Pages

Thursday, April 25, 2019

সময় দুই ঘন্টা ও সি‌রিয়াল যুদ্ধ

নিউ‌রো‌মে‌ডি‌সিন ডা: দ্বীন মোহাম্মদ। সকল ডাক্তার সি‌রিয়াল দেন একভা‌বে তি‌নি দেন আ‌রেকভা‌বে। রোগী দেখা শুরু ক‌রেন ৩টা থে‌কে। প্রথ‌মে হাসপাতা‌লের রোগী। তারপর সি‌রিয়াল রোগী। সি‌রিয়াল রোগীর ক্ষ‌েত্রে প্রথ‌মে নতুন রোগী। তারপর পুরাতন রোগী। রোগী‌দের যথারী‌তি ১০০ টাকা ভি‌জি‌টের বাই‌রে প‌রি‌শো‌ধে চ‌লে রোগীর হি‌স্ট্রি লেখা। এই  ডাক্তার সা‌হে‌বের রোগী দেখা‌নোর জন্য যতটুকু সম্ভব সি‌রিয়াল যুদ্ধ ভিন্ন রকম। অন্য‌দের সি‌রিয়াল যুদ্ধ হল এক মাস দেড় মাস অ‌পেক্ষা করা। ওনার সি‌রিয়াল যুদ্ধ হল মোবাই‌লে বি‌শেষ একটা নম্ব‌রে ট্রাই কর‌তে থাকা। একঘন্টা ধ‌রে সেই নম্বর‌টিতে ট্রাই ক‌রে সি‌রিয়াল লেখা‌তে হ‌বে। এক জ‌টিল এক হিসাব। যারা সি‌রিঢাল দেন তারা ডাক্তার সা‌হে‌বের পু‌রো বিষয়টা বেশ ভালভা‌বে দেথভাল ক‌রেন। ওনার আ‌শে পা‌শের মানুষ জ‌নের কা‌ছে র‌য়ে‌ছে এই  ব্যবস্থার মিশ্র প্র‌তি‌ক্রিয়া। কেউ বল‌ছেন দি‌নে দি‌নে সি‌রিয়াল পাওয়ার একটা ভাল ব্যবস্থা। কেউ বল‌ছেন লটারী জেতার মত। ত‌বে ডাক্তার সা‌হেব রোগী দেখার জন্য ব্যবস্থা‌টি ক‌রে‌ছেন তার ম‌ধ্যে একটা বি‌শেষত্ব আ‌ছে। দি‌নে নির্ধা‌রিত ৫০টি রোগী। রাত নয়টার মধ্যে ওনার রোগী দেখা শেষ হয় তারপর নানা ধর‌নের কনসাল‌টেন্স‌ি সেশন থা‌কে। পু‌রো ব্যবস্থাপনা মন্দ না। সি‌রিয়াল বা‌ণিজ্য একটা সমস্যা অ‌নেক ডাক্তা‌রের চেম্বা‌রে। এভা‌বে অবশ্য বা‌ণিজ্য কমা‌নোর একটা ভাল ব্যবস্থা থা‌কে। অ‌নেক ডাক্তার সা‌হেব‌ের সি‌রিয়া‌লে এক ম‌াসা‌ধিক কাল সি‌রিয়াল থাক‌লেও এক রক্ষণা‌বেক্ষ‌নে একটা সমস্যা থা‌কে। ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের নিউ‌রো সাইন্স সেন্টা‌রের সি‌রিয়া‌লে একটা ভাল ব্যাপার লক্ষ করলাম। তা হল ওনারা কম্প‌িউটা‌রে সি‌রিয়াল ম্যা‌ন্টেইন ক‌রেন। সি‌রিয়াল আস‌বে তখন কল ক‌রে জানা‌বে। য‌দি কেউ কল ম‌িস ক‌রে তবে ক‌য়েক‌দিন পর পুনরায় আবার কল আস‌বে। এরপর মিস কর‌লে সি‌রিয়াল নম্বর মিস হ‌য়ে যে‌তে পা‌রে। এই বিষয়‌টি মন্দ নয়। ত‌বে সি‌রিয়াল বড় বড় ডাক্তা‌রের জন্য অ‌নে‌ক অ‌নেক লম্বা সি‌রিয়াল দি‌তে হয় এর ম‌ধ্যে ভয়াবহ হল সি‌রিয়াল বা‌ণিজ্য। এই সি‌রিয়াল বা‌ণিজ্য হল ভয়ানক মন্দ বিষয়। এই মন্দ বিষয়‌টি এ‌কেকজন ডাক্তার এ‌কেকভা‌বে চিন্তা ক‌রেন।
‌বিপ‌দের বিষয় হল ডাক্তার‌কে দেখা‌নোটা অ‌নেক সময়ই হয় ইমার্জ‌েন্স‌ি। সি‌রিয়ালওে ইমার্জ‌ে‌ন্সি দুই‌টি‌ সমস্যা যুগপৎভা‌বে ত‌ৈরী ক‌রে ভয়াবহ সমস্যা।
‌মোবাই‌লে সি‌রিয়াল বঞ্চ‌িতরা আবার ডাক্তা‌রের কা‌ছে আ‌সে বুঝা‌নোর চেস্টায় রত থা‌কে। কল কর‌েপোই‌নি সি‌রিয়াল দেন। চ‌লে আ‌রেক দেন দরবার। সি‌রিয়াল প্রদানকারীরা ব‌লে মোবাই‌লে  ৫০ জন পাইল আর আপ‌নি পাই‌লেন না। তখন স‌ত্যি ভয়াবহ অবস্থা। তখন একটা আ‌লোচনা চ‌লে হয়ত নিয়‌মিত রিকু‌ষ্ট চ‌লে। হয়ত নিয়‌মিত সি‌রিয়া‌লের প‌রে চ‌লে রিকু‌য়েস্ট। ডাক্তার কখনও হ্যা ব‌লেন বা কখনও না ব‌লেন। মোবাই‌লে দি‌নের এক ঘন্টার সি‌রিয়াল সি‌স্টেম পছন্দ হ‌য়েছে। ত‌বে পু‌রো সি‌রিয়া‌ল সি‌স্টেমটা হাই‌ব্রিড হ‌লে মন্দ হত না। ডাক্তা‌রের এই সি‌স্টে‌মে অ‌নেক রোগী দি‌নের পর দিন চেস্টা‌ কর‌বে আবার সি‌রিয়াল টা‌বে না। আবার অ‌নেক রোগী সি‌রিয়াল নি‌য়ে আটকা পড়‌বে। আবার কিছু রোগী সুপা‌রি‌শে থাক‌বে। কিছু রোগী‌কে রাখ‌তে হ‌বে হাইব্রিড ব্যবস্থাপনায়।
‌সি‌রি‌য়ে‌লের হাই‌ব্রিড ব্যবস্থাপনাটা জরুরী।
‌সি‌রিয়াল নি‌ঢে উ‌ল্লে‌খিত ডাক্তা‌রের আ‌লোজনার একটা টর্যা‌য়ে একজন বণ‌লেন দে‌খেন ডাক্তার একলা মানুষ। সকল রোগী য‌দি তা‌কেই দেখা‌তে ভিড়  ক‌রেন তা‌তো সম্ভব না। রোগী অন্য‌ ডাক্তা‌রদের বে‌ছে নি‌তে হ‌বে। বিকল্পতে যে‌তে হ‌বে। ন‌চেৎ অন্য‌দের গ্রো হ‌তে না। মাজার বিষয় হল সাধা‌রন মানুষ ডাক্তা‌রের না‌মে তার কা‌ছে ছু‌টেন। আর ডাক্তার‌দের এই  নামটা হয় দি‌নের পর দিন রোগী দেখার সফলতার উপর। তাই সফল ও সুনামধারী ডাক্তা‌রের কা‌ছে সবাই ছুট‌তে চায়। মা‌সের পর মাস সি‌রিয়াল থাকার চে‌য়ে এটা মন্দ নয়। তাই সকল সুনামধারী ডাক্তা‌রে উ‌চিত য‌দি দি‌নে যত রোগী দে‌খেন তা‌দের অন্তত ৫০% প্র‌য়োজন দি‌নের নির্দষ্ট সম‌য়ে ফোন ক‌রে সি‌রিয়াল লটারী যেতা। ২৫% প্র‌য়োজন স্বাভা‌বিক সি‌রিয়াল যারা লাটারী সি‌রিয়া‌লে পায়‌নি তারা। আর বাকী ২৫% প্র‌য়োজন রেফার কেস বা সুপা‌রিশ পে‌শেন্ট। এভা‌বে একটা কম্প‌িউটারাইজ হাই‌ব্রিড ব্যবস্থাপনা হ‌তে পা‌রে। আশার ক‌রি আমা‌দের দে‌শের বেশীর ভাগ ডাক্তার সফল হ‌বেন ও রোগী সমভা‌বে সকল ডাক্তারগ‌নের কা‌ছে যা‌বে। সেটাই হ‌বে কাং‌খিত প‌রিস্থি‌তি।

Friday, April 19, 2019

পৃথিবী রক্ষায় প্রয়োজন আদি কৃষি

মা‌ঝে মা‌ঝে চিন্তা কর‌লে অবাক হই ১৯০০ থে‌কে ২০০০ সাল। পৃ‌থিবী‌তে ব্যাপক উন্নয়‌নের শতক। আবার পৃ‌থিবী‌কে ব্যাপক ধবং‌শের শতকও বলা যায়। এই  সময়ে মানুষ ব্যাপক ভা‌বে পৃ‌থিবীর ভিতরকার খ‌নিজ ধ্বংশ ক‌রে‌ছে। প‌রি‌বেশ ব‌লে কিছু আ‌ছে চিন্তায় আ‌নে‌নি। কৃ‌ষিক্ষ‌‌েতে সার ও কীটনাশক ব্যাপকভা‌বে ব্যবহার ক‌রে ধ্বংশ ক‌রে‌ছে জ‌মির স্বাস্থ্য ও মানু‌ষের স্বাস্থ্য। অ‌নেক অ‌নেক যুদ্ধও ক‌রে‌ছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ইত্যা‌দি। এই  শত‌কে মানুষ ব্যাপকভা‌বে খ‌নিজ পু‌ড়ি‌য়ে‌ছে। কখনও চিন্তা ক‌রে‌নি পৃ‌থিবীর ভির‌রের খ‌নিজ কখনও অফুরন্ত নয়। কৃ‌ষি বাড়া‌নোর জন্য তারা ব্যাপকভা‌বে রাসা‌নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার ক‌রে‌ছে। তা‌দের সময় জ‌ৈব বালাইনাশক ও জ‌ৈব সার তারা জানত। বেশী ফসল ফলা‌নোর আশ‌ায় তারা বৃষক‌কে রোগাক্রান্ত ক‌রে‌ছে। জ‌মির মা‌টি ধ্বংশ ক‌রে‌ছে। অথচ রাসা‌নিক সার ও কীটনাশক আসার আ‌গে মানুষ জ‌ৈব পদ্ধ‌তি‌তে চাষাবাদ ক‌রে‌ছে। জ‌ৈব পদ্ধ‌তির চা‌ষে কৃষক সুস্থ ছিল। সচ্ছল ছিল। এখন মাল্ট‌িনেশনাল কোম্পানী তা‌দের লা‌ভের আশায় রাসায়‌নিক সার ও কীটনাশক‌ে‌ কৃষক‌কে ধ্বং‌শের দ্বারপ্রা‌ন্তে নি‌য়ে গে‌ছে। সরকারী কৃ‌ষি বিভাগ ও মি‌ডিয়া কর্প‌ো‌রেট কোম্পানী গু‌লি‌কে সহায়তা ক‌রে‌ছে। আজ কৃষক জ‌ৈব সার, ভার্ম‌ি কম্প‌োষ্ট, জ‌ৈব বালাই নাশক, মাল‌চিং পেপার ও নেট হাউজ নি‌য়ে এ‌গি‌য়ে যাচ্ছে লাভজনক ও স্বাস্থ্য সম্মত কৃ‌ষির দি‌কে। আমার এখনও ম‌নে আ‌ছে আমার ই‌ঞ্জি‌নিয়ার বাবা আ‌শির দশ‌কে ছু‌টি‌তে গ্রা‌মে গে‌লে তার আত্মীয় কৃষক‌দের উষ্মা প্রকাশ কর‌তেন, কেন তারা বেশী ফল‌নের জন্য সার ও কীটনাশক ব্যবহার কর‌ছে না। কেন তারা ডিপ‌টিউবও‌য়েল ব্যবহার কর‌ছে না। তার প্রায় চ‌ল্লিশ বছর পর আ‌মি গ্রা‌মে গেলে নতুন কৃষক‌দের বল‌ছি রাসায়‌নিক সার ও বিষ বাদ দাও। জ‌ৈব সার ও জ‌ৈব বালাইনাশক ব্যবহার কর। জ‌মি‌তে মালচিং পেপার দাও। ডিপ টিউবও‌য়েল বাদ দাও। চাষাবা‌দের জন্য পুকুর বা খা‌লে বৃ‌ষ্টির পা‌নি জ‌মি‌য়ে তা ড্রিপ ই‌রি‌গেশ‌নের মাধ্য‌মে সব‌জি চা‌ষে ব্যবহার ক‌রো। মা‌টি‌তে কে‌চো আর অনুজীব ফি‌রি‌য়ে দাও। মা‌টি‌তে প্রান আন। মা‌টি‌তে যেখা‌নে ৫% জ‌ৈব সার আর অনুজীব থাকার কথা সেখা‌নে রাসায়‌নিক সার ব্যবহার ক‌রে তার ১% ও বিদ্যমান নাই।
গত শত‌কে কো‌টি কো‌টি টন প্লা‌স্টিক ব্যবহার ক‌রে‌ছে। অথচ সেই  মানুষগু‌লি প্লা‌স্টিক রিসাইক্যাল করার চেস্টা ক‌রে‌নি।
ব্যাক টু দি স্কোয়ার ও ফি‌রি‌য়ে দাও অরণ্য। আজ কো‌টি কো‌টি টাকা খরচ ক‌রে সার কারখানা ত‌ৈরী করার প্র‌য়োজন নাই। আমা‌দের লক্ষ লক্ষ নারীরা গ্রা‌মের রান্নার আবর্জনা, লতাপাতা পচা, গরুর গোবর ও মুরগীর বিষ্ঠা দি‌য়ে ভার্ম‌ি কম্পোষ্ট, ট্রাই‌কো কম্প‌োস্ট ও অনান্য কম্প‌োষ্ট ত‌ৈরী ক‌রে অত্যন্ত কম খর‌চে সার সরবরাহ কর‌তে পা‌রে। এ‌তে নারীরা কম্প‌েষ্টে বিক্রি ক‌রে লাভবান হ‌তে পা‌রে। দা‌রিদ্রতা দূর হ‌বে। রাসায়‌নিক সার ব্যবহা‌রে জ‌মি শেষ ও সার কি‌নে কৃষক ফতুর। জ‌ৈব সা‌রে কৃষাণীর নগদ আয়, জ‌মি উর্বর ও কৃষ‌কের খরচ ক‌মে গি‌য়ে কৃষক লাভবান।
সরবারীভা‌বে জৈব সা‌রের ব্যপক প্রচারনা প্র‌য়োজন। সরকার সা‌রের যে ভর্তু‌কি দেয় সেই  ভর্তুকি সরকার কৃষানী যারা জ‌ৈব সার ত‌ৈরী কর‌ছে তা‌দের ইন‌সেন‌টিভ হিসা‌বে দেয়া যে‌তে পা‌রে।
জ‌ৈব বালাইনাশ‌কের উপর আ‌রো গ‌ভেশনা প্র‌য়োজন। এটা হ‌তে পা‌রে অনান্য রাসায়‌নিক বালাইনাশ‌কের মত পাউডা‌রের ফর‌মে। কৃষক ত‌বে তা সহ‌জে ব্যবহার কর‌তে পার‌বে। এখন নিম পাতা সিদ্ধ কর। মেহগ‌নি বীজ সিদ্ধ কর। কয়েক‌দিন পা‌নি‌তে ভি‌জি‌য়ে রাখ। আবার অ‌নেক সময় গরুর চনা দাও। ইত্যা‌দি নানা জ‌টিল ও কষ্টকর পদ্ধ‌তি‌তে যে‌তে হয়। ডি‌জিটাল যু‌গে মানুষ চায় সহ‌জে সব‌কিছু। তাই কম্প‌োস্ট  সা‌রের মত রে‌ডিমেট প্যা‌কে‌টে ক‌রে জ‌ৈব বালাই নাশক আস‌তে হ‌বে। তা‌বে আশার কথা হল এখন কিছু কিছু প্র‌তিষ্ঠান জ‌ৈব বালাই নাশক প্যা‌কেট জাত কর‌ছে। এগু‌লোর প্রাপ্যতা আ‌রো বাড়া‌তে হ‌বে। পৃ‌থিবী‌কে রক্ষা করার আধু‌নিক উপায় হল ফি‌রি‌য়ে দাও অরণ্য।

Thursday, April 11, 2019

অপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সেট


একশত বিশটা আইটেম টুলসসহ ড্রিল মেশিন। এরূপ আরো অনেক অনেক দ্রব্যাদিসহ অনলাইন অফার চলে। আপনার এক‌টি ড্রিল মেশিন প্র‌য়োজন। সাথে আরো অনেক ড্রিল বিট, প্লায়ার্স, স্ক্রু ড্রাইভারসহ ম্যাগা অফার একটা কিনতে চাচ্ছেন অথচ প্লায়ার্স ও অনেক ক‌টি সামগ্রী আপনার আছে। আপনি চিন্তা করলেন অল্প কিছু টাকা বেশী খরচ ক‌রে অনেক কয়‌টি সামগ্রী আমি নি‌তে পারব। অনেক ক‌টি সামগ্রী নি‌তে পারাটা সর্বদা ভাল অপশন নয়। প্রথমে আপনি অনেক ক‌টি অপ্র‌য়োজনীয় সামগ্রী কিনলেন এগু‌লো কোন একদিন আপনার কাজে লাগবে। ঘর পরিষ্কার রাখার একটা ফর্মুলা হল আপনি যদি দেখেন আপনার ঘরের কোন দ্রব্য বা জিনিস এক বছরে একবার ব্যবহার হয় নাই তবে তা আপনি চোখ বন্ধ ক‌রে ত্যাগ কর‌তে পারেন। কারণ সে দ্রব্য‌টি আপনার দ্বিতীয়বার ব্যবহারের সম্ভবনা অনেক অনেক কম। অনেক দ্রব্য বা আইটেম কেনার মধ্যে আনন্দ থাক‌তে পা‌রে। কিন্তু লাভ নাই। কারণ আপনার অপ্রয়োজনীয় কোন দ্রব্য ও টুলস রাখা মানে আপনার রক্ষণাবেক্ষণের চাপ বাড়া‌নো। আপনার রাখার স্থান বেশী লাগছে। তাই কেবল মাত্র ব্যবহার উপ‌যোগী সামগ্রী ছাড়া আর কোন সামগ্রী ষ্টকে রাখার প্র‌য়োজনীয়তা নাই বলা যায়। আপনি দুর্গম এলাকায় আছেন। যেখান থেকে প্রতিনিয়ত কোন টুলস কোন সামগ্রী হয়ত কালে ভদ্রে একবার কাজে লাগ‌তে পা‌রে। তবুও তা স্থানের দুর্গমতা বিচার ক‌রে মজুদ রাখ‌তে হ‌তে পা‌রে। সাধারণ শহর এলাকা প্রায় সব ধরনের সামগ্রী সহজ হোক বা জটিল হোক তা পাওয়া যায়। তাই যদি কাছের দোকা‌নে মজুদ থাকলে নিজের কাছে মজুদ করা সবচেয়ে বোকামী। প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে তাই আমা‌দের আজ‌কে যে প্রযুক্তি লে‌টেস্ট মনে হচ্ছে আগামী‌তে তা আরো উন্নত হচ্ছে। পরিবর্তন হচ্ছে চা‌হিদাগু‌লো। আজ যে যন্ত্রাংশ প্র‌য়োজনীয় মনে হচ্ছে তা আগামীকাল অপ্র‌য়োজনীয় মনে হচ্ছে।
উপায় আউট সোর্স। যা একান্ত প্র‌য়োজন তা কেনা বাকী ভাড়ায় চলা। আবার কোন সামগ্রী না কিনে উপায় নাই। ব্যবহার শেষে তা পুনরায় দোকা‌নে ফেরত প্রদান। ভাড়া প‌রি‌শোধ বা বিক্রি ক‌রে দেয়াটা হল সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। যে কোন টুলস বা আইটেম ছয় মাসে বা বছরে একবার ব্যবহার হলে তা আগাম কিনে বা অফারের সাথে না কেনাটা জরুরী। আগাম কেনা বা অতিরিক্ত কেনাটা অপচয়। অপচয় থেকেও জরুরী বিষয় আপনার রক্ষণাবেক্ষণের চাপ বাড়াবে। যে কোন বাড়তি দ্রব্য মানেই স্টোর বা ঘরের মূল্যবান স্থানটুকু নেয়া ও ঘর পরিষ্কার করার জন্য অতিরিক্ত শ্রম ও সময় নষ্ট হওয়া।
দুই হাজার টাকায় ড্রিল বিট সহ, প্লায়াস সহ  ০২১টি আইটেম কিনে ২০০০ টাকা খরচ করার চে‌য়ে প্র‌য়োজনীয়  ২০টিঅেই‌টেম কেনাটা অনেক ভাল। এতে খরচ কম লাগবে। প্রতিটি আইটেম বেঁছে বেঁছে বেস্ট আইটেম কেনা যাবে। এভাবে বেস্ট আইটেম ও প্র‌য়োজনীয় আইটেম কিনতে পারলে তা সেটে কেনা আইটেম হ‌তে অনেক বেশী টেকসই ও সাশ্রয়ী হবে।
অফার নয়, প্র‌য়োজন মোতা‌বেক বেস্ট বা টেকসই আইটেমটা কেনাই সবচেয়ে বুদ্ধির পরিচায়ক হবে। আমা‌দের জীবনে প্রায় সবখানেই  আমরা আমাদের একান্ত প্র‌য়োজনীয় আইটেমের বাই‌রে অনেক আইটেম দেখ‌তে পাই। এই আইটেমগুলো আমা‌দের জীবন যাত্রা‌কে জটিল ও অগুছা‌নো ক‌রে তুলছে। এগু‌লো আমা‌দের গুছানো দরকার।
ব্যবসায়ীরা তা‌দের পণ্য‌কে আকর্ষণীয় ও চাহিদা বাড়া‌তে অনেক অপ্র‌য়োজনীয় অফার নি‌য়ে আসে। এসব অফার পরিবেশ বান্ধব নয়। পরিবেশ বান্ধব হল তাই যা হবে টেকসই ও দীর্ঘদিন ব্যবহার ক‌রে রিইউজ/‌রিসাইক্যাল করা যাবে। হালকা পাতলা কম টেকসই  সামগ্রী পরিবেশের জন্য উপকারী হবে না। এগু‌লো আইন ক‌রে বন্ধ করা প্র‌য়োজন। মুক্ত বাজার অর্থনীতির যুগে অপ্রয়োজনীয় ও পরিবেশ বান্ধব নয় এরূপ দ্রব্যাদি নিষিদ্ধ করা প্র‌য়োজন। কারণ ব্যবসায়ী ফয়দা অপেক্ষা ক্রেতার স্বার্থ ও ক্ষতি কমা‌নোটা জরুরী। তারপর জরুরী কাজ হয় পরিবেশের ক্ষতি বন্ধ করা। পরিশেষে বলব, বন্ধ হোক নানা লোভনীয় অফারের মাধ্যমে অপ্র‌য়োজনীয় সামগ্রীর বাণিজ্য।

Thursday, April 4, 2019

বেকার থাকা সহজ নয়

আমার মা‌ঝে মা‌ঝে মনে হয় বাংলা‌দে‌শের মানুষ কখনও বেকার থে‌কে না খে‌য়ে মরার কথা নয় য‌দি তার দুই হাত বা দুই পা থা‌কে। বাংলা‌দে‌শে লেবার সংকট। তাই মজুরীর বি‌নিম‌য়ে কাজ সব জায়গায় আছে। আ‌গে কৃ‌ষিকাজ লাভজনক ছিল না এখন কৃ‌ষিকাজ লাভজনক হ‌চ্ছে। সা‌রের প‌রিবর্ত‌ে  কেঁচো সার বা ভার্মী কম্প‌োস্ট দি‌য়ে খরচ ক‌মে যাচ্ছ‌ে। জ‌ৈব বালাইনাশক ব্যবহার ক‌রে কীটনাশ‌কের খরচ শূন্য হ‌য়ে যাচ্ছ‌ে। মাল‌চিং পেপার বা জ‌ৈব মাল‌চিং ব্যবহার ক‌রে জ‌মি চাষ আগাছা বাছার লেবার খরচ অ‌নেক ক‌মে গে‌ছে। একই ভা‌বে মাল‌চিং এর কার‌ণে পা‌নি কম লাগ‌ছে। পা‌নি আ‌রো কমা‌নো যায় ড্রিপ ই‌রি‌গেশ‌নের মাধ্য‌মে।
‌মে‌য়েরা গৃহ কর্ম‌ের পাশাপা‌শি ভার্ম‌ি কম্প‌োস্ট  উৎপাদন কর‌তে পা‌রে মা‌সে ৮/১০ হাজার টাকা নি‌শ্চিত আয় কর‌তে পা‌রে। তার জন্য দি‌নে ক‌য়েক ঘন্টা সময় দি‌লেই চ‌লে। এখন পর্যন্ত ঝিনাইদহ, কু‌ষ্টিয়া, ময়মন‌সিংহ, নরে‌সিংদ‌ী ও কু‌মিল্লা সফলতা পে‌য়ে‌ছে। চিন্তা করুন বাংলা‌দেশ হাজার হাজার কো‌টি টাকার কীটনাশক ও সার আমদানী থে‌কে মুক্ত হ‌তে পা‌রে শুধু জ‌ৈব সার ও জ‌ৈব বালাইনাশক ব্যবহা‌রে। কৃষক হ‌তে পা‌রে সচ্ছল। দে‌শের মানু‌ষের হাজার কো‌টি টাকা অর্গা‌নিক শশ্য ও শাকসব‌জি খাওয়ার কার‌নে বে‌চে যা‌বে স্বাস্থ্যখা‌তে আ‌রো হাজার কো‌টি টাকা। পৃ‌থিবীর দ্ব‌িতীয় বৃহত্তস গার‌মেন্টস শিল্প বাংলা‌দে‌শে র‌য়ে‌ছে। তাই নারী‌দের বেকার থাকার কোন সু‌যোগ নাই। এখন বেকার থাক‌লে বল‌তে হ‌বে শখ ক‌রে বেকার থাকা।
আ‌মি জা‌নি বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের ছাত্র/ছাত্রীরা ক্ষে‌পে যা‌বে দে‌শে প্র‌তিবছর আট লক্ষ শি‌ক্ষিত বেকার যুবক/যুবতী ত‌ৈরী হ‌চ্ছে। এ‌দের কি হ‌বে। সমাধান একটাই। দে‌শে অ‌নেক এ‌ক্সি‌কিউ‌টিভ জব বাড়া‌তে হ‌বে। উপ‌জেলায় কর্মকর্তা বাড়া‌তে হ‌বে। দে‌শের সকল দপ্ত‌রে কর্মকর্তা বাড়া‌তে হ‌বে। প্র‌য়োজ‌নে ইউ‌নিয়ন পর্যা‌য়ে কর্মকর্তা নি‌য়োগ দি‌তে হ‌বে। প্রাই‌ভেট প্র‌তিষ্ঠান বাড়া‌তে হ‌বে। আপ‌নি য‌দি খোজ নেন কা‌য়িক প‌রিশ্র‌মের লো কস্ট জ‌বের কোন ঘাট‌তি নেই। ঘাট‌তি কেবল বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের পড়ুয়া‌দের। বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে পড়া অবস্থায় ছাত্র/ছাত্রীদের কিছু কিছু কা‌জে দক্ষ করা অ‌তি প্র‌য়োজন। যেমন: তা‌দের গাড়ী চালনায় দক্ষ হওয়া, ক‌ম্পিউটা‌রে ওয়ার্ড, এক্স‌েল ও  পাওয়ার প‌য়েন্ট‌ জানা প্র‌য়োজন। ইং‌রেজীতে কথা বল‌তে পারা প্র‌য়োজন। প্র‌েজেন্ট‌‌েশান দেওয়ার দক্ষতা থাক‌তে হ‌বে। ত‌বে আশা করা যায় এ ধর‌নের দক্ষ অনার্স টাইপ শি‌ক্ষিত যুবক যুবতী দে‌শে বি‌দে‌শে চাকুরী পা‌বে। বেকার থাক‌বে না। আমা‌দের দে‌শে ডি‌প্লোমা ই‌ঞ্জি‌নিয়ার বেকার থাকার কথা নয়। নার্স বেকার থাকার কথা নয়। ডাক্তাররা বি‌সিএস না কর‌ল্লে না‌কি বেকার অথচ মৃত্যুর আ‌গের দিন পর্যন্ত ডাক্তার‌দের বেকার থাকার কথা নয়। আপ‌নি এমএ পাশ। আ‌রো কোন দক্ষতা আয়ত্ব ক‌রেন নাই। অথচ চা‌চ্ছেন ওয়াল্ড ক্লাস জব। আমার কা‌ছে ম‌নে হয় প্র‌তিটা মানুষ শি‌ক্ষিত হওয়ার সা‌থে সা‌থে ইনকাম করার জন্য দক্ষতায় আগা‌তে হ‌বে। শুধু পড়া‌শোনা করলাম ইনকাম করা জানলাম না। তা ঠিক নয়। প্রথ‌মেই কিভা‌বে টিউশন করাতে হয়, এটা শিখ‌তে হ‌বে। নি‌জে একটা লিসন নি‌য়ে তা অপর‌কে শেখা‌নো এটা কিন্তু যেন তেন বিষয় নয়। তার জন্য অনুশীলন কর‌তে হ‌বে। প‌ড়ি‌য়ে বু‌ঝি‌য়ে নেয়ার টেক‌নিটটাও বুঝ‌তে হ‌বে। ভাল শিক্ষক হিসাবে ছাত্রজীব‌নে যে আত্মপ্রকাশ কর‌তে পার‌বে সে ভ‌বিষৎ এ ভাল মা‌নের প্রে‌জেন্টেশন দেয়ার কৌশল ও আয়ত্ব কর‌তে পার‌বে। তাই ছাত্র/ছাত্রী‌দের টিউশনী হল নি‌জেকে উপার্জনমূখী করার প্রথম ধাপ। ছাত্র/ছাত্রী যত বড় ধনীর সন্তানই হোক না কেন ছাত্রজীব‌নে পার্ট টাইম উপার্জন করার ব্যবস্থা ক‌রে নেয়াটা বরং অ‌নেক ফলদায়ক।

‌বি‌য়ের বাজা‌রে এসএস‌সি পাশ সরকারী কর্মজী‌বি ভাল না অনার্স পাশ বেকার ভাল। সবাই বল‌বেন, এসএস‌সি পাশ চাকু‌রে ভাল। অনার্স পাশ আর যে কোন স্কি‌লে উপার্জন কর‌তে পার‌লেন না। তাহ‌লে হ‌বে না। পাশ দিলাম চাকুরী পে‌য়ে গেলাম। জি‌তে গেলাম। য‌দি প্র‌তি‌যোগীতায় চাকুরী না হয় তখন? সবার প্রথম লক্ষ্য চাকুরী। আ‌মি অ‌নেক‌েই দে‌খি অনার্স পাশ ক‌রেছ‌ে টিউশনী ও প্রাই‌ভেট ছোটখাট চাকুরীতে লে‌গে আ‌ছে। তারপর বি‌সিএসও ক‌রে ফেল‌ছে। যে যাই বলুক এরা কিন্তু রিয়াল হিরু।

তাই শুধু পড়া‌শোনা নয় উপার্জনমূখী হওয়াটা প্র‌তি ছাত্র/ছাত্রী‌দের লক্ষ হওয়া প্র‌য়োজন। ত‌বেই ক‌মে আস‌বে জা‌তির অ‌ভিশাপ শি‌ক্ষিত বেকা‌রের সংখ্যা।


Saturday, March 30, 2019

বর্তমান ডিজিটাল ছাত্র দের আন্দোলনে বোকামী


ক‌য়েক মাস মাস পর পর দুই একজন ক‌রে ছাত্র রোড অ্যাক্স‌ি‌ডে‌ন্টে মারা যায়। সাপ্তাহ ব্যাপী ছাত্ররা আ‌ন্দোলন ক‌রে তারপর আবার আ‌ন্দোলন স্তি‌মিত হ‌য়ে যায়। আ‌ন্দোল‌নের সময় সময় ছাত্ররা চালকদের কাগজপত্র চে‌ক করে। গাড়ীর কাগজপত্র চেক ক‌রে। আধু‌নিক ছে‌লে মে‌য়েরা এটা বু‌ঝে না কাগজ চেক করা একটা হয়রানী। কাগজ চেক ক‌রে সত্যতা যাচাই করা যায় না। কোন চালক য‌দি তার গাড়ীর ব্লুক বুক বহন কর‌তে ভু‌লে যায় বা তার লাই‌সেন্স সা‌থে রাখ‌তে ভু‌লে যায় তার অর্থ এই  নয় যে যে লাই‌সেন্সধারী নয়। সে চালক নয়। বরং নকল ব্লু বুক ও নকল লাই‌সেন্স দে‌খি‌য়ে পার পে‌য়ে যাচ্ছ‌ে অনে‌কে। গাড়ীর চালকদের পু‌লি‌শি হয়রানী থে‌কে রক্ষা করার জন্য আমা‌দের প্র‌তি‌বেশী দেশ‌ে ন‌রেন্দ্র মোদী নিয়ম ক‌রে‌ছেন গাড়ীর চালকরা মোবাই‌লে লাই‌সে‌ন্সের ডি‌জিটাল ক‌পি দেখা‌লে বা অনলাই‌নে ডি‌জিটাল প্রমান দেখা‌তে পার‌লে পু‌লিশ যে কাউ‌কে খেয়াল খুশী মত ফাইন কর‌তে পার‌বে না। 
আমা‌দের ছাত্ররা সেই সমস্ত কাগজ চেক কর‌ছে যা কিনা সহ‌জে নকল করা সম্ভব। আমার জানা ম‌তে বিআর‌টিএ এর ও‌য়েব সাই‌টে গি‌য়ে যে কোন গাড়ীর নম্বর দি‌য়ে সার্চ কর‌লে গ‌াড়ীর সমস্ত তথ্য পাওয়া সম্ভব। একবার আ‌মি আমার একজন লোক‌কে দি‌য়ে আমার গাড়ী‌কে ঢাকায় পা‌ঠি‌য়ে‌ছিলাম ‌রি‌পিয়া‌রের জন্য। আ‌মি কেবলমাত্র গাড়ীর ফিট‌নেস ক‌রি‌য়ে‌ছি। বাসার ড্রয়া‌রে নতুন ফিট‌নে‌সের কাগজটা গাড়ী‌তে দেয়া হয়‌নি। আমার লোক ঢাকা‌তে গি‌য়ে যথারী‌তি ধরা। পুরাতন ফিট‌নেস কাগজ থাকার কার‌ণে আ‌মার লোক জানাল স্যার পু‌লিশ ৩০০০ টাকা জ‌রিমানা কর‌েছে। আ‌মি পু‌লি‌শের সা‌থে কথা বললাম। ভুলের বিষয়‌টি বললাম। বললাম আ‌মি এখনই  আমার লো‌কের মোবা‌ই‌লে নতুন ফিট‌নেস সার্ট‌িফি‌কটে ছ‌বি পাঠাচ্ছ‌ি। আমার লোক আমার প্রে‌রিত ফিট‌নে‌সের ছ‌বি দেখাল। পু‌লিশ বলল ডু‌প্লি‌কেট। আ‌মার লোক পু‌লিশ‌কে মোবাইল দিল আ‌মি বললাম আপি‌নি বিআর‌টিএ ও‌য়েব সাই‌টে গি‌য়ে গাড়ীর নম্বর দি‌য়ে সার্চ দেন। দেখুন ফিট‌নেছ আপ‌ডে‌টেড কিনা। পু‌লিশ বলল, এত কিছু বু‌ঝি না। কাগজ নাই জ‌রিমানা দেন। আ‌মি পুনরায় আমার মোবাই‌লে বিআর‌টিএর আপ‌ডেটেড তথ্য বের ক‌রে মোবাই‌লের স্ক্রীন শর্ট পাঠালাম। পু‌লিশ বেচারার দয়া হল। জ‌রিমানা ৩০০০ টাকা হ‌তে ক‌মি‌য়ে ১০০০ টাকা করা হল। আমার প্র‌তি‌বেশী দে‌শের প্রধানমন্ত্রী পু‌লিশের স্বেচ্চাচারীতা বন্ধ করার জন্য যে কোন ফর্ম‌ে লাই‌সেন্স বা গাড়ীর বাগ‌জের প্রমান দেখি‌য়ে জ‌রিমানা মাপ পাওয়ার ব্যবস্থা ক‌রে‌ছেন। আমা‌দের ডি‌জিটাল বাংলা‌দে‌শে ডি‌জিটাল ছে‌লে মে‌য়েরা কাগজ চেক কর‌ছে। তা‌দের এই  পশ্চাৎপদ ভাবনায় আমি হতাশ। তারা বল‌তে পারত সকল গাড়ী‌তে কিউআরএফ কোড বাধ্যতামূলক। যে কেউ এই কিউআরএফ কোড তার মোবাই‌লে সার্চ ক‌রে গাড়ীর যাবতীয় তথ্য পে‌য়ে যা‌বে। তেম‌নি গাড়ীর একপা‌শে চালক তার লাই‌সেন্স নম্বর ও কিউআরএফ কোড ঝু‌লি‌য়ে গাড়ী চালা‌বে। যেন চাল‌কের কিউআরএফ কোড স্কেন ক‌রে যে কেউ ইন্টার‌নেট হ‌তে তার যাবতীয় তথ্য যেন পে‌য়ে যে‌তে পা‌রে। এমন‌ কি চাল‌কের চেহাড়া স্কেন ক‌রেও পু‌লিশ তার সমস্ত ডি‌টেল জান‌তে পা‌রে। ফেস র‌িকগ‌নিশন সফটওয়্যা‌রের অভাব নাই। তা অল্প খর‌চেই করা যায়। চাল‌কের ফিংগার প্রিন্ট স্ক‌েন ক‌রে সমস্ত তথ্য জানা যাবে। প্র‌তি‌টি চাল‌কের সমস্ত তথ্য কতবার অ্যাব‌সি‌ডেন্ট ক‌ে‌রে‌ছে। কতবার জ‌রিমানা পে‌য়ে‌ছে। ইত্যা‌দি যাবতীয় তথ্য ডাটা বেই‌জে থাক‌বে। শিক্ষার্থীরা এই ধর‌নের উন্নত চিন্তা না ক‌রে ফা‌নি কাগজ চে‌কিং ক‌রে আ‌ন্দোলন কর‌ছে। আমার ক্রে‌ডিট নি‌চ্ছে পু‌লি‌শের গাড়ী‌তে কাগজ নাই। আর্ম‌ির গাড়ী‌তে কাগজ নাই। আইন শৃংখলা বা‌হিনীর ইউ‌নিফরমই তার বড় প‌রিচয়। অপর‌দি‌কে হেলপারর ও কমবয়সী লাই‌সেন্স ছাড়া লোক গাড়ী চা‌লি‌য়ে অঘটন ঘটায়। আইন শৃংখলা বা‌হিনীর গা‌ড়ি চালনায় সাধারনত ব্যতয় কম হয়। তাই তা‌দের অ্যাব‌সি‌ডেন্ট কুলনামূলকভা‌বে কম।

‌ফেইস‌বেু‌কের মত সমস্ত লাই‌সেন্সধারী চাল‌কে‌দের জন্য বি‌ডি ড্রাইভার বুক থাক‌তে পা‌রে। সেখা‌নে সমস্ত চালক‌দের তথ্য থাক‌বে। যে কেউ যে কোন চাল‌কে বের কর‌তে পা‌রে এবং তার অপরা‌ধের ফি‌রি‌স্তি সহ‌জে পু‌লি‌শের কা‌জে সাব‌মিট কর‌তে পা‌রে। এভা‌বে হ‌তে পা‌রে চালক‌দের উপর নজরধারীর কাজ। একইভা‌বে কা‌রো নজ‌রে কোন ফিট‌নেছ বিহীন গাড়ী নজ‌রে এ‌লে সা‌থে সা‌থে নি‌দ্ষ্টি সাই‌টে গি‌য়ে রি‌পোর্ট কর‌তে পা‌রে। চিন্তা ক‌রে দেখুন এভা‌বে নকল চালক। গাড়ীর নকল কাগজ শনাক্ত ক‌রে ব্যবস্থ‌া নেওয়া সহজ হ‌বে। এ‌ভেব সম্ভব আমা‌দের দে‌শে প‌রিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ডি‌জিটালাইজ অ‌নিয়ম তূর করার জন্য গ‌তিশীল করা।

Wednesday, March 20, 2019

গ্রামের পরিবহনে সহজ কর্মসংস্থান


সে‌দিন গ্রা‌মের বাড়ী‌তে গেলাম। ঢাকা থে‌কে বা‌সে এ‌সে কু‌মিল্লার শাশনগাছা নামক স্থা‌নে বাস থে‌কে নামলাম। সা‌থেই সিএন‌জি স্ট্যান্ড । আমা‌কে সিএন‌জিওয়ালা জিঞ্জাসা করল, কোথায় যা‌বেন। বললাম, ব্রাম্মনপাড়া।সিএন‌জি রিজার্ভ নি‌বেনমানা করলাম। আমা‌দের দুইজ‌নের জন্য পিছ‌নের তিন‌সিট রিজার্ভ চ‌লেন। তারপর সিএন‌জি নি‌য়ে গ্রা‌মের রাস্তায় প্রথ‌মে বু‌ড়িচং উপ‌জেলা তারপর ব্রাম্মনপাড়া উপ‌জেলা। নামলাম ব্রাম্মনপাড়ায়। আবার সিএন‌জি নি‌তে হ‌বে। যে‌তে হ‌বে বিশ মি‌নিটচানলা টানা ব্রিজচানলা টানা ব্রি‌জে নে‌মে নি‌তে হ‌বে রিক্সা। আবার ২০ মি‌নিট ধ‌রে ভাংগা রাস্তা। তারপর মন্দভাগ বাজা‌রের পা‌শে দেউস সা‌হেব বাড়ী। আ‌গে কু‌মিল্লা থে‌কে বা‌সে ব্রাম্মনপাড়া আসতাম। বেবী‌টেক্স‌ি  ছিল। ১৯৯৫ সা‌লে বাস ভাড়া মাথা‌পিছু পাঁচ টাকা বে‌বি‌টেক্স‌ি ভাড়া ২৫ টাকা। এখন বাস ভাড়া ৩০ টাকা। সিএন‌জি মাথা‌পিছু ভাড়া ৫০ টাকা। সিএন‌জি যায় মি‌নি‌টে মি‌নি‌টে। বাস ভর্ত‌ি হতে লা‌গে ৩০ মি‌নিট। আর জায়গায় জায়গায় থামা তো আ‌ছেই। এখন বাসও কম। বা‌সের যাত্রীও কম। সিএন‌জি র‌য়ে‌ছে শত শত। সমস্যা একটাই রাস্তাগু‌লো বড় করা প্র‌য়োজন। প‌রি‌বেশবাদীরা বল‌বেন, বাস বেশী থাকা প‌রি‌বে‌শের জন্য  ভাল। ত‌বে আমার কা‌ছে ম‌নে হ‌চ্ছে অ‌ধিক সিএন‌জি। অ‌ধিক কর্মসংস্থান। অ‌ধিক রিক্সা। অ‌ধিক কর্মসংস্থান। কর্মসংস্থা‌নের কথা চিন্তা ক‌রে আমা‌দের দে‌শে সিএন‌জি বা রিক্সা কমা‌নো নয় বরং রাস্তা ঠিক কর‌তে হ‌বে। বড় কর‌তে হ‌বে।
অ‌নেক দে‌শে প্র‌তি প‌রিবা‌রের প্র‌তি‌টি সদস্য‌ের জন্য গাড়ী র‌য়ে‌ছে। আমাদের দে‌শে প্র‌তি‌টি সদস্য‌ের জন্য গাড়ী নয় প্রয়োজন অ‌ধিক সংখ্যক ছোট সিএন‌জি জাতীয় গাড়ী। চার চাকা হ‌লে আ‌রো ভাল। ব্যাটারীর গাড়ীর ভাড়াটা খারাপ নয়। আজ ব্যাটারীর রিক্সার ব্যাটারী বিদ্যুৎ  দি‌য়ে চার্জ করা হ‌লেও আগামীকাল সোলা‌রের চার্জ করার একটা প্রক্র‌িয়ায় যাওয়ার  সু‌যোগ ত‌ৈরী থাক‌বে। কোন দে‌শের প্র‌তি‌টি মানুষ গাড়ীর মা‌লিক হওয়া বা চালনা আ‌মি বলব, প‌রি‌বে‌শের জন্য ভাল না। কার শেয়া‌রিং, সিএন‌জি ও মটর সাইকেল রাইড শেয়া‌রিং এগু‌লো প‌রি‌বে‌শের জন্য ভাল অপশন। ট্রেন ও বাস প‌রি‌বেশ বান্ধব। এগু‌লো খুব ভাল অপশন কিন্তু জেলা থে‌কে উপ‌জেলা কা‌নেকশ‌নের জন্য ভাল নয় কারন যাত্রী পূর্ণ কর‌তে বেশী সময় লা‌গে। রিক্সার দুই যাত্রী আর ‌সিএন‌জির পাঁচ যাত্রী পে‌তে তেমন কোন সময়ই লা‌গে না। তাই রিক্সা ও সিএন‌জি শেয়া‌রিং অ‌নেক অ‌নেক গ‌তিশীল। কং‌গোর রাস্তাগু‌লো ভাল নয়। সেখা‌নে দেখতাম ব্যাপক হা‌রে মটর সাই‌কেল রাইড নাম হলবুডা বুডা‌সেখা‌নে গ্রা‌মে গ‌ঞ্জে ও শহ‌রে বিপুল মানু‌ষের কর্মসংস্থান ক‌রে‌ছে এই  “বুডা বুডাএকবার তো দেখলাম মটর সাই‌কে‌লে ডেড ব‌ডি ক্যা‌রি কর‌তে। বাংলা‌দে‌শের গ্রা‌মের রাস্তাগু‌লি এখন ধী‌রে ধী‌রে প্র‌য়োজন মা‌ফিক আ‌রো প্রশস্ত হ‌চ্ছে। রাস্তাগু‌লো আ‌রো দ্রুত প্রশস্ত করা প্র‌য়োজন। খরচ বেশী গে‌লেও গ্রামের রাস্তা ঢালাই ক‌রে করা প্র‌য়োজন। ঢালাই রাস্তা ত‌ৈরীর সামগ্রী গ্রা‌মে খুবই সহজলভ্য। ইট ভাংগা, বা‌লি, রড ও সি‌মেন্ট হ‌লেই ইটের রাস্তা হ‌য়ে যায়। এর বিপরী‌তে বিটু‌মিন রাস্তার জন্য বিটু‌মিন যোগাড় করা; সেগু‌লো জ্বাল দি‌য়ে গলা‌নো, রোলার লাগা‌নো এই  ধর‌নের কাজ থে‌কে সি‌মে‌ন্টের রাস্তা খরচ বেশী হ‌লেও যখন তখন যেন তেন ভা‌বে করা যায়। তাই আমা‌দের দে‌শে গ্রা‌মে গ্রা‌মে  বিটু‌মিন নয়‌ সিমে‌ন্টের রাস্তা করাটা বেশ জরুরী।
বাংলাদে‌শের বাজা‌রে এখন বেশ ক‌য়েক‌টি কোম্পানী এখন ব্যাটারীর মটর সাইকেল চালু ক‌রে‌ছে। রাইড শেয়া‌রিংএর জন্য এগু‌লো অ‌নেক অ‌নেক ভাল। ঢাকার রাস্তায় রাইড শেয়া‌রিং চালু হ‌লেও  গ্রা‌মের রাস্তায় চালু করাটা জরুরী। গ্রা‌মে ব্যাটারীর রিক্সা বেশ গ‌তি‌তে চ‌লে। শহ‌রের আমরা যারা আ‌ছি। আমা‌দের কা‌ছে মা‌ঝে মা‌ঝে সে সব ব্যাটারীর রিক্সার গ‌তিটা ভয়াবহ ম‌নে হ‌বে। কিন্তু গ্রা‌মের মানুষ অভ্যস্ত হ‌য়ে গেছে। গ্রা‌মে এখন প্যাডেল রিক্সায় কেউ  উ‌ঠে না। গ্রা‌মেও শহ‌রের মত গ‌তি এ‌সে‌ছে। সবাই ছুট‌ছে। পি‌ছে তাকা‌নোর সময় বা সু‌যোগ নেই। গ‌তি গ‌তি। সেই  গ‌তি‌তে সিংগেল যাত্রীর জন্য মটর সাইকেল রাইড। দুই যাত্রীর জন্য ব্যাটারী রিক্সা রাইড। পাঁচ যাত্রীর জন্য সিএন‌জি বা এল‌পি‌জি টেক্স‌ি রাইড ব্যাপক হা‌রে বাড়া‌নো গে‌লে কর্মসংস্থান আ‌রো বাড়‌বে। এখন শুধু প্র‌য়োজন সরকারী ব্যবস্থাপনায় রাস্তাগু‌লো সি‌মেন্ট‌ের ঢালাই‌য়ে ত‌ৈরী ক‌রে নিয়‌মিত মেরামত কর‌ে যাওয়া।

(যথাযথ এডিট হয়নি)


Thursday, March 14, 2019

কৃ‌ষি হোক খেলাধূলার মত


আজকাল দেখলাম আমা‌দের ছোট ছোট ছেলে মে‌য়েরা রান্না জানে। যেভাবে রান্না চলছে হাত পোড়ার ভয় নেই। রান্না ঘর নোংরা হওয়ার ভয় নেই। কি করছে তারা ? তারা ডিপ ফ্রিজে রাখা চিকেন না‌গেট, স্মাইলি, স‌সেজ, মিট বল ও রেডি প‌রোটা এয়ার ফ্রাইয়ার বা কনভেনশনাল ওভেনে দি‌য়ে দিচ্ছে খাবার রেডি। মাই‌ক্রোও‌য়ে‌বে গরম ঝটপট চা কফি আর কাপ নুডলস প্রস্তুত। আমি এখনকার জেনারেশনের ঝটপট  কাজে সত্যিই মুগ্ধ। অনেকে বলবেন প্রিজার‌ভে‌টিব দেয়া খাবার বাচ্চা‌দের ক্ষতি করবে। আমি বলব সমস্যা নেই  আপনিও পারেন বাসায় চপ, কাবাব, প‌রোটা, রুটি হাফ কুক ক‌রে রেখে দিন ডিপ ফ্রিজে বাকী বাচ্চারা তা‌দের চাহিদা অনুযায়ী ঝটপট এয়ার ফ্রাইয়ার বা ওভেনে কুক ক‌রে নিবে। কু‌কিংএর এই  কালচারটা আসলেও আমার কাছে মনে হয় আমরা কৃষিকাজকে বাচ্চা‌দের উপ‌যোগী কর‌তে পারিনি। এখন সময় এসেছে কৃষিকাজ বাচ্চা‌দের উপ‌যোগী ক‌রে তোলা। অনেকে হাসবেন কৃষিকাজ কিভাবে সহজ করা যায়। তা করা যায়। একটু চিন্তা করুন। কৃষি বল‌তে চো‌খের সামনে ভেসে উঠে ময়লা মাখা হাত। ঘামে ঝড়া‌নো শরীর। ময়লা কাপড়। অথচ কৃষিকে রেডি ফু‌ডের মতই বাচ্চা‌দের কাছে রেডি করা যায়। আমার বাসার কিছু পাতাবাহার গাছ আছে। মে‌য়ের ইচ্ছে হল একটা লেবু গাছ গ্রো করবে। আমি নার্সারিতে বললাম একটা লেবু গাছ দুই‌ ফিট হাইট হবে। ফুল থাকবে। মাটিতে ভার্মী কম্পোস্ট থাকবে। প্লাস্টিক টব থাকবে ইত্যাদি ইত্যাদি। নার্সারিটি আমার চাহিদা নিল এক সপ্তাহ পর সাপ্লাই দিল। সুন্দর লেবু গাছ ফুল ধ‌রে আছে। এখন আমার মে‌য়ের কাজ হল মা‌টি ড্রাই হ‌তে দেখলে পানি দেয়া আর গাছ বাড়ছে কিনা লক্ষ রাখা। ছোট ছোট বাচ্চা‌দের আমরা এভাবে ছোট ছোট কৃষিতে আন‌তে পারি। আমা‌দের দেশের শহরের সকল মানুষরা টবে বা কন্টেইনারে উন্নত দেশের মত ট‌মে‌টো, লেটুস,পুদিনা পাতা ও কাচা মরিচ জন্মা‌নো শুরু করবে তখন বিশাল এক বিপ্লব শুরু হবে।
মনে করুন আমাদের একটা মার্কেট থাকল যেখানে গ্রো ব্যাগ পাওয়া যায়। গ্রো ব্যাগের মধ্যে আছে কম্পোস্টে, ভার্ম‌ি কম্পোস্ট ও কো‌কো পিট দেয়া গাছ জন্মা‌নোর মিডিয়া। আপনার কাজ হবে গ্রো ব্যাগগু‌লি কেনা। গ্রো ব্যাগগু‌লি এনে একটা কন্টেইনারে রাখবেন। স্ট্যান্ডের উপর রাখবেন। গ্রো ব্যাগে একটু ফু‌টো করা তারপর ক‌কো‌ পি‌টে তৈরি করা ট‌মে‌টোর চারা‌টি লাগিয়ে দি‌য়ে এখন অ্যালুমিনিয়াম স্ট্যান্ড ও প্লাস্টিক স্ট্যান্ড লাগিয়ে দিলেই  হ‌য়ে গেল ট‌মে‌টো চাষ। টবের মধ্যে কয়েকটা  মরিচ গাছ বা যে কোন সবজির গাছ এনে লাগিয়ে দিলে হ‌য়ে গেল। পোকা ধরবে সমস্যা নেই। বাজার থেকে মশারী কিনে চার‌টি খুঁটি দি‌য়ে টবগু‌লির চারিদিকে টাঙিয়ে দিলে হ‌য়ে গেল নেট হাউজে চাষ। নেট হাউজে লাগালে আর কীটনাশক স্প্রে করার প্র‌য়োজন নেই। কম্পোস্ট, ভার্ম‌ি‌ কম্পোস্ট ও ক‌কো ‌পিট দি‌য়ে তৈরি ব্যাগে সমস্ত উপাদান বিশুদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত থাকবে। গ্রো ব্যাগ বাইরের দি‌কে থাকবে সাদা আর ভিত‌রে থাকবে কাল। ভিত‌রে আল্টা ভায়া‌লেট রে ভিত‌রে যে‌তে দিবে না। তা‌তে গ্রো ব্যাগের ভিত‌রে শিকড় বাড়বে। অনুবীজ বাড়বে। ভিত‌রে জলীয় উপাদান ধী‌রে ধী‌রে শুকা‌বে এবং সেচ কম লাগবে। আজকাল গাছের গোড়ায় ফোটায় ফোটায় পানি দি‌য়ে ড্রিপ ইরিগেশন করা যায়। অনেক সময় টাইমারযুক্ত ড্রিপ ইরিগেশন সেট করা যায় যেন হ‌লি ডে ছুটিতে গেলেও সমস্যা নাই। আবার গাছের মধ্যে বা গ্রো ব্যাগে এমনভাবে প্রোভ সেট করা যায় যে জলীয় উপাদান কমে গেলে অটো‌মে‌টিক ফোটায় ফোটায় পানি পরা বা ড্রিপ ইরিগেশন চালু হবে। বাচ্চারা গ্লাভস পড়ে ও সুন্দর ও ছোটখাট টুলস দি‌য়েই  কর‌তে পা‌রে সেই গ্রো ব্যাগের চাষাবাদ। ভালভাবে চাষ করলে একটা ট‌মে‌টো গাছ থেকে হয়ত ২/৩ কেজি ট‌মেটো উৎপাদন করা সম্ভব। বাজা‌রে ৩০০ /২০০ টাকার ট‌মে‌টো উৎপাদনে হয়ত ৬০০/৪০০ টাকা খরচ পড়বে তবুও কোন সমস্যা নেই  কারণ এই  ট‌মে‌টো বিষ ছাড়া। শরীর রক্ষার দিক দি‌য়ে এই বাড়তি দামটা কোন বিষয় নয়।
বিষের যুগে প্র‌য়োজন বাচ্চা‌দের কৃষি শেখা‌নো যেন নিজের খাবার নিজেই তৈরি কর‌তে  পা‌রে। এই  যুগে এত সহজে কৃষি করা যায় তা আগে চিন্তাই  করা যেত রা। এখন প্র‌য়োজন স্কুলের বাচ্চা‌দের আগ্রহী করা উ কৃষিটাকে সহজ করা। এটা করতে পারলে কৃষি হবে বিষমুক্ত।


Wednesday, March 6, 2019

নিজের খাদ্য নিজের কৃষি


আপনার একটা বাড়ী আছে। ছাদ আছে। গাড়ী আছে। কিন্তু শাক সবজির বাগান নাই। আমি বলব, আপনি আপনার গাড়ীটা বিক্রি ক‌রে তার অর্ধেক দামে গাড়ী কিনুন। গাড়ীর বাকী অর্ধেক টাকা কোথাও বি‌নিয়‌োগ করুন। সেই  আয় দি‌য়ে একটা মালী রাখুন। শাকসবজির বাগান করুন। আপনার চকচকে গাড়ী আপনার ইজ্জত বাড়ালেও আয়ু বাড়া‌তে পারবে না। হায়াত মউত আল্লাহর হা‌তে। তবু আমরা ভেজালমুক্ত খাওয়া ও বিষমুক্ত শাক সবজির জন্য অন্তত চেষ্টা চালা‌তে পারি। আমরা কাউ‌কে বিশ্বাস কর‌তে পারি না। এই  পৃথিবীর সবাই  যার যার লাভ লোকশান নি‌য়ে ব্যস্ত। দরিদ্র কৃষক আপনার জন্য অধিক খরচ ক‌রে বিষমুক্ত শাক সবজি উৎপাদন করবে না। কারণ তার নিজেরই চলছে না। আপনার জন্য অধিক খরচ ক‌রে কৃষি সে করবে না। আপনি বেশী দাম দি‌য়ে ভেজালমুক্ত খেতে চাইলেও সবাই যে খাবে তার কোন গ্যারান্ট‌ি নাই। আপনি বেশী মূল্য দি‌য়ে আপনার খাবার চাইলেও আপনি বিষমুক্ত পাবেন না। আপনা‌কে নিজেই উৎপাদন কর‌তে হবে। আজকাল চাষ কর‌তে মা‌টি লাগে না। ক‌কো‌ পিট, কম্পোস্ট ও ভার্ম‌ি কম্পোস্ট দি‌য়ে মা‌টি ছাড়া বা অল্প মা‌টি দি‌য়েও ছাদে বারান্দা ও কার্নিশে চাষাবাদ করা যায়। টবে, কাটা ড্রামে, রেইজ বেড তৈরি করে, ছা‌দের উপর পাকা রেইজ ব‌েড ক‌রেও চাষাবাদ করা যায়। ইচ্ছেটা প্রয়োজন। যারা ডায়‌বে‌টিস, কিডনি, ক্যান্সার ইত্যাদিতে আক্রান্ত তারা বাইরের বিষাক্ত শাকসবজি বর্জন কর‌তে পারেন। বৃদ্ধ ও বাচ্চারা নিজেদের উৎপাদিত বিষমুক্ত শাকসবজি খাও‌য়ানোটা সবচেয়ে ভাল। আধুনিককালে হাই‌পোফো‌নিক কালচারের মাধ্যমে মাছ চাষ ক‌রে মাছের পানি গাছের খাদ্য হিসাবে ব্যবহার ক‌রেও চাষাবাদ করা যায়। আপনার আর্থিক অবস্থা ভাল। আপনি যদি বেশীদিন বেঁচে অর্থ‌কে উপ‌ভোগ কর‌তে চান তবে অন্য সৌ‌খিন খরচ কমিয়ে মালী রেখে ছাদ কৃষি বা আঙ্গিনা কৃষি শুরু ক‌রে দিন। নিশ্চিতভাবে বলা যায় অন্যদের চে‌য়ে বেশী লাভবান হবেন।
যারা আর্থিক ভাবে সবল আছে; ছাদ আছে। তারা ছাদ কৃষির জন্য তৃতীয় পক্ষ‌কে নিয়োগ দি‌তে পারেন। তারা ছাদ কৃষির শুরুটা আপনা‌কে ক‌রে দিবে। দিনে দিনে ঢাকা‌তে এ ধরনের উদ্যোক্তা গড়ে উঠেছে। এখন ফেইসবুক আর ইন্টারনেটে সার্চ দিলে পেয়ে যাবেন। এত সহজ কৃষি। তাহলে আর দেরী কেন। আমরা আমা‌দের মুখের খাবারগু‌লি ভেজাল আর বিষের উপর দি‌য়ে পার কর‌তে পারি না। তার জন্য খরচ বেশী হবে। বেশী খরচে বিষমুক্ত খাবার খাওয়াটা বেশী জরুরী। প্রয়োজ‌নে আমরা দামী কাপড় চোপড় কম কিনব। ঘোরাঘু‌রি কমিয়ে খরচ বাঁচাব। সৌ‌খিনতায় খরচ বাঁচাব। তাও আমা‌দের নিজের খাদ্য নিজে উৎপাদন করাটা জরুরী। প্রয়োজ‌নে  আমা‌দের আশে পাশে অনেকই কিডনি ডায়ালাই‌সিস ও নানা জটিল রোগী লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ ক‌রে অথচ সেই  টাকা আমরা আগে থেকেই বিষমুক্ত খাবারের জন্য ব্যয় কর‌তে পারি। ছাদ বাগান লাভজনক নয় সেটা থেকে স্বাস্থ্য রক্ষা বেশী জরুরী তাই ছাদে শাকসবজি, ফলমূল উৎপাদনে আমরা এগিয়ে যে‌তে পারি।
বাংলাদেশে যে পরিমাণ দালান কোটার ছাদ বিদ্যমান আমার ধারনা সে সব ছাদে চাষ করলে দেশের প্রায়  ৫০% খাবার উৎপাদন হবে। বিষমুক্ত খাবার হবে। আজ কোন ফসলে বা কৃষিপণ্যের খাদ্য শস্যে কোন স্বাদ নেই। তার একমাত্র কারণ বিষযুক্ত খাবার। নিজের জমির বাঁকা, তেরা, ছোট, বড় ও পোকায় ধরা শাকসবজি বাজার‌ে  কেনা টসটসে সবজি থেকে অনেক ভাল কারণ নিজেরটায় বিষ নাই। আমার সবজী আমি ফলাব আর বিষমুক্ত জীবন গরব এটা হ‌তে পা‌রে আ‌দের শ্ল‌োগান। বাকীটা হবে আমা‌দের ইচ্ছে। শহরের সবাই যদি ছাদ বাগান ক‌রে নিশ্চিতভাবে বলা যায় প্রায় ২০% বিষমুক্ত শাকসবজি শহরেই  উৎপাদন করা সম্ভব। আমরা কিছু না পারি সালাদ আইটেম যা আমরা কাচা খাই যেমন লেটুস পাতা, পুদিনা পাতা, ট‌মে‌টো, শসা ও মরিচ ইত্যাদিও যদি আমরা টবে ফলাই তা‌তেও স্বাস্থ্য খা‌তে বিশাল উপকার হবে। আমাদের দেশের শহরের প্রতিটি ছাদ যদি সবুজে আবৃত থা‌কে তবে এটাও নিশ্চিত কয়েক ডিগ্রি তাপ কমে যাবে। বাতাসের অক্সিজেন বেড়ে যাবে। এত এত উপকার থাক‌তে আর আমা‌দের সামর্থ্য থাক‌তে ছাদ বাগান না করাটা হল একটা অপরাধ। নিজের সামর্থ্য থাকলে নিজ, স্ত্রী ও সন্তান‌দের বিষাক্ত খাবার থেকে রক্ষা কর‌তে নিজের ফসল নিজে উৎপাদন না ক‌রে আর কোন উপায় নেই। আসুন সামান্য সামর্থ্য থাকলেও আমরা নিজের শাকসবজি নিজে উৎপাদন করি।

Wednesday, February 27, 2019

স্বাস্থ্য রক্ষার বি‌বেচনায় ছাদকৃ‌ষি লাভজনক

আমরা মানুষরা খুব স্বার্থপর। কোন কিছু লাভ ছাড়া করি না। বাংলাদেশের প্রখ্যাত একজন ডাক্তারের ছা‌দের কৃষি দেখলাম বাংলাদেশের এক ‌আলোচিত অনুষ্ঠানে। তিনি জানালেন, প্রথমে ছাদে কিছু ফুল গাছ রেখেছিলেন। এখন ছা‌দের উপর ফল ও সবজি করছেন। ফল ও সবজি আগে করেননি, তিনি হিসাব ক‌রে দেখেছিলেন ফল ও সবজি ছাদে ক‌রে লাভ নেই  কারণ বাজা‌রে কম দামে পাওয়া যায়। খা‌মোখা কষ্ট করা। দুই বছর আগে তার এক‌টি কিডনি ড্যামেজ হয়। এখন এক‌টি কিডনি নি‌য়ে বেঁচে আছেন। এখন কিডনির ডাক্তার আমা‌দের আলোচ্য ডাক্তার‌কে বলেছেন, আপনি যতটুকু পারেন ক্যা‌মিক্যাল ও ভেজালমুক্ত খাবার খাবেন। তখন থেকে ডাক্তার সাহেব যত খরচই লাগুক লোক লাগিয়ে ছা‌দের টবে শাক, সবজি ও ফল উৎপাদন শুরু করেন। ভেজাল ছাড়া খাবার খেয়ে যেন একটা কিডনির আয়ুটা বাড়া‌নো যায়।
চারিদিকের বিষের মধ্যে রাসায়নিক সার আর কীটনাশকমুক্ত খাবার খাওয়ার একমাত্র উপায় হল নিজে উৎপাদন করা। কারণ লাউটা বড় না হোক বিষমুক্ত। বেগুনটার পোকার অংশ কেটে ফেলে রান্না করি সমস্যা নেই কারণ তা বিষমুক্ত। এখন অনেকে বলবেন, ধান আর গম তো আমা‌দের হা‌তে নেই তার বিষ কি করব। ধ‌রে নেই এটা যেহেতু হা‌তে নেই সেটার খেলাম। বাকী শাকসবজি বিষমুক্ত হলেও অনেকটুকু বিষমুক্ত থাকা যায়। ধরুন বেগুন খাচ্ছেন। নানা ফল খাচ্ছেন। কৃষি বিভাগ বলছে যদি ফসল বা ফলে বিষ দেয়া হয় তবে তা সাত দিন‌ের মধ্যে খাওয়া যাবে না। এটা আমা‌দের কৃষকরা মানে না। তারা বিষ বা কীটনাশক দিচ্ছে ও যখন তখন তা বিক্রি করছে। অপর দিকে বাড়ী‌তে এনে রান্না করার আগে আমা‌দেরও প্র‌য়োজন এক দেড়ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে তা খাওয়া। কিন্তু তা সব সময় হয় না। আলোচ্য ডাক্তারের বক্তব্যের প‌রে আমার কাছে মনে হয় ছাদ আছে কিন্তু বাগান ক‌রে শাক সবজি  উৎপাদন করছি না; এটা আসলে একটা অপরাধ। কিডনি অসুখ হওয়ার আগে ভাবলেন দশ টাকার শাক পাওয়া যায় বাজা‌রে আর সেই  শাক যদি ছাদে করি তবে  ১০০ টাকা খরচ পড়বে। অথচ ভেজাল খেয়ে একটা কিডনি হারা‌নোর পর ডাক্তার ঠিকই বুঝলেন দশ টাকায় নয় ১০০ টাকার শাক খাওয়া প্র‌য়োজন। খরচ বেশী পড়লেও নিজের খাবার নিজে উৎপাদন করাটাই ভাল। ছাদে শাক সবজি ও ফল চাষ করা যায়। ছাদে মুরগী, হাস ও কবুতর পালন করা যায়। ড্রামে মাছ চাষ করা যায়। এত কাজ যদি করা যায় তবে আর্থিক সামর্থ্য থাক‌তে শহরে থেকে বিষযুক্ত খাবার কেন খাব। নিজে পারব না লোক রেখে কাজ করাব। কর্ম সংস্থান বাড়াব। দামী গাড়ী না কিনে কমদামী গাড়ী কিনব। সব সময় ড্রাইভার না রেখে পার্ট টাইম রাখব তারপরও একটা মালী রেখে খাদ্য উৎপাদন ক‌রে নিজের পরিবারের আয়ু বাড়া‌নোর জন্য চেষ্টা করা যায়। মনে করি আমার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ জন। বিষযুক্ত খাবার খেয়ে পরিবারের একজনের কিডনি সমস্যা দেখা দিল। প্রতি সপ্তাহে যদি একবার ডায়ালাইসিসে ৩০০০ টাকা খরচ হলে মাসে ১২০০০ টাকা। আপনার সামর্থ্য আছে আপনি মনে করলেন ডায়ালাইসিস নয় আমি একটা লোক রাখব ১২০০০ টাকা দি‌য়ে ভবিষ্যৎ ডায়ালাইসিসের খরচ হিসাবে এখনই  ছাদ কৃষিতে খরচ করব। তাহলে কেমন হয়। একজনের ডায়ালাইসিসের খরচ খাদ্য উৎপাদনে ব্যয় ক‌রে পাঁচজনকে ক্যান্সার ও অন্যান্য বিষ খাওয়ার কারণে জটিল রোগ থেকে মুক্ত করা যায়। আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশে প্রায় ২০/৩০ লক্ষ মানুষ আছে যারা ছাদ কৃষির জন্য মাসে দশ বার হাজার টাকায় লোক রাখ‌তে পারবে। তাই বিষমুক্ত শাক/ সবজির বিবেচনায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়া সবজি উৎপাদনটা মনে হয় লাভ/ক্ষতির বিচারে নয়; ভাল স্বাস্থ্যের বিচারে ছাদ কৃষি শুরু করাটা প্র‌য়োজন।
কিডনি হারি‌য়ে বিষমুক্ত শাকসবজি উৎপাদনে ডাক্তাররা যদি এগিয়ে আস‌তে পারেন তবে আমরাও আগে ভাগেই  আমা‌দের পরিবারের সদস্য‌দের কিডনি ডায়ালাইসিসের টাকা ও বিষযুক্ত খাবার খাওয়ার রোগগু‌লির টাকা ছাদ কৃষির মাধ্যমে  কিছুটা অ্যাডভানস ব্যয় কর‌তে পারি। অনেকে বলবেন, আগে রোগ হ‌য়ে নিক তারপর বিষমুক্ত খাবার আয়োজন করব। এটা হবে বোকার মত কাজ। কারণ রোগ হওয়ার পর মানসিক উৎকণ্ঠা ও দুর্দশা সৃষ্টি হয় তা টাকা পয়সা ব্যয় করার থেকে কষ্টকর।
পরিশেষে বলব, লাভ নয় বরং স্বান্থ্যবীমা হিসাবে শহর এলাকায় আমরা ছাদকৃ‌ষি শুরু কর‌তে পারি। প্র‌য়োজ‌নে চাঁদা দি‌য়ে হলে কয়েকজনে মিলে ছাদে শাক/সবজি উৎপাদন শুরু করা যায়।

বাস রে‌পিড ট্রানজিট বনাম ট্রেন

বাস রে‌পিড ট্রানজিট বা বিআরটি স্থাপন‌ে প্রাথমিক খরচ রেল থেকে সাশ্রয়ী। বিআর‌টি রাস্তা তৈরিতে কি‌লো‌মিটার প্রতি খরচ ৬৪ কোটি টাকা। মে‌ট্রো, পাতাল বা স্কাই রেলে কম বেশী প্রতি কি‌লো‌মিটারে খরচ ৮০০ কোটি টাকার মত। দেখা যাচ্ছ‌ে  কি‌লো‌মিটার প্রতি বিআর‌টি থেকে প্রায় ১২ গুন খরচ বেশী। যে টাকায় ১০০ কি:‌মি: মে‌ট্রো রেলের রাস্তা বানা‌নো যায় সম টাকায় ১২০০ কি: মি: বিআর‌টি বানা‌নো যাবে। বিআর‌টি রাস্তা পুরোটা পাকা করার প্র‌য়োজন নেই  শুধুমাত্র চাকা বরাবর পাকা ক‌রে আরো খরচ সেইভ করা যায়। মনে করুন ঢাকা থেকে কুমিল্লা ১০ মিনিট পর পর বাস যায়। এখন ঢাকা কুমিল্লার ৮৫ কি:‌মি: যে‌তে ৩/৪ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। তাই ঢাকা কুমিল্লার জন্য আলাদা আসা যাওয়ার লাইন বসিয়ে ৩/৪ মিনিট অন্তর সরু রাস্তা দি‌য়ে বাস চালা‌নো সম্ভব। যা কিনা বড় বড় দুই, তিন বা চার‌টি বাস জোড়া দি‌য়ে এক‌টি ইঞ্জিন দি‌য়ে   বাস তৈরি করা যায়। তবে বাস গুলির বৈশিষ্ট্য হল বড় দরজা দ্রুত নামা উঠা করা যায়। টিকেট প্রি‌পেইড কার্ড‌ের মাধ্যমে দ্রুত প‌রি‌শো‌ধের ব্যবস্থা। ফলে আধা কি‌লো‌মিটার দূরে দূরে থামলেও প্রতি স্টেশনে যাত্রীরা দ্রুত নামা উঠার কারণে প্রতি স্টেশনে ১/২ মিনিটের বেশী থাম‌তে হচ্ছে না। এমনকি ৩০/৪০ সেকেন্ডও নামা উঠা সম্ভব। লোকাল বাসের মত স্থানে স্থানে ৫/১০ মিনিট অপেক্ষা কারার প্র‌য়োজন হয় না বলে ঘন ঘন অল্প সম‌য়ের জন্য থামলে যাত্রী‌দের জন্য অত‌বেশী কষ্টকর, ক্লান্তিকর ও  বিরক্তিকর মনে হয় না। পুরো প্রক্রিয়া খুব দ্রুত। যারা বাই সাইকেল নি‌য়ে বাসে উঠবে তা‌দের জন্য গাড়ীর সামনে বা পিছনে বাইসাইকেল বহন করার ব্যবস্থা আছে। কেউ হয়ত বাসা থেকে বাইসাইকেল নি‌য়ে বাসে উঠল। বাস থেকে নেমে পরবর্তী কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বাইসাইকেল নামিয়ে নিলে। বাইসাইকেল বহন করার ব্যবস্থা‌টিও আধুনিক। হুইল চেয়ারে যারা আরোহী আছেন তা‌দের জন্য সুবিধাজনক কারণ বড় বাস ও বড় দরজা। প্লাটফরমের সাথে লেভেল বা রে‌মের ব্যবস্থা থাকবে। একটা দেশের মে‌ট্রো ট্রেন বা অন্য কোন লাইট ট্রেন‌কে তখনই মূলত: আমরা পরিবেশ বান্ধব বল‌তে পারি যখন তা বৈদ্যুতিক ট্রেন হয়। আর সেই বিদ্যুৎ যদি সৌর থেকে আসে। তবে তা সম্পূর্ণ ভাবে দূষণ ফ্রি। আমা‌দের অল্প দূরত্বে যেমন ঢাকার আসে পাশের জেলা শহরগু‌লি যোগা‌যোগটা ট্রেনে করার আগে হ‌তে পা‌রে বিআর‌টি এর মাধ্যমে। কারণ ট্রেন থেকে প্রায় দশ ভাগের একভাগ খরচে বিআর‌টি করা যায়। ঢাকার গাজীপুর হতে উত্তরা আবার উত্তরার হ‌তে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত বিআর‌টি চালুর কার্যক্রম চলছে। ঢাকার আশে পাশে অল্প দিনে ও অল্প খরচে বিআর‌টি চালু করা যায়। বিআর‌টি চালু করার জন্য যে কোন বাস বা দোতালা বাস দি‌য়ে চালু করা যায়। বাসের দরজাগু‌লি ‌অটোমে‌টিক ও বড় কর‌তে হবে। রাস্তা পুরো আট দশ‌ ফিট পাকা করার প্র‌য়োজন নেই। চাকা বরাবর ব্লক বসিয়ে গেলেও বাস চল‌তে পারবে। ইন্টারনেটে ও ইউটিউবে স্টাডি করলে দেখা যাবে কেবল চাকা বরাবর পাকা অংশ দি‌য়ে বাস চলছে মাঝ বরাবর সবুজ ঘাস বিদ্যমান। আসলে বিআর‌টি লাইন প্রক্রিয়াটি বেশ চমৎকার ও সাশ্রয়ী। সকল দেশে সমস্ত ট্রাফিক সিগনালে বিআর‌টি প্রা‌য়ো‌রি‌টি দেয়া হয়।
আমরা যদি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ট্রাফিক জ্যামযুক্ত রাস্তা চিন্তা করি তবে ঢাকা আশে পাশে জেলাগু‌লো থেকে বেশী মানুষ ঢাকা‌তে আসে। সে সমস্ত সকল জেলা বিআর‌টি দিয়ে চালু করলে সাধারণ বাহনের উপর চাপ কমবে। একটা বিআর‌টি নব্বইটি  প্রাইভেটকা‌রের যযাত্রী বহন কর‌তে পা‌রে। তাই দুই‌টি লেন বিআর‌টি জন্য রেখে দিলে কি পরিমাণ ট্রাফিক কমে আস‌বে তা সহজেই  অনুমান করা যায়। বাস রে‌পিড ট্রান্স‌পোর্ট সারা পৃথিবীব্যাপী জনপ্রিয় হ‌য়ে‌ছে। কারণ এটা ট্রেন থেকে সাশ্রয়ী। অনেক দেশে প্রতিটি স্টেশনে আটোমে‌টিক চার্জ‌িং স্টেশন স্থাপন ক‌রে বিআর‌টি সিস্টেমকে পরিবেশ বান্ধব ও বিদ্যুৎ চালিত ব্যবস্থাও করা সম্ভব হ‌য়ে‌ছে। আমরা কোন শহরে প্রথমে কম খরচে রেল না চালু ক‌রে বিআর‌টি চালু কর‌তে পারি। তারপর তা বৈদ্যুতিক বাসে রূপান্তর কর‌তে পারি। তারপর ধী‌রে ধী‌রে ইলেকট্রিক ট্রেনে যে‌তে পারি। ইলেকট্রিক ট্রেন‌ে প্রাথমিক খরচ বেশী হলেও দীর্ঘদিন কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমে যায় বলে পৃথিবীব্যাপী মে‌ট্রো রেলের চাহিদা বিদ্যমান। কম খরচে দ্রুত চালু করার জন্য বিআর‌টি ভাল অপশন। তবে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেশী ও ঘন ঘন প্র‌য়োজন। বাসের রাবারের চাকা ট্রেনের লোহার চাকা হ‌তে দ্রুত পরিবর্তনের প্র‌য়োজন হয়। পরিশেষে বলব কোন দেশের ট্রাফিক সমস্যার দ্রুত সমাধানে বিআর‌টি বিশাল অবদান রাখছে তা আজ প্রমাণিত। তাই বাংলাদেশের ঢাকার সাথে নিকটবর্তী জেলাসমূ‌হের সাথে বিআর‌টি লাইন দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্র‌য়োজন।

Wednesday, February 13, 2019

পাশ মার্ক ২০


একশতে পাশ মার্ক ২০ আজব শুনাবে বিষয়টা। সেদিন বন্ধু‌দের গ্রুপে আমার সাথে তুমুল বিতর্ক হচ্ছিল। সেটা হল ৩৩%  পাশ মার্ক নি‌য়ে আলোচনা। এই পাশ মার্কটা কেন ৩৩  হল কেন  ৩০ নয় কেন ৪০ নয়। কারণ হিসাবে জানা গেল ব্রিটিশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশ মার্ক ছিল নাকি ৬৫%। ব্রিটিশ শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা চিন্তা ক‌রে দেখল ভারত‌ের মানুষগু‌লো দেহের আকা‌রে অর্ধেক, মগজও অর্ধেক হবে। পশ্চাৎপদ জনপদ। পাশ মার্ক অর্ধেক ক‌রে দিল ৩২.৫ মার্ক। অনেকদিন এই নম্বর চলছিল। তারপর মনে করা হল এই  নম্বর ৩২.৫ না রেখে পূর্নাংগ সংখ্যা ৩৩ করা সুবিধাজনক। তারপর থেকে চলছে সেই ৩৩ নম্বর। অনেকে বলছে পাশ মার্ক দশ‌কে রাউন্ড আপ হ‌য়ে ৪০ বা ৫০ হ‌তে পা‌রে। হয়তবা কোন কোন প্রতিষ্ঠান তা করেছে।
আমার প্রশ্ন আমরা বাড়াব না কমাব। কোনটা ভাল হবে। তার আগে আসুন শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র দেখি। দেশে এখনও লক্ষ লক্ষ ছাত্র ফেল ক‌রে বার বার পরীক্ষা দেয়। এটা বন্ধ কর‌তে হবে। পাশটা সহজ কর‌তে হবে। এখন আসি পড়া‌শোনার এই  প্রান্তিকে যুদ্ধের কথা। আমরা কত এসএস‌সি ফেল, এইচএস‌সি ফেল ও বিএ ফেল রাখব। ফেল যত কমা‌নো যায় সমাজের প্রতি‌যোগীতা তত কমবে। মানসিক চাপ তত কমবে। সহজ পড়া সহজ পাশ মানুষ‌কে আরো সৃজনশীল করবে। এখন পিতা মাতা এক ক্লাস থেকে উপরের ক্লাসে তুল‌তে চিন্তায় থা‌কে। যখন পাশ মার্ক কমে যাবে পে‌রেন্টস আর চিন্তায় থাকবে না। পাশ করা নি‌য়ে টিউশন ও কো‌চিং বাণিজ্য কমে যাবে। যারা অনেক অনেক ভাল রেজাল্ট কর‌তে চায় তারা তখন কোচিং করবে। টাকা খরচ করতে থাকবে। যদি পাশ মার্ক  ২০ হয় তবে পাশ মার্ক তুল‌তে টিচার‌দের ভয়ভীতি ও জোর ক‌রে ফেল করা‌নোটা কমবে। পাশ নি‌য়ে চিন্তা নাই বলে কো‌চিং বাণিজ্য অনেক কমে যাবে। গরীব বাবা মা মুক্তি পাবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বস্থি আস‌বে। ছাত্র/ছাত্রীরা পাশ নি‌য়ে চিন্তা না ক‌রে সৃজনশীল চিন্তা করবে। পড়া‌শোনা‌কে হৃদয়গ্রাহী ক‌রে গ্রহণ করবে। টেনশন ছাড়া মুক্ত মনে পড়া‌শোনা করবে। অনেক দেশেই পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত বাচ্চা‌দের কোন পরীক্ষা নেই। পরীক্ষা-মুক্ত দেশের বাচ্চারা বরং পরীক্ষাযুক্ত দেশ হ‌তে এগিয়ে আছে। আমার জানা ম‌তে অনেক সংস্থায় পরীক্ষা‌বিহীন পদ্ধতিতে মাস্টার্স পাশ দেয়া হয়। তা‌দের অ্যা‌সেস‌মেন্ট হয় প্রে‌জেন্টশান ও অ্যাসাইন‌মেন্ট ও ব্যবহারিক কাজের উপর ভিত্তি ক‌রে। উপরের ডিগ্রীর এই হাল হলে ২০ পাশ নম্বর হলে ক্ষতি কি? কিছু সংখ্যক জ্ঞানপাপী মানুষ পড়া‌শোনাটা‌কে বাণিজ্য ক‌রে ফেলেছে। তারা পাশ নম্বর বাড়িয়ে পড়া‌শোনাটা স্বতঃস্ফূর্ত না রেখে সবসময় বাণিজ্য করতে চায়।
পাশ মার্ক  ২০ করলে বেকার কমবে। কারণ যারা ২০/৩০ নম্বর পেয়ে পাশ করবে তারা সরকারী বা দামী চাকুরী না খো‌জে নিজে নিজে কাজের উদ্যোগ নিবে। সেই  সাথে  পাশ কারার কারণে তা‌রা নিজেরা হীনমন্যতায় ভোগ‌বে না।
মেয়েদের বি‌য়ের সমস্যাটা দূর হবে হবে। দেশে এখন ছেলেদের চে‌য়ে ম‌েয়েরা বেশী শিক্ষিত হচ্ছে। মে‌য়েরা পরীক্ষায় বেশী পাশ করছে। ফলে অনেক উচ্চ শিক্ষিত মে‌য়ে শিক্ষিত পাত্র পাচ্ছে না। মাস্টার্স পাশ মে‌য়ে আইএ পাশ ছেলেকে বি‌য়ে করে‌তে পারছে না সামাজিক কারণে। ২০% পাশ মার্ক করলে ছেলেদের পাশ‌ের পরিমাণ বাড়বে। ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তার মত সক্ষম শিক্ষিত পাত্রের সংখ্যা বাড়বে। পাশ মার্ক বেশী হলে পাশ করার জন্য প্রশ্ন ফাঁস ও নানা জালিয়াতি কমবে। বেকার কমে যাওয়ার কারণে সবাই কাজ ক‌রে জীবন যাপন করবে। অসুস্থ প্রতি‌যোগীতা কমে যাবে। দেশে দুর্নীতি কমে যাবে। স্কুল কলেজে সহজে পাশ করার কারণে শিক্ষাজীবনে শেখার আগ্রহ বাড়বে। প্রতি‌যোগীতা কমে যাবে। ফলে দুনীতি কমে সার্ব‌িকভা‌বে ভাল একটা অবস্থার সৃষ্টি হবে।
আমি জানি, অনেক জ্ঞান পাপী শিক্ষিতরা আমার এই লেখার তীব্র নিন্দা করবেন। আমি বলব বু‌কে হাত দিয়ে কল্পনা করুন, এটা হলে কত মানুষের স্বস্তি আস‌বে। সমাজে নানা অনাচার দুর হবে।

Thursday, February 7, 2019

আকাশ আর মিতু সমাচার


ভাইরাল মিডিয়া জগৎ। আকাশের শোকে যখন মুহ্যমান বাংলাদেশের বিবেকবান মানুষ। তখন আবার তসলিমা নাস‌রিন গরম হ‌য়ে‌ছেন। জরায়ুর স্বাধীনতাকামী নারীর গরম হওয়াটাই স্বাভাবিক।
আমরা যারা বিবাহিত পুরুষ ও নারী, সন্তানসন্তু‌তি নি‌য়ে সমাজবদ্ধ হ‌য়ে বাস করি; তা‌দের জন্য আকাশের মৃত্যুটা শিক্ষণীয় বিষয়। যারা তসলিমা নাস‌রি‌নের জন্য জরায়ুর স্বাধীনতা চায় তাদের জন্য আলাদা ক‌রে ভাববার বিষয় আছে। তরুণ বয়সে শুনতাম, অভিজাত এলাকায় ছেলে মে‌য়ের কাছে পার্টনার বদল, কাপড় বদলের মত। ওয়ান অর টু নো প্রবলেম। অনেক নারী খোলা‌মেলা পোষাক পছন্দ ক‌রে তা‌দের নাকি "খুল্লাম" মানে খুলে ফেল্লামস্বভাবের বলা হয়। এখন খুল্লাম স্বভাবের মে‌য়ের কনজার‌ভে‌টিব স্বভাবের ছেলের সাথে পড়লে বিপদ আছে।
সুস্থ, স্বাভাবিকভাবে মানসিক ও সাংসারিক জীবনটা অনেক বেশী জরুরী। বিবেকবানদের হা-হুতাশ নয় বা তসলিমা নাস‌রি‌নের জরায়ু স্বাধীনতা নয় বরং সহনশীলতা বেশী জরুরী। প্রতি‌টি মানুষ‌কে বুঝ‌তে হবে সে ইউনিক। স্ত্রী বা স্বামী তাদের সাথে জোড়া দেয়া প্রজননগত প্রয়োজ‌নে প্রাকৃতিক ব্যবস্থা। সেই  পার্টনার সব সময় মনঃপূত হবে সেটা কখ‌নো সম্ভব নয়। গড়মিল থাকবেই। সেজন্য সমাজ ও ধর্ম তালাকের ব্যবস্থা রেখেছেন। নিজের সাথে মি‌লে‌নি তালাক দি‌য়ে ভাল পার্টনারের সন্ধান করাটা জরুরী। জীবনটা ছোট, এর মধ্যে পার্টনার‌কে একের পর এক সু‌যোগ দি‌য়ে শুধরা‌নোর কিছু নাই। এই ছেলে বা মেয়েকে না পেলে অন্যকে পেলে হবে না, এটাও ভুল ও ইমোশনাল চিন্তা। অন্য‌র মাঝে ভাল মানুষী না খোঁজে আমরা নিজের দরদ, ধৈর্য ও উদারতা বাড়া‌তে পারি। একদম প্রথম থেকেই আমার মানসিকতা ছিল, আমার পার্টনার আমার ম‌নোমত পাব না। তা‌কে আমার উপ‌যোগী কর‌তে চেষ্টা কর‌তে হবে। না পারলে খেদা হা‌ফেজ। ক্লাস টেনে আমার এক বাংলা শিক্ষক দেবদাস পড়া‌তে গি‌য়ে বলেছিলেন, জীবনটা তোমার। এক পার্বতী‌তে পাওনি কি হ‌য়ে‌ছে, যে চন্দ্রমুখী তোমাকে চায় তার কাছে যাও। জীবন‌কে অর্থবহ কর। আজও স্যা‌রের কথাটা কানে বাজে। সেদিন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি ছ্যাকা খেলে যে চায় তার কাছে যাব। জীবন অর্থবহ করব। পার্টনারের কারণে আত্মহত্যা জীবনের সবচেয়ে বড় পরাজয় বা কাপুরুষতা। অনেক পুরুষ ভাবে আমি অক্ষম স্ত্রী অন্য কারো কাছে চলে যাচ্ছ‌ে  এটা আমার জন্য লজ্জাজনক। বেঁচে লাভ নেই। আমি হলে সেক্ষেত্রে কম চাহিদা সম্পন্ন স্ত্রী লোক খোজতাম। বেশী যৌন চাহিদা সম্পন্ন পার্টনারকে ত্যাগ করতাম। একবার ইন্টারনেটে দেখলাম একজন মে‌য়ে চার জনের সাথে সেক্স ক‌রেও পরিতৃপ্ত হয় না। এ গুলোও মানসিক রোগ। এদের দ্রুত মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন। কোন পুরুষ তার কোম‌ড়ে জোর বেশী না কম, সেটা নি‌য়ে ব্যস্ত না হয়ে তার উপযোগী কম চাহিদা সম্পন্ন নারী খোঁজা প্রয়োজন।
সমাজে যে পুরুষের স্ত্রী বার বার চলে যায়, তা‌কে নাকি অন্যরা হিজড়া ভাবে। স্ত্রী‌কে সে সে‌টিসফাই কর‌তে পা‌রে না। একটা নারী বিবাহিত না থাকলে সে হিজড়া হয় না। একটা পুরুষ হিজড়া হ‌য়ে যায়। সেদিন একটা প্রাংক দেখলাম। মেয়েদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তারা যৌনকা‌জে অভিজ্ঞ পুরুষ চায়, না অনভিজ্ঞ পুরুষ চায়। শতকরা ৯০% মে‌য়ে অভিজ্ঞ পুরুষ চায়। কারণ অনভিজ্ঞ পুরুষ তা‌কে যথাযথ সন্তুষ্টি নাও দি‌তে পা‌রে। মেস ক‌রে ফেল‌তে পা‌রে যৌন কার্যক্রম। নারীরা সেই রিস্কে যে‌তে চান না। অপর দি‌কে পুরুষ চিন্তা ক‌রে নারী‌কে আমার মত তৈরি ক‌রে নিব। নারীর আগের অভিজ্ঞতা জ্ঞান প্রয়োজন নাই। থাকলে বরং অসতী হয়ে গেল। এখন পুরুষ ইচ্ছে করুক আর না করুক আধুনিক নারীরা ইন্টারনেটের ব‌দৌল‌তে সব ধরেনের জ্ঞানে তুষ্ট। অনেক নারী নিয়ন্ত্রণ না কর‌তে পে‌রে প্রাক‌টিক্যাল জ্ঞানে চলে যাচ্ছ‌ে। যারা প্রাক‌টিক্যাল লার্নিং চলে যাচ্ছে, সেখানেই আকাশের মত রক্ষণশীল যুবক‌দের সমস্যা হচ্ছ‌ে।
উপায় কি? নৈতিক শিক্ষা। আকাশ এক নারীর জন্য আত্মহত্যা করেছে। সেখানে ইসলাম ধর্ম‌ে চার বি‌য়ে করার অনুমতি দিয়েছে। স্ত্রীর স্বেচ্ছাচারিতায় আকাশের উচিত ছিল স্ত্রী‌কে তালাক নো‌টিশ পাঠিয়ে দ্বিতীয় বি‌য়ে করা। আর নিজের জীবন‌কে মানব কল্যাণে ব্যয় করা। একজন মানুষ কষ্ট ক‌রে এতটা বছর ধ‌রে ডাক্তারি পড়ল। তার কাছে সমাজের অনেক প্রাপ্যতা আছে। তার এই  অকাল তি‌রোধান মেনে নেয়া যায় না।
আমা‌দের সমাজে অনেক অনেক মানুষ আছে যারা স্বামী বা স্ত্রীর স্বেচ্ছাচারিতায় ভুগছে। এই ধরনের মানুষ‌দের জন্য আমার উপদেশ শরীয়া মোতা‌বেক এক বা সামর্থ্য থাকলে একাধিক বি‌য়ে করুন। সুস্থভাবে বাঁচুন। নিজে সুখী থেকে সমাজ‌কে সুখী করুন। রূপকে নয়, নারী/পুরুষের মনের মিলটার জন্য তালাশ করুক। পরস্পরকে বুঝুন। মনটা বুঝুন। নারী বা পুরুষ পরস্পরের সমাজ ও পরিবেশ বুঝুন। আপনার উপ‌যোগী হলে তা‌কে গ্রহণ করুনরূপকে নয় মানুষকে খুঁজুন। এতে আপনার পৃথিবী স্বর্গীয় হবে। নরক যন্ত্রণা পাবেন না।
পরিশেষে বলব, আকাশ ও মিতুর ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় প্রমাণিত হয় ধর্মীয় অনুশাসন সমাজ‌কে সুশৃঙ্খল কর‌তে পা‌রে। নারী পুরুষের সম্পর্ক‌ে ইমোশন নয় বাস্তবতায় ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় আন‌তে হবে।

Thursday, January 31, 2019

ব্যক্তি উদ্যোগে গ্রামের চিকিৎসা


আমার বাবা ২০১৮ সালের পহেলা মে মারা গেলেন গ্রাম থেকে ডাক্তার পর্যন্ত উনা‌কে নেয়া যায়নি। আমার বাবা ১৯৯১ সালে ৫৭ বছরে রিটায়ার করার পর দীর্ঘ ২৭ বছর গ্রামে কাটালেন। গ্রামের চিকিতসার জন্য তার ছিল গ্রামের ডাক্তার। সাথে অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর।   ২৭ বছরে ওনা‌কে দুইবার অ্যাম্বুলেন্সে শহরের হাসপাতালে আন‌তে হয়। তৃতীয়বার হাসপাতালে আনার পথে মারা যান। হায়াত মওত আল্লাহর হা‌তে। এখনও মা গ্রামে আছেন। তা‌কে দেখ‌তে গ্রামে যাই। শহরের মানুষ রিটায়ার করার পর গ্রামে যাবে এটা সহজে হয় না। সবাই সন্তান‌দের সাথে ভাল যোগাযো‌গের জন্য শেষ বয়সে শহরে থাক‌তে চায়। চিকিৎসার জন্য শহরে থাক‌তে চায়। গ্রামে থাকার মূল চ্যালেঞ্জ হল চিকিৎসা ও ভাল রোড কা‌নেক‌টি‌ভি‌টি। বর্তমানে গ্রামের বাজা‌রে উন্নত জীবন ধারণ করার সব কিছু পাওয়া যায়। টি‌ভি ফ্রিজ এখন গ্রামের সব বাজা‌রে পাওয়া যায়। বাকী আইটেম বাদই দিলাম। মেশিনে তৈরি কফি গ্রামের সব বাজা‌রে আছে।
চিকিৎসা সেবায় গ্রাম আজও দুর্বল। কমিউনিটি ক্লি‌নিকগু‌লো খুবই ভাল কাজ করছে। তবে আরো অগ্রগতি প্রয়োজন। প্রতিটি গ্রামে একজন ক‌রে এম‌বি‌বিএস ডাক্তার সম‌য়ের দাবী। কমিউনিটি ক্লিনিকে মাঝে মাঝে উপজেলা থেকে ডাক্তার আসে তবে পো‌স্টেড নয়। এটা ঠিক না। পো‌স্টেড ডাক্তার অবশ্যই প্রয়োজন
আমি গ্রামে গেলে দেখি গ্রামের বাজার জমজমাট। স্কুলগু‌লো চলছে। কমিউনিটি ক্লি‌নিকগু‌লো চলছে। শহরের মত ব্যস্ত না হলেও কাজের মধ্যে সবাই আছে। গ্রামের বাতাস পরিষ্কার। ফল ফসলে ভেজাল কম। টাটকা। জীবন ধারণ শহরের মত জটিল নয়। মানুষে মানুষে যোগা‌যোগ ভাল। সবার শরীর স্বাস্থ্য ভাল। বিপদ একটাই, তা হল; দ্রুত চিকিৎসা। মোবাইল ও ইন্টারনেট তথ্যের অভাব ঘুচিয়েছে। তবে ডাক্তারের সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজন আছে। দেশের পল্লী চিকিৎসকরা আজও অনেক বড় অবদান রাখছে। কমিউনিটি ক্লিনিকে মাঝে মাঝে উপজেলা বা শহর থেকে ডাক্তার আসার শিডিউল থা‌কে। উপজেলায় প্রা‌ধিকৃত ডাক্তাররা নানা প্রতিকূলতায় উপজেলায় বেশীর ভাগই থাক‌তে পা‌রে না। এই যখন বাস্তবতা, তখন গ্রামে অন্তত ২৪ ঘন্টা এম‌বি‌বিএস ডাক্তার প্রাপ্তির ব্যবস্থা কিভাল চিকিৎসা না থাকলে অনেকেই  গ্রামে থাকবে না। আমার জানা ম‌তে আমার কিছু আত্মীয় আছে যারা কুমিল্লা শহরে চাকুরী ক‌রে কিন্তু অফিস শেষে গ্রামে ফি‌রে আসে। এ ধরনের গ্রামমূখী মানুষ‌দের জন্য চিকিৎসা সেবাটা অনেক অনেক বেশী জরুরী।
গ্রামের রাস্তা ঘাঁটের জন্য যে কোন রোগী গ্রামের যে কোন প্রান্ত হ‌তে প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে উপজেলা শহরে নেয়া যায়। জ্যামের শহর ঢাকা‌তে একটা রোগী নিকটবর্তী হাসপাতালে আস‌তে কোথাও কোথাও এক ঘণ্টার উপর লেগে যায়। এখানে শহর আর গ্রামের পার্থক্য ঘুচেছে। সমস্যা হল রোগী আনা হল। ঠিক আছে। এখন উপজেলায় যদি সর্বদা ডাক্তার না থা‌কে তাহলেই বিপদ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যথেষ্ট ডাক্তার থাকলেও ২৪ ঘণ্টার উপস্থিতির ডাক্তার কম। রোগী আসলে জেলা শহরে নি‌তে হয়।
পুনরায় আমার মা‌য়ের বাস্তবতায় ফি‌রে আসি। বাবাকে সময়মত হাসপাতালে না নেয়ার ব্যথাটা আজও আছে। তাই মা‌কে নি‌য়ে অ্যাম্বুলেন্স ও নিকটবর্তী হাসপাতালের আগাম কিছু পরিকল্পনা ক‌রে রাখি। কাছাকাছি অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর ও ডাক্তারের নম্বরটা রাখাটা জরুরী। উপজেলা হাসপাতালে জরুরী রোগীর জন্য ডাক্তার পাব সেই বিশ্বাস আমার মত অনেকেরই নেই। তাই বেসরকারি ডাক্তার খোজার পালা। কোথায় পাই গ্রামে থাকা এম‌বি‌বিএস ডাক্তার। লোক লাগালাম। আমার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পেয়ে গেলাম, ২৪ ঘণ্টা পরিবারসহ অবস্থানকারী এম‌বি‌বিএস ডাক্তার। আরো খুশী হলাম সপ্তা‌হে একদিন ক‌রে বিভিন্ন স্পেশালিষ্ট ডাক্তার আসেন। ভিশন হাসপাতাল একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান। হাসপাতালের এম‌ডির সাথে কথা বললাম। শুনলাম চমৎকার উদ্যোগের কথা। এম‌ডি ভদ্রলোক সাইপ্রাস ছিলেন। অনেক বছর থাকার পর দেশে ফি‌রে আসেন। নিজের মত ব্যবসা শুরু করেন। উপজেলায় বাড়িঘর তৈরি করেন। উপজেলায় থাক‌তে থাক‌তে তার মনে হল, উপজেলায় সুপার মার্কেট হ‌য়ে‌ছে। আরো অনেক সেবা এসেছে। কিন্তু  ২৪ ঘণ্টা এম‌বি‌বিএস ডাক্তার নাই। সর্বক্ষ‌নিক এম‌বি‌বিএস ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে ছোট আকা‌রে একটা হাসপাতাল করলেন আবার দেখলেন, ডাক্তারের শুধু থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করলে হচ্ছে না বেতন ডাবল না দিলে গ্রামে থাকছে না। তাই করলেন। ডাক্তার রোগী পাক আর না পাক, বেতন শহরের প্রাইভেট হাসপাতালের চে‌য়ে ডাবল। কন্ডিশন একটাই ২৪ ঘণ্টা থাকবে। ছুটি গেলে ২৪ ঘণ্টার আর একজন এম‌বি‌বিএস ডাক্তার প্রতিস্থাপন ক‌রে যাবেন।
এই  মহতী কাজের জন্য আমার এলাকার সেই উদ্যোক্তার জন্য আমি গর্ব‌িত।
আমার কাছে মনে হয় শহর থেকে ডাবল বেতন দি‌য়ে একই ভাবে গ্রামে গ্রামে এম‌বি‌বিএস ডাক্তার নিয়োগ দেয়ার মত সামর্থ্য অনেক গ্রামের অনেক সম্পদশালী ব্যক্তিদের আছে। অথবা চাঁদা দি‌য়ে সমবায়ের মাধ্যমে গ্রামের লোক‌েরা এম‌বি‌বিএস ডাক্তারের ব্যবস্থা কর‌তে পারেন।

Wednesday, January 16, 2019

মিনি ও মাইক্রো ফ্লাট

একটা মুরগীর বিচরনের জন্য কমপক্ষে এক বর্গমিটার জায়গা লাগে। মুরগীর সুস্থ স্বাস্থ‍্যের জন্য নাকি তিন বর্গ মিটার জায়গা প্রয়োজন। এভাবে পশু বিজ্ঞানীরা পশুর জন্য জায়গা বের করেছেন। কিন্তু আশরাফুল মাখলুকাতের থাকার জন্য নিদিষ্ট জায়গা বের করা গেছে কিনা জানি না। জেলখানার প্রতিটি অপরাধীর জন্য হয়ত বর্গ মিটার জায়গা নির্ধারন আছে। মানু‌ষের জন্য কি আছে। একটা পরিবারের জন্য হয়ত আছে। স্বামী ও স্ত্রীর জন্য এক রুম। ছেলে মেয়ের বয়সভেদে দুইজনে এক রুম বা প্রত্যেকের আলাদা রুম, বাবা ও মা সাথে থাকলে তাদের জন্য এক রুম। গাড়ীর ড্রাইভার বা কাজের লোক থাকলে তাদের জন্য এক রুম। মেহমান আসলে তাদের জন্য এক রুম। বসার, পারিবারিক মিটিং ও টিভি দেখার জন্য এক রুম। রান্না ও ডাইনিং এর জন্য প্রয়োজনীয় রুম। দেখা যাচ্ছে যেন তেন ভাবেই চার/পাঁচজন সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের জন্য ১০০০/১২০০ স্কয়ার ফিটের বাসা লেগে যায়।
যারা চাকুরীরত বা সরকারী বাসায় থাকেন তখন পরিবারের জন্য একটা বাসার মাপ বা প্যাটার্ন দাড়িয়ে যায়। তখন মাইন্ড সেট হয়ে যায় আমার ২২০০ বা ২৫০০ স্বয়ার ফিটের বাসা লাগবে।
বাসার সাথে অনেক সরকারী কর্মকর্তাকে সরকার কিছু লোক দেন যারা তাদের বাসস্থান রক্ষনাবেক্ষনে কাজে লাগে। মোটামুটি চাকুরী জীবনের প্রায় পু‌রোটা সময় সরকারী বাসায় থাকতে থাকতে আ‌মি নিজে কোন বাড়ী করতে পা‌রি‌নি। তার উপর ফ্লাট কেনার আইডিয়া বাদ দিয়েছি। কারন কোটি টাকার ফ্লাটে এক লক্ষ টাকাও ভাড়া পাওয়া যায় না। তার চেয়ে কোথাও বিনিয়োগ করে সেটা দিয়ে বাসা ভাড়া করাটা অনেক বেশী কার্যকর। তাই আমার চিন্তায় চাকুরী শেষে পেনশনের এককালীন টাকায় বাড়ী নয় বরং ভাড়ায় থাকব। এর মধ্যে আমার স্ত্রী একটা কন্ডিশান দিয়ে দিল সেটা হল ভাড়া বাড়ীটি হতে হবে ছোট। কারন কাজের লোক পাওয়া যায় না। কাজের লোক ছাড়া চলতে হবে। তখনই আমার মাথায় আসল মিনি ও  মাইক্রো ফ্লাটের ধারনা।
‌মি‌নি বা মাই‌ক্রো ফ্লাট ধারনাটা অ‌নেক দে‌শে প্রচ‌লিত আ‌ছে। ইউ‌রো‌প ও জাপা‌নে ছোট ফ্লা‌টের ধারনা পাওয়া যায়। বেড ফোল্ড করে রাখা। ডাই‌নিং টেবিল ফোল্ড করে রাখা ইত্যা‌দি নানা ব্যবস্থায় স্পেস ম্যা‌নেজমেন্ট করা যায়।
একটা শহর ধী‌রে ধী‌রে উপ‌রের দি‌কে বাড়‌ছে। মানুষ বাড়‌ছে। আমার মানু‌ষের সক্ষমতা বাড়‌লে উন্নত ও হাই‌জে‌নিক গৃহের চা‌হিদাও বাড়‌ছে। অপর‌দি‌কে সাধারন খে‌টে খাওয়া মানু‌ষের জন্য প্র‌য়োজন ছোট ছোট ফ্লাট বা মিনি ফ্লাট।
বর্তমা‌নে স্পে‌সের দাম বেশী। রক্ষনা‌বেক্ষন খরচ বেশী। স্পেস ম্যা‌নেজ‌মেন্ট অ‌নেক অ‌নেক ‌বেশী প্র‌য়োজনীয় বিষয়। দুইজন মানুষ খেয়াল ক‌রে দেখুন ২৫০/৩০০ বর্গফুট ভালভা‌বে প্র‌তি‌দিন প‌রিষ্কার ও সুন্দর ক‌রে রাখ‌তে পা‌রে। এর বেশী হ‌লে আ‌রো মানুষ প্র‌য়োজন। শহ‌রের স্বামী ও স্ত্রী ছোট প‌রিবারগু‌লো সা‌থে ছোট বাচ্চা নি‌য়ে কম স্পে‌সে থাকার চর্চা করা যে‌তে পা‌রে। ইন্টার‌নেট বা ইউ‌টিউ‌বে এধর‌নের হাজার হাজার ভি‌ডিও আ‌ছে। যেখা‌নে নানা ফোল্ড‌িং আই‌ডিয়া পাওয়া যায়।
‌ছোট স্পে‌সে প‌রিষ্কার কর‌তে কম প‌রিশ্রম লা‌গে। ছোট বাসা মা‌নে ছোট বাসা নয়। আম‌রা চাই‌লে একবার সোফা পে‌তে লি‌ভিং রুম বানালাম। একবার ডাইনিং টে‌বিল‌ ফে‌লে ডাই‌নিং রুম। একবার পড়‌ার টে‌বিল ফে‌লে পড়ার রুম। আবার বিছানা পে‌তে শোয়ার রুম হল। আই‌ডিয়া‌টি হল আমরা যখন যে রকম রুম চাই তা পাব। শুধু ফার্ন‌িচার নাড়াচড়া ক‌রে অ্যাডজাস্ট‌মেন্ট। আর এই  অ্যাডজাস্ট‌মেন্টটাও সহ‌জে করা যায়। ফার্ন‌িচারগু‌লো নাড়াচাড়া ক‌রেই তা করা যায়। বড় বড় খাট, টে‌বিল ও অনান্য অ্যাডজাস্ট‌মেন্ট অ‌নেক সহ‌জে করা যায়। একজন মে‌য়ে মানুষের দ্বারাও সাধারন টে‌নে/‌ঠে‌লে প‌রিবর্তন গু‌লো করা সম্ভব। ইউ‌টিউব দেখেও ম‌নে হয়, অ‌নে‌কেই এ ধর‌নের ফার্ন‌িচার বানা‌তে পার‌বে। বাংলা‌দে‌শের স্কয়ার ফি‌টের এখ‌নো অ‌নেক দাম। হয়ত অ‌নেক তাড়াতা‌রি ফোল্ড‌িং ফার্ন‌িচার নি‌য়‌ে নানা রকম মি‌নি বা মাই‌ক্রো ফ্লাট‌ের আই‌ডিয়া চালু হবে এবং মানুষ তা ব্যবহা‌রে উদ্ভুদ্ধ হ‌বে।

Wednesday, January 9, 2019

সরকারী অফিসের ইন্টিরিয়র ডেকোরেশন ও অপচয়


আজকাল নানা সরকারী অফিসে ছা‌দের উপর এক গাদা কার্ড বোর্ড ও নানা লাইট ব্যবহার ক‌রে চলছে ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশন। এতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয়। এগুলোর কি আদৌ কোন প্রয়োজন আছে? মো‌টেই নেই। সুন্দর ঝকঝকে ছাদ আছে। এটা পছন্দ হচ্ছে না। এক গাদা কাঠ ও বোর্ড ব্যবহার ক‌রে দেয়া হচ্ছে ফলস সিলিং। যদি মূল সিলিং খারাপ থা‌কে বা টিন‌শেড স্থাপনা হয়, তবে হয়ত ফলস সি‌লিংএর ব্যবহার মানা যায়। কিন্তু সুন্দর তকত‌কে সিলিং থাক‌তে বাহারি লাইটিং করা ইত্যাদি কারণে ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশন চলছে। মজার বিষয় খেয়াল করবেন; অফিসের ইন্টোরিয়র ডেকোরেশনের পিছনে লক্ষাধিক টাকা খরচ করেছে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ কর্মচারী‌দের বসার জায়গা ও টয়লেট অত্যন্ত খারাপ অবস্থা। আমার কাছে মনে হয়, ইন্টোরিয়র ডেকোরেশনে এত এত টাকা পয়সা খরচ না ক‌রে সরকারী অফিসের সাধারণ কর্মচারী‌দের টয়লেট, বসার স্থান ও কাজের পরিবেশ উন্নত করাটা  জরুরী। কনফারেন্স রুম ইন্টোরিয়র ডেকোরেশন ছাড়া সাদামাটা, পরিষ্কার, ঝকঝকে ও পরিপাটি হলে ইন্টোরিয়র ডেকোরেশ‌ন ছাড়াও সুন্দর লাগবে। আমি গ্যারান্ট‌ি দি‌য়ে বল‌তে পারি, ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশন ছাড়া কনফারেন্স রুম আমা‌দের খারাপ আউটপুট দেবে না। পারফরমেন্স একই থাকবে।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শো রুম, হো‌টেল রুম ইত্যাদিতে ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশন চল‌তে পা‌রে। কারণ সেটার প্রয়োজনীতা ব্যবসা‌য়িক। সরকারী স্থাপনার সেটা অপচয়। সরকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ভার ট্যাক্স পেয়ার‌দের কাছ থেকে আসে। সেটায় আউটপুট ছাড়া কেবল মাত্র দেখা‌নোর জন্য এ ধরনের কার্যক্রম ভয়ংকর অপচয়।
আজকাল চারিদিকে দেখা যায়; ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশ‌নের একটা কালচার চলছে। সুন্দর ঝকঝকে টাইলে‌সের ফ্লোর। কাঁচের জানালা দরজা। ছিমছাম ফাইল ক্যাবিনেট সবই প্রয়োজন। প্রয়োজন নেই  মাথার উপর ফলস সিলিং এর ফলস খরচ। এটা অপচয়। এটার খরচ দিয়ে অন্যান্য অনেক ওয়েল ফেয়ার করা যায়। সাধারণ কর্মচারী‌দের টয়লেট উন্নত করা যায়। টয়লেটে স্যানিটারি আইটেম সরবরাহ করা যায়। হ্যান্ড ড্রাইয়ার সেট করা যায়। অটোমেটিক পানির কল খোলা/বন্ধ করার যন্ত্রাংশ বসিয়ে পানির অপচয় রোধ করা যায়।
অনেক সময় ফলস সিলিং হল ঘরের শব্দের ইকো দূর ক‌রে। এটার হয়ত প্রয়োজন আছে। তবে ইকো দূর করতে অফিস রুম বা কনফারেন্স রুমের ইন্টোরিয়র ডেকোরেশন অপচয় বই কিছু নয়। সরকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশ‌নের বাজেট সরকারী অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে খরচ করা যায়। ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশন থেকে আরো কত কত অগ্রাধিকার কাজ আছে, তার তালিকা তৈরি কর‌তে গেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা হয়রান হ‌য়ে যাবেন।
আমি সরকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশ‌নের কথা বলছি। এই  জন্যে  যে, এটা পাবলিক মানি। এটা যেন তেন বা বিলাসী কাজে খরচ করা অনুচিত। তবে সরকারী হো‌টেল মো‌টেল বা পর্যটনের নানা স্থাপনায় ইন্টোরিয়র ডেকো‌রেশন চল‌তে পা‌রে। কারণ এগু‌লো সরকারী কিন্তু ব্যবসা‌য়িক প্রতিষ্ঠান। অন্যান্য সরকারী শো রুম ও ব্যবসা‌য়িক প্রতিষ্ঠান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে পাল্লা দি‌তে সীমিত আকা‌রে ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশ‌ন করলে তা ভাল। তবে অতিরিক্ত বাজেট নি‌য়ে মাত্রারিক্ত করাটা আবার ঠিক হবে না।
এখন অনেকে বলবেন, দেশ মধ্য আ‌য়ের দেশ। সরকারী প্রতিষ্ঠান সুন্দর না হলে চলে। আমি বলল দেখ‌তে সুন্দর নয় বরং পরিচালন ব্যয় কমিয়ে সেবার মান বাড়া‌নোটাই হওয়া উচিত আসল লক্ষ্য। দেশ ধনী হলেও ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশন করার সু‌যোগ নাই। অগ্রাধিকার বিবেচনায় সব সময় এত এত প্র‌য়োজনীয় ও সাধারণ কর্মচারী‌দের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকবে যে কেখ‌নোই আসলে অপচয় করার সু‌যোগ হবে না। বেশীর ভাগ ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশন দশ বছর পরই পুনরায় খরচ করার প্রয়োজন হয়। অথচ রং করা  সুন্দর ছাদ কখ‌নোই রং করা ছাড়া বড় ধরনের কোন বি‌নি‌য়োগ নাই। তাই সরকারী অফিস গুলোর অপচয় রোধ কর‌তে ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশন‌কে না বলা প্র‌য়োজন। ইন্টোরিয়র ডে‌কো‌রেশন না ক‌রে সমস্ত কর্মচারী‌দের সুন্দর ব্যবস্থা দেয়াটাই হবে সম্পদের মহামূল্যবান ব্যবহার। পরিশেষে বলব, উচ্চ পর্যায়ের কর্তা‌দের বি‌বেক‌বোধই অপচয় দূর কর‌তে পারবে।

Thursday, December 20, 2018

সিনিয়র সিটিজেন সার্প‌োট সেন্টার

ইসলাম ধর্ম‌ে  বর্ণিত আছে, আল্লাহ সকল পশুপাখির জন্য রিজিক দিয়েছেন। মানুষকে বলেছেন, অব‌লোকন কর‌তে; এক‌টি পাখি ক্ষুধার্ত অবস্থায় বেড়িয়ে যায়। দিন শেষে ফেরত আসে পেট ভর্তি ক‌রে। মানুষেরও মূলত: রিজিক নি‌য়ে স্ট্রেসফ‌ুল হওয়ার কোন কারণ নাই। কারণ সুস্থ মানুষ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ ক‌রে গেলে তার খাদ্যের অভাব হবে না। সুস্থ মানুষের ধ‌রে নিলাম কাজ করবে খাদ্যের অভাব নাই। তাহলে সিনিয়র সিটিজেনদের কি হবে। তা‌দের তো কাজ করার সীমাবদ্ধতা আছে। তা‌দের ঔষধ খরচ লাগে, নার্সিং লাগবে। বৃদ্ধাশ্রমগু‌লি মানুষের নেতিবাচক ম‌নোভাবের শিকার। শেষ বয়সে বৃদ্ধ বৃদ্ধরা ছেলে মে‌য়ে পরিবারের মাঝে থাক‌তে চান।  ইউটিউবে দেখা যায় বৃদ্ধ ও বৃদ্ধারা অভিযোগ করছে তা‌দের ছেলেমেয়েরা তা‌দের দেখ‌তে আসে না। তা‌দের খোজ খবর নেয় না। দূ:খজনক। অনেকে বলছেন, ছেলে মে‌য়ে ম্যাজিস্ট্রেট, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও প্রফেসর হ‌য়েও বাবা/মা‌কে সাথে রাখছে না। ছেলেমেয়ে কি কারণে সাথে রাখ‌তে পারছে না। তার মূল কারণ আর্থিক নয়। সময় দেয়া ও ব্যবস্থাপনা করার সমস্যা। সেটার জন্য অনেক ছেলে মে‌য়ে সময় ও ব্যবস্থাপনাটা কর‌তে পা‌রে না। তারা তা‌দের ক্যারিয়ার ও পরিবার নি‌য়ে এত এত সমস্যায় থা‌কে, বাবা মা‌কে আসলে টেক কেয়ার কর‌তে পা‌রে না। তাহলে উপায় কি? কোন কো-অপারেটিভ বা সহ‌যোগীতা করার সংস্থার প্রয়োজন। যদি এরূপ হয় চাকুরীজীবী স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই  সকালে চলে যায়, তবে কে বৃদ্ধ মা বা বাবা‌কে দেখবে। যদি এমন হয়, কোন সাহায্যকারী সংস্থা থেকে এসে তা‌দের গোসল করাল। কাপড় ধু‌য়ে দিল। রুম ও টয়লেট পরিষ্কার ক‌রে দিল। খাবার ঔষধ খাই‌য়ে দিল। এভাবে বুয়া বা কাজের লোকের মত সা‌পোর্ট দিল। কেমন হয় বলুন? এতে আমি নিশ্চিত অ‌নেক অনেক সচ্ছল অথচ সব সময় দেখভালে অপারগ সন্তানরা তা‌দের বাবা ও মা‌কে বৃদ্ধ আশ্রমে পাঠাবে না। একজন গৃহিনী যারা সকাল থেকে শুরু ক‌রে রাত/দিন স্বামী সংসারে খেঁটে খেঁটে ত্যক্ত ও বিরক্ত। তারা যদি শশুর শাশুড়ির জন্য একবেলা সা‌পোর্ট পায়, আমি নিশ্চিত; তারা তা‌দের বৃদ্ধ শাশুর ও শাশুড়িকে খেদিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে না।

পৃথিবীর অনেক দেশে সিনিয়র সিটিজেনদের দেখা‌শোনা করার জন্য অনেককে চাকুরী দেয়া হয়। এমনকি সিনিয়র সিটিজেনকে হাঁটি‌য়ে বা বেড়িয়ে আনার জন্য চাকুরী আছে। বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে। অপর দি‌কে ভাল চিকিৎসার জন্য মৃত্যুর হারও কমেছে। ফলাফল সিনিয়র সিটিজেন বেড়েছে। জাপানের সিনিয়র সিটিজেন অনেক বেশী। সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য কমিউনিটি লি‌ভিংটা অনেক অনেক বেশী জরুরী। কমিউনিটি লিভিং সিনিয়র সিটিজেনদের কোয়ালিটি টাইম বাড়ায়। সিনিয়র সিটিজেনরা শারীরিক সীমাবদ্ধতার জন্য ধী‌রে ধী‌রে কাজ ক‌রে। গল্প কর‌তে বেশী পছন্দ ক‌রে। সেজন্য তারা যখন অনেক সিনিয়র সিটিজেনের সাথে কাটাবে তখন অনেক বেশী কর্মক্ষম থাকবে। অপরদিকে সিনিয়র সিটিজেন যারা স্বামী বা স্ত্রী‌কে হা‌রি‌য়ে‌ছেন। একা একা আছেন তারা ইচ্ছে করলে অন্য কোন সিনিয়র সিটিজেনকে বি‌য়ে কর‌তে পারেন। বিবাহিত সিনিয়র সিটিজেন একাকী সিটিজেন থেকে আরো দীর্ঘ আয়ু হবেন এটা আশা করা যায়। সেজন্য সিনিয়র সিটিজেন সা‌পোর্ট সেন্টারে মে‌ট্রো‌মো‌নিয়াল সার্ভিসেরও ব্যবস্থা করা যায়। সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য পিকনিক ও নানা বি‌নোদনমূলক ট্রিপ চালু করা যে‌তে পা‌রে। অনেক সিনিয়র সিটিজেন অনেক অর্থ রাখছেন। কিন্তু কোন সহায়তা পাচ্ছেন না; বেড়া‌নো, বি‌নোদন করা ইত্যাদি কার্যক্রমে। তাই বিত্তবান সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য অনেক ধরনের সাপোর্ট অনেক সুলভে ও কমিউনিটির আইডিয়ায় করা যে‌তে পা‌রে। এখন সময় এসেছে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য কমিউনিটি লেভেলে কিছু করার।

বাংলাদেশে অনেকেই  অসহায় বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা‌দের নি‌য়ে বৃদ্ধাশ্রম চালু করেছে। অনেক অনাথ বৃদ্ধও বৃদ্ধা‌দের বিনা খরচে থাকা, খাওয়া ও ঔষধের ব্যবসা করেছে। ভারতের কলকাতার একজন এধরণের সা‌পোর্ট সেন্টার করেছে। এটা নতুন কোন আইডিয়া নয়। এই আইডিয়া হল যারা ছেলে মে‌য়ে, নাতি নাতনী‌দের ত্যাগ কর‌তে কষ্ট আবার সন্তানরাও তা‌দের সেবা কর‌তে পা‌রে না। এই  ধরনের সাপোর্টে সেন্টার হ‌তে পা‌রে সে ধরনের সমস্যার উত্তম সমাধান।