Pages

Wednesday, October 31, 2018

একালের সেনসিটিভ ছেলেমেয়ে

ছোটবেলায় পিতামাতার কাছ থেকে আমরা যা মার খেতাম, এখনকার বাচ্চারা হয়ত তা কল্পনা করতে পারবে না। আমাদের সময় মারধর হত ঘরে ও স্কুলে। পিতা মাতা ও স্কুলের টিচাররা মনে হয় অথরাইজ ছিল মারধর করার জন্য। কারণে অকারণে বেতের বাড়ি ছিল একটা সহজ লভ্য বিষয়। স্কুল কলেজ থেকে বেতের বারি বিতাড়িত হ‌য়ে‌ছে। বেতের বারি ও সাথে অকথ্য বকাঝকা বোনাস থাকত। এখন বেতের বারি নেই। অকথ্য কথা বোনাস হিসাবে পাওয়া যায় না। এখনকার বেশীরভাগ পরিবারের ছেলেমেয়েদের দেখা যায় অনেক বেশী সেনসিটিভ। তারা বকা ঝকা সহ্য কর‌তে পা‌রে না। অল্প‌তেই  তারা ইমোশনাল হ‌য়ে যায়। এই  পৃথিবীর কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু ক‌রে সব ক্ষেত্রেই সহনশীলতা অনেক বেশী জরুরী। সব সময় ভাল ব্যবহার ও যথাযথ মর্যাদা পাবে তার নিশ্চয়তা নেই। পৃথিবীর বেশীর ভাগ মানুষ উন্নতির জন্য ও পেটে খাদ্যের নিশ্চয়তার জন্য ছুটে চলেছে। প্রতিনিয়ত মানুষ যুদ্ধরত। এই  যুদ্ধ চলছে, থামার কোন সু‌যোগ বা লক্ষণ নেই। তাই উঠতি বয়সের বাচ্চা‌দের সহনশীল বানা‌নোটা অতি জরুরী।
আমি এক‌টি ঘটনা শেয়ার করছি। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী একজন ছাত্র প্রিটেস্ট পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল না করার কারণে ক্লাস শিক্ষক পিতাকে ছেলেসহ প্রিন্সিপ্যালের সাথে দেখা করতে বললেন। এ খবর শোনার পর ছাত্রটি আপসেট হয় করে। এর তিন মাস আগে থেকে মাইগ্রেণের সমস্যাটা বেশী ছিল। তখন মাইগ্রেন ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। সপ্তাহে সাত দিনের মধ্যে পাঁচদিনই বিছানায় শোয়া। এভাবে দেড় মাস অসুস্থ থাকল, এর মধ্যে চার জন ডাক্তার বদল হয়েছে। কোন সুরাহা হচ্ছে না। মাইগ্রেন বেড়েই যাচ্ছে। চোখের চশমার পাওয়ার ঠিক, এক্সরে করে সাইনাসের কোন সমস্যা ধরা পড়েনি। সিটি স্ক্যান ব্রেনের করে কোন সমস্যা পাওয়া যায়নি। মাইগ্রেণের অনেক কারণ অজানা। কারণ পিতাকে নিয়ে প্রিন্সিপ্যালের মুখোমুখি হওয়ার হিমুলিয়েশন সে নিজের অজান্তে হয়তবা আঘাত পেয়ে থাকতে পারে। ফলে মাইগ্রেণের তীব্রতা এরুপ কোন অজানা কারণ থাকতে পারে। মাইগ্রেণের অনেক অনেক কারণ ডাক্তারদের অজানা। ছেলে পরীক্ষায় খারাপ করায় তাকে পেরেন্টসহ প্রিন্সিপ্যাল ডাকবে, এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তা অনেক সেনসিটিভ বাচ্চারা মানসিক ভাবে মুষড়ে যেতে পারে এবং অসুস্থ হতে পারে।
তার মাইগ্রেণের ভয়াবহতায় দেড় মাস চিকিৎসা চলার পর তার সাধারণ পড়া‌শোনার ধারা বদল ক‌রে কম চাপ সৃষ্টি ক‌রে তার উপ‌যোগী বিষ‌য়ে পড়ার ব্যবস্থা করতে হল।
পৃথিবীটা আমরা যেভাবে চাই। সেভাবে পৃথিবীটা পাব না। আমরা যেভাবে চিন্তা করি। পৃথিবীর সব মানুষ সেভাবে চিন্তা করব‌ে না। সকল মানুষের আর্থিক অবস্থা এক রকম নয়। যেহেতু সমতা এক রকম নেই। মানুষের আচরণ এক হবে না। কখনও কর্মক্ষেত্রে  পাওয়া যাবে ভাল বস। কখনও পাওয়া যাবে বুলি বস। সমস্ত ধরনের বস‌দের সাথে কাজ করার প্রশিক্ষণ সেন্টার হ‌তে পা‌রে স্কুল বা কলেজ।
একটা ভাল বিষয় দেখলাম, এখনকার স্কুল গুলিতে ম‌টি‌ভেটর বা কাউন‌সিল‌রের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এটা একটা ভাল ব্যবস্থা। স্কুল‌ের বাচ্চা‌দের সব সময় পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে খাপ খাওয়া‌নো শেখা‌নোটা অনেক বেশী প্র‌য়োজনীয়। তা‌দেরকে পৃথিবীর বাস্তবতা ‌শেখা‌নোটা অনেক জরুরী। পৃথিবীর সকল মানুষ কখ‌নো ভাল করা সম্ভব নয়। উন্নত পড়া‌শোনা। উন্নত জীবন বিধান দ্বারা মানুষের অপরাধ কমা‌নো ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু অপরাধ নির্মূল করা যাবে না। অপরাধ নির্মূল করার জন্য পারিবারিক শিক্ষা ও মূল্য‌বো‌ধের বিকাশ অনেক বেশী প্র‌য়োজন। পিতামাতা‌কে সন্তান গ্রো‌মিং করার শিক্ষাটা গ্রহণ করার প্র‌য়োজন। স্কুল ও কলেজের শিক্ষক‌দের প্র‌য়োজন জীবনযাপন বিষ‌য়ে ম‌টি‌ভেশন করা। কিভাবে বিরূপ অবস্থা মোকা‌বেলা কর‌তে হবে তার উপর মনস্তাত্ত্বিক ট্রেনিং দি‌তে হবে। কিভাবে কারো টিজিং, এবিউজ ব্যবহার ও বুলি মোকা‌বিলা কর‌তে হবে তার ট্রেনিং এখনকার ছেলেমেয়েদের জন্য প্র‌য়োজনই নয়, অত্যাবশ্যকীয় বটে। পরিশেষে বলা যায়, ছেলেমেয়েদের পিতামাতা‌কে ডে‌কে হেনস্তা করা অপেক্ষা ম‌টি‌ভেটর বা কাউন‌সিলা‌রের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীর সাথে কথা বলে অতঃপর পিতামাতা‌কে ডাকাটা উত্তম। হুট ক‌রে পিতামাতা‌কে জবাবদী‌হিতা করার জন্য ডাকাটা ছেলেমেয়েদের নার্ভাস সিস্টেম ব্রেক কর‌তে পা‌রে।

Thursday, October 25, 2018

ধনী হয়েও শত্রু মুক্ত থাকা


বাংলাদেশে নাকি ১৭% হারে কোটিপতি বাড়ছে। যা কিনা বিশ্বের সর্বোচ্চ। আমাদের চারিদিকে অনেকের সুন্দর চকচকে গাড়ী ও চোখ ধাঁধানো বাড়ী আমাদের নজর কারে। এই ধরনের বাড়ী ও গাড়ীতে মানুষের নজর কারে। মনে করুন, আপনার কাছে একটি বাড়ী ও সম্পত্তি আছে; যার মূল্য দশ কোটি টাকা। এরূপ কোটি পতির সংখ্যা এই দেশে কয়েক লক্ষ। আপনি সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দিলেন। আপনি দশ কোটি টাকা তিন চারটি ব্যাংকে ইসলামী আমানত হিসাবে রেখে দিলেন। আপনি যদি ৬% করে পান, তবে আপনি মাসে পাঁচ লক্ষ টাকা পাবেন। এখন এই পাঁচ লক্ষ টাকায় আপনি বাড়ী ভাড়া করলেন ৬০হাজার টাকায়, দুইটি গাড়ী ভাড়ায় রাখলেন অন কল ২০ হাজার করে ৪০ হাজার টাকা। ১ লক্ষ টাকা চলে গেল। এখন আপনার বাচ্চাদের জন্য খরচ করলেন মাসে আরো ১ লক্ষ টাকা। কাজের কাজের লোক ও বুয়া ৫০ হাজার টাকা। চিকিৎসা ও অন্যান্য ৫০ হাজার টাকা; মোট ১ লক্ষ। বাসার বাজার,নামীদামী হোটেলে খাওয়া ও বেড়ানো ১ লক্ষ টাকা। ইনকাম ট্যাক্স ও মাসিক সঞ্চয় ১ লক্ষ টাকা। তাহলে ৫ লক্ষ টাকার বিতরণ হয়ে গেল। খেয়াল করে দেখুন, আপনার বাড়ী নাই। গাড়ী নাই। আপনার শত্রু নাই। আপনার ভাড়া বাড়ী। ভাড়া গাড়ী। সমস্যা হল, পছন্দ হচ্ছে না, চালকসহ গাড়ী বদল করে নিলেন। বাড়ী পছন্দ হচ্ছে না, বদলিয়ে নিলেন। আমি আপনাকে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, আপনি বাড়ী ও গাড়ীর মালিক না হওয়ায়, আপনি ভাদাইম্মা। আপনার আত্মীয় স্বজন আপনার ইগনোর করবে আপনার পিছনে লাগতে আসবে না। আপনার কাছে কিছু আশা বা চাহিদা করবে না। কারণ আপনি ভাদাইম্মা। অথচ আপনি নতুন চকচকে ভাড়া করা বাড়ীতে থাকছেন। চকচকে ভাড়া করা গাড়ীতে চড়ছেন। বাড়ীর জন্য আপনার ট্যাক্স দিতে হচ্ছে না। গাড়ীর জন্য ট্যাক্স দিতে হচ্ছে না। আপনি একাধিক ব্যাংকে টাকা রাখার কারণ হল, কোন ব্যাংক যদি হায় হায় হয়ে যায়, আপনি পুরোটা হারাবেন না। অনেকে বলবেন, জমি খাটি। অথচ এই জমি দখল হয়ে যেতে পারে। মামলা করে আপনি ফতুর হয়ে যাবেন। আপনি যদি একটি গাড়ী পোষেন আপনার মাসে ৫০ হাজার টাকা খরচ যাবে। আপনার গাড়ীর মেরামত ও দুর্ঘটনা। চালকের নানা রূপ উপদ্রব আপনার সহ্য করতে হবে। যদি পার্ট টাইম দুইটি গাড়ী চুক্তিতে ভাড়া রাখেন তবে বর্তমান বাজার দরে ২০ হাজার করে ৪০ হাজার টায় দুইটি গাড়ী চুক্তিবদ্ধ ভাড়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। কারণ আমাদের নিজের গাড়ী থাকলেও তা বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টা ব্যবহার করা যায় না বা লাগে না। কারণ আমাদের দেশের অনেক মার্কেট আছে বাড়ীর আশে পাশে। অনেক স্কুল আছে বাড়ীর আশে পাশে। তাই মাঝে মাঝে বেড়ানোর জন্য মূলত গাড়ীর ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। অনেকে চিন্তা করবেন বাড়ী না থাকলে মেয়ে বিয়ে দেয়া যায় না। ছেলে বিয়ে দেয়া যায় না। সেই সমস্ত ক্ষেত্রে ছেলে মেয়ের নামে কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট গ্যারান্টি হিসাবে প্রদর্শন করতে পারেন। এতে যদি কেই কনভিন্স না হয় হবে সেই বিয়ে না দেয়াই ভাল। ছেলে বা মেয়ের ক্ষেত্রে এখনকার সময় কর্মজীবি হওয়াটা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সাধারণ মানের পরিবারে হতে পারে। কর্মজীবীরা উদ্যমী ও পরিশ্রমী হয়। যে রোজগারের টেকনিক জানে, তার ভাতের অভাব হয় না।
অন্য কথায় চলে গেলাম। আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য হল, অত্যন্ত সহজ ও সাধারণ জীবন যাপন করা। বাইরের মানুষকে একটা সাধারণ লুক দেয়া। যাতে ঈর্ষা থেকে শত্রু কম হয়। শত্রু যত কম হবে, আপনি তত ভাল থাকবেন। আপনার স্ট্রেস কম থাকবে। স্থাবর সম্পত্তি যত কম থাকবে, আপনি তত মামলামুক্ত, কর মুক্ত ও মানুষের চোখ টাটানি থেকে দূরে থাকবেন। আপনি যখন ভাড়া করা বাড়ী ও ভাড়া করা গাড়ীতে থেকে ভাদাইম্মা হয়ে যাবেন; আপনার গরীব আত্মীয় স্বজনও আপনাকে তাদের অবস্থানে ধরে নিয়ে আপনার সাথে ভাল সম্পর্ক রাখবে। তাই সমস্ত স্থাবর সম্পদ ছেড়ে দিয়ে ভাদাইম্মা হওয়াটা ভাল। এতে আপনি ধনী হয়েও শত্রু মুক্ত থাকতে পারবেন।

Thursday, October 18, 2018

নিজের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়াটা কষ্টকর


আপনি গাড়ীর চালাবেন। সিটবেল্ট পড়ুন। মটর সাইকেল চালাবেন। হেলমেট পড়ুন। কনস্ট্রাকশনের কাজ করবেন। সেফটি গিয়ার পড়ুন। রান্না করবেন। গ্লাভস এ্যাপোন পড়ুন। আপনি বাগান করছেন। বুট ও গ্লাভস পড়ুন। আপনি প্লেট-ধুচ্ছেন। গ্লাভস পড়ুন। এগুলো আপনার নিরাপত্তার জন্য আপনি পড়বেন। রান্না করতে গিয়ে আগুনের ছ্যাকা খাওয়া পুড়ে যাওয়া অহরহ ঘটছে। সবজি কাটতে গিয়ে হাত কাটছে অহরহ। গরম খাবার ও গরম পানি গায়ে ছিটে পড়তে পারে। এতে এ্যাপ্রোন কিছুটা প্রটেকশন দিতে পারে। গ্লাভস প্রটেকশন দিতে পারে। অথচ দেখুন কোনটাই আরামদায়ক নয়।
সড়ক দু:ঘটনায় অনেকেই মারা যায়। বেশীরভাগই সিট বেল্ট ছাড়া ও হেলমেট ছাড়া গাড়ী ও মটর স্যাইক্যাল চালনায় মৃত্যুকে আলিংগন করে। মটর সাইক্যাল যে চালায়, তার জন্য হেলমেট নিয়ে চালানো খুবই যন্ত্রণাদায়ক একটা বিষয়। শুধু ডিটারমিনেশন ও বাহ্যিক নিয়মের কড়া চাপই পাড়ে একজনকে হেলমেট পড়াতে। একইভাবে মটর স্যাইক্যালের সহযাত্রী যিনি তিনি আরো বেশী অনিরাপদ। কারণ যিনি চালাচ্ছেন তিনি অনেক কিছু বুঝতে পারলেও পিছনে বসা ব্যক্তিটি নাও বুঝতে পারে। নিরাপত্তার জন্য পিছনের ব্যক্তির জন্য হেলমেট অনেক অনেক জরুরী। ছোট বাচ্চা, যাকে মটর সাইক্যালে বসানো হয়; তার জন্যও প্রয়োজন। অনেকে বছরের পর বছর মটর সাইক্যাল চালাচ্ছেন। অনেক বেশী আত্মবিশ্বাসী। তিনি অল্প দূরত্বের পথটুকু হেলমেট পড়তে চান না। অথচ দু:ঘটনার কোন সময় নেই। যে কোন সময় যে কোন অবস্থায় তা ঘটতে পারে।
সেদিন দেখলাম, আমার ৮ বছরের মেয়ে হাতে গ্লাভস পড়ে মাইক্রোওভেন থেকে খাবার বের করার জন্য বসে আছে। আমি তার কাছে জানতে চাইলাম; যখন খাবার বের করবে, তখন পড়লেই হত। সে বলল, যদি খাবার বের কারার সময় যদি গ্লাভস পড়তে মনে না থাকে। আর খাবার ওভেন থেকে বের করতে গিয়ে যদি হাতটা পুড়ে যায়। আমি চিন্তা করে দেখলাম; এর মধ্যে যুক্তি আছে। খাবার হয়ে গেল, টুন টুন শব্দ হল; তখন গ্লাভস না পড়েই ওভেন থেকে খাবার বের করে আমরা হাতটা পুড়তে পাড়ি। তাই নিরাপত্তার এই ধারনাটি খারাপ নয়। আমাদের দেশে বেশীরভাগ মহিলারা অ্যাপ্রুন ব্যবহার করে না। তেলে ভাজাভাজি করার সময় গ্লাভস ব্যবহার করে না। মুখে মাস্ক ব্যবহার করে না। মাথায় নেট ব্যবহার  করে না। শুধু খাবারের হাইজিনই নয়। নিরাপত্তার জন্য গ্লাভস ও অ্যাপ্রুন পড়াটা প্রয়োজন। সচেতনতা অনেক জরুরী বিষয়। দু:ঘটনা ঘটার আগে তা নিরোধ করতে হবে। ঘটে গেলে আর কিছুই করা থাকে না। নিরাপত্তার মানসিকতা একটা শক্তিশালী বিষয়। মানুষের মাঝে নিরাপত্তার সচেতনতা আনতে পারলে মানুষ তাকে নিরাপদ রাখার কৌশল ঠিকই বের করে নিবে।
নির্মানকর্মী কেন হেলমেট পড়বে। এটা বুঝানো জটিল বিষয়। কেন গ্লাভস পড়বে তাও তাকে বুঝানো কঠিন। কারণ এগুলো আরামদায়ক নয়। আমাদের দেশের বেশীর ভাগ নির্মাণ শ্রমিক এগুলো পড়তে চায় না। অথচ দেশের বাইরে গেলে পড়ে। কারণ ওখানে সেফটি গিয়ার না পড়ে কোন দু:ঘটনায় পড়লে বীমা কোম্পানি কোন ক্ষতিপূরণ দিবে না। তাই সবাই সেফটি গিয়ার পরে। কষ্ট বা অস্বস্থি এমন একটা বিষয় মানুষ যথেষ্ট বাধ্য না হলে মানুষ মানতে চায় না। আমার এক আত্মীয়ের কাছে শুনেছিলাম, তার ক্যাবল টিভির ব্যবসা আছে। তার ক্যাবল টিভির এক শ্রমিক বিদ্যুতের পিলারের উপর দিয়ে লাইন নিতে গিয়ে তার ছুড়ে মেরেছে; ইনসুলিন ছাড়া বিদ্যুতের সরবরাহের লাইনের উপর দিয়ে। সেই সরবরাহের লাইনে ডিশের তার আটকিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে ছেলেটা মারা যায়। আমার আত্মীয়টি তার পরিবারের কথা চিন্তা করে যথেষ্ট পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেয়। আমি আমার আত্মীয়কে বললাম, আপনি একটা ব্যবস্থা এরূপ করতে পারেন; আপনার মাঠের টেকনিশিয়ানরা হেলমেট, গ্লাভস ও বুট পড়ে কাজ করবে। উঁচু জায়গায় উঠলে তাকে হুক ব্যবহার করে আটকিয়ে নিবে। এটা দলিলে লিখয়ে নিতে পারবেন। তাতে আপনার লাভ হবে। আপনার কর্মীদের সেফটি আপনি নিশ্চিত করতে পারবেন। মৃত্যুর মত ভয়াবহ ক্ষতি থেকে বাঁচানো যাবে। আর কর্মী দলিল লেখার কারণে কষ্ট হলেও আপনার সেফটি গিয়ার ব্যবহার করবে।
পরিশেষে বলব, শারীরিক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অনেক অনেক রিস্ক বা বিপদ আছে। এটার জন্য সর্বদা প্রস্তুতি লাগবে। সেটা কষ্টকর হলেও তা চালিয়ে যেতে হবে।

Thursday, October 11, 2018

বাংলাদেশের নারী ও বাই-সাইক্যাল


ঢাকা শহরে এক বছরের উপরে হল চাকুরীর সুবাদে পোস্টিং আছি। এই এক বছরে অনেক নারীকে গাড়ী ও মটর সাইক্যাল চালাতে দেখেছি। কিন্তু নারী বাই-সাইক্যাল চালনাকারী খুব বেশী একটা দেখা যায় না। আমি একবছর ঢাকায় থাকার পর ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় এলাকায় একজন নারী বাই-সাইক্যাল চালনাকারী দেখেছি। মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। একটা ব্যাক প্যাক পিঠে নিয়ে বাই-সাইক্যাল চালাচ্ছে। যথেষ্ট ভাল চালায় তা বলা যাবে না। কারণ ট্রাফিক সিগন্যালে বাই-সাইক্যাল থেকে নেমে পড়ে সাইক্যাল হাতে দাড়াতে দেখলাম। আবার জ্যাম ক্লিয়ার হওয়ার পর সতর্কতার সাথে পার হল। আমার মনে আছে ২০১৬ সালে আমি বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা আইসিপি দিয়ে ভারতের কলিকাতায় ভাড়া করা কারে ভ্রমণ করি। ভারতের গেদে সীমান্ত থেকে কলিকাতার যাওয়ার পথে রাস্তায় একটা কমন দৃশ্য দেখেছি তা হল মেয়েদের বাই-সাইক্যাল চালানো। আমাদের দেশে গ্রামে এনজিওতে চাকুরীরত মেয়েরা সাইক্যাল চালায় এটা কমন একটা দৃশ্য। ছাত্রীদের বিশেষ করে ঢাকা শহরে ছাত্রীদের বাই-সাইক্যাল চালাতে দেখা যায় না। এর কারণ অনিরাপদ সড়ক হতে পারে। সাইক্যাল লেন না থাকাও একটা কারণ হতে পারে।
আমার অনেক লেখনী‌তে স্মার্ট সিটি নি‌য়ে কথা বলেছি। স্মার্ট সিটিতে হাটা ও বাই সাইক্যা‌লের ব্যবস্থা থাকবে। সমস্ত রাস্তার পাশে ফুটপাত আর রাস্তার মাঝে বাই-সাইক্যাল লেন বেশ জরুরী। কারণ রিক্সা বাই-সাইক্যাল হল পরিবেশ বান্ধব যান। অনেক দেশে রিক্সা নেই। আমাদের দেশে আছে। রিক্সা থাকুন। অনেক গবেষণা ক‌রে রিক্সা গু‌লো ব্রেক সিস্টেম ও নিরাপত্তা বাড়ালে চলবে। রিক্সা ও বাই-সাইকেলের জন্য আলাদা লেন থাকলে কখ‌নোও  ব্যাটারি চালিত রিক্সার বা সাধারণ রিক্সার নিরাপত্তা ঝুঁকি কমে যাবে বলে মনে করা যায়।
আমা‌দের দেশের প্রায় নব্বই শতাংশ মে‌য়ে রিক্সা, স্কুটার ও ওবার ইত্যাদিতে যাতায়ত ক‌রে; ধাক্কাধাক্কি পরিহার করা ও নিরাপত্তার জন্য তা ক‌রে থা‌কে। এখন রিক্সা ও বাই সাইক্যা‌লের জন্য আলাদা লেন কর‌তে পারলে সবচেয়ে লাভবান করা যাবে মেয়েদের। এতে অনেক মেয়েই বাই-সাইক্যাল চালা‌তে সাহস পাবে। মে‌য়েরা অধিক পরিমাণ বাই-সাইক্যাল চালালে সমাজের কিছু লাভ হবে। সবচেয়ে বড় লাভ হবে মেয়েদের শরীরে কায়িক পরিশ্রম করার সক্ষমতা বাড়বে। তারা কম রোগাক্রান্ত হবে। সক্ষম মা হবে। উন্নত স্বাস্থ্যের সন্তান জন্ম দি‌তে পারবে। তা‌দের মাঝে মূখা‌পেক্ষতা কমে যাবে। তারা আত্মনির্ভরশীল  হবে। ভার‌তে ২০১৬ সালের মার্চ মাসের দি‌কে ভারত ভ্রমণের সময় অনেকের কছে শুনেছিলাম  পশ্চিম বংগের মুখ্যমন্ত্রী প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের পড়া‌শোনা উন্নয়নের জন্য সাড়ে তিন লাখ বাই-সাইক্যাল স্কুলের ছাত্রী‌দের মাঝে বিতরণ করেন। মেয়েদের বাই-সাইক্যাল ছেলেদের থেকে বেশী পরিমাণে চালা‌নো প্রয়োজন। এটা এমন একটা ট্রেনিং যা কিনা একটা নারী‌কে তার সম্ভ্রম রক্ষা ক‌রে পুরুষের স্পর্শ ছাড়া যাতায়ত নিশ্চিত করবে। বাসে ও অন্যান্য গণ প‌রিবহ‌নের যাতায়‌তে নারী‌দের নামা উঠার পথে ও ভিড়ের ধাক্কায় পুরুষের সাথে ধাক্কা যুদ্ধ পড়‌তে হয়। তা নারীর জন্য ও সকলের জন্য বিব্রতকর। তাই পরিবেশ বান্ধব বাই-সাইক্যা‌লে নারী‌কে অভ্যস্থ কর‌তে পারলে নারী হ‌য়ে উঠবে অনেক অনেক বেশী আত্মপ্রত্যয়ী ও ক্ষমতাধর।
গ্রামের রাস্তা ঘাট অনেক বেশী দু‌রে দূরে। সেখানে ছাত্রী‌দের ছোট বয়স থেকে বাই-সাইক্যাল দেয়াটা প্রয়োজন। গ্রামের স্কুল কলেজ অনেক দূরে দূরে। সেখানে গনপ‌রিবহন তেমন নেই। ছাত্রীরা অনেক দূরের রাস্তা হেঁটে পার হয়। অনেক সময় ব্যয়‌ হয় ও শারীরিক চাপ যায়। বাই-সাইক্যাল তা‌দের স্কুল ও কলেজে আসা যাওয়ার শারীরিক চাপ কমা‌তে পারবে। পড়া‌শোনায় তারা আরো এগিয়ে আন‌তে পারবে।
বাংলাদেশের গ্রামে অনেক স্থানে মেয়েদের স্বতঃস্ফূর্ত বাই-সাইক্যাল চালু থাকলেও অনেক স্থানে চালু নাই।  সরকার ও অনেক সংস্থা গ্রামের মেয়েদের বাই-সাইক্যাল অনুদান দিতে পারেন। পিতামাতা মেয়েদের বাই-সাইক্যাল চালনায় উতসা‌হিত কর‌তে পারেন। সামর্থবান বাবা মায়েদের মেয়েদের অবশ্য বাই-সাইক্যাল কিনে দি‌তে পারেন ও উতসা‌হিত কর‌তে পারেন।
মে‌য়েরা পর্দায়‌ থে‌কেও বাই-সাইক্যাল চালা‌তে পা‌রে যেভাবে সৌ‌দি মে‌য়েরা হিজাব পড়ে অলিম্পিকে যোগদান ক‌রে।
পরিশেষে আশা থাকবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সাথে মে‌য়ে আরো বাই-সাইক্যাল চালাবে ও সক্ষমতা অর্জন করবে।

Thursday, October 4, 2018

গৃহস্থলীর ইলেক্ট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ক্রয়ের বিপরীতে সেবা ক্রয়


আমি একটা স্বর্ণের দোকানে স্ত্রীর জন্য স্বর্ণ কেনার সময় সেখানকার স্বর্ণকার বললেন; আপনি যে স্বর্ণের জিনিষটি কিনলেন তা যত বছর পরেই হোক কাগজটা নিয়ে আসবেন, আমরা তখনকার দামে ওজন করে ১০% বাদ দিয়ে আপনার কাছ থেকে কিনে নিব। শুনতে খুব ভাল মনে হল। যদিও অত লাভজনক ডিল না। কারণ এখন তিনি নিচ্ছেন আমার কাছ থেকে ২২ ক্যারেট সোনার দাম। আমার থেকে পুনরায় ক্রয় করার সময় তিনি দিবেন অর্ধেক স্বর্ণের দাম যা কিনা তাদের ভাষায় সনাতনী সোনার বা পুরাতন সোনার দাম। যা কিনা প্রায় অর্ধেক দাম। তারপর ১০% বাদ দিবে। অবশ্য ভাল ডিল নয়। তবুও আমরা অনেকেই তাতে সন্তুষ্ট হব। ধরুন আপনি স্বর্ণের ডিজাইন বদল করতে চাচ্ছেন। তখন প্রয়োজনে লস দিয়ে হলেও আপনি নতুন ডিজাইনের সামগ্রী কিনতে পারছেন। মন্দের ভাল।
এখন আপনি ধরুন টিভি কিনেছেন। আপনি চাচ্ছেন পাঁচ বছর পর মডেল চেঞ্জ করতে। এখন আপনাকে প্রায় পানির দামে টিভিটি বিক্রি করতে হবে। তারপর নতুন কিনতে হবে। এখন যদি এমন সিস্টেম থাকে, ধরুন আপনার টিভিটি ১০ বছর ব্যবহার করার পর তা আপনি ২০০০ টাকায় বা সর্বনিন্ম একটা দাম ইচ্ছে করলে যে কোম্পানির কাছ থেকে কিনেছেন তাদের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। আর ধরুন আপনি টিভিটি ৫ বছর পর টিভিটি বদল করতে চাইলেন টিভিটির পাঁচ বছর ব্যবহারের জন্য অর্ধেক দাম বাদ দিলেন, যে দাম থাকবে তা নতুন কেনা টিভির সাথে মূল্য অ্যাডজাস্ট করলেন। তাহলে পুরাতন টিভির কি হবে। এটা অর্ধেক দামে রিকন্ডিশান মাল হিসাবে শো রুমে বিক্রি করবে। এই শর্তে যে টিভিটি অবশিষ্ট পাঁচ বছর না চললে হয় ব্যবহারকারী বা ক্রেতা ফেরত দিতে পারবেন বা নতুন বা পুরাতনের সাথে বদল করে নিতে পারবেন। এটা করলে কেমন হয়? আমরা যে কোন ইলেকট্রিক সামগ্রী কিনলে প্রথমে টেনশনে থাকি যে, এই সামগ্রীটি কিনে সেটি নির্ধারিত সময় চালাতে পারব কিনা না। তার আগেই নষ্ট হবে কিনা। কোন জিনিষ কিনলাম কয়েকদিন পর আর ভাল লাগছে না। অথচ এই টিভিটি অন্য কারো জন্য কাজের হতে পারে। একটা কথা প্রচলিত আছে, শো রুম থেকে কোন পণ্য বাইরে বেরুলে তার মূল্য অর্ধেক হয়ে যায়। এই জায়গাটিতে ক্রেতার কোন স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না। ক্রেতা সব সময় ভয়ে থাকে আমি ইলেকট্রিক বা ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রীটি কিনে বিক্রয়োত্তর সেবা পাব কিনা। বাস্তবতা হল কেউই বিক্রয়োত্তর সেবা পায় না। কারণ শো রুম বা দোকানীরা কোন না কোন বাহানায় ঘুরাতে থাকবে। তার চেয়ে এটা ভাল নয় কি সমস্ত প্রোডাক্টের একটা আয়ু ধরা থাকবে। আবার প্রোডাক্টের একটা সর্বন্নিম দাম ধরা থাকবে। যা কিনা পণ্যটির ভাঙ্গারি দাম বলা যেতে পারে অর্থাৎ এই দামটি ক্রেতা মাল ক্রয়ের অনেক বছর পরও দ্রব্যটি রিকন্ডিশন ফেরত দিলে মূল্যটা ফেরত পাবেন। আপনি ১০ বছর আয়ুর টিভির ১৫ বছর দেখার জন্য দোকানে ফেরত আনলেন। আপনাকে নতুন টিভি দেয়া হল এবং নতুন টিভির মূল্য হতে পুরাতন টিবির সর্বন্নিম দামটি( মনে করি ২০০০ টাকা) বাদ দিয়ে আপনার নতুন টিভির দামটি সাশ্রয় করা হল। আমরা অনেকেই আছি যারা চাই আমাদের পুরাতন সামগ্রীটি সরিয়ে নতুনটি রাখতে। অনেক ক্ষেত্রের পুরাতন সামগ্রীর দাম কেউ বলে না বা বিক্রি করা যায় না। তখন তা ই-বর্জ্য হয় বা কাউকে দান করতে হয়। ভাঙ্গারি হিসাবে অতি নগণ্য মূল্যে ক্রয় করা যাবে।
আমরা টিভি, ফ্রিজ, এসি ও হাউজ হোল্ড সামগ্রী ক্রয় করি। ব্যবহার করি। কিন্তু আমরা সব সময় ভয়ে থাকি আমার কেনা দামী দ্রব্যটি নষ্ট হলে এটি ওয়ারেন্টি হয়ত ঠিকভাবে পাব না। আবার অনেক টাকা খরচ করে নতুন সামগ্রী কিনতে হয়। কষ্টকর অভিঞ্জতা। আমি আপনাদের এতক্ষণ আলোচনা পর নতুন ব্যবসায়িক ধারনা তুলে ধরছি। তা হল একজন ক্রেতা যে কোন সামগ্রী নষ্ট হওয়ায় বা অন্য কোন কারণে ফেরত দিতে চাইলে সে তা ফেরত দিয়ে নতুন আইটেম নিতে পারবে। পুরাতন সামগ্রীর যত বছর ওটার আয়ু অনুযায়ী বকেয়া আছে সেটার বেনিফিট তাকে দেয়া হবে। অনেকে বলবেন, তাহলে ফেরত আসা পুরাতন সামগ্রীতে তো শো রুম ভর্তি হবে তার কি হবে। তবে যথাযথ ভাবে পুরাতন সামগ্রী বিক্রয় করতে পারার একটা কালচার শো রুমে চালু করা সম্ভব।
এভাবে রিপ্লেসমেন্ট সেবা দিয়ে ইলেকট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রীর কালচার চালু করলে মানুষ অনেক অনেক উপকার পাবেন। এই বিজনেস মডেলটি অনেকেই চিন্তা করতে পারেন। এই ধরনের বিজনেস মডেল পরিবেশের জন্য অনেক উপকারে আসবে কারণ সমস্ত ইলেকট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রীর টেকসই ও সর্বোচ্চ ব্যবহার হবে।

Wednesday, September 26, 2018

ডাক্তার ও সি‌রি‌য়াল

আমার বড় ছেলে মাথা ব্যথার সমস্যায় ভুগছে। আমার বেশ কয়েকজন রিলেটিভ বিশেষ একজন ডাক্তারের কথা বললেন। আমি অবশ্য জানি ডাক্তারের সি‌রি‌য়াল যে দেয় সে টাকার বিনিময়ে সি‌রি‌য়াল এদিক সেদিক ক‌রে। ডাক্তার ফি নেয় ১০০০ টাকা আর সি‌রি‌য়ালধারী নেয় ১০০০ টাকা বা তারও বেশী। ডাক্তাররা জানে কিনা আমি জানি না। হয়ত জানে। হয়ত জানে না। ৫ম গ্রেডের একজন সরকারী কর্মকর্তা হ‌য়ে একজন ডিপুটি সেক্রেটারী(ডিএস) মাসে পায় হয়ত ১ লক্ষ টাকার আশে পাশে। যদি ডাক্তারের সিরিয়াল দেয়ার লোক‌টি একেক রোগীর কাছ থেকে নেয় ১০০০ টাকা ক‌রে। তবে ডাক্তার যদি প্রতিদিন ১০ জন রোগী দেখে আর ৪ জন থেকে প্রতিদিন ৪০০০ টাকা নি‌তে পা‌রে, তবে মাসে অনায়াসে পেয়ে যায় একজন ডিএস-এর সমান বেতন বা তার বেশী। পড়া‌শোনা জানা/নাজানা মেট্রিক পাশ টাইপ একজন কমি‌য়ে ফেল‌তে পারছে লক্ষাধিক টাকার উপর উপার্জন। কত সহজ। মেট্রিক পাশ একজন কেবলমাত্র ভাল ডাক্তারের সাথে থাকার কারণে কত সহজে টাকা বানাচ্ছ‌ে। অথচ অনেক এম‌বি‌বিএস ডাক্তার রোগী দেখেও তা পাচ্ছ‌ে না। ডাক্তাররা কি সিরিয়াল ব্যবসায় আছে। আমার জানা নেই। না থাকাটাই স্বাভাবিক। আমি অনেকের কাছে শুনেছি আমা‌দের দেশের ডাক্তার‌দের সি‌রি‌য়াল পাওয়ার জন্য অনেকদিন অপেক্ষা কর‌তে হয়। আমা‌কে সি‌রি‌য়ালওয়ালা বলল, আপনি স্বাভাবিক সি‌রি‌য়ালে গেলে আপনি সিরিয়াল পাবেন প্রায় তিন মাস পড়ে। সে আমা‌কে বলল, আপনি নাম লেখান যখন কেউ সিরিয়াল ক্যান‌সেল করবে, তখন আপনা‌কে সি‌রি‌য়াল দেয়া যাবে। সুন্দর প্রস্তাব। যেহেতু সেনাবাহিনীর লোক। আমার কাছে তাই সিরিয়াল আগা‌নোর জন্য টাকা চাইল না। আমি পরিচয় না দিলে হয়ত সিরিয়াল ম্যান টাকার বিনিময়ে সিরিয়াল আগা‌নোর প্রস্তাব দিত।
পৃথিবীর অনেক দেশে স্বাস্থ্যসেবা অনেক ভাল। যেমন কানাডায় খুব ভাল। অপরদিকে আমেরিকায় বাংলাদেশের মত চরম অরাজগতা রয়েছে স্বাস্থ্য সেবায়। অথচ ভার‌তে যারা রোগী দেখা‌তে যায় তারা ভারতের ডাক্তার‌দের অনেক প্রশংসা ক‌রে। ডাক্তাররা ও সিরিয়াল ধারীরা এত হয়রানী ক‌রে না। আমা‌দের দেশের ডাক্তাররা অনেকেই অনেক ফি নেয় কিন্তু রোগী‌কে পাঁচটি মিনিটও ঠিকভাবে দেয় না। অমুক ডাক্তারের সিরিয়াল পে‌তে তিন মাস অপেক্ষা কর‌তে হয়। এটা হল আরেক ধরনের ভাঁওতাবাজি। আপনার সি‌রি‌য়াল তিন মাস প‌রে খাতায় লিখবে হয়তবা কিন্তু এর মধ্যে কয়েক হাজার রোগী ঘুষের বিনিময়ে রোগী পার হবে। বাংলাদেশে কোন ডাক্তার তা‌দের সিরিয়াল ডিজিটাল করেছে বলে আমার জানা নাই। অথচ চাইলে তারা তা কর‌তে পারেন সহজেই। প্রয়োজ‌নে রোগী কিছু টাকা ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশনের জন্য ব্যয় কর‌তে পা‌রে সহজেই। রোগীরা অন লা‌ইনে সহজেই দেখ‌তে পারবে তার সি‌রি‌য়াল কত চলছে। ‌এতে রোগী‌দের বিপুল প‌রিমান হয়রানী বন্ধ করা যাবে। সরকারের প্রয়োজ‌নে সিরিয়েল বাণিজ্য ও রোগী হয়রানী বন্ধ করার জন্য ডিজিটাল সিরিয়াল সিস্টেম চালু করা। আমা‌দের দেশের শতকরা ৯৯% ডাক্তার এই ডিজিটাল সিরিয়াল মান‌তে চাইবে না। কারণ তা‌দের ভয় ইনকাম ট্যাক্স জেনে যাবে তা‌দের ইনকামের পরিমাণ।
রাষ্ট্রে বিচারের ঊর্ধ্বে কাউ‌কে ছেঁড়ে দেওয়া উচিত নয়। স্বাস্থ্যখাতে একটা ভয়ংকর অরাজগতা চলছে। এটা‌কে রুখ‌তে হবে। আমি ডাক্তারের প্রতিষ্ঠানের ডাইরেক্টরকে ধরলাম। তিনি আমা‌কে দুইদিন প‌রে একটা সিরিয়াল দিল। অথচ সিরিয়াল ম্যান বলেছিল, প্রায় ১০০ দিন পর। আমি নিশ্চিত এটাই প্রকৃত সিরিয়াল। যেটা ওই সেন্টারের ডাইরেক্টর আমা‌কে দিল। বাকীট‌ি গল্প ও প্রতারণা। এই  প্রতারণা ক‌রে সিরিয়াল ম্যানরা মানুষের পকেট থেকে টাকা খসায়। বাংলাদেশের সাংবাদিকদের অনেকেই ডাক্তার‌দের বিষ‌য়ে লেখে না। কারণ প্রত্যেকে নিজের নিরাপত্তার বিষয় চিন্তা ক‌রে। ভাবে হয়ত প‌রে ডাক্তাররা বয়কট করে বস‌বে। আর সেই‌ সাংবাদিকের বিনা চিকিৎসায় মর‌তে হবে।
তবে ডাক্তার‌দের ইনকাম ট্যাক্স কমিয়ে হলেও তা‌দেরকে অনলাইন সি‌রিয়ালের মাধ্যমে আনাটা সম‌য়ের দাবী। একজন রোগীর রো‌গের সমাধানটা পাওয়া অতি জরুরী। অথচ তা‌কে কিনা তিন মাস অপেক্ষা কর‌তে হবে। অথচ আদ‌তে তিন মাসের কোন সিরিয়াল কিন্তু নাই। কারণ এটার কোন স্বচ্ছতার প্রমাণ নেই। তিন মাস পরের একটা তারিখ রেজিস্টারে লিখে আপনা‌কে ধরিয়ে দিল। এটার দ্রুত সমাধান অতি জরুরি। ডিজিটাল বাংলাদেশের সাথে ডাক্তারি সিরিয়াল ডিজিটাল না হলে সরকারের দায়বদ্ধতা থেকে যাবে। পরিশেষে সুশৃঙ্খল ডাক্তারি সিরিয়াল হয়ত আমরা পাব, যখন মানুষের মধ্যে বি‌বেকবোধ বিকশিত হবে।


Wednesday, September 19, 2018

বাংলাদেশে টিভি চ্যানেলের কৃষি অনুষ্ঠান


বাংলাদেশের একজন ইউএনডিপি প্রতিনিধির সাথে মন্ত্রণালয়ের একটা মিটিং এ পরিচিত হই। সে বিভিন্ন দেশের শান্তি মিশনে কাজ করেছিল। আমার শান্তি মিশনে অভিজ্ঞতা থাকায় আমার সাথে তার বেশ গল্প জমে যায়। তিনি বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ বছর যাবত আছেন। নাইজেরিয়ান অরিজিন আমেরিকান। আমাকে এমন একটা কথা বলল, আমার গর্বে বুক ফুলে গেল। সে বলল, তোমাদের বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের আমি খুব পছন্দ করি। তারা যে দেশেই ক্যাম্প করে; কিচেন গার্ডেন করে। তোমাদের অনেক শান্তিরক্ষী ক্যাম্পে গিয়ে আমি তোমাদের ক্যাম্পে উৎপাদিত শাক সব্জি খেয়েছি। এমনকি তোমাদের ক্যাম্পের শাক সবজি উৎপাদন দেখে আফ্রিকার স্থানীয় অলসরাও উজ্জীবিত হয়ে শাক সবজি উৎপাদন শুরু করেছে।
আমার প্রয়াত বাবা ৮৬ বছর বয়সে মারা যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত গ্রামের বাড়ীতে ও চাকুরীকালীন অবস্থায় সরকারী কোয়ার্টারের আশে পাশে বাগান করতেন। তিনি টেলিভিশনে কৃষির কোন অনুষ্ঠান বাদ দিতেন না। তিনি তার জীবনে খুব কমই শাক সবজি বাজার থেকে কিনেছেন। চাকুরীকালীন সময়ে তিনি গ্রামে গেলে প্রায়ই মানুষকে কিচেন গার্ডেন ও গাছ লাগানোর জন্য উৎসাহিত করতেন। আমি তাই জেনিটিক্যালি কৃষিকে খুব পছন্দ করি। টেলিভিশনের কৃষি অনুষ্ঠানগুলি আমার খুব প্রিয় অনুষ্ঠান ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে কৃষি অনুষ্ঠান মনে করার ব্যবস্থা ও ঘড়িতে অ্যালার্ম দেয়ার মত কাজ করতাম।
আজ কৃষি অনুষ্ঠান দেখা কত সহজ। ইউটিউবে রয়েছে হাজার হাজার ভিডিও। নতুন পুরাতন অনেক অনেক কৃষির উপর টিভির অনুষ্ঠান ইউটিউবে রয়েছে। সাইখ সিরাজের হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অন্যতম একটি অনুষ্ঠান। তিনি দেশে বিদেশে কৃষি বিপ্লব সৃষ্টি করেছেন। সচেতনতা সৃষ্টি করেছেন। প্রবাসীর কাছে তার কৃষির নানা বিষয় ছড়িয়ে যাচ্ছে। প্রায় সব চ্যানেলই কৃষির উপর অনেক অনেক অনুষ্ঠান তৈরি করছে আর তার টিভিতে প্রচারের পাশাপাশি ইউটিউবে দিয়ে দিচ্ছে। এগুলোর অনেক অনেক হিটও হচ্ছে। অনেকই জানেন কোন ইউটিউব চ্যানেল এক মিলিয়ন হিট হওয়ার পর থেকে প্রতি হিটের জন্য তাই চ্যানেলগুলো টাকা পেতে থাকে। হৃদয়ে মাটি ও মানুষের হিট দেখলে ধারনা করা যায় তাদের উপার্জনও আছে অনেক।
হৃদয়ে মাটি ও মানুষ এর প্রতিটি ভিডিও কয়েক লক্ষ করে ভিউ হচ্ছে। এতে অনুষ্ঠানটির জনপ্রিয়তা কেমন তা সহজেই বুঝা যায়। আমি খুব সহজেই একটা বিষয় বলতে চাই আর তা হল "হৃদয়ে মাটি ও মানুষ" অনুষ্ঠানটি বিশাল একটি কৃষিপ্রেমী জনগোষ্ঠীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। সাইখ সিরাজ দেশে বিদেশে নানা কৃষি বিষয়ক তথ্য মানুষের কাছে তুলে ধরে মূলত: সমাজকে সবুজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করছেন। ছাদ বাগান কৃষি অনুষ্ঠানটি শহুরে মানুষের ছাদের বাগানের ব্যাপক আগ্রহ জাগিয়েছে। স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের কৃষির সাথে সম্পৃক্ত করে ভিন্ন ধর্মী একটি ধারা সৃষ্টি করেছেন। দেশের গণ্ডী পেরিয়ে প্রবাসীদের সাথে কৃষিতে কানেক্ট হয়ে এখন বাংলাদেশী কৃষি আন্তর্জাতিক সীমানায় গেছে। প্রবাসীদের প্রতিবেশীরাও কৃষিতে অভীষ্ট হচ্ছে। এতে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশীদের কৃষির একটা চমৎকার চক্র। প্রবাসীর মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি অনুপ্রেরণা বিদেশীর মাধ্যমে ছড়িয়ে যাচ্ছে। আমি প্রথমে যা বলেছি, যেভাবে ইউএন-এ বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীর কিচেন গার্ডেনের সুনাম রয়েছে, তেমনি প্রবাসীদের বাংলাদেশীর কৃষিও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যাচ্ছে। বিদেশীরাও প্রবাসী বাংলাদেশীদের বলা শুরু করবে, বাংলাদেশী গুড ইন এগ্রিকালচার এবং গুড ফাইটার এগেনইস্ট ক্লাইমেট চেঞ্জ
বাংলাদেশী জাতির জন্য কৃষিটা আজ বিশ্বব্যাপী অনেক গর্বের বিষয়। প্রেরণার বিষয়। হয়ত বাংলাদেশীরা সবুজ জাতি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে। আজ বাংলায় হাজার হাজার কৃষি ভিডিও ইউটিউবে দেখে মনে হয় কৃষির একটা রেভুলেশন চলছে। এটা বিস্তৃতি লাভ করতেই থাকবে। তা থামবার নয়। আজ ইউটিউবে কৃষির অনুষ্ঠানের হিট দেখলে বুঝা যায়, সকল ঘরে ঘরে সবাই আধুনিক কৃষির সচেতনতা বাড়াতে পেরেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাত ধরে সবুজ রেনেসাঁ আরো বেগবান হবে। তাতে কোন সন্দেহ নেই।

Thursday, September 13, 2018

গামছা বনাম টাওয়েল


২০০৭ সালের ডিসেম্বরে সামরিক ট্রেনিং এর একটা অংশ হিসাবে দুইটি প্যাকে করে নিজের সমস্ত সামগ্রী বহন করে নিয়ে যেতে হবে। কাটাতে হবে ১৫ দিন। এই প্যাকটা আবার ২৫ কি:মি: বয়ে নিয়ে জংগলে নীচে স্থাপন করা গুপ্ত আশ্রয়ে কাটাতে হবে। আবার ২৫ কি:মি হেটে সেনানিবাসে একই প্যাক নিয়ে ফেরত আসতে হবে। মেজর র‍্যাংকে কোম্পানি কমান্ডার হিসাবে সৈন্যদের সাথে আছি। তাই নিজের ব্যাগ নিজে নেয়াটা সন্মানজনক। ব্যাগ বহন ওজন কম ও আরাম দায়ক করার জন্য সমস্ত সামগ্রী ওয়ান টাইম ও মিনি প্যাক টাইপ করে নিলাম। তোয়ালে বড়সড় হয়ে যায়। এটা প্যাকের জায়গা নষ্ট করে। আবার যদি কোন কারণে প্যাকটা ভিজে যায়, তবে ভিজা তোয়ালে প্যাকে ওজন বাড়িয়ে দিবে। কোন জায়গায় আছি হঠাৎ করে স্থান ত্যাগ করলে ভিজা টাওয়েল থাকলে প্যাকের ওজন বাড়বে। মাথায় তখন বুদ্ধি আসল, তোয়ালের পরিবর্তে গামছা হলে কেমন হয়। ঝটপট মাঝারী সাইজের ইউনিফরমের সাথে ম্যাচিং রং হয়, সবুজ রংয়ের দুইটি গামছা তোয়ালে (গামছা থেকে একটু পুরু কাপড়) কিনে ফেললাম। এখন দেখলাম দুইটি গামছা আমার একটি মাঝারী সাইজের তোয়ালে থেকে পাঁচ ভাগের একভাগ জায়গা কম লাগছে। ১৫ দিন আমি চমৎকার ছিলাম। গোছল করে গা মোছার পর চট করে গামছাটা ধুয়ে দিয়ে রোদে শুকাতে দিতাম। ৩০/৬০ মিনিটের মধ্যে গামছা শুকিয়ে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী হত। অনেক অনেক কমফোর্টেবল। যখনই গোসল করছি, তখনই শুকনো পরিষ্কার গামছা দিয়ে গা মুছে তা পুনরায় ধুয়ে ভাল করে নিংড়ে শুকোতে দিচ্ছি। কত সুবিধা। মূহুর্তেই শুকিয়ে যাচ্ছে। পুনরায় আবার ধোয়া শুকনো গামছা ব্যবহার করতে পারছি । গামছা প্যাক করতে সমস্যা নেই। দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ার কারণে প্যাক নিয়ে যখন যেখানে যাচ্ছি, তখন আর ভিজা তোয়ালের মত কোন টেনশন নাই। গামছা ভিজা থাকলেও একে প্রায় অতি টাইটভাবে নিংড়ানো যায়। একদম পানি শুকিয়ে ফেলা যায়। ওজনও কমে যায়। আমার এই গামছা টেকনিক হয়ত সেনাবাহিনীর অনেকেই ব্যবহার করে। আমি ১৫ দিন অনুশীলন শেষ করে বাসায় যাওয়ার পর একই ভাবে মনের অজান্তে দুইটি গামছা ব্যবহার করে চলেছি। হঠাৎ দশ/বার দিন পর খেয়াল হল, বাসায় এসেও আমি মোলায়েম ও সুন্দর তোয়ালে ব্যবহার করছি না। আমি গোসলের পরে আমার গামছাই ব্যবহার করছি আর ধোয়া কাপড়ের সাথে গামছাগুলো ওয়াশিং এর জন্য রেখে দিচ্ছি। আমরা ছোটবেলা হয়ত অনেক কিছু পরিবারের সাথে শেয়ার করতাম। গ্লাস, তোয়ালে, প্লট ইত্যাদি। যখন নিজের পরিবার হল; তখন ধীরে ধীরে অনেক পরিবারের মত পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য আলাদা গ্লাস, প্লেট ও টাওয়েল আলাদা করতে শিখলাম। এতে পরিবারের সদস্যদের মাঝে ছোঁয়াচে রোগ গুলি কম ছড়ে। যেমন: পরিবারের এক সদস্যের স্কীন ডিজিজ আছে; একই টাওয়েল ব্যবহারের মাধ্যমে অন্য সদস্যের মাঝে ছড়তে পারে। আবার কারো ভাইরাল ফিভার হয়েছে; একই গ্লাস প্লেট ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত অন্য সদস্যদেরও ছড়াতে পারে। স্বাস্থ্যকর দিক দিয়ে কিছু কিছু ক্লোজ কন্টাক্টের সামগ্রীগুলো ওয়ান টাইম বা ব্যক্তিগত হওয়াটা অতি প্রয়োজনীয়। পুনরায় গামছার আলোচনায় ফিরে আসি। সামরিক অনুশীলন শেষে দশ দিন গামছা ব্যবহারের পর যখন টের পেলাম; পুনরায় তোয়ালে ব্যবহারে ফিরে গেলাম। গোসল শেষে তোয়ালেটিকে ধোয়ার ঝুড়িতে রাখলাম। পরেরদিনও গোসল করে তোয়ালেটি ধোয়ার ঝুড়িতে রাখলাম। এভাবে চলছিল, তিন চারদিন পর দেখলাম; তোয়ালে শুকনো নাই। বৃষ্টি হওয়ার কারণে তোয়ালে রৌদ্রে দেয়া যায়নি। আর তোয়ালেও শুকায়নি। পুনরায় গামছা ব্যবহারে ফিরে গেলাম। এভাবে গামছা/তোয়ালে ব্যবহার করতে করতে হঠাত মনে হল আমি তো আগে সপ্তাহে একবার বা দুবার তোয়ালে ধুতে দিতাম। প্রতিদিন ধোয়ার জন্য দিতাম না। এরূপ মোটা তোয়ালে প্রতিদিন ধুতে দেয়াটা ভয়ংকর ব্যাপার। আবার প্রতিদিন তোয়ালে না ধুলে ব্যবহার করতেও পারছিলাম না। কেমন যেন একটা খচ খচ মনে হত। এভাবে মোটা তোয়ালে প্রতিদিন ধোয়ার পেরেশানি বাদ দেয়ার জন্য স্থায়ীভাবে গামছা ব্যবহারে ফিরে গেলাম। গামছা প্রতিটি বেলায় গোসলের পর ধোয়া যাচ্ছে। অল্প সময়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি হলেও ফ্যানের নিচে ভাল করে নিংড়ে দিলে শুকিয়ে যাচ্ছে। এখন প্রতিটি গোসলের পর ধোয়া ফ্রেশ টাওয়েল ছাড়া গা শুকাতে পারছি না। এটা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেল। এখন দুইটা গামছা আমার সাথে সবখানে যাচ্ছে। ফাইভ স্টার/ থ্রি স্টার যে কোন হোটেল হোক না কেন নিজের গামছাই আমার ভরসা। পরিশেষে বলব, প্রতিদিন তোয়ালে ধোয়া কষ্টকর। তাই তোয়ালে যত আরামের হোক না কেন হাইজেনিক ও গোসলের পর পরিষ্কার ভাবে গা মোছার জন্য দুইটি গামছা হতে পারে আমাদের চির সাথী। গামছা তোয়ালে থেকে অনেক বেশী হাইজেনিক। এই গামছাই আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ কৃষক শ্রমিক দরিদ্র মানুষকে সুস্থ ও হাইজেনিক রাখছে।

Thursday, September 6, 2018

তৈলমুক্ত বা কম তৈলের রান্নায় এয়ার ফ্রাইয়ারের উপকারিতা


চিনি কম খেলে রক্তে চিনি কম বাড়ে। তৈল কম খেলে রক্তে তৈল কম বাড়বে। পিউরিন আছে এই ধরনের খাবার কম খেলে রক্তে ইউরিক এসিড কম বাড়বে। প্রাণীজ উৎসে কোলেস্টোরেড আছে আর তা কম খেলে রক্তে কোলেস্টোরেড কম বাড়বে। শর্করা কম খেলে মোটা হওয়ার ভয় কমে যাবে। আবার সব খেয়ে যদি অনেক অনেক বার্ন করা যায়; তবে আর চিন্তা নেই। রক্তে যাই উপাদান  থাকুক অধিক পরিশ্রম করে তা নি:শেষ করা যায়। বাঙ্গালীদের খাবারে ভাজা পোড়া খাবার বেশী থাকে। আবার ভাজা-পোড়া খাবার অধিক কায়িক পরিশ্রমী মানুষের জন্য তেমন কোন সমস্যা নয়। তবে অধিক পরিশ্রম করার যুগ কি আছে। তেমন নেই। জমির কাজ হচ্ছে মেশিনে। মালপত্র উঠানামার কাজ হচ্ছে ফগ লিফটরে। বিভিন্ন কোম্পানিতে নানা কাজ হচ্ছে রোবটে। রিক্সার মত ম্যানুয়াল কাজও আজ মোটরে চলে আসছে। যদি কায়িক পরিশ্রমের কাজ কমে যায় তবে কি ধরণের খাদ্য অভ্যাস মানুষের প্রয়োজন। তা হল ক্যালরী কম খাওয়া। চিনি ময়দালবণ এই তিনটিকে বলা হয় সাদা বিষ। এই তিনটি যত কম খাওয়া যায় তত মঙ্গল। যারা বসে বসে ডেক্সে কাজ করে তারা আজকাল সাদা বিশ কম খাওয়ার চেষ্টা করছেন। যারা পেটের সমস্যায় ভোগেন তারা বাদে খুব কম লোকজনই আছে যারা ভাজা পোড়া কম খান। আমাদের দেশে রোজায় ভাজা-পোড়ার আইটেম ছাড়া অচল। তাই ভাজা পোড়ার অভ্যাস থাকুক কিন্তু প্রয়োজন কম তৈল খাওয়া। যদি ভাজায় ৮০% বা ৯০% তৈল কম ব্যবহার হয় তবে তা হবে বেস্ট অপশন। ভাজা একই রকম থাকবে, কিন্তু তৈল খরচ কম হবে। খাদ্যে কম তৈল থাকবে তাহলে সেটা হবে বেস্ট। আমরা যারা ভাজা-পোড়া খাই; তারা কমপক্ষে  দৈনিক প্রায় পাঁচ চামচ তৈল খাই। একটি চা চামচে যদি পাঁচ গ্রাম হয় তবে আমরা ৫ গুন ৯ মোট ৪৫ ক্যালরি খাবার নিচ্ছি। তাহলে পাঁচ চামচ হলে তা হয়ে যাবে; ২২৫ ক্যালরি। এখন আমরা একই ভাজা-পোড়া খেয়ে যদি এক চামচ তৈল খাই; তবে আমরা মাত্র ৪৫ ক্যালরি নিব। ১৮০  ক্যালরী কম খাব। এই ১৮০ ক্যালরি পুড়তে আপনার প্রয়োজন হবে প্রায় এক ঘণ্টা মধ্যম গতিতে দৌড় দেয়া। যারা দৌড়াতে কম পছন্দ করেন, তারা দিনে চার চামচ তৈল কম খেতে পারেন। আমাদের মা বোন ও স্ত্রীদের রান্নায় তৈল নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও বাবুর্চিদের রান্নায় তৈল নিয়ন্ত্রণ করা একদমই যায় না। বেশী তৈল মানে খাবার বেশী উপাদেয়। অথচ তৈলের স্বাদ ও গন্ধ বা বর্ণ নেই। তবে কিভাবে তৈল উপাদেয় হবে। তৈল উপাদেয় নয়। ওয়েল ফ্রি কুকিং হয়ত যারা ভীষণ রকম রক্তের ট্রাই গ্লিসারাইড নিয়ে বিপদে আছেন তারা মেনে চলতে পারেন। আপনি ভাজা-পোড়া সবই খেলেন কিন্তু ওয়েল ফ্রি বা  অল্প তৈলে তাহলে কেমন হয়। খুব মজাদার বিষয় নয় কি? বেকিং করা একটা ভাল পদ্ধতি। এতে তৈল কম খরচ হয়। কিন্তু খাবারের ইভেন বা সমভাবে কুকিং নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব। ডুবো তৈলে ভাজা হলে ভাজা-পোড়ার সমভাবে ভাজা যায়। কিন্তু বিপদ হল অনেক তৈল খাবারে থেকে যায়। খাবারের ভাজার স্বাদের জন্য অল্প তৈলই যথেষ্ট। বাকীটাই তৈল আমরা খামোখা খাই বা খেতে বাধ্য হচ্ছি। তবে উপায় কিবাতাসে রান্না করলে কেমন হয়তৈলে না ডুবিয়ে গরম বাতাস দিয়ে রান্না করলে কেমন হয়। আমার কাছে বিষয়টা খুবই মজাদার মনে হচ্ছে আর তা হল গরম বাতাস দিয়ে রান্না করা। গরম বাতাস দিয়ে রান্না করলে রান্নাটা সমভাবে করা যায়। গরম বাতাসে খাবার যেভাবে রাখুক না কেন সমভাবে তাপটা ছড়িয়ে খাবার রান্না করতে পারে। গরম বাতাসে খাবারে তৈল থাকুক আর না থাকুক সমভাবে রান্না করা সম্ভব হয়। তাই এটা বিনা তৈলে বা অল্প তৈলে রান্না করাটা বেশ সহজ। বেশ কয়েক বছর হল বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে এয়ার ফ্রাইয়ার বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। এটিতে তৈল খরচ কমার পাশাপাশি কনভেনশনাল ওভেন থেকে সময় কম লাগে বলে বিদ্যুৎ খরচ কম। তাই এনার্জি এফিশিয়েন্টও বলা যায়। আসুন আমরা কম তৈল বা বিনা তৈলে রান্নার জন্য এয়ার ফ্রাইয়ার ব্যবহার করে স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি ভোজ্য তৈলের খরচ বাচাই। কনভেনশনাল ওভেনে বেক করার অর্ধেক সময়ে রান্না করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী করি। সার্বিক বিবেচনায় একটা বাসস্থানের জন্য এটি একটি ভাল প্রোডাক্ট।



Thursday, August 30, 2018

ভিন্নধর্মী চিকিৎসা সাওল সেন্টার


আমি দীর্ঘ চার বছর যাবত আমার লিপিড প্রোফাইল(এক ধরনের রক্ত পরীক্ষা) দেখছি। টিজি বা ট্রাই গ্লিসারাইড(চর্বি জাতীয় উপাদান) স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী। আমি ডাক্তারদের সাথে আলোচনা করে রাইস ব্রান ওয়েলঅনেক দিন থেকে খাচ্ছি। মাঝে মাঝে ঔষধ খাই। আমার ৪৮ বছর বয়সে টিজি বেশী; ভাল লক্ষণ নয়। আমি আমার বয়সী দুই বন্ধুর হার্ট ব্লক ধরা পড়ার পর ২০১৮ সালে ৬ বছর হল আমি সিগারেট ছেড়ে দিয়েছি। যারা ডেক্সে বসে বসে কাজ করে তারা মাঝে মাঝে মোটা হয়ে যায়। টিজি ও কলস্টোরেল বেড়ে যায়। এটা দ্বারা আমরা স্বাভাবিক ভাবেই হার্টে ব্লকের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাই। ওভার ওয়েটের হালকা সমস্যাটা কমাতেই পারছি না।
চায়ে চিনি খাওয়া ছেড়েছি ২০১৮ সালে প্রায় ১৫ বছর হবে। এখন কোন চা বা কফি চিনি দিয়া দিলে কেমন কেমন লাগে। আমার এই অভ্যাসটা ভীষণ উপকারে লেগেছে। আমার রক্তে সুগারের মাত্রা সর্বদাই স্বাভাবিক। আমি রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড কমানোর জন্য সমস্ত কারীতে তৈল কম খাচ্ছি। ভাজা পোড়া কম খাচ্ছি। ধূমপান ছেড়েছি। তাও স্বাভাবিকের চেয়ে হালকা ট্রাই গ্লিসারাইড রক্তে বিদ্যমান থাকছে। এই বিপর্যয় থেকে বাচার উপায় আছে কি? সবাই বলবেন, দৌড়-ঝাপ বাড়িয়ে দিন। আমি বিভিন্ন অল্টারনেটিভ তৈল খুঁজছি রক্তে ট্রাই গ্লিসারাইড কমানোর জন্য। সত্যি কঠিন কঠিন অপশন ছাড়া, কেউ কোন সহজ অপশন বলছে না। সেদিন একটা ইউটিউব ভিডিও দেখে আমার ধারণা বদলে গেল, ভারতের ডাক্তার বিমল তিনি বিনা কাটা-কাটি ও অপারেশনে হৃদরোগ সংক্রান্ত চিকিৎসা করে যাচ্ছেন। ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছেন। আমি গত ১৫ বছর চায়ে চিনি খাই না। আমার সুগার লেভেল উপরে উঠেনি।
দেখলাম ডাঃ বিমল এরূপ একটা মাত্র টিপস ফলো করে। "সাওল" বা "সাইন্স এন্ড আর্ট অব লিভিং" নামে প্রতিষ্ঠান করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। যদি ডায়াবেটিক রোগীরা কঠিন রকম লাইফ স্টাইল ফলো করে সুস্থ থাকতে পারেন। তবে হৃদরোগীরাও বিনা অপারেশনের বেচে থাকার জন্য জীবনধারণ ও খাদ্যাভ্যাসের কিছু অপশন মেনে চললেই সুস্থ থাকবে।
আমার রক্তের ট্রাই গ্লিসারাইড না কমায় আমি বেশ মনঃকষ্টে দিনানিপাত করছিলাম। অনেক রকম তৈল বদল করে খাওয়া, দৌড়-ঝাপ বাড়ানো ইত্যাদিতে সামান্যই পরিবর্তন হচ্ছিল।
ডাঃ বিমলের ইউটিউব ভিডিও থেকে প্রথম জানতে পারলাম, খাবারে তৈল একদম বন্ধ করা যায়। যে কোন তৈল খাই না কেন রক্তে টিজি বাড়বেই। তাই টিজি কমানোর উপায়ই হল সুগারের মত তৈল খাওয়া বন্ধ করা। যেভাবে আমি চাতে একদম চিনি খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি প্রায় এক যুগ। এটাও সেই রকম একটা ব্যবস্থা। আমাকে একদম তৈল খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে। সমস্ত খাবারে ডাঃ বিমল বললেন, তৈল ছাড়া কারী থেকে শুরু করে সব ধরনের রান্নাই করা সম্ভব। খারার কাবাব বা বেক করে খেলে তৈল লাগে না। এটা রান্নার থেকেও মজা। তিনি আরো বললেন। যাদের রক্তনালীতে টিজি ও কলস্টোরেলের স্তর জমে তা ব্লকের দিকে যাচ্ছে, তা তৈল না খেয়ে কমানো যাবে।  
এটা জানার পর আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে তৈল ছাড়া রেসিপি ট্রাই করলাম। দেখলাম, এটা করা সম্ভব। স্বাদ তেমন খারাপ নয়। চিনি ছাড়া চা বা কফি থেকেও তৈল ছাড়া খাবারের টেস্ট ভাল। আমি নিশ্চিত তৈল ছাড়া খেয়ে অভ্যাস করলে এক সময় তৈল ছাড়া আর মন্দ লাগবে না। তার একটা কথা তৈলে কোন স্বাদ, গন্ধ ও বর্ণ নাই। তৈল চামচ দিয়ে খেলে কোন রকম স্বাদ পাওয়া যায় না। তবে তরকারীর স্বাদ কোথা থেকে আসে। তরকারীর স্বাদ আসে মশল্লা থেকে। মশল্লাকে ভালভাবে পানিতে কষিয়ে নিলে ও সিদ্ধ করে মশল্লার কাচা গন্ধ দূর করে তার মধ্যে যে কোন সবজি সিদ্ধ করলেই হল। আমি পড়ে অবাক হয়ে লক্ষ করলাম। ইউটিউবে জিরো ওয়েলের উপর অগণিত রেসিপি আছে। আমি হিটিং ওভেন দিয়ে জিরো ওয়েল ফেঞ্চ ফ্রাই বানালাম। ছেলেরা,মেয়ে ও স্ত্রী এতই পছন্দ করল; তারা ডিমান্ড করল হলি ডে তে করতে হবে। আমি অনেক পড়াশোনায় নিশ্চিত হলাম। তৈল ছাড়া ভাজা পোড়া অনেক আইটেম তৈল ছাড়া বেকিং ছাড়া খাওয়া যায়। ভর্তায় সরিষার তৈল না মিশিয়ে বানানো যায়। তৈল ছাড়া রান্না করে খাওয়াটা হল মাইন্ড সেটঅনেকটা চিনি বিহীন চায়ের মত।
এটা প্রমাণিত চিনি ও চিনি আছে এ ধরণের খাবার না খেলে রক্ত‌ে সুগার বাড়ার কোন কারণ নেই। তেমনি  তৈল ছেড়ে দিলে রক্ত‌ে চর্ব‌ি কমবে এটা যে কেউ বিশ্বাস করবে। এরপরও কারো কলস্টোরেলের সমস্যা থাকলে সমস্ত প্রাণীজ প্রোটিন ধী‌রে ধী‌রে ত্যাগ কর‌তে হবে। কারণ সমস্ত প্রাণীজ প্রোটিনে কোলস্টোরেল আছে। এটাই স‌লিউশন। এই পদ্ধতি তা‌দের জন্য; যা‌দের টাকা কম আছে। দুই লক্ষ টাকায় রিংপড়া‌নো ও দশ লক্ষ টাকায় বাই পাস সার্জারিকরা‌নোর টাকার অভাব আছে তারা ডাঃ বিমলের পদ্ধতি অনুসরণ ক‌রে ভাল থাক‌তে পারবেন; সন্দেহ নেই। পরিশেষে বলব, আগে থেকে সতর্ক হ‌য়ে লাইফ স্টাইল চেঞ্জ করার প্রচেষ্টা আমরা সবাই ক‌রে দেখ‌তে পারি। বাকীটা সৃষ্টিকর্তার হাতে।

Friday, August 24, 2018

জীবন্ত দেয়াল


আজকাল বাউন্ডারি মাপার জন্য ডিজিটাল সিস্টেম আছে। প্রতিবেশী চাইলেই কি আমার সীমানা দখল করতে পারে। অবশ্যই না। প্রতিবেশীর সাথে সীমানা নিয়ে বিরোধ না করার জন্য সবাই প্রথমেই দেয়াল দেয়। টাকা পয়সা ভালই খরচ হয়। এই দেয়ালটা মাটি পর্যন্ত দিলে কেমন হয়। তাহলেও মাপ থাকে। বাকীটা না করলে চলে না। এখন সবাই বলবে চোর ঢুকবে। ডাকাত ঢুকবে। গরু ঢুকবে। ছাগল ঢুকবে। আসলেও তাই। ভয়াবহ সত্যি কথা। আমি গ্রিল করে দিলে কেমন হবে। মানুষ, গরু, ছাগল ঢুকতে পারবে না। এখন তাইলে একটি বিষয় বাকী থাকে তা হল প্রাইভেসী। বাইরে থেকে মানুষ দেখে ফেলবে ভিতরে কি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে গ্রিলের উপর বাঁশের বেড়া ইত্যাদি দেয়া যেতে পারে?
আমরা সীমানা মাটি পর্যন্ত দেয়াল করে সীমানাটা ঠিক করে নিতে পারি। দেয়াল না দিয়ে গ্রিল করে প্রটেকশন করতে পারি। তাহলে এখন বাকী রইল বাড়ীর প্রাইভেসী। এটা কি করে রক্ষা করা সম্ভব। এটার জন্য দেয়াল লাগবে। এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। বেড়া না দিয়ে গ্রিলের বেড়ার চারিদিকে আমরা কি করতে পারি? যাতে প্রাইভেসী রক্ষা পাবে। সেটা আর কিছুই না। আমি জানি এটা অনেকের মাথার মধ্যে চলে এসেছে। আমরা জীবন্ত গাছ ও লতা পাতা লাগিয়ে সেই প্রাইভেসী রক্ষা করতে পারি। জীবন্ত গাছের বেড়া সব ধরনের প্রটেকশন দিতে পারবে যেহেতু তার সাথে আমরা গ্রিলের পরিকল্পনা করেছি। আমাদের শহর জীবনে গাছের বড় অভাব। অক্সিজেন ফ্যাক্টরি আমাদের শহরে তৈরি করতে হবে। আপনি আপনার বাড়ীর চারদিকে দেয়াল তুলে দিলেন। কি পরিমাণ ইট গেল চিন্তা করুন। তার চেয়ে এটা ভাল নয়কি মাটি থেকে ছয় থেকে বার ইঞ্চি পর্যন্ত আপনি ইট বসান বাকীটা খোলা রাখুন। এখন চারিদিকের বাউন্ডারির উপর হালকা ঢালাই দিয়ে গ্রিল বসিয়ে দিন। সেই গ্রিলগুলির উচ্চতা আপনার নিরাপত্তা ও প্রতিবেশীর ধরনের উপর নির্ধারন হতে পারে।
এবার গ্রিলের বেড়াটা অবলম্বন করে আপনি অরনামেন্টাল লতা জাতীয় গাছ আপনার বাউন্ডারির ভিতরে দিকে লাগিয়ে দিন। তবে আপনার সাথে আপনার যে প্রতিবেশী সীমানা মানবে না তাকে দেয়াল তুলতে বলুন। সেই ক্ষেত্রে আপনি দেয়াল তোলার খরচ কমাতে পারলেন। আপনার সাথে যে প্রতিবেশী গ্রিন দেয়ালে খুশী তার সাথে আপনি গ্রীল দেয়ালে থাকলেন।
আমরা সাধারণত মেহেদী গাছ, জবা গাছ, চিকন বাঁশ গাছ, বিভিন্ন ধরনের ফুল গাছ, লতা জাতীয় শাক সবজী গাছ আমরা বেড়া হিসাবে লাগাতে পারি। ইন্টারনেটে লিভিং ফেন্স নিয়ে সার্চ দিলে গাছ আর আইডিয়ার কোন ঘাটতি হবে না। বাকী যেটা ঘাটতি থাকবে তা হল আমাদের ইচ্ছা আমরা চাই কিনা। শহরের বাড়ীগুলোর সীমানা প্রাচীর একটা প্রয়োজনীয় বিষয়। তাই প্রাইভেসী ও নিরাপত্তা রক্ষা করে গ্রিল দিয়ে তার চারিদিকে গাছ লাগানো হতে পারে ভাল সলিউশন। এটা আমাদের সবুজের মাঝে থাকতে সহায়তা করবে। চিন্তা করুন দেশে যত উপশহর ও শহর হচ্ছে তাতে আপনারা বাউন্ডারি দেয়াল না দিয়ে জীবন্ত গাছের দেয়াল করলেন। আপনি পরিবেশের বিশাল উপকার করলেন; দেয়াল তৈরির খরচ কম করলেন। প্রতিবেশীর সাথে গাছময় সবুজ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। বিষয়টি নিশ্চয়ই বেশ মজাদার হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। দেয়াল না করার জন্য আপনি ইট বা সিমেন্ট বাঁচালেন। হিসাব করে দেখুন ইট তৈরি করার জন্য মাটি পুরানো থেকে আপনি বাঁচালেন। সিমেন্ট তৈরি করতে সীমিত প্রাকৃতিক গ্যাস পুড়ানো থেকে আপনি বাঁচালেন। এভাবে কি পরিমাণ ক্ষতি থেকে বাঁচালেন তা সত্যিই পরিবেশের জন্য বিশাল অবদান।
দেশের একলক্ষ মানুষ যদি এরূপ লিভিং ফেন্স তৈরি করে দেখুন হিসাব করে বিপুল পরিমাণ ইট ও সিমেন্ট বাঁচবে। কি পরিমাণ গাছ জন্মাবে। আর কি পরিমাণ অক্সিজেন বাড়বে তা হবে অতুলনীয়। এই ধরনের বেড়ায় যে লোহা ব্যবহার করা হবে পরবর্তীতে তা রিসাইক্যাল করে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করা যাবে। দেয়াল থেকে বাড়ীর সৌন্দর্যও বাড়ানো যাবে যদি গাছগুলি পরিচর্যা করে রাখা যায়। কয়েক বছর পর পর বাড়ির দেয়াল রং করাতে হয় তা থেকে খরচ মুক্ত। দেয়াল রং করার খরচ দিয়ে লেবার রেখে গাছে পরিচর্যা করলে বাড়ীর ময়লা দেয়ালের আভিজাত্য থেকে লিভিং দেয়ালের আভিজাত্য অনেক বেড়ে যাবে। পরিশেষে বৈষয়িক উষ্ণতার বিষয়ে চিন্তা করে আমরা জীবন্ত দেয়াল বা লিভিং ফেন্স বাস্তবায়ন করতে পারি।

Wednesday, August 15, 2018

বিড়ম্বনার নাম "নিরাপত্তা"


"নিরাপত্তা" কঠিন এক‌টি বিড়ম্বনার নাম। আজকাল কোন কোম্পানীর অফিসে গেলেও রেজিস্টারে নাম লেখা, দেহ তল্লাসি, এক্স‌রে স্ক্যানিং কতই না চে‌কিং। তারপর চেক হ‌য়ে গেলে আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি মেলে। ইউটিউবে দেখলাম চাইনিজরা এমন ব্যবস্থা করেছে এক ফেস ডিটেকশন দি‌য়ে সারা শহরে ঘুরে বেড়ালে কোথায় কখন গেল সমস্ত কিছুর তথ্য তারা দি‌তে পা‌রে। হয়ত চায়নারা শুধু সন্দেহজনক‌দের বা ভিআইপিদের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করলেও এটা ব্যক্তিগত প্রাই‌ভেসীর জন্য কেমন কেমন। মাঝে মাঝে অনেকে বিতর্ক করেন, আমি কোথায় যাচ্ছি, কি করছি ;এটা আমার প্রাই‌ভেসী‌কে বিঘ্নিত করছে। প্রাই‌ভেসী নি‌য়ে আমার মতামতটা কিছুটা ভিন্ন। আমি যদি বিবাহ ব্যতীত একাধিক নারীর কাছে না যাই। তবে সমস্যা কোথায়। আমি যদি রাষ্ট্র বিরোধী বা রাজনৈতিক কাজে না যাই, তবে আমা‌কে ফ‌লো করলে সমস্যা কোথায়। যদি আমি চুরি ডাকাতি না করি, তবে ফ‌লো করলে সমস্যা কি। শুধু মাত্র নিজের বেড রুমে ঢোকাটা ফ‌লো করলে সমস্যা নাই। বেডরুম আর বাথরুমে ক্যামেরা না থাকলেই হল।
অনেকে বলেন আমি কোথায় যাচ্ছি, কেন ফ‌লো করা হবে। আমি প্রশ্ন করব ফ‌লো করলে সমস্যা কি? আমি তো আকাম কর‌ছিনা। তাই মনে হয় সারভায়‌লেন্স ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালদের জন্য সমস্যা নেই। আমার কাছে মনে হয় যারাই প্রাইভেসীর কথা বলে তা‌দের মাঝে কোন না কোন দুনম্বরী চিন্তা আছে। তারাই ক্ষেপে যায়।
এখন আমি সারভা‌লে‌ন্সের ভাল দি‌কে কথা বলব। আমার চারিদিকে ক্যামেরা থাকলে আমি নিারপদ থাকব। আমা‌কে কেউ মারলে বা খারাপ উদ্দেশ্যে ফ‌লো করলে তারা ধরা পরবে। আমা‌কে বদ‌লোক ক্ষতি করার চেস্টা করলে আইন শৃঙ্খলার বাহিনীর সদস্যরা কম ক্ষতি করবে। আমি সব সময় ক্যামেরার মধ্যে থাকব বলে নিজের খারাপ রিপুগু‌লি নিয়ন্ত্রণ কর‌তে পারব।
আইন শৃঙ্খলার মানুষ অসৎ হলে আবার বিপদ। একদিন একজন বলেছিল, মোবাইল জি‌পিএস নির্ভর অ্যাপ ৩৬০ ডিগ্রী খুব খারাপ জিনিষ। আপনি কোথায় কোথায় যাচ্ছেন আপনার বন্ধু বান্ধবরা জেনে যাচ্ছ‌ে। আমার মতমত হল, এটা কত ভাল ব্যবস্থা। চিন্তা ক‌রে দেখুন, আপনার হালনাগাদ তথ্য সবাই পাচ্ছে। শুধুমাত্র অবৈধ স্থানে গেলেই আপনার প্রাই‌ভেসী নি‌য়ে প্রশ্ন। বাথরুম ও বেডরু‌মে ক্যামেরা ছাড়া প্রাইভেসীর আর কোন সমস্যা হয়ত নিরাপত্তা এক্সপার্টরা বল‌তে পারবে না। প্রাই‌ভেসী নি‌য়ে যারা প্রশ্ন তো‌লেন তারা মূলত: সন্মা‌নিত। তারা চান না তিনি কোথায় যান কেউ জানুক। তিনি কার কার সাথে কথা বলেন, দেখা করেন, সেটা অন্যরা জানুক। অন্যরা জানলে তা‌তে তার ইমেজগত ক্ষতি হবে। বিষয়টা সেরূপ।
আমরা শহুরেরা ঘরের বাইরে লুঙ্গি পর‌তে চাই না। কারণ কে কি ভাববে। যদি কেউ ক্ষেত ভেবে বসে। অথচ আমা‌দের বিশ্ব ক্রিকেটার মাশরা‌ফি বিন মূর্তজাকে একটা ছবিতে দেখলাম, লুঙ্গি প‌রে গ্রামের ঈদগাহে নামাজ পড়‌তে গিয়েছে। তার ভক্ত‌দের নিশ্চয়ই ভাল লেগেছে। সাধারণ মানুষের মত জীবন যাপন।
অথচ তিনি জানেন, অগণিত ক্যামেরা তা‌কে ফ‌লো করছে। তাই লুঙ্গি নি‌য়ে কোন সং‌কোচ নাই। প্রাই‌ভেসী নি‌য়ে কোন সং‌কোচ নাই। প্রাই‌ভেসী বেডরুম আর বাথরুমের বাইরে চিন্তা করার প্র‌য়োজন নেই। বাথরুম আর হো‌টে‌লের বেডরু‌মে ক্যামেরা রাখে পর্ণ ব্যবসার উপাদান সংগ্রহ কারার জন্য এটা বিপদ। এটা নি‌য়ে সতর্ক থাকাটা জরুরী। নিজে সৎ থাকলে অন্য কোন ক্যামেরা নি‌য়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তবে আমার কাছে মনে হয় রেজিস্টার, কম্পিউটার এন্ট্রি, মেটাল ডিটেক্টর ও এক্স‌রে মেশিন এত শত চেক আপ অপেক্ষা ফেইস ডিটেকশন ও আরএফ আইডি সিস্টেম ভাল। ওগু‌লো নিরাপত্তার নামে হয়রানী ব্যতীত বেশী কিছু নয়। অনেকে প্রতিষ্ঠানের ইনকাম ভাল। অহেতুক  সিকিউরিটি রেখে নিজেদের ইজ্জত বাড়া‌নোর অপচেষ্টায় ব্যস্ত। গেঞ্জির আবার বুক পকেট। অনেক প্রতিষ্ঠান আবার টাকার জো‌রে কিছু এক্স মিলিটারি ও পুলিশ দি‌য়ে এমন ভাব করেছে, যে নিজে নিজেই নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা বানিয়েছে। হোয়া‌টে ফান আন্ডার দা সান। নিরাপত্তার নামে ফানি কাজগু‌লি কমা‌নো প্র‌য়োজন। সো কল সিকিউরিটির কাজ না ক‌রি‌য়ে ফসল বা মাছ উৎপাদন করা অধিক জরুরী। তাই প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে যেখানে যত বেশী নিরাপত্তা সেখানে ট্যাক্স ফাঁকি ও অন্যান্য দুর্নীতি তত বেশী এটা আমার ধারনা।
যে সকল বেসরকারি বাড়ীর নিরাপত্তা ও প্রাই‌ভেসী যত বেশী কঠিন সেখানে তত বেশী কামলীলা, মদলীলা ও কালাধন চর্চা তত বেশী। আমার ব্যক্তিগত ধারনা। পরিশেষে বলব সৎ মানুষ দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সারভায়‌লেন্স ও অন্যান্য নিরাপত্তায় প্রাইভেসীর দোহাই দেয়াটা যুক্তিহীন। প্রতিটা প্রতিষ্ঠান নিজ নিরাপত্তার অহেতুক খরচ না ক‌রে সবার নিরাপত্তায় সরকার‌কে সহযোগীতা করাটা জরুরী।

Thursday, August 9, 2018

সব কিছু সফেদ

সৌ‌দি আরবের জেদ্দার হো‌টে‌লে আমার স্ত্রী আমার কাছে জান‌তে চায় আচ্ছা হো‌টে‌লে সাদা বালিশ, সাদা বিছানার চাদর ও সাদা টাও‌য়েল দেয়া হয় কেন? আমার যে উত্তরটা মাথায় আসল তা হল, হয়ত অ্যারোবিকরা হয়ত সাদা চাদর পছন্দ ক‌রে। প‌রে কলিকাতার হো‌টে‌লে যখন দেখলাম সাদা বালিশ, চাদর ও টাও‌য়েল পেলামতখন মনে হয় এটা একটা প্রাকটিস। তারপর বাংলাদেশের রি‌সোর্ট‌ে দেখলাম সাদার অনুশীলন।
সাদা চাদর অনুশীলন ক্যাডেট কলেজের হো‌স্টে‌লে ছিল। মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ছিল। হাসপাতালে আছে। তাহলে এত সুন্দর রঙ্গিন রঙ্গিন বিছানার চাদর গ্রহণীয় না হওয়ার কারণটা আমার জানা নেই। এটা হয়ত হো‌টেল ও‌য়েস্টিন, রে‌ডিসন ও টিউ‌লিপ চেইন হো‌টেল এবং রি‌সোর্ট গুলির এই সাদার অনুশীলনের কারণ বল‌তে পারবে।
আমার কাছে মনে হয় হো‌টেল কর্তৃপক্ষ‌ের ম্যানেজমেন্টে সুবিধা। প্রথম সুবিধা হল রঙ্গিন চাদর কেনা ও পছন্দের সমস্যা আছে। দ্বিতীয় কারণ, রঙ্গিন চাদর ঘন ঘন ধোয়াধু‌য়ি করলে রং ফি‌কে হ‌য়ে যায়। সাদা কাপড় বার বার ধোয়া যায়। রং সাদা থেকে পানির জন্য লালচে হ‌য়ে যায়। তবে উঁচু মানের ডিটার‌জেন ব্যবহার ক‌রে সাদা কাপড় বেশীদিন ব্যবহার করা যায়। অন্য‌দি‌কে কড়া ডিটার‌জেন বরং রঙ্গিন কাপড়‌কে তিন/চার ধোয়ায়ও ফ্যাকাসে ক‌রে দেয়। অপরদিকে সাদা কাপড় ৫০ ধোয়াও রং ফ্যাকাসে হওয়ার সমস্যা নেই।এখন আসি ব্যবহারকারীর কি সমস্যা। বাসা বাড়ীর বিছানার চাদর যেহেতু একই মানুষ ব্যবহার ক‌রে সেহেতু সপ্তাহে একবার বা ময়লা হওয়ার উপর নির্ভর ক‌রে ধোয়া যায়। হালকা অপরিষ্কারে তেমন সমস্যা হয় না। বিভিন্ন রেস্ট হাউজ ও নিন্মমা‌নের হো‌টে‌লে রঙ্গিন বিছানার চাদর, বালিশ ও তোয়া‌লে দেখা যায়। 
এখন আসি ব্যবহারকারীর জন্য স্ব‌স্থির জায়গায়। ধবধবে সাদা বালিশ, চাদর ও টাও‌য়েলে আছে কেমন যেন পবিত্র ভাব। আনহাই‌জে‌নিক ও অপ‌রিচ্ছন্নভা‌বে হো‌টেলওয়ালারা উপস্থাপন কর‌তে পারবে না। সাদা কাপড় ভাল ভাবে না ধুলে ধরা প‌রে যাবে। তাই ধোয়া ও সফেদ বিছানার চাদর, বালিশ ও টাও‌য়েল এক নম্বর পছন্দ হবে এটা নিশ্চিত।
আমি বাংলাদেশ ও ভারতের অনেক অফিসে ও গাড়ীতে সাদা কাপড়ের ব্যবহার দেখেছি। সোফার উপরে সাদা কাভার ব্যবহার করতে দেখেছি। আমি ভারতের বিভিন্ন সরকারী অফিসের সোফা ও চেয়ারে সাদা কাপড় ব্যবহার করতে দেখেছি। তাদের গাড়ীতে সাদা তোয়ালের মত কাপড় ব্যবহার করতে দেখেছি। সাদা শুভ্রতা ও পরিষ্কার থাকার প্রতীক।
তাহলে দেখা যাচ্ছে হোটেল রুমের সব কিছু সাদা হউক সবাই চায়। সবাই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন চায়। আমি আমার স্ত্রীকে প্রস্তাব করলাম। সব কিছু হোয়াইট করলে কেমন হয়। বলল তাহলে কাপড় ধুতে ধুতে মারা পড়া লাগবে। সাদাকে সবাই ভয় পায়, পরিষ্কার রাখার জন্য।
আমি একটা মজার প্রস্তাব করছি। আমরা নানা অফিসে দেখি এক বস লাল রংয়ের পর্দা লাগিয়েছে। আরেক বস এসে সবুজ পর্দা লাগিয়েছে। আরেক বস নীল পর্দা লাগিয়েছে। এভাবে কারণে ও অকারণে সরকারী অনেক টাকার অপচয় হয়। সরকারী একটা নিয়ম করলে কেমন হয় সরকারী রেস্ট হাউজের পর্দা, সোফার কাভার,বিছানার চাদর, বালিশের কাভার ও তোয়ালে সব সাদা বা সাদাতুল্য রং হবে। এতে মনে হয় একটু ঘন ঘন কাপড় পাল্টাতে হতে পারে। বেশী বেশী ধুতে হবে। তবে আমি নিশ্চিত এতে সরকারী অপচয় রক্ষা হবে। সাদা রং পরিষ্কার রাখা খুবই সমস্যা। তবে এটা ঠিক সাদার মাঝে আছে পবিত্রতা ও স্বচ্ছতা। সাদায় সব কিছু বুঝা যায়। আর দেশের সরকারী সংস্থার সবকিছু পবিত্র করার জন্য সাদার প্রচলন অনেক জরুরী। অনেকে আমার আইডিয়া ফানি ভাবতে পারেন। কিন্তু একটু চিন্তা করে দেখেন, সরকারী সমস্ত স্থাপনায় যেখানেই কাপড়ের ব্যবহার আছে সেখানেই সাদা কাপড় ব্যবহার করেন। শুভ্রতা সরকারী ব্রান্ড হবে। আর স্বচ্ছতা আসবে সবকিছুতে। পরিশেষে বলব শুভ্র, সুন্দর ও পবিত্র হোক আমাদের চারপাশ।


Wednesday, August 1, 2018

তরুন সমাজের জাগরণ ও আমাদের পরিবহন ব্যবস্থা

বাচ্চারা পবিত্র। তার সততার প্রতীক। শুভ্রতার প্রতীক। তারা অপরাধী নয়। তারা দেশ‌কে ভালবাসে। তারা ইমোশনাল। তারা গড়‌তে জানে। তারা ভাংগ‌বে কেন?
তারা কঠিন ক‌ঠোর ইমোশনাল তাই তো তা‌দের কেউ কেউ ছোট খাট ঘটনায় রাগ ক‌রে সুইসাইড ক‌রে ফেলে। এরা হল তরুণ বা তারুণ্য। তা‌দের এই শক্তি  আটকা‌নোর জন্য নয়। তা‌দের শক্তির গতি অফুরন্ত। তা‌দের গতিতে তারা দেশ গড়ার কারিগর হবে। তারা আমা‌দের ঘুণে ধরা সমাজ‌কে চেনাবে। সমাজ‌কে ঢেলে সাজাবে। তা‌দের দুর্দান্ত শক্তিকে আমরা সমাজের ক্ষত‌কে দূর করার অনু‌প্রেরণায় কাজে লাগা‌তে পারি। তারা আমা‌দের চো‌খে আঙ্গুল দি‌য়ে দেখা‌তে পা‌রে দেখ তোমরা ভুল করছ। তোমরা সমাজ‌কে ঠিক কর। তোমরা কোন ড্রাইভার‌কে লাইসেন্স ছাড়া গাড়ী চালা‌তে দিও না। তোমরা ফিটনেস ছাড়া কোন গাড়ী চালা‌তে দিও না।
সত্যিই তো চিন্তা ক‌রে দেখি, আমরা কেন লাইসেন্স ছাড়া গাড়ী চালা‌তে দিচ্ছি। তরুণ বাচ্চারা গাড়ীর লাইসেন্স চেক করছে। ফিটনেস চেক করছে। ওদের কাছ থেকে উত্তরটা এরূপ তোমরা পারছ না। কিন্তু আমরা পারছি তাদের ব্যাট‌নিং কর‌তে। আমরা পারছি তা‌দের শর্ট গানের ফায়ার কর‌তে। আমরা তা‌দের বলছি না বাবারা তোমরা রাস্তা দেখিয়েছ। তোমরা এখন পড়তে যাও।
আমি যখন ছোট ছিলাম ক্লাস সিক্স পর্যন্ত বাবার পিটুনি খেয়েছি। আমরা যখন স্কুলে গিয়েছি তখন অনেক মারের মধ্যে ছিলাম। এখন কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার ধরন পালটাচ্ছে। স্কুলের পিটাপিটি উঠে গেছে। ভায়ালেন্স কমে গেছে। এটা ভাল। বাচ্চাদের যুক্তি দিয়ে বুঝাতে হয়। মার ধরে কোন সমাধান এখন বাচ্চাদের জন্য নয়।
ছোটবেলা একটা গল্প শুনেছিলাম, এক লোকের বাসায় ল্যান্ড ফোনে কল এসেছে, বাচ্চা ফোন ধরেছে। “বাবা তোমাকে চাচ্ছেন”। ছেলের বাবা বলছেন, "বলে দাও আমি বাসায় নেই"। বাচ্চা যথারীতি বলল, আংকেল বাবা বলেছেন, তিনি বাসায় নেই?
বাচ্চারা সাধারণত মিথ্যা বলে না। এরা শুভ্র ও পরিষ্কার। ধীরে ধীরে সামাজিক ব্যবস্থা তাদের পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত করে।
 ২৯ জুলাই ২০১৮ দুইজন ছাত্র/ছাত্রী বাসা চাপার নিহত ঘটনা প্রথমবার ঘটেছে তা নয়। একাধিকবার ঘটেছে। আমরা সজাগ হইনি। আমাদের বাচ্চারা এখন বলছে, যথেষ্ট হয়েছে। এবার থাম। মৃত্যুর মিছিল বন্ধ কর। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি ৯০ ভাগ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রনহীন গাড়ী চালানোর জন্য। গাড়ী চালানোটা ছেলে খেলা বা খামখেয়ালীপনা নয়। রেসের কিছু নয়। নিয়ন্ত্রিত গতিতে এক ঘণ্টা পরে যাওয়াটা ভাল। রেস দেয়ার কিছু নাই। প্রতিটি মানুষ যেখানে নির্ধারিত সময়ে হাজির হওয়ার কথা, যাতায়তের দ্বিগুণ সময়ে হাতে নিয়ে তাকে বের হতে বলা প্রয়োজন। রেস কেন হবে। ভ্রমন হবে সুখকর ও রিলাক্স।
গন পরিবহন চলবে নিয়ন্ত্রিত গতিতে। এত গতির প্রয়োজন আসছে কেন। কেন বা রাস্তায় ফরমুলা ওয়ান রেস।
ফিটনেস  ছাড়া গাড়ী চলবে না। লাইসেন্স ছাড়া ড্রাইভার গাড়ী চালাবে না। এটাই বড় কথা। এটাই ছোট ছোট বাচ্চারা করে দেখাচ্ছে। সমাজে তারা একটা ঝাঁকুনি দিল। এই ঝাঁকুনিতে সমাজটা যদি ঠিক হয়? বাংলাদেশের কোটি বাচ্চা আজ জানল ফিটনেস ও লাইসেন্স ছাড়া গাড়ী চালানো যায় না। তারা এটার জন্য রাস্তায় নামল। এরা যখন বড় হবে। পুলিশে যাবে। বিআরটিএতে যাবে। গাড়ী চালাবে। আমি আশাবাদী তারা এগুলো মনে রাখবে। তাদের হাত দিয়ে সমাজের পরিবর্তন আসবে। আমাকে যদি বলা হয় জল, স্থল ও আকাশ পথে সবচেয়ে অনিরাপদ যাতায়ত কোনটি। আমি নিশ্চিত আপনি বলবেন, আকাশ পথ। কারণ প্লেন ক্রাশ হলে মানুষ বাঁচে না। অথচ অবাক করার বিষয় হল, সবচেয়ে নিরাপদ  মাধ্যম হল আকাশ পথ। কারণ এতে নেয়া হয় সর্বোচ্চ সতর্কতা। আমরা স্থল পথকে আরো বেশী নিরাপদ করতে পারি। তেমন কঠিন কাজ বাচ্চারাই আমাদের শিখিয়েছে।
প্রথমত: ফিটনেস বিহীনগাড়ী রাস্তায় উঠবে না। দ্বিতীয়ত: লাইসেন্স ছাড়া কেউ গাড়ী চালাবে না। তৃতীয়ত: সকল গাড়ী নিয়ন্ত্রিত গতিতে চলবে। এগুলো নিশ্চিত করা কি কঠিন কাজ? অবশ্যই না। পরিবহন মালিক ও চালকদের সচেতন করতে হবে। আইন অমান্যকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
আমি আশাবাদী আজকে পরিবহন সেক্টরে অনিয়ম দূর কারার জন্য বাচ্চাদের এই জাগরণ তারা বড় হলে ভুলবে না। আমরাও নতুন বাংলাদেশ পাব।

Wednesday, July 25, 2018

চাকুরীর পরবর্তী নতুন যুদ্ধ


আমাদের সেনা অফিসাররা ৫০ বছর বয়সে রিটায়ার করার পর একটু চেষ্টা করলেই মোটামু‌টি একটা চাকুরী পেয়ে যায়। চাকুরী নি‌য়ে যদি তারা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে বা ইউএন এ জব ম্যানেজ করতে পারে তবে তা সম্মানজনক। কিন্তু বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীতে ভাল বেতন আছে কিন্তু কিং কমিশন থেকে রিটায়ার করার পর কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লজ্জাজনক ব্যবহার পেতে হয়। সম্মান নিয়ে বাকী দিনগুলোতে বাচার জন্য নিজে কিছু করা ছাড়া উপায় নেই। তাছাড়া ৫০ বছর বয়ষ পর্যন্ত দেশ রক্ষার কষ্টকর ট্রেনিং এর পর অন্য মানুষের জন্য জব ক্রিয়েট করার জন্য কাজ করাটাই মনে হয় সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। কাজ দিয়ে অনেকগুলো মানুষ ও অনেকগুলো পরিবারের মুখে হাসি ফুটানোটা অনেক বেশী জরুরী।
চাকুরী খুব নিরাপদ। শান্তি আছে। ব্যবসায় সব সময়েই রিস্ক। পেনশনের অর্ধেক মাসিক টাকায় বাড়ী ভাড়া চলবে আর বাকী টাকায় সঞ্চয়পত্রের লাভ দিয়ে পরিবারের বেসিক খরচ চালানো যাবে। আমি একটা হিসাবে দেখেছি পেনশনের মাসিক টাকা ও পেনশনের এককালীন টাকায় সঞ্চয়পত্র কিনে যা আয় পাওয়া যাবে তা দ্বারা সংসারের খরচ চলে যাবে। কিন্তু সমস্যা বাধে গাড়ী ও ড্রাইভার রাখতে গেলে ওই টাকায় হবে না। মাসে কমপক্ষে ৪০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ইনকাম করতে হবে। সমস্যা হল পরিবার সরকারীভাবে গাড়ী ও ড্রাইভারে অভ্যস্ত। তাই ৫০ বছর বয়সে রিটায়ার করার পর বাচ্চারা থাকে ছোট। অন্য চাকুরেরা যখন ৫৯/৬০/৬৫ বছরে রিটায়ার করতে হয় তখন আসলে তাদের আর কোন চিন্তা করতে হয় না। ছেলে মেয়ে প্রতিষ্ঠিত থাকে। আমরা সেনারা র‍্যাংক না পেলে ৫০ বছরে রিটায়ার করতে হয়। আমাদের নতুন নতুন কাজ নিয়ে ও নতুন ব্যবসা নিয়ে ভাবতে হয়।
ড. ইউনুস সারা জীবন সারা পৃথিবীর মানুষকে বলছেন, উদ্যোক্তা হতে। চাকুরী না করতে। জব সীকার না হয়ে জব গীভার হতে। কারণ চাকুরীর গ্রোথ সীমাবদ্ধ কিন্তু উদ্যোক্তার গ্রোথ অসীম। তিনি আরো বলেছেন যে কোন উদ্যোগ ছোট আকারে শুরু করতে হবে। যেন উদ্যোগ ফেল করলে বেশী লস না হয়। অন্য কিছুতে সুইচ করা যায়। আবার অনেকে বলেছেন যে কোন কাজ ১০ জন করলে ৮ জন ফেল করবে। আবার ১০টি কাজ শুরু করলে ৮টি ফেল করলে ২টি দাড়িয়ে যাবে। আবার ফেল করা কাজগুলো ছোট স্কেলে শুরু করতে হবে যেন ফেল করলে ক্ষতি কম হয়।

রিটায়ার করার পর আমার ধারনায় নীচের কাজগু‌লি নি‌য়ে ভাগ্য গড়ার কাজ শুরু করব।
১। বই  পাবলিকেশনের কাজ, এডিটিং, প্রচ্ছদ তৈরি ও প্রুফ রিডিং( এ পর্যন্ত ১৭টি বই করার অভিঞ্জতা হ‌য়ে‌ছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে আরো ৫০টি বই পাবলিকেশনের অভিঞ্জতা হ‌য়ে যাবে)।
২। লেখালেখি করা( এক‌টি বই বের করেছি আগামী আরো সাত‌টি বই বের করার জন্য লেখা প্রস্তুত)
৩। অনলাইন পত্রিকা বের করা। নিজের ব্লক পরিচালনা ক‌রে অভিঞ্জতা হচ্ছে সাথে আউট সোর্স‌ের কাজ করা।
৪। ডাচ বা হল্যান্ডের মত পরীক্ষাবিহীন প্রাইমারী স্কুল চালু করা।
৫। ছাঁদে বাণিজ্যিক বাগান, নার্সারি,দেশী হাস,মুরগী ও কবুতর পালন।
৬। ওবারের প্রাইভেট কার পরিচালনা।
৭। নিজের জায়গার উপর নিজ উদ্যোগে ফ্লাট তৈরি।
৮। পরিচিতদের মধ্যে বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন মালামাল সরবরাহ।
৯। ড্রামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক মাছ চাষ।
১০। গ্রামের জমিতে বনায়ন করা বা প্রার্মা কালচার করা।
১১। সীমিত আকা‌রে শেয়ার মার্কেটে বি‌নি‌য়োগ।
১২। ইউটিউবে ম‌টি‌ভেশনাল ভিডিও চালা‌নো।
১৩। অনলাইন কেনা বেচার সাইট চালু করা বা অনলাইন মার্কেটিং।
১৪। ইলেক্ট্রনিক সামগ্রীর শো রুম।
১৫। সোলার ও উইন্ড এনার্জি হার‌বে‌স্টিং এর কোন প্রজেক্ট করা।
উপরের ১৫ কাজের তালিকা করলাম। এর মধ্যে অনেক কাজ অসফল হতে হবে। অনেক কাজে লস হবে।  ১৫ টি কাজের মধ্যে দুই/তিন‌টি ক্লিক করলেই চলবে। তবে কিছু টাকা লস কিছু  প্রজেক্টে হবেই।