা সম্ভব না হলে উপায় কিন্তু উপকার‌ভোগীরা বের ক‌রে ফেলেছে।  আর তা হল পাতা শুকিয়ে পাউডার ক‌রে নেয়া। সেই  পাউডার দি‌য়ে শরবত খেলেই হল। শরবত বানা‌তে চিনি, মধু, লবণ, লেবু ও এমনকি ঝাল টেস্টের জন্য কাচামরিচ গুড়াও দেয়া যায়।
সজিনা পাতা খাওয়ার ভক্তরা সজিনা পাতার গুড়ি দি‌য়ে ক্যাপসুল তৈরি ক‌রে বা ট্যাবলেট তৈরি ক‌রে নিয়েছে যেন বাজা‌রে বিক্রি সহজে করা যায়। কখ‌নো শরবতের আয়োজনে সমস্যা হলে ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল আকা‌রে খাওয়া যায়। তাহলে সজিনা পাতার সব ধরনের ব্যবস্থা হ‌য়ে‌ গেছে। আমি ও আমার স্ত্রী সর্বদা সতর্ক থাকি ওজন নি‌য়ে। তারপরও তা নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর। আমি ও আমার স্ত্রী ওজন কমানোর কারণে এটা পছন্দ করেছি। এটা যদি ওজন কমা‌তে সক্ষম হয়। অটোমেটিক্যালি ডাইবেটিস হবে না বা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। রক্তের খারাপ উপাদানগু‌লোর পরিমাণ কমে আস‌বে। চর্ব‌ি কমে যাবে। এগু‌লো ঘটলে ৩০০ রোগ প্র‌তি‌রোধ হবে তখন আর তা গাজাখু‌রি মনে হবে না। ৩০০ রকম রোগ থেকে ঝুঁকি থেকে বেঁচে গেলে সৃষ্টিকর্তার অনুকম্পায়‌ দীর্ঘ জীবন অর্জন সম্ভব হবে তা আশা করা যায়।

Wednesday, July 11, 2018

পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজন টেকসই পণ্য

আমার বাবা আমার বড় বোনের চার ও পাঁচ বছর বয়সে তার জন্য এক‌টি তিন চাকার বেবি রিকসা সাইকেল কিনে দেন। সেই  বেবি রিকসার কাঠা‌মোটা ছিল ভীষণ মজবুত। সেই বেবি রিকসা‌টি আমরা সর্ব‌মোট ছয় ভাই বোন ২৫ বছর যাবত ব্যবহার করি। ছোট ভাই বড় হওয়ার পর কেজি দ‌রে ভাংগারীওয়ালার কাছে বিক্রয় করা হয়। হয়তবা যত্ন করলে আরো কিছুদিন চলত। অবাক ব্যাপার নয়‌ কি? বাবা দুই তিনবার সেই বেবি রিকসাটির সিট ও আনুষঙ্গিক মেরামত করিয়েছিলেন। মূল কাঠা‌মো সব সময় ঠিক ছিল। এই  ধারনাটা আমা‌কে ভীষণ নাড়া দেয়। চট্টগ্রাম নিউ মার্কেট থেকে আমিও খুঁজে খুঁজে সলিড চাকার তাইওয়ানের তৈরি স্ট্যান্ড চাকা লাগা‌নো বাই সাইকেল কিনি। যা আমার বড় ছেলে, মেঝ ছেলে ও মে‌য়ে চালা‌নোর পর সামান্য মেরামত ক‌রে আত্মীয়ের বাচ্চা‌কে দি‌য়ে দেই।
আমার এই বিষয়‌টি ত‌োলার কারণ হল, বাচ্চা‌দের অনেক ধরনের ব্যবহারের সামগ্রী ও খেলনা আমরা ক্রয় করি। এগু‌লো নিন্মমানের ও ক্ষণস্থায়ী। চায়না আরো নিন্মমানের ওয়ান টাইম সামগ্রী দি‌য়ে বা‌রোটা বাজাচ্ছে। আমার মনে হয় আমাদের দেশী কোম্পানীগু‌লো চাইনিজ বাজে ওয়ান টাইম দ্রব্যাদির অনুকরণে না গি‌য়ে টেকসই ও মূল্যবান দামী দ্রব্যাদি তৈরি করতে পা‌রে। এ‌তে মনে হবে, বোধ হয় বিক্রি কমে যাবে। ব্যবসা কম হবে। এমনকি মজবুত সামগ্রী বানা‌নোর জন্য ব্যবসা পরিবর্তন কর‌তে হ‌তে পা‌রে।

তবু বলব দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হ‌য়ে টেকসই, মজবুত ও উন্নত সামগ্রী উৎপাদন করলে তা পরিবেশের জন্য ভাল এবং সাধারণ মানুষের প্রাথমিক খরচ বেশী হলে লং রানে অর্থ সাশ্রয়ী হবে। প্র‌য়োজ‌নে ব্যবসায়ী ব্যবসার পরিবর্তন পরিকল্পনায় রাখবেন।
আমার কাছে মনে হয় বাচ্চা‌দের বিভিন্ন ধরনের সাইকেল, ঠেলা গাড়ী, দোলনা ও আসবাব পত্রসহ আরো বহুবিধ সামগ্রী উন্নত সামগ্রী ও কাঁচামাল দি‌য়ে শক্ত, ক‌ঠোর ও মজবুত বানা‌তে হয়। বাচ্চা‌দের যে কোন সামগ্রী সর্বদা অত্যন্ত শক্ত বানা‌নো প্র‌য়োজন। বাচ্চা তা‌দের খেলনা ছুঁড়ে মা‌রে। ফেলে দেয়। লাথি মা‌রে। বাড়ি দেয়। অনেক অনেক জানা অজানা প্লেফুল কাজ ক‌রে। তাই তা‌দের খেলনাগু‌লি ইস্পাত কঠিন হওয়াটা অনেক বেশী প্র‌য়োজন। অনেক সময় দেখবেন আমেরিকা, ইউরোপ বা চায়না থেকে বাচ্চা‌দের সামগ্রী মেইড চায়না কিনবেন আর আফ্রিকা ও বাংলাদেশ থেকে কিনবেন। অনেক পার্থক্য দেখবেন। কোয়া‌লি‌টি সাধারণ মানের ও দামে‌ কম পাবেন। তাই এশিয়ার ও আফ্রিকার সাধারণ মানুষের জন্য এই ধরনের সামগ্রী মূল্য কম ও দূর্বল মানের। চায়নার তৈরির সাধারণ মানুষের জন্য সামগ্রীগু‌লো আমরা যতই তাদের বলি ভাল ও টেকসই কর‌ে বানাও। তা তারা একটা কারণে বানাবে না। তা হল, বাজার ধরা। কম দামী পণ্য মানেই  ভাল বাজার এটা তারা ভাল ক‌রে জানে। তাই তা‌দের শুধরা‌নো যাবে না। শুধরা‌তে হবে আমা‌দের। সেটা হল মূল্য বেশী হলেও সরকার ভর্তুকি দি‌য়ে দেশী ক‌োম্পানী দি‌য়ে উন্নত সামগ্রী বাজা‌রে ছাড়‌তে হবে। হোম সোলার সিস্টেম সকল দেশেই ব্যবহার হয়। হোম সোলার সিস্টেমে দেশী সোলার প্যানেলের দাম বেশী। চায়নার তৈরি প্যা‌নেলগু‌লোর দাম কম। দেশী কোম্পানীর সোলার প্যানেল দাম বেশী হলেও অনেকেই তা কিনছেন। বিক্রি মন্দ নয়। কারণ সবাই জানে চায়নিজ প্যানেল থেকে দেশে তৈরি প্যানেল দাম বেশী হলেও কোয়া‌লি‌টি ভাল এবং টেকসই। যা লং রানে মূল্য সাশ্রয়ী। মজবুত, টেকসই ও ভাল সামগ্রী বানালে এবং দেশের মানুষ‌কে উদ্বুদ্ধ কর‌তে পারলে চাইনিজ বা অন্য বিদেশীরাও খারাপ মালামাল বাংলাদেশে পাঠা‌তে হাজারবার ভয় পাবে। তারাও টেকসই ও উন্নত সামগ্রী পাঠাবে ও অনুপ্রাণিত হবে। টেকসই ও মজবুত সামগ্রী এককালীন বেশী খরচ করাবে ঠিকই কিন্তু এটা পরিবেশ বান্ধব। ওয়ান টাইম জিনিস ব্যবহার না ক‌রে রিইউ‌জিবল সামগ্রী ব্যবহার ক‌রে খরচও ধী‌রে ধী‌রে ক‌মে আস‌বে। যারা সস্তায় নিন্মমা‌নের সামগ্রী ক্রয় করত, তারা তখন উন্নতমানের রিক‌ন্ডিশন সামগ্রী কিনবে। আরো সস্তা দামে। আর এভাবে রিইউ‌জিবল সামগ্রীর মার্কেট গড়ে উঠবে ও কর্মসংস্থান বাড়বে। দেশী ব্যবসায়ীরা ভেবে দেখ‌তে পারেন।

Wednesday, July 4, 2018

আধুনিক ছেলেমে‌য়ে ও ভঙ্গুর সম্পর্ক


আমার কিছু নিকট আত্মীয়‌দের দেখছি বি‌য়ে‌ টিকছে না। বি‌য়ে বা সংসারে টি‌কে থাকাটায় মনে হয় পরস্পর সমঝোতা বা বোঝাপড়া অনেক বেশী প্রয়োজন। আর্থিক চাহিদার সাথে উপার্জন সমন্বয় না হলে মহা বিপদ। আমি সাংসা‌রিকভা‌বে ভয়াবহ উদাসীন। লেখালেখি করি। সারাদিন নিরস রচনা, প্রবন্ধ ও ফিচার পড়‌তে থাকি। আমি পরিবারের কোন কাজ না করা সত্ত্বেও কেবলমাত্র আমার স্ত্রী চাকুরী না করার কারণে সে ভয়াবহ সাংসারিক চাপ সহ্য করছে। তার জায়গায় অন্য কোন চাকু‌রে স্ত্রী হলে আমা‌কে হা‌তে হা‌রিক্যান ধরিয়ে ভেগে যেত।
আমার কাছে মনে হয়, একজন স্ত্রী যখন চাকুরী করবে, তিনি কিছু কিছু বিষয়ের উপর ট্রেনিং নি‌তে পারেন। কিভাবে বাসার সকল সদস্যের খাবার, ক্ল‌দিং, পড়া‌শোনা ও অসুখ বিসুখ টেকাল দি‌তে হয়; তার মানসিক গ্রহন‌যোগ্যতার অনুশীলন। কিভাবে আউট সোর্স‌িং ক‌রে সকল‌কে ম্যা‌নেজ ক‌রে কাজগুলি করা যায়; তার উপর প্রশিক্ষণ হ‌তে পা‌রে।
যে সব ছেলে চাকুরীজীবী বউ বি‌য়ে করবে; তাদের রান্না করা, কাপড় ধোয়া, ঘর মোছা ও বাচ্চা‌কে লালন পালন করার বিষয়গু‌লি মানসিকভাবে গ্রহণ করা ও অনুশীলন করা প্রয়োজন। স্বামী স্ত্রী দুইজন চাকুরীরত‌দের সম্ভব হলে যৌথ পরিবারে থাকাটা খুব ভাল। তদুপরি বলব, বি‌য়ে টিকা‌নোর সবচেয়ে ভাল পন্থা হল, পিতামাতা মেয়েদের পছন্দ ও অপছন্দের বিষয়গু‌লি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বের করবেন। সে বিষয়গু‌লি মিলিয়ে ছেলে খুঁজে পেলে মেয়েকে বি‌য়ে দিবেন। নয়ত চাকুরী ধরিয়ে দি‌য়ে মেয়েকে তার পছন্দ মত বি‌য়ে করার অনুমতি দেয়াটা মঙ্গলজনক। মে‌য়ে নিজে পছন্দ করে বি‌য়ে করলে তখন আবার চাকুরীরত মে‌য়ে সংসার টিকা‌নোর জন্য চাকুরী বাকরী ক‌রে উদয়াস্ত পরিশ্রম ক‌রে যাবে। কম‌প্লিন কম করবে। এ ধরনের কেসে সংসার টি‌কে যায়। তব‌ে আমার ম‌নে হয় সংসার টিকা বা না টিকা সম্পূর্ণই মেয়ে‌দের কাছে। কারণ যুগ যুগ ধ‌রে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মে‌য়েরা অনেক আত্মত্যাগ ক‌রে পরিবারকে ধ‌রে রাখে। এমনকি অনেক পরকীয়ারত ছেলেকেও স্ত্রীরা ফিরিয়ে আন‌তে সক্ষম। কিন্তু কোন স্ত্রী পরকীয়ায় আসক্ত হলে কোন স্বামী তা‌কে ফিরিয়ে আন‌তে পা‌রে না। যদি না সেই মে‌য়ে নিজে নিজে ফেরত আসে।
সংসার ও বি‌য়ে টিকা‌নোটা এখনকার সময় ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ। দুই‌ আলাদা সত্ত্বার মিল করাটা যার পর নাই কঠিন এক‌টি বিষয়। আর এই  কঠিন বিষয়‌টি সহজ কর‌তে প্রয়োজন মে‌য়ে বা ছেলের আন্তরিক ইচ্ছে। দুইজন দুইজন‌কে ছাড় দি‌তে হবে। দুইজন দুইজন‌কে বুঝ‌তে হবে। বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজন অনেকেই বি‌য়ে‌ শাদীতে সম্পর্ক ভাঙ্গার অনুঘটক হিসাবে কাজ ক‌রে। বি‌য়ে‌তে তারা ছেলে মেয়েদের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি এমন ভাবে তুলে ধ‌রে যে সম্পর্ক নষ্ট ক‌রে দেয়।  বি‌য়ে‌তে পান আনল কিনা। মাছ আনল কিনা এরূপ ছোটখাট বিষয় নি‌য়ে কিছু কুটনি আত্মীয় সম্পর্ক নষ্ট ক‌রে। ভাল সম্পর্ক রক্ষা করার জন্য ম্যা‌সেঞ্জা‌রের ভাষায় কুটনী আত্মীয়দের ব্লক মার‌তে হবে। নচেৎ এরা আপনা‌দের সুন্দর সম্পর্কের মাঝে ব্লক দিয়ে দিবে। স্বামী ও স্ত্রী সম্পর্ক টিকা‌তে লাভ ক্ষতির বিচার করলে চলবে না। শুধু মনে রাখ‌তে হবে সম্পর্ক টিকা‌তে হবে যা ঝড়ই আসুক না কেন। স্বামী ও স্ত্রী এই  মান‌সিকতায় থাকলে  সম্পর্ক টি‌কে যাবে।
ভাল সম্পর্কের জন্য অনুশীলন ও স্টাডি কর‌তে হবে। এটাও একটা চর্চা যা হেলা করা যাবে না। অনেক সময় আইনি মার প্যাঁচে সম্পর্ক ম্যাড়ম্যাড়ে ভাবে টি‌কে থা‌কে। এটাও ঠিক না। সম্পর্ক হবে ইস্পাত কঠোর। তাই সম্পর্ক হ‌য়ে গেলে, তা রক্ষা করার সব রকম চেষ্টা ক‌রে যে‌তে হবে। আধুনিক ছেলে মে‌য়ের অনেক ধরনের সম্পর্ক থাক‌তে পা‌রে। তাই আধুনিক ছেলে মে‌য়েরা একটা ম‌টি‌ভেশন মেনে চলতে দেখা যায় তা হল; বিয়ের আগে যা করেছ, ভুলে যাও। বিয়ের পরে সম্পর্ক‌ে আস্থা ও বিশ্বাস রাখ‌তে বল‌তে হবে। পরিশেষে বল‌তে হয়, সংসার ও সম্পর্ক টিকা‌নোর সবচেয়ে বড় ফর্মুলা হল বাপ, মা, ভাই, বোন ও আত্মীয় স্বজন কারো কথা শোনা যাবে না। নিজেরা ঝগড়া ঝাঁটি বাদ দি‌য়ে আলোচনায় বস‌তে হবে কিভাবে সংসার টিকা‌নো যায় ও সমস্ত সমস্যার আলোচনা ক‌রে সমাধান বের কর‌তে হবে। এটা যদি করা যায় তবে ‌নি‌শ্চিতভা‌বে বলা  যায় সংসার আর ভাঙ্গবে না।


Wednesday, June 27, 2018

কেমন বন্দী বন্দী লাগে


ক্যাডেট কলেজ ও বিএমএ সহ ৩৪ বছর ঢাকার বাইরে কাটা‌নোর পর আমি খু্ব আনন্দিত হলাম। রাজধানী‌তে আমি বদলী এসেছি। ২০১৭ সালের জুন মাসে ফ্যামিলিসহ ঢাকায় আসার চার মাস পর অক্টোবরে আমার স্ত্রীর কাছে ঢাকায় থাকার অনুভূতি জানতে চাইলাম। আমা‌কে অবাক ক‌রে দি‌য়ে স্ত্রী উত্তর দিল, ঢাকায় কেমন বন্দী বন্দী লাগছে। আমি সত্যি উত্তরে বিস্মিত হয়ে উত্তর দিলাম, বড় শহরে এসেছ। বাইরে যাওয়ার গাড়ী আছে। বিশাল ক্যাম্পাসে হাঁটার জায়গা আছে। তব‌ে বন্দী লাগবে কেন? স্ত্রী বলল, বাইরে যেতে মন চায়; সেজন্য অনেকদিনই বাইরে গেলাম। এখন আর বাইরে যেতে ইচ্ছে করে না। কারণ বাইরে যাওয়ার চিন্তা হলেই মনে হয় ট্র্যাফিক জ্যামে বন্দী দশা
এই ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম থেকেই আমারও এই বন্দী ভাবনার রোগটা এসেছে। স্ত্রীর এই রোগ শোনার পর আমারও মনে হল আসলেই তো ঢাকার বাইরে ছোট ছোট শহরগুলোতে এত বন্দী বন্দী লাগত না। যেটায় ঢাকায় লাগছে। ৩৪ বছর ঢাকার বাইরে থেকে নিজেকে অ্যালিয়ন মনে হচ্ছে।
আমি আমার স্ত্রীর ঢাকা নি‌য়ে বন্দিত্বের বেশ অনুসন্ধান করলাম। আমি ফেইস বুক ও ইউটিউবে আরো কিছু মানুষের এ ধরনের অনভু‌তি জানলাম। তা জানার পর মনে হল, এই ধরনের অনুভূতি প্রতিনিয়ত প্রাপ্ত ট্রাফিক জ্যামের ট্রমা থেকে হ‌য়ে‌ছে। এটা দূর করার কোন ব্যবস্থা আছে কি? জটিল চিন্তা সন্দেহ নেই। আমি বিশেষজ্ঞ নই তবে আমার অনুভূতি থেকে উত্তরণের একটা রি‌মে‌ডি মনে হয় আছে। অনেকের হয়ত পছন্দ হবে না। তা হল হাঁটা। আমি ছোট ছোট কিছু শহরে চলাচলে একটা কাজ করতাম তা হল জ্যামে পড়লেই রিক্সা থেকে নেমে যাওয়া। ময়মনসিংহ শহরে রিক্সার বেশ জ্যাম বাঁধে। সেখানে রিক্সা থেকে নেমে পড়ার কাজ‌টি করতাম। কিছু টাকা হয়ত বেশী খরচ হল তবে সময় তো বাঁচল। এটা কম কিসে। এভাবে হাঁট‌তে হাঁট‌তে এমন অভ্যাস হ‌য়ে গিয়েছিল; প্রায়ই হেটেই  বাজা‌রে চলে যেতাম। ফেরার সময় বেশী বাজার থাকলে রিক্সায় চলে আসতাম।
ঢাকায় হাঁটাহা‌টি হয়ত করা যাবে, যদি অফিসটা কাছে থা‌কে। মার্কেটটা কাছে থা‌কে। অন্যথায় পরিবহন ছাড়া যাতায়াত সম্ভব নয়। শহরের বন্দী রোগ থেকে বাঁচানোর জন্য পৃথিবীর স্মার্ট সিটির পরিকল্পনায় প্রাইভেট গাড়ীমুক্ত রাখার পক্ষ‌ে মত দেয়া হচ্ছে। স্মার্ট সিটিতে ৫০০ গজ গুন ৫০০ গজ অথবা এক বর্গ ‌কি‌লোমিটার জায়গা বা কিছু সংখ্যক বাড়ী ঘর, দোকানপাট ও অফিস আদালত নি‌য়ে ক্লাস্টার তৈরি করা হয়। এই  ক্লাস্টারের মধ্যে সবাই হাঁটবে বা সাইক্যাল চালাবে। ইলেকট্রিক ছোট ছোট গাড়ীর মতন পড থাকবে কিন্তু কোন প্রাইভেট কার বা অন্য গাড়ী থাকবে না। প্রাইভেট কার থাকবে ক্লাস্টারের বাইরের অংশে এক সিটি হ‌তে অন্য সিটির মধ্যে প্রাইভেট কার ব্যবহার হবে। তবে এক এলাকা বা ক্লাস্টার হ‌তে অন্য এলাকায় যে‌তে গাড়ী ব্যাবহার চলতে পারে কিন্তু নিজ ক্লাস্টারের এলাকার মধ্যে কার বা গাড়ী নয়।
ঢাকা শহর‌কে আধুনিক করার জন্য শহরকে  ক্লাস্টার ভাগ কর‌তে হবে। গাড়ী রাখ‌তে হবে ক্লাস্টারের বাইরে। ক্লাস্টারে মধ্যে শুধু হাঁটা আর সাইক্যাল চালা‌নো যাবে। তবেই  শহরের সবাই সুস্থ থাকবে। ফিট থাকবে। নিজেদের বন্দী থাকার মত ট্রমা‌টিক অবস্থা মনে হবে না।
আবার অনেক সিটিতে এরূপ আছে, সমস্ত গাড়ী চলবে আণ্ডার গ্রাউন্ড বা ফ্লাইওভার দি‌য়ে। নিজের দালানের সামনে, স্কুলের সামনে বা অফিসের সামনের রাস্তা থাকবে হাঁটা ও সাইক্যাল চালা‌নোর জন্য। শহর‌কে গাড়ীমুক্ত কর‌তে পারলেই  শহর‌কে স্বাস্থ্যকর ও স্মার্ট বলা যাবে। ট্রাফিক জ্যাম থাকবে না। মানুষের শ্রমঘণ্টার অপচয় হ্রাস পাবে। তাই আর বেশী দেরী না ক‌রে ঢাকার বাইরে নতুন শহর ক‌রে যানবাহনমুক্ত স্মার্ট সিটি করা প্রয়োজন। আর ঢাকাকে প্রাইভেট গাড়ীমুক্ত ক্লাস্টারে ভাগ করা প্রয়োজন আর এভাবে দূর করা যাবে আমাদের বন্দী বন্দী ভাবনা।


Thursday, June 21, 2018

প্রসঙ্গ তসলিমা নাসরিন ও তার দেশে ফেরত আসা

তসলিমা নাস‌রিন‌কে দেশে ফেরত আনা নিয়ে অনেকে মাঝে মাঝে ফেইস বুক লেখনী‌তে তৎপর। আমা‌দের মাঝে অনেকে খারাপ কথা বলেন। অনেকে ভাল কথা বলেন। আমরা সাধারণত ভাল‌কে শুনি। ইতিবাচক চিন্তা সমাজ‌কে শান্তি দেয়। সকল মানুষের ধর্মকর্ম একটা অধিকার। কারো বিশ্বাসে ভিন্নতা থাক‌তে পা‌রে। তার মানে এই  নয় যে, কেউ কারো বিশ্বাস‌কে অমর্যাদা করার অধিকার দেয়া হ‌য়ে‌ছে। গান্ধীজী স্বাধীনতা এনেছেন অহিংস নীতির উপর ভিত্তি ক‌রে। অধিকাংশ নেতা স্বাধীনতা এনেছেন রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দি‌য়ে। সেজন্য গান্ধীজী কি ভুল করেছেন? তসলিমা নাস‌রিন সমাজের কি পরিবর্তন চান? অহিংস নীতি মাধ্যমে চান? না কতট‌ুকু রক্তক্ষরণ চান। সেটা তিনি নিজেও পরিষ্কার নন। সৈয়দ ওয়া‌লিওল্লাহ তার "লাল সালু" উপন্যাসে বলেছেন "শস্যের চে‌য়ে টুপির সংখ্যা বেশী"। ধর্মের চেয়ে ধর্মের আগাছা বেশী। কেউ তা‌কে বি‌রোধ করেনি। তিনি ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে গঠনশীল ও প্রগতিশীল বিপ্লব করেছেন। আমি তসলিমা নাস‌রি‌নের অধিকাংশ বই পড়েছি। এগু‌লো মানব কল্যাণমূলক বা মানব সেবামূলক লেখা নয়। যুক্তির অভাব ও বিদ্বেষ ছড়া‌নোর চিন্তা মাত্র। আপনি কারো বিশ্বাস‌কে কটূক্তি ক‌রে, সে স্থানে থাকাটা আপনার নিরাপত্তার জন্যই উচিৎ নয়। দেশ‌কে তিনি কতটুকু ভালবাসেন আমি জানি না। তবে দুবাই‌য়ে যে পরিচ্ছন্নতা কর্মী‌টি দেশের জন্য রে‌মি‌টেন্স পাঠায়। সে দেশ‌কে ভালবাসে। সে আশা ক‌রে বাংলাদেশটা এমন উন্নত হবে যা‌তে তার পরিবারটা ভাল থাকবে। ডিউটি শেষে ইমু নি‌য়ে সে তার পরিবারের সাথে যোগা‌যো‌গে ব্যস্ত হয়। দেশের বাইরে থেকে প্রতিটা বিষয়‌ে কটূক্তি করা ছাড়া কখনও গঠনমূলক কথা তসলিমা নাস‌রিন বলেননি। দেশের বাইরের মায়া কান্নার কি দাম আছে বলুন। আগে তিনি প্রমাণ করুন মানুষ‌ের বিশ্বাস‌কে অবজ্ঞা করা ছাড়া অন্য কোন  ভাল কাজ তিনি করেছেন কি? তিনি জরায়ুর স্বাধীনতা চান। কিন্তু সুস্থ যৌন জীবনের উপায় বাতলান‌নি। সমাধান ছাড়া আন্দোলন। তিনি নির্লজ্জতায় এত উঁচুতে আছেন। তা‌কে গ্লোবাল সিটিজেন হিসাবে মানায়। বাংলাদেশী নয়।
এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার তিনি ও তারা অনুসারীরা দেশে জরায়ুর স্বাধীনতা এনজয় করেছেন। তখন কিন্তু কেউ ব্যস্ত হয়নি। ব্যস্ত হ‌য়ে‌ছে  তখনই যখন তিনি ধর্মীয় অনুভূতিকে কটাক্ষ করেছেন। কেউ আস্তিক বা নাস্তিক এটা ব্যক্তিগত বিষয়। এটা নি‌য়ে কেউ ব্যস্ত নয়। ব্যস্ত তখনই  হতে হয় যখন আপনি অন্যের আস্তিকতা নি‌য়ে কটাক্ষ করবেন।
কয়েকদিন আগে শোনা গেল তার কণ্ঠে শব্দ নাই। আমার স্ত্রী বলল, তসলিমা নাসরিন শয়তানটার স্বর দিয়ে কথা বেরুচ্ছে না। আমি জানতে চাইলাম কোথায় পাইলা। সে জানাল ফেইস বুকে। আমি বললাম, তুমি তাকে শয়তান বললে। সে তো নারীদের স্বাধীনতা ও মুক্তির কথা বলে। আমার স্ত্রী পুনরায় ক্ষেপে গিয়ে বলল। যে নবী রসুলকে নিয়ে বাজে কথা বলে সে শয়তানের দোসর। আমি বুঝলাম তাকে সাধারণ মানুষ প্রগতিশীল ভাবতে পারছে না। তাকে একজন ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী মানুষ হিসাবেই মনে করছে।
তিনি শ্রদ্ধেয়া থাকতেন যদি না মানুষের বিশ্বাসের জায়গাটিতে আঘাত না করতেন। তিনি ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত না করে নারী জাগরণ নিয়ে সচেতন করতে পারতেন। নারীদের সাজুগুজু, জামা কাপড় ও অলংকার নিয়ে মানসিকতা নিয়ে ব্যস্ত না থেকে পুরুষের সাথে মর্যাদার সাথে সমান ভাবে কাজে এগিয়ে আসার তাগিদ দিতে পারতেন। নারী পুরুষের আস্থার জায়গাটি উন্নত করতে পারতেন। তিনি অনেক বাস্তব ও সত্য কথা বলেছেন। সন্দেহ নেই। তার পর ধর্ম নিয়ে বাজে কথা বলে বিশাল দুধের গামলায় একফোঁটা চানা ঢেলে দিয়েছেন।
পরিশেষে বলব, তসলিমা নাসরিন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন তার জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত। ক্ষমাটা চেয়ে দেশে আসার চিন্তা করতে পারেন। তার আগে নয়। কারণ মানুষ যে ধর্মেরই হোক মানুষের বিশ্বাসকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলার জন্য তাকে সকল ধর্মের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়াটা অপরিহার্য। 

Thursday, June 14, 2018

ছোট পরিসর থেকে বড় পরিসরে পথচলা


একটা মানুষের উন্নতির পিলার‌টি যদি ধী‌রে ধী‌রে ধাপে ধাপে এগিয়ে যায় তবে তা অনেক শক্তিশালী হয়। গায়ক ও শিল্পীরা যারা নিয়মিত গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের চর্চা করেন তারা মনে করেন বড় একটা পরিসরে উঠে গেলে হয়ত রাতারাতি বিখ্যাত হ‌য়ে যাবেন। তেমনি লেখক ও কবিরা মনে করেন তিনি বোধ হয় বড় শহর বা রাজধানী‌তে আসলে রাতারাতি খ্যাতি অর্জন করবেন। গ্রাম গঞ্জ থেকে উঠে এসে রাতারাতি অনেকে বিখ্যাত হ‌য়ে‌ছেন পরিসংখ্যানটা আমার জানা নাই। তবে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার ফর্মুলাটা আমার কাছে অনেক বেশী টেকসই মনে হয়।
একজন গায়ক তার নিজ পরিসরে ধী‌রে ধী‌রে অনুশীলন কর‌তে থাকবে। তারপর ইউনিয়ন হ‌তে উপজেলা। উপজেলা হ‌তে জেলা। অতঃপর বিভাগীয় ও দেশ পর্যায়ে এগিয়ে যে‌তে থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক ধারা।
অনেক লেখকের কাছে শুনি, আমি যদি ঢাকা থাক‌তে পারতাম; তবে আমার বই অতি দ্রুত বিক্রি হত। আমি অতি দ্রুত নাম করা লেখক হ‌তে পারতাম। এটা হয়তবা ইমোশনাল চিন্তা। বাস্তবতা অন্য রকম। বড় শহর নবাগতদের জন্য অথৈ সাগরের মত। কূলের সন্ধান মিলে না ও গভীরতার সন্ধান মিলে না। তখন খড়কুটা যা পায় তাই সেই  নবাগতরা আঁকড়ে ধর‌তে চায়। সেই  খড়কুটা হল রাজধানী বা বড় শহরের বিদ্যমান দালাল বা প্রতারকরা। তারা উৎ পে‌তে থা‌কে ছোট শহর থেকে উঠে আসা গায়ক, শিল্পী, কবি ও লেখক‌দের সাথে কিভাবে বাণিজ্য করা যায়। গায়ক বা শিল্পী হ‌তে গি‌য়ে অনেক ছেলে মে‌য়ে ভণ্ড বা প্রতারক‌দের পাল্লায় পড়ে সর্বস্বান্ত হ‌য়ে‌ছে। তার পরিসংখ্যান বিপুল ও বিশাল।
লেখকরা ঢাকার প্রকাশনীর যত নাম তত দাম দি‌য়ে টাকা খরচ ক‌রে। আশা বিখ্যাত হবে। আশার গু‌ড়েবা‌লি। প্রকাশক ছাপা‌নোর পুরো টাকা সহ লাভটা তুলে নি‌য়ে নবাগত লেখক‌কে কিছু বই হা‌তে ধরিয়ে দেয়। লেখক আশায় থা‌কে তার বই বেস্ট সেলার হবে। সে বিখ্যাত হবে। সেই  শুভ দিন‌টি আসে না। ধার কর্জ ক‌রে প্রকাশক‌কে দেয়া টাকা আর ফেরত আসে না। বইও প্রচারিত বা পরিবেশিত হয় না।
তাই ধাপে ধাপে কবি, লেখক, গায়ক ও শিল্পী‌দের অনুশীলন ক‌রে ধী‌রে ধী‌রে উঠে আস‌তে হবে। ধী‌রে ধী‌রে অনুশীলন ক‌রে দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে আসলে সফলতা পাওয়া যাবে। হঠাৎ উঠে আসা এক দুইজন লেখক অনুসরণীয় হ‌তে পা‌রে না।  একজন কবি বা লেখক তার পরিচিত মহলে যদি একশত বই বিক্রি কর‌তে না পারেন,  তবে তিনি কিভাবে আশা করেন; বিরাট পরিসরে তার বই বেস্ট সেলার হবে। তার প্রথম বইটি রাজধানী নয় বরং উপজেলাতে প্রকাশিত হ‌তে পা‌রে। সেখানে ৫০০ কপি বিক্রি হ‌য়ে যাবে। একটু প্রচেষ্টায় প্রয়োজন হবে। তারপর জেলায় প্রচেস্টা চালাতে হবে। এভাবে শুরুটা ছোট থেকে শুরু ক‌রে বড় পরিসরে আগা‌তে হবে। তাই সমস্ত উন্নয়ন শুরু কর‌তে হবে ঘর থেকে, ধী‌রে ধী‌রে ও দৃঢ়তার সাথে। লক্ষ্য অটুট রাখ‌তে হবে, বিশ্বাস অটুট থাক‌তে হবে। তবেই ছোট পর্যায় থেকে প্রতারক‌দের এড়িয়ে সফল হ‌তে হ‌তে উপ‌রে উঠা সহজ হবে।
প্রতিটি লেখক, শিল্পী ও কবির অবলম্বন বা আগ্রহ হওয়া প্র‌য়োজন অনুশীলন বা‌ চর্চা। শিল্পীরা তা‌দের চর্চা উন্নত করতে হবে ও নিয়মিত ক‌রে যে‌তে হবে। এটা অত্যন্ত প্র‌য়োজন। তার প্রতিভার বিকাশ নিজের এলাকার আনা‌চে কানাচে পৌ‌ছে দি‌তে হবে। তারপর যে‌তে হবে বড় পরিসরে। সব শি‌ল্পী, লেখক কবি ও সা‌হি‌ত্যিক  সবারই একই কথা যদি রাজধানী‌তে যে‌তে পারতাম, তবে অনেক বড় হ‌তে পারতাম। এটা সত্য রাজধানীর অনেক নবাগতই এক লাফে বিখ্যাত হ‌য়ে‌ছে। সংখ্যাটা হা‌তে গোনা। তাই সবার এক লাফে বিখ্যাত হওয়া বাতুলতা মাত্র। বিখ্যাত হওয়াটা কোন সহজ ধান্ধা নয়। শিল্প ও সাহিত্য‌কে ভালবাসার কারণে যারা অনুশীলনরত থাকবে তারাই ধী‌রে ধী‌রে টেকসই উন্নয়নের পথে আগাবে। তা‌দের উত্তোরণ ক্ষণস্থায়ী ও ভঙ্গুর হবে না।


Thursday, June 7, 2018

উন্নয়নের পথে আগা‌তে হবে নিজেদের জো‌রে


আমা‌দের এলাকায় এটা নাই ওটা নাই। আমরা খাইতে পারি না। আমরা উপার্জন কর‌তে পারিনা।‌ আজ থেকে তিন চার বছর আগে যে কোন সমস্যায় আমারও মনে হত "সরকার এটা কর‌তে পারত" বা "এটা দি‌তে পারত"। এটা এখন আর তা মাথায় আসে না। আমার চিন্তা একটু পরিবর্তিত হ‌য়ে‌ছে।  আমার মনে হয় কোন সমস্যায় আমরা কি কর‌তে পারতাম বা কি করছি? সেটা আগে চিন্তা করতে হবে।

সরকারের করাটা আমলাতান্ত্রিক নিয়মে আবদ্ধ। সেটা এমন একটা প্রক্রিয়া যা স্বচ্ছতা ও জবাবদী‌হিতা পালন কর‌তে গি‌য়ে বিলম্বিত। কোন সরকারী কর্মকর্তা চাইলেই কোন কাজ কোন সৎ ও উদ্যমী মানুষ‌কে দিয়ে করা‌তে পারবে না। তা‌কে অবশ্য যথাযথ প্রক্রিয়া ও নিয়মের মধ্য দি‌য়ে যে‌তে হবে। অন্যথায় চাকুরীচু‌ত্যিসহ অন্যান্য বিপর্যয় আস‌তে পা‌রে। তাই সরকারের উপর নির্ভরশীলতা হল সিস্টেমের জটিলতার উপর নির্ভরশীলতা।
সারা পৃথিবীর বেশীর ভাগ মানুষের সমস্যা হল সামাজিক ও স্থানীয়। তাই ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় নেতৃত্বের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরী। এই  জন্য আমরা মাঝে মাঝে পত্রিকায় দেখি অমুক গ্রামের স্থানীয় মানুষরা এক কি‌লো মিটার ভাসমান সাঁকো তৈরি করেছে। অমুক গ্রামের যুবক/যুবতীরা বয়স্ক শিক্ষায় এগিয়ে এসেছে। অমুক প্রবাসী নিজের টাকায় একটা পাকা ব্রিজ তৈরি ক‌রে দিয়েছে। এরূপ অনেক অনেক সমস্যার সমাধান আমলাতান্ত্রিক সিস্টেমের বাইরে সমাধান করা যায়। আমা‌দের গ্রামের বাড়ীর সামনে একটা নদী ছিল। ছোট বেলা থেকে দেখতাম নদী পার হওয়ার জন্য একটা বাণিজ্য চলত। বাজার কমিটি গুদারা ঘাট বা খেয়া নৌকা পরিচালনা করত। তা‌দের টার্গেট ছিল একটা ব্রিজ করা। আমার আজও মনে আছে তারা প্রথমে বাঁশের সাঁকো বানায় যা দি‌য়ে মানুষ পার হয়। নৌকাও ছিল। তা দি‌য়ে মালামাল ও মটর সাইকেল পার করত। তারপর প্রশস্ত ক‌রে বাঁশের মাচা ক‌রে ব্রিজ বানাল। তার উপর দি‌য়ে মটর সাইক্যাল ও রিক্সা পারাপার শুরু হল। নৌকা পারাপার উঠে যে‌তে থাকল। এরপর একসময় দেখলাম কাঠ দি‌য়ে ব্রিজ হ‌য়ে গেল। তার উপর দি‌য়ে দিব্যি রিক্সা ও মটর সাইক্যাল পার হ‌তে লাগল। ১৯৯০ থেকে সেই  কাঠের ব্রিজ চালু হল। তার পর থেকে নিয়মিত চাঁদা দি‌য়ে মেরামত চল‌তে থাকল। ১৯৯৬ সালে এল‌জিইডির ব্রিজ করার পূর্ব পর্যন্ত। এটা এই  জন্য বললাম, সরকারী সেতু না হওয়ার আগ পর্যন্ত সংগ্রামী মানুষ পিছিয়ে ছিল না। তারা মানুষকে পারাপারের জন্য ফান্ড তৈরি করা ও ধাপে ধাপে নৌকা থেকে কাঠের ব্রিজ পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন ক‌রে গেছে। আমি নিশ্চিত সরকারী ব্রিজ না হলে  সকলে মিলে এত দিনে লোহার ব্রিজ তৈরি ক‌রে ফেলত। তাই স্থানীয় সমস্যা স্থানীয় যুবকরাই সমাধানের পথে এগিয়ে নেয়। তারা প্রতিনিয়ত এগিয়ে যায়। এখানে যুব সমাজের শক্তি অসাধারণ। সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে নেতৃত্বে বিকাশ লাভ ক‌রে। কিছু উদ্যমী যুবক নেতৃত্ব দি‌য়ে সমাজের সমস্যার সমাধানগু‌লো ক‌রে ফেলে।

গ্রামে গঞ্জের স্কুল কলেজে ছেলেমেয়েদের কখ‌নো নির্ভরশীলতা শেখা‌নো যাবে না। গ্রামের স্কুলের ছেলেমেয়েরা বলল, স্যার আমা‌দের পানি পেরিয়ে স্কুলে আস‌তে হয়। শিক্ষকরা যদি বলে অপেক্ষা কর, একটু কষ্ট কর, সরকার ব্রিজ করবে। তা নয়। শিক্ষকের উচিত হবে ছাত্র‌দের নি‌য়ে সমস্যা‌টি দেখা। ছাত্র‌দের কাছে সমাধান চাওয়া। ব্রিজ হ‌তে পা‌রে বা নৌকা থাক‌তে পা‌রে। যাই সমাধান হোক, শিক্ষক স্থানীয় মানুষ‌দের নি‌য়ে সাঁকো তৈরির ব্যবস্থা কর‌তে পা‌রে। শিক্ষকরাই ছাত্র‌দের নেতৃত্ব‌ের গুণাবলী দি‌তে পা‌রে। পরিশেষে বলব, সমস্যা সমাধানে নির্ভরশীলতা নয় বরং এগিয়ে যে‌তে হবে বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে। তবেই সফলতা মিলবে। সরকার বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি নির্ভরশীলতা শুধু পিছনে টানবে। তাই যে কোন কাজে আগে প্র‌য়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। তার পর প্র‌য়োজনে অন্য সাহায্যের আশা করা যাবে। মহান সৃষ্টিকর্তাও কর্ম নি‌য়ে এক পা দি‌তে বলেন; বাকীটা তিনি এগিয়ে নেন। তাই স্থানীয় জনশক্তি তা‌দের সীমিত সম্পদ নি‌য়ে  এগিয়ে যে‌তে হবে। তবেই উন্নতি।