Pages

Thursday, January 31, 2019

ব্যক্তি উদ্যোগে গ্রামের চিকিৎসা


আমার বাবা ২০১৮ সালের পহেলা মে মারা গেলেন। গ্রাম থেকে ডাক্তার পর্যন্ত উনা‌কে নেয়া যায়নি। আমার বাবা ১৯৯১ সালে ৫৭ বছরে রিটায়ার করার পর দীর্ঘ ২৭ বছর গ্রামে কাটালেন। গ্রামের চিকিতসার জন্য তার ছিল গ্রামের ডাক্তার। সাথে অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর।   ২৭ বছরে ওনা‌কে দুইবার অ্যাম্বুলেন্সে শহরের হাসপাতালে আন‌তে হয়। তৃতীয়বার হাসপাতালে আনার পথে মারা যান। হায়াত মওত আল্লাহর হা‌তে। এখনও মা গ্রামে আছেন। তা‌কে দেখ‌তে গ্রামে যাই। শহরের মানুষ রিটায়ার করার পর গ্রামে যাবে এটা সহজে হয় না। সবাই সন্তান‌দের সাথে ভাল যোগাযো‌গের জন্য শেষ বয়সে শহরে থাক‌তে চায়। চিকিৎসার জন্য শহরে থাক‌তে চায়। গ্রামে থাকার মূল চ্যালেঞ্জ হল চিকিৎসা ও ভাল রোড কা‌নেক‌টি‌ভি‌টি। বর্তমানে গ্রামের বাজা‌রে উন্নত জীবন ধারণ করার সব কিছু পাওয়া যায়। টি‌ভি ফ্রিজ এখন গ্রামের সব বাজা‌রে পাওয়া যায়। বাকী আইটেম বাদই দিলাম। মেশিনে তৈরি কফি গ্রামের সব বাজা‌রে আছে।
চিকিৎসা সেবায় গ্রাম আজও দুর্বল। কমিউনিটি ক্লি‌নিকগু‌লো খুবই ভাল কাজ করছে। তবে আরো অগ্রগতি প্রয়োজন। প্রতিটি গ্রামে একজন ক‌রে এম‌বি‌বিএস ডাক্তার সম‌য়ের দাবী। কমিউনিটি ক্লিনিকে মাঝে মাঝে উপজেলা থেকে ডাক্তার আসে তবে পো‌স্টেড নয়। এটা ঠিক না। পো‌স্টেড ডাক্তার অবশ্যই প্রয়োজন।
আমি গ্রামে গেলে দেখি গ্রামের বাজার জমজমাট। স্কুলগু‌লো চলছে। কমিউনিটি ক্লি‌নিকগু‌লো চলছে। শহরের মত ব্যস্ত না হলেও কাজের মধ্যে সবাই আছে। গ্রামের বাতাস পরিষ্কার। ফল ফসলে ভেজাল কম। টাটকা। জীবন ধারণ শহরের মত জটিল নয়। মানুষে মানুষে যোগা‌যোগ ভাল। সবার শরীর স্বাস্থ্য ভাল। বিপদ একটাই, তা হল; দ্রুত চিকিৎসা। মোবাইল ও ইন্টারনেট তথ্যের অভাব ঘুচিয়েছে। তবে ডাক্তারের সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজন আছে। দেশের পল্লী চিকিৎসকরা আজও অনেক বড় অবদান রাখছে। কমিউনিটি ক্লিনিকে মাঝে মাঝে উপজেলা বা শহর থেকে ডাক্তার আসার শিডিউল থা‌কে। উপজেলায় প্রা‌ধিকৃত ডাক্তাররা নানা প্রতিকূলতায় উপজেলায় বেশীর ভাগই থাক‌তে পা‌রে না। এই যখন বাস্তবতা, তখন গ্রামে অন্তত ২৪ ঘন্টা এম‌বি‌বিএস ডাক্তার প্রাপ্তির ব্যবস্থা কি? ভাল চিকিৎসা না থাকলে অনেকেই  গ্রামে থাকবে না। আমার জানা ম‌তে আমার কিছু আত্মীয় আছে যারা কুমিল্লা শহরে চাকুরী ক‌রে কিন্তু অফিস শেষে গ্রামে ফি‌রে আসে। এ ধরনের গ্রামমূখী মানুষ‌দের জন্য চিকিৎসা সেবাটা অনেক অনেক বেশী জরুরী।
গ্রামের রাস্তা ঘাঁটের জন্য যে কোন রোগী গ্রামের যে কোন প্রান্ত হ‌তে প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে উপজেলা শহরে নেয়া যায়। জ্যামের শহর ঢাকা‌তে একটা রোগী নিকটবর্তী হাসপাতালে আস‌তে কোথাও কোথাও এক ঘণ্টার উপর লেগে যায়। এখানে শহর আর গ্রামের পার্থক্য ঘুচেছে। সমস্যা হল রোগী আনা হল। ঠিক আছে। এখন উপজেলায় যদি সর্বদা ডাক্তার না থা‌কে তাহলেই বিপদ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যথেষ্ট ডাক্তার থাকলেও ২৪ ঘণ্টার উপস্থিতির ডাক্তার কম। রোগী আসলে জেলা শহরে নি‌তে হয়।
পুনরায় আমার মা‌য়ের বাস্তবতায় ফি‌রে আসি। বাবাকে সময়মত হাসপাতালে না নেয়ার ব্যথাটা আজও আছে। তাই মা‌কে নি‌য়ে অ্যাম্বুলেন্স ও নিকটবর্তী হাসপাতালের আগাম কিছু পরিকল্পনা ক‌রে রাখি। কাছাকাছি অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর ও ডাক্তারের নম্বরটা রাখাটা জরুরী। উপজেলা হাসপাতালে জরুরী রোগীর জন্য ডাক্তার পাব সেই বিশ্বাস আমার মত অনেকেরই নেই। তাই বেসরকারি ডাক্তার খোজার পালা। কোথায় পাই গ্রামে থাকা এম‌বি‌বিএস ডাক্তার। লোক লাগালাম। আমার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পেয়ে গেলাম, ২৪ ঘণ্টা পরিবারসহ অবস্থানকারী এম‌বি‌বিএস ডাক্তার। আরো খুশী হলাম সপ্তা‌হে একদিন ক‌রে বিভিন্ন স্পেশালিষ্ট ডাক্তার আসেন। ভিশন হাসপাতাল একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান। হাসপাতালের এম‌ডির সাথে কথা বললাম। শুনলাম চমৎকার উদ্যোগের কথা। এম‌ডি ভদ্রলোক সাইপ্রাস ছিলেন। অনেক বছর থাকার পর দেশে ফি‌রে আসেন। নিজের মত ব্যবসা শুরু করেন। উপজেলায় বাড়িঘর তৈরি করেন। উপজেলায় থাক‌তে থাক‌তে তার মনে হল, উপজেলায় সুপার মার্কেট হ‌য়ে‌ছে। আরো অনেক সেবা এসেছে। কিন্তু  ২৪ ঘণ্টা এম‌বি‌বিএস ডাক্তার নাই। সর্বক্ষ‌নিক এম‌বি‌বিএস ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে ছোট আকা‌রে একটা হাসপাতাল করলেন। আবার দেখলেন, ডাক্তারের শুধু থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করলে হচ্ছে না। বেতন ডাবল না দিলে গ্রামে থাকছে না। তাই করলেন। ডাক্তার রোগী পাক আর না পাক, বেতন শহরের প্রাইভেট হাসপাতালের চে‌য়ে ডাবল। কন্ডিশন একটাই ২৪ ঘণ্টা থাকবে। ছুটি গেলে ২৪ ঘণ্টার আর একজন এম‌বি‌বিএস ডাক্তার প্রতিস্থাপন ক‌রে যাবেন।
এই  মহতী কাজের জন্য আমার এলাকার সেই উদ্যোক্তার জন্য আমি গর্ব‌িত।
আমার কাছে মনে হয় শহর থেকে ডাবল বেতন দি‌য়ে একই ভাবে গ্রামে গ্রামে এম‌বি‌বিএস ডাক্তার নিয়োগ দেয়ার মত সামর্থ্য অনেক গ্রামের অনেক সম্পদশালী ব্যক্তিদের আছে। অথবা চাঁদা দি‌য়ে সমবায়ের মাধ্যমে গ্রামের লোক‌েরা এম‌বি‌বিএস ডাক্তারের ব্যবস্থা কর‌তে পারেন।

Wednesday, January 16, 2019

মিনি ও মাইক্রো ফ্লাট

একটা মুরগীর বিচরনের জন্য কমপক্ষে এক বর্গমিটার জায়গা লাগে। মুরগীর সুস্থ স্বাস্থ‍্যের জন্য নাকি তিন বর্গ মিটার জায়গা প্রয়োজন। এভাবে পশু বিজ্ঞানীরা পশুর জন্য জায়গা বের করেছেন। কিন্তু আশরাফুল মাখলুকাতের থাকার জন্য নিদিষ্ট জায়গা বের করা গেছে কিনা জানি না। জেলখানার প্রতিটি অপরাধীর জন্য হয়ত বর্গ মিটার জায়গা নির্ধারন আছে। মানু‌ষের জন্য কি আছে। একটা পরিবারের জন্য হয়ত আছে। স্বামী ও স্ত্রীর জন্য এক রুম। ছেলে মেয়ের বয়সভেদে দুইজনে এক রুম বা প্রত্যেকের আলাদা রুম, বাবা ও মা সাথে থাকলে তাদের জন্য এক রুম। গাড়ীর ড্রাইভার বা কাজের লোক থাকলে তাদের জন্য এক রুম। মেহমান আসলে তাদের জন্য এক রুম। বসার, পারিবারিক মিটিং ও টিভি দেখার জন্য এক রুম। রান্না ও ডাইনিং এর জন্য প্রয়োজনীয় রুম। দেখা যাচ্ছে যেন তেন ভাবেই চার/পাঁচজন সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের জন্য ১০০০/১২০০ স্কয়ার ফিটের বাসা লেগে যায়।
যারা চাকুরীরত বা সরকারী বাসায় থাকেন তখন পরিবারের জন্য একটা বাসার মাপ বা প্যাটার্ন দাড়িয়ে যায়। তখন মাইন্ড সেট হয়ে যায় আমার ২২০০ বা ২৫০০ স্বয়ার ফিটের বাসা লাগবে।
বাসার সাথে অনেক সরকারী কর্মকর্তাকে সরকার কিছু লোক দেন যারা তাদের বাসস্থান রক্ষনাবেক্ষনে কাজে লাগে। মোটামুটি চাকুরী জীবনের প্রায় পু‌রোটা সময় সরকারী বাসায় থাকতে থাকতে আ‌মি নিজে কোন বাড়ী করতে পা‌রি‌নি। তার উপর ফ্লাট কেনার আইডিয়া বাদ দিয়েছি। কারন কোটি টাকার ফ্লাটে এক লক্ষ টাকাও ভাড়া পাওয়া যায় না। তার চেয়ে কোথাও বিনিয়োগ করে সেটা দিয়ে বাসা ভাড়া করাটা অনেক বেশী কার্যকর। তাই আমার চিন্তায় চাকুরী শেষে পেনশনের এককালীন টাকায় বাড়ী নয় বরং ভাড়ায় থাকব। এর মধ্যে আমার স্ত্রী একটা কন্ডিশান দিয়ে দিল সেটা হল ভাড়া বাড়ীটি হতে হবে ছোট। কারন কাজের লোক পাওয়া যায় না। কাজের লোক ছাড়া চলতে হবে। তখনই আমার মাথায় আসল মিনি ও  মাইক্রো ফ্লাটের ধারনা।
‌মি‌নি বা মাই‌ক্রো ফ্লাট ধারনাটা অ‌নেক দে‌শে প্রচ‌লিত আ‌ছে। ইউ‌রো‌প ও জাপা‌নে ছোট ফ্লা‌টের ধারনা পাওয়া যায়। বেড ফোল্ড করে রাখা। ডাই‌নিং টেবিল ফোল্ড করে রাখা ইত্যা‌দি নানা ব্যবস্থায় স্পেস ম্যা‌নেজমেন্ট করা যায়।
একটা শহর ধী‌রে ধী‌রে উপ‌রের দি‌কে বাড়‌ছে। মানুষ বাড়‌ছে। আমার মানু‌ষের সক্ষমতা বাড়‌লে উন্নত ও হাই‌জে‌নিক গৃহের চা‌হিদাও বাড়‌ছে। অপর‌দি‌কে সাধারন খে‌টে খাওয়া মানু‌ষের জন্য প্র‌য়োজন ছোট ছোট ফ্লাট বা মিনি ফ্লাট।
বর্তমা‌নে স্পে‌সের দাম বেশী। রক্ষনা‌বেক্ষন খরচ বেশী। স্পেস ম্যা‌নেজ‌মেন্ট অ‌নেক অ‌নেক ‌বেশী প্র‌য়োজনীয় বিষয়। দুইজন মানুষ খেয়াল ক‌রে দেখুন ২৫০/৩০০ বর্গফুট ভালভা‌বে প্র‌তি‌দিন প‌রিষ্কার ও সুন্দর ক‌রে রাখ‌তে পা‌রে। এর বেশী হ‌লে আ‌রো মানুষ প্র‌য়োজন। শহ‌রের স্বামী ও স্ত্রী ছোট প‌রিবারগু‌লো সা‌থে ছোট বাচ্চা নি‌য়ে কম স্পে‌সে থাকার চর্চা করা যে‌তে পা‌রে। ইন্টার‌নেট বা ইউ‌টিউ‌বে এধর‌নের হাজার হাজার ভি‌ডিও আ‌ছে। যেখা‌নে নানা ফোল্ড‌িং আই‌ডিয়া পাওয়া যায়।
‌ছোট স্পে‌সে প‌রিষ্কার কর‌তে কম প‌রিশ্রম লা‌গে। ছোট বাসা মা‌নে ছোট বাসা নয়। আম‌রা চাই‌লে একবার সোফা পে‌তে লি‌ভিং রুম বানালাম। একবার ডাইনিং টে‌বিল‌ ফে‌লে ডাই‌নিং রুম। একবার পড়‌ার টে‌বিল ফে‌লে পড়ার রুম। আবার বিছানা পে‌তে শোয়ার রুম হল। আই‌ডিয়া‌টি হল আমরা যখন যে রকম রুম চাই তা পাব। শুধু ফার্ন‌িচার নাড়াচড়া ক‌রে অ্যাডজাস্ট‌মেন্ট। আর এই  অ্যাডজাস্ট‌মেন্টটাও সহ‌জে করা যায়। ফার্ন‌িচারগু‌লো নাড়াচাড়া ক‌রেই তা করা যায়। বড় বড় খাট, টে‌বিল ও অনান্য অ্যাডজাস্ট‌মেন্ট অ‌নেক সহ‌জে করা যায়। একজন মে‌য়ে মানুষের দ্বারাও সাধারন টে‌নে/‌ঠে‌লে প‌রিবর্তন গু‌লো করা সম্ভব। ইউ‌টিউব দেখেও ম‌নে হয়, অ‌নে‌কেই এ ধর‌নের ফার্ন‌িচার বানা‌তে পার‌বে। বাংলা‌দে‌শের স্কয়ার ফি‌টের এখ‌নো অ‌নেক দাম। হয়ত অ‌নেক তাড়াতা‌রি ফোল্ড‌িং ফার্ন‌িচার নি‌য়‌ে নানা রকম মি‌নি বা মাই‌ক্রো ফ্লাট‌ের আই‌ডিয়া চালু হবে এবং মানুষ তা ব্যবহা‌রে উদ্ভুদ্ধ হ‌বে।

Wednesday, January 9, 2019

সরকারী অফিসের ইন্টিরিয়র ডেকোরেশন ও অপচয়


আজকাল নানা সরকারী অফিসে ছা‌দের উপর এক গাদা কার্ড বোর্ড ও নানা লাইট ব্যবহার ক‌রে চলছে ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশন। এতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয়। এগুলোর কি আদৌ কোন প্রয়োজন আছে? মো‌টেই নেই। সুন্দর ঝকঝকে ছাদ আছে। এটা পছন্দ হচ্ছে না। এক গাদা কাঠ ও বোর্ড ব্যবহার ক‌রে দেয়া হচ্ছে ফলস সিলিং। যদি মূল সিলিং খারাপ থা‌কে বা টিন‌শেড স্থাপনা হয়, তবে হয়ত ফলস সি‌লিংএর ব্যবহার মানা যায়। কিন্তু সুন্দর তকত‌কে সিলিং থাক‌তে বাহারি লাইটিং করা ইত্যাদি কারণে ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশন চলছে। মজার বিষয় খেয়াল করবেন; অফিসের ইন্টোরিয়র ডেকোরেশনের পিছনে লক্ষাধিক টাকা খরচ করেছে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ কর্মচারী‌দের বসার জায়গা ও টয়লেট অত্যন্ত খারাপ অবস্থা। আমার কাছে মনে হয়, ইন্টোরিয়র ডেকোরেশনে এত এত টাকা পয়সা খরচ না ক‌রে সরকারী অফিসের সাধারণ কর্মচারী‌দের টয়লেট, বসার স্থান ও কাজের পরিবেশ উন্নত করাটা  জরুরী। কনফারেন্স রুম ইন্টোরিয়র ডেকোরেশন ছাড়া সাদামাটা, পরিষ্কার, ঝকঝকে ও পরিপাটি হলে ইন্টোরিয়র ডেকোরেশ‌ন ছাড়াও সুন্দর লাগবে। আমি গ্যারান্ট‌ি দি‌য়ে বল‌তে পারি, ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশন ছাড়া কনফারেন্স রুম আমা‌দের খারাপ আউটপুট দেবে না। পারফরমেন্স একই থাকবে।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শো রুম, হো‌টেল রুম ইত্যাদিতে ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশন চল‌তে পা‌রে। কারণ সেটার প্রয়োজনীতা ব্যবসা‌য়িক। সরকারী স্থাপনার সেটা অপচয়। সরকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ভার ট্যাক্স পেয়ার‌দের কাছ থেকে আসে। সেটায় আউটপুট ছাড়া কেবল মাত্র দেখা‌নোর জন্য এ ধরনের কার্যক্রম ভয়ংকর অপচয়।
আজকাল চারিদিকে দেখা যায়; ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশ‌নের একটা কালচার চলছে। সুন্দর ঝকঝকে টাইলে‌সের ফ্লোর। কাঁচের জানালা দরজা। ছিমছাম ফাইল ক্যাবিনেট সবই প্রয়োজন। প্রয়োজন নেই  মাথার উপর ফলস সিলিং এর ফলস খরচ। এটা অপচয়। এটার খরচ দিয়ে অন্যান্য অনেক ওয়েল ফেয়ার করা যায়। সাধারণ কর্মচারী‌দের টয়লেট উন্নত করা যায়। টয়লেটে স্যানিটারি আইটেম সরবরাহ করা যায়। হ্যান্ড ড্রাইয়ার সেট করা যায়। অটোমেটিক পানির কল খোলা/বন্ধ করার যন্ত্রাংশ বসিয়ে পানির অপচয় রোধ করা যায়।
অনেক সময় ফলস সিলিং হল ঘরের শব্দের ইকো দূর ক‌রে। এটার হয়ত প্রয়োজন আছে। তবে ইকো দূর করতে অফিস রুম বা কনফারেন্স রুমের ইন্টোরিয়র ডেকোরেশন অপচয় বই কিছু নয়। সরকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশ‌নের বাজেট সরকারী অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে খরচ করা যায়। ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশন থেকে আরো কত কত অগ্রাধিকার কাজ আছে, তার তালিকা তৈরি কর‌তে গেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা হয়রান হ‌য়ে যাবেন।
আমি সরকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশ‌নের কথা বলছি। এই  জন্যে  যে, এটা পাবলিক মানি। এটা যেন তেন বা বিলাসী কাজে খরচ করা অনুচিত। তবে সরকারী হো‌টেল মো‌টেল বা পর্যটনের নানা স্থাপনায় ইন্টোরিয়র ডেকো‌রেশন চল‌তে পা‌রে। কারণ এগু‌লো সরকারী কিন্তু ব্যবসা‌য়িক প্রতিষ্ঠান। অন্যান্য সরকারী শো রুম ও ব্যবসা‌য়িক প্রতিষ্ঠান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে পাল্লা দি‌তে সীমিত আকা‌রে ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশ‌ন করলে তা ভাল। তবে অতিরিক্ত বাজেট নি‌য়ে মাত্রারিক্ত করাটা আবার ঠিক হবে না।
এখন অনেকে বলবেন, দেশ মধ্য আ‌য়ের দেশ। সরকারী প্রতিষ্ঠান সুন্দর না হলে চলে। আমি বলল দেখ‌তে সুন্দর নয় বরং পরিচালন ব্যয় কমিয়ে সেবার মান বাড়া‌নোটাই হওয়া উচিত আসল লক্ষ্য। দেশ ধনী হলেও ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশন করার সু‌যোগ নাই। অগ্রাধিকার বিবেচনায় সব সময় এত এত প্র‌য়োজনীয় ও সাধারণ কর্মচারী‌দের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকবে যে কেখ‌নোই আসলে অপচয় করার সু‌যোগ হবে না। বেশীর ভাগ ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশন দশ বছর পরই পুনরায় খরচ করার প্রয়োজন হয়। অথচ রং করা  সুন্দর ছাদ কখ‌নোই রং করা ছাড়া বড় ধরনের কোন বি‌নি‌য়োগ নাই। তাই সরকারী অফিস গুলোর অপচয় রোধ কর‌তে ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশন‌কে না বলা প্র‌য়োজন। ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশন না ক‌রে সমস্ত কর্মচারী‌দের সুন্দর ব্যবস্থা দেয়াটাই হবে সম্পদের মহামূল্যবান ব্যবহার। পরিশেষে বলব, উচ্চ পর্যায়ের কর্তা‌দের বি‌বেক‌বোধই অপচয় দূর কর‌তে পারবে।

Thursday, December 20, 2018

সিনিয়র সিটিজেন সার্প‌োট সেন্টার

ইসলাম ধর্ম‌ে  বর্ণিত আছে, আল্লাহ সকল পশুপাখির জন্য রিজিক দিয়েছেন। মানুষকে বলেছেন, অব‌লোকন কর‌তে; এক‌টি পাখি ক্ষুধার্ত অবস্থায় বেড়িয়ে যায়। দিন শেষে ফেরত আসে পেট ভর্তি ক‌রে। মানুষেরও মূলত: রিজিক নি‌য়ে স্ট্রেসফ‌ুল হওয়ার কোন কারণ নাই। কারণ সুস্থ মানুষ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ ক‌রে গেলে তার খাদ্যের অভাব হবে না। সুস্থ মানুষের ধ‌রে নিলাম কাজ করবে খাদ্যের অভাব নাই। তাহলে সিনিয়র সিটিজেনদের কি হবে। তা‌দের তো কাজ করার সীমাবদ্ধতা আছে। তা‌দের ঔষধ খরচ লাগে, নার্সিং লাগবে। বৃদ্ধাশ্রমগু‌লি মানুষের নেতিবাচক ম‌নোভাবের শিকার। শেষ বয়সে বৃদ্ধ বৃদ্ধরা ছেলে মে‌য়ে পরিবারের মাঝে থাক‌তে চান।  ইউটিউবে দেখা যায় বৃদ্ধ ও বৃদ্ধারা অভিযোগ করছে তা‌দের ছেলেমেয়েরা তা‌দের দেখ‌তে আসে না। তা‌দের খোজ খবর নেয় না। দূ:খজনক। অনেকে বলছেন, ছেলে মে‌য়ে ম্যাজিস্ট্রেট, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও প্রফেসর হ‌য়েও বাবা/মা‌কে সাথে রাখছে না। ছেলেমেয়ে কি কারণে সাথে রাখ‌তে পারছে না। তার মূল কারণ আর্থিক নয়। সময় দেয়া ও ব্যবস্থাপনা করার সমস্যা। সেটার জন্য অনেক ছেলে মে‌য়ে সময় ও ব্যবস্থাপনাটা কর‌তে পা‌রে না। তারা তা‌দের ক্যারিয়ার ও পরিবার নি‌য়ে এত এত সমস্যায় থা‌কে, বাবা মা‌কে আসলে টেক কেয়ার কর‌তে পা‌রে না। তাহলে উপায় কি? কোন কো-অপারেটিভ বা সহ‌যোগীতা করার সংস্থার প্রয়োজন। যদি এরূপ হয় চাকুরীজীবী স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই  সকালে চলে যায়, তবে কে বৃদ্ধ মা বা বাবা‌কে দেখবে। যদি এমন হয়, কোন সাহায্যকারী সংস্থা থেকে এসে তা‌দের গোসল করাল। কাপড় ধু‌য়ে দিল। রুম ও টয়লেট পরিষ্কার ক‌রে দিল। খাবার ঔষধ খাই‌য়ে দিল। এভাবে বুয়া বা কাজের লোকের মত সা‌পোর্ট দিল। কেমন হয় বলুন? এতে আমি নিশ্চিত অ‌নেক অনেক সচ্ছল অথচ সব সময় দেখভালে অপারগ সন্তানরা তা‌দের বাবা ও মা‌কে বৃদ্ধ আশ্রমে পাঠাবে না। একজন গৃহিনী যারা সকাল থেকে শুরু ক‌রে রাত/দিন স্বামী সংসারে খেঁটে খেঁটে ত্যক্ত ও বিরক্ত। তারা যদি শশুর শাশুড়ির জন্য একবেলা সা‌পোর্ট পায়, আমি নিশ্চিত; তারা তা‌দের বৃদ্ধ শাশুর ও শাশুড়িকে খেদিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে না।

পৃথিবীর অনেক দেশে সিনিয়র সিটিজেনদের দেখা‌শোনা করার জন্য অনেককে চাকুরী দেয়া হয়। এমনকি সিনিয়র সিটিজেনকে হাঁটি‌য়ে বা বেড়িয়ে আনার জন্য চাকুরী আছে। বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে। অপর দি‌কে ভাল চিকিৎসার জন্য মৃত্যুর হারও কমেছে। ফলাফল সিনিয়র সিটিজেন বেড়েছে। জাপানের সিনিয়র সিটিজেন অনেক বেশী। সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য কমিউনিটি লি‌ভিংটা অনেক অনেক বেশী জরুরী। কমিউনিটি লিভিং সিনিয়র সিটিজেনদের কোয়ালিটি টাইম বাড়ায়। সিনিয়র সিটিজেনরা শারীরিক সীমাবদ্ধতার জন্য ধী‌রে ধী‌রে কাজ ক‌রে। গল্প কর‌তে বেশী পছন্দ ক‌রে। সেজন্য তারা যখন অনেক সিনিয়র সিটিজেনের সাথে কাটাবে তখন অনেক বেশী কর্মক্ষম থাকবে। অপরদিকে সিনিয়র সিটিজেন যারা স্বামী বা স্ত্রী‌কে হা‌রি‌য়ে‌ছেন। একা একা আছেন তারা ইচ্ছে করলে অন্য কোন সিনিয়র সিটিজেনকে বি‌য়ে কর‌তে পারেন। বিবাহিত সিনিয়র সিটিজেন একাকী সিটিজেন থেকে আরো দীর্ঘ আয়ু হবেন এটা আশা করা যায়। সেজন্য সিনিয়র সিটিজেন সা‌পোর্ট সেন্টারে মে‌ট্রো‌মো‌নিয়াল সার্ভিসেরও ব্যবস্থা করা যায়। সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য পিকনিক ও নানা বি‌নোদনমূলক ট্রিপ চালু করা যে‌তে পা‌রে। অনেক সিনিয়র সিটিজেন অনেক অর্থ রাখছেন। কিন্তু কোন সহায়তা পাচ্ছেন না; বেড়া‌নো, বি‌নোদন করা ইত্যাদি কার্যক্রমে। তাই বিত্তবান সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য অনেক ধরনের সাপোর্ট অনেক সুলভে ও কমিউনিটির আইডিয়ায় করা যে‌তে পা‌রে। এখন সময় এসেছে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য কমিউনিটি লেভেলে কিছু করার।

বাংলাদেশে অনেকেই  অসহায় বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা‌দের নি‌য়ে বৃদ্ধাশ্রম চালু করেছে। অনেক অনাথ বৃদ্ধও বৃদ্ধা‌দের বিনা খরচে থাকা, খাওয়া ও ঔষধের ব্যবসা করেছে। ভারতের কলকাতার একজন এধরণের সা‌পোর্ট সেন্টার করেছে। এটা নতুন কোন আইডিয়া নয়। এই আইডিয়া হল যারা ছেলে মে‌য়ে, নাতি নাতনী‌দের ত্যাগ কর‌তে কষ্ট আবার সন্তানরাও তা‌দের সেবা কর‌তে পা‌রে না। এই  ধরনের সাপোর্টে সেন্টার হ‌তে পা‌রে সে ধরনের সমস্যার উত্তম সমাধান। 

Thursday, December 13, 2018

তিন লক্ষ টাকার বিয়ের কার্ড


আমার স্ত্রী বলল, জান মু‌কেশ আম্বানী মে‌য়ের বি‌য়ে‌তে যে কার্ড ছাপিয়েছে তার দাম তিন লক্ষ টাকা। আমি বললাম, সে একটা ছাগল। সে ধনী মানলাম তবে কি এভাবে প্রদর্শনের প্রয়োজন আছে। প্রতিটি কার্ড তিন লক্ষ টাকার না ছাপিয়ে মে‌য়ে বি‌য়ে উপলক্ষ‌ে হাজার হাজার মানুষ‌কে তিন লক্ষ টাকা ক‌রে দান কর‌তে পারত।
কে আসলে ধনী? ধনী আসলে সে, যে নাকি কারো কাছে হাত পা‌তে না। যার আয় থেকে ব্যয় কম। যার প্রবৃদ্ধি আছে। সে ধী‌রে ধী‌রে ধনীর পথে আগাবে। কেউ একজন মনে করি আয় থেকে ব্যয় কম ক‌রে সে সঞ্চয় করছে বা বি‌নি‌য়োগ করছে। সেও ফতুর হ‌তে পা‌রে যদি তার পরিবারের কেউ দূরা‌রোগ্য বা অনেক খরচের কোন রো‌গে আক্রান্ত হয়। অনেকে দুর্ঘটনা ও নানা জুলুমে ক্ষ‌তিগ্রস্থ হয়। কোটি কোটি টাকার মালিক আমরা জানি আবার পিছনে আছে কোটি কোটি টাকা ধার। তবে তার সম্পদের বাজার দ‌রে মূল্য ও অন্যান্য আয়, ধারকৃত টাকার ব্যাংকের সুদ ইত্যাদি সমস্ত কিছু দি‌য়ে সে যদি প্রবৃদ্ধির মধ্যে থাকে তবে তার উন্নতি হ‌য়ে‌ছে বা ধনীর রাস্তায় হাঁট‌ছে বলা যাবে। যে তার টাকা লায়া‌বি‌লি‌টিসএ খাটিয়েছে যেমন গাড়ী বা ফ্লাট এবং ভাল কোন ইনভেস্ট করেনি নিশ্চিত ভাবে বলা যায় সে গরীবের খাতায় লিখাল।
মনে করি একজন রিকশাওয়ালা প্রতি দিন ৬০০ টাকা কামাই ক‌রে প্রতিদিন  ৪০০ টাকা খরচ করার পর প্রতিদিন ২০০ টাকা জমায়। মাসে ৬০০০ টাকা কামাই ক‌রে বছরে ৭২ হাজার টাকা কামাই হচ্ছে।  ৩ বছর পর এক‌টি সিএন‌জি কিনে ফেলল। তারপর দিনে সঞ্চয় হবে ৪০০ টাকা। পাঁচ বছর পর সঞ্চয়‌য়ের টাকা দি‌য়ে মাই‌ক্রো কিনে ফেললেন। তখন সঞ্চয় হবে দিনে ৮০০ টাকা। আবার সঞ্চয় ক‌রে পাঁচ বছর পর মিনিবাস কিনে ফেললেন। প্রতিদিন জমা হ‌তে থাকল দিনে ২০০০ টাকা। পাঁচ বছর পর বড় বাস কিনে ফেললেন। প্রতিদিন জমা দিনে হ‌তে লাগল ৪০০০ টাকা। তার পাঁচ বছর পর আরো দু‌টি বাস হবে। তার পাঁচ বছর পর চার‌টি বাস হবে। তার চার বছর পর আট‌টি বাস হবে। যখন আপনার প্রতি দিনের ইনকাম ৩২ হাজার। মাসে ১০ লক্ষ আর বছরে কোটি টাকার উপ‌রে। এতে ৩৩ বছর পার হবে। আপনার বয়স হবে ৫১ বছর। তার পর যত বছর বেঁচে থাকবেন আপনার টাকা গাণিতিক হা‌রে বাড়বে। তাই ধনী হওয়ার আর কোন ফর্মুলা নাই। আপনার আ‌য়ের চে‌য়ে ব্যয় কমাতে হবে। সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
রিকশাওয়ালাদের অনেকে ধনী বা প্রবৃদ্ধি না হওয়ার কারণ দেখা যায় তা‌দের অপরিকল্পিত আয় ও অপরিকল্পিত ব্যয়। দিন আনে দিন খায়। এই বিষয়টি তা‌দের সঞ্চয়ের পথে বাধা। যারা ভাড়ায় রিক্সা চালায় তারা প্রতিদিন রিক্সার মালিককে জমা নামক একটা কার্যক্রমে জড়িত। এটার সাথে যদি তারা সঞ্চয় করত, তবে তারা অগ্রগামী হয়। দিনের আ‌য়ের লোকজন আরেকটি ভয়াবহ বিপদে আক্রান্ত। তা হল, বিভিন্ন কারণে কিস্তি নেয়া এবং তা সুদযুক্ত কিস্তিতে প‌রি‌শোধ করা। এখানেও বিপদ দৈনিক আ‌য়ের লোকজন সচ্ছল মানুষের ক্রেডিট কার্ড‌র মত আনন্দ ফুর্তিতে কিস্তিতে টাকা নেয় ও খরচ ক‌রে প‌রে চো‌খের পানি ও ঘামের টাকা এক ক‌রে প‌রি‌শোধ কর‌তে থা‌কে। তখন আর প্রবৃদ্ধি না হ‌য়ে অবনতি হ‌তে থা‌কে।
তাই ধার ও কিস্তি টাকা বাণিজ্যিক কাজ ছাড়া কোন ক্রমেই নেয়া অনুচিত। চল‌তে হবে ইতিবাচক পথে। দিন মুজু‌রের জন্য সাপ্তা‌হের প্রথম দিনের উপার্জন ব্যয় কর‌তে হবে খাবার কিনে। প্রয়োজ‌নে পুরো সাপ্তা‌হের চাল কিনে ফেল‌তে হবে। তার পর দিনের আয় থেকে অতি প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এভাবে করলে একটা লেবার কাজে কোন বিপদে বা অসুখে পড়লেও তা‌দের লোন কর‌তে হবে না।
উন্নতির ধারাবাহিকতা শর্ত হল লোন ক‌রে লায়া‌বি‌লি‌টিস কেনা যাবে না। তাই পরিকল্পনা ক‌রে ধী‌রে ধী‌রে উন্নয়নের পথে চললে আমা‌দের দেশেও মূ‌খেশ আম্বানী হওয়া সম্ভব। তবে কেউ মূ‌খেশ আম্বানী হওয়ার পর তিন লক্ষ টাকার কার্ড বিতরণ না ক‌রে বিল গেটসের মত সারা পৃথিবীর বাচ্চা‌দের মত টিকাদানের মত কর্মসূচি না হোক অন্তত ছোট বড় অনেক উন্নয়ন করা সম্ভব।
আমি নিশ্চিত বিল গেটস আর ওয়ারেন্ট বা‌ফেট আর যাই হোক ধনাঢ্য প্রদর্শনের জন্য তিন লক্ষ টাকার কার্ড বিতরণ কর‌তে যাবে না।

Thursday, December 6, 2018

জিম মেম্বার না হলেও ছোট ছোট ফিটনেস অনুশীলন


মনে করুন, আপনি জিমের মেম্বার। আপনার বাসা থেকে জিমে যাওয়ার দূরত্ব ৩০ মিনিটের পথ। আবার ফির‌তে ৩০ মিনিট। যাতায়াত ওবারে খরচ মনে করি যে‌তে ১৫০ টাকা। আবার আস‌তে ১৫০ টাকা। মোট যাতায়ত ৩০০ টাকা। মাসে হয়ত ২০ দিন যান। তাহলে খরচ ৬০০০ টাকা। জিম মেম্বারে খরচ আরো ৫০০০ টাকা। মোট ১১০০০ টাকা। আমি বলব ১% মানুষও জিম মেম্বার না। তারপরও বলব, বাংলাদেশে নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ৮০ ভাগ মানুষ কিন্তু ওবিস নয়। সুস্থ আছে। তারা কিভাবে সুস্থ আছে। সেটা হল লাইফ স্টাইল। আপনি জিমে যাওয়া আসায় এক ঘণ্টা আর জিমে আরো এক ঘণ্টা মোট দুই ঘণ্টা ব্যয় করেছেন। আমি বলব, এটা কেমন হয়, যদি আপনি আপনার কাজের স্থানটি‌তে গাড়ী ব্যবহার না ক‌রে হেঁটে যান। বাজা‌রে হেঁটে যান। বাজার শেষে কেনা কাটার পরিমাণের উপর নির্ভর ক‌রে বাহনে ফেরেন। অনেকের মত মসজিদে জামা‌তে নামাজ পড়েন। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কাপড় ধু‌য়ে ফেলুন। ঘর ঝাড়/ঘর মোছার কাজগু‌লো করছেন। তবে কিন্তু আর আপনার প্রতিদিন দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় ক‌রে জিমে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। জিমের খরচ বাঁচল ও সাধারণ কাজ ক‌রে আপনি ফিট থাকছেন। যদি জিম স্টেটাস সিম্বল হয় সেটা আলাদা বিষয়। এখন অনেকে প্রশ্ন করবেন। আমা‌দের দেশে রিক্সা, গাড়ী, ঘোড়া ও ধূলা বালির জন্য হাঁটা যায় না। এটা খোড়া অজুহাত। অনেক অনেক মানুষ হাঁটছে। তবে তারা নিন্ম শ্রেণী। কিন্তু স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য কাজে যাওয়ার পথে হাঁটা শুরু করুন, বাজা‌রে হেঁটে যান। গবী‌বের এই  স্টাইল‌টি ফ‌লো করলে আমরা অনেক বেশী সুস্থ থাকব। বাচ্চাদের সর্বদা হেঁটে বা বাই সাইক্যাল চালিয়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য আমরা উৎসাহ দি‌তে পারি। এতে তা‌দের স্বাস্থ্য অনেক ভাল থাকবে।
ইউ‌রোপ ও আমেরিকায় অনেক মানুষ আছে তারা নাকি জিমের মেম্বারশীপ ক‌রে সাধারণ বা নিন্ম‌বিত্ত মানুষ একটা মাত্র কারণে তা হল ভাল পরিবেশে শাওয়ার নেয়ার জন্য। কারণ সেই লোকগু‌লি বস্তিতে থা‌কে বা গাড়ী‌তে থা‌কে। অথচ আমা‌দের দেশে জিম মেম্বারশীপ হল স্ট্যাটাস সিম্বলধরীরা ব্যবহার ক‌রে। মধ্যবিত্তদেরও রোগ‌টি আছে। তারা জিমের জন্য উপার্জনের বড় একটা খরচ ক‌রে ফেলে। আমার উপদেশ মূলত তা‌দের জন্য। শরীর ফিট রাখার এত এত ব্যবস্থা থাকতে, কেন এত অপচয়ে যাওয়া। স্বাস্থ্য সচেতনরা তেড়ে আসবেন। কি বলছেন, আজে বাজে কথা। স্বা‌স্থ্যের জন্য বিনিয়োগ এটা তো অতি উত্তম। আমি বলব, ধনীদের জন্য জিমে বিনিয়োগ উত্তম। মধ্যবিত্তের জন্য জিম মেম্বারশীপ অপচয়। একজন মধ্যবিত্তের হাঁটা ও কায়িক পরিশ্রমের জন্য এত এত সুযোগ আছে তারা একটু নজর দিলেই ফিট থাকার মাল মশল্লা পেয়ে যাবে। কায়িক পরিশ্রমযুক্ত লাইফ স্টাইল অনেক বেশী জরুরী। আমাদের দেশে দুই কদম আমরা হাঁটতে চাই না। রিক্সা নেই। সামর্থ্য থাকলে গাড়ী ব্যবহার করি। অথচ সুস্থ ও ভাল থাকার জন্য কর্মস্থলে আসা যাওয়াটা হেঁটে করাটা সবচেয়ে ভাল। বিকালে খেলাধুলার সুযোগ না থাকলে হাঁটার অভ্যাসটা অনেক ভাল হতে পারে। অনেক টাইট ডায়েটিং করেও হাঁটার অভ্যাস না থাকার কারণে অনেকেই ওজন কমাতে ব্যর্থ হয়।
যারা অফিসে বসে বসে কাজ করেন তারা অফিসে আসাটা সকালে হেঁটে আসতে না পারলেও ফেরত যাওয়াটা হেঁটে  করতে পারেন। ফেরত যাওয়ার পথটা গাড়ীতে বেশী সময় ও দূরের রাস্তা হলে ৪০/৫০ মিনিট হাঁটার রাস্তা থাকতে গাড়ী ছেড়ে দিলে মন্দ না। আশে পাশে বাজারে যাওয়ার জন্য গাড়ী, রিক্সা ইত্যাদি ব্যবহারটা পরিহার করাটা বাঞ্ছনীয়। কেবল মাত্র হাতে মালামাল থাকলে গাড়ী বা বাহন সাথে যেতে পারে।
আমি অনেক দেশেই দেখেছি মানুষ অনেকটুকু রাস্তা হেঁটেই যায়। আমাদের দেশের মত ছোট ছোট দূরত্বে রিক্সা বা বাহন ব্যবহার করতে তারা অভ্যস্ত হয় না। বেশীর ভাগ দেশেই আমাদের দেশের মত ছোট রাস্তা পার হওয়ার জন্য রিক্সার মত স্বল্প খরচের বাহন নেই। তাই গাড়ীর স্ট্যান্ড ও পার্কিং পর্যন্ত হেঁটেই যেতে হয়। এভাবে হাঁটার অভ্যাস হয়ে যায়। পরিশেষে বলব, আমাদের সুস্থ ও কার্যক্রম থাকার জন্য জিম নয় বরং আমাদের সকলকে হাঁটাটা অভ্যাসে আনাটা অনেক বেশী জরুরী।

Thursday, November 29, 2018

উত্তরাধিকারীদের জন্য চাকুরী ভাল না ব্যবসা


আমি আজ চাকুরী করছি। সরকারী চাকুরী। সন্তোষজনক বেতন ও সুযোগ সুবিধা। আমি যখন অবসর নিব। আমার সন্তানের কি হবে। তাকেও পড়তে হবে। চাকুরীর জন্য যুদ্ধ করতে হবে। আমার ছোট ভাই ব্যবসা করে তার সন্তানও পড়াশোনা করে। তার সন্তানও চাইলে ছোট ভাইয়ের ব্যবসাটি ধরতে পারে বা চাকুরী করতে পারে। তবে এটা নিশ্চিত আমার সন্তানের মত দ্বারে দ্বারে চাকুরীর জন্য যেতে হবে না। কারন ব্যবসায়ী ছোট ভাইয়ের সন্তান যাই করুক উত্তরাধিকারী হিসাবে আয় নিশ্চিত। এটা হল ব্যবসায়ীদের জন্য প্লাস পয়েন্ট। তাহলে চাকুরীজীবীদের জীবনের নিরাপত্তা হয়ত ব্যবসা থেকে কিছু বেশী। ব্যবসা আজ ভাল, কাল মন্দ। সর্বদা একটা উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে যায়। তবে কষ্ট করে ব্যবসায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারলে ও ক্রমাগত ব্যবসাটি সময়ের সাথে উপযোগী করে নিতে পারলে জেনারেশনের পর জেনারেশন নিরাপদ হয়ে যায়। জেনারেশনকে আর চাকুরীর জন্য সময় ও যৌবনের মূল্যবান শক্তি নষ্ট করতে হয় না। একজন বিসিএস করা জাঁদরেল সচিবের ছেলে হয়তবা প্রাইভেট কোম্পানিতে ক্লার্ক আর অফিসার এর মাঝামাঝি এক্সিকিউটিভ নামের স্বঘোষিত অফিসার পদে চাকুরী করতে হচ্ছে। কিন্তু একটা কোম্পানির মালিকের যেন তেন ইন্টারমিডিয়েট বা গ্রাজুয়েশন করা ছেলে মেয়ে বাবার কোম্পানির এমডি বা ডাইরেক্টর হয়ে যাচ্ছে। একসময় জাঁদরেল চেয়ারম্যান হয়ে যাচ্ছে। এ এক চমৎকার কর্মসংস্থান। এ ধরনের কর্মসংস্থানের কাছে জাঁদরেল সচিব বা যে কোন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ফেল করে যাবে। অথচ সন্তান থাকলে তার প্রতিষ্ঠাতা সবচেয়ে জরুরী। চাকুরীতে যত জাঁদরেল লোকই হোক, যত বেতন পাক, সে ফেল করবে যেন তেন ব্যবসায়ীর কাছে। কারণ একটা সাধারণ ব্যবসায়ী জানে কিছু কাজ না পাক, তার উত্তরাধিকারীরা তার ব্যবসা ধরে অন্তত তার মত জীবন যাপন করতে পারবে। চিন্তা কম। সুযোগ বেশী। নিরাপদ বেশী। তাহলে আমাদের মত চাকুরীজীবীদের উপায় কি। একটা উপায় আছে প্রতিষ্ঠান তৈরী ও সন্তানদের সেখানে প্রতিষ্ঠা করা। অনেক সচিব বা চাকুরীদের সন্তানকে দেখেছি বাবার সহায়তায় নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে। এটা কিন্তু মন্দ ধারনা নয়। বরং এর মাধ্যমে জেনারেশনের পর জেনারেশনের কর্ম সংস্থান তৈরী করা যায়। যে কোন ভাবে চিন্তা করি না কেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই টেকসই ব্যবস্থা। ব্যবসায় অনেক রিস্ক ও অনেক উত্থান পতন আছে। যদি সন্তানরা ছোটবেলা থেকেই শিখতে পারে তবে তা বড়ই কার্যকরী হবে।
প্রফেসর ইউনুস তাঁর অনেক অনেক লেকচারে বলেছেন মানুষ ক্রিয়েটিভ। তারা উদ্যোক্তা হওয়ার জিন নি‌য়ে জন্ম গ্রহণ ক‌রে। তাদের মাঝে ধী‌রে ধী‌রে সমাজ ও পারিপার্শ্বিকতা তা‌কে দাসত্ব শিখায়। সমাজের বুদ্ধিমান মানুষ সমাজের কম অগ্রসরমান মানুষ‌কে দাসে পরিণত ক‌রে। তার সাথে যোগ হয় আর্থিক অবস্থান। এটা মানুষ‌কে দুর্বল ক‌রে ফেলে। মানুষ আর্থিক নিরাপত্তা পে‌তে সমাজের দাসত্ব মেনে নি‌তে থা‌কে। দাসত্বের ভদ্ররুপ হল চাকুরী। সুতরাং চাকুরীর নিরাপত্তা শুধু নিজের জীবদ্দশা পর্যন্ত। সন্তান‌দের নিরাপত্তা সে দি‌তে পা‌রে না। চাকুরের সন্তান চাকু‌রে হওয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টা তদবির কর‌তে থা‌কে। কখনও সফল হয়। কখনও সফল হয় না। হা‌তে গোনা অল্প কিছু চাকুরীজীবীর সন্তান হয়ত ব্যবসায়ী হয়। চাকুরীরা ব্যবসার অনিরাপদ কিন্তু স্বাধীন জীবন‌কে ভয় পায়। নিদিষ্ট ইনকাম তা‌দের কষ্টকর মনে হলেও মনে দেয় প্রশান্তি ও নিরাপত্তা। ইচ্ছে হলে কাজ করব নয়ত করব না। বা এমন ব্যবস্থা করব যেন ঘুমিয়ে থাকলেও টাকা প্রাপ্তি হয় মূলত এটাই হল ব্যবসায়ীর কাজের ধরন।
পরিশেষে বলব, নিজের ভবিষ্যৎ বংশধর‌দের নিরাপত্তার জন্য ব্যবসা, প্রতিষ্ঠান ও কোন কাজের স্কিল সন্তান‌দের মাঝে প্রসারিত করাটা অনেক প্রয়োজন।
একজন এয়ার কন্ডিশন, ফ্রিজ ও অন্যান্য কারিগরি কাজে দক্ষ সে চাকুরী পেলেও কোন দোকান বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তার শখ ও দক্ষতার কাজ‌টি সর্বদা চালু রাখ‌তে পা‌রে এমনকি তার বংশধর‌দের জন্য সু‌যোগ সৃষ্টি করে রাখ‌তে পা‌রে যেন, তার পরের প্রজন্ম কোন স্ক‌িল, দক্ষতা ও প্রতিষ্ঠান নি‌য়ে নিরাপদ হ‌তে পা‌রে। পরিশেষে বলব, চাকুরী নয়, উদ্যোক্তা হওয়াটাই সবচেয়ে ভাল পন্থা।

Thursday, November 22, 2018

মানুষের আশার প্রতিফলনে দেশের নেতৃত্ব


পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক পদ্ধতি হল গণতন্ত্র। রাশিয়ার সমাজতন্ত্র খতমের পর সেটা প্রমাণিত। অপর দিকে ইসলাম পুঁজিবাদী সমাজ বর্জন না করে যাকাত ও মানবীয় ব্যবস্থার দিক নির্দেশনা দিয়ে গণতন্ত্রের বিরোধ করেনি।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সকল মানুষ ভোটের অধিকারের মাধ্যমে তার আশার প্রতিফলন রাখতে চায়। সেটা কি গণতান্ত্রিক ভোটের মাধ্যমে হয়? প্রতিটা মানুষের ভোটের মূল্যমান ঠিক থাকে? থাকে না। যদি থাকত, ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং শব্দটা আসত না। পৃথিবীর অনেক গণতান্ত্রিক দেশে এটা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নানা ইঞ্জিনিয়ারিং। উন্নত দেশের মধ্যে আমেরিকায় গণতন্ত্র আছে। সেখানেও মানুষের ভোট বেশী পেয়েও নাকি হিলারি নির্বাচিত হয়নি। কারণ তাদের সিস্টেমে স্থানে স্থানে জয়লাভ করতে হবে। টোটাল ভোটে নয়। কোথাও বেশী ভোটে জয়লাভ আবার কোথাও অল্প ব্যবধানে হারা। এই ধরনের সিস্টেম আসলে নির্ধারণ করা অতন্ত্য কষ্টকর যে, জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
বাংলাদেশে কোন দলের মনে করি শতকরা ৪০/৪৫ ভাগ ভোট আছে। তবুও তারা সরকার গঠন করতে না পারার ঝুঁকিতে থাকবে। আবার কোন দলের শতকরা ৩০/৩৫ ভাগ জনপ্রিয়তা নিয়েও সরকার গঠন করতে পাররে। এটাই ইঞ্জিনিয়ারিং। যদি এটা হয়, তবে সেই গণতন্ত্র আসলে কারোর জন্যই ভাল নয়। গণতন্ত্র যদি প্রকৃত অর্থেই থাকতে হয়, তবে সকল ভোটারের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন থাকতে হবে। কোন এলাকার কেউ নির্বাচিত হওয়া প্রয়োজন তার ব্যক্তিগত ইমেজে। কিন্তু তা কি হচ্ছে। প্রার্থী নির্বাচিত হচ্ছে দলের কারণে। দলে আবার তিনি মনোনয়ন পাচ্ছেন একটা বাণিজ্যের কারণে। এটা কি গণতন্ত্রের জন্য ভাল। মোটেই না। যারা পলিটিকাল সাইন্স পড়ে তারা হয়ত রাজনৈতিক বিষয়ের অদ্যপান্ত জানবেন। তবে আমার মত একজন সাধারণ লেখক এটা জানি। বর্তমান সিস্টেমগুলো ভাল হচ্ছে না। এতে সীমাবদ্ধতা আছে। অসন্তোষ আছে।
এটা কি এমন হতে পারে, সমস্ত নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীরা নিজেদের মত নমিনেশন নিবে। এখন মনে করি, কুমিল্লা নির্বাচনী এলাকা-১ পাঁচজন প্রার্থী হল। দুইলাখ ভোটের মধ্যে ৬০ ভাগ কাস্ট হল। ১,৬০,০০০ ভোট। এখন মনে করি নির্বাচিত প্রার্থীদের ক=৭০,০০০ খ=৫০,০০০০ গ=১৫,০০০ ঘ=১০,০০০ ঙ=৫,০০০।
প্রার্থীদের মধ্যে ক মনে করি “এক্স পার্টি”। আর খ,গ,ঘ ও ঙ এই চারটি হল “ওয়াই পার্টি”র। এখন দেখুন, এক্স পার্টি প্রার্থীর ভোট হল ৭০ হাজার যা একজন প্রার্থী দিয়েছে। অপর দিকে “ওয়াই পার্টি”র চারজন মিলে পেল ৮০ হাজার। এবার দেখুন এমপি “এক্স পার্টি”র লোক নির্বাচিত হলেও পার্টির ভোট বেশী হবে “ওয়াই পার্টি”র। এখন এমন হতে পারে “এক্স পার্টি”র এমপি বেশী হলেও সরকার গঠন সেই করবে, যার ভোট বেশী। হয়তবা “ওয়াই পার্টি” সরকার গঠন করল। সেই দলের প্রধান হবেন, সরকার প্রধান। মন্ত্রীরা হবে দলীয় ভোট সংখ্যার উপর ভিত্তি করে। এতে জনগণের ভোটের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে। মনোনয়ন বাণিজ্য, পার্টির মধ্যে গণতন্ত্র না থাকা  ইত্যাদি সমস্যা দূর হবে। যারা নির্বাচিত হবে তারা পার্টির ইঞ্জিনিয়ারিঙের উপর নির্ভর করতে হবে না। তারা প্রার্থী হবে পার্টির নাম ডিক্লেয়ার দিয়ে বা স্বতন্ত্র হিসাবে। যার ফলে একাধিক প্রার্থী আসবে একই দল থেকে।
আমি যেটা বর্ণনা করলাম, এতে কোন দল কোন প্রার্থীকে নিয়ে ব্যস্ত হবে না। এখন প্রার্থী নির্বাচন করে পার্টি প্রধানরা। ফলে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী হয় না। কিন্তু পার্টির ব্যানারে পাশ করে যায়, কিন্তু জনপ্রিয় হওয়া যায় না। আমার আইডিয়ায় সকল প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে নিজের ইমেজ ও জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে পাশ করবে। অপর দিকে একাধিক প্রার্থী দিয়ে ভোট ভাগ হয়ে যাবে এই চিন্তার কোন কারণ নাই। সকল প্রার্থীর সকল ভোটই তখন দলের জন্য মূল্যবান। এমনকি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা যারা পাশ করেনি কিন্তু ভোট পেয়েছে তারা যখন ফলাফল হওয়ার পর বিভিন্ন পার্টিতে যোগ দিবে। তাদের ভোটও কাজে লাগবে।
খেয়াল করে দেখুন, এতে সকল প্রার্থী ব্যস্ত হবে পার্টির তাঁবেদারি না করে মানুষের কাছে জনপ্রিয় হতে। আবার পার্টি সরকার গঠন করে ক্ষমতায় থাকার জন্য প্রার্থীর উপর নির্ভর না করে সার্বিক ভোট বাড়াতে চেষ্টা করবে। ইমেজ বাড়াতে চেষ্টা করবে। দলে দলে কোন্দল কমে যাবে। মারামারি কমে যাবে। আগে অনেক জটিল হিসাব হলেও এখন মূহুর্তের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বলতে পারবে কোন প্রার্থী কত ভোট পেল ও কোন দল কত ভোট পেল একটা মাত্র ক্লিক। অপর দিকে পার্টি প্রধানের জনপ্রিয় একাধিক প্রার্থীর মধ্যে বাছাই করার প্রয়োজন হচ্ছে না। জনগণ ভোটের মাধ্যমে বাছাই করে দিচ্ছে। ক্ষমতা বিহীন দলগুলো অনর্থক সমস্যা করবে না। কারণ তাদের ভোট অনুযায়ী তারা মন্ত্রিত্ব ও অন্যান্য ক্ষমতায় থাকবে। তাই সাধারণ জনগণ যোগ্যকে ভোট দিলে সে যেই পার্টিরই হোক তার একটা সুযোগ থাকবে মন্ত্রী হওয়ার। এভাবে চমৎকার একটা ভারসাম্য আসবে। এটা হয়ত থিংক ট্যাংকরা ভেবে দেখতে পারেন।

Friday, November 16, 2018

বর্তমান দামী খাবার


ছোট‌বেলা দেখতাম বাবার কাছে গ্রামের অভাব ও অনটনে পড়া কেউ কেউ পড়া‌শোনার জন্য আর্থিক সাহায্য চাইতে আসত। তাদের অনেকে সন্তান নি‌য়ে বলত, সন্তান অনেক পড়া‌শোনা ক‌রে সেই  অনুযায়ী মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ খাওয়া‌তে পা‌রে না। কলের বিবর্তনে আজ আমরা এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছি। আজ পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়া ঘরে ঘ‌রে খায়। ডিম অনেক অনেক উৎপাদন হয়। কোন পরিবারের বাচ্চারা ডিম ভাগ ক‌রে খায় জানা নেই। বয়লার মুরগীর ব‌দৌল‌তে মাংসের ঘাটতি নেই। দুধ উৎপাদন বাড়ছে। হয়ত দুধ তেমন না পেলেও দুগ্ধজাত পণ্যের অভাব নেই।
বিপদ হল ভাজা পোড়া ও মিষ্টি আইটেমে বাজার সয়লাব। তাই কোন দরিদ্র পিতামাতাও বাচ্চা‌দের মুরগী, মাছ ও ডিম থেকে বঞ্চিত করছে না। রাস্তা ঘাটে অধিক ওজনকারী বাচ্চার সংখ্যা বাড়ছে। খাবারের দাম কমেছে। উচ্চ ক্যালরির খাবার এখন অনেক সস্তায় পাওয়া যায়। আপনি ধরুন পাঁচটি  গরম ভাজা পুরি খেয়ে ফেললেন। পাঁচটি গরম গরম জিলাপি খেয়ে ফেললেন, কি পরিমাণ ক্যালরি নি‌য়ে ফেললেন, ডাই‌টে‌শিয়ানরা হিসাব ক‌রে হয়রান হ‌য়ে যাবে। আপনি বিশ টাকায় দু‌টি বড় বড় সাগর কলা খেয়ে ফেললেন। কম পরিশ্রমী মানুষ সারাদিনের অর্ধেক ক্যালরি ওই দুইটি কলায়ই পেয়ে যাবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রচারণার যুগে হাই ক্যালরি ফুল আর হাই ক্যালরি ফ্যাটযুক্ত খাবার আজ দামী হলেও শিক্ষিত ধনী‌দের কাছে পরিত্যাজ্য আজ ধনীরা খুঁজে লো ফ্যাট ও‌ লো ক্যালরি ফুড। তারা জানে এসি গাড়ী, এসি বাড়ী ও কায়িক প‌রিশ্রমবিহীন জীবন তা‌দের হাই ক্যালরি ফুড ও হাই ফ্যাট ফুড তাদের জীবন সংকীর্ণ ক‌রে দিবে। তাই পেট ভরবে গা‌য়ে কম লাগবে সেই  খাবারগু‌লি ধনীরা খোজ করেন। একটা হাই ক্যালরি কলা খাওয়ার চে‌য়ে এক কেজি ড্রাগন ফল খাওয়াটা ধনী‌দের কাছে বেশী আগ্রহের। অথচ একটা কলার দাম দশ টাকা আর এক কেজি ড্রাগন ফলের দাম ৫০০/৬০০ টাকা। এক কেজি আলু অনেক ক্যালরি দিবে দাম  ২০ টাকা। অপরদিকে এক কেজি মাশরুম অনেক পুষ্টি দিবে দাম ১০০০ টাকা। তাই পুষ্টি আগে ক্যালরি পরে। মোটা ঠেকা‌নোটা মূল ব্যাপার। আজ মজাদার খাবার কায়িক পরিশ্রমকারী দরিদ্রের দখলে। পানসে, তৈল কম, চিনি কম ও লবণ কম খাবার ধনীর ভাগ্যে। আজ কোন দরিদ্র বলবে না যে, টাকা নাই। ছেলে মেয়েকে ডিম দুধ খাওয়া‌তে পারিনা।
খাদ্যের চাহিদার এই ধরনের পরিবর্তনে অবাক হতে হয়। হয়তবা ২০/২৫ বছর আগে ঘি ভাজা প‌রোটা ও ঘির তৈরি নানা আইটেম ছাড়া ধনীর ব্রেক ফাস্ট কল্পনা করা যেত না। আজ ধনীর প্লেটে ওরস, কন‌ফ্লে‌ক্সের মত ফাইবার রিচ খাবার। ধনীর ডাই‌টে‌শিয়ানরা হয়রান হ‌য়ে যায়, লো ফ্যাট ও লো ক্যালরি খাবার বের কর‌ার জন্য। লো ফ্যাট ও লো ক্যালরি খাবার আজ অনেক অনেক বেশী চাহিদা সম্পন্ন ও দামী।
তিন তারা ও পাঁচ তারা হো‌টেলগু‌লো মাশরুম, ক্যাপ‌সি কাম, বেবি কর্ণ ইত্যাদি ছাড়া কারী কল্পনা কর‌তে পা‌রে না। অথচ খাবার গুলি উচ্চ ক্যালরি বা উচ্চ ফ্যাট-যুক্ত নয়। অপরদিকে উচ্চমূল্যের অলিভওয়েল দি‌য়ে সমস্ত রান্না ক‌রে দিবে। বিল যদিও আকাশচূম্ভী। তবুও ধনীর জন্য কুছপ‌রোয়া নেহি। ভারী শরীর ও ক্ষতিকারক ‌রোগ থেকে বাচাটা জরুরী। ধনী‌দের ডাই‌টে‌শিয়ানরা না হয় বেঁছে বেঁছে উচ্চমূল্যে পুষ্টিকর খাবার বের ক‌রে দিচ্ছে বা অনুপ্রাণিত করছে। কিন্তু মধ্যম আ‌য়ের দোকানদা‌রের কি হবে। দিনের বেশীরভাগ সময় কায়িক পরিশ্রম কম ক‌রে দোকানদারী করছেন। তিনি হয়তবা ধনী‌দের মত দামী মেনু‌তে যাচ্ছ‌েন না। তিনি খাচ্ছেন পেঁয়াজু, লুচি ও জিলাপির মত মূখ‌রোচক খাবার। এই  খাবারগু‌লো দাম কম ও ওজন বাড়ায়। তবে কায়িক পরিশ্রমীরা এরুপ খাবার বেশী খেলেও পরিশ্রম ক‌রে তা ঝাড়িয়ে ফেলে। গা‌য়ে রাখ‌তে দেয় না।
বর্তমানকালে পুষ্টিকর খাবার দামী ও কমদামী দু‌টোই আছে। খাবার বাছাই কর‌তে হবে লাইফ স্টাইল ও পরিশ্রমের প্যাটার্ন অনুযায়ী। আজকাল মা‌য়েরা বাচ্চা‌দের বাটার, চিজ ও ভাজা পোড়া অনেক আইটেম খাওয়ায়। কিন্তু বেশীর ভাগই মায়েরা বাচ্চা‌রা কতটুকু পরিশ্রম করছে তার উপর মেনুটা নির্ধারণ করেন না। যা অতি জরুরী। নতুবা বাচ্চারাও ধী‌রে ধী‌রে মোটা হ‌য়ে অকেজো হ‌তে থাকবে। সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারেও হাই ফ্যাট ও হাই ক্যালরি খাবার অধিক গ্রহনের ফলে সাধারন পরিবারেও মোটা মানুষের সঙখ্যা বাড়ছে। তাই অল্প পরিশ্রমী মানুষের উচ্চ ফ্যাট ও উচ্চ ক্যালরির খাবার পরিহার করাটা অতি জরুরি। হয়ত ধীরে ধীরে মানুষ সচেতন হবে ও সমাজে পরিবর্তন আসবে।


Wednesday, November 7, 2018

প্রাইভেট ক্লিনিক প্রাইভেট কাজ কারবার


আমি আমার নিকটাত্মীয়‌কে একটা প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করিয়েছিলাম। স্বাভাবিক কারণে আত্মীয়া‌কে দেখা ও সেবা করার জন্য নিয়মিত ক্লিনিকটিতে যে‌তে থাকলাম। মাঝে মাঝে ঔষধ কেনা ও এটা ওটার ব্যবস্থা করার মত খুচ‌রো কাজ করে সহায়তা করলাম। ক্লিনিকটি জেলা শহরের প্রায় ২০/২২ বছর পুরানো। আমার সরকারী চিকিৎসার সুযোগ থাকায় আমি ক্লিনিকের পদ্ধতির সাথে পরিচিত নই। অনেক ক্লিনিক আছে ওয়ান স্টপ সেন্টার টাইপ। সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আপনাকে ঘাটে ঘাটে ঘুরতে হয় এখানে সবকিছু অটোমেটিক। প্রথমত কোন রোগী আসার সাথে সাথে স্ট্রেচার বা হুইল চেয়ারে করে রোগীকে ডাক্তারের কাছে নেয়া এবং ক্লিনিকের ওয়ার্ডে নেয়ার জন্য কিছু ইয়ং ছেলেদের ক্লিনিকরে দরজায় থাকবে। রোগী আসার সাথে সাথে তারা তাড়াহুড়ো করে রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে। তারপর ডাক্তারের কাছ থেকে ক্লিনিকের বেডে বা কেবিনে নিয়ে যাবে। প্রথম দেখায় আপনি ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করবেন। কিছুক্ষণ পর আপনার ভুল ভাঙবে যখন আপনার কাছে স্ট্রেচারে রোগী উঠানো ও নামানো বাবত ৫০০/১০০০ টাকা দাবী করে বসবে। আপনার কাছে অযৌক্তিক মনে হলেও আপনাকে মানতে হবে। কারণ আপনার রুগীকে উঠানামা  করিয়েছে। অনেকটা নতুন জামাইয়ের হাত ধোয়ানোর মত। আপনি না চাইলেও আপনাকে হাত ধোয়ানো হবে বা টাকা নেয়া হবে। আপনি ধরে ধরে রোগীকে তুলতে পারলেও তাকে  হুইল চেয়ারে বসানো হবে বা স্ট্রেচারে করে আনা হবে এবং আপনার কাছে বিল দাবী করা হবে। যেটার সাথে ক্লিনিকের বিল জড়িত নয়। এমনকি অনেক ক্লিনিকের চাকুরীরত লোকদের বাইরে ক্লিনিককে উল্টো চাঁদা দিয়ে ওরা রোগী উঠানো নামানোর কাজ করে থাকে। অথচ এটা ক্লিনিকের সেবার আবশ্যক অংশ হতে পারত। তা না হয়ে রোগীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের একটা মাধ্যম বলা যায়। অনেক ধনীরা হাসিমুখে টাকাটা দেন। অনেক সাধারণ মানুষের কাছে এটা চাপ মনে হবে।
এরপর আসা যাক ক্লিনিকের রুম ঝাড়ু দেয়া বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা। অনেক ক্লিনিক আছে কোন ঝাড়ুদার রাখে না। রোগীরা চাইলে তাড়া আসে ঝাড়ু দেয়। রোগীরা পয়সা দেয়। চুক্তিভিত্তিক রোগীর সাথে পেমেন্টে কাজ। রোগী সামর্থ্যবান হলে সেবা পাবে অন্যথায় রোগীর বন্দোবস্ত। তবে প্রায় সকল ক্লিনিকের কয়েকজন স্থায়ী ক্লিনার থাকে। তারা সামগ্রিক ভাবে কেবিনের বাইরের ক্লিনিকে কাজ করে। অনেক ক্লিনিকে আছে রোগী ছাড়ায়ে নেয়ার সময় ক্লিনিকের সমস্ত ক্লিনারকে মোটা অংকের একটা টাকা তারা এক সাথে দাবী করে ও রোগীকে তা দিতে হয়। আবার নার্স ও অন্যান্য স্টাফরাও রোগীর কাছ থেকে টাকা আদায় করে। বিশেষ করে বাচ্চা হওয়া মায়েদের জন্য জনে জনে মিষ্টি খাওয়ানোর একটা রেওয়াজ তারা রেখেছে। এই মিষ্টির খরচটা আবার টাকায় দিতে হয় কষ্ট করে মিষ্টি কেনার প্রয়োজন নেই।

দেশের সমস্ত ক্লিনিক বিশাল বিশাল বিল ধরিয়ে রোগীর গলা কাটছে তারপর যোগ হয় স্ট্রেচার বেয়ারার বিল ও অন্যান্য ব্যক্তি বিশেষের বিল। এটা থেকে মুক্তির উপায় হয়ত কোন একদিন ডাক্তাররা বা হাসপাতাল পরিচালকরা বের করতে পারবে।

ক্লিনিকগুলির নীচে ঔষধের দোকান থা‌কে। এরা ঔষধের দাম বেশী নেয়, এতে সন্দেহ নেই। তবে ভাল বিষয় হল, রিক্সা ভাড়া বা গাড়ী ভাড়া ক‌রে দূরে যে‌তে হচ্ছে না। এটা খারাপ বিষয় নয়। বিপত্তিটা হয় তখনই যখন এরা বড়াবা‌ড়ি রকম বেশী দাম নেয়।

প্রাইভেট ক্লিনিক সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অনেক সীমাবদ্ধতা‌কে দূর করেছে। এটা সঠিক। অস্থায়ী শ্রমিক ও দালাল ইত্যাদি শ্রেণী তৈরি করছে। যা ভাল লক্ষণ নয়। চিকিৎসার সেবাগু‌লো রাষ্ট্রীয়ভাবে যত সুসংহত করা যাবে, সাধারণ মানুষ তত উপকৃত হবে। প্রতিটি ক্লিনিকে অনেক মানুষ আসে, তা‌দের সুচিকিৎসা প্রয়োজন। তবে কোন ক্লিনিক সমাজের জন্য খারাপ থেকে ভালটাই বেশী ক‌রে। তাই ক্লিনিক বন্ধ না ক‌রে নিয়ন্ত্রণ জরুরী। প্রথম নিয়ন্ত্রণ; রোগী উঠা‌নো নামা‌নো ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ক্লিনিকের বিলের অংশ বা ক্লিনিকের সেবার অংশ হওয়া প্রয়োজন। বাচ্চা হ‌লে মিষ্টি খাওয়া‌নোর প্রাক‌টিস ক্লিনিকে না থাকাই ভাল। যদি এগু‌লো বন্ধ করা না যায়, তাহলে রেগু‌লেট কর‌তে হবে। রোগী‌কে উঠা‌নো নামা‌নোর খরচ ঝুলিয়ে দেয়া যে‌তে পা‌রে। রোগীর কেবিন  প্রতিবার পরিষ্কারের জন্য নিদিষ্ট বিল নির্ধারণ করা যে‌তে পা‌রে। ক্লিনিকের মেডিসিন কত শতাংশ বেশী দাম রাখবে তাও রোগী‌কে অবগত কর‌তে পা‌রে। এত‌ে‌ রোগীর অ্যা‌টে‌ডেন্টরা ঔষধের দামের স্বচ্ছ ধারনা পাবে ও প্রয়োজ‌নে অর্থ সাশ্রয়ের জন্য তারা বাইরের ফার্মেসি থেকে ক্রয় কর‌তে পারবে। তাই ক্লিনিকের আওতাধীন ফার্ম‌েসীগু‌লো‌তে নিয়ন্ত্রন প্রয়োজন। ক্লিনিক সমাজের অনেক উপকার করছে। কর্মসংস্থান করছে। তাই ক্লিনিকগুলো মান নিয়ন্ত্রন করে জনসেবার বাড়ানোর ব্যবস্থা করাটা অতি জরুরী।



Wednesday, October 31, 2018

একালের সেনসিটিভ ছেলেমেয়ে

ছোটবেলায় পিতামাতার কাছ থেকে আমরা যা মার খেতাম, এখনকার বাচ্চারা হয়ত তা কল্পনা করতে পারবে না। আমাদের সময় মারধর হত ঘরে ও স্কুলে। পিতা মাতা ও স্কুলের টিচাররা মনে হয় অথরাইজ ছিল মারধর করার জন্য। কারণে অকারণে বেতের বাড়ি ছিল একটা সহজ লভ্য বিষয়। স্কুল কলেজ থেকে বেতের বারি বিতাড়িত হ‌য়ে‌ছে। বেতের বারি ও সাথে অকথ্য বকাঝকা বোনাস থাকত। এখন বেতের বারি নেই। অকথ্য কথা বোনাস হিসাবে পাওয়া যায় না। এখনকার বেশীরভাগ পরিবারের ছেলেমেয়েদের দেখা যায় অনেক বেশী সেনসিটিভ। তারা বকা ঝকা সহ্য কর‌তে পা‌রে না। অল্প‌তেই  তারা ইমোশনাল হ‌য়ে যায়। এই  পৃথিবীর কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু ক‌রে সব ক্ষেত্রেই সহনশীলতা অনেক বেশী জরুরী। সব সময় ভাল ব্যবহার ও যথাযথ মর্যাদা পাবে তার নিশ্চয়তা নেই। পৃথিবীর বেশীর ভাগ মানুষ উন্নতির জন্য ও পেটে খাদ্যের নিশ্চয়তার জন্য ছুটে চলেছে। প্রতিনিয়ত মানুষ যুদ্ধরত। এই  যুদ্ধ চলছে, থামার কোন সু‌যোগ বা লক্ষণ নেই। তাই উঠতি বয়সের বাচ্চা‌দের সহনশীল বানা‌নোটা অতি জরুরী।
আমি এক‌টি ঘটনা শেয়ার করছি। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী একজন ছাত্র প্রিটেস্ট পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল না করার কারণে ক্লাস শিক্ষক পিতাকে ছেলেসহ প্রিন্সিপ্যালের সাথে দেখা করতে বললেন। এ খবর শোনার পর ছাত্রটি আপসেট হয় করে। এর তিন মাস আগে থেকে মাইগ্রেণের সমস্যাটা বেশী ছিল। তখন মাইগ্রেন ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। সপ্তাহে সাত দিনের মধ্যে পাঁচদিনই বিছানায় শোয়া। এভাবে দেড় মাস অসুস্থ থাকল, এর মধ্যে চার জন ডাক্তার বদল হয়েছে। কোন সুরাহা হচ্ছে না। মাইগ্রেন বেড়েই যাচ্ছে। চোখের চশমার পাওয়ার ঠিক, এক্সরে করে সাইনাসের কোন সমস্যা ধরা পড়েনি। সিটি স্ক্যান ব্রেনের করে কোন সমস্যা পাওয়া যায়নি। মাইগ্রেণের অনেক কারণ অজানা। কারণ পিতাকে নিয়ে প্রিন্সিপ্যালের মুখোমুখি হওয়ার হিমুলিয়েশন সে নিজের অজান্তে হয়তবা আঘাত পেয়ে থাকতে পারে। ফলে মাইগ্রেণের তীব্রতা এরুপ কোন অজানা কারণ থাকতে পারে। মাইগ্রেণের অনেক অনেক কারণ ডাক্তারদের অজানা। ছেলে পরীক্ষায় খারাপ করায় তাকে পেরেন্টসহ প্রিন্সিপ্যাল ডাকবে, এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তা অনেক সেনসিটিভ বাচ্চারা মানসিক ভাবে মুষড়ে যেতে পারে এবং অসুস্থ হতে পারে।
তার মাইগ্রেণের ভয়াবহতায় দেড় মাস চিকিৎসা চলার পর তার সাধারণ পড়া‌শোনার ধারা বদল ক‌রে কম চাপ সৃষ্টি ক‌রে তার উপ‌যোগী বিষ‌য়ে পড়ার ব্যবস্থা করতে হল।
পৃথিবীটা আমরা যেভাবে চাই। সেভাবে পৃথিবীটা পাব না। আমরা যেভাবে চিন্তা করি। পৃথিবীর সব মানুষ সেভাবে চিন্তা করব‌ে না। সকল মানুষের আর্থিক অবস্থা এক রকম নয়। যেহেতু সমতা এক রকম নেই। মানুষের আচরণ এক হবে না। কখনও কর্মক্ষেত্রে  পাওয়া যাবে ভাল বস। কখনও পাওয়া যাবে বুলি বস। সমস্ত ধরনের বস‌দের সাথে কাজ করার প্রশিক্ষণ সেন্টার হ‌তে পা‌রে স্কুল বা কলেজ।
একটা ভাল বিষয় দেখলাম, এখনকার স্কুল গুলিতে ম‌টি‌ভেটর বা কাউন‌সিল‌রের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এটা একটা ভাল ব্যবস্থা। স্কুল‌ের বাচ্চা‌দের সব সময় পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে খাপ খাওয়া‌নো শেখা‌নোটা অনেক বেশী প্র‌য়োজনীয়। তা‌দেরকে পৃথিবীর বাস্তবতা ‌শেখা‌নোটা অনেক জরুরী। পৃথিবীর সকল মানুষ কখ‌নো ভাল করা সম্ভব নয়। উন্নত পড়া‌শোনা। উন্নত জীবন বিধান দ্বারা মানুষের অপরাধ কমা‌নো ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু অপরাধ নির্মূল করা যাবে না। অপরাধ নির্মূল করার জন্য পারিবারিক শিক্ষা ও মূল্য‌বো‌ধের বিকাশ অনেক বেশী প্র‌য়োজন। পিতামাতা‌কে সন্তান গ্রো‌মিং করার শিক্ষাটা গ্রহণ করার প্র‌য়োজন। স্কুল ও কলেজের শিক্ষক‌দের প্র‌য়োজন জীবনযাপন বিষ‌য়ে ম‌টি‌ভেশন করা। কিভাবে বিরূপ অবস্থা মোকা‌বেলা কর‌তে হবে তার উপর মনস্তাত্ত্বিক ট্রেনিং দি‌তে হবে। কিভাবে কারো টিজিং, এবিউজ ব্যবহার ও বুলি মোকা‌বিলা কর‌তে হবে তার ট্রেনিং এখনকার ছেলেমেয়েদের জন্য প্র‌য়োজনই নয়, অত্যাবশ্যকীয় বটে। পরিশেষে বলা যায়, ছেলেমেয়েদের পিতামাতা‌কে ডে‌কে হেনস্তা করা অপেক্ষা ম‌টি‌ভেটর বা কাউন‌সিলা‌রের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীর সাথে কথা বলে অতঃপর পিতামাতা‌কে ডাকাটা উত্তম। হুট ক‌রে পিতামাতা‌কে জবাবদী‌হিতা করার জন্য ডাকাটা ছেলেমেয়েদের নার্ভাস সিস্টেম ব্রেক কর‌তে পা‌রে।

Thursday, October 25, 2018

ধনী হয়েও শত্রু মুক্ত থাকা


বাংলাদেশে নাকি ১৭% হারে কোটিপতি বাড়ছে। যা কিনা বিশ্বের সর্বোচ্চ। আমাদের চারিদিকে অনেকের সুন্দর চকচকে গাড়ী ও চোখ ধাঁধানো বাড়ী আমাদের নজর কারে। এই ধরনের বাড়ী ও গাড়ীতে মানুষের নজর কারে। মনে করুন, আপনার কাছে একটি বাড়ী ও সম্পত্তি আছে; যার মূল্য দশ কোটি টাকা। এরূপ কোটি পতির সংখ্যা এই দেশে কয়েক লক্ষ। আপনি সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দিলেন। আপনি দশ কোটি টাকা তিন চারটি ব্যাংকে ইসলামী আমানত হিসাবে রেখে দিলেন। আপনি যদি ৬% করে পান, তবে আপনি মাসে পাঁচ লক্ষ টাকা পাবেন। এখন এই পাঁচ লক্ষ টাকায় আপনি বাড়ী ভাড়া করলেন ৬০হাজার টাকায়, দুইটি গাড়ী ভাড়ায় রাখলেন অন কল ২০ হাজার করে ৪০ হাজার টাকা। ১ লক্ষ টাকা চলে গেল। এখন আপনার বাচ্চাদের জন্য খরচ করলেন মাসে আরো ১ লক্ষ টাকা। কাজের কাজের লোক ও বুয়া ৫০ হাজার টাকা। চিকিৎসা ও অন্যান্য ৫০ হাজার টাকা; মোট ১ লক্ষ। বাসার বাজার,নামীদামী হোটেলে খাওয়া ও বেড়ানো ১ লক্ষ টাকা। ইনকাম ট্যাক্স ও মাসিক সঞ্চয় ১ লক্ষ টাকা। তাহলে ৫ লক্ষ টাকার বিতরণ হয়ে গেল। খেয়াল করে দেখুন, আপনার বাড়ী নাই। গাড়ী নাই। আপনার শত্রু নাই। আপনার ভাড়া বাড়ী। ভাড়া গাড়ী। সমস্যা হল, পছন্দ হচ্ছে না, চালকসহ গাড়ী বদল করে নিলেন। বাড়ী পছন্দ হচ্ছে না, বদলিয়ে নিলেন। আমি আপনাকে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, আপনি বাড়ী ও গাড়ীর মালিক না হওয়ায়, আপনি ভাদাইম্মা। আপনার আত্মীয় স্বজন আপনার ইগনোর করবে আপনার পিছনে লাগতে আসবে না। আপনার কাছে কিছু আশা বা চাহিদা করবে না। কারণ আপনি ভাদাইম্মা। অথচ আপনি নতুন চকচকে ভাড়া করা বাড়ীতে থাকছেন। চকচকে ভাড়া করা গাড়ীতে চড়ছেন। বাড়ীর জন্য আপনার ট্যাক্স দিতে হচ্ছে না। গাড়ীর জন্য ট্যাক্স দিতে হচ্ছে না। আপনি একাধিক ব্যাংকে টাকা রাখার কারণ হল, কোন ব্যাংক যদি হায় হায় হয়ে যায়, আপনি পুরোটা হারাবেন না। অনেকে বলবেন, জমি খাটি। অথচ এই জমি দখল হয়ে যেতে পারে। মামলা করে আপনি ফতুর হয়ে যাবেন। আপনি যদি একটি গাড়ী পোষেন আপনার মাসে ৫০ হাজার টাকা খরচ যাবে। আপনার গাড়ীর মেরামত ও দুর্ঘটনা। চালকের নানা রূপ উপদ্রব আপনার সহ্য করতে হবে। যদি পার্ট টাইম দুইটি গাড়ী চুক্তিতে ভাড়া রাখেন তবে বর্তমান বাজার দরে ২০ হাজার করে ৪০ হাজার টায় দুইটি গাড়ী চুক্তিবদ্ধ ভাড়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। কারণ আমাদের নিজের গাড়ী থাকলেও তা বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টা ব্যবহার করা যায় না বা লাগে না। কারণ আমাদের দেশের অনেক মার্কেট আছে বাড়ীর আশে পাশে। অনেক স্কুল আছে বাড়ীর আশে পাশে। তাই মাঝে মাঝে বেড়ানোর জন্য মূলত গাড়ীর ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। অনেকে চিন্তা করবেন বাড়ী না থাকলে মেয়ে বিয়ে দেয়া যায় না। ছেলে বিয়ে দেয়া যায় না। সেই সমস্ত ক্ষেত্রে ছেলে মেয়ের নামে কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট গ্যারান্টি হিসাবে প্রদর্শন করতে পারেন। এতে যদি কেই কনভিন্স না হয় হবে সেই বিয়ে না দেয়াই ভাল। ছেলে বা মেয়ের ক্ষেত্রে এখনকার সময় কর্মজীবি হওয়াটা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সাধারণ মানের পরিবারে হতে পারে। কর্মজীবীরা উদ্যমী ও পরিশ্রমী হয়। যে রোজগারের টেকনিক জানে, তার ভাতের অভাব হয় না।
অন্য কথায় চলে গেলাম। আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য হল, অত্যন্ত সহজ ও সাধারণ জীবন যাপন করা। বাইরের মানুষকে একটা সাধারণ লুক দেয়া। যাতে ঈর্ষা থেকে শত্রু কম হয়। শত্রু যত কম হবে, আপনি তত ভাল থাকবেন। আপনার স্ট্রেস কম থাকবে। স্থাবর সম্পত্তি যত কম থাকবে, আপনি তত মামলামুক্ত, কর মুক্ত ও মানুষের চোখ টাটানি থেকে দূরে থাকবেন। আপনি যখন ভাড়া করা বাড়ী ও ভাড়া করা গাড়ীতে থেকে ভাদাইম্মা হয়ে যাবেন; আপনার গরীব আত্মীয় স্বজনও আপনাকে তাদের অবস্থানে ধরে নিয়ে আপনার সাথে ভাল সম্পর্ক রাখবে। তাই সমস্ত স্থাবর সম্পদ ছেড়ে দিয়ে ভাদাইম্মা হওয়াটা ভাল। এতে আপনি ধনী হয়েও শত্রু মুক্ত থাকতে পারবেন।

Thursday, October 18, 2018

নিজের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়াটা কষ্টকর


আপনি গাড়ীর চালাবেন। সিটবেল্ট পড়ুন। মটর সাইকেল চালাবেন। হেলমেট পড়ুন। কনস্ট্রাকশনের কাজ করবেন। সেফটি গিয়ার পড়ুন। রান্না করবেন। গ্লাভস এ্যাপোন পড়ুন। আপনি বাগান করছেন। বুট ও গ্লাভস পড়ুন। আপনি প্লেট-ধুচ্ছেন। গ্লাভস পড়ুন। এগুলো আপনার নিরাপত্তার জন্য আপনি পড়বেন। রান্না করতে গিয়ে আগুনের ছ্যাকা খাওয়া পুড়ে যাওয়া অহরহ ঘটছে। সবজি কাটতে গিয়ে হাত কাটছে অহরহ। গরম খাবার ও গরম পানি গায়ে ছিটে পড়তে পারে। এতে এ্যাপ্রোন কিছুটা প্রটেকশন দিতে পারে। গ্লাভস প্রটেকশন দিতে পারে। অথচ দেখুন কোনটাই আরামদায়ক নয়।
সড়ক দু:ঘটনায় অনেকেই মারা যায়। বেশীরভাগই সিট বেল্ট ছাড়া ও হেলমেট ছাড়া গাড়ী ও মটর স্যাইক্যাল চালনায় মৃত্যুকে আলিংগন করে। মটর সাইক্যাল যে চালায়, তার জন্য হেলমেট নিয়ে চালানো খুবই যন্ত্রণাদায়ক একটা বিষয়। শুধু ডিটারমিনেশন ও বাহ্যিক নিয়মের কড়া চাপই পাড়ে একজনকে হেলমেট পড়াতে। একইভাবে মটর স্যাইক্যালের সহযাত্রী যিনি তিনি আরো বেশী অনিরাপদ। কারণ যিনি চালাচ্ছেন তিনি অনেক কিছু বুঝতে পারলেও পিছনে বসা ব্যক্তিটি নাও বুঝতে পারে। নিরাপত্তার জন্য পিছনের ব্যক্তির জন্য হেলমেট অনেক অনেক জরুরী। ছোট বাচ্চা, যাকে মটর সাইক্যালে বসানো হয়; তার জন্যও প্রয়োজন। অনেকে বছরের পর বছর মটর সাইক্যাল চালাচ্ছেন। অনেক বেশী আত্মবিশ্বাসী। তিনি অল্প দূরত্বের পথটুকু হেলমেট পড়তে চান না। অথচ দু:ঘটনার কোন সময় নেই। যে কোন সময় যে কোন অবস্থায় তা ঘটতে পারে।
সেদিন দেখলাম, আমার ৮ বছরের মেয়ে হাতে গ্লাভস পড়ে মাইক্রোওভেন থেকে খাবার বের করার জন্য বসে আছে। আমি তার কাছে জানতে চাইলাম; যখন খাবার বের করবে, তখন পড়লেই হত। সে বলল, যদি খাবার বের কারার সময় যদি গ্লাভস পড়তে মনে না থাকে। আর খাবার ওভেন থেকে বের করতে গিয়ে যদি হাতটা পুড়ে যায়। আমি চিন্তা করে দেখলাম; এর মধ্যে যুক্তি আছে। খাবার হয়ে গেল, টুন টুন শব্দ হল; তখন গ্লাভস না পড়েই ওভেন থেকে খাবার বের করে আমরা হাতটা পুড়তে পাড়ি। তাই নিরাপত্তার এই ধারনাটি খারাপ নয়। আমাদের দেশে বেশীরভাগ মহিলারা অ্যাপ্রুন ব্যবহার করে না। তেলে ভাজাভাজি করার সময় গ্লাভস ব্যবহার করে না। মুখে মাস্ক ব্যবহার করে না। মাথায় নেট ব্যবহার  করে না। শুধু খাবারের হাইজিনই নয়। নিরাপত্তার জন্য গ্লাভস ও অ্যাপ্রুন পড়াটা প্রয়োজন। সচেতনতা অনেক জরুরী বিষয়। দু:ঘটনা ঘটার আগে তা নিরোধ করতে হবে। ঘটে গেলে আর কিছুই করা থাকে না। নিরাপত্তার মানসিকতা একটা শক্তিশালী বিষয়। মানুষের মাঝে নিরাপত্তার সচেতনতা আনতে পারলে মানুষ তাকে নিরাপদ রাখার কৌশল ঠিকই বের করে নিবে।
নির্মানকর্মী কেন হেলমেট পড়বে। এটা বুঝানো জটিল বিষয়। কেন গ্লাভস পড়বে তাও তাকে বুঝানো কঠিন। কারণ এগুলো আরামদায়ক নয়। আমাদের দেশের বেশীর ভাগ নির্মাণ শ্রমিক এগুলো পড়তে চায় না। অথচ দেশের বাইরে গেলে পড়ে। কারণ ওখানে সেফটি গিয়ার না পড়ে কোন দু:ঘটনায় পড়লে বীমা কোম্পানি কোন ক্ষতিপূরণ দিবে না। তাই সবাই সেফটি গিয়ার পরে। কষ্ট বা অস্বস্থি এমন একটা বিষয় মানুষ যথেষ্ট বাধ্য না হলে মানুষ মানতে চায় না। আমার এক আত্মীয়ের কাছে শুনেছিলাম, তার ক্যাবল টিভির ব্যবসা আছে। তার ক্যাবল টিভির এক শ্রমিক বিদ্যুতের পিলারের উপর দিয়ে লাইন নিতে গিয়ে তার ছুড়ে মেরেছে; ইনসুলিন ছাড়া বিদ্যুতের সরবরাহের লাইনের উপর দিয়ে। সেই সরবরাহের লাইনে ডিশের তার আটকিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে ছেলেটা মারা যায়। আমার আত্মীয়টি তার পরিবারের কথা চিন্তা করে যথেষ্ট পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেয়। আমি আমার আত্মীয়কে বললাম, আপনি একটা ব্যবস্থা এরূপ করতে পারেন; আপনার মাঠের টেকনিশিয়ানরা হেলমেট, গ্লাভস ও বুট পড়ে কাজ করবে। উঁচু জায়গায় উঠলে তাকে হুক ব্যবহার করে আটকিয়ে নিবে। এটা দলিলে লিখয়ে নিতে পারবেন। তাতে আপনার লাভ হবে। আপনার কর্মীদের সেফটি আপনি নিশ্চিত করতে পারবেন। মৃত্যুর মত ভয়াবহ ক্ষতি থেকে বাঁচানো যাবে। আর কর্মী দলিল লেখার কারণে কষ্ট হলেও আপনার সেফটি গিয়ার ব্যবহার করবে।
পরিশেষে বলব, শারীরিক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অনেক অনেক রিস্ক বা বিপদ আছে। এটার জন্য সর্বদা প্রস্তুতি লাগবে। সেটা কষ্টকর হলেও তা চালিয়ে যেতে হবে।

Thursday, October 11, 2018

বাংলাদেশের নারী ও বাই-সাইক্যাল


ঢাকা শহরে এক বছরের উপরে হল চাকুরীর সুবাদে পোস্টিং আছি। এই এক বছরে অনেক নারীকে গাড়ী ও মটর সাইক্যাল চালাতে দেখেছি। কিন্তু নারী বাই-সাইক্যাল চালনাকারী খুব বেশী একটা দেখা যায় না। আমি একবছর ঢাকায় থাকার পর ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় এলাকায় একজন নারী বাই-সাইক্যাল চালনাকারী দেখেছি। মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। একটা ব্যাক প্যাক পিঠে নিয়ে বাই-সাইক্যাল চালাচ্ছে। যথেষ্ট ভাল চালায় তা বলা যাবে না। কারণ ট্রাফিক সিগন্যালে বাই-সাইক্যাল থেকে নেমে পড়ে সাইক্যাল হাতে দাড়াতে দেখলাম। আবার জ্যাম ক্লিয়ার হওয়ার পর সতর্কতার সাথে পার হল। আমার মনে আছে ২০১৬ সালে আমি বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা আইসিপি দিয়ে ভারতের কলিকাতায় ভাড়া করা কারে ভ্রমণ করি। ভারতের গেদে সীমান্ত থেকে কলিকাতার যাওয়ার পথে রাস্তায় একটা কমন দৃশ্য দেখেছি তা হল মেয়েদের বাই-সাইক্যাল চালানো। আমাদের দেশে গ্রামে এনজিওতে চাকুরীরত মেয়েরা সাইক্যাল চালায় এটা কমন একটা দৃশ্য। ছাত্রীদের বিশেষ করে ঢাকা শহরে ছাত্রীদের বাই-সাইক্যাল চালাতে দেখা যায় না। এর কারণ অনিরাপদ সড়ক হতে পারে। সাইক্যাল লেন না থাকাও একটা কারণ হতে পারে।
আমার অনেক লেখনী‌তে স্মার্ট সিটি নি‌য়ে কথা বলেছি। স্মার্ট সিটিতে হাটা ও বাই সাইক্যা‌লের ব্যবস্থা থাকবে। সমস্ত রাস্তার পাশে ফুটপাত আর রাস্তার মাঝে বাই-সাইক্যাল লেন বেশ জরুরী। কারণ রিক্সা বাই-সাইক্যাল হল পরিবেশ বান্ধব যান। অনেক দেশে রিক্সা নেই। আমাদের দেশে আছে। রিক্সা থাকুন। অনেক গবেষণা ক‌রে রিক্সা গু‌লো ব্রেক সিস্টেম ও নিরাপত্তা বাড়ালে চলবে। রিক্সা ও বাই-সাইকেলের জন্য আলাদা লেন থাকলে কখ‌নোও  ব্যাটারি চালিত রিক্সার বা সাধারণ রিক্সার নিরাপত্তা ঝুঁকি কমে যাবে বলে মনে করা যায়।
আমা‌দের দেশের প্রায় নব্বই শতাংশ মে‌য়ে রিক্সা, স্কুটার ও ওবার ইত্যাদিতে যাতায়ত ক‌রে; ধাক্কাধাক্কি পরিহার করা ও নিরাপত্তার জন্য তা ক‌রে থা‌কে। এখন রিক্সা ও বাই সাইক্যা‌লের জন্য আলাদা লেন কর‌তে পারলে সবচেয়ে লাভবান করা যাবে মেয়েদের। এতে অনেক মেয়েই বাই-সাইক্যাল চালা‌তে সাহস পাবে। মে‌য়েরা অধিক পরিমাণ বাই-সাইক্যাল চালালে সমাজের কিছু লাভ হবে। সবচেয়ে বড় লাভ হবে মেয়েদের শরীরে কায়িক পরিশ্রম করার সক্ষমতা বাড়বে। তারা কম রোগাক্রান্ত হবে। সক্ষম মা হবে। উন্নত স্বাস্থ্যের সন্তান জন্ম দি‌তে পারবে। তা‌দের মাঝে মূখা‌পেক্ষতা কমে যাবে। তারা আত্মনির্ভরশীল  হবে। ভার‌তে ২০১৬ সালের মার্চ মাসের দি‌কে ভারত ভ্রমণের সময় অনেকের কছে শুনেছিলাম  পশ্চিম বংগের মুখ্যমন্ত্রী প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের পড়া‌শোনা উন্নয়নের জন্য সাড়ে তিন লাখ বাই-সাইক্যাল স্কুলের ছাত্রী‌দের মাঝে বিতরণ করেন। মেয়েদের বাই-সাইক্যাল ছেলেদের থেকে বেশী পরিমাণে চালা‌নো প্রয়োজন। এটা এমন একটা ট্রেনিং যা কিনা একটা নারী‌কে তার সম্ভ্রম রক্ষা ক‌রে পুরুষের স্পর্শ ছাড়া যাতায়ত নিশ্চিত করবে। বাসে ও অন্যান্য গণ প‌রিবহ‌নের যাতায়‌তে নারী‌দের নামা উঠার পথে ও ভিড়ের ধাক্কায় পুরুষের সাথে ধাক্কা যুদ্ধ পড়‌তে হয়। তা নারীর জন্য ও সকলের জন্য বিব্রতকর। তাই পরিবেশ বান্ধব বাই-সাইক্যা‌লে নারী‌কে অভ্যস্থ কর‌তে পারলে নারী হ‌য়ে উঠবে অনেক অনেক বেশী আত্মপ্রত্যয়ী ও ক্ষমতাধর।
গ্রামের রাস্তা ঘাট অনেক বেশী দু‌রে দূরে। সেখানে ছাত্রী‌দের ছোট বয়স থেকে বাই-সাইক্যাল দেয়াটা প্রয়োজন। গ্রামের স্কুল কলেজ অনেক দূরে দূরে। সেখানে গনপ‌রিবহন তেমন নেই। ছাত্রীরা অনেক দূরের রাস্তা হেঁটে পার হয়। অনেক সময় ব্যয়‌ হয় ও শারীরিক চাপ যায়। বাই-সাইক্যাল তা‌দের স্কুল ও কলেজে আসা যাওয়ার শারীরিক চাপ কমা‌তে পারবে। পড়া‌শোনায় তারা আরো এগিয়ে আন‌তে পারবে।
বাংলাদেশের গ্রামে অনেক স্থানে মেয়েদের স্বতঃস্ফূর্ত বাই-সাইক্যাল চালু থাকলেও অনেক স্থানে চালু নাই।  সরকার ও অনেক সংস্থা গ্রামের মেয়েদের বাই-সাইক্যাল অনুদান দিতে পারেন। পিতামাতা মেয়েদের বাই-সাইক্যাল চালনায় উতসা‌হিত কর‌তে পারেন। সামর্থবান বাবা মায়েদের মেয়েদের অবশ্য বাই-সাইক্যাল কিনে দি‌তে পারেন ও উতসা‌হিত কর‌তে পারেন।
মে‌য়েরা পর্দায়‌ থে‌কেও বাই-সাইক্যাল চালা‌তে পা‌রে যেভাবে সৌ‌দি মে‌য়েরা হিজাব পড়ে অলিম্পিকে যোগদান ক‌রে।
পরিশেষে আশা থাকবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সাথে মে‌য়ে আরো বাই-সাইক্যাল চালাবে ও সক্ষমতা অর্জন করবে।

Thursday, October 4, 2018

গৃহস্থলীর ইলেক্ট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ক্রয়ের বিপরীতে সেবা ক্রয়


আমি একটা স্বর্ণের দোকানে স্ত্রীর জন্য স্বর্ণ কেনার সময় সেখানকার স্বর্ণকার বললেন; আপনি যে স্বর্ণের জিনিষটি কিনলেন তা যত বছর পরেই হোক কাগজটা নিয়ে আসবেন, আমরা তখনকার দামে ওজন করে ১০% বাদ দিয়ে আপনার কাছ থেকে কিনে নিব। শুনতে খুব ভাল মনে হল। যদিও অত লাভজনক ডিল না। কারণ এখন তিনি নিচ্ছেন আমার কাছ থেকে ২২ ক্যারেট সোনার দাম। আমার থেকে পুনরায় ক্রয় করার সময় তিনি দিবেন অর্ধেক স্বর্ণের দাম যা কিনা তাদের ভাষায় সনাতনী সোনার বা পুরাতন সোনার দাম। যা কিনা প্রায় অর্ধেক দাম। তারপর ১০% বাদ দিবে। অবশ্য ভাল ডিল নয়। তবুও আমরা অনেকেই তাতে সন্তুষ্ট হব। ধরুন আপনি স্বর্ণের ডিজাইন বদল করতে চাচ্ছেন। তখন প্রয়োজনে লস দিয়ে হলেও আপনি নতুন ডিজাইনের সামগ্রী কিনতে পারছেন। মন্দের ভাল।
এখন আপনি ধরুন টিভি কিনেছেন। আপনি চাচ্ছেন পাঁচ বছর পর মডেল চেঞ্জ করতে। এখন আপনাকে প্রায় পানির দামে টিভিটি বিক্রি করতে হবে। তারপর নতুন কিনতে হবে। এখন যদি এমন সিস্টেম থাকে, ধরুন আপনার টিভিটি ১০ বছর ব্যবহার করার পর তা আপনি ২০০০ টাকায় বা সর্বনিন্ম একটা দাম ইচ্ছে করলে যে কোম্পানির কাছ থেকে কিনেছেন তাদের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। আর ধরুন আপনি টিভিটি ৫ বছর পর টিভিটি বদল করতে চাইলেন টিভিটির পাঁচ বছর ব্যবহারের জন্য অর্ধেক দাম বাদ দিলেন, যে দাম থাকবে তা নতুন কেনা টিভির সাথে মূল্য অ্যাডজাস্ট করলেন। তাহলে পুরাতন টিভির কি হবে। এটা অর্ধেক দামে রিকন্ডিশান মাল হিসাবে শো রুমে বিক্রি করবে। এই শর্তে যে টিভিটি অবশিষ্ট পাঁচ বছর না চললে হয় ব্যবহারকারী বা ক্রেতা ফেরত দিতে পারবেন বা নতুন বা পুরাতনের সাথে বদল করে নিতে পারবেন। এটা করলে কেমন হয়? আমরা যে কোন ইলেকট্রিক সামগ্রী কিনলে প্রথমে টেনশনে থাকি যে, এই সামগ্রীটি কিনে সেটি নির্ধারিত সময় চালাতে পারব কিনা না। তার আগেই নষ্ট হবে কিনা। কোন জিনিষ কিনলাম কয়েকদিন পর আর ভাল লাগছে না। অথচ এই টিভিটি অন্য কারো জন্য কাজের হতে পারে। একটা কথা প্রচলিত আছে, শো রুম থেকে কোন পণ্য বাইরে বেরুলে তার মূল্য অর্ধেক হয়ে যায়। এই জায়গাটিতে ক্রেতার কোন স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না। ক্রেতা সব সময় ভয়ে থাকে আমি ইলেকট্রিক বা ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রীটি কিনে বিক্রয়োত্তর সেবা পাব কিনা। বাস্তবতা হল কেউই বিক্রয়োত্তর সেবা পায় না। কারণ শো রুম বা দোকানীরা কোন না কোন বাহানায় ঘুরাতে থাকবে। তার চেয়ে এটা ভাল নয় কি সমস্ত প্রোডাক্টের একটা আয়ু ধরা থাকবে। আবার প্রোডাক্টের একটা সর্বন্নিম দাম ধরা থাকবে। যা কিনা পণ্যটির ভাঙ্গারি দাম বলা যেতে পারে অর্থাৎ এই দামটি ক্রেতা মাল ক্রয়ের অনেক বছর পরও দ্রব্যটি রিকন্ডিশন ফেরত দিলে মূল্যটা ফেরত পাবেন। আপনি ১০ বছর আয়ুর টিভির ১৫ বছর দেখার জন্য দোকানে ফেরত আনলেন। আপনাকে নতুন টিভি দেয়া হল এবং নতুন টিভির মূল্য হতে পুরাতন টিবির সর্বন্নিম দামটি( মনে করি ২০০০ টাকা) বাদ দিয়ে আপনার নতুন টিভির দামটি সাশ্রয় করা হল। আমরা অনেকেই আছি যারা চাই আমাদের পুরাতন সামগ্রীটি সরিয়ে নতুনটি রাখতে। অনেক ক্ষেত্রের পুরাতন সামগ্রীর দাম কেউ বলে না বা বিক্রি করা যায় না। তখন তা ই-বর্জ্য হয় বা কাউকে দান করতে হয়। ভাঙ্গারি হিসাবে অতি নগণ্য মূল্যে ক্রয় করা যাবে।
আমরা টিভি, ফ্রিজ, এসি ও হাউজ হোল্ড সামগ্রী ক্রয় করি। ব্যবহার করি। কিন্তু আমরা সব সময় ভয়ে থাকি আমার কেনা দামী দ্রব্যটি নষ্ট হলে এটি ওয়ারেন্টি হয়ত ঠিকভাবে পাব না। আবার অনেক টাকা খরচ করে নতুন সামগ্রী কিনতে হয়। কষ্টকর অভিঞ্জতা। আমি আপনাদের এতক্ষণ আলোচনা পর নতুন ব্যবসায়িক ধারনা তুলে ধরছি। তা হল একজন ক্রেতা যে কোন সামগ্রী নষ্ট হওয়ায় বা অন্য কোন কারণে ফেরত দিতে চাইলে সে তা ফেরত দিয়ে নতুন আইটেম নিতে পারবে। পুরাতন সামগ্রীর যত বছর ওটার আয়ু অনুযায়ী বকেয়া আছে সেটার বেনিফিট তাকে দেয়া হবে। অনেকে বলবেন, তাহলে ফেরত আসা পুরাতন সামগ্রীতে তো শো রুম ভর্তি হবে তার কি হবে। তবে যথাযথ ভাবে পুরাতন সামগ্রী বিক্রয় করতে পারার একটা কালচার শো রুমে চালু করা সম্ভব।
এভাবে রিপ্লেসমেন্ট সেবা দিয়ে ইলেকট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রীর কালচার চালু করলে মানুষ অনেক অনেক উপকার পাবেন। এই বিজনেস মডেলটি অনেকেই চিন্তা করতে পারেন। এই ধরনের বিজনেস মডেল পরিবেশের জন্য অনেক উপকারে আসবে কারণ সমস্ত ইলেকট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রীর টেকসই ও সর্বোচ্চ ব্যবহার হবে।